বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

সালমানশাহ হত্যা মামলায় নতুন তারিখ দিলেন আদালত

চিত্রনায়ক সালমানশাহ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় বিচারক পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলাটি করেন সালমানশাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন হলেন সালমানশাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া অভিযোগে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা থেকে হত্যা মামলা১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমানশাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।আদালতের ওই নির্দেশনার পরদিন, ২১ অক্টোবর সালমানশাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে যেসব অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছেমামলার এজাহারে মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে সালমানশাহের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখানে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন।কিছুক্ষণ পর সালমানশাহের প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, তাঁর কিছু একটা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে শয়নকক্ষে সালমানকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে বসে ছিলেন সামীরার আত্মীয় রুবি।এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, সালমানের মা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য চিৎকার করে অনুরোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্যরা তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে চিহ্ন দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রথমে সালমানশাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।এজাহারে আরও বলা হয়, সালমানশাহের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করতেন। এ বিষয়ে তিনি ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন করেন। আবেদনে রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।সালমানশাহের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন মোহাম্মদ আলমগীর।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমানশাহকে হত্যা করেছেন। তবে মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে, তা প্রমাণিত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।
১২ ঘন্টা আগে

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে ছয় প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকছে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এসব আপিলের নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর। পরদিন ৮ অক্টোবর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। পরবর্তী সময়ে নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে।উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এ শূন্য আসনেই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।
১২ ঘন্টা আগে

বিশ্ববাজারে বাড়ল আরও তেলের দাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ১ দশমিক ৩২ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান শান্তি প্রস্তাব দেয়। তেহরান জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।তবে শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অবশ্য রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচনাকারীরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করতে পারেন।অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপের (এএনজেড) বিশ্লেষকেরা বলেছেন, হুতিরা সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত রাখায় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে।এদিকে, গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানো এবং দাম কমাতে দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল।এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে দেশটির বাইরে সরবরাহ কমে যেতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ কমার আশঙ্কায় ইউরোপের বাজারেও জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়ছে।তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে বেড়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি বাড়ানোয় এ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক দেশগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ।হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও বেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে।সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি কমিয়ে পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিভিন্ন দিক রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক এবং জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রশংসা করে তাঁকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি ভাষণটিকে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক হিসেবে অভিহিত করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুসংহত করতে সহায়ক হবে।রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সাক্ষাৎকালে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।
৯ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

তথ্য সচিবকে নিয়ে বিতর্ক: সমন্বয়হীনতা ও বিগত সরকারের সুবিধাভোগী হওয়ার অভিযোগ

তথ্য সচিবকে নিয়ে বিতর্ক: সমন্বয়হীনতা ও বিগত সরকারের সুবিধাভোগী হওয়ার অভিযোগ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মাহবুবা ফারজানার কার্যক্রম, রাজনৈতিক ভূমিকা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, লিয়েনে বিদেশি প্রকল্পে কাজ এবং একাধিক দেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও বিদেশ সফরের সুযোগ পাওয়ার কারণে তাঁর ‘বঞ্চিত’ থাকার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।পাশাপাশি, বর্তমান অন্তর্বর্তী ও পরবর্তী সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, তথ্য ক্যাডারের পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং গণভোটের পক্ষে প্রকাশ্য প্রচারণায় অংশ নেওয়ার মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।বিগত সরকারের আমলে ‘সুবিধাভোগী’ অবস্থানের অভিযোগদাপ্তরিক নথি ও সার্ভিস রেকর্ড (PDS) অনুযায়ী, মাহবুবা ফারজানা বিগত সরকারের প্রায় ১৫ বছরে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তিন দফায়-২০০৩, ২০১৩ ও ২০২০ সালে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অর্থ বিভাগ এবং ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।এ ছাড়া, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি লিয়েনের সুবিধায় বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প SEIP ও SIIP-এ জেন্ডার স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়ে তিনি সরকারি পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি বেতনের সুযোগ পেয়েছেন।পাশাপাশি, গত দেড় দশকে সরকারি ও প্রকল্পের অর্থায়নে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া (চারবার), জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভারতসহ অন্তত ১০টি দেশ সফর করেছেন তিনি। ২০২০ সালের জুনে যুগ্মসচিব পদে তাঁর দ্রুত পদোন্নতির বিষয়টিও তাঁর ‘বঞ্চিত’ থাকার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্য ক্যাডারের পদোন্নতিতে স্থবিরতা ও অসন্তোষতথ্য ক্যাডারের শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আহ্বানের প্রক্রিয়া বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ রয়েছে সচিবের বিরুদ্ধে।গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের কথা উল্লেখ করে প্রক্রিয়াটি ঝুলিয়ে রাখার ফলে ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, অন্য কোনো সার্ভিসে এ ধরনের তদন্তের নজির না থাকলেও সচিবের দীর্ঘসূত্রতার কারণে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে রয়েছে।রাজনৈতিক অবস্থান ও সমন্বয়হীনতার বিতর্করাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সচিব পদে বহাল থাকা মাহবুবা ফারজানার ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।বিশেষ করে, ২০২৬ সালের গণভোটে রাজশাহীতে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে কর্তৃত্ববাদী শাসন ঠেকাতে তিনি প্রকাশ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া, বিভিন্ন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে বাধা ও অসহযোগিতার অভিযোগ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।বর্তমান বিএনপি-সমর্থিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর কাজের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।সরকারের প্রচারব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাবমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে দূরত্বের কারণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং জনসংযোগ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নীতি ও সিদ্ধান্ত সময়মতো গণমাধ্যমে পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সরকারের সামগ্রিক জনসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রশাসনের কার্যকারিতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দ্রুত দক্ষ ও নিরপেক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৪ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে বাড়ল আরও তেলের দাম

বিশ্ববাজারে বাড়ল আরও তেলের দাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ১ দশমিক ৩২ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান শান্তি প্রস্তাব দেয়। তেহরান জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।তবে শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অবশ্য রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচনাকারীরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করতে পারেন।অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপের (এএনজেড) বিশ্লেষকেরা বলেছেন, হুতিরা সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত রাখায় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে।এদিকে, গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানো এবং দাম কমাতে দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল।এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে দেশটির বাইরে সরবরাহ কমে যেতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ কমার আশঙ্কায় ইউরোপের বাজারেও জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়ছে।তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে বেড়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি বাড়ানোয় এ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক দেশগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ।হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও বেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে।সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি কমিয়ে পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিলেন নবাগত চাঁদপুর পৌর প্রশাসক

জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিলেন নবাগত চাঁদপুর পৌর প্রশাসক

সমন্বিত পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে চাঁদপুর পৌরসভার নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবাগত পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর পৌর পাঠাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নগর সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা হবে। নগরবাসীর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খিসার সঞ্চালনায় সভায় নগর সমন্বয় কমিটির সদস্য, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক বি এম হান্নান, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিক আলম পলাশ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, আইনজীবী ইখতিয়ার উদ্দিন শিশু, চাঁদপুর শহর মহিলা দলের সভানেত্রী জোহরা আনোয়ার হীরা, সাধারণ সম্পাদক নাহিদা রহমান সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদেৌসি আক্তার ইশিতা, সমাজকর্মী তানিয়া ইসলাম, কে এম সালাউদ্দিন প্রমুখ।সভায় অংশগ্রহণকারীরা চাঁদপুর পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা ও নাগরিক সেবা নিয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।সভায় পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও সংস্কার, পয়ঃনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।অংশগ্রহণকারীরা এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১৭ আগস্ট ২০২৬
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

১৭ আগস্ট ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১৭ আগস্ট ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রগতির মূল্য কত: এআইয়ের আড়ালে নিঃশেষ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি?

প্রগতির মূল্য কত: এআইয়ের আড়ালে নিঃশেষ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি?

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে কয়েকটা শব্দ লিখে পাঠালেই চোখের পলকে ফুটে উঠছে কাঙ্ক্ষিত উত্তর, তৈরি হয়ে যাচ্ছে সুন্দর একটি ছবি কিংবা জটিল কোনো গবেষণার সারসংক্ষেপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আজ আমাদের জীবনকে এতটাই সহজ ও চটপটে করে তুলেছে যে, এটিকে আমরা কেবলই এক অলৌকিক ডিজিটাল প্রযুক্তি বলে মনে করি। কিন্তু স্ক্রিনের ওপারে চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কঠিন ও বস্তুগত বাস্তব। এআই কোনো শূন্যতার মধ্য থেকে কাজ করে না; একে সচল রাখতে বিশ্বজুড়ে দিনরাত জ্বলছে লাখ লাখ প্রসেসর। আর চরম উত্তাপে জ্বলতে থাকা এসব বিশাল ডাটা সেন্টার ঠান্ডা রাখতে নীরবে বাষ্পীভূত হয়ে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন লিটার সুপেয় পানি। আমরা যখন এআইয়ের জাদুকরী সুফলে মুগ্ধ, তখন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কিন্তু মানুষের সুপেয় পানির পাত্রটি আস্তে আস্তে ফাঁকা হয়ে আসছে। প্রগতির এই আলো কি তবে আমাদের অস্তিত্বের সবচেয়ে মৌলিক উপাদান বিশুদ্ধ পানিকেই নিঃশেষ করে দিচ্ছে? এআইয়ের এই অদৃশ্য পানির তৃষ্ণা এবং মানবজীবনে তার মারাত্মক প্রভাব নিয়ে ভাবার সময় এখনই।একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, কঠিন গাণিতিক বিশ্লেষণ, পেশাদারি লেখালেখি, ছবি ও ভিডিও তৈরি কিংবা জটিল গবেষণার কাজ—সবই এখন হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই করা সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ, গতিশীল ও সমৃদ্ধ করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই অভাবনীয় ডিজিটাল বিপ্লবের পেছনে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য ও গভীর সংকট। আমরা যখন চ্যাটবটের সঙ্গে কথাপোকথন কিংবা কোনো এআই টুল ব্যবহার করি, তখন নেপথ্যে সার্ভার রুমগুলোতে নীরবে বাষ্পীভূত হয়ে শেষ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানি।বাহ্যিকভাবে এআই-কে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বা ভার্চুয়াল জগত মনে হলেও বাস্তবে এর একটি বিশাল ভৌগোলিক ও বস্তুগত অস্তিত্ব রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল ডাটা সেন্টার। এসব ডাটা সেন্টারে হাজার হাজার শক্তিশালী কম্পিউটার প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যখন এআই-কে কোনো নির্দেশ দিই, তখন এই শক্তিশালী প্রসেসরগুলো দ্রুত গতিতে কোটি কোটি হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় চিপগুলো মারাত্মক গরম হয়ে ওঠে। যদি প্রসেসরগুলোকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঠান্ডা রাখা না হয়, তবে পুরো ডাটা সেন্টারের যন্ত্রাংশ পুড়ে অকেজো হয়ে যাবে।এই চরম উত্তাপ থেকে সার্ভারগুলোকে রক্ষা করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো পানির ব্যবহার। বিশেষ কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে পাইপলাইনে বরফশীতল পানি প্রবাহিত করা হয় এবং প্রসেসরের ওপর ঠান্ডা পানির সূক্ষ্ম স্প্রে করা হয়। ডাটা সেন্টারের তীব্র উত্তাপে সেই পানির বড় একটি অংশ বাষ্প হয়ে আকাশে উড়ে যায়, যা আর সরাসরি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এ ছাড়া ডাটা সেন্টারগুলো পরিচালনার জন্য যে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনেও (যেমন: কয়লা, গ্যাস বা হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্টে) পরোক্ষভাবে বিপুল পরিমাণ সুপেয় পানি খরচ হয়।সহজ হিসাব করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ একটি ছোট বার্তা বা প্রম্পট প্রসেস করতে এআই ডাটা সেন্টারে কয়েক মিলিলিটার পানি লাগে। কিন্তু যখন এআই দিয়ে কোনো উচ্চমানের ছবি জেনারেট বা এডিট করা হয় কিংবা কোনো দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রসেস করা হয়, তখন এক একটি কাজের পেছনে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার—অর্থাৎ প্রায় আধা লিটার থেকে এক বোতল বিশুদ্ধ পানি খরচ কিংবা বাষ্পীভূত হয়। শুনতে হয়তো এক বোতল পানি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ যখন হাজার হাজার কোটি প্রম্পট ও ছবি জেনারেট করছে, তখন দৈনিক পানি খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে শতকোটি লিটারে।এই অনিয়ন্ত্রিত পানি ব্যবহারের সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের বাস্তব জীবনে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে আগে থেকেই পানির সংকট রয়েছে বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, সেখানে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ স্থানীয় মানুষের সুপেয় পানি ও কৃষিকাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাটা সেন্টারগুলো আশপাশের নদী, হ্রদ কিংবা ভূগর্ভস্থ অ্যাকুইফার (Aquifer) থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি তুলে নিচ্ছে। ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা খাবার পানি ও টিউবওয়েলে পানি না পাওয়ার সংকটে পড়ছেন, কৃষকদের সেচের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনে মন্দা দেখা দিচ্ছে।ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যারিজোনা ও ওরেগনের মতো খরাপ্রবণ এলাকায় বিশাল ডাটা সেন্টারগুলোর পানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় অধিবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন। ইউরোপের দেশ স্পেনে কয়েক বছরের ভয়াবহ খরার পর কৃষকরা তাদের সেচের পানি রক্ষার দাবিতে টেক কোম্পানিগুলোর ডাটা সেন্টার প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করছেন। উরুগুয়েতে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসখ্যাত সুপেয় পানির সংকট চলাকালে এক টেক জায়ান্ট বিশাল ডাটা সেন্টার করার পরিকল্পনা করলে জনরোষের মুখে তারা পানির বদলে বাতাস দিয়ে ঠান্ডা করার প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে আদালতের রায়ে পানির সুরক্ষার স্বার্থে একটি বড় ডাটা সেন্টারের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এসব ঘটনা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত তৃষ্ণা এখন মানুষের মৌলিক জীবনধারনের সরাসরি মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে।তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, পানির সংকটের কথা চিন্তা করে কি মানুষের এআই বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত? উত্তর হলো, একদমই নয়। প্রযুক্তি বর্জন করা কোনো সমাধান হতে পারে না; সমস্যা প্রযুক্তিতে নয়, সমস্যা সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে। পৃথিবীতে মানুষের ব্যবহারের জন্য যে সুপেয় পানি রয়েছে, তার সিংহভাগ (প্রায় ৭০ শতাংশ) ব্যবহৃত হয় কৃষিকাজে এবং ২০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয় সাধারণ শিল্পকারখানায়। এআই ডাটা সেন্টারের ব্যবহৃত পানি সেই তুলনায় শতাংশের হিসাবে কম হলেও, এটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।তাই এই সংকট সামলাতে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব নেতাদের। কেবল খাওয়ার উপযোগী বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার না করে ডাটা সেন্টারগুলোতে ড্রেনেজ বা কারখানার শোধিত বর্জ্য পানি (Recycled Water) এবং সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রসেসর ঠান্ডা রাখার জন্য বাতাসভিত্তিক এয়ার-কুলিং (Air Cooling) কিংবা ‘ক্লোজড-লুপ ওয়াটার সিস্টেম’ প্রযুক্তি দ্রুত চালু করতে হবে, যেখানে একই পানি বারবার রিসাইকেল করে ব্যবহার করা যায় এবং বাষ্পীভবন শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। টেক জায়ান্টদের ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ওয়াটার পজিটিভ’ বা ব্যবহৃত পানির চেয়ে বেশি পানি প্রাকৃতিক উৎস ও জলাশয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা কঠোরভাবে আইনি তদারকির অধীনে আনতে হবে।একই সাথে সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদেরও কিছুটা দায়িত্বশীল হতে হবে। অনর্থক প্রম্পট দেওয়া, অপ্রয়োজনে বারবার ছবি জেনারেট বা পরিবর্তন করার অভ্যাস এড়িয়ে চলে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য এআই ব্যবহার করা উচিত। ডিজিটাল প্রযুক্তিরও যে একটি পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক মূল্য রয়েছে, তা অনুধাবন করাই হলো সচেতন নাগরিকের লক্ষণ।প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে মানবজাতির অগ্রগতি, কল্যাণ ও সুবিধা বাড়াতে। কিন্তু সেই প্রগতির চাকা চালাতে গিয়ে যদি আমরা মানুষের বেঁচে থাকার মূল উপাদান—বিশুদ্ধ পানিকেই নিঃশেষ করে দিই, তবে সেই উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তীব্র তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচাতে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো স্বাধীন সত্তা নয়, বরং এটি মানুষেরই তৈরি একটি যুগান্তকারী হাতিয়ার। প্রগতির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই প্রযুক্তি যে নিঃশব্দে সুপেয় পানির মতো অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ গ্রাস করছে, তা আজকের বাস্তবতায় অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সংকট প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে নয়, সংকট লুকিয়ে আছে সম্পদ ব্যবস্থাপনার দূরদর্শিতা ও জবাবদিহিতার অভাবে। এক গ্লাস খাবার পানি কিংবা এক একর জমির সেচের পানির বিপরীতে হাজার হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানির বাষ্পীভবন কখনোই কোনো স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষণ হতে পারে না।প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে পরিবেশবান্ধব ও পানি-সাশ্রয়ী কুলিং প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে এবং খরাপ্রবণ এলাকায় পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণ, করপোরেট পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর ডিজিটাল সচেতনতা, এই তিনের মেলবন্ধনেই সমাধান সম্ভব। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, প্রযুক্তির গতি যতই বৃদ্ধি পাক, সুপেয় পানির কোনো বিকল্প বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির প্রতিটি ফোটা রক্ষা করার এখনই সর্বোচ্চ সময়।
ওসমান গানি