বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত রেলপথ: নোয়াখালী-ঢাকা ট্রেন চলাচল অচলাবস্থা

হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার দাপটে নোয়াখালীর রেলপথে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। ঝড়ের তাণ্ডবে রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ায় ঢাকার সঙ্গে নোয়াখালীর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গভীর রাতে জেলা শহর মাইজদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। এতে একাধিক স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।স্থানীয়রা জানায়, সকালে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পথে বাধার সম্মুখীন হয়ে ধীরগতিতে এগোয়। একাধিক স্থানে গাছ সরিয়ে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালেও দীর্ঘসময় সেখানে অবস্থান করতে বাধ্য হয়। পরে আংশিকভাবে লাইন পরিষ্কার হলে ট্রেনটি চৌমুহনীর দিকে রওনা দেয়। তবে সামনের পথ পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।ট্রেনের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে এখনও গাছ পড়ে থাকায় যাত্রাপথ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।অপ্রত্যাশিত এই বিলম্বে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই অপেক্ষা না করে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করে গন্তব্যে চলে যান।নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা সকাল থেকেই গাছ অপসারণে কাজ করছেন। এরপর রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৪ ঘন্টা আগে

নোয়াখালীতে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ জাল ও পলিথিন জব্দ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে প্রায় ৪০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল, কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ওসখালী পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।অভিযান সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডস্টেশন হাতিয়া ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ওসখালী পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে  ২টি দোকান ও ৩টি গোডাউন তল্লাশি করে ৪০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা মূল্যের ২৪ হাজার ২০০ মিটার কারেন্ট জাল, ১৫৮টি চায়না দুয়ারী জাল এবং ৪৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ২ জন জাল ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো.আবুল কাশেম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জব্দকৃত অবৈধ জালসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয় এবং নিষিদ্ধ পলিথিন মৎস্য অধিদপ্তরের মালখানায় জমা রাখা হয়েছে। দেশের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১৬ ঘন্টা আগে

হাতিয়ায় তরমুজ খেতে নিয়ে নারীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার-১

নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় দায়ের করা একটি গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. ফয়সাল ওরফে রিয়াজ (৪২) কে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১ সিপিপি-৩ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাহাত্তারপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে চট্রগ্রামের ফেস্টিভ্যাল জোন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নোয়াখালীর হাতিয়া থানার একটি বহুল আলোচিত গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ ২০২৬ রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে একটি তরমুজ খেতের টং ঘরে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে। ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে র‍্যাব। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।র‍্যাব-১১ সিপিপি-৩ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত আরও বলেন, পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইলিশ ধরার সাথে জড়িত জেলে সহ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে: কৃষি মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী

উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইলিশ ধরার সাথে জড়িত জেলে সহ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে: কৃষি মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সারা বিশ্বে যে পরিমাণ জাটকা উৎপাদন হয়, তার অধিকাংশ উৎপাদন হয় চাঁদপুরে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এখানকার ইলিশ ধরার সাথে জড়িত জেলে সহ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের পূর্বে দেশে যে পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়েছে তার ২০ শতাংশ হয়েছিল ইলিশ। মাঝের সময়ে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। তবে এখন পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের উপরে ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০০৩-০৪ সাল থেকে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন তিন নদীর মোহনায় জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৭ এপ্রিল থেকে আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।এবারের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী। প্রতিপাদ্যের আলোকে নদীভিত্তিক এই অঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজনন সুরক্ষা এবং জাটকা নিধন রোধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।জাটকা নিধনে কারেন্ট জালের প্রভাব গত ১০-১৫ বছরে খুব দ্রুত উত্থান হয়েছে বলেন মন্ত্রী।তিনি বলেন, নেট ফ্যাক্টরিগুলির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র নেট তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে কিছু দুষ্ট লোক চুরি করে কারেন্ট জাল তৈরি করছে। কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্দে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে ইলিশের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তাই সরকার চায় বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন করবে। মন্ত্রী আরো বলেন, নদী দূষণ এই দেশে অনেক ক্ষতি করছে। যে কোন অবস্থাতে নদীর দূষণ প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিক।মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি খাত শক্তিশালী হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের কৃষি খাত মজবুত না হবে, ততদিন দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই সরকার ভোটের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসন্ন পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড চালু করা হবে, উল্লেখ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী।সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, নো পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠান শুরুর আগে মন্ত্রী চাঁদপুর শহরের তিন নদীর মোহনা পরিদর্শন করেন এবং চমৎকার এই প্রাকৈ পরিবেশের প্রশংসা করেন।
৮ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মামলা প্রত্যাহার হওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর-এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে?উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামলার শিকার হয়েছেন, ২০ বছর আগে কবরে গেছেন এমন মানুষ মামলার শিকার হয়েছেন, দুই হাত পঙ্গু তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তিনি ঢাকা শহরে ময়লার ট্রাকে বোমা মেরেছে। এসব মামলার ধরন আমরা জানি। তিনি আরও বলেন, যেসব মামলা হয়েছে প্রত্যাহার হয়েছে তার সার্টিফাইড কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে দরখাস্ত করার অনুরোধ করব। আর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে অনুরোধ করব যেসব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট জটিলতা যাতে অতি দ্রুত নিষ্পন্ন করেন। এর বাইরে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না।
০১ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে ফিরে যাবে 'কফিনে'

ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে ফিরে যাবে 'কফিনে'

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইংরেজি দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কোনো মার্কিন সেনা ইরানের মাটিতে প্রবেশ করে, তবে তারা জীবিত ফিরে আসবে না, বরং ‘কফিনে’ করেই দেশে ফিরতে হবে।শুক্রবার (২৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা আসে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন সম্ভবত ইরানবিরোধী স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে, তবুও সেনা বাড়ানোর এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও বেশি সামরিক বিকল্প দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব সেনাকে ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করানো হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।এদিকে তেহরানের এক কর্মকর্তা বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরান তাদের ইয়েমেনি মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের আরও সক্রিয় করবে। এর ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল আবারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে।তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলযুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আলোচনা খুবই ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা তেহরানের কেন্দ্রীয় অংশে ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
২৯ মার্চ ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কুবিতে ছাত্রদল নেতা ও কর্মীর বিরোধ গড়াল থানা পর্যন্ত

কুবিতে ছাত্রদল নেতা ও কর্মীর বিরোধ গড়াল থানা পর্যন্ত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার ও নিজ দলের কর্মী মো. হাসান আহমেদ হৃদয় একে অপরের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।০৫ এপ্রিল (রবিবার) তাদের দায়েরকৃত পৃথক দুটি অভিযোগপত্র প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।অভিযোগপত্রে আবুল বাশার উল্লেখ করেন, গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত থাকলে সেখানে তিনি ও তার দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। এসময় ছাত্রদল পরিচয় দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অতিথিদের পথরোধ করে সেলফি তুলতে গেলে তিনি বাধা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা বার্ডের নতুন গেস্ট হাউজে গিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় এবং অশালীন আচরণ করে।অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইমুন সরকার হস্তক্ষেপ করেন। তবে, একই দিন দুপুরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হাসান আহমেদ হৃদয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ এনে পোস্ট করেন এবং সাংবাদিকদের কাছেও মিথ্যা অভিযোগ দেন।এ বিষয়ে আবুল বাশার বলেন, 'কথিত ছাত্রদল পরিচয়দানকারী হৃদয় আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে আমি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছি। তাই আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমি সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।'অপরদিকে মো. হাসান আহমেদ হৃদয় পাল্টা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্যারের সাথে দেখা করতে আমি বার্ডে যাই। সেখানে তাঁর সাথে দেখা করে কয়েকটি সেলফি তুলি। এতে আবুল বাশার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে না জানিয়ে কেন বার্ডে গেছি সে ব্যাপারে জবাবদিহি করেন। এসময় তিনি নিজেকে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এবং সুযোগ পেলে আমাকে হত্যা করবে বলেও হুমকি দেন তিনি।এ ব্যাপারে হৃদয় বলেন, 'বাশার ভাই একজন সিনিয়র হয়ে আমাকে সেদিন হত্যার হুমকি দেন। নিজে হুমকি দিয়ে উল্টো আমার নামে থানায় ডায়েরি করেন। তিনি যে অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এ বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি হতাশায় আছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমি সাহায্য চাই।' অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য সদর দক্ষিণ থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, উক্ত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে টিটু কুমার নাথ বলেন, 'সদর দক্ষিণ থানা থেকে আমাকে অভিযোগের ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগপত্র এখনো আমার কাছে পৌঁছায়নি। অভিযোগপত্র পেলে আমরা তদন্ত শুরু করব।'
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৬ মার্চ ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৬ মার্চ ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত রেলপথ: নোয়াখালী-ঢাকা ট্রেন চলাচল অচলাবস্থা

বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত রেলপথ: নোয়াখালী-ঢাকা ট্রেন চলাচল অচলাবস্থা

হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার দাপটে নোয়াখালীর রেলপথে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। ঝড়ের তাণ্ডবে রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ায় ঢাকার সঙ্গে নোয়াখালীর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গভীর রাতে জেলা শহর মাইজদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। এতে একাধিক স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।স্থানীয়রা জানায়, সকালে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পথে বাধার সম্মুখীন হয়ে ধীরগতিতে এগোয়। একাধিক স্থানে গাছ সরিয়ে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালেও দীর্ঘসময় সেখানে অবস্থান করতে বাধ্য হয়। পরে আংশিকভাবে লাইন পরিষ্কার হলে ট্রেনটি চৌমুহনীর দিকে রওনা দেয়। তবে সামনের পথ পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।ট্রেনের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে এখনও গাছ পড়ে থাকায় যাত্রাপথ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।অপ্রত্যাশিত এই বিলম্বে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই অপেক্ষা না করে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করে গন্তব্যে চলে যান।নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা সকাল থেকেই গাছ অপসারণে কাজ করছেন। এরপর রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৬ মার্চ ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ