শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

সিলেটে নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় নিজের ১১ বছর বয়সী মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শিশুর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আকবর হোসেন (৩৬), তিনি উপজেলার ঘিলাতৈল গ্রামের বাসিন্দা।বুধবার (২০ মে) ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২)।মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মায়ের অনুপস্থিতিতে প্রথম দফায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ১৯ মে ভোররাতে নিজ বসতঘরেই শিশুটি পুনরায় ধর্ষণের শিকার হয়।শিশুটি পরবর্তীতে ঘটনা তার মাকে জানালে মা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।বুধবার দুপুর ১২টায় কড়া পুলিশ পাহারায় আকবর হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
১২ ঘন্টা আগে

প্রস্তুত কোরবানীর হাট, চলছে অনলাইন ও খামারে কেনাবেচা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি করেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলো। এ বছর সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে।এর মধ্যে রাজধানীতে মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)’র আওতায় থাকছে ১১টি হাট। অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র এলাকায় ১৬টি হাট বসবে, যার মধ্যে গাবতলির স্থায়ী হাটটিও অন্তর্ভুক্ত।এদিকে প্রচলিত হাটের পাশাপাশি অনলাইন ও খামারভিত্তিক বিক্রয়েও ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে বাড়ি থেকে পশু বাছাই করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন খামারসূত্রে জানা গেছে, অনেক খামারে কোরবানির বেশকিছু পশুই ইতোমধ্যেই বিক্রির শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।কোরবানির চাহিদার তুলনায় এ বছর দেশব্যাপী গবাদিপশুর মজুত পর্যাপ্ত হওয়ায়, কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই এ বছর কোরবানির পশুর সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো অবৈধ পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের প্রতি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী নিশ্চিত করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে এবং যত্রতত্র বা রাস্তার ওপর কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না।মৎস ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজ উৎপাদিত কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। আমিন উর রশিদ বলেন, ‘দেশীয় খামারিগণের উৎপাদন এখন এতটাই সমৃদ্ধ হয়েছে যে আমদানি বা বাইরের উৎসের প্রয়োজন নেই। দেশীয় উৎপাদন দিয়েই কোরবানির সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা যাবে।’পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ বছর ঢাকায় মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় হবে। দুই সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তারা বাসসকে জানিয়েছেন, হাটগুলোর ইজারাদার নির্ধারণে ইতোমধ্যেই দরপত্র আহ্বান ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়াও এখন প্রায় শেষের দিকে। ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বাসসকে জানান, ডিএসসিসি এলাকায় ১১টি স্থানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ঘোষিত ১১টি হাটের মধ্যে ৯টিতে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দর পাওয়া গেছে, তবে দু’টি হাটের দর সন্তোষজনক না হওয়ায় এই দুইটি হাটের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাদের হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।ডিএসসিসি’র আওতাধীন অস্থায়ী হাটগুলো বসবে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিমাংশে নদীর পাড়ের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি স্থান, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায়। এছাড়া আফতাবনগরের বিভিন্ন ব্লক, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন এলাকা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গা, দয়াগঞ্জ থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার স্থান, বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি এলাকা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশ্ববর্তী জমি ও গোলাপবাগ স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর দিকে অস্থায়ী হাট বসানো হবে।অন্যদিকে, ডিএনসিসি’র অস্থায়ী হাটগুলো হবে মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এলাকায়, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের ১৬ বিঘা খালি জায়গায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন এলাকায়, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গায় ও পূর্ব হাজীপাড়ায় ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গায়।এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা-সংলগ্ন খালি জায়গায়, উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরুসংলগ্ন বউবাজার এলাকায়, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত এলাকায়, কাঁচকুড়া বাজারুসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায়, মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ায়, ভাটারা সুতিভোলা খাল-সংলগ্ন খালি জায়গায়, বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, মহাখালি টিএন্ডটি মাঠের জায়গা, বাড্ডা থানাধীন স্বদেশ প্রপার্টিও খালি জায়গা ও বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় পশুর হাট বসবে।ডিএনসিসি’র ১০টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ইজারা পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা), মিরপুর কালশী বালুর মাঠ (৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা), ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশে (১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা), ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর (২৭ লাখ টাকা), খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৭ লাখ টাকা), বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকা (১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা), বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজ (২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা) এবং বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গা (৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা)।ডিএনসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বাসসকে জানান, যে ১০টি হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর মিললে সম্পত্তি বিভাগ থেকে ইজারা দেওয়া হবে।দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রয়-বিক্রয় চলবে। কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে দুই সিটি কর্পোরেশন। সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং প্রতিটি বড় হাটে একাধিক ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে যারা প্রতিটি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছাড়া কোনো পশুকে হাটে তোলা যাবে না। নিরাপত্তার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনগুলো আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে।প্রত্যেক হাটে আলো, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অস্থায়ী হাটগুলোতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।এদিকে কোরবানির পশুর হাটের পাশাপাশি অনলাইনে গরু-ছাগল কেনাবেচা এখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খামার মালিকদের অনেকেই নিজস্ব ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত ‘হাসিল’ বা খাজনা দিতে হবে না বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।ক্রেতারা অনলাইনে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন, খাদ্যতালিকা ও খামারের অবস্থানকে দেখে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। এতে সময় বাঁচছে, হাটের ভিড়ও এড়ানো যাচ্ছে। বিশেষত যেসব ক্রেতা নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে হাটে যেতে চান না, তাদের জন্য ডিজিটাল হাট একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারগুলোতে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। খিলগাঁও ও আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রচুর খামার থাকায় অনেকেই আগেভাগেই খামারে যাচ্ছেন গরু দেখতে, ওজন যাচাই করতে এবং দরদাম ঠিক করতে। খামারে গিয়ে পশু কেনার সুবিধা হলো এবং হাটের ভিড় নেই, পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কম এবং সরাসরি খামার মালিকের কাছ থেকে পশুর যত্ন, খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
১৫ ঘন্টা আগে

আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সকল সুবিধা

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। অর্থ্যাৎ একই ব্যক্তি বা পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন ভাতা পাওয়ার দ্বৈততা (ডাবল বুকিং) বন্ধ হবে। পাশাপাশি প্রকৃত অভাবী ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে যাবে।প্রস্তাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার। এটি চালু হলে মাত্র একটি কার্ড ও কিউআর কোডের মাধ্যমেই প্রান্তিক মানুষেরা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা পাবেন।সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। এছাড়াও বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’- এর অগ্রগতি, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মূলত ফেজ বাই ফেজ বা পর্যায়ক্রমে গ্রাজুয়ালি অগ্রসর হচ্ছি। এই কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। পাইলটিং মূলত করাই হয় ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর জন্য। যেন মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো আইডেন্টিফাই করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা যায়।’কার্ড বিতরণে প্রান্তিক মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত যারা বেনিফিশিয়ারি, তারা এই কার্ড পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন। তবে যেহেতু আমরা একটি একটি ওয়ার্ড করে দিচ্ছি, তাই পার্শ্ববর্তী অনান্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলার মানুষের মধ্যেও তীব্র আকাঙক্ষা তৈরি হয়েছে। তাদেরও মনে হচ্ছে, এ সুবিধা কখন পাবেন! এই ব্যাপক চাহিদাই বলে দিচ্ছে, আমরা যে উদ্দেশ্যে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি নিয়েছি, তা সফলভাবে লক্ষ্য পূরণ করছে। সরকার গঠনের শুরুতেই এটি হাতে নেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক ও দায়বদ্ধ।’তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির প্রধান কাজ হচ্ছে উপকারভোগীদের কাছে ঠিকমতো টাকা পৌঁছানো। অর্থাৎ যার টাকা সে যেন সরাসরি পায়। এটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডেটা ফাইন্ডিং করা হচ্ছে। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আরও ২০টি ওয়ার্ডে এই কার্ড চালু করা হয়। ফারজানা শারমীন আরও জানান, আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এসব এলাকায় মাঠ পর্যায় থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করে কার্ড বিতরণ করা হবে।ইউরোপ বা আমেরিকার আদলে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামের একটি পারিবারিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ফলে একটি একক ডিজিটাল আইডির অধীনেই জানা যাবে কোন কোন পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি ভাতা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় কার্ড বা প্রতিবন্ধী ভাতা সচল থাকবে।’তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যারা বর্তমানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা নতুন এই কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতাটি সারেন্ডার বা ত্যাগ করতে হবে।ভবিষ্যতে কৃষক ও হেলথ কার্ডসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড একীভূত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সামাজিক বাস্তবতায় একই পরিবারে কৃষক, গর্ভবতী মা কিংবা বিধবা থাকতে পারেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সময় যদি দেখা যায়, উপযুক্ত নারীটি ইতোমধ্যে বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, তবে ডাবল বুকিং বন্ধের নিয়ম অনুযায়ী তাকে আগের কম অঙ্কের কার্ডটি সারেন্ডার করতে হবে। তবে তার স্বামী যদি কৃষক কার্ড নেন বা অন্য কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তাহলে তা সচল থাকবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সকল মন্ত্রণালয় মিলে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাই, যাতে এক ক্লিকে বা একটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে উপকারভোগীর সমস্ত তথ্য চলে আসে এবং ডেটাবেজটি সরাসরি এনআইডি যুক্ত থাকে। এটি করতে পারলে ভাতা নিয়ে যেসব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, বিশেষ করে একজনের নামের কার্ডের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে যায়, সেই অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি মেথডে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর জীবনযাত্রার মান, ঘরে টেলিভিশন বা ফ্রিজ আছে কিনা কিংবা বাড়ির ছাদের অবস্থা কেমন, এমন নানা সূচকে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৮১৪-এর নিচে থাকা ‘অতি দরিদ্র’ পরিবারগুলোই কেবল এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে।’ফারজানা শারমীন বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হল প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যই গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।’ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাইলটিংয়ের উদ্দেশ্যই হল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা। যেখানেই অনিয়ম বা কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সেখানে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সরকার ও উপকারভোগীর মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি।’
২০ মে ২০২৬
দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও সারাদেশে লোডশেডিং

দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও সারাদেশে লোডশেডিং

দেশে প্রথমবারের মতো ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশজুড়ে অসংখ্য গ্রাহককে।গতকাল বুধবার (২০ মে, ২০২৬ ) রাত আনুমানিক  ৯ টার দিকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উংপাদিত হয় দেশে। তবে মধ্যরাত আনুমানিক ১২টা নাগাদই দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় ১৪০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে ফেলে।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।এর আগে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। গত বছরের ২৩ জুলাই ওই বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যা বলছে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর।পিজিসিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার রাত ৯টায় (সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময়) দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট। ওই সময় ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। অবশ্য সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লোকসানের কারণে গ্রিডে সরবরাহ হয় ১৬ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে রেকর্ড উৎপাদনের সময়ও ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই উৎপাদনের বড় অংশই এসেছে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ৮১ এবং গ্যাসভিত্তিক থেকে ৫ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসে ৩ হাজার ৪২৬ মেগাওয়াট।এদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড হলেও লোডশেডিং ঠিকই করা লেগেছে। পিজিসিবির ঘণ্টাপ্রতি লোডশেডিংয়ের তথ্যে দেখা যায়, রাত ১০টায় লোডশেডিং ছিল ৪৪৫ মেগাওয়াট, ১১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮২৩ মেগাওয়াটে। আর রাত ১২টায় ১৬ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৫ হাজার ৩২৫ মেগাওয়াট। ফলে মধ্যরাতেই দেশে ১ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াটের বড় লোডশেডিং হয়।
১১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও সারাদেশে লোডশেডিং

দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও সারাদেশে লোডশেডিং

দেশে প্রথমবারের মতো ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশজুড়ে অসংখ্য গ্রাহককে।গতকাল বুধবার (২০ মে, ২০২৬ ) রাত আনুমানিক  ৯ টার দিকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উংপাদিত হয় দেশে। তবে মধ্যরাত আনুমানিক ১২টা নাগাদই দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় ১৪০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে ফেলে।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।এর আগে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। গত বছরের ২৩ জুলাই ওই বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যা বলছে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর।পিজিসিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার রাত ৯টায় (সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময়) দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট। ওই সময় ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। অবশ্য সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লোকসানের কারণে গ্রিডে সরবরাহ হয় ১৬ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে রেকর্ড উৎপাদনের সময়ও ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই উৎপাদনের বড় অংশই এসেছে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ৮১ এবং গ্যাসভিত্তিক থেকে ৫ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসে ৩ হাজার ৪২৬ মেগাওয়াট।এদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড হলেও লোডশেডিং ঠিকই করা লেগেছে। পিজিসিবির ঘণ্টাপ্রতি লোডশেডিংয়ের তথ্যে দেখা যায়, রাত ১০টায় লোডশেডিং ছিল ৪৪৫ মেগাওয়াট, ১১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮২৩ মেগাওয়াটে। আর রাত ১২টায় ১৬ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৫ হাজার ৩২৫ মেগাওয়াট। ফলে মধ্যরাতেই দেশে ১ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াটের বড় লোডশেডিং হয়।
১১ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনাবাহিনী মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া শুরু হলো।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, (১৯ মে, ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬) পর্যন্ত রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার বিষয়ক একটি মহড়া পরিচালনা করছে।’রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত আছে, তা পরীক্ষা করা।
১৯ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে উপাচার্যের সাক্ষাতের সময় ও নিয়ম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে বসে থাকার বদভ্যাস ভাঙতেই নতুন উপাচার্য যোগ দিয়েই এই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়। এর আগে গত ১৬ মে জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, পূর্বের উপাচার্যদের সময় থেকেই কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের দাপ্তরিক কাজ ফেলে দীর্ঘসময় উপাচার্যের দপ্তরে অবস্থান করতেন। নতুন উপাচার্য যোগদানের পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা ও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। মূলত দপ্তরে এই অহেতুক ভিড় এড়াতে, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং আগের আমলের এই অপসংস্কৃতি ভাঙতেই নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে অতি জরুরি বিষয় ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকতে হবে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কার্যদিবসে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে। তবে এর জন্য যথাযথ মাধ্যম অনুসরণ করে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পূর্বানুমতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
১৮ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চান্দিনায় গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির চাষ

চান্দিনায় গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির চাষ

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা এখন বেশ স্পষ্ট। যখন যে ফসলের মৌসুম, তখন মিলছে না অনুকূল আবহাওয়া। তবে প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন সম্ভাবনার গল্প লিখছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এক লড়াকু কৃষক। অসময়ে, অর্থাৎ তীব্র গরম আর বর্ষার মাঝে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন তিনি। প্রতিকূল আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে লোকসানের শঙ্কা উড়িয়ে এখন লাভের মুখ দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই প্রান্তিক চাষি।কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট গ্রামের কৃষক মনির হোসেন। পেশাগত জীবনে চাষাবাদই তার প্রধান অবলম্বন। প্রথাগত চাষের বাইরে গিয়ে একটু ভিন্ন কিছু করার তাড়না থেকেই তিনি বেছে নেন গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ। নিজের ২৪ শতাংশ জমিতে এই অসময়ের সবজি চাষের সিদ্ধান্ত নেন মনির। শীতের সবজি গরমে চাষ করা মোটেও সহজ কোনো কাজ ছিল না। তবে এই কঠিন যাত্রায় তার পাশে এসে দাঁড়ায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ। পৌর কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগিতা ও নিয়মিত পরামর্শ মনিরের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সঠিক সময়ে বীজ বপন, চারা তৈরি এবং জমি প্রস্তুত করার প্রতিটি ধাপে কৃষি কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা মনিরের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়।চাষের শুরুর দিনগুলো ছিল বেশ সম্ভাবনাময়। মনির হোসেন জানান, যখন কপির চারাগুলো জমিতে রোপণ করা হয়েছিল, তখন খেতের চেহারা ছিল দারুণ চমৎকার। সারিবদ্ধ সবুজ চারাগুলো দেখে মন জুড়িয়ে যেত যেকোনো মানুষের। এক বুক আশা নিয়ে কপির পরিচর্যা করে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রকৃতির হিসাব কিতাব সব সময় মানুষের সাথে মেলে না। মাঝপথে এসে হানা দেয় অসময়ের অতি বৃষ্টি। টানা ভারী বর্ষণে কপির খেতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা এই চাষের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু। অতি বৃষ্টির কারণে খেতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। অনেক চারা নষ্ট হয়ে যায়, যা মনিরের মনে কিছুটা হতাশার জন্ম দিয়েছিল।তবে কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক নির্দেশনার জোরে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন মনির। শত বিপর্যয়ের পরও তার যত্নে বেঁচে থাকা ফুলকপি গাছগুলোতে এখন সাদা ফুল আসতে শুরু করেছে। খেতে খেতে ফুটে থাকা এই অসময়ের ফুলকপি যেন মনিরের কষ্টের সার্থক রূপ। ইতিমধ্যেই তিনি খেত থেকে ফুলকপি তোলা এবং বাজারে বিক্রি করার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দিয়েছেন।সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, অসময়ে বাজারে এই সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারে শীতকালীন সবজির প্রাপ্যতা না থাকায় মনির হোসেন তার উৎপাদিত ফুলকপি বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে। ভালো দাম পাওয়ায় খেতের প্রাথমিক ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে যাচ্ছে। ২৪ শতাংশ জমিতে এই ফুলকপি চাষ করতে মনিরের মোট খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বৃষ্টির কারণে কিছুটা উৎপাদন কম হলেও বর্তমান বাজারের চড়া দাম তাকে বড় ধরনের লোকসানের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।কৃষক মনির হোসেনের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হয়তো লাভের অংকটা আরও অনেক বড় হতে পারত। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মোটেও অসন্তুষ্ট নন। তার মতে, লোকসান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, হয়তো লাভের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হবে। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মাঝেও যে লাভ করা সম্ভব, সেটাই তার সবচেয়ে বড় পাওয়া।চান্দিনার এই চিত্র প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শ পেলে যেকোনো বাধা টপকে যাওয়া সম্ভব। মনির হোসেনের এই সাফল্য ছায়কোট গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার অন্য কৃষকদেরও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে উৎসাহিত করছে। আগামীতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস মাথায় রেখে আরও বড় পরিসরে এই চাষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মনির। প্রকৃতির বৈরিতাকে জয় করে কৃষকের এই এগিয়ে যাওয়ার গল্প দেশের সামগ্রিক কৃষিখাতের জন্যই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
১৪ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র