মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

সুস্থতার পথে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার

পায়ের পেশির ইনজুরি থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ থেকেই নেইমারের খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। গত মাসে সান্তোসের হয়ে ম্যাচ খেলার সময় পায়ের পেশির ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় গ্রেড-২ মাসল টিয়ারে সমস্যা আছে তার। ফলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান নেইমার। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে অনিশ্চিত হয়ে পড়েন নেইমার।তবে সদ্য পাওয়া এমআরআই রিপোর্ট সুসংবাদ দিয়েছে নেইমারকে। তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে বলে জানায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। তারা জানায়, ‘পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসায় নেইমারের ভালো অগ্রগতি হয়েছে। স্ক্যানের ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। দলের মেডিকেল স্টাফদের দেওয়া রুটিন অনুযায়ী ঠিকঠাক সেরে উঠছেন নেইমার। তাই দলের মেডিকেল স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্বাসন এবং শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন তিনি।’ব্রাজিলের হয়ে ১২৮ ম্যাচ খেলে ৭৯ গোল করেছেন এই তারকা ফুটবলার। বিশ্বকাপ মঞ্চে ১৩ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন তিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার। কিন্তু একবারও চ্যাম্পিয়নের স্বাদ নিতে পারেননি তিনি। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে শিরোপা মুকুট মাথায় পড়তে মরিয়া নেইমার। ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ড, মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
১ ঘন্টা আগে

রুশ ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক  আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার ফেডারেশন কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার কনস্ট্যান্টিন কোসাচেভ।মঙ্গলবার মস্কোয় দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তারা।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১ ঘন্টা আগে

ফুটবলার ঋতুপর্ণার গৃহ নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের ফাঁকে নিজ কার্যালয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানিয়েছেন।এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতেও ঋতুপর্ণা চাকমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তাঁর নির্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন। তারা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।পাহাড়ি এলাকার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে ঋতুপর্ণা চাকমা আজ দেশের অসংখ্য নারী ফুটবলারের অনুপ্রেরণার নাম।
১ ঘন্টা আগে
মেঘনায় গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

মেঘনায় গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়েনে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. সোহাগ (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও একজন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্টেশন সংলগ্ন ঈদগাহ ফেরিঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত সোহাগ ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার পার গেন্ডারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নুর ইসলাম।স্থানীয়রা জানান, বিকেলে সোহাগসহ কয়েকজন চেয়ারম্যান স্টেশন এলাকার ঈদগাহ ফেরিঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে সোহাগ বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও একব্যক্তি আহত হন।বজ্রপাতের পর ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন দ্রুত সোহাগকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর ব্যক্তির নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিবুল আহসান সোহাগ নামে যুবকের মৃত্যুর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

রুশ ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত

রুশ ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক  আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার ফেডারেশন কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার কনস্ট্যান্টিন কোসাচেভ।মঙ্গলবার মস্কোয় দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তারা।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সুস্থতার পথে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার

সুস্থতার পথে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার

পায়ের পেশির ইনজুরি থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ থেকেই নেইমারের খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। গত মাসে সান্তোসের হয়ে ম্যাচ খেলার সময় পায়ের পেশির ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় গ্রেড-২ মাসল টিয়ারে সমস্যা আছে তার। ফলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান নেইমার। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে অনিশ্চিত হয়ে পড়েন নেইমার।তবে সদ্য পাওয়া এমআরআই রিপোর্ট সুসংবাদ দিয়েছে নেইমারকে। তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে বলে জানায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। তারা জানায়, ‘পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসায় নেইমারের ভালো অগ্রগতি হয়েছে। স্ক্যানের ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। দলের মেডিকেল স্টাফদের দেওয়া রুটিন অনুযায়ী ঠিকঠাক সেরে উঠছেন নেইমার। তাই দলের মেডিকেল স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্বাসন এবং শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন তিনি।’ব্রাজিলের হয়ে ১২৮ ম্যাচ খেলে ৭৯ গোল করেছেন এই তারকা ফুটবলার। বিশ্বকাপ মঞ্চে ১৩ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন তিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার। কিন্তু একবারও চ্যাম্পিয়নের স্বাদ নিতে পারেননি তিনি। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে শিরোপা মুকুট মাথায় পড়তে মরিয়া নেইমার। ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ড, মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
১ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৭ জন

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৭ জন

ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে।এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। দেশটির সকসারজেন অঞ্চলেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩১ জনের মরদেহ।এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেক। দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বসতবাড়ি হারিয়েছে।গতকাল সোমবার (৮ ,জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় সকালে দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিনদানাও দ্বীপে ব্যাপক আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র সাড়ে ৬ মাইল গভীরে। ভূমিকম্পের পর আশপাশের অঞ্চলে এক থেকে ছয় মাত্রার প্রায় ১৪০টি আফটারশক অনুভূত হয়।এ ঘটনার পর ফিলিপাইনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সাময়িকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওতে আনুমানিক আড়াই কোটি মানুষের বসবাস।
১৩ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
১৯ মে ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

১৯ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
১ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

মেঘনায় গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

মেঘনায় গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়েনে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. সোহাগ (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও একজন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্টেশন সংলগ্ন ঈদগাহ ফেরিঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত সোহাগ ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার পার গেন্ডারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নুর ইসলাম।স্থানীয়রা জানান, বিকেলে সোহাগসহ কয়েকজন চেয়ারম্যান স্টেশন এলাকার ঈদগাহ ফেরিঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে সোহাগ বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও একব্যক্তি আহত হন।বজ্রপাতের পর ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন দ্রুত সোহাগকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর ব্যক্তির নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিবুল আহসান সোহাগ নামে যুবকের মৃত্যুর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
১৯ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি