সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
The Dhaka News Bangla

রান্নার পর মাংস সবুজ, কী বলছেন বাকৃবির খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ?

রান্না করতে গিয়ে হঠাৎ লাল গরুর মাংস সবুজ হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। খুলনার পাইকগাছায় রান্না করা গরুর মাংস সবুজাভ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন।গত বুধবার (২২ জুলাই) পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কয়েকজন কর্মী পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্না করার সময় দেখতে পান, মাংসের রং অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়েছে । বিষয়টি দেখে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে থানায় যান। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) খাদ্য নিরাপত্তা, অণুজীববিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন বলেন, রান্নার পর মাংসের কোনো অংশ সবুজাভ হয়ে গেলেও ঝোলের রং স্বাভাবিক থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তবে শুধু ছবি বা ভিডিও দেখে এর কারণ নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়। প্রকৃত কারণ জানতে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও রাসায়নিক পরীক্ষা অপরিহার্য।তিনি বলেন, মাংসের রং নির্ধারণকারী রঞ্জক পদার্থ মায়োগ্লোবিন বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে সবুজাভ বর্ণ ধারণ করতে পারে। আবার সিউডোমোনাস (Pseudomonas sp) প্রজাতির কিছু ব্যাকটেরিয়া কিংবা অন্যান্য অণুজীবের বৃদ্ধির ফলেও এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এছাড়া অনুপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা, অক্সিডেশন, রান্নার সময় ধাতব পাত্রের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া কিংবা জবাই-পরবর্তী সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটিও সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।অধ্যাপক মিনারা খাতুন বলেন, শুধু একদিন ফ্রিজে রাখার কারণে সাধারণত গরুর মাংস সবুজ হয়ে যায় না। সঠিকভাবে শূন্য থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে সংরক্ষণ করা হলে মাংসের রং কিছুটা গাঢ় বা বাদামি হতে পারে, তবে স্পষ্ট সবুজ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়।মাংস সবুজ হলেও ঝোলের রং স্বাভাবিক থাকার বিষয়টি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঝোলের রং মূলত মাংসের রঞ্জক পদার্থ, মসলা এবং রান্নার সময় সংঘটিত বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। ফলে মাংসের নির্দিষ্ট অংশে পরিবর্তন ঘটলেও পুরো ঝোলের রং অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তাই ঝোলের রং স্বাভাবিক থাকলেই মাংস নিরাপদ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।একই গরুর মাংস কিনে অন্যরা কোনও সমস্যায় পড়েননি মাংস বিক্রেতার দাবির প্রেক্ষিতে অধ্যাপক মিনারা খাতুন বলেন, ‘একই পশুর বিভিন্ন অংশের সংরক্ষণ পরিবেশ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দূষণের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে, ফলে সব অংশে একই রকম পরিবর্তন নাও ঘটতে পারে। তাই অন্যদের কিছু হয়নি এই যুক্তি খাদ্য নিরাপত্তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে বেকারির কোনও রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার যে জল্পনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তারও এখন পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কেননা খাদ্যশিল্পে ব্যবহৃত বেশির ভাগ রাসায়নিক সাধারণত তাপের সংস্পর্শে এসে মাংসকে সবুজ করে না।’তিনি আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাংস, হ্যাম ও সসেজে সবুজাভ বর্ণের ঘটনা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মায়োগ্লোবিনের রাসায়নিক পরিবর্তন, অণুজীবের ( ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক) বৃদ্ধি, অক্সিডেশন, আলোর প্রতিফলনজনিত ইরিডেসেন্স কিংবা সংরক্ষণ ও পরিবহনের ত্রুটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায়।সাধারণ ভোক্তাদের উদ্দেশে অধ্যাপক মিনারা খাতুন বলেন, মাংসে অস্বাভাবিক সবুজ রং, দুর্গন্ধ, পিচ্ছিল ভাব বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ।সেই তিনি বলেন, "খাদ্যের রং, গন্ধ বা গঠন স্বাভাবিক থাকলেই তা শতভাগ নিরাপদ এমন নয়। আবার শুধু রঙের পরিবর্তন দেখেই সেটিকে বিষাক্ত বলাও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের মূলনীতি হওয়া উচিত সন্দেহ হলে খাবেন না, পরীক্ষা করুন। মাংস কোথা থেকে এসেছে, কবে জবাই হয়েছে এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা উচিত।"
২৫ জুলাই ২০২৬

দিল্লিতে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আটক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এর আগে, সোমবার ভারতের সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পথযাত্রায় পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা রাজপথে নামেন। তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, "গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে নৃশংসতা ও বলপ্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবন পর্যন্ত গণমিছিল করেছি।"তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার এ ঘটনার দায় নিতে চায় না এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে কোনো গঠনমূলক আলোচনাতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। রাহুলের ভাষায়, "ভারতের কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।"শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করে বিক্ষোভকারীরা মোদিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের এই বিক্ষোভ এবং পরবর্তী আটকের ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
২১ জুলাই ২০২৬

ত্রিমুখী আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, চাপে মোদি সরকার

ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন তিনটি বড় আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী আন্দোলন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভ এবং জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের দাবিতে কাশ্মীরি নেতাদের আন্দোলন এই তিন ইস্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, একযোগে তিন দিকের চাপ সামলাতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার।শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহতমেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে যুব ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী এবং অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রয়েছেন। সহিংসতার অভিযোগে প্রায় ৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে দিল্লির যন্তর মন্তরে শত শত আন্দোলনকারী অবস্থান নেন। আগের দিনের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং অস্থায়ী তাঁবু ভেঙে দেওয়ার পরও তারা রাতভর নতুন করে আশ্রয়স্থল তৈরি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কারের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে যাবেন না।এদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকারকর্মীরা আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। ভারতের হাইকোর্টও আন্দোলন মোকাবিলায় প্রশাসনকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।দিল্লি অভিমুখে কৃষকদের পদযাত্রাঅন্যদিকে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে 'দেশ বাঁচাও মোর্চা'র ব্যানারে আয়োজিত 'কিসান মহাপঞ্চায়েত' কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা হাজারের বেশি কৃষককে পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তে আটকে দেয় পুলিশ।হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, মঙ্গলবার দিল্লির কিষাণ ঘাটে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। তবে কৃষকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে শম্ভু সীমান্তে ঘাগ্গর নদীর সেতুর মুখে ব্যারিকেড বসিয়ে দেয় প্রশাসন।কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে দিল্লিতে পৌঁছাতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সরকার এই অবরোধ সৃষ্টি করেছে।কৃষকদের আশঙ্কা, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বিদেশি কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য কম দামে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করবে। এতে দেশীয় কৃষক, খামারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।তাদের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রকাশ করতে হবে এবং কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা যাবে না।কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবিএদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল এবং সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে।শ্রীনগরের সংসদ সদস্য আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল দুটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার যে সাংবিধানিক পরিবর্তন করেছিল, তা কাশ্মীরের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক পরিচয় ক্ষুণ্ন করেছে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল এবং কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।বাড়ছে সরকারের ওপর চাপএকদিকে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন, অন্যদিকে কৃষকদের বিক্ষোভ এবং একই সময়ে কাশ্মীর ইস্যুতে রাজনৈতিক কর্মসূচি সব মিলিয়ে রাজধানী দিল্লিতে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি আন্দোলন যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২১ জুলাই ২০২৬
শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে ‘আরেক বালিশ-কাণ্ডের’ অভিযোগ!

শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে ‘আরেক বালিশ-কাণ্ডের’ অভিযোগ!

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পে অনুমোদনবিহীন ব্যয়, অতিরিক্ত বিল পরিশোধ এবং ভেরিয়েশনের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন গাছের মূল্য বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকশ টাকার চারা গাছের মূল্য প্রকল্প নথিতে কয়েক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এ খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যার জন্য আরও প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।বিমানবন্দরসংলগ্ন কয়েকটি নার্সারির মালিকরা দাবি করেছেন, একই ধরনের গাছ সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। ফলে প্রকল্পে মূল্য নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে অতিরিক্ত কাজের নামে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ ভেরিয়েশন অনুমোদনের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।এছাড়া পুকুর নির্মাণ, মাটি পরিবহন, ডিজেল পাম্প, ইউপিএস সরবরাহ, জ্বালানি ব্যয় এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত বিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির বাইরে ব্যয় দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধনের আয়োজনেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মূল চুক্তিতে এ ধরনের ব্যয়ের উল্লেখ না থাকলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মগুলো পরবর্তী সময়ে অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হলে তা জবাবদিহি ও সুশাসনের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হবে।এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে ওঠা সব অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কোনো দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ছাড়া নিষ্পত্তি করা হবে না।অন্যদিকে, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ মফিদুর রহমান বলেছেন, প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন ও নকশা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং অর্থায়নকারী সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে হয়েছে। তাই প্রতিটি অভিযোগ প্রকল্পের নথি ও চুক্তির আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে অনুমোদিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। জাপানের জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
২৫ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

শুধু পদত্যাগ নয় চুপ্পুকে গ্রেফতার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শুধু পদত্যাগ নয় চুপ্পুকে গ্রেফতার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

জামালপুর, ২৩ জুলাই ২০২৪: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে জামালপুর সদর উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, 'গণঅভ্যুত্থানে আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাদক কারবারি বন্ধ হয়নি। চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। দলীয়করণ বন্ধ হয়নি। জমি দখল বন্ধ হয়নি।' নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আপনার জমি দখল হলে কোথায় যাবেন? মিডিয়া, পুলিশ, আদালত, সব দলীয়করণ হয়ে গেলে কোথাও ন্যায়বিচার পাবেন না। এই সরকার পরিবর্তনের সরকার নয়। পরিবর্তন চাইলে, সংস্কার বাস্তবায়ন চাইলে এনসিপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আমাদের মাত্র আটজন পার্লামেন্টে। এই আটজন জনগণের পক্ষে একশো জনের ভূমিকা পালন করছে। এনসিপি প্রধান বিরোধী দল হলে, জনগণের পক্ষে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে পারতো। আগামীতে আমাদের সমর্থন দিলে এনসিপি চাঁদাবাজি, মাদক নির্মূল করবে।' রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'এতদিন পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করতে মন চাচ্ছে। পাঁচ মাসে আওয়ামীলীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি বিএনপি। যে সরকার আওয়ামীলীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি, তারা কিভাবে রাষ্ট্র পরিবর্তন করতে হবে। শুধু পদত্যাগ করলে হবে না, তাকে গ্রেফতার করতে হবে। যোগ্য, নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বিএনপি যোগ্য, জনপ্রিয় কাউকে রাষ্ট্রপতি বানাতে চায় না।'নাহিদ ইসলাম বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা সামনে ছিল। পেছন থেকে সহযোগিতা করেছে সর্বস্তরের জনতার। কিছুদিন আগে জামালপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, এ ঘটনায় কয় জন গ্রেফতার হয়েছে‌। ফ্যাসিস্টদের তান্ডব লীলা চালায়, তাহলে এর দায় পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারকে নিতে হবে।'পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
২৩ জুলাই ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আটক

দিল্লিতে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আটক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এর আগে, সোমবার ভারতের সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পথযাত্রায় পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা রাজপথে নামেন। তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, "গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে নৃশংসতা ও বলপ্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবন পর্যন্ত গণমিছিল করেছি।"তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার এ ঘটনার দায় নিতে চায় না এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে কোনো গঠনমূলক আলোচনাতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। রাহুলের ভাষায়, "ভারতের কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।"শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করে বিক্ষোভকারীরা মোদিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের এই বিক্ষোভ এবং পরবর্তী আটকের ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
২১ জুলাই ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব আনোয়ার বাবলু আর নেই

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব আনোয়ার বাবলু আর নেই

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মাহবুব আনোয়ার বাবলু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার দুপুরে নিজ বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে চাঁদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নির্দেশনায় দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, একমাত্র ছেলে, আত্মীয়-স্বজন, অসংখ্য সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।মাহবুব আনোয়ার বাবলুর মৃত্যুতে চাঁদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত থেকেই দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে এবং তাঁর বাসভবনে ছুটে যান।তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁদপুর জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা পৃথক শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।শোকবার্তায় নেতারা বলেন, মাহবুব আনোয়ার বাবলুর মৃত্যুতে চাঁদপুর জেলা বিএনপি একজন পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারালো। দলের দুঃসময়ে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, ত্যাগ এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চাঁদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।নেতারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।চাঁদপুর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শরিফ উদ্দিন পলাশ জানান, পারিবারিক ও দলীয় যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার বাদ আসর চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শহরের পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
০৫ জুলাই ২০২৬
নিষিদ্ধ আ.লীগের কার্যক্রম, মায়ের অভিযোগে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধ আ.লীগের কার্যক্রম, মায়ের অভিযোগে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

০৫ জুলাই ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি রিতু, জুয়াইরিয়া ও মারুফাদের

র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি রিতু, জুয়াইরিয়া ও মারুফাদের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রকাশিত নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বশেষ সাপ্তাহিক র‍্যাংকিংয়ে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের।মঙ্গলবার প্রকাশিত এই হালনাগাদ র‍্যাংকিংয়ে ব্যাটারদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। তিনি সাত ধাপ এগিয়ে ৯৬তম স্থানে উঠে এসেছেন। এর আগের সপ্তাহেও ৩৬ ধাপ উন্নতি হয়েছিল তার।এ ছাড়া শারমিন আক্তার ছয় ধাপ এগিয়ে ৪৪তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। আরেক ওপেনার সোবহানা মোস্তারি চার ধাপ এগিয়ে এখন রয়েছেন ৪০তম স্থানে।বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এখনও সবার ওপরে অবস্থান করছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এক ধাপ এগিয়ে তিনি যৌথভাবে ১৯তম স্থানে রয়েছেন। ব্যাটারদের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার জর্জিয়া ভল।বোলারদের র‍্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের দুই পেসারের। রিতু মনি ১১ ধাপ এগিয়ে ৪০৮ রেটিং নিয়ে উঠে এসেছেন ৭৫তম স্থানে। অন্যদিকে মারুফা আক্তার ছয় ধাপ এগিয়ে ৫৩৬ রেটিং নিয়ে অবস্থান করছেন ৩৮তম স্থানে।বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। এক ধাপ এগিয়ে তিনি এখন যৌথভাবে ১৭তম স্থানে আছেন। আর টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শ্রী চারানি।এদিকে, নারী টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকার এক নম্বরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস।
০১ জুলাই ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
০৫ জুলাই ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ