শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় হাতিয়াকে কলঙ্কিত করার প্রতিবাদে হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার মাধ্যমে কলঙ্কিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন  ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ২নং চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।বিক্ষোভে ২নং চানন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন এবং পরে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আব্দুল হান্নান মাসুদ পরিকল্পিতভাবে একটি মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে হাতিয়া উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি বিশেষ মহলকে ফাঁসানো এবং দ্বীপাঞ্চলের সুনাম নষ্ট করতেই এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, এটি একটি সাজানো নাটক। আমরা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এর পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।বক্তারা আরও বলেন, হাতিয়া একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এ জনপদকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)।এবিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে জেনেছি। তবে আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) মামলা রেকর্ড হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে

কুবিতে হলে ডুকে শিক্ষার্থীকে মারধর করে পালিয়েছে ছাত্রদল নেতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান কর্তৃক হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগেত ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগীরা হলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির। প্রতিবেদন লেখার আগে পর্যন্ত সৌরভ কাব্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের ছাদে ওই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আতিকুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আতিকুর রহমান নিবিড়কে চড় মারেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তাকে ধাক্কা দেন ফলে পরে গিয়ে তার হাতের কনুইয়ে আঘাত লাগে। পরবর্তীতে সৌরভ কাব্য বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তার নাকে সজোরে ঘুষি মারেন। যার ফলে সৌরভের নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে ঝামেলা দেখে আতিকুরকে ধাওয়া দেন। সর্বশেষ জানা গেছে আতিকুর ধাওয়ার পর পালিয়ে একটি মেসে আশ্রয় নিয়েছেন। জানা গেছে, আতিকুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বলপ্রয়োগ করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ কক্ষে একটি সিট দখল করে গত চার দিন ধরে হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনুসারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ওঠানোর অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ' ওনি আমার রুমে আমার গেস্ট হিসেবে ছিল। এইরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবো তা আমার জানা ছিল না। 'মারধরের শিকার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির বলেন, আমরা কয়েকজন হলের নিচে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় আতিক সেখানে এসে হলে উঠার কথা বলেন। তখন আমি তাকে জানাই যে, নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার কথা শুনে আতিক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার কলার ধরে চড় মারেন। পরবর্তীতে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সৌরভ সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে  তাকে নাকে-মুখে ঘুষি দিতে থাকেন। এ সময় আঘাতে সৌরভের নাক ফেটে যায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে আতিক ও সাইফুল সেখান থেকে পালিয়ে যায়।'কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, 'এটা একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা খুবই দুঃখজনক। এটা সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্ধের কারণে হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে। এতে যেই অপরাধী হবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'হলে ছাত্রদলের কর্মীদের সিটে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, ' হলগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। জুনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকবে, সিনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানেই থাকবে। হলের নির্দিষ্ট যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। ছাত্রদলের অনেক শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকেন। আবার অনেক দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী হলে থাকার চেষ্টা করেন। গত ১৮ মাসে শুধুই ছাত্রদল করার কারণে হলে অবস্থান করছে এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তবে আতিকুরের হলে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, 'আজকের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি এবং আমি ইতিমধ্যে হাউস টিউটরদের সাথে কথা বলেছি তারাসহ আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং এবিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'সিট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ' আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখনো কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত অনেকেই হলে সিট পাওয়ার বিষয় নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আমরা তাদেরকেই হলে সিট দিবো যাদের ছাত্রত্ব আছে যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে সিট পাওয়ার সুযোগ নেই।'
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং উভয় পক্ষের সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে।বুধবার উভয় সূচকই ৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল, যা ৩০ জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। মার্কিন ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়বে। নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা কম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্র বৃদ্ধি চান না। সামরিক পদক্ষেপ হলে তা সম্ভবত সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি হবে। হোয়াইট হাউস জানায়, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে এখনও দূরত্ব রয়ে গেছে। তেহরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরান তাদের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান ২০২৪ সালে ইসরায়েলি বোমা হামলার স্থানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছিল। এদিকে, জেনেভায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার দুই দিনের শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বাজার সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে। পূর্বানুমান অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ২.১ মিলিয়ন ব্যারেল বাড়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

 মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ রাত ১২টা ৮ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুঁতেই তিনি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান।অমর একুশের ঐতিহাসিক গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে শরিক হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খালি পায়ে, হাতে ফুল নিয়ে এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের আবহে শহীদ মিনারে আসেন। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে তারা শ্রদ্ধা জানান।
২ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাবে

প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাবে

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে।নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে বুধবার পেজটির উদ্বোধন করা হয়। পেজটির নাম রাখা হয়েছে ‘PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’।এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি সরকারি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির খবর জানতে পারবে।উদ্বোধনের প্রথম দিনেই প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে, যা সরকারের ডিজিটাল যোগাযোগের গুরুত্ব এবং নাগরিকদের আগ্রহের প্রমাণ।পেজটির ভিজ্যুয়াল ডিজাইনও বিশেষভাবে পরিকল্পিত। প্রোফাইল ফটোতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি। কভার ফটোর বাম পাশে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, মাঝখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি লোগো ও ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখা, আর ডান পাশে প্রধানমন্ত্রী জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে আছেন। এই চিত্রটি সরকারের জনসংযোগ এবং দেশের মানুষকে কাছে আনার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা এবং দ্রুততা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার যাবতীয় তথ্যও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হতো। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর অফিস সরাসরি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম জনগণের সঙ্গে শেয়ার করবেন, যা জনগণকে নীতি ও উন্নয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে।পেজটি চালুর পর থেকেই সেখানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। পেজটির মাধ্যমে নাগরিকরা কেবল তথ্যই পাবেন না, বরং সরাসরি মন্তব্য, প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও পাবেন। এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী অফিস জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতে চায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগ সরকার এবং জনগণের মধ্যে বিশ্বাস বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভবিষ্যতে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ভিডিও লাইভ, সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও জনসভার তথ্য সরাসরি নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতির ব্যাখ্যা, সাধারণ প্রশ্নোত্তর, এবং বিভিন্ন ই-সেবা সম্পর্কিত আপডেটও পেজে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হবে।বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পূর্বতন অন্তর্বর্তী সরকারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Chief Advisor GOB’ থেকে একটি বিদায়ী পোস্ট শেয়ার করা হয়। পোস্টে জানানো হয় যে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় ওই পেজটির সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হলো।
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

রমজানের আগে আল-আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল ইসরায়েল

রমজানের আগে আল-আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল ইসরায়েল

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মসজিদ চত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদ চত্বর থেকে শেখ আল-আব্বাসিকে আটক করেছে। তবে গ্রেপ্তারের কোনো কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। মসজিদের দায়িত্বে থাকা ইমাম, খতিব এবং মুসল্লিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। তবে সেখানে ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে।আল-আকসা মসজিদের ইমাম আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, গ্রেপ্তারকৃত ইমামের মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিল ইসরায়েল। তাকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা আল-আকসায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং ইমামদের ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলার শামিল।হামাস আরও অভিযোগ করে, ‘ফ্যাসিবাদী দখলদার সরকার’ আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন, মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা, রমজান মাসের প্রস্তুতি ব্যাহত করা এবং বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর অভিযান জোরদার করছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, ‘ইহুদিকরণ’ এবং সেখানে ইবাদতের স্বাধীনতা সীমিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। পাশাপাশি সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন আরোপের চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনি জনগণ, পশ্চিম তীরজুড়ে এবং ১৯৪৮ সালের ভূখণ্ডের ভেতরে থাকা ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় অবস্থান অব্যাহত রাখার জন্য হামাস আহ্বান জানিয়েছে।এছাড়া, হামাস আরব লীগ, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছে।আল-আকসা মসজিদকে ‘ইহুদিকরণ’-এর ঝুঁকি থেকে রক্ষায় সব কূটনৈতিক ও কার্যকর চ্যানেল ব্যবহার করে দখলদার পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বানও জানায় হামাস।অধিকৃত জেরুজালেমের পুরনো শহর ও আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের মধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কুবিতে হলে ডুকে শিক্ষার্থীকে মারধর করে পালিয়েছে ছাত্রদল নেতা

কুবিতে হলে ডুকে শিক্ষার্থীকে মারধর করে পালিয়েছে ছাত্রদল নেতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান কর্তৃক হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগেত ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগীরা হলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির। প্রতিবেদন লেখার আগে পর্যন্ত সৌরভ কাব্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের ছাদে ওই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আতিকুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আতিকুর রহমান নিবিড়কে চড় মারেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তাকে ধাক্কা দেন ফলে পরে গিয়ে তার হাতের কনুইয়ে আঘাত লাগে। পরবর্তীতে সৌরভ কাব্য বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তার নাকে সজোরে ঘুষি মারেন। যার ফলে সৌরভের নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে ঝামেলা দেখে আতিকুরকে ধাওয়া দেন। সর্বশেষ জানা গেছে আতিকুর ধাওয়ার পর পালিয়ে একটি মেসে আশ্রয় নিয়েছেন। জানা গেছে, আতিকুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বলপ্রয়োগ করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ কক্ষে একটি সিট দখল করে গত চার দিন ধরে হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনুসারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ওঠানোর অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ' ওনি আমার রুমে আমার গেস্ট হিসেবে ছিল। এইরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবো তা আমার জানা ছিল না। 'মারধরের শিকার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির বলেন, আমরা কয়েকজন হলের নিচে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় আতিক সেখানে এসে হলে উঠার কথা বলেন। তখন আমি তাকে জানাই যে, নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার কথা শুনে আতিক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার কলার ধরে চড় মারেন। পরবর্তীতে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সৌরভ সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে  তাকে নাকে-মুখে ঘুষি দিতে থাকেন। এ সময় আঘাতে সৌরভের নাক ফেটে যায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে আতিক ও সাইফুল সেখান থেকে পালিয়ে যায়।'কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, 'এটা একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা খুবই দুঃখজনক। এটা সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্ধের কারণে হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে। এতে যেই অপরাধী হবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'হলে ছাত্রদলের কর্মীদের সিটে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, ' হলগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। জুনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকবে, সিনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানেই থাকবে। হলের নির্দিষ্ট যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। ছাত্রদলের অনেক শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকেন। আবার অনেক দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী হলে থাকার চেষ্টা করেন। গত ১৮ মাসে শুধুই ছাত্রদল করার কারণে হলে অবস্থান করছে এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তবে আতিকুরের হলে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, 'আজকের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি এবং আমি ইতিমধ্যে হাউস টিউটরদের সাথে কথা বলেছি তারাসহ আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং এবিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'সিট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ' আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখনো কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত অনেকেই হলে সিট পাওয়ার বিষয় নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আমরা তাদেরকেই হলে সিট দিবো যাদের ছাত্রত্ব আছে যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে সিট পাওয়ার সুযোগ নেই।'
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৩৬ প্রার্থীর ২৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৩৬ প্রার্থীর ২৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন একজন নারী প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৫ প্রার্থী। নির্বাচনের বিধি অনুযায়ি, কোনো সংসদীয় আসনে প্রার্থী বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৩৫ প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জন নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি। যার ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এমনও প্রার্থী আছেন যারা ১ হাজার ভোটও পাননি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪ প্রার্থীর পাশাপাশি ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মাহাদুর শাহ্ও জামানত হারিয়েছেন। একসময় সরকারে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি ৪টি আসনে অংশ নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৪৬ ভোট। আর গণফোরাম তিনটি আসনে পেয়েছেন ৮৭৬ ভোট।নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যে জেলায় ভোটার ২৩ লাখ ৩১হাজার ১৯৫। এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়ছেন ৫৩.০৫ভাগ।এদিকে জামায়াতের সাথে জোটে যাওয়া নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জড়ানো ইসলামী আন্দোলন ৪টি আসনে ভোট পেয়েছে ৩৮ হাজার ৬শ ৩০ ভোট। ২০০৪ সালে আ. লীগের সাথে জোট হওয়া বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট মোমবাতি প্রতিক তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছে ৭ হাজার ১৫৪ ভোট। শুধু তাই নয়, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ বাহদুর শাহ চেয়ার প্রতিকে চাঁদপুর-৫ আসন থেকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৭৮ ভোট। তিনিও হারিয়েছেন জামানত। অন্যদের মধ্যে জামানত হারিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতিকের ৩ প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, মো. এনায়েত হোসেন ও মো. গোলাফ হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ঘুড়ি প্রতিকের জাকির হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতিকের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতিকের জাকির হোসেন প্রধানিয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতিকের মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতিকের নাসিমা নাজনিন সরকার, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হাতি প্রতিকের মো. ফয়জুন্নুর ও নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতিকের মো. এনামুল হক।চাঁদপুর-১ (কচুয়া): এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ১৩লাখ ৩হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ পেয়েছেন ৭০হাজার ৩৬৮ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে গণফোরামের মোহাম্মদ আজাদ হোসেন ৩২৯, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ৪ হাজার ৩৭১, গণঅধিকার পরিষদের মো. এনায়েত হোসেন ২১৭ ও জাতীয় পার্টির হাবিব খান ৬৫২ ভোট পেয়েছন।চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ): এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন ১লাখ ৭২হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি এলডিপির ছাতা প্রতিকের প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৭৩ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনিন সরকার ২৮৩, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি মো. ফয়জুন্নর ৫০৯, গণঅধিকার পরিষদের মো. গোলাপ হোসেন ৩১৫, নাগরিক ঐক্য মো. এনামুল হক ১৪৩, ইসলামী আন্দোলনের মানসুর ১২হাজার ৩০৭, জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া ১হাজার ৩২৮ ভোট।চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর): এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ ১লাখ ৬৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে পেয়েছেন ১লাখ ৮৬৫ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এ. এইচ.এম. আহসান উল্লাহ ২হাজার ২৭৪, ইসলামী আন্দোলনের মো. জয়নাল আবদিন শেখ ১৪ হাজার ১৮১, গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন ১৩২, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ৬৭৬, গণফোরামের সেলিম আকবর ৩০৭ ভোট।চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) : এই আসনে স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতিকের প্রার্থী এম এ হান্নান ৭৪হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের মো. হারুনুর রশিদ ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৬৬হাজার ৬৯২ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র জাকির হোসেন ১৮৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মকবুল হোসাইন ৫হাজার ২৬১, জাতীয় পার্টির মাহমুদুর হাসান ২৭৭ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবদুল মালেক ৫০৯, গণফোরামের মো. মুনীর চৌধুরী ২৪০ ভোট পেয়েছেন।চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি): এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মো. মমিনুল হক ১ লাখ ৮৫হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি এলডিপির ছাতা প্রতিকের প্রার্থী মো. নেয়ামুল বশির পেয়েছেন ৭৫হাজার ৬৬০ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মির্জা গিয়াস উদ্দিন ১হাজার ৫১৬, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী পাটওয়াারি ৬হাজার ৬৮১, স্বতন্ত্র মো. জাকির হোসেন প্রধানিয়া ২৬৮, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন ২৫৬, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী ১৩হাজার ১৭৮ ভোট পেয়েছেন।চাঁদপুর-৩ আসনের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থী এ এইচ এম আহসান উল্লাহ বলেন, জামানত হারানো প্রার্থীদের নিজ দলের তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। তাই নির্বাচনে ভালো করা কঠিন। তার মতে সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় করা প্রয়োজন।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুরের সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন বলেন, আসলে নিজেকে পরিচিতির জন্য এমন নির্বাচনে অনেকে প্রার্থী হয়। আবার নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণের জন্যও প্রার্থী দিয়ে নিয়ম রক্ষা করেন। এছাড়াও ছোট দলগুলোর জয় পরাজয় বা জামানত বাজেয়াপ্ত তাদের বড় বিষয় নয়, দলকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনে অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে হয়।
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা-৯ আসনে হাবিবের প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরের সমর্থন

ঢাকা-৯ আসনে হাবিবের প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরের সমর্থন

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় হাতিয়াকে কলঙ্কিত করার প্রতিবাদে হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় হাতিয়াকে কলঙ্কিত করার প্রতিবাদে হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার মাধ্যমে কলঙ্কিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন  ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ২নং চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।বিক্ষোভে ২নং চানন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন এবং পরে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আব্দুল হান্নান মাসুদ পরিকল্পিতভাবে একটি মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে হাতিয়া উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি বিশেষ মহলকে ফাঁসানো এবং দ্বীপাঞ্চলের সুনাম নষ্ট করতেই এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, এটি একটি সাজানো নাটক। আমরা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এর পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।বক্তারা আরও বলেন, হাতিয়া একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এ জনপদকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)।এবিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে জেনেছি। তবে আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) মামলা রেকর্ড হয়েছে।
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ