সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসেছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় উভয় নেতা এ বৈঠকে মিলিত হন।একান্ত বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর স্বাক্ষর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: পিএমওএ বৈঠকের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।পররাষ্ট্র সচিব জানান, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।সংবাদ সম্মেলনের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা। এ সময় মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত শিল্পীরা মালয় ও বাংলা ভাষায় গান পরিবেশনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করবেন।
৫ ঘন্টা আগে

সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে স্পেন

চোট থেকে ফিরে এসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন লামিন ইয়ামাল। তার গোলেই বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণভাগের জড়তা কাটে। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে।হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল করেন ইয়ামাল। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে স্পেনের দীর্ঘ গোলখরারও অবসান ঘটে। এরপর মিকেল ওয়ারজাবাল জোড়া গোল করে ২৪ মিনিটের মধ্যেই স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের খেলার সময় নিয়ে সতর্ক ছিলেন। বার্সেলোনার এই তরুণ তারকাকে বিরতির সময় মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে হাসান আল-তামবাকতির আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।এই জয়ে স্পেন গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে উঠে গেছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত স্পেন প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে হতাশ করেছিল। সেই ম্যাচে বলের দখলে আধিপত্য থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না। ফলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে ইয়ামালের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।প্রথম ম্যাচের পর সমালোচনার জবাব দিতে খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন ডি লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেছিলেন, সমালোচনায় দলটি হতাশ হয়েছে। মাঠে নেমে খেলোয়াড়রা তার জবাব জোরালোভাবেই দিয়েছেন।ইয়ামালের পাশাপাশি পেড্রো পোরো, ডানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনাকেও প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গোলের পর থেকে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি পাস এবং ৫০টিরও বেশি শট নেওয়ার পর অবশেষে জালের দেখা পায় স্পেন। আর সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটান ইয়ামাল।ওয়ারজাবাল সৌদি রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা বের করে নিচু ক্রস দেন। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা সৌদি আরব এ ম্যাচে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিল। দেশটির ঘরোয়া লিগের মান বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও জাতীয় দলে তার ইতিবাচক প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি।সৌদি কোচ গিওর্গিওস ডোনিস বিশেষভাবে হতাশ ছিলেন, কারণ স্পেনের দুটি গোল আসে কর্নার থেকে। অমারিক লাপোর্তের হেড থেকে বল পেয়ে ওয়ারজাবাল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।মাত্র তিন মিনিট পর ডানি ওলমোর হেড থেকে আসা বল ভলিতে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওয়ারজাবাল। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে তার ১৪তম গোল। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন ওয়ারজাবাল। তবে তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বিরতির আগেই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় ডি লা ফুয়েন্তে ইয়ামাল ও ওয়ারজাবাল দুজনকেই বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পান।তবে পরিবর্তনের পরও স্পেনের আক্রমণের গতি কমেনি। চতুর্থ গোলটিও আসে কর্নার থেকে। মার্ক কুকুরেলা ফাঁকা জায়গায় শট নেন। সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়েসিস প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আল-তামবাকতির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।নিজের ৬৫তম জন্মদিনে কোচ ডি লা ফুয়েন্তের জন্য এটি ছিল আদর্শ এক ম্যাচ। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরা নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মোরিনোও বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ পান। অন্যদিকে, এখন চাপ বেড়েছে ডোনিসের ওপর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হিউস্টনে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে সৌদি আরব। সেই ম্যাচে জয় পেলে ৩২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে ‘অ্যারাবিয়ান ফ্যালকন্স’-দের।অন্যদিকে, স্পেন আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
৬ ঘন্টা আগে

শিবির সভাপতি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মুকুল বহিষ্কার

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মুকুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে গাইবান্ধা জেলা যুবদল।দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা যুবদল।জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের বিরুদ্ধে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক পদসহ দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুবদল কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা কিংবা আইনবহির্ভূত কার্যকলাপকে সমর্থন করে না।উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন, ২০২৬) বোনারপাড়ায় সংঘটিত এক সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৬ ঘন্টা আগে
সম্ভাবনার ঘুঘরার বিল: অনাবাদী জলাভূমি থেকে কোটি টাকার মৎস্য ও পর্যটন হাব

সম্ভাবনার ঘুঘরার বিল: অনাবাদী জলাভূমি থেকে কোটি টাকার মৎস্য ও পর্যটন হাব

কোথাও দিগন্তজোড়া জলরাশি, কোথাও আবার সেই জলের বুকেই খেলা করছে লাখো মাছের চঞ্চলতা। পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের সোনাঝরা আলো যখন এই জলরাশিতে এসে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। বলছিলাম চাঁদপুরের কচুয়া কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দির সীমানাঘেঁষে অবস্থিত কুমিল্লার চান্দিনার ঐতিহ্যবাহী ঘুঘরার বিলের কথা। একসময়ের অনাবাদী, অবহেলিত এই জলাভূমি আজ শুধু এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিই নয়, বরং হাজারো মানুষের মনের খোরাক জোগানো এক অপরূপ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অথচ বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি উদাসীনতায় বিলটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ডানা মেলতে পারেনি।খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ঘুঘরার বিল মানেই ছিল এক বিশাল অথৈ জলের দিগন্ত। বছরের পর বছর ধরে এখানে কেবল পানি আর পানি থৈ থৈ করত। ফসলের নাম করে সারা বছরে মাত্র একটি ফসল ঘরে তুলতে পারতেন স্থানীয় কৃষকেরা। বছরের বাকিটা সময় এই বিশাল জমি অলস পড়ে থাকত, যা থেকে মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘোরার কোনো সুযোগই ছিল না। কিন্তু সময়ের আবর্তনে মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে। সাহসী ও দূরদর্শী কিছু মাছ চাষির হাত ধরে এই বিলের বুকে সূচিত হয় এক নীরব বিপ্লব। জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ বা ভাড়া নিয়ে তারা এখানে গড়ে তোলেন একের পর এক মৎস্য খামার।আজ সেই ঘুঘরার বিল দেশের অন্যতম বড় মৎস্য ভাণ্ডার। প্রতিবছর এই বিলের খামারগুলো থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জোগান দেওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই রূপালী বিপ্লব শুধু যে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে তা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে রাখছে এক বিশাল ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। যে বিল একসময় ছিল অনুৎপাদনশীল, আজ তা প্রতি নিয়ত কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রবাহ সচল রাখছে।তবে ঘুঘরার বিলের গল্পটা শুধু অর্থনৈতিক সাফল্যের নয়, এটি এখন এক নান্দনিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বিশেষ করে বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে এই বিলটি যেন এক নতুন রূপের সাজে সেজে ওঠে। চারদিকের স্বচ্ছ জলরাশি আর গ্রামীণ প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ শহুরে যান্ত্রিকতায় ক্লান্ত মানুষকে এক নিমিষেই এনে দেয় মানসিক প্রশান্তি। কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই এই বিলটি সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে এক প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন বিকেল হতেই হাজার হাজার মানুষ তাদের পরিবার, প্রিয়জন আর ভালোবাসা নিয়ে ছুটে আসেন এখানে। কেউ নৌকায় চড়ে বিলের বুকে ঘুরে বেড়ান, কেউ বা পাড়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য।দর্শনার্থীদের এই উপচে পড়া ভিড় দেখে স্থানীয় কিছু উদ্যোক্তা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন নান্দনিক সব স্পট। জলের ওপর তৈরি করা মাচা, বসার সুব্যবস্থা আর ছোট ছোট বিনোদন কেন্দ্রগুলো আগত পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি এই স্পটগুলো বিলের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার বিপরীতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার চিত্রটি বেশ হতাশাজনক।বিভিন্ন সময়ে সরকারের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ঘুঘরার বিল পরিদর্শন করেছেন। তারা বিলের অপার সম্ভাবনা দেখে এটিকে একটি আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বারবার আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেইসব আশ্বাস আজ পর্যন্ত শুধু কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। সরকারি কোনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং নিরাপত্তার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রকৃতির টানে মানুষ এখানে ছুটে আসে।ঘুঘরার বিলকে যদি পরিকল্পিত ও সরকারিভাবে একটি আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা যায়, তবে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। আধুনিক রাইড, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট তৈরি করা গেলে এখান থেকে সরকারের পক্ষে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব। একই সাথে মৎস্য চাষ ও পর্যটন, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ঘুঘরার বিল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম একটি মডেল অর্থনৈতিক অঞ্চল। আর কত আশ্বাস দিলে আলোর মুখ দেখবে এই বিল, এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। সরকারি সুদৃষ্টিই পারে ঘুঘরার বিলের এই সুপ্ত সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে।
৩ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসেছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় উভয় নেতা এ বৈঠকে মিলিত হন।একান্ত বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর স্বাক্ষর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: পিএমওএ বৈঠকের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।পররাষ্ট্র সচিব জানান, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।সংবাদ সম্মেলনের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা। এ সময় মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত শিল্পীরা মালয় ও বাংলা ভাষায় গান পরিবেশনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করবেন।
৫ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে স্পেন

সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে স্পেন

চোট থেকে ফিরে এসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন লামিন ইয়ামাল। তার গোলেই বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণভাগের জড়তা কাটে। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে।হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল করেন ইয়ামাল। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে স্পেনের দীর্ঘ গোলখরারও অবসান ঘটে। এরপর মিকেল ওয়ারজাবাল জোড়া গোল করে ২৪ মিনিটের মধ্যেই স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের খেলার সময় নিয়ে সতর্ক ছিলেন। বার্সেলোনার এই তরুণ তারকাকে বিরতির সময় মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে হাসান আল-তামবাকতির আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।এই জয়ে স্পেন গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে উঠে গেছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত স্পেন প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে হতাশ করেছিল। সেই ম্যাচে বলের দখলে আধিপত্য থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না। ফলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে ইয়ামালের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।প্রথম ম্যাচের পর সমালোচনার জবাব দিতে খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন ডি লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেছিলেন, সমালোচনায় দলটি হতাশ হয়েছে। মাঠে নেমে খেলোয়াড়রা তার জবাব জোরালোভাবেই দিয়েছেন।ইয়ামালের পাশাপাশি পেড্রো পোরো, ডানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনাকেও প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গোলের পর থেকে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি পাস এবং ৫০টিরও বেশি শট নেওয়ার পর অবশেষে জালের দেখা পায় স্পেন। আর সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটান ইয়ামাল।ওয়ারজাবাল সৌদি রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা বের করে নিচু ক্রস দেন। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা সৌদি আরব এ ম্যাচে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিল। দেশটির ঘরোয়া লিগের মান বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও জাতীয় দলে তার ইতিবাচক প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি।সৌদি কোচ গিওর্গিওস ডোনিস বিশেষভাবে হতাশ ছিলেন, কারণ স্পেনের দুটি গোল আসে কর্নার থেকে। অমারিক লাপোর্তের হেড থেকে বল পেয়ে ওয়ারজাবাল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।মাত্র তিন মিনিট পর ডানি ওলমোর হেড থেকে আসা বল ভলিতে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওয়ারজাবাল। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে তার ১৪তম গোল। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন ওয়ারজাবাল। তবে তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বিরতির আগেই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় ডি লা ফুয়েন্তে ইয়ামাল ও ওয়ারজাবাল দুজনকেই বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পান।তবে পরিবর্তনের পরও স্পেনের আক্রমণের গতি কমেনি। চতুর্থ গোলটিও আসে কর্নার থেকে। মার্ক কুকুরেলা ফাঁকা জায়গায় শট নেন। সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়েসিস প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আল-তামবাকতির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।নিজের ৬৫তম জন্মদিনে কোচ ডি লা ফুয়েন্তের জন্য এটি ছিল আদর্শ এক ম্যাচ। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরা নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মোরিনোও বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ পান। অন্যদিকে, এখন চাপ বেড়েছে ডোনিসের ওপর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হিউস্টনে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে সৌদি আরব। সেই ম্যাচে জয় পেলে ৩২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে ‘অ্যারাবিয়ান ফ্যালকন্স’-দের।অন্যদিকে, স্পেন আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
৬ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৫

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৫

ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র একদিন পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, মধ্যরাতের পর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের এক ডজনেরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলার বেশিরভাগই নাবাতিয়েহ ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত হয়।বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাবাতিয়েহ শহর ও এর উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনী গোলাবর্ষণও করেছে। এনএনএর খবরে বলা হয়, আরব সালিম শহরে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দেইর জাহরানিতে নিহত হয়েছেন আরও একজন।এ ছাড়া দুয়েইর শহরের প্রবেশমুখে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হন। শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ইসরাইল ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এক উপসাগরীয় কূটনীতিকও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত বলেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চললে ইসরাইলও তা মেনে চলবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে চুক্তি হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা।ওই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষও বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার জানায়, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, লেবাননে ১৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়ে ‘ডজনখানেক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে’ হত্যা করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে একটি সর্বাত্মক ও টেকসই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত প্রয়োজন।
২০ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
০৮ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

০৮ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

সম্ভাবনার ঘুঘরার বিল: অনাবাদী জলাভূমি থেকে কোটি টাকার মৎস্য ও পর্যটন হাব

সম্ভাবনার ঘুঘরার বিল: অনাবাদী জলাভূমি থেকে কোটি টাকার মৎস্য ও পর্যটন হাব

কোথাও দিগন্তজোড়া জলরাশি, কোথাও আবার সেই জলের বুকেই খেলা করছে লাখো মাছের চঞ্চলতা। পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের সোনাঝরা আলো যখন এই জলরাশিতে এসে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। বলছিলাম চাঁদপুরের কচুয়া কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দির সীমানাঘেঁষে অবস্থিত কুমিল্লার চান্দিনার ঐতিহ্যবাহী ঘুঘরার বিলের কথা। একসময়ের অনাবাদী, অবহেলিত এই জলাভূমি আজ শুধু এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিই নয়, বরং হাজারো মানুষের মনের খোরাক জোগানো এক অপরূপ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অথচ বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি উদাসীনতায় বিলটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ডানা মেলতে পারেনি।খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ঘুঘরার বিল মানেই ছিল এক বিশাল অথৈ জলের দিগন্ত। বছরের পর বছর ধরে এখানে কেবল পানি আর পানি থৈ থৈ করত। ফসলের নাম করে সারা বছরে মাত্র একটি ফসল ঘরে তুলতে পারতেন স্থানীয় কৃষকেরা। বছরের বাকিটা সময় এই বিশাল জমি অলস পড়ে থাকত, যা থেকে মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘোরার কোনো সুযোগই ছিল না। কিন্তু সময়ের আবর্তনে মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে। সাহসী ও দূরদর্শী কিছু মাছ চাষির হাত ধরে এই বিলের বুকে সূচিত হয় এক নীরব বিপ্লব। জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ বা ভাড়া নিয়ে তারা এখানে গড়ে তোলেন একের পর এক মৎস্য খামার।আজ সেই ঘুঘরার বিল দেশের অন্যতম বড় মৎস্য ভাণ্ডার। প্রতিবছর এই বিলের খামারগুলো থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জোগান দেওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই রূপালী বিপ্লব শুধু যে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে তা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে রাখছে এক বিশাল ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। যে বিল একসময় ছিল অনুৎপাদনশীল, আজ তা প্রতি নিয়ত কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রবাহ সচল রাখছে।তবে ঘুঘরার বিলের গল্পটা শুধু অর্থনৈতিক সাফল্যের নয়, এটি এখন এক নান্দনিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বিশেষ করে বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে এই বিলটি যেন এক নতুন রূপের সাজে সেজে ওঠে। চারদিকের স্বচ্ছ জলরাশি আর গ্রামীণ প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ শহুরে যান্ত্রিকতায় ক্লান্ত মানুষকে এক নিমিষেই এনে দেয় মানসিক প্রশান্তি। কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই এই বিলটি সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে এক প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন বিকেল হতেই হাজার হাজার মানুষ তাদের পরিবার, প্রিয়জন আর ভালোবাসা নিয়ে ছুটে আসেন এখানে। কেউ নৌকায় চড়ে বিলের বুকে ঘুরে বেড়ান, কেউ বা পাড়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য।দর্শনার্থীদের এই উপচে পড়া ভিড় দেখে স্থানীয় কিছু উদ্যোক্তা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন নান্দনিক সব স্পট। জলের ওপর তৈরি করা মাচা, বসার সুব্যবস্থা আর ছোট ছোট বিনোদন কেন্দ্রগুলো আগত পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি এই স্পটগুলো বিলের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার বিপরীতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার চিত্রটি বেশ হতাশাজনক।বিভিন্ন সময়ে সরকারের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ঘুঘরার বিল পরিদর্শন করেছেন। তারা বিলের অপার সম্ভাবনা দেখে এটিকে একটি আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বারবার আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেইসব আশ্বাস আজ পর্যন্ত শুধু কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। সরকারি কোনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং নিরাপত্তার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রকৃতির টানে মানুষ এখানে ছুটে আসে।ঘুঘরার বিলকে যদি পরিকল্পিত ও সরকারিভাবে একটি আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা যায়, তবে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। আধুনিক রাইড, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট তৈরি করা গেলে এখান থেকে সরকারের পক্ষে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব। একই সাথে মৎস্য চাষ ও পর্যটন, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ঘুঘরার বিল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম একটি মডেল অর্থনৈতিক অঞ্চল। আর কত আশ্বাস দিলে আলোর মুখ দেখবে এই বিল, এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। সরকারি সুদৃষ্টিই পারে ঘুঘরার বিলের এই সুপ্ত সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে।
০৮ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি