শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

ফিরছে ডিভি লটারি, আবেদন করতে পারবেন কি বাংলাদেশিরা?

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। তবে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু না হওয়ায় দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ আসে। পরবর্তী সময়ে নিবন্ধনসংক্রান্ত সময়সীমা সংশোধন করা হয়।রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান মামলাটি দায়ের করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটির কার্যক্রম আটকে রেখেছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নিবন্ধন শুরু করার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু রাখার কথা রয়েছে। তবে আবেদন শুরুর চূড়ান্ত তারিখ, অংশগ্রহণের শর্ত এবং যোগ্য দেশের তালিকা সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।ডিভি লটারি কী?ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড লটারি নামেও পরিচিত। এর আওতায় অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা নির্ধারিত যোগ্যতা, নথিপত্র যাচাই ও অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর অন্তত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। সাধারণত এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব প্রয়োজন হয় না।তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়। নির্বাচিত আবেদনকারীদের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা প্রমাণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন ডিভি লটারি?ডিভি-২০২৭ নিয়ে বাংলাদেশিদের প্রধান প্রশ্ন হলো, এবারের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ যোগ্য দেশের তালিকায় থাকবে কি না। দেশটির নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত যোগ্য দেশের তালিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগের বছরগুলোতে বাংলাদেশ এ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল। তবে ডিভি-২০২৭-এর চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশিদের যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।এ কারণে আগ্রহীদের নিবন্ধনের সময়সূচি ও যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা উচিত। আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করার চেষ্টা কিংবা অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পাওয়া যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে।
২৩ অক্টোবর ২০২৬

সাজেকে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আহত সেনা-পুলিশের অন্তত ৫ সদস্য

রাঙ্গামাটির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।পুলিশ সুপার বলেন, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় অবরোধকারীরা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন সদস্য এবং পুলিশের দুজন সদস্য আহত হন।তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে পাল্টা গুলি চালান বাহিনীর সদস্যরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে এ গুলিবিনিময় চলে।পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উজোবাজার এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটক নিরাপদে এলাকা ছেড়েছেন।ঘটনাটি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
২২ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করলেন এমপি শাহজাহান

‎জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ খাতের পরিস্থিতি, সরকারি খাদ্য মজুত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নোয়াখালীর মাইজদী পৌর বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ শাহজাহানের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ‎ ‎কর্মসূচিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা লিফলেটে ২০২৪, ২০২৫ ও বর্তমান সময়ের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সংকট, সরকারি খাদ্য মজুত, বোরো ধান-চাল সংগ্রহ এবং খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম নিয়েও তথ্য ও বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। ‎ ‎আয়োজকদের দাবি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তবে লিফলেটে থাকা রাজনৈতিক বক্তব্য ও পরিসংখ্যানকে সংশ্লিষ্ট প্রচারপত্রের দাবি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ‎ ‎লিফলেটে উল্লেখিত নিত্যপণ্যের দাম‎ ‎লিফলেটের ‘নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল’ শিরোনামের অংশে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সঙ্গে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন পণ্যের দাম তুলনা করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখিত দামগুলো নিচে তুলে ধরা হলো। ‎ ‎চাল ও ডাল:‎ ‎- মোটা চাল: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৫৫–৬০ টাকা, ২০২৫ সালেও ৫৫–৬০ টাকা; বর্তমানে ৫২–৬০ টাকা। ‎- মসুর ডাল: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১০৯–১১০ টাকা, ২০২৫ সালে ৯৫–১০০ টাকা; বর্তমানে ৯০–১০০ টাকা। ‎ ‎মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্য: ‎- পেঁয়াজ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১১০–১২০ টাকা, ২০২৫ সালে ৭৫–৮০ টাকা; বর্তমানে ৪০–৫০ টাকা। ‎- রসুন: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২২০–২৩০ টাকা, ২০২৫ সালে ৯০–১৩০ টাকা; বর্তমানে ৭০–১২০ টাকা। ‎- আদা: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২৮০–৩০০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৩০–১৮০ টাকা; বর্তমানে ১২০–১৭০ টাকা। ‎- কাঁচামরিচ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২৪০–৩০০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৬০–১৮০ টাকা; বর্তমানে ৬০–১৪০ টাকা। ‎- চিনি: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১৩০–১৩৫ টাকা, ২০২৫ সালে ১০৫–১১০ টাকা; বর্তমানে ১০৫–১১০ টাকা। ‎- আলু: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৬০–৭০ টাকা, ২০২৫ সালে ২৫–৩০ টাকা; বর্তমানে ২০–৩০ টাকা। ‎ ‎মাছ, মাংস ও ডিম: ‎- রুই মাছ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৪০০–৬০০ টাকা, ২০২৫ সালে ৪০০–৪৭০ টাকা; বর্তমানে ৩০০–৫০০ টাকা। ‎- পাঙ্গাস মাছ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২০০–২৫০ টাকা, ২০২৫ সালে ২০০–৩০০ টাকা; বর্তমানে ১৮০–২৫০ টাকা। ‎- গরুর মাংস: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৮০০–৮৫০ টাকা, ২০২৫ সালে ৭৫০–৮০০ টাকা; বর্তমানে ৭৫০–৮০০ টাকা। ‎- খাসির মাংস: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১ হাজার–১ হাজার ১৫০ টাকা; লিফলেটে বর্তমান দাম ১ হাজার ১০০–১ হাজার ২০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অঙ্কটি ছবিতে স্পষ্ট নয়। ‎- ব্রয়লার মুরগি: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১৭০–১৮০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৮০–১৯০ টাকা; বর্তমানে ১৭০–১৯০ টাকা। ‎- ডিম: ২০২৪ সালে প্রতি ডজন ১৪০–১৫০ টাকা; ২০২৫ সালে ১৩৫–১৪০ টাকা; বর্তমানে ১২০–১৫০ টাকা। ‎ ‎লিফলেটে এসব দামের তুলনা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সময়ের তুলনায় কমেছে এবং কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এগুলো প্রচারপত্রে উল্লেখিত তুলনামূলক দাম। কোন বাজারে এবং কোন তারিখে বর্তমান দাম সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ছবিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তাই এসব দামকে একই সময়ের সারা দেশের সরকারি গড় বাজারদর হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ‎ ‎খাদ্য মজুত নিয়ে লিফলেটের দাবি‎ ‎লিফলেটের দ্বিতীয় অংশে ‘রেকর্ড খাদ্য মজুত’ শিরোনামে সরকারি খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্যের মজুতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত ছিল। ‎ ‎লিফলেটে মজুতের বিস্তারিত হিসাব হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮১ টন চাল, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ টন গম এবং ১ লাখ ৮ হাজার ১৯৭ টন ধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলোর যোগফল ও সংশ্লিষ্ট তারিখের সরকারি হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ‎ ‎খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ৮৫ হাজার ৬২ মেট্রিক টন। ভাসমান মজুতসহ মোট পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮৫ মেট্রিক টন। ফলে লিফলেটে উল্লেখ করা ২৪ লাখ টনের বেশি মজুতের দাবি এবং পরবর্তী সময়ের সরকারি হিসাব এক নয়। তারিখ ও হিসাবের আওতা উল্লেখ না করে এ দুই তথ্যকে একই সময়ের পরিসংখ্যান হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। ‎ ‎বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা‎ ‎লিফলেটে ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং এক লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ‎ ‎সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বাস্তবে কতটুকু ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়েছে, তা আলাদা বিষয়। তাই লক্ষ্যমাত্রার তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণা এবং সংগ্রহের অগ্রগতির হিসাব পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ‎ ‎ওএমএস কার্যক্রম ও খাদ্যপণ্যের দাম ‎সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ হিসেবে লিফলেটে খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ‎ ‎লিফলেটে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা ৫৫ টাকায় বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ১ হাজার ১১১টি কেন্দ্রে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। লিফলেটে প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৫ টন চাল ও ১ হাজার ৪৪৩ টন আটা বিক্রির তথ্যও দেওয়া হয়েছে। ‎ ‎তবে ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ওএমএসের আওতায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন চাল ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টন আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ১ হাজার ১২৫টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে চাল, খোলা আটা ও প্যাকেটজাত আটার দামও লিফলেটে উল্লিখিত দামের সঙ্গে মিলে যায়। ‎ ‎এ ছাড়া লিফলেটে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬৭ লাখের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ এবং জরুরি খাদ্যসহায়তার অংশ হিসেবে ৮৬৩টি উপজেলা বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল বিতরণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সময়কাল ও সরকারি উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। ‎ ‎বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও সংকটের প্রসঙ্গ ‎লিফলেটের প্রথম অংশে ‘বিদ্যুৎ সংকট: আওয়ামী লীগ-ই দায়ী’ শিরোনামে বিদ্যুৎ খাতের অতীত নীতি ও ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানি ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়েনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রভাড়া ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ‎ ‎লিফলেটে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে, কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ গুণ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ বলে দাবি করা হয়েছে। ‎ ‎প্রচারপত্রে আরও বলা হয়েছে, একসময় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ছয় হাজার মেগাওয়াট; পরে তা বেড়ে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়। কিন্তু এই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যায়নি বলে লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে। ‎ ‎বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, নির্দিষ্ট সময়ে প্রকৃত উৎপাদন এবং কেন্দ্রভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ আলাদা সূচক। এসব তুলনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের মূল তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। লিফলেটে উত্থাপিত বক্তব্যগুলো তাই আয়োজকদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ‎ ‎২০২২ সাল থেকে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের দাবি‎ ‎লিফলেটে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস, তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। একই সময়ে দেশে ডলারের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বাড়ার বিষয়গুলো সংকটকে আরও জটিল করে তোলে বলে প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে। ‎ ‎এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। পরবর্তী সময়ে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি করে বলে লিফলেটের বক্তব্য। ‎ ‎প্রচারপত্রে ২০২২ সালের জুলাই মাসে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের ঘোষণা এবং বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ‎ ‎লিফলেটে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও সমালোচনা করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানির সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিদ্যুতের চাহিদাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। তাই রাজনৈতিক প্রচারপত্রে দেওয়া মূল্যায়নকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্যের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। ‎ ‎বাজার স্থিতিশীল রাখার দাবি ‎লিফলেটের ‘নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল’ অংশে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। এতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। ‎ ‎প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ পর্যবেক্ষণ, সরকারি উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের খাদ্য মূল্যস্ফীতি বা বাজারদরের পরিবর্তন মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন, পরিসংখ্যানের সময়কাল এবং পণ্যের ধরন যাচাই করা প্রয়োজন। ‎ ‎লিফলেটে দেওয়া পণ্যমূল্যের তুলনা থেকে বোঝা যায়, আয়োজকেরা আগের বছরগুলোর সঙ্গে বর্তমান সময়ের দাম মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন। কিন্তু দামের পরিবর্তন সব পণ্যে সমান নয় এবং বাজার, মান ও সময়ভেদে পার্থক্য হতে পারে। ‎ ‎ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ‎ ‎নোয়াখালীর মাইজদী পৌর বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে নোয়াখালী জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ‎ ‎আয়োজকদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, খাদ্য মজুত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২২ অক্টোবর ২০২৬
চান্দিনার অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, দুইজনকে অর্থদণ্ড

চান্দিনার অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, দুইজনকে অর্থদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসি ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় পৃথক দুটি মামলায় দুইজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পরিচালিত এ অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাঁদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন এবং কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ফেলার ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস ও ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়।পরিবেশ, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।একই সঙ্গে আইন মেনে চলার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

সাজেকে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আহত সেনা-পুলিশের অন্তত ৫ সদস্য

সাজেকে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আহত সেনা-পুলিশের অন্তত ৫ সদস্য

রাঙ্গামাটির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।পুলিশ সুপার বলেন, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় অবরোধকারীরা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন সদস্য এবং পুলিশের দুজন সদস্য আহত হন।তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে পাল্টা গুলি চালান বাহিনীর সদস্যরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে এ গুলিবিনিময় চলে।পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উজোবাজার এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটক নিরাপদে এলাকা ছেড়েছেন।ঘটনাটি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
২২ অক্টোবর ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক সংহতি বার্তায় এসব কথা বলেন নেহা বোরা। বার্তাটি সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতে বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বাংলাদেশ ও ভারতের আন্দোলনের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে উল্লেখ করে নেহা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। একইভাবে ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণেরাও ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন।ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, ভারতের তরুণেরাও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার তুলনা করে নেহা বোরা শিক্ষার গেরুয়াকরণ ও একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তচিন্তার পরিসর সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিল, সেই প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা বোরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের তরুণদের পারস্পরিক সহযোগিতা একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ভারতে তরুণদের আন্দোলনে নেহা বোরা অন্যতম আলোচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তাঁর উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ে। নাট্যকর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে তিনি নির্বাচনি সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিবেশ এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নিয়ে সরব রয়েছেন।
১৪ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

দক্ষ ও আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলার লক্ষ্য চাঁদপুরে আইবিডাব্লিউএফ এর ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দক্ষ ও আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলার লক্ষ্য চাঁদপুরে আইবিডাব্লিউএফ এর ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’-এই স্লোগান সামনে রেখে দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী সংগঠন আইবিডাব্লিউএফ এর আয়োজনে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং সৎ ও আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী উদ্যোগ বাড়াতে হবে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই; তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সবুজ খান প্রমুখ।সম্মেলনে দারসুল কুরআন পেশ করেন ইসলামিক স্কলার ও চিশতিয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি হাফিজুর রহমান আনসারি এবং ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন হিলশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন ।সম্মেলনে বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করলেন এমপি শাহজাহান

জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করলেন এমপি শাহজাহান

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত

মতামত

পানি আছে, তবু সংকট কেন

পানি আছে, তবু সংকট কেন

বাংলাদেশকে নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও ভূগর্ভস্থ পানির দেশ বলা হয়। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি যেন অতিরিক্ত, আবার শুষ্ক মৌসুমে একই দেশের মানুষকে এক কলস নিরাপদ পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। উপকূলের কোনো পরিবার লবণাক্ততার কারণে মিঠা পানির সন্ধানে দূরে যায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর ঢাকার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মে পানির চাপ কমে যায়। তাহলে প্রশ্নটি স্বাভাবিক: পানি সমৃদ্ধ দেশে পানির সংকট কেন?সমস্যাটি আসলে পানির পরিমাণের চেয়ে পানির প্রাপ্যতা, গুণমান, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের। বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রচুর হলেও সেই পানির বড় অংশ বর্ষাকালে দ্রুত নদী দিয়ে সাগরে চলে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি ধরে রাখার সক্ষমতা সীমিত। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ষার পানি সংরক্ষণের সীমিত অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।এই ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ ঢাকা। শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভ থেকে আসে এবং অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর বছরে কয়েক মিটার পর্যন্ত নেমেছে। একই সময়ে নদী ও জলাশয়গুলো দূষিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সহজে ব্যবহারযোগ্য পৃষ্ঠের পানির উৎসও সংকুচিত হয়েছে।এখানেই বাংলাদেশের পানি সংকটের একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যায়। আমরা পানি তুলছি, কিন্তু পানি ধরে রাখছি না। জলাভূমি ভরাট করছি, খাল দখল বা সংকুচিত করছি, নদীতে বর্জ্য ফেলছি; আবার বৃষ্টির পানি চলে যাওয়ার পর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করছি। অর্থাৎ পানি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত প্রাকৃতিক চক্র হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সম্পদ উত্তোলনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছি।কৃষিও এই চাপের বড় অংশ তৈরি করে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা অনেক এলাকায় বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩২ ঘনকিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। একই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার সম্মিলিত ঝুঁকিও দেখানো হয়েছে।তবে শুধু ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়াই সমস্যা নয়। পানি থাকলেও সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য বলছে, দেশের ৯৮.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত মৌলিক পানীয় পানির সুবিধা পেলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, গৃহস্থালি পর্যায়ে সংগৃহীত পানির ৮৪.৯ শতাংশে ই-কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে।উপকূলীয় অঞ্চলে সংকটটির চরিত্র আবার ভিন্ন। সেখানে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মিঠা পানির উৎসের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে দেশের এক অংশে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন যেমন সমস্যা, অন্য অংশে মিঠা পানির উৎসে লবণাক্ততা তেমনি বড় বাধা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবার খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষির নির্ভরতা ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করছে। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ জেলায় অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা নির্ধারণের প্রকল্প নিয়েছে, যা সমস্যাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নির্দেশ করে।অবশ্য উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও নগরায়ণের জন্য পানির ব্যবহার বাড়বে, সেটি স্বাভাবিক। তাই সমাধান পানি ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং কোথায় কত পানি উত্তোলন করা যাবে, কোথায় পানি সংরক্ষণ করা দরকার এবং কোন উৎস কোন কাজে ব্যবহারযোগ্য, সেই ব্যবস্থাপনা বদলানো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাভূমি ও খাল পুনরুদ্ধার, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার এবং শহরের পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ব্যবহারের তথ্য, উত্তোলনের পরিমাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে নিয়মিত ও উন্মুক্ত তথ্য প্রয়োজন।বাংলাদেশের পানি সংকট তাই পানির অভাবের সরল গল্প নয়। এটি একদিকে অতিরিক্ত পানি, অন্যদিকে অনুপস্থিত মিঠা পানি; একদিকে দূষিত নদী, অন্যদিকে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর; একদিকে বর্ষার জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমের তৃষ্ণার গল্প। পানি সমৃদ্ধ দেশ হওয়া আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা। কিন্তু সেই সুবিধা স্থায়ী সম্পদে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমরা পানিকে কতটা পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারছি তার ওপর। প্রশ্নটি তাই ‘বাংলাদেশে পানি আছে কি না’ নয়, বরং আমাদের প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় জায়গায়, নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা আছে কি না।
তানজিদ শুভ্র