রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

নদী ও সাগরবেষ্টিত দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা দীর্ঘদিন ধরেই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। নৌপথনির্ভর এই জেলার মানুষের বহু বছরের সেই অপেক্ষার অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বরিশালের রহমতপুর থেকে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে ভোলা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটিয়ে এ উদ্যোগ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অবস্থিত ভোলা আর কীর্তনখোলা নদীর পাড়ের বরিশালের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব খুব বেশি নয়। তবে নদীবেষ্টিত অবস্থানের কারণে দুই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। বরিশাল বা ঢাকায় যাতায়াত করতে হলে ভোলার বাসিন্দাদের ফেরি, লঞ্চ, ট্রলার কিংবা স্পিডবোট ব্যবহার করতে হয়।ঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষা, যানবাহনের চাপ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ভোলার মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সময় বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় ভোলা ও বরিশালের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। পরে সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় দ্বীপ জেলাকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।গত ২২ আগস্ট রহমতপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের মতে, ভোলা, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও রহমতপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ আরও সহজ হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প এবং পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।তবে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগে আশাবাদী হলেও ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি সামনে এসেছে। সড়ক প্রকল্পের পাশাপাশি ভোলা ও বরিশালের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জোরালোভাবে জানাচ্ছেন তারা।মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, ইলিশা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদী এবং বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত ভোলা ভৌগোলিকভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন। নৌপথই দীর্ঘদিন ধরে এই জেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোলা গ্যাস, ইলিশ, ধান, সুপারি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্যে সমৃদ্ধ হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। দিনের আলো ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অনুভূতিও দীর্ঘদিন ধরে ভোলার মানুষের বাস্তবতা।স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর দ্বীপ জেলাটিকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।ভোলা পৌরসভার অফিসারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আহাদ খান ও বাবুল মিয়া বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বরিশাল কিংবা ঢাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সময়ক্ষেপণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার কারণে অনেক পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।তাদের মতে, ভোলা থেকে মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলে চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে মানুষের চলাচল অনেক সহজ হবে।ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খাঁন বলেন, গ্যাস, ইলিশ, কৃষি ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে ভোলায়। উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠলে জেলার ইলিশ, ক্যাপসিকাম, তরমুজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দ্রুত রাজধানী এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হবে।তিনি মনে করেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কৃষক ও খামারিরা তাদের পণ্যের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন জেলার মানুষ। মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সেতু নির্মাণের দাবিটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনু বলেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগেও ভোলা এখনো দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। রহমতপুর, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তবে তার মতে, ভোলার দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে মহাসড়কের পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গ্যাসের ব্যবহার এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনাও বাড়বে।তিনি বলেন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ শুধু ভোলার জন্য নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগ স্থাপন এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি। জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ভোলাকে যুক্ত করার উদ্যোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক। ভোলাকে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটবে এবং ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি দূর হবে।তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।সড়ক ও জনপদ বিভাগের ভোলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানান, রহমতপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও ভোলা রুটে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভোলাকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।দীর্ঘদিন ধরে নৌপথনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে বসবাস করতে হয়েছে ভোলার মানুষকে, নতুন এই মহাসড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতুর দীর্ঘদিনের দাবিও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে জেলার মানুষ।
২৮ আগস্ট ২০২৬

‘টুকু আসে, টুকু যায়, কতক্ষণ থাকে বোঝা যায় না’

জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, কর্মসংস্থান এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির দাম নিয়ে সংসদে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, মানুষের মধ্যে এমন কথাও শোনা যায় যে, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এ আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে, তা নাকি বোঝা যায় না।’ তাঁর বক্তব্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে জনভোগান্তির বিষয়টি উঠে আসে।তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় গ্যাসের সংকট রয়েছে। অথচ নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টির বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন চাকরি সৃষ্টি তো দূরের কথা, বর্তমানে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের চাকরিও কতদিন টিকে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এসব প্রতিশ্রুতির মিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কখনো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়, আবার কখনো কথার মারপ্যাঁচে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে এবং চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিসিবির পণ্য কিনতে মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্যও এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।জ্বালানি সরবরাহ, কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দেশের বর্তমান বাস্তবতার বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এসব বিষয় সামনে এনে তিনি সংসদে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনের সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
২৭ আগস্ট ২০২৬

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা পূর্বে পিজি হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন স্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট আজ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, অর্থাৎ ১৮৯৯ সালের ২৫ মে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বড় হয়েছেন তিনি।মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনে কবি নজরুল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর কবিতা, গান ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের বাণী তাঁর সৃষ্টিকর্মকে করেছে চিরকালীন।নজরুলের কবিতা ও গান বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছিল। যুগে যুগে তাঁর রচনা মানুষকে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং মুক্তির পথ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রেম ও ভালোবাসার চিরন্তন কবি হিসেবেও সমানভাবে সমাদৃত।বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে এবং ভারত সরকারের অনুমতিতে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁকে একটি বাড়িও দেওয়া হয়।১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। পরে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে কর্মসূচিজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুদিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।‘আমারে দেবো না ভুলিতে...’ শীর্ষক এ আয়োজনে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।অন্যদিকে নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকালে নজরুল একাডেমির পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বাদ জোহর কবির সমাধিসংলগ্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল।আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।এ ছাড়া আগামী ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
ভরিপ্রতি ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমলো স্বর্ণের দাম

ভরিপ্রতি ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমলো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা। ফলে এখন এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে লাগবে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৬ টাকা।শনিবার (২৯ আগস্ট) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সংগঠনটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম, অর্থাৎ এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের বর্তমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৬ টাকা।এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৭ টাকায়। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৮৬ টাকা।
২২ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

নদী ও সাগরবেষ্টিত দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা দীর্ঘদিন ধরেই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। নৌপথনির্ভর এই জেলার মানুষের বহু বছরের সেই অপেক্ষার অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বরিশালের রহমতপুর থেকে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে ভোলা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটিয়ে এ উদ্যোগ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অবস্থিত ভোলা আর কীর্তনখোলা নদীর পাড়ের বরিশালের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব খুব বেশি নয়। তবে নদীবেষ্টিত অবস্থানের কারণে দুই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। বরিশাল বা ঢাকায় যাতায়াত করতে হলে ভোলার বাসিন্দাদের ফেরি, লঞ্চ, ট্রলার কিংবা স্পিডবোট ব্যবহার করতে হয়।ঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষা, যানবাহনের চাপ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ভোলার মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সময় বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় ভোলা ও বরিশালের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। পরে সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় দ্বীপ জেলাকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।গত ২২ আগস্ট রহমতপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের মতে, ভোলা, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও রহমতপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ আরও সহজ হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প এবং পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।তবে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগে আশাবাদী হলেও ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি সামনে এসেছে। সড়ক প্রকল্পের পাশাপাশি ভোলা ও বরিশালের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জোরালোভাবে জানাচ্ছেন তারা।মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, ইলিশা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদী এবং বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত ভোলা ভৌগোলিকভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন। নৌপথই দীর্ঘদিন ধরে এই জেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোলা গ্যাস, ইলিশ, ধান, সুপারি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্যে সমৃদ্ধ হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। দিনের আলো ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অনুভূতিও দীর্ঘদিন ধরে ভোলার মানুষের বাস্তবতা।স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর দ্বীপ জেলাটিকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।ভোলা পৌরসভার অফিসারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আহাদ খান ও বাবুল মিয়া বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বরিশাল কিংবা ঢাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সময়ক্ষেপণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার কারণে অনেক পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।তাদের মতে, ভোলা থেকে মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলে চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে মানুষের চলাচল অনেক সহজ হবে।ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খাঁন বলেন, গ্যাস, ইলিশ, কৃষি ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে ভোলায়। উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠলে জেলার ইলিশ, ক্যাপসিকাম, তরমুজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দ্রুত রাজধানী এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হবে।তিনি মনে করেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কৃষক ও খামারিরা তাদের পণ্যের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন জেলার মানুষ। মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সেতু নির্মাণের দাবিটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনু বলেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগেও ভোলা এখনো দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। রহমতপুর, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তবে তার মতে, ভোলার দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে মহাসড়কের পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গ্যাসের ব্যবহার এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনাও বাড়বে।তিনি বলেন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ শুধু ভোলার জন্য নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগ স্থাপন এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি। জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ভোলাকে যুক্ত করার উদ্যোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক। ভোলাকে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটবে এবং ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি দূর হবে।তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।সড়ক ও জনপদ বিভাগের ভোলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানান, রহমতপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও ভোলা রুটে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভোলাকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।দীর্ঘদিন ধরে নৌপথনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে বসবাস করতে হয়েছে ভোলার মানুষকে, নতুন এই মহাসড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতুর দীর্ঘদিনের দাবিও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে জেলার মানুষ।
২৮ আগস্ট ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত ৫৫২; নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত ৫৫২; নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই ৫৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এখনও ৯৭৭ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে।চীনের তিব্বত অঞ্চলেও একই দুর্যোগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় সৃষ্ট এই দুর্যোগে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে।নেপালে শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গত এলাকায় ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।নেপালের জন্য এটি ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে।এদিকে তিব্বতের একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির পুলিশ। উদ্ধারকারী, নিরাপত্তাকর্মী ও ত্রাণকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ আটকে পানি জমে একটি হ্রদের সৃষ্টি হওয়ায় চীনের পক্ষ থেকে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে ঝুঁকি কমে যাওয়ায় সেখানে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।তবে ধ্বংসস্তূপে তৈরি ওই হ্রদ এবং নেপালে ভেঙে যাওয়া বাঁধের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২৮ আগস্ট ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা প্রদান করে আল-আমিন একাডেমি

এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা প্রদান করে আল-আমিন একাডেমি

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমীর গভর্নিং বডির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোঃ মোবারক হোসাইন। সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুকুল ইসলাম এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আল আমিন সোসাইটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া, গভর্নিং বডির সদস্য এডভোকেট শাহজাহান খান।প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আসিফ ইকবাল, মানারাত ইউনিভারসিটির ডক্টর মহিউদ্দিন সরকার, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির রুবাইয়া ইসলাম রুহি।অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্য বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক মোর্শেদ আলম পাটোয়ারী, ছাত্রী ক্যাম্পাসের মানসুরা আক্তার।কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন নাইমুল হাসান নিহাল, মারিয়া মাহজাবিন, মুশফিকুল আলম, আবির হাসান দেওয়ান।অভিভাবকদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট তোফায়েল আহমেদ, মাহযুবা আক্তার।অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।আল আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
২১ জুলাই ২০২৬
আত্মগোপনে থাকা সোনা ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে সপরিবারে পটিয়া থেকে আটক করেছে পুলিশ

আত্মগোপনে থাকা সোনা ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে সপরিবারে পটিয়া থেকে আটক করেছে পুলিশ

২১ জুলাই ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২১ জুলাই ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ