বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

যানজট নিরসনে একটি উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে: জেলা প্রশাসক

চাঁদপুর জেলা শহরের উপর চাপ কমাতে একটি উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে "জেলা শহরে যানজট পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য করণীয় শীর্ষক সেমিনার" এ প্রধান অতিথির বক্তব্য জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান একথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন,যানজট নিরসনের দায়িত্ব কি শুধুমাত্র চাঁদপুর পৌরসভা, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং সড়ক বিভাগের !  এ ছাড়া অন্যদের কি কোন দায়িত্ব নাই? সরকারিভাবে দায়িত্ব হচ্ছে এ কয়েকটা ডিপার্টমেন্টের। তবে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব আছে। আমরা সরকারি কর্মচারী যখন রাস্তায় নামব তখন আমরা যাত্রী এবং পথচারী বিবেচনা করে যার যার অবস্থান থেকে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডিসি আরো বলেন, এখানে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে তার মধ্যে এক নাম্বারে চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড সংস্কার। দুদিন আগে আমি বাসস্টেন্ড করে পরিদর্শন করেছিলাম বিশাল এলাকা জুড়ে। কিন্তু খুব অল্প একটু জায়গা হচ্ছে ব্যবহার উপযোগী। বাকি জায়গা হচ্ছে খানা খন্দক কাদা ব্যবহারের অনুপযোগী। বাসস্ট্যান্ড সংস্কার করা দরকার। সংস্কার করার পর বাস যদি বাইরে আসে ভিতরে না গিয়ে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিব। একটা প্রজেক্ট নিতে হবে পৌরসভা থেকে বাস স্ট্যান্ড সংস্কারের জন্য। আরেকটা প্রস্তাবনা এসেছিল ডাইভারদের বিশ্রামের জন্য। বাস স্ট্যান্ডে অনেক বড় জায়গা আছে তার মধ্যে সম্ভব। চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন এক পাশে নেওয়ার জন্য আমরা রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা পাঠাবো। ইচলী ব্রিজের জন্য প্রসেসিং প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাবুরহাট থেকে ওয়ারলেস হয়ে ইলিশ চত্বর পর্যন্ত চারলেন সড়কের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা। জেলা প্রশাসনের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি যানজট নিরসনে চাঁদপুর শহর সার্ভে করে এ প্রতিবেদন তৈরী করে।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার রবিউল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট সলিম উল্ল্যাহ সেলিম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ লুৎফর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন,পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খিশা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাঃ ইউনুস আলী, চাঁদপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, চাঁদপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খাইরুল কবির, চাঁদপুর জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর প্রবীর চক্রবর্তী,  সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, নিরাপদ সড়ক চাই এর সভাপতি এম এ লতিফ, ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল আমিন খান আকাশ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কে এম সালাহউদ্দিন,চাঁদপুর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী ওমর ফারুক, সিএনজি মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি লিটন মোল্লা। এছাড়াও আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
২ ঘন্টা আগে

লাল কার্ডে ব্রাজিলের রাজত্ব, হলুদে আর্জেন্টিনার

পরিসংখ্যান বলছে, লাল কার্ডের সিংহাসন দখলে রেখেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটিই সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডের মালিক। ১১৫ ম্যাচে সেলেসাওরা ১১ বার লাল কার্ড দেখেছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।২০২৬ বিশ্বকাপ নানা কারণেই আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম কার্ড প্রসঙ্গ। দক্ষিণ আফ্রিকা–মেক্সিকো উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখা গেছে তিনটি লাল কার্ড, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।অবাক করার মতো বিষয় হলো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পুরো আসরে যেখানে মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম রাতেই বের হয়েছে তিনটি লাল কার্ড।২০০৬ সালের কুখ্যাত পর্তুগাল–নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর একটি ম্যাচে এত লাল কার্ড আর দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল কোনটি?পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই তালিকায় শীর্ষে ব্রাজিল। ১১৫ ম্যাচে ১১টি লাল কার্ড নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।তাদের পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ক্যামেরুন। দুই দলের ঝুলিতেই আছে ৯টি করে লাল কার্ড। তবে ক্যামেরুনের পরিসংখ্যান বেশ বিস্ময়কর। আর্জেন্টিনার তুলনায় ৬২ ম্যাচ কম খেলেও তারা সমানসংখ্যক লাল কার্ড দেখেছে।আরও অবাক করার বিষয় হলো, ব্রাজিলের চেয়ে ৮৯ ম্যাচ কম খেলেও মাত্র দুটি লাল কার্ডে পিছিয়ে রয়েছে আফ্রিকার দলটি। মাত্র ২৭ ম্যাচ খেলেই তারা ৯টি লাল কার্ড দেখেছে, যেখানে আর্জেন্টিনা খেলেছে ৮৯টি ম্যাচ।৮টি করে লাল কার্ড নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও উরুগুয়ে। এরপর ৭টি করে লাল কার্ড নিয়ে আছে জার্মানি ও মেক্সিকো। শীর্ষ দশ পূর্ণ করেছে ফ্রান্স ও পর্তুগাল, যাদের প্রত্যেকের লাল কার্ড সংখ্যা ৬।তবে কার্ডের রং যদি হলুদ হয়, তাহলে সবার ওপরে আর্জেন্টিনা। এ তালিকায় একচ্ছত্র আধিপত্য আলবিসেলেস্তেদের। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১২২টি হলুদ কার্ড দেখেছে তারা।তাদের ঠিক পেছনে রয়েছে জার্মানি (১১৮), ব্রাজিল (১১১), নেদারল্যান্ডস (১০৩) ও ইতালি (৯০)। এরপর রয়েছে মেক্সিকো (৮৫), ফ্রান্স (৭৭), দক্ষিণ কোরিয়া (৭৬), উরুগুয়ে (৭৪) এবং স্পেন (৬৬)।তবে গড়ের হিসাবে সবচেয়ে নজরকাড়া ক্রোয়েশিয়া। মাত্র ৩০ ম্যাচ খেলেই তারা পেয়েছে ৫৮টি হলুদ কার্ড। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি প্রায় ১.৯৩টি হলুদ কার্ড, যা তালিকার অনেক বড় দলের চেয়েও বেশি।সব মিলিয়ে, সুন্দর ফুটবলের পাশাপাশি কঠোর ট্যাকল, উত্তেজনা এবং কার্ডের গল্পও বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। টুর্নামেন্টের শুরুতেই যে ইঙ্গিত মিলছে, তাতে এবার সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
৪ ঘন্টা আগে

অভিনেতা জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।পল্লবী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পরদিন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। জাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরার বিয়ে হয় ২০১০ সালে। তাদের একটি ছেলে রয়েছে।
৫ ঘন্টা আগে
অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, হাইতির বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, হাইতির বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এতে সেলেসাও শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনের কলম্বিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মারকিনিওস ও রাফিনিয়া।অনুশীলন মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মজার ছলে নেইমার বলেন, 'আমাকে মিস করেছ?'তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক তখন বলে ওঠেন, 'অবশেষে অপেক্ষার অবসান! হালেলুইয়া!'পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফেরার পর শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে তিনি কত মিনিট খেলবেন কিংবা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন। এরপর একদিনের ব্যবধানে দলীয় অনুশীলনে অংশ নিয়ে পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেন।নেইমারের ফেরাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তার সতীর্থরাও। অনুশীলনের সময় করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এমনকি মজার ছলে ‘ইনিশিয়েশন টানেল’ তৈরি করে তাকে অভিনন্দন জানান ব্রাজিলের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের ফেরার খবর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।
২ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের (ইউএন) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের (ইকোসক) মানবিক বিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) সকালে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।মানবিক নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।এ ছাড়া, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে মানবিক অর্থায়নের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান। তিনি মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন।জাতিসংঘে অবস্থানকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ ২০২৬ সালের ইকোসকের মানবিক বিষয়ক অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা-২-এ অংশ নেবেন।এ ছাড়া, তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
১০ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, হাইতির বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, হাইতির বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এতে সেলেসাও শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনের কলম্বিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মারকিনিওস ও রাফিনিয়া।অনুশীলন মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মজার ছলে নেইমার বলেন, 'আমাকে মিস করেছ?'তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক তখন বলে ওঠেন, 'অবশেষে অপেক্ষার অবসান! হালেলুইয়া!'পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফেরার পর শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে তিনি কত মিনিট খেলবেন কিংবা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন। এরপর একদিনের ব্যবধানে দলীয় অনুশীলনে অংশ নিয়ে পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেন।নেইমারের ফেরাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তার সতীর্থরাও। অনুশীলনের সময় করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এমনকি মজার ছলে ‘ইনিশিয়েশন টানেল’ তৈরি করে তাকে অভিনন্দন জানান ব্রাজিলের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের ফেরার খবর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।
২ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১

রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১

ইউক্রেনের কয়েকটি বড় শহরে সোমবার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আগুন লেগেছে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাসনালয়েও।এএফপির সাংবাদিকরা জানান, হামলার পুরো সময়জুড়ে কিয়েভের বাসিন্দাদের আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় ছুটতে দেখা গেছে। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছিল। অন্ধকার শহরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষও পড়ে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।এ হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের প্রতি মস্কোর ওপর আরও চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির বিষয়টিও ওই সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাওয়ার কথা।হামলায় রাজধানী কিয়েভে ৫ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরার প্রাঙ্গণে আগুন লাগে। এতে এর ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর এটি একটি। একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশের অর্থোডক্স বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কিয়েভ, খারকিভ ও দনিপ্রো অঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় ‘বৃহৎ আকারের হামলা’ চালিয়েছে। তবে লাভরায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো দাবি করেছে, একটি পুরোনো মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হেনেছে।ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। এর মধ্যে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৮২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সকালে কিয়েভে এএফপির এক প্রতিবেদক দেখেন, ক্যাথাড্রেল এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। এ সময় গির্জার ঘণ্টায় ইউক্রেনের জাতীয় সংগীতের সুর বাজে। জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের নেতাদের প্রতি হামলার ‘দৃঢ় ও কার্যকর’ জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, আগ্রাসনকারীর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে হবে।ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন্ডার লিয়েন বলেন, জি-৭ নেতারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর পরবর্তী পদক্ষেপ, রুশ প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনা ও এই অর্থহীন হত্যাযজ্ঞ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কিয়েভের জাদুঘরকর্মী নাটালিয়া কোরোল।৫২ বছর বয়সী এই নারী এএফপিকে বলেন, ‘এটি একটি পবিত্র স্থান। তারাও বলে এটি তাদের পবিত্র স্থান। পবিত্র স্থাপনায় হামলা করা যায় না।’ সোনালি গম্বুজখচিত কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠকে রুশ ও ইউক্রেনীয়Ñ উভয় অর্থোডক্স চার্চই তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে। উপাসনালয়টির বিস্তৃত গুহা নেটওয়ার্কে উভয় চার্চের শ্রদ্ধেয় বহু সাধুর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।রাতের হামলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ডরমিশন ক্যাথেড্রাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রুশ অর্থোডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখা এই ধর্মীয় স্থাপনাটি পরিচালনা করত। তবে ২০২২-২৩ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে মস্কোপন্থী ইউক্রেনীয় চার্চের সন্ন্যাসীদের মঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই সার্বজনীন ঐতিহ্যের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, রাজধানীর মিস্তেতস্কি আর্সেনাল জাতীয় শিল্প ও জাদুঘর কমপ্লেক্সের একটি ভবনেও আগুন লেগেছে।
১৫ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
০৪ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

০৪ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

যানজট নিরসনে একটি উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে: জেলা প্রশাসক

যানজট নিরসনে একটি উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে: জেলা প্রশাসক

চাঁদপুর জেলা শহরের উপর চাপ কমাতে একটি উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে "জেলা শহরে যানজট পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য করণীয় শীর্ষক সেমিনার" এ প্রধান অতিথির বক্তব্য জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান একথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন,যানজট নিরসনের দায়িত্ব কি শুধুমাত্র চাঁদপুর পৌরসভা, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং সড়ক বিভাগের !  এ ছাড়া অন্যদের কি কোন দায়িত্ব নাই? সরকারিভাবে দায়িত্ব হচ্ছে এ কয়েকটা ডিপার্টমেন্টের। তবে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব আছে। আমরা সরকারি কর্মচারী যখন রাস্তায় নামব তখন আমরা যাত্রী এবং পথচারী বিবেচনা করে যার যার অবস্থান থেকে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডিসি আরো বলেন, এখানে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে তার মধ্যে এক নাম্বারে চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড সংস্কার। দুদিন আগে আমি বাসস্টেন্ড করে পরিদর্শন করেছিলাম বিশাল এলাকা জুড়ে। কিন্তু খুব অল্প একটু জায়গা হচ্ছে ব্যবহার উপযোগী। বাকি জায়গা হচ্ছে খানা খন্দক কাদা ব্যবহারের অনুপযোগী। বাসস্ট্যান্ড সংস্কার করা দরকার। সংস্কার করার পর বাস যদি বাইরে আসে ভিতরে না গিয়ে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিব। একটা প্রজেক্ট নিতে হবে পৌরসভা থেকে বাস স্ট্যান্ড সংস্কারের জন্য। আরেকটা প্রস্তাবনা এসেছিল ডাইভারদের বিশ্রামের জন্য। বাস স্ট্যান্ডে অনেক বড় জায়গা আছে তার মধ্যে সম্ভব। চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন এক পাশে নেওয়ার জন্য আমরা রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা পাঠাবো। ইচলী ব্রিজের জন্য প্রসেসিং প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাবুরহাট থেকে ওয়ারলেস হয়ে ইলিশ চত্বর পর্যন্ত চারলেন সড়কের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা। জেলা প্রশাসনের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি যানজট নিরসনে চাঁদপুর শহর সার্ভে করে এ প্রতিবেদন তৈরী করে।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার রবিউল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট সলিম উল্ল্যাহ সেলিম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ লুৎফর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন,পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খিশা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাঃ ইউনুস আলী, চাঁদপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, চাঁদপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খাইরুল কবির, চাঁদপুর জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর প্রবীর চক্রবর্তী,  সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, নিরাপদ সড়ক চাই এর সভাপতি এম এ লতিফ, ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল আমিন খান আকাশ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কে এম সালাহউদ্দিন,চাঁদপুর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী ওমর ফারুক, সিএনজি মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি লিটন মোল্লা। এছাড়াও আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
০৪ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি