দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ভারতের পর্যটন ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন,২০২৬) থেকে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করছে। ফলে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা ভ্রমণপ্রত্যাশীরা নতুন প্রক্রিয়ায় আবেদন করে ভারতে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের আইভ্যাক কেন্দ্রগুলোতে পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পরে দেশের অন্যান্য আইভ্যাক কেন্দ্রেও এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের অধিকাংশ নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। একই সময়ে দেশজুড়ে আইভ্যাক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট বিতরণ পুনরায় শুরু হলেও পর্যটন ভিসা চালু হয়নি। এ সময় কেবল চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষার্থী এবং সরকারি কাজের মতো জরুরি ক্যাটাগরির আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছিল।
ভারতের পর্যটন ভিসার জন্য প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে সেটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করতে হবে।
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগের কার্যদিবসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত করা হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সাইন-আপ ও ওয়েবফাইল আপলোড সম্পন্ন করতে হবে। সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করা আবেদনকারীরাই বিকেল ৫টার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুযোগ পাবেন।
সাইন-আপের সময় আবেদনপত্রে ব্যবহৃত একই ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। এরপর ই-মেইল ও মোবাইলে পাঠানো পৃথক ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন না হলে ওই দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সম্ভব হবে না।
নিবন্ধনের পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টায় স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করে পছন্দের সময় নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে একবার স্লট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। এরপর অনলাইনে সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হবে।
ভিসা আবেদনের সময় কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি মূল পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, যাতে অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকবে। পাসপোর্টের প্রথম চার পৃষ্ঠার ফটোকপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেয়াদ নবায়নের কপি এবং পূর্বের সব পাসপোর্টও সঙ্গে দিতে হবে।
এছাড়া সাম্প্রতিক তোলা ২×২ ইঞ্চি আকারের রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি, গত ছয় মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত ইউটিলিটি বিল এবং পেশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। চাকরিজীবীদের জন্য নিয়োগপত্র, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হবে।
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ১৫০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন আবেদনপত্রের রেজিস্ট্রেশন কপি এবং নির্ধারিত স্থানে ছবি আপলোড নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের পর্যটন ভিসার জন্য আলাদা কোনো ভিসা ফি নেওয়া হয় না। তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইভ্যাক সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।
ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট আইভ্যাক কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে