শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

ভুয়া রেজুলেশন, আর্থিক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

ভুয়া রেজুলেশন তৈরী করে একদিনেই সভাপতি নির্বাচন, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক দূর্নীতি সহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দীনের বিরুদ্ধে। একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্যের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত টিম কলেজ পরিদর্শন করেছে ।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজ পরিচালনা পরিষদের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ একক সিদ্ধান্তে এক দিনের ব্যবধানে নোটিশ ও গভর্নিং বডি সদস্যদের মিটিং এ উপস্থিতি না করে জাল স্বাক্ষর সংযোজন করে একটি ভূয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। এর মাধ্যমে গভর্নিং বডির গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হয়। এতে কোনো বৈধ সভা আহ্বান কিংবা সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী  সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কারণে পদত্যাগ করেন। পরদিন ২১ নভেম্বর অধ্যক্ষ এককভাবে গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দেখান। বিধিমালা অনুযায়ী সভা আহ্বানের নোটিশের কমপক্ষে ৭ দিন পর সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তথাকথিত ওই সভায় ২৪২ নম্বর রেজুলেশন দেখানো হলেও একই নম্বর পূর্ববর্তী বৈধ সভাতেও ব্যবহৃত হয়েছিল, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া রেজুলেশনে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সীলমোহরেও অসংলগ্নতা পাওয়া গেছে।সরেজমিনে একাধিক গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। কয়েকজন সদস্য দাবি করেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। দাতা  সদস্য আবু তাহের বিটু বলেন, আমি এই ধরনের কোনো সভায় উপস্থিত ছিলাম না এবং এমন রেজুলেশনের বিষয়ে কিছুই জানি না।গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি প্রভাষক ফারজানা বেগম বলেন, আমি ২০২৫ সালের ১৮ই নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত  ন্যাশনাল একাডেমী ফর এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট এর ট্রেনিংএ ছিলাম। ২১ তারিখের মিটিং এর বিষয়ে আমি জানতাম না। পরে অধ্যক্ষ স্যার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ঢাকায় এসেছেন। তখন তিনি আমার থেকে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন।একইভাবে গভর্নিং বোডির অন্য শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী বলেন, ২১ নভেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষা ছিলো। আমি  হলে দায়িত্বে ছিলাম। ওই দিন কলেজ ক্যাম্পাসে কোন ধরনের মিটিং হয়নি। কয়েকদিন পর পিয়নকে দিয়ে ২১ তারিখেন একটি রেজুলেশনে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ আমার বাড়িতে পাঠায়। আমি যেহেতু এমন মিটিং সম্পর্কে জানিনা এবং উপস্থিত ছিলাম না  তাই আমি স্বাক্ষর করিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সভায় যাকে হিতৈষী সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে, বিধি অনুযায়ী তার ৫০ হাজার টাকা কলেজ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন কোনো জমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনের রেজুলেশন করা হয়েছে ওইদিন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দীন নিজেই ছুটিতে ছিলেন।  এসময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক শাহওয়ালী উল্যাহ।  কিন্তু একই দিনে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে সভাপতি নির্বাচনের রেজুলেশন তৈরি করে নতুন সভাপতি অনুমোদন করায় জালিয়াতির সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহওয়ালী উল্যাহর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরের ১২ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ১১ তারিখ পর্যন্ত অধ্যক্ষ ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্বে ছিলাম। ২১ তারিখ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষা পরীক্ষা ছিল। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সেটি পরিচালনা করেছি।  শিক্ষক প্রতিনিধির আরেকজন শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদীও পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত ছিলেন। আমরা দুই জনই শিক্ষক প্রতিনিধির সদস্য হয়েও ২১ তারিখ রেজুলেশনের জন্য যে মিটিং  দেখানো হয়েছে তা অবগত নই।  ঘটনাটি তদন্তাধীন, তাই বিস্তারিত কিছু বলা এই মুহূর্তে সমীচীন নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত করছে।কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো: আবুল হাসান বলেন, আমি এনটিআরসির নিবন্ধনের মাধ্যমে হাতিয়া কলেজে নিয়োগ পেয়েছি। আমার কাগজ পত্রে অসঙ্গতি আছে এমন কথা বলে অধ্যক্ষ স্যার ২লাখ টাকা ছেয়েছেন। টাকা না দেওয়ায় আমাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চার বার কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ের অডিট টিম পরিদর্শনে এলে অধ্যক্ষ তা কাজে লাগিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করতেন। কেউ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হতো। এ বিষয়ে একাধিক কল রেকর্ড রয়েছে। যা  প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমোতাবেক জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে জুনিয়রকে পদোন্নতি দেন। এসব ঘটনার জেরে কলেজের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।এদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত টিম ইতোমধ্যে কলেজে গিয়ে নথিপত্র যাচাই-বাছাই, সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছেন।তদন্ত টিমের সদস্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও উদ্ভাবণ) মো: আবদুল মান্নান জানান, তদন্ত মাত্র শেষ হয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। অফিশিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ নিয়ম মেনেই প্রতিবেদনটি তৈরি ও জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তিগত পক্ষপাতের স্থান নেই; সংগৃহীত তথ্যাদি, নথিপত্র এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হবে। তদন্তের সময় যে সকল তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া গেছে, রিপোর্টে ঠিক সেই বিষয়গুলোই উঠে আসবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দিন বলেন, সকল ধরনের নিয়ম মেনে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। একটা পক্ষ কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। কলেজের একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য অবান্তর কিছু বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতে মাউশি থেকে তদন্ত টিম এসে সব কিছু দেখে গিয়েছেন। আমার কলেজে কোন সমস্যা নেই। কলেজ সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
৮ ঘন্টা আগে

শত্রুতার জেরে টমেটো ক্ষেত ধ্বংস: ৩ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কেরনখাল ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকায় টমেটো ক্ষেত কেটে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং কেরনখাল ইউনিয়নের তেঘরিয়া চতর বাড়ির বাসিন্দা মোঃ মমতাজ (৫৫) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই এলাকার ছয়ঘরিয়া হারুন চেয়ারম্যান বাড়ির বাসিন্দা মোঃঅলিউল্লাহ প্রকাশ অলু (৩০) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে তেঘরিয়া বাগমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে হৃদয় নামে এক ব্যক্তির ঘরে অলিউল্লাহ, হৃদয় ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন সারারাত মাদক সেবন করে। বিষয়টি জানতে পেরে ভোরে স্থানীয় লোকজনসহ মমতাজ সেখানে গিয়ে তাদের আটক করেন। এ সময় হৃদয় মমতাজের ভাতিজা হওয়ায় তাকে শাসন করলে সে পালিয়ে যায়।অপরদিকে অলিউল্লাহকে শাসন করলে সে উপস্থিত লোকজনের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং পরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।এরপর গত ২৭ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মমতাজ ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাগমারা মাদ্রাসার উত্তর পাশে অবস্থিত তাদের ১৫ শতক জমির টমেটো ক্ষেত দেখতে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান অলিউল্লাহ তাদের জমির আইলে দাঁড়িয়ে গাঁজা সেবন করছে। তাদের দেখে সে গাঁজা সেবনের জন্য আহ্বান জানায় এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে।এ ঘটনায় তারা কোনো প্রতিবাদ না করে বাড়িতে ফিরে যান।পরদিন ২৮ মার্চ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে টমেটো ক্ষেতে গিয়ে তারা দেখতে পান ক্ষেতের সব টমেটো গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী কৃষক।পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানানো হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে অভিযুক্ত অলিউল্লাহকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী মমতাজ জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চান্দিনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
১০ ঘন্টা আগে

র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান,কুবি প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আগমন উপলক্ষে র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স জারি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও র‍্যাগিং, বুলিংসহ নানা ধরনের হয়রানি বন্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, ছাত্র পরামর্শক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।মতবিনিময় সভায় প্রক্টর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি শারীরিক, মানসিক, মৌখিক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সকল প্রকার র‍্যাগিং, বুলিং, বডিশেমিং, ইভটিজিং থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের র‍্যাগিং, বুলিং, বডিশেমিং কিংবা ইভটিজিং এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।ছাত্র পরামর্শক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীকে ম্যানার শেখানো অন্য কোনো শিক্ষার্থীর দায়িত্ব না। কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি এমন কোনো কিছু করা হয় যার কারণে সে অস্বস্তি বোধ করে, সেটা র‍্যাগিং হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‍্যাগিং এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।'তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকল স্টেক হোল্ডারদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন সকলে সহযোগিতা করেন। সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে চাই।'প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ' বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। যদি র‍্যাগিং এর মতো কোনো শারীরিক ও মানসিক হ্যারেসমেন্টের ঘটনা ঘটে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'উল্লেখ্য, র‍্যাগিং প্রতিরোধে ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অনুষদের ডিনদের সঙ্গে, ৭ এপ্রিল বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে এবং ৮ এপ্রিল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
০৯ এপ্রিল ২০২৬
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আর্কিটেকচার বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এদিন কেন্দ্রজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন পরীক্ষা কক্ষ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভিজিল্যান্স উপ-কমিটির সদস্য ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ.এইচ.এম. কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ, আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।পরিদর্শন শেষে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য। তিনি জানান, এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোট ১৫৪টি কক্ষে ৭টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পেরেছে বলে তারা জানিয়েছে।উপাচার্য আরও বলেন, পরীক্ষার নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাংবাদিকরা সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভবিষ্যতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী।এবারের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, নতুন কলা ভবন এবং পুরাতন বিজ্ঞান ভবনে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে বিকেলে নতুন কলা ভবনে আর্কিটেকচার বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ময়মনসিংহ ও ভালুকা এলাকা থেকে বিশেষ বাস সার্ভিসের ব্যবস্থাও করা হয়।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘এ’ ইউনিটে মোট ১০ হাজার ৩৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ হাজার ১৯৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ১৫৯ জন। উপস্থিতির হার ছিল ৭৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে আর্কিটেকচার ব্যবহারিক পরীক্ষায় ১৫২ জনের মধ্যে ৫৯ জন অংশ নেয়, আর অনুপস্থিত ছিল ৯৩ জন।জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব আসনসংখ্যা ও নীতিমালার ভিত্তিতে পৃথক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।এ বছর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে মোট ১ হাজার ১৭৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
৬ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মামলা প্রত্যাহার হওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর-এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে?উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামলার শিকার হয়েছেন, ২০ বছর আগে কবরে গেছেন এমন মানুষ মামলার শিকার হয়েছেন, দুই হাত পঙ্গু তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তিনি ঢাকা শহরে ময়লার ট্রাকে বোমা মেরেছে। এসব মামলার ধরন আমরা জানি। তিনি আরও বলেন, যেসব মামলা হয়েছে প্রত্যাহার হয়েছে তার সার্টিফাইড কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে দরখাস্ত করার অনুরোধ করব। আর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে অনুরোধ করব যেসব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট জটিলতা যাতে অতি দ্রুত নিষ্পন্ন করেন। এর বাইরে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না।
০১ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে ফিরে যাবে 'কফিনে'

ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে ফিরে যাবে 'কফিনে'

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইংরেজি দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কোনো মার্কিন সেনা ইরানের মাটিতে প্রবেশ করে, তবে তারা জীবিত ফিরে আসবে না, বরং ‘কফিনে’ করেই দেশে ফিরতে হবে।শুক্রবার (২৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা আসে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন সম্ভবত ইরানবিরোধী স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে, তবুও সেনা বাড়ানোর এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও বেশি সামরিক বিকল্প দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব সেনাকে ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করানো হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।এদিকে তেহরানের এক কর্মকর্তা বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরান তাদের ইয়েমেনি মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের আরও সক্রিয় করবে। এর ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল আবারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে।তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলযুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আলোচনা খুবই ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা তেহরানের কেন্দ্রীয় অংশে ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
২৯ মার্চ ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আর্কিটেকচার বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এদিন কেন্দ্রজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন পরীক্ষা কক্ষ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভিজিল্যান্স উপ-কমিটির সদস্য ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ.এইচ.এম. কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ, আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।পরিদর্শন শেষে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য। তিনি জানান, এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোট ১৫৪টি কক্ষে ৭টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পেরেছে বলে তারা জানিয়েছে।উপাচার্য আরও বলেন, পরীক্ষার নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাংবাদিকরা সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভবিষ্যতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী।এবারের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, নতুন কলা ভবন এবং পুরাতন বিজ্ঞান ভবনে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে বিকেলে নতুন কলা ভবনে আর্কিটেকচার বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ময়মনসিংহ ও ভালুকা এলাকা থেকে বিশেষ বাস সার্ভিসের ব্যবস্থাও করা হয়।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘এ’ ইউনিটে মোট ১০ হাজার ৩৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ হাজার ১৯৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ১৫৯ জন। উপস্থিতির হার ছিল ৭৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে আর্কিটেকচার ব্যবহারিক পরীক্ষায় ১৫২ জনের মধ্যে ৫৯ জন অংশ নেয়, আর অনুপস্থিত ছিল ৯৩ জন।জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব আসনসংখ্যা ও নীতিমালার ভিত্তিতে পৃথক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।এ বছর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে মোট ১ হাজার ১৭৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
৬ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৬ মার্চ ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

২৬ মার্চ ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

ভুয়া রেজুলেশন, আর্থিক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

ভুয়া রেজুলেশন, আর্থিক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

ভুয়া রেজুলেশন তৈরী করে একদিনেই সভাপতি নির্বাচন, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক দূর্নীতি সহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দীনের বিরুদ্ধে। একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্যের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত টিম কলেজ পরিদর্শন করেছে ।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজ পরিচালনা পরিষদের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ একক সিদ্ধান্তে এক দিনের ব্যবধানে নোটিশ ও গভর্নিং বডি সদস্যদের মিটিং এ উপস্থিতি না করে জাল স্বাক্ষর সংযোজন করে একটি ভূয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। এর মাধ্যমে গভর্নিং বডির গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হয়। এতে কোনো বৈধ সভা আহ্বান কিংবা সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী  সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কারণে পদত্যাগ করেন। পরদিন ২১ নভেম্বর অধ্যক্ষ এককভাবে গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দেখান। বিধিমালা অনুযায়ী সভা আহ্বানের নোটিশের কমপক্ষে ৭ দিন পর সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তথাকথিত ওই সভায় ২৪২ নম্বর রেজুলেশন দেখানো হলেও একই নম্বর পূর্ববর্তী বৈধ সভাতেও ব্যবহৃত হয়েছিল, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া রেজুলেশনে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সীলমোহরেও অসংলগ্নতা পাওয়া গেছে।সরেজমিনে একাধিক গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। কয়েকজন সদস্য দাবি করেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। দাতা  সদস্য আবু তাহের বিটু বলেন, আমি এই ধরনের কোনো সভায় উপস্থিত ছিলাম না এবং এমন রেজুলেশনের বিষয়ে কিছুই জানি না।গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি প্রভাষক ফারজানা বেগম বলেন, আমি ২০২৫ সালের ১৮ই নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত  ন্যাশনাল একাডেমী ফর এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট এর ট্রেনিংএ ছিলাম। ২১ তারিখের মিটিং এর বিষয়ে আমি জানতাম না। পরে অধ্যক্ষ স্যার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ঢাকায় এসেছেন। তখন তিনি আমার থেকে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন।একইভাবে গভর্নিং বোডির অন্য শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী বলেন, ২১ নভেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষা ছিলো। আমি  হলে দায়িত্বে ছিলাম। ওই দিন কলেজ ক্যাম্পাসে কোন ধরনের মিটিং হয়নি। কয়েকদিন পর পিয়নকে দিয়ে ২১ তারিখেন একটি রেজুলেশনে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ আমার বাড়িতে পাঠায়। আমি যেহেতু এমন মিটিং সম্পর্কে জানিনা এবং উপস্থিত ছিলাম না  তাই আমি স্বাক্ষর করিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সভায় যাকে হিতৈষী সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে, বিধি অনুযায়ী তার ৫০ হাজার টাকা কলেজ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন কোনো জমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনের রেজুলেশন করা হয়েছে ওইদিন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দীন নিজেই ছুটিতে ছিলেন।  এসময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক শাহওয়ালী উল্যাহ।  কিন্তু একই দিনে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে সভাপতি নির্বাচনের রেজুলেশন তৈরি করে নতুন সভাপতি অনুমোদন করায় জালিয়াতির সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহওয়ালী উল্যাহর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরের ১২ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ১১ তারিখ পর্যন্ত অধ্যক্ষ ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্বে ছিলাম। ২১ তারিখ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষা পরীক্ষা ছিল। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সেটি পরিচালনা করেছি।  শিক্ষক প্রতিনিধির আরেকজন শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদীও পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত ছিলেন। আমরা দুই জনই শিক্ষক প্রতিনিধির সদস্য হয়েও ২১ তারিখ রেজুলেশনের জন্য যে মিটিং  দেখানো হয়েছে তা অবগত নই।  ঘটনাটি তদন্তাধীন, তাই বিস্তারিত কিছু বলা এই মুহূর্তে সমীচীন নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত করছে।কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো: আবুল হাসান বলেন, আমি এনটিআরসির নিবন্ধনের মাধ্যমে হাতিয়া কলেজে নিয়োগ পেয়েছি। আমার কাগজ পত্রে অসঙ্গতি আছে এমন কথা বলে অধ্যক্ষ স্যার ২লাখ টাকা ছেয়েছেন। টাকা না দেওয়ায় আমাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চার বার কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ের অডিট টিম পরিদর্শনে এলে অধ্যক্ষ তা কাজে লাগিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করতেন। কেউ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হতো। এ বিষয়ে একাধিক কল রেকর্ড রয়েছে। যা  প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমোতাবেক জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে জুনিয়রকে পদোন্নতি দেন। এসব ঘটনার জেরে কলেজের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।এদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত টিম ইতোমধ্যে কলেজে গিয়ে নথিপত্র যাচাই-বাছাই, সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছেন।তদন্ত টিমের সদস্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও উদ্ভাবণ) মো: আবদুল মান্নান জানান, তদন্ত মাত্র শেষ হয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। অফিশিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ নিয়ম মেনেই প্রতিবেদনটি তৈরি ও জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তিগত পক্ষপাতের স্থান নেই; সংগৃহীত তথ্যাদি, নথিপত্র এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হবে। তদন্তের সময় যে সকল তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া গেছে, রিপোর্টে ঠিক সেই বিষয়গুলোই উঠে আসবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দিন বলেন, সকল ধরনের নিয়ম মেনে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। একটা পক্ষ কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। কলেজের একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য অবান্তর কিছু বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতে মাউশি থেকে তদন্ত টিম এসে সব কিছু দেখে গিয়েছেন। আমার কলেজে কোন সমস্যা নেই। কলেজ সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
২৬ মার্চ ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ