মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরান তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শনিবারের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই সতর্কতা জারি করেছে। আজ রোববার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই হুমকি দেয়।আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এটি তখন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যতক্ষণ না স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত হয়।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানো হবে। এছাড়া, এই অঞ্চলের যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে, এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হবে।এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, এই সময় পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
১১ ঘন্টা আগে

কমেছে দাম, সবজির বাজারে স্বস্তি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর কাঁচাবাজারে টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে। যদিও জোগান রয়েছে, ক্রেতাদের সংখ্যা কম থাকায় সবজির দামেও প্রভাব পড়েছে। রোজার সময়ের তুলনায় এখন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে লেবু ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। মানভেদে প্রতি হালি লেবুর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।মালিবাগ রেলগেট কাঁচাবাজারে ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম জানান, এখন দোকানে যা আছে সব ঈদের আগে কেনা। নতুন করে পণ্য আনা হয়নি। অনেক সবজি কেনা দামের চেয়ে কমে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি। এর মধ্যে সালাদ সামগ্রী শসা ও টমেটো লসে বিক্রি করছেন। শসা কেনা ৬০ টাকা, বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। টমেটো মিলছে ৪০ টাকায়। ১২০ টাকার নিচেই মিলছে এক কেজি কাঁচামরিচ।বাজারে দেশি শিম মিলছে ৬০ টাকা কেজিতে, বেগুনের দাম ১০০ থেকে কমে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।রমজান মাসজুড়ে শতকের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়া পটল, করলা, বরবটিসহ বেশিরভাগ সবজির দাম নেমে এসেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।আমদানি করা এক কেজি রসুন কিনতে দিতে হবে ২২০ টাকা। আর ১৮০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত আছে আদা।পেঁয়াজের খুচরা বাজারেও দাম কমেছে। এই বাজারের ক্রেতা হান্নান বলেন, রমজানের শুরুতে ৩ কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ ১২০ টাকায় কিনলাম। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ৬০-৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে কমে ১৫-২০ টাকায় নেমেছে।অন্যান্য সবজির মধ্যে গাজর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহেও দাম ছিল ৮০ টাকা কেজি। শাকের দামও তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে, ২০ টাকা আঁটিতে।নতুন সবজির মধ্যে সজনে ১২০ টাকায়, কচুর লতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়শের দাম ৮০ টাকা এবং পটল ৫০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা ১০০ টাকা হালি। ধুন্দল ও ঝিঙ্গার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সবজির মধ্যে সবচেয়ে সস্তা কাঁচা পেঁপে ২৫ টাকা কেজি। এছাড়া চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং লাউ ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বিক্রেতারা জানান, সবজির নতুন সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা কম, তাই দাম কমছে। অতিরিক্ত দাম বাড়া যেমন ভালো নয়, তেমনি দ্রুত দাম কমে যাওয়াও কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর। একটি ন্যায্যমূল্য থাকা উচিত।সবজি বিক্রেতা আলমগীর বলেন, রমজানের শুরুতে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়ে, পরে কমে যায়। তবে এবার পেঁয়াজ, টমেটো ও আলুর দাম বেশি কমেছে। কাঁচামরিচ, শসা ও বেগুনের দামও কমেছে।
১১ ঘন্টা আগে

ঈদে দর্শনার্থীদের মিলনমেলা চাঁদপুর তিন নদীর মোহনায়

চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাতাশ লাখ মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরণের কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন উৎসব ও অবসর সময়ে লোকজন ছুটে আসে তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এখানে এসে সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত সব বয়সী লোকজন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে জেলার বাহির এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গণপরিবহনে, আবার অনেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্থানটির দৃশ্য সকালে একরকম, দুপুরে আরেকরকম। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। তবে রাতে বেশি সময় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও জোস্না রাতে আরেক সৌন্দর্য্য অবতরণ হয়। প্রিয়জনদের নিয়ে নৌকা করে রাতের বেলায় ডাকাতিয়া নদীতে ঘুরতে পারলে ভালো সময় কাটানো যেতে পারে। মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট বড় ট্রলার ও স্পীড বোট। এসব ট্রলার আর স্পীড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে আবার মোহনায় চলে আসতে হয়। আসা-যাওয়া ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ১০০টাকা। স্পীড বোটে জনপ্রতি ভাড়া কমপক্ষে ৩০০টাকা। এখানে আসলে মাইকে ঘোষণা শুনা যাবে ট্রলারে যাওয়ার জন্য।জেলার কচুয়া থেকে ঘুরতে আসা শাহাদাত হোসেন বলেন, ঈদ ছাড়াও এখানে ঘুরতে আসেন। বেশ কয়েকবার এসেছেন। এখানকার মনমুগ্ধকর দৃশ্য বারবার আসতে আহবান করে তাকে।একই উপজেলার শিক্ষক সোলাইমান বলেন, মূলত জেলার পরিচিতি হচ্ছে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’। আর এই স্থানটিতে আসলে ইলিশের বাড়ির আনন্দ পাওয়া যায়। নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই চমৎকার। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি অন্যতম একটি স্থান।ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা থেকে ঘুরতে এসেছেন আল-আমিন ও তার তিন বন্ধু। তারা এর আগেও এসেছেন। এবারের ঈদের তাদের ঘুরাঘুরির অন্যতম স্থান তিন নদীর মোহনা। জানালেন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের প্রতিটি মুহুর্ত খুবই চমৎকার কেটেছে।বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সদরের মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এখানকার নদীর ঢেউ ও পরিবেশ দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কেউ ভাল সময় কাটাতে পারবেন। ঈদ উপলক্ষ্যে বহু মানুষ ঘুরতে এসেছে। সবকিছু মিলিয়ে এই জায়গাটি তার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।চাঁদপুর বারের আইনজীবী ও লেখক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, জেলার সাতাশ লাখ মানুষের জন্য বিশেষ কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে সাধারণ মানুষ উৎসব কিংবা অবসরে তিন নদীর মোহনায় আসে। তবে এবারের ঈদের পূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই স্থানের অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করার পরিবেশ আরো সুন্দর হয়েছে।সাংস্কৃতিক সংগঠক ও অভিনেতা শরীফ চৌধুরী বলেন, বিনোদন কিংবা সময় কাটানোর কোন ভালো পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় লোকজন তিন নদীর মোহনায় এসে ভীড় জমায়। তবে সরকারিভাবে মেরিন ড্রাইভ কিংবা বড় ধরণের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ সময় কাটানোর জন্য বিনোদন কেন্দ্র পাবে।চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে পুলিশ পুরো শহরে দিন ও রাতে দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে তিন নদীর মোহনায় আসা পর্যটকদের যাতে কোন ধরণের সমস্যা না হয় সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএমএস ইকবাল বলেন, লঞ্চঘাটসহ চাঁদপুর নৌ এলাকায় নৌ পুলিশ সার্বক্ষিণক টহল ব্যবস্থা রেখেছে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষ্যে তিন নদীর মোহনা নজরদারীতে রয়েছে।
২২ মার্চ ২০২৬
চেলসিতে জাইমা রহমানের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন আমিনুল হক

চেলসিতে জাইমা রহমানের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন আমিনুল হক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ফুটবল প্রতি আগ্রহ এবং চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।আমিনুল হক জানান, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুলে পড়ার সময় ফুটবল খেলতেন। সেই সময় থেকেই চেলসির বয়সভিত্তিক দলে গোলরক্ষক হিসেবে খেলার সুযোগ তার সামনে এসেছিল। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে তিনি বলেন, জাইমা রহমানের স্কুলে গোলকিপিং করার বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই শুনেছেন।তিনি আরও বলেন, যদিও চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ এসেছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মেয়েকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলেছিলেন।নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, জাইমা রহমান যখন মিরপুরে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন গোলকিপিং নিয়ে তাদের মধ্যে কিছু স্মৃতিচারণা হয়।সেদিনের স্মৃতি স্মরণ করে আমিনুল হক বলেন, জাইমা রহমান তাকে বলেছিলেন, ‘আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম।’ আসলে জাইমা স্কুলের সময় কিপিং করতেন এবং তার লম্বা উচ্চতার কারণে এই পজিশনে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল।তিনি আরও বলেন, ইউরোপে স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাইমা রহমানেরও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ছিল, তবে পরিবারের ইচ্ছার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেন।
১১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

কমেছে দাম, সবজির বাজারে স্বস্তি

কমেছে দাম, সবজির বাজারে স্বস্তি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর কাঁচাবাজারে টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে। যদিও জোগান রয়েছে, ক্রেতাদের সংখ্যা কম থাকায় সবজির দামেও প্রভাব পড়েছে। রোজার সময়ের তুলনায় এখন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে লেবু ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। মানভেদে প্রতি হালি লেবুর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।মালিবাগ রেলগেট কাঁচাবাজারে ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম জানান, এখন দোকানে যা আছে সব ঈদের আগে কেনা। নতুন করে পণ্য আনা হয়নি। অনেক সবজি কেনা দামের চেয়ে কমে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি। এর মধ্যে সালাদ সামগ্রী শসা ও টমেটো লসে বিক্রি করছেন। শসা কেনা ৬০ টাকা, বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। টমেটো মিলছে ৪০ টাকায়। ১২০ টাকার নিচেই মিলছে এক কেজি কাঁচামরিচ।বাজারে দেশি শিম মিলছে ৬০ টাকা কেজিতে, বেগুনের দাম ১০০ থেকে কমে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।রমজান মাসজুড়ে শতকের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়া পটল, করলা, বরবটিসহ বেশিরভাগ সবজির দাম নেমে এসেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।আমদানি করা এক কেজি রসুন কিনতে দিতে হবে ২২০ টাকা। আর ১৮০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত আছে আদা।পেঁয়াজের খুচরা বাজারেও দাম কমেছে। এই বাজারের ক্রেতা হান্নান বলেন, রমজানের শুরুতে ৩ কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ ১২০ টাকায় কিনলাম। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ৬০-৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে কমে ১৫-২০ টাকায় নেমেছে।অন্যান্য সবজির মধ্যে গাজর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহেও দাম ছিল ৮০ টাকা কেজি। শাকের দামও তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে, ২০ টাকা আঁটিতে।নতুন সবজির মধ্যে সজনে ১২০ টাকায়, কচুর লতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়শের দাম ৮০ টাকা এবং পটল ৫০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা ১০০ টাকা হালি। ধুন্দল ও ঝিঙ্গার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সবজির মধ্যে সবচেয়ে সস্তা কাঁচা পেঁপে ২৫ টাকা কেজি। এছাড়া চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং লাউ ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বিক্রেতারা জানান, সবজির নতুন সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা কম, তাই দাম কমছে। অতিরিক্ত দাম বাড়া যেমন ভালো নয়, তেমনি দ্রুত দাম কমে যাওয়াও কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর। একটি ন্যায্যমূল্য থাকা উচিত।সবজি বিক্রেতা আলমগীর বলেন, রমজানের শুরুতে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়ে, পরে কমে যায়। তবে এবার পেঁয়াজ, টমেটো ও আলুর দাম বেশি কমেছে। কাঁচামরিচ, শসা ও বেগুনের দামও কমেছে।
১১ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরান তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শনিবারের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই সতর্কতা জারি করেছে। আজ রোববার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই হুমকি দেয়।আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এটি তখন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যতক্ষণ না স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত হয়।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানো হবে। এছাড়া, এই অঞ্চলের যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে, এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হবে।এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, এই সময় পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
১১ ঘন্টা আগে
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

ঈদের দিনেও বাড়ি ফেরা হবে না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ আনসার সদস্যের

ঈদের দিনেও বাড়ি ফেরা হবে না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ আনসার সদস্যের

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ প্রিয়জনের কাছে ফিরছেন, ঠিক তখনই পরিবারের সান্নিধ্য থেকে দূরে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ জন আনসার সদস্য।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে কর্মরত মোট ৬৪ জন আনসার সদস্যের মধ্যে ৫১ জনই এবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা ক্যাম্পাসেই দায়িত্ব পালন করছেন।ঈদের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ফাঁকা হয়ে গেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতা রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খালি রাস্তা, নির্জন আবাসিক হল এবং বন্ধ একাডেমিক ভবনের মাঝেও নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।আনসার কমান্ডার মো. সুজানুর রহমান সুজন বলেন, “ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছা করে। কিন্তু দায়িত্বের কথা ভেবে থাকতে হচ্ছে। আমরা দায়িত্বে থাকি বলেই অন্যরা নিশ্চিন্তে ঈদ উদযাপন করতে পারে।”নিরাপত্তাকর্মী মো. রুবেল হোসেন বলেন, “ঈদের সময় পরিবারের কথা খুব মনে পড়ে। কষ্ট তো হয়ই। তবে দেশের জন্য কাজ করছি—এটাই গর্বের। দায়িত্বই আগে।”আরেক আনসার সদস্য মো. বকুল হোসেন বলেন, “ঈদের দিনে পরিবারের কথা বেশি মনে পড়ে। ফোনে সবাইকে একসঙ্গে দেখলে খারাপ লাগে। তবু দায়িত্বের কথা ভেবে নিজেকে সামলে নিই।”বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার রাখতে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।এদিকে ঈদের আনন্দের মধ্যেও দায়িত্বে থাকা এসব আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।
১৭ মার্চ ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চলন্ত প্রাইভেট কারের চাকা বিস্ফোরণ: একই পরিবারের পাঁচজন আহত

চলন্ত প্রাইভেট কারের চাকা বিস্ফোরণ: একই পরিবারের পাঁচজন আহত

কুমিল্লার চান্দিনায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাড়িখোলা-কুরছাপ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উদযাপন করতে সপরিবারে ঢাকা থেকে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শিলুয়া গ্রামে যাচ্ছিলেন তারা। পথিমধ্যে মহাসড়কের ওই স্থানে পৌঁছালে হুট করেই প্রাইভেট কারের একটি চাকা বিস্ফোরিত হয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা লেগে পাশের খাদে ছিটকে পড়ে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী মোস্তফা মিয়া এবং তার স্ত্রী সেলিনা বেগমের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিব সাহা জানান যে, এই দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ