মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা

বইপড়া আন্দোলনের রেশ কেবল একটি দিবসে সীমাবদ্ধ নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে গেল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। ১৯৫৪ সালের এই দিনে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণ করে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও একটি জাতির মনন গঠনে গ্রন্থাগার বাতিঘরের মতো কাজ করে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে যৌক্তিক সমাজ সংস্কারে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব কতটুকু? অনলাইনের এই যুগেও কি ছাপানো বইয়ের ঘ্রাণ পাঠককে টানে? জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস এবং বইপড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনই কিছু অভিমত তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম।গ্রন্থাগার সভ্যতার বাতিঘরগ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়, সভ্যতার জীবন প্রজীবনের বাতিঘর। গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মেধার ধারক ও বাহক হিসেবে তার জীবন্ত হৃদস্পন্দন। এটি অতীতের জ্ঞান সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের জ্ঞান অনুসন্ধানের অবাধ ক্ষেত্র, যা মননশীল জাতি গঠনে ‘জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে কাজ করে। একটি জাতির মনন ও উন্নতির পরিমাপক হলো তার সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শুধু আমাদের কাছে যুগে যুগে গবেষণা, সৃজনশীলতা ও মানব চিন্তার প্রচুর আলো জড়িত না? গ্রন্থাগারই সেই আলোকে আগলে রেখেছে যত্নশীল হাতে। এখানে অতীত থেকে বর্তমানের সঙ্গে আলোচনা হয়, এবং ভবিষ্যতের দিকেও নেতিবাচক চিহ্ন দেয়। একটি জাতির জ্ঞানচর্চা, মনন, ও মূল্যবোধের মানচিত্র কতই ভালোভাবে আঁকা যায় তার গ্রন্থাগার দেখে। পাঠাভ্যাস মানুষকে মঙ্গলদায়ক করে তোলে, যুক্তি শক্তিশালী করে এবং মানবিক করে তোলে। গ্রন্থাগারই সেই সুযোগগুলো সবচেয়ে সহজে প্রদান করে। ডিজিটাল যুগেও গ্রন্থাগারের প্রয়োজন মিটেনি, বরং এর ভূমিকা আরও বিশাল হয়েছে। তথ্যের যে বিপদটি বর্তমানে দেখা দিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্যের সঠিক জ্ঞান নির্বাচনের নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে আজও গ্রন্থাগারের কার্যকরী ভূমিকা আছে। তাই এটা বলা যায়, সভ্যতার পথ চলার সময় গ্রন্থাগার সর্বদা আলোর দিশারি।মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন, শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া।প্রতিটি গ্রন্থাগার জ্ঞানের ভান্ডারযেখানে আমরা সকল জ্ঞান একসাথে পাই সেটি হলো গ্রন্থাগার। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘লাইব্রেরি’ নামে সকলের কাছে পরিচিত। একটি গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞানের ভান্ডার। যেখানে পুঞ্জীভূত থাকে নানান বিষয়। যেমন: সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, শিশুতোষ, গল্প, নাটক, কবিতা, ছড়াসহ বিভিন্ন বিষয়াদি। একটি গ্রন্থগার থেকে কোনো ব্যক্তি যা শিখতে পারে সে পুঁথিগত বই পড়ে তা শিখতে পারে না। পাঠ্যবই আমাদের পেশাগত জীবনের উন্নতি ঘটালেও জীবনের আসল উন্নত ঘটাতে পারে না। যার জন্য প্রয়োজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ভিন্ন বই পড়া। আর সেটা পাওয়া যায় একমাত্র গ্রন্থাগারে। এক স্থানে সকল জ্ঞানের সমাহার হলো গ্রন্থাগার। কিন্তু বর্তমানে দেশে গ্রন্থাগারের সংকট প্রচুর। প্রতি জেলায় খুঁজলে একটি কিংবা দুইটি গ্রন্থাগার পাওয়া যাবে। কোনো কোনো এলাকায় গ্রন্থগার নেই বললেই চলে। আর থাকলেও বইয়ের সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা। “বিশ্ব গ্রন্থগার দিবসে” প্রশাসনের কাছে বিশেষ আবেদন যে, প্রতিটি জেলায় কয়েকটি করে গ্রন্থাগার স্থাপন। কেননা শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের কাছে জ্ঞানের বিশালতা ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ মাধ্যমই হলো গ্রন্থাগার।খাদিজা আক্তার সায়মা, শিক্ষার্থী, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।জ্ঞান চর্চায় স্মার্ট গ্রন্থাগারের ভূমিকাগ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদণ্ড। শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সব জ্ঞান জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের অন্তরালে। অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার। ৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জ্ঞানচর্চার প্রাচীন অথচ চিরনবীন এক প্রতিষ্ঠান—গ্রন্থাগারের কথা। সময় বদলেছে, বদলেছে পাঠের ধরনও। আজ কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্টে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের গ্রন্থাগার। এই রূপান্তরই গড়ে তুলতে পারে ‘স্মার্ট গ্রন্থাগার’, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। স্মার্ট গ্রন্থাগার মানে শুধু আধুনিক অবকাঠামো নয়; এটি জ্ঞানপ্রাপ্তির সহজ ও দ্রুত মাধ্যম। অনলাইন ক্যাটালগ, ই-বুক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সীমাহীন জ্ঞান পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। যান্ত্রিক জীবনে মানসিক প্রশান্তির জন্য গ্রন্থাগার অপরিহার্য। স্মার্ট গ্রন্থাগার হতে পারে পাঠের সেই সহজলভ্যতা। এটি গড়তে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিন্তা, উদ্ভাবন ও প্রগতির শক্তিশালী কেন্দ্র। পরিশেষে প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, ‘লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল।’ যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।
১৫ ঘন্টা আগে

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসির

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের দিন সাধারণ ভোটার বা অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠান। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইলফোন বহনে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।তবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা-২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাটি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৬ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ তিন দাবি মানলেই ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যকার অচলাবস্থা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে পিসিবি আইসিসির কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে।জানা যায়, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আইসিসির কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে আসছিল।বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানায় পিসিবি, যা বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পিসিবি তিনটি দাবি উপস্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো- ১) বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২) টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা, ৩) ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের অধিকার দেওয়া।সূত্র আরও জানায়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার বিষয়ে পিসিবির কিছু কর্মকর্তা ইতিবাচক মত দিলেও বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আগের অবস্থানেই রয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেট মহলের।টিডিএন/
১৬ ঘন্টা আগে
চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের দখলে বিএনপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের দখলে বিএনপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রর্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির ভেতরে চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের হতাশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে গড়ে ওঠা বিএনপির অনেক ত্যাগী কর্মী আজ নিজেদের দলেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় ‘শিশু পার্কে’ আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বিএনপির অনেক ভাই এখন আমাদের কাছে এসে গোপনে কান্নাকাটি করেন। তারা বলেন,- ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও দলটা ধরে রাখলাম, আগাই নিলাম। কিন্তু এখন চাঁদাবাজরা এসে দলটা দখল করে নিয়েছে। ৫ আগস্টের পর মামলাবাজরাও দখল নিয়েছে।” তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করেও গ্রামেগঞ্জে বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তারা তখন দলটির ভেতরে ইনসাফ খুঁজে পেতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখা গেল, যাদের গত ১৭ বছরে খোঁজ পাওয়া যায়নি, তারা হঠাৎ বসন্তের কোকিলের মতো এসে দল দখল করে নিয়েছে।”বিএনপির ত্যাগী কর্মীদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “অনেকে এসে বলেন,- কার জন্য পরিশ্রম করলাম, কিসের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলাম? এখন বাজারে গেলে লজ্জায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারি না। মানুষ আমাদের চাঁদাবাজের দল বলে। অথচ আমরা কেউ চাঁদাবাজি করি না।”উঠান বৈঠকে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “তোমাদের অনেকেই ভোটার নও, তোমরা আমাকে ভোট দিতে পারবে না। কিন্তু তোমাদের বাবা-মা, চাচা-খালু ও আত্মীয়স্বজনদের বলবে- পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়তে হাসনাত ভাইকে শাপলা কলি প্রতীকে একটি ভোট দিতে। এটা বলতে পারবে তো? তাহলেই তোমরা আমাকে ভোট দিলে বলে গণ্য হবে।উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।
৩ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসির

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসির

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের দিন সাধারণ ভোটার বা অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠান। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইলফোন বহনে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।তবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা-২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাটি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৬ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সিসিলির নিসেমি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। কয়েক দিন আগে অঞ্চলটিতে সাইক্লোন হ্যারির প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে পাহাড়ি ঢালের মাটি নরম হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য বাইরে থেকে দেখলে নান্দনিক মনে হলেও বাস্তবে তা স্থানীয়দের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটি ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দিশেহারা এসব মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগেও এমন একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল, যার স্মৃতি আজও তাদের মনে তাজা।স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের প্রধান ফাবিও চিসিলিয়ানো জানান, ভূমিধস এখনো থেমে যায়নি। তিনি বলেন, “আমি নিজে মোবাইল ফোনে ভূমিধসের দৃশ্য ধারণ করেছি। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হচ্ছে।”চলমান ঝুঁকি ও সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিসিলির পাশাপাশি সার্দিনিয়া ও কালাব্রিয়া অঞ্চলেও জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইতালির মেলোনি সরকার।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা

বইপড়া আন্দোলনের রেশ কেবল একটি দিবসে সীমাবদ্ধ নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে গেল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। ১৯৫৪ সালের এই দিনে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণ করে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও একটি জাতির মনন গঠনে গ্রন্থাগার বাতিঘরের মতো কাজ করে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে যৌক্তিক সমাজ সংস্কারে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব কতটুকু? অনলাইনের এই যুগেও কি ছাপানো বইয়ের ঘ্রাণ পাঠককে টানে? জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস এবং বইপড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনই কিছু অভিমত তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম।গ্রন্থাগার সভ্যতার বাতিঘরগ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়, সভ্যতার জীবন প্রজীবনের বাতিঘর। গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মেধার ধারক ও বাহক হিসেবে তার জীবন্ত হৃদস্পন্দন। এটি অতীতের জ্ঞান সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের জ্ঞান অনুসন্ধানের অবাধ ক্ষেত্র, যা মননশীল জাতি গঠনে ‘জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে কাজ করে। একটি জাতির মনন ও উন্নতির পরিমাপক হলো তার সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শুধু আমাদের কাছে যুগে যুগে গবেষণা, সৃজনশীলতা ও মানব চিন্তার প্রচুর আলো জড়িত না? গ্রন্থাগারই সেই আলোকে আগলে রেখেছে যত্নশীল হাতে। এখানে অতীত থেকে বর্তমানের সঙ্গে আলোচনা হয়, এবং ভবিষ্যতের দিকেও নেতিবাচক চিহ্ন দেয়। একটি জাতির জ্ঞানচর্চা, মনন, ও মূল্যবোধের মানচিত্র কতই ভালোভাবে আঁকা যায় তার গ্রন্থাগার দেখে। পাঠাভ্যাস মানুষকে মঙ্গলদায়ক করে তোলে, যুক্তি শক্তিশালী করে এবং মানবিক করে তোলে। গ্রন্থাগারই সেই সুযোগগুলো সবচেয়ে সহজে প্রদান করে। ডিজিটাল যুগেও গ্রন্থাগারের প্রয়োজন মিটেনি, বরং এর ভূমিকা আরও বিশাল হয়েছে। তথ্যের যে বিপদটি বর্তমানে দেখা দিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্যের সঠিক জ্ঞান নির্বাচনের নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে আজও গ্রন্থাগারের কার্যকরী ভূমিকা আছে। তাই এটা বলা যায়, সভ্যতার পথ চলার সময় গ্রন্থাগার সর্বদা আলোর দিশারি।মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন, শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া।প্রতিটি গ্রন্থাগার জ্ঞানের ভান্ডারযেখানে আমরা সকল জ্ঞান একসাথে পাই সেটি হলো গ্রন্থাগার। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘লাইব্রেরি’ নামে সকলের কাছে পরিচিত। একটি গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞানের ভান্ডার। যেখানে পুঞ্জীভূত থাকে নানান বিষয়। যেমন: সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, শিশুতোষ, গল্প, নাটক, কবিতা, ছড়াসহ বিভিন্ন বিষয়াদি। একটি গ্রন্থগার থেকে কোনো ব্যক্তি যা শিখতে পারে সে পুঁথিগত বই পড়ে তা শিখতে পারে না। পাঠ্যবই আমাদের পেশাগত জীবনের উন্নতি ঘটালেও জীবনের আসল উন্নত ঘটাতে পারে না। যার জন্য প্রয়োজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ভিন্ন বই পড়া। আর সেটা পাওয়া যায় একমাত্র গ্রন্থাগারে। এক স্থানে সকল জ্ঞানের সমাহার হলো গ্রন্থাগার। কিন্তু বর্তমানে দেশে গ্রন্থাগারের সংকট প্রচুর। প্রতি জেলায় খুঁজলে একটি কিংবা দুইটি গ্রন্থাগার পাওয়া যাবে। কোনো কোনো এলাকায় গ্রন্থগার নেই বললেই চলে। আর থাকলেও বইয়ের সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা। “বিশ্ব গ্রন্থগার দিবসে” প্রশাসনের কাছে বিশেষ আবেদন যে, প্রতিটি জেলায় কয়েকটি করে গ্রন্থাগার স্থাপন। কেননা শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের কাছে জ্ঞানের বিশালতা ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ মাধ্যমই হলো গ্রন্থাগার।খাদিজা আক্তার সায়মা, শিক্ষার্থী, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।জ্ঞান চর্চায় স্মার্ট গ্রন্থাগারের ভূমিকাগ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদণ্ড। শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সব জ্ঞান জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের অন্তরালে। অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার। ৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জ্ঞানচর্চার প্রাচীন অথচ চিরনবীন এক প্রতিষ্ঠান—গ্রন্থাগারের কথা। সময় বদলেছে, বদলেছে পাঠের ধরনও। আজ কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্টে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের গ্রন্থাগার। এই রূপান্তরই গড়ে তুলতে পারে ‘স্মার্ট গ্রন্থাগার’, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। স্মার্ট গ্রন্থাগার মানে শুধু আধুনিক অবকাঠামো নয়; এটি জ্ঞানপ্রাপ্তির সহজ ও দ্রুত মাধ্যম। অনলাইন ক্যাটালগ, ই-বুক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সীমাহীন জ্ঞান পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। যান্ত্রিক জীবনে মানসিক প্রশান্তির জন্য গ্রন্থাগার অপরিহার্য। স্মার্ট গ্রন্থাগার হতে পারে পাঠের সেই সহজলভ্যতা। এটি গড়তে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিন্তা, উদ্ভাবন ও প্রগতির শক্তিশালী কেন্দ্র। পরিশেষে প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, ‘লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল।’ যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।
১৫ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের দখলে বিএনপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের দখলে বিএনপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রর্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির ভেতরে চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের হতাশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে গড়ে ওঠা বিএনপির অনেক ত্যাগী কর্মী আজ নিজেদের দলেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় ‘শিশু পার্কে’ আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বিএনপির অনেক ভাই এখন আমাদের কাছে এসে গোপনে কান্নাকাটি করেন। তারা বলেন,- ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও দলটা ধরে রাখলাম, আগাই নিলাম। কিন্তু এখন চাঁদাবাজরা এসে দলটা দখল করে নিয়েছে। ৫ আগস্টের পর মামলাবাজরাও দখল নিয়েছে।” তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করেও গ্রামেগঞ্জে বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তারা তখন দলটির ভেতরে ইনসাফ খুঁজে পেতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখা গেল, যাদের গত ১৭ বছরে খোঁজ পাওয়া যায়নি, তারা হঠাৎ বসন্তের কোকিলের মতো এসে দল দখল করে নিয়েছে।”বিএনপির ত্যাগী কর্মীদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “অনেকে এসে বলেন,- কার জন্য পরিশ্রম করলাম, কিসের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলাম? এখন বাজারে গেলে লজ্জায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারি না। মানুষ আমাদের চাঁদাবাজের দল বলে। অথচ আমরা কেউ চাঁদাবাজি করি না।”উঠান বৈঠকে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “তোমাদের অনেকেই ভোটার নও, তোমরা আমাকে ভোট দিতে পারবে না। কিন্তু তোমাদের বাবা-মা, চাচা-খালু ও আত্মীয়স্বজনদের বলবে- পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়তে হাসনাত ভাইকে শাপলা কলি প্রতীকে একটি ভোট দিতে। এটা বলতে পারবে তো? তাহলেই তোমরা আমাকে ভোট দিলে বলে গণ্য হবে।উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে নাহিদের পক্ষে ভোট চাওয়া নারীকে নিয়ে বিভ্রান্তি

ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে নাহিদের পক্ষে ভোট চাওয়া নারীকে নিয়ে বিভ্রান্তি

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ তিন দাবি মানলেই ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান

বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ তিন দাবি মানলেই ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যকার অচলাবস্থা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে পিসিবি আইসিসির কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে।জানা যায়, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আইসিসির কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে আসছিল।বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানায় পিসিবি, যা বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পিসিবি তিনটি দাবি উপস্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো- ১) বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২) টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা, ৩) ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের অধিকার দেওয়া।সূত্র আরও জানায়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার বিষয়ে পিসিবির কিছু কর্মকর্তা ইতিবাচক মত দিলেও বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আগের অবস্থানেই রয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেট মহলের।টিডিএন/
১৬ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের দখলে বিএনপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের দখলে বিএনপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রর্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির ভেতরে চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের হতাশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে গড়ে ওঠা বিএনপির অনেক ত্যাগী কর্মী আজ নিজেদের দলেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় ‘শিশু পার্কে’ আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বিএনপির অনেক ভাই এখন আমাদের কাছে এসে গোপনে কান্নাকাটি করেন। তারা বলেন,- ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও দলটা ধরে রাখলাম, আগাই নিলাম। কিন্তু এখন চাঁদাবাজরা এসে দলটা দখল করে নিয়েছে। ৫ আগস্টের পর মামলাবাজরাও দখল নিয়েছে।” তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করেও গ্রামেগঞ্জে বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তারা তখন দলটির ভেতরে ইনসাফ খুঁজে পেতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখা গেল, যাদের গত ১৭ বছরে খোঁজ পাওয়া যায়নি, তারা হঠাৎ বসন্তের কোকিলের মতো এসে দল দখল করে নিয়েছে।”বিএনপির ত্যাগী কর্মীদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “অনেকে এসে বলেন,- কার জন্য পরিশ্রম করলাম, কিসের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলাম? এখন বাজারে গেলে লজ্জায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারি না। মানুষ আমাদের চাঁদাবাজের দল বলে। অথচ আমরা কেউ চাঁদাবাজি করি না।”উঠান বৈঠকে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “তোমাদের অনেকেই ভোটার নও, তোমরা আমাকে ভোট দিতে পারবে না। কিন্তু তোমাদের বাবা-মা, চাচা-খালু ও আত্মীয়স্বজনদের বলবে- পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়তে হাসনাত ভাইকে শাপলা কলি প্রতীকে একটি ভোট দিতে। এটা বলতে পারবে তো? তাহলেই তোমরা আমাকে ভোট দিলে বলে গণ্য হবে।উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ