বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে নাহিদ ইসলামের ক্ষোভ, সিন্ডিকেটকে দায়ী

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, অসাধু সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি মূল্য চাপিয়ে দিচ্ছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।মাল্টার দামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে এক কেজি মাল্টা প্রায় ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে ফলটির দাম এ পর্যায়েই রয়েছে। তার দাবি, আমদানিসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসায়িক মুনাফা যোগ করলেও সর্বোচ্চ ব্যয় ২১০ টাকার মধ্যে থাকার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা নেই।নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন, আমদানি ও সরবরাহের তথ্য এমন হওয়ার পরও মাল্টার দাম এত বেশি কেন। তার ভাষ্য, বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বলা হলেও গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে গত দুই মাসে ভোক্তাদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে অসাধু চক্র।পোলাওয়ের চালের দাম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, প্রতি কেজি প্রায় ১২০ টাকার চাল বর্তমানে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সুগন্ধি চাল দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বা সংকটের কারণে এর দাম বাড়ার সরাসরি কোনো কারণ নেই।রপ্তানির কারণে চালের দাম বেড়েছে বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, ২০০৯ সালে রপ্তানি শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু সে সময়ও প্রতি কেজি চালের দাম ১২০ টাকার বেশি ছিল না। তার হিসাব অনুযায়ী, গত তিন মাসে শুধু পোলাওয়ের চালের বাড়তি দামের কারণে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।ডিমের বাজার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল প্রায় ১২০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস একটি ডিম কিনতেই এখন প্রায় ১৫ টাকা খরচ হচ্ছে।ডিমের দাম বৃদ্ধির পেছনে মুরগির খাবারের মূল্যবৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও সেই ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলামের দাবি, খাবারের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে প্রতি ডিমের দাম সর্বোচ্চ প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রতি ডিমে প্রায় পাঁচ টাকা করে দাম বেড়েছে। তার হিসাবে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিমের বাড়তি দামের কারণে জনগণের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত চলে গেছে।এলপিজির দাম নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তার ভাষ্য, সরকার কয়েক দফায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রতিটি সিলিন্ডারে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকার আমদানি পর্যাপ্ত থাকার কথা জানালেও অতিরিক্ত এই অর্থ কারা নিচ্ছে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে।তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম এখন প্রায় ২০০ টাকা। এরই মধ্যে দুধের দামও বেড়েছে। মানুষের আয় সেই অনুপাতে না বাড়লেও জীবনযাপনের ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘদিনের তুলনায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর কার পৃষ্ঠপোষকতা বা প্ররোচনায় সেই সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে। এর মধ্যে নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ অতিরিক্ত দামে হাতিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে আর কোনো অপশক্তিকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
০৬ অক্টোবর ২০২৬

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ৭ অক্টোবর দেশের সর্বউত্তরের বাংলাবান্ধা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়ে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা থেকে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর কর্মসূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা। তিনি জানান, ৩৬ দিনের কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পদযাত্রা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।কর্মসূচির শুরুতে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার উদ্দেশে পদযাত্রা করবে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ২১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি চত্বরে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কর্মসূচি পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হবে।‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটে পাওয়া জনরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সল এবং বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ইউসুফ আম্মারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।এ ছাড়া কবি বোরহান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান, সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, জুলাইয়ে চোখ হারানো যোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল শাফিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমদসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
০৫ অক্টোবর ২০২৬

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে সোমবার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ঘোষণা পর্ব। এবার ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং ওজন কমানোর ওষুধের পেছনে থাকা গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।নোবেল পুরস্কার নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গবেষণা এবার স্বীকৃতি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানবদেহের মাইক্রোবায়োম, ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ হরমোন নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোন মানুষের ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ওজেম্পিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ডেভিড পেন্ডেলবুরি মনে করেন, এসব গবেষণার যেকোনো একটি নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি পেতে পারে। তার মতে, জিএলপি-১ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এর চিকিৎসাগত প্রভাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক।জিএলপি-১ গবেষণায় বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ত্বকের পুনর্গঠন ও স্টেম সেল গবেষণাও আলোচনায়চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কমিটি এবার অন্য কোনো গবেষণাক্ষেত্রকেও বেছে নিতে পারে। মানুষের ত্বক কীভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ক্ষত সারিয়ে তোলে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে স্টেম সেল গবেষণাও সম্ভাব্য পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে।সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক আনিকা ওস্টম্যানের মতে, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোষবিজ্ঞানী এলাইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চিকিৎসা ইমেজিং প্রযুক্তিও সম্ভাব্য তালিকায়চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ধরনের ইমেজিং প্রযুক্তি অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি নিয়েও নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি একটি অ-আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি। প্রতিফলিত আলোর সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর উচ্চ রেজোলিউশনের ক্রস-সেকশনাল ছবি তৈরি করা যায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে এটি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণার সম্ভাবনারোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলো কীভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডহেশন রিসেপ্টর নিয়েও নোবেল কমিটির আগ্রহ থাকতে পারে। মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগার এসব রিসেপ্টর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।এই রিসেপ্টরগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষকে রক্তনালির দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং পরবর্তী সময়ে টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমিত স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।এ ছাড়া স্তন ক্যানসার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির উদ্ভাবনও এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণার পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান এবং বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
আবরার ফাহাদের খুনিদের শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

আবরার ফাহাদের খুনিদের শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরদিন ভোরে তাঁর মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। এ ঘটনায় করা মামলায় আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেও সাত বছর পরও সেই রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে আবরারের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।আবরারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়িটিতে আবারও ফিরে এসেছে সেই পুরোনো শোকের স্মৃতি। সাত বছর আগে যে ঘর থেকে মাকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন আবরার, সেই ঘরেই এখনো তাঁর ব্যবহার করা ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বই-খাতা ও পড়ার টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরের স্মৃতিগুলো রয়ে গেছে, নেই শুধু পরিবারের সেই মেধাবী সন্তান।২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকার উদ্দেশে বাসে ওঠার আগে মা রোকেয়া খাতুন নিজ হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে আবরারের শেষ দেখা। পরদিন ভোরে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে পরিবারে। সেই দিনের শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বজনেরা।আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুরও নাতির হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। জীবনের শেষ সময়ে এসে তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা, মৃত্যুর আগে যেন তিনি আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের সাজা কার্যকর হতে দেখে যেতে পারেন।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বর্তমানে অসুস্থ। তিনি ছোট ছেলে আবরার ফাইয়াজের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর ফাইয়াজও বুয়েটে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে তিনি বড় ভাইয়ের স্মৃতি ও অসমাপ্ত স্বপ্নকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন।কুষ্টিয়ার বাড়িতে আবরারের ব্যবহার করা বিভিন্ন সামগ্রী এখনো যত্ন করে রাখা হয়েছে। শোকেসে থাকা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন, পড়ার টেবিল, বই-খাতা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পরিবারের কাছে এখন স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব স্মৃতিচিহ্নের মধ্যেই প্রিয় সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি খুঁজে ফেরেন তাঁর মা-বাবা।এদিকে আবরারের স্মৃতি সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহাসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।২০১৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল। আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সাজা কার্যকর না হওয়ায় আবরারের পরিবারের কাছে সাত বছর পরও বিচার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।প্রতিটি মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সামনে ফিরে আসে আবরারের শেষ বিদায়ের স্মৃতি। মায়ের হাতে শেষবারের মতো খাবার খাওয়া, বাবার সঙ্গে শেষ কথা বলা এবং বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া সেই তরুণের স্মৃতি আজও স্বজনদের তাড়িয়ে বেড়ায়। পরিবারের প্রত্যাশা, দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করা হবে এবং এর মধ্য দিয়ে আবরার হত্যার বিচার পূর্ণতা পাবে।আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাসসকে বলেন, সন্তানের হত্যার বিচার পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় তাঁরা দীর্ঘ সাত বছর পার করেছেন। তিনি বলেন, এত সময় পেরিয়ে গেলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। আবরার যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে শহীদ হয়েছেন, সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিতদের দ্রুত সাজা কার্যকর দেখতে চান তাঁরা।
১২ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন ৪টি বই; কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন ৪টি বই; কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রী

আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ চারটি নতুন বই যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।তিনি বলেন, ২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমের যেসব জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।ভর্তি নিয়ে চলমান বিড়ম্বনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আসন সংখ্যার তুলনায় ভর্তির যোগ্য প্রার্থী অনেক কম। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী যারা প্রথমে আবেদন করেছিলেন, তাদের ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেক আসন খালি রয়েছে। এ কারণেই ভর্তির ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার নারীশিক্ষার অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে নিয়ে পাঠ্যবইয়ে লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দ্রব্যমূল্যের সংকটটি বৈশ্বিক। জনগণের ওপর যতটুকু চাপ পড়ছে, তা প্রশমন করে সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কাজ করবে।কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কুমিল্লার স্বার্থে ইতিবাচকভাবে কাজ করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।এর আগে সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে রঙিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, মোবাশ্বর আলম ভূঁইয়া এমপি, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজসহ দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে।
০৬ অক্টোবর ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে সোমবার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ঘোষণা পর্ব। এবার ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং ওজন কমানোর ওষুধের পেছনে থাকা গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।নোবেল পুরস্কার নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গবেষণা এবার স্বীকৃতি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানবদেহের মাইক্রোবায়োম, ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ হরমোন নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোন মানুষের ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ওজেম্পিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ডেভিড পেন্ডেলবুরি মনে করেন, এসব গবেষণার যেকোনো একটি নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি পেতে পারে। তার মতে, জিএলপি-১ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এর চিকিৎসাগত প্রভাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক।জিএলপি-১ গবেষণায় বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ত্বকের পুনর্গঠন ও স্টেম সেল গবেষণাও আলোচনায়চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কমিটি এবার অন্য কোনো গবেষণাক্ষেত্রকেও বেছে নিতে পারে। মানুষের ত্বক কীভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ক্ষত সারিয়ে তোলে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে স্টেম সেল গবেষণাও সম্ভাব্য পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে।সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক আনিকা ওস্টম্যানের মতে, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোষবিজ্ঞানী এলাইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চিকিৎসা ইমেজিং প্রযুক্তিও সম্ভাব্য তালিকায়চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ধরনের ইমেজিং প্রযুক্তি অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি নিয়েও নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি একটি অ-আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি। প্রতিফলিত আলোর সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর উচ্চ রেজোলিউশনের ক্রস-সেকশনাল ছবি তৈরি করা যায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে এটি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণার সম্ভাবনারোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলো কীভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডহেশন রিসেপ্টর নিয়েও নোবেল কমিটির আগ্রহ থাকতে পারে। মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগার এসব রিসেপ্টর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।এই রিসেপ্টরগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষকে রক্তনালির দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং পরবর্তী সময়ে টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমিত স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।এ ছাড়া স্তন ক্যানসার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির উদ্ভাবনও এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণার পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান এবং বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

চাঁদপুরে আড়াই হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক কারবারি

চাঁদপুরে আড়াই হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক কারবারি

চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন রেলওয়ে কলোনীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে আড়াই হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৭০ হাজার টাকা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ মো. আব্দুর রহিম (৪৬) নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রহিম দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের মাধ্যমে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন।এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রহিমের মাদক কারবারের অংশীজন হিসেবে পরিচিত ফারহান রানার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এর পরদিনই রহিমকে ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় মাদক কারবারের একটি বড় চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড় স্টেশন রেলওয়ে কলোনী এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আব্দুর রহিমকে আটক করা হয়।আটক রহিম রেলওয়ে কলোনীর বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় ২০২১ ও ২০২৩ সালের মাদক আইনে মামলা চলমান রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় রহিমের হেফাজত থেকে ২ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৭০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় থেকে জানানো হয়, তাদের কাছে তথ্য ছিল-আব্দুর রহিম, ফারহান রানা ও জয় নামে তিনজন যৌথভাবে মাদক কারবার করে আসছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় রহিমকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা ফারহান রানা ও জয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার করলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতেন না। তাদের দাবি, রহিমের মাদক কারবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নামধারী রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্যদের যোগসাজশ থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, রহিম ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা হলে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মু. মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার ফারহান রানার বাড়ি থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা এবং বুধবার রহিমকে ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় রহিম, ফারহান ও জয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
সুস্থ প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ধ্বংস করে-মোবারক হোসাইন

সুস্থ প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ধ্বংস করে-মোবারক হোসাইন

২৭ আগস্ট ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
মতামত

মতামত

পানি আছে, তবু সংকট কেন

পানি আছে, তবু সংকট কেন

বাংলাদেশকে নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও ভূগর্ভস্থ পানির দেশ বলা হয়। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি যেন অতিরিক্ত, আবার শুষ্ক মৌসুমে একই দেশের মানুষকে এক কলস নিরাপদ পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। উপকূলের কোনো পরিবার লবণাক্ততার কারণে মিঠা পানির সন্ধানে দূরে যায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর ঢাকার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মে পানির চাপ কমে যায়। তাহলে প্রশ্নটি স্বাভাবিক: পানি সমৃদ্ধ দেশে পানির সংকট কেন?সমস্যাটি আসলে পানির পরিমাণের চেয়ে পানির প্রাপ্যতা, গুণমান, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের। বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রচুর হলেও সেই পানির বড় অংশ বর্ষাকালে দ্রুত নদী দিয়ে সাগরে চলে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি ধরে রাখার সক্ষমতা সীমিত। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ষার পানি সংরক্ষণের সীমিত অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।এই ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ ঢাকা। শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভ থেকে আসে এবং অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর বছরে কয়েক মিটার পর্যন্ত নেমেছে। একই সময়ে নদী ও জলাশয়গুলো দূষিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সহজে ব্যবহারযোগ্য পৃষ্ঠের পানির উৎসও সংকুচিত হয়েছে।এখানেই বাংলাদেশের পানি সংকটের একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যায়। আমরা পানি তুলছি, কিন্তু পানি ধরে রাখছি না। জলাভূমি ভরাট করছি, খাল দখল বা সংকুচিত করছি, নদীতে বর্জ্য ফেলছি; আবার বৃষ্টির পানি চলে যাওয়ার পর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করছি। অর্থাৎ পানি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত প্রাকৃতিক চক্র হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সম্পদ উত্তোলনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছি।কৃষিও এই চাপের বড় অংশ তৈরি করে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা অনেক এলাকায় বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩২ ঘনকিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। একই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার সম্মিলিত ঝুঁকিও দেখানো হয়েছে।তবে শুধু ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়াই সমস্যা নয়। পানি থাকলেও সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য বলছে, দেশের ৯৮.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত মৌলিক পানীয় পানির সুবিধা পেলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, গৃহস্থালি পর্যায়ে সংগৃহীত পানির ৮৪.৯ শতাংশে ই-কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে।উপকূলীয় অঞ্চলে সংকটটির চরিত্র আবার ভিন্ন। সেখানে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মিঠা পানির উৎসের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে দেশের এক অংশে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন যেমন সমস্যা, অন্য অংশে মিঠা পানির উৎসে লবণাক্ততা তেমনি বড় বাধা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবার খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষির নির্ভরতা ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করছে। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ জেলায় অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা নির্ধারণের প্রকল্প নিয়েছে, যা সমস্যাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নির্দেশ করে।অবশ্য উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও নগরায়ণের জন্য পানির ব্যবহার বাড়বে, সেটি স্বাভাবিক। তাই সমাধান পানি ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং কোথায় কত পানি উত্তোলন করা যাবে, কোথায় পানি সংরক্ষণ করা দরকার এবং কোন উৎস কোন কাজে ব্যবহারযোগ্য, সেই ব্যবস্থাপনা বদলানো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাভূমি ও খাল পুনরুদ্ধার, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার এবং শহরের পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ব্যবহারের তথ্য, উত্তোলনের পরিমাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে নিয়মিত ও উন্মুক্ত তথ্য প্রয়োজন।বাংলাদেশের পানি সংকট তাই পানির অভাবের সরল গল্প নয়। এটি একদিকে অতিরিক্ত পানি, অন্যদিকে অনুপস্থিত মিঠা পানি; একদিকে দূষিত নদী, অন্যদিকে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর; একদিকে বর্ষার জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমের তৃষ্ণার গল্প। পানি সমৃদ্ধ দেশ হওয়া আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা। কিন্তু সেই সুবিধা স্থায়ী সম্পদে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমরা পানিকে কতটা পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারছি তার ওপর। প্রশ্নটি তাই ‘বাংলাদেশে পানি আছে কি না’ নয়, বরং আমাদের প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় জায়গায়, নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা আছে কি না।
তানজিদ শুভ্র