বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

দীর্ঘ তিন মাস পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খুলে দেওয়া হলো চলাচলের একমাত্র রাস্তা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার ফজল বেপারী বাড়িতে দীর্ঘ তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা চলাচলের একমাত্র রাস্তা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া দিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে কয়েকটি পরিবার কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হয়। এতে পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বাড়িতে প্রবেশ ও বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের সদস্য মাসুদ হোসেন, মমিন হোসেন, আলমগীর হোসেন রাজা, সোহেল এবং হান্নানের স্ত্রী লাসমিন আক্তার দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে সুরমা বেগম বাদী হয়ে নিষেধাজ্ঞার মামলাসহ মোট সাতটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, জমির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের মাধ্যমে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।তারা আরও জানান, এসব ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং নিজেদের জমিতে বেড়া দিতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে তারা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযুক্ত পক্ষের ভাষ্য, উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলে তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বেড়া অপসারণ করেন এবং চলাচলের রাস্তা পুনরায় খুলে দেন।এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এলেও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
২ ঘন্টা আগে

বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিলেন ইউএনও

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রসায়ন বিষয়ে পাঠদান করেছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রসায়নের ‘জারণ-বিজারণ’ অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়ভীতি দূর করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ১ঘন্টা ২০ মিনিট ধরে দশম শ্রেণির দুটি ক্লাস নেন।  ক্লাসে ইউএনও মো. কায়েসুর রহমান শিক্ষার্থীদের জারণ-বিজারণ সহজে মনে রাখার কৌশল শেখাতে বোর্ডে লিখেন।  “জারণ মানে ছাড়নজারণের ফলে ঘটেজারণ সংখ্যার বাড়ন।”এর মাধ্যমে তিনি ব্যাখ্যা করেন, জারণ হলো এমন একটি বিক্রিয়া যেখানে কোনো পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং এর ফলে ওই পদার্থের জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই ছড়াটির পর তাদেরকে ছড়ার পরবর্তী লাইনগুলো কি হতে পারে জিজ্ঞেস করলে তারাই উত্তর দিল-"বিজারণ মানে গ্রহণবিজারণের ফলে ঘটেবিজারণ সংখ্যার কমন (হ্রাস)।"অতঃপর বোর্ডে কিছু বিক্রিয়া লিখে তাদের জিজ্ঞেস করলাম- কোনটি জারক, কোনটি বিজারক, কোনটি জারিত, কোনটি বিজারিত, কোন অংশে জারণ, কোন অংশে বিজারণ, একটি বিক্রিরা রেডক্স নাকি নন রেডক্স, কোনো যৌগে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা কিভাবে তারা বের করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ততক্ষণে তারা খুব মনোযোগী হয়ে একটা "টু" শব্দও করেনি কারণ রসায়নের জারণ-বিজারণ নিয়ে তাদের ভীতি ইতোমধ্যেই চলে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়।ইউএনও বলেন, তিনি নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কীভাবে কোনো অধ্যায় সহজে আত্মস্থ করা যায় সে বিষয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ উদ্যোগে শিক্ষকরা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পড়াশোনা হোক আনন্দময়, কনসেপ্ট হোক ক্লিয়ার।”বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ইউএনওর এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
৬ ঘন্টা আগে

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ আ.লীগের ১২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দলটির ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।পুলিশ জানায়, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানা এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সদর উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের ৬ জন, হাতিয়া থেকে ১ জন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে ৩ জন এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এভাবে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।এসপি এন এম নাসিরুদ্দিন আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
৬ ঘন্টা আগে
টাঙ্গাইলের ভাইরাল সেই কৃষক কবির হোসেন আর নেই

টাঙ্গাইলের ভাইরাল সেই কৃষক কবির হোসেন আর নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।কবির হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার সরলতা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কৃষকজীবনের সংগ্রামের গল্প সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার ছবি ও ভিডিও তাকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।তার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকে একজন পরিশ্রমী, সাদাসিধে ও কর্মঠ মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।কৃষক কার্ড গ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসা কবির হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন অনেকে।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে আজ রাতেই বেইজিং যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে আজ রাতেই বেইজিং যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিংয়ে চলমান রাষ্ট্রীয় সফরে যোগ দিতে আজ রাতে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন দিনের সরকারি সফরে অংশ নিতে আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এয়ার চায়নার একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভায় অংশ নেবেন তথ্যমন্ত্রী। এ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।এ ছাড়া, চীনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)’ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি’র সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন গণমাধ্যম সহযোগিতা জোরদারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করবেন জহির উদ্দিন স্বপন। চীনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এসব চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর এ গুরুত্বপূর্ণ সফরে বেইজিংয়ে বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের আরও কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অবস্থান করছেন।তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আগামী ২৬ জুন রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
৪ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এখন লিওনেল মেসির দখলে। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে গোল করে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন। পরে ইনজুরি টাইমে আরও একটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে উন্নীত করেন মেসি।এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের নবম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর এবার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে ২০১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২২-এ। এদিকে, ১৯৬২ সালে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের যে কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিল, মেসির নেতৃত্বে সেই রেকর্ড স্পর্শ করার স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে।
১৩ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৫

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৫

ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র একদিন পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, মধ্যরাতের পর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের এক ডজনেরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলার বেশিরভাগই নাবাতিয়েহ ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত হয়।বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাবাতিয়েহ শহর ও এর উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনী গোলাবর্ষণও করেছে। এনএনএর খবরে বলা হয়, আরব সালিম শহরে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দেইর জাহরানিতে নিহত হয়েছেন আরও একজন।এ ছাড়া দুয়েইর শহরের প্রবেশমুখে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হন। শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ইসরাইল ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এক উপসাগরীয় কূটনীতিকও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত বলেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চললে ইসরাইলও তা মেনে চলবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে চুক্তি হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা।ওই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষও বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার জানায়, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, লেবাননে ১৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়ে ‘ডজনখানেক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে’ হত্যা করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে একটি সর্বাত্মক ও টেকসই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত প্রয়োজন।
২০ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
০৮ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

০৮ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের ভাইরাল সেই কৃষক কবির হোসেন আর নেই

টাঙ্গাইলের ভাইরাল সেই কৃষক কবির হোসেন আর নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।কবির হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার সরলতা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কৃষকজীবনের সংগ্রামের গল্প সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার ছবি ও ভিডিও তাকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।তার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকে একজন পরিশ্রমী, সাদাসিধে ও কর্মঠ মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।কৃষক কার্ড গ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসা কবির হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন অনেকে।
০৮ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি