রোববার, ২৪ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাতিয়ায় ব্যাবসায়ী কে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

নোয়াখালীর হাতিয়ায় কোস্টগার্ড কর্তৃক নির্যাতন ও দোকান থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্রসহ ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। শনিবার(২৩ মে) বেলা ১১ টার সময় হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজারে এ মানববন্ধন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন, স্থানীয় ভৈরব বাজার বণিক সমিতির আহবায়ক কবির মিয়া, ব্যবসায়ী রাশেদ, নাজিম, ইরাক, স্বপনসহ ভুক্তভোগীর স্বজনরা।বাজার কমিটির আহবায়ক কবির মিয়া বলেন বিদ্যুৎ একজন সাধারণ ব্যাবসায়ী। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এ জাতীয় কোন অভিযোগ আগে কখনো ছিল না।এছাড়া ভুক্তভোগীর মা' লুৎফে আরা বেগম বলেন, তারা আমার ছেলেকে যখন মারতেছে- কোস্ট গার্ড আমার ছেলেকে যখন বাজার থেকে হাত বেধে বাড়িতে নিয়ে আসছে- তখন বললাম, আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে? এরপর তাকে ছাদে তুলে মারা শুরু করছে। তার চিৎকারে চারদিক থেকে মানুষ ছুটে আসছে। এর পর সেখান থেকে নিচে এনে হাঁস মোরগের খোপে ঢুকিয়ে সেখান থেকে বের করে বলে- অস্ত্র পেয়েছি। আমি তাদেরকে বলেছি- আমি সন্ধ্যায় হাঁস মোরগ বেঁধেছি, আপনারা এই ষড়যন্ত্র কেন করছেন?স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, বিনা দোষে আমার স্বামীকে কেন মারছেন, তাকে ছেড়ে দেন- বলায় কোস্ট গার্ড আমাকে গালিগালাজ করে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। তারা আমার রুমে থাকা স্বর্ণালংকার ও ব্যবসায়ের নগদ টাকা নিয়ে যায়।ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ(৩৬) চরকিং ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বোয়ালিয়া গ্রামের হাজি আবুল কালামের ছেলে। সে স্থানীয় ভৈরব বাজারের দোকানদার।মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, কোস্ট গার্ডের অমানবিক নির্যাতনে বিদ্যুতের চিৎকার শুনে এলাকার মানুষ চারদিক থেকে ছুটে আসতে থাকলে- কোস্ট গার্ড এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে।মানববন্ধন শেষে উপস্থিত জনতা বিদ্যুতের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে অন্তত দুই হাজার মানুষ উপস্থিত হয়।উল্লেখ্য শনিবার সকালে অস্ত্র সহ বিদ্যুৎকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করে কোষ্টগার্ড। এর আগে শুক্রবার রাতে তাকে চরকিং ভৈরব বাজার থেকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে তার বাড়ির হাঁস মুরগির ঘর থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান কোষ্টগার্ড।
৬ ঘন্টা আগে

চাঁদপুরে দেড় শতাধিক মেধাবি শিক্ষার্থীকে সংর্বধনা ও বৃত্তি প্রদান

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন কর্তৃক ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে চাঁদপুর শহরের আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার ১৫৬ মেধাবি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।শনিবার (২৩ মে) সকালে শহরের নিউ ট্রাক রোড মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এই আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।তিনি বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, এটা ভুলে গেলে চলবে না। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীরাই দেশের নেতৃত্ব দিবে। চাঁদপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন হলে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পাবে। আর ইপিজেড স্থাপন হলে কর্মসংস্থানও নিজ জেলায় হবে।তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা তাদের মধ্যে উৎসাহ তৈরী হবে। সরকারি বিধি বিধান মেনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মাদক, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় কমিটি করা হবে। এই কমিটিকে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে সময় দিবেন এবং আলোচনা করবেন। তাহলে প্রতিটি এলাকায় মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংসহ সামাজিক অপরাধগুলো কমে আসবে। সন্তানদের প্রতি আরো যত্নবান হবেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ ন ম ফখরুল ইসলাম মাসুম। প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. নরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, আইনজীবী শেখ আবুল খায়ের মো. সালেহ, হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আসাদুজ্জামান দেওয়ান এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুস শুক্কুর মোস্তান।সবশেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও বৃত্তির অর্থ তুলেদেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা। এ সময় প্রধান অতিথি তাঁর ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া সামগ্রী উপহার দেন।মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
১২ ঘন্টা আগে

জাবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালককে মব, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালকের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি, অবরুদ্ধ রাখা, হেনস্তা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় রেজিস্ট্রারকে সেখানে অবরুদ্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে কক্ষ থেকে বের করে প্রশাসনিক ভবন ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা সরে যান। এসময় রেজিস্ট্রারের হাতে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়।একই দিনে অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের কক্ষেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে অপমান-অপদস্থ করে আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।ঘটনার বিষয়ে জাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী বলেন, “কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী দীর্ঘ সময় আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন। তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক হেনস্তা করেছেন। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, কোনো অভিযোগ থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে চাপ প্রয়োগ করে সই আদায় করে।” তিনি দাবি করেন, নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আসলামও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, “তারা দলবল নিয়ে এসে আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং অপমান করে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, মানসম্মানের ভয়ে আমাকে তাদের প্রস্তুত করা কাগজে সই করতে হয়েছে।”বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের অনেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের বিরোধীতা, শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের পক্ষে অবস্থান এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগে অভিযুক্ত যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল আলম (শুভ), সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসান, প্রভাষক মো. সাইদুর রহমান৷ সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম মাহবুবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আল মামুন সরকার, প্রভাষক হোসাইন মাহমুদ (আপেল) ও প্রভাষক ইমরুল কবির ৷ এছাড়াও অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর মালিহা আক্তার মালা'সহ আরও কয়েকজন ৷ এদিকে, জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী) কাওসার আহমেদ স্বাধীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য নিয়েও ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক ভাষায় মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ জানান, নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের অভিযোগ ও অনিয়ম আড়াল করতেই একটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নতুন প্রশাসনের কাছে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা বলেন, “এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা কেবল দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। রেজিস্ট্রার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।”সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল আলম শুভও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “রেজিস্ট্রার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। আমি সেখানে শুধু আইনি বিষয়ে কথা বলেছি।” অন্যদিকে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির নিজস্ব বিধি রয়েছে। লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো ধরনের মব সৃষ্টি বা ব্যক্তিগত হেনস্তার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১৩ ঘন্টা আগে
হাতিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মানসী রানী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

হাতিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মানসী রানী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

ডা. মানসী রানী সরকার। প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ২০১০ সালে এডহক (অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৮১ নম্বর স্মারকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পান বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নিজেকে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, অসদাচরণ ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এসব অনিয়-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে হাতিয়া পৌরসভার চরকৈলাশ গ্রামের মো. সবুজ আহাম্মেদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সরেজমিন তদন্তে আসে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তবে তদন্তের ৪ দিন পার হলেও ডা. মানসী রানী এখনো আগের মতোই দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিজেকে ইউএইচএফপিও হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। তদন্ত টিমের নেতৃত্ব দেন লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন—লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ স্ট্যাটিসটিক্যাল অফিসার (ইনচার্জ) এ. এইচ. এম. ফারুক এবং লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ পাল।অভিযোগে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনায় ডা. মানসী রানী অদক্ষ হলেও দুর্নীতি ও অনিয়মে তিনি বেপরোয়া। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রায়ই অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর কামরুল হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কামরুল মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকলেও নগদ অর্থের বিনিময়ে তার বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাদ্দাম হরিজনকে মাসের পর মাস অনুপস্থিত দেখিয়ে তার বেতনের বড় অংশ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে ডা: মানসী রানীর বিরুদ্ধে। সাবেক ক্যাশিয়ার ও স্টোরকিপার (বর্তমানে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত) আমিরুল ইসলাম আকরামের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহরাব, মিরাজ ও পারভীন নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী তদন্ত টিম ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে সিকিউরিটি গার্ড পদে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী মিরাজ জানান, তৎকালীন ক্যাশিয়ার আকরামের মাধ্যমে তিনি ৩০ হাজার টাকা দেন এবং ১১ মাস কাজও করেন। পরে তাকে বাদ দেওয়া হলেও এখনো টাকা ফেরত পাননি। আকরাম সরকারি ওষুধ সংগ্রহ ও সরবরাহে ব্যাপক কারসাজি করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, হাতিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের ছয়টি ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের পুকুর ও জমি ইজারার নামে টাকা নিয়ে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তমরুদ্দি ও বুড়িরচর সাব-সেন্টারের পুকুর ও জমি ইজারার নামে প্রায় ৯০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।মা-মনি প্রকল্পের সার্জন, নার্স ও আয়াদের কাছ থেকে হাসপাতালের কোয়ার্টার ভাড়া নিয়ে তা ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করার অভিযোগও উঠেছে ডা. মানসী রানীর বিরুদ্ধে।হাতিয়ায় কাগজে-কলমে ছয়টি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার থাকলেও বাস্তবে চারটি চালু রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তমরুদ্দি সাব-সেন্টার ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলো সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন এবং অল্প সময়ের জন্য খোলা থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ডা. মানসী রানী নিজে পরিদর্শনে না গিয়ে পরিদর্শন খাতায় স্বাক্ষর করে টিএ/ডিএ উত্তোলন করতেন।অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালের রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি অকার্যকর রেখে প্রাইভেট ল্যাব থেকে মাসোহারা নেয় ডা: মানসী। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ফল-ফলাদি একক ভোগসহ তিনি পুকুর ব্যবস্থাপনায়ও করেন অনিয়ম।হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা নার্সদের ছাড়পত্র আটকে রেখে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হতো। এসব আর্থিক লেনদেন হাসপাতালের বর্তমান হিসাবরক্ষক নজরুল ইসলামের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমসিডি কর্নার ও জরুরি বিভাগের ভ্যাকসিন এবং ইনজেকশন সংরক্ষণের ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ডা: মানসী ব্যক্তিগত বাসায় ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী মো. সবুজ আহাম্মেদ নিজেকে সচেতন নাগরিক দাবি করে বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনিও ডা. মানসী রানীর অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপসারণ চান। একই অভিযোগের অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, আমি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।তদন্ত টিমের প্রধান ও লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে হাতিয়ার সচেতন মহল ডা. মানসী রানী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও অপসারণ দাবি করেছেন।
৫ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

১ আগস্ট থেকে ঢাকা ফ্লাইট চালু করছে রিয়াদ এয়ার

১ আগস্ট থেকে ঢাকা ফ্লাইট চালু করছে রিয়াদ এয়ার

সৌদি আরবের নতুন রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস ‘রিয়াদ এয়ার’ আগামী ১ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। প্রবাসী কর্মী ও ওমরাহ যাত্রীদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে দ্রুত সম্প্রসারিত বাংলাদেশ-সৌদি আরব বিমানবাজারে এ উদ্যোগ প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সৌদি এয়ারলাইনটির এ প্রবেশ বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবাজারে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করবে, যেখানে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও সৌদিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে আছে।রিয়াদ এয়ারের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগ হোসেন আজ বাসসকে বলেন, ‘আমরা এখন পরিচালনাগত প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। আগামী ১ আগস্ট থেকে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করব।’তিনি বলেন, ঢাকা-রিয়াদ রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এয়ারলাইনটি স্লটের আবেদন করেছে।ফ্লাইটটি দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিকেল ৩টায় রিয়াদের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।সোহাগ হোসেন, ভবিষ্যতে জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনায় ফ্লাইট সম্প্রসারণের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরবর্তী ধাপে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রিয়াদ এয়ারের জন্য সব ধরনের নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর আগে তাদের পরিচালন সূচির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, সৌদি রুটে বিশেষ করে ভাড়া, ট্রানজিট সংযোগ ও সেবার মানের ক্ষেত্রে এ এয়ারলাইনটির আগমন প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনাকারী আরেকটি পূর্ণাঙ্গ সেবাদানকারী উপসাগরীয় এয়ারলাইন যুক্ত হওয়ায় বিমান ভাড়ায় প্রতিযোগিতা বাড়বে, যাত্রী সংযোগ উন্নত হবে এবং সৌদি আরবে বসবাসরত ও কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির জন্য ভ্রমণ সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে।’নজরুল ইসলাম বলেন, রিয়াদ এয়ারের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণখাতের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা এবং উপসাগরীয় বিমান নেটওয়ার্কে দেশের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমের মধ্যে বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ঢাকা রুটে রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে আগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তখন উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ চাহিদার প্রতিফলন।২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা রিয়াদ এয়ার সৌদি আরবের নতুন রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস, যা দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’ অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।এয়ারলাইনটি পুরোপুরি সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন এবং রিয়াদকে একটি বৈশ্বিক বিমান ও লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।এয়ারলাইনটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইতিহাদ এয়ারওয়েজের সাবেক প্রধান নির্বাহী টনি ডগলাস। দ্রুত সম্প্রসারিত বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, এয়ারবাস এ৩২১নিও এবং এয়ারবাস এ৩৫০ উড়োজাহাজ বহরের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০টির বেশি গন্তব্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ এয়ার দেশটির তেলনির্ভর নয় এমন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।বাংলাদেশের বিমানবাজারে গত এক দশকে উপসাগরমুখী যাত্রী চলাচল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বড় অংশই প্রবাসী কর্মী ও ধর্মীয় ভ্রমণকারীদের কারণে ঘটেছে।
১৩ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনাবাহিনী মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া শুরু হলো।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, (১৯ মে, ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬) পর্যন্ত রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার বিষয়ক একটি মহড়া পরিচালনা করছে।’রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত আছে, তা পরীক্ষা করা।
১৯ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

জাবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালককে মব, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

জাবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালককে মব, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালকের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি, অবরুদ্ধ রাখা, হেনস্তা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় রেজিস্ট্রারকে সেখানে অবরুদ্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে কক্ষ থেকে বের করে প্রশাসনিক ভবন ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা সরে যান। এসময় রেজিস্ট্রারের হাতে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়।একই দিনে অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের কক্ষেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে অপমান-অপদস্থ করে আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।ঘটনার বিষয়ে জাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী বলেন, “কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী দীর্ঘ সময় আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন। তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক হেনস্তা করেছেন। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, কোনো অভিযোগ থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে চাপ প্রয়োগ করে সই আদায় করে।” তিনি দাবি করেন, নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আসলামও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, “তারা দলবল নিয়ে এসে আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং অপমান করে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, মানসম্মানের ভয়ে আমাকে তাদের প্রস্তুত করা কাগজে সই করতে হয়েছে।”বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের অনেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের বিরোধীতা, শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের পক্ষে অবস্থান এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগে অভিযুক্ত যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল আলম (শুভ), সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসান, প্রভাষক মো. সাইদুর রহমান৷ সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম মাহবুবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আল মামুন সরকার, প্রভাষক হোসাইন মাহমুদ (আপেল) ও প্রভাষক ইমরুল কবির ৷ এছাড়াও অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর মালিহা আক্তার মালা'সহ আরও কয়েকজন ৷ এদিকে, জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী) কাওসার আহমেদ স্বাধীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য নিয়েও ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক ভাষায় মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ জানান, নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের অভিযোগ ও অনিয়ম আড়াল করতেই একটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নতুন প্রশাসনের কাছে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা বলেন, “এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা কেবল দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। রেজিস্ট্রার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।”সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল আলম শুভও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “রেজিস্ট্রার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। আমি সেখানে শুধু আইনি বিষয়ে কথা বলেছি।” অন্যদিকে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির নিজস্ব বিধি রয়েছে। লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো ধরনের মব সৃষ্টি বা ব্যক্তিগত হেনস্তার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১৩ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৭ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৭ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

হাতিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মানসী রানী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

হাতিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মানসী রানী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

ডা. মানসী রানী সরকার। প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ২০১০ সালে এডহক (অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৮১ নম্বর স্মারকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পান বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নিজেকে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, অসদাচরণ ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এসব অনিয়-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে হাতিয়া পৌরসভার চরকৈলাশ গ্রামের মো. সবুজ আহাম্মেদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সরেজমিন তদন্তে আসে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তবে তদন্তের ৪ দিন পার হলেও ডা. মানসী রানী এখনো আগের মতোই দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিজেকে ইউএইচএফপিও হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। তদন্ত টিমের নেতৃত্ব দেন লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন—লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ স্ট্যাটিসটিক্যাল অফিসার (ইনচার্জ) এ. এইচ. এম. ফারুক এবং লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ পাল।অভিযোগে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনায় ডা. মানসী রানী অদক্ষ হলেও দুর্নীতি ও অনিয়মে তিনি বেপরোয়া। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রায়ই অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর কামরুল হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কামরুল মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকলেও নগদ অর্থের বিনিময়ে তার বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাদ্দাম হরিজনকে মাসের পর মাস অনুপস্থিত দেখিয়ে তার বেতনের বড় অংশ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে ডা: মানসী রানীর বিরুদ্ধে। সাবেক ক্যাশিয়ার ও স্টোরকিপার (বর্তমানে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত) আমিরুল ইসলাম আকরামের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহরাব, মিরাজ ও পারভীন নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী তদন্ত টিম ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে সিকিউরিটি গার্ড পদে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী মিরাজ জানান, তৎকালীন ক্যাশিয়ার আকরামের মাধ্যমে তিনি ৩০ হাজার টাকা দেন এবং ১১ মাস কাজও করেন। পরে তাকে বাদ দেওয়া হলেও এখনো টাকা ফেরত পাননি। আকরাম সরকারি ওষুধ সংগ্রহ ও সরবরাহে ব্যাপক কারসাজি করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, হাতিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের ছয়টি ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের পুকুর ও জমি ইজারার নামে টাকা নিয়ে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তমরুদ্দি ও বুড়িরচর সাব-সেন্টারের পুকুর ও জমি ইজারার নামে প্রায় ৯০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।মা-মনি প্রকল্পের সার্জন, নার্স ও আয়াদের কাছ থেকে হাসপাতালের কোয়ার্টার ভাড়া নিয়ে তা ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করার অভিযোগও উঠেছে ডা. মানসী রানীর বিরুদ্ধে।হাতিয়ায় কাগজে-কলমে ছয়টি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার থাকলেও বাস্তবে চারটি চালু রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তমরুদ্দি সাব-সেন্টার ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলো সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন এবং অল্প সময়ের জন্য খোলা থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ডা. মানসী রানী নিজে পরিদর্শনে না গিয়ে পরিদর্শন খাতায় স্বাক্ষর করে টিএ/ডিএ উত্তোলন করতেন।অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালের রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি অকার্যকর রেখে প্রাইভেট ল্যাব থেকে মাসোহারা নেয় ডা: মানসী। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ফল-ফলাদি একক ভোগসহ তিনি পুকুর ব্যবস্থাপনায়ও করেন অনিয়ম।হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা নার্সদের ছাড়পত্র আটকে রেখে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হতো। এসব আর্থিক লেনদেন হাসপাতালের বর্তমান হিসাবরক্ষক নজরুল ইসলামের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমসিডি কর্নার ও জরুরি বিভাগের ভ্যাকসিন এবং ইনজেকশন সংরক্ষণের ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ডা: মানসী ব্যক্তিগত বাসায় ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী মো. সবুজ আহাম্মেদ নিজেকে সচেতন নাগরিক দাবি করে বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনিও ডা. মানসী রানীর অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপসারণ চান। একই অভিযোগের অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, আমি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।তদন্ত টিমের প্রধান ও লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে হাতিয়ার সচেতন মহল ডা. মানসী রানী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও অপসারণ দাবি করেছেন।
১৭ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র