শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

কুমিল্লা-৭ আসনে চমক: ধানের শীষকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন বিজয়ী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব আতিকুল আলম শাওন বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে ফলাফল ঘোষণা করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আশরাফুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। কলস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আতিকুল আলম শাওন মোট ৯০,৮১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডক্টর রেদওয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৭,৯২৫ ভোট। বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন ৪২,৮৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, আসনটিতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সোলায়মান খান দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে ২৪,৫৯৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এহতেশামুল হক হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৪,০৮০ ভোট এবং ছড়ি প্রতীক নিয়ে সজল কুমার কর পেয়েছেন ২৫৯ ভোট। চান্দিনা উপজেলার এই নির্বাচনী লড়াইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই বড় জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ ঘন্টা আগে

ঢাকা ১৫: ৬৬ কেন্দ্রে এগিয়ে জামায়াত আমির

ঢাকা-১৫ আসনের (মিরপুর, ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৪, ১৩, ১৪, ক্যান্টনমেন্ট, ডিএনসিসি ওয়ার্ড ১৬) ৬৬টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে ৪১ হাজার ৩৯০ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৩০ হাজার ৩২৬ ভোট।এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার রয়েছেন। এ আসনে মোট কেন্দ্র ১২৭টি।
৯ ঘন্টা আগে

নিজ কেন্দ্রে হার জামায়াত আমিরের

নিজ নির্বাচনী কেন্দ্রেই পরাজিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুরে অবস্থিত মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ বালক শাখা কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।ওই কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ৫৬০ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান ৫৬৫ ভোট পেয়েছেন।কেন্দ্রটিতে মোট ভোট পড়েছে ১ হাজার ১৭৪টি। এর মধ্যে ২৭টি ভোট বাতিল হয়েছে।
৯ ঘন্টা আগে
‘আমি কোনো দলের নই, আমি সবার’ বিজয়ের পর জামায়াত প্রার্থী

‘আমি কোনো দলের নই, আমি সবার’ বিজয়ের পর জামায়াত প্রার্থী

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল হাসান। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই তিনি এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ফুলবাড়ীয়া’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে মো. কামরুল হাসান ৭৫,৯৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা (ফুটবল) পেয়েছেন ৫২,৬৬৯ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পর গভীর রাতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে মো. কামরুল হাসান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি এই বিজয়কে ফুলবাড়ীয়ার ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক এবং আপামর জনগণের বিজয় বলে অভিহিত করেন।বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি কোনো অঞ্চলের নেতা হতে চাই না, কোনো দলের নেতা হতে চাই না। আমি উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম—ফুলবাড়ীয়ার প্রতিটি জনপদের মানুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে বেঁচে থাকতে চাই”।বিজয়ী ভাষণে কামরুল হাসান তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, “আমার সহযোদ্ধা যে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তাদেরকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আমরা মনে করি আপনারাও ফুলবাড়ীয়ার সম্পদ। নির্বাচনে একজন বিজয়ী হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি বিজয়ী হয়েছি মানে এই নয় যে, আমি একাই ফুলবাড়ীয়াকে গড়ে তুলতে পারব”।তিনি ফুলবাড়ীয়া পুনর্গঠনে তরুণ সমাজ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “সকল প্রতিহিংসা, সকল অনৈক্য পেছনে ফেলে আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি”।বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কোনো প্রকার বিজয় মিছিল না করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের আমিরে জামায়াতের ঘোষণা, আমরা কোনো বিজয় মিছিল করতে চাই না। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ব”।রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা ফলাফল শিট অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,৩০,৭৮১ এবং ভোট পড়ার হার ৫৬.৯২%। ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৫১,২৩৪ ভোট, ধানের শীষ প্রতীকে মো. আখতারুল আলম ৪৮,৯৯৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মোঃ নূরে আলম সিদ্দীকি ১,৯৩৮ ভোট পেয়েছন।
৪ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

ঢাকা থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও, ভারত কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের ধারণা এড়াতে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্যটি শেয়ার করেন। খবরটি এএনআই থেকে এসেছে।তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আমরা একটি আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম, কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা আমাদের কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাইনি।’নয়াদিল্লি ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে থেকে স্পষ্ট করেছে যে নির্বাচনের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ মূল্যায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপরই থাকবে; কোনো ভারতীয় উপস্থিতি এর ‘বৈধতা’ নিশ্চিত করবে না।জয়সওয়াল বলেন, ভারত নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে জনগণের ম্যান্ডেট মূল্যায়ন করে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যায়। তিনি বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত, যাতে বোঝা যায় কী ধরনের জনম্যান্ডেট এসেছে। এরপর আমরা বিদ্যমান বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। নির্বাচন প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান আপনারা জানেন—আমরা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে।’ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব। নিরাপত্তা, সংযোগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।এএনআই জানায়, চূড়ান্ত ম্যান্ডেটের অপেক্ষা করে ‘বিদ্যমান বিষয়গুলো’ নিয়ে আলোচনা করার কথা বলে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যে পক্ষই বিজয়ী হোক না কেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তি ও সুষ্ঠুতাই ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে—এ বার্তাও পরোক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।নয়াদিল্লি ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে থেকে স্পষ্ট করেছে যে নির্বাচনের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ মূল্যায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপরই থাকবে; কোনো ভারতীয় উপস্থিতি এর ‘বৈধতা’ নিশ্চিত করবে না।
১১ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সিসিলির নিসেমি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। কয়েক দিন আগে অঞ্চলটিতে সাইক্লোন হ্যারির প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে পাহাড়ি ঢালের মাটি নরম হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য বাইরে থেকে দেখলে নান্দনিক মনে হলেও বাস্তবে তা স্থানীয়দের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটি ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দিশেহারা এসব মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগেও এমন একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল, যার স্মৃতি আজও তাদের মনে তাজা।স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের প্রধান ফাবিও চিসিলিয়ানো জানান, ভূমিধস এখনো থেমে যায়নি। তিনি বলেন, “আমি নিজে মোবাইল ফোনে ভূমিধসের দৃশ্য ধারণ করেছি। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হচ্ছে।”চলমান ঝুঁকি ও সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিসিলির পাশাপাশি সার্দিনিয়া ও কালাব্রিয়া অঞ্চলেও জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইতালির মেলোনি সরকার।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা

বইপড়া আন্দোলনের রেশ কেবল একটি দিবসে সীমাবদ্ধ নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে গেল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। ১৯৫৪ সালের এই দিনে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণ করে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও একটি জাতির মনন গঠনে গ্রন্থাগার বাতিঘরের মতো কাজ করে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে যৌক্তিক সমাজ সংস্কারে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব কতটুকু? অনলাইনের এই যুগেও কি ছাপানো বইয়ের ঘ্রাণ পাঠককে টানে? জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস এবং বইপড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনই কিছু অভিমত তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম।গ্রন্থাগার সভ্যতার বাতিঘরগ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়, সভ্যতার জীবন প্রজীবনের বাতিঘর। গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মেধার ধারক ও বাহক হিসেবে তার জীবন্ত হৃদস্পন্দন। এটি অতীতের জ্ঞান সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের জ্ঞান অনুসন্ধানের অবাধ ক্ষেত্র, যা মননশীল জাতি গঠনে ‘জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে কাজ করে। একটি জাতির মনন ও উন্নতির পরিমাপক হলো তার সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শুধু আমাদের কাছে যুগে যুগে গবেষণা, সৃজনশীলতা ও মানব চিন্তার প্রচুর আলো জড়িত না? গ্রন্থাগারই সেই আলোকে আগলে রেখেছে যত্নশীল হাতে। এখানে অতীত থেকে বর্তমানের সঙ্গে আলোচনা হয়, এবং ভবিষ্যতের দিকেও নেতিবাচক চিহ্ন দেয়। একটি জাতির জ্ঞানচর্চা, মনন, ও মূল্যবোধের মানচিত্র কতই ভালোভাবে আঁকা যায় তার গ্রন্থাগার দেখে। পাঠাভ্যাস মানুষকে মঙ্গলদায়ক করে তোলে, যুক্তি শক্তিশালী করে এবং মানবিক করে তোলে। গ্রন্থাগারই সেই সুযোগগুলো সবচেয়ে সহজে প্রদান করে। ডিজিটাল যুগেও গ্রন্থাগারের প্রয়োজন মিটেনি, বরং এর ভূমিকা আরও বিশাল হয়েছে। তথ্যের যে বিপদটি বর্তমানে দেখা দিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্যের সঠিক জ্ঞান নির্বাচনের নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে আজও গ্রন্থাগারের কার্যকরী ভূমিকা আছে। তাই এটা বলা যায়, সভ্যতার পথ চলার সময় গ্রন্থাগার সর্বদা আলোর দিশারি।মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন, শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া।প্রতিটি গ্রন্থাগার জ্ঞানের ভান্ডারযেখানে আমরা সকল জ্ঞান একসাথে পাই সেটি হলো গ্রন্থাগার। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘লাইব্রেরি’ নামে সকলের কাছে পরিচিত। একটি গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞানের ভান্ডার। যেখানে পুঞ্জীভূত থাকে নানান বিষয়। যেমন: সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, শিশুতোষ, গল্প, নাটক, কবিতা, ছড়াসহ বিভিন্ন বিষয়াদি। একটি গ্রন্থগার থেকে কোনো ব্যক্তি যা শিখতে পারে সে পুঁথিগত বই পড়ে তা শিখতে পারে না। পাঠ্যবই আমাদের পেশাগত জীবনের উন্নতি ঘটালেও জীবনের আসল উন্নত ঘটাতে পারে না। যার জন্য প্রয়োজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ভিন্ন বই পড়া। আর সেটা পাওয়া যায় একমাত্র গ্রন্থাগারে। এক স্থানে সকল জ্ঞানের সমাহার হলো গ্রন্থাগার। কিন্তু বর্তমানে দেশে গ্রন্থাগারের সংকট প্রচুর। প্রতি জেলায় খুঁজলে একটি কিংবা দুইটি গ্রন্থাগার পাওয়া যাবে। কোনো কোনো এলাকায় গ্রন্থগার নেই বললেই চলে। আর থাকলেও বইয়ের সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা। “বিশ্ব গ্রন্থগার দিবসে” প্রশাসনের কাছে বিশেষ আবেদন যে, প্রতিটি জেলায় কয়েকটি করে গ্রন্থাগার স্থাপন। কেননা শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের কাছে জ্ঞানের বিশালতা ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ মাধ্যমই হলো গ্রন্থাগার।খাদিজা আক্তার সায়মা, শিক্ষার্থী, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।জ্ঞান চর্চায় স্মার্ট গ্রন্থাগারের ভূমিকাগ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদণ্ড। শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সব জ্ঞান জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের অন্তরালে। অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার। ৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জ্ঞানচর্চার প্রাচীন অথচ চিরনবীন এক প্রতিষ্ঠান—গ্রন্থাগারের কথা। সময় বদলেছে, বদলেছে পাঠের ধরনও। আজ কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্টে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের গ্রন্থাগার। এই রূপান্তরই গড়ে তুলতে পারে ‘স্মার্ট গ্রন্থাগার’, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। স্মার্ট গ্রন্থাগার মানে শুধু আধুনিক অবকাঠামো নয়; এটি জ্ঞানপ্রাপ্তির সহজ ও দ্রুত মাধ্যম। অনলাইন ক্যাটালগ, ই-বুক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সীমাহীন জ্ঞান পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। যান্ত্রিক জীবনে মানসিক প্রশান্তির জন্য গ্রন্থাগার অপরিহার্য। স্মার্ট গ্রন্থাগার হতে পারে পাঠের সেই সহজলভ্যতা। এটি গড়তে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিন্তা, উদ্ভাবন ও প্রগতির শক্তিশালী কেন্দ্র। পরিশেষে প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, ‘লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল।’ যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদার রাখতে বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ভোটের মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষায় এই বিপুল সংখ্যক সদস্য কাজ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য দেশের ৫টি জেলার ১৭টি আসনে দায়িত্ব পালন করবেন। বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ সদস্য প্রস্তুত থাকবে সহায়তার জন্য। এছাড়া বিজিবির ১ হাজার ২১০ প্লাটুন, অর্থাৎ ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মোতায়েন থাকবে।কোস্টগার্ড দেশের ১০টি জেলার ১৭টি আসনের ২০টি উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য নিয়োজিত করবে। পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ সদস্য এবং র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ সদস্যও নির্বাচনী নিরাপত্তায় কাজ করবেন। পাশাপাশি আনসার বাহিনীর ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিএনসিসির ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।অন্যদিকে, নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার থাকবেন ৬৯ জন এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার ৫৯৮ জন। সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ২১ হাজার ২৭৩টি সাধারণ এবং ২১ হাজার ৫০৬টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রিজাইডিং অফিসার থাকবেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উৎসবমুখর পরিবেশে কাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

উৎসবমুখর পরিবেশে কাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ তিন দাবি মানলেই ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান

বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ তিন দাবি মানলেই ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যকার অচলাবস্থা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে পিসিবি আইসিসির কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে।জানা যায়, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আইসিসির কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে আসছিল।বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানায় পিসিবি, যা বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পিসিবি তিনটি দাবি উপস্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো- ১) বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২) টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা, ৩) ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের অধিকার দেওয়া।সূত্র আরও জানায়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার বিষয়ে পিসিবির কিছু কর্মকর্তা ইতিবাচক মত দিলেও বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আগের অবস্থানেই রয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেট মহলের।টিডিএন/
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

‘আমি কোনো দলের নই, আমি সবার’ বিজয়ের পর জামায়াত প্রার্থী

‘আমি কোনো দলের নই, আমি সবার’ বিজয়ের পর জামায়াত প্রার্থী

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল হাসান। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই তিনি এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ফুলবাড়ীয়া’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে মো. কামরুল হাসান ৭৫,৯৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা (ফুটবল) পেয়েছেন ৫২,৬৬৯ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পর গভীর রাতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে মো. কামরুল হাসান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি এই বিজয়কে ফুলবাড়ীয়ার ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক এবং আপামর জনগণের বিজয় বলে অভিহিত করেন।বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি কোনো অঞ্চলের নেতা হতে চাই না, কোনো দলের নেতা হতে চাই না। আমি উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম—ফুলবাড়ীয়ার প্রতিটি জনপদের মানুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে বেঁচে থাকতে চাই”।বিজয়ী ভাষণে কামরুল হাসান তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, “আমার সহযোদ্ধা যে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তাদেরকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আমরা মনে করি আপনারাও ফুলবাড়ীয়ার সম্পদ। নির্বাচনে একজন বিজয়ী হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি বিজয়ী হয়েছি মানে এই নয় যে, আমি একাই ফুলবাড়ীয়াকে গড়ে তুলতে পারব”।তিনি ফুলবাড়ীয়া পুনর্গঠনে তরুণ সমাজ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “সকল প্রতিহিংসা, সকল অনৈক্য পেছনে ফেলে আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি”।বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কোনো প্রকার বিজয় মিছিল না করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের আমিরে জামায়াতের ঘোষণা, আমরা কোনো বিজয় মিছিল করতে চাই না। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ব”।রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা ফলাফল শিট অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,৩০,৭৮১ এবং ভোট পড়ার হার ৫৬.৯২%। ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৫১,২৩৪ ভোট, ধানের শীষ প্রতীকে মো. আখতারুল আলম ৪৮,৯৯৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মোঃ নূরে আলম সিদ্দীকি ১,৯৩৮ ভোট পেয়েছন।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ