শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় জয় দাস

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট’-এ ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ জয় দাস। আগামীকাল ৩০ মে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননাটি প্রদান করা হবে।জয় দাস ‘লার্ন উইথ জয়’ (Learn with JOY) উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইংরেজি ভাষা শেখানো, আইইএলটিএস প্রস্তুতি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছেন। বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ উপায়ে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, নেতৃত্ব এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছার স্বীকৃতি হিসেবেই জয় দাসকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তারা এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈশ্বিক শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করবেন জয়। এবারের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগির সাক্ষী মালিক।এই অর্জন নিয়ে জয় দাস বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, এই সম্মাননা শুধু তার একার নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এবং তার সকল শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত অর্জন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা তার জন্য অনেক গর্বের বিষয়।আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন তরুণ বাংলাদেশির এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক উদ্যোগে আরও বেশি উৎসাহ জোগাবে।
৮ ঘন্টা আগে

ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য চবি প্রশাসনের বিশেষ ঈদ আয়োজন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঈদ আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঈদের দিন শিক্ষার্থীদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিভিন্ন আবাসিক হলে উন্নত ভোজের ব্যবস্থা করা হয়।বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। পরে তিনি বিভিন্ন হলে আয়োজিত উন্নত ভোজের খাবার পরিবেশন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।ঈদের নামাজের আগে বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, কোরবানির শিক্ষা গ্রহণ করে ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ মানসিকতা পোষণ করতে হবে। তিনি বলেন, হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের শিক্ষা মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।তিনি আরও বলেন, “পবিত্র ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে আমরা যেন মানবিক মূল্যবোধ আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে পারি।” এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান।এসময় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। তিনি বলেন, কোরবানি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে এবং মানুষের পুরো জীবন আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত।ঈদের জামাতে আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, চবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মুসল্লিরা।ঈদের নামাজ শেষে উপাচার্য সবার সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে আবাসিক হলগুলোতে আয়োজিত উন্নত ভোজে অংশ নেন ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীরা।
২৮ মে ২০২৬

হাতে গ্রীস লেগে থাকা সেই ছেলেটিই আজ ডিজিটাল উদ্যোক্তা

একসময় দিনের বেশিরভাগ সময় কাটতো মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন খুলে, গ্যারেজের ধুলোবালির মধ্যে কাজ করে। হাতে লেগে থাকতো গ্রীস আর তেলের দাগ। কিন্তু সেই সাধারণ জীবন থেকেই এক অসাধারণ গল্পের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা Rakib Hasan। আজ তিনি ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং বিজনেস গ্রোথ ম্যানেজমেন্টে কাজ করে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। শুধু নিজের জীবন বদলাননি, বরং অন্যদের জন্যও তৈরি করছেন নতুন সম্ভাবনার পথ।২০২০ সালের দিকে শুরু হয় তার ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা। তখনও তিনি মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ইউটিউব ভিডিও দেখা, অনলাইন রিসোর্স ঘেঁটে শেখার চেষ্টা— এভাবেই ধীরে ধীরে ডিজিটাল দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। কোনো বড় কোচিং, দামী কোর্স কিংবা বিশেষ গাইডলাইন ছিল না। ছিল শুধু শেখার ইচ্ছা, নিজেকে বদলে ফেলার স্বপ্ন এবং হার না মানা মানসিকতা।শুরুর পথটা সহজ ছিল না। নতুন বিষয় বুঝতে সময় লেগেছে, ভুল হয়েছে অসংখ্যবার। কখনো হতাশা এসেছে, কখনো নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু Rakib Hasan থেমে যাননি। প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। বাস্তব কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছেন এবং ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছেন।তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি। তখন অনেকেই অনলাইনভিত্তিক কাজকে গুরুত্ব দিতেন না। আশপাশের মানুষদের কাছ থেকে নানা ধরনের নেতিবাচক কথাও শুনতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন নিজের পরিশ্রমে। তিনি জানতেন, ধৈর্য আর ধারাবাহিকতা একদিন না একদিন সফলতা এনে দেবে।সেই বিশ্বাসের প্রথম বড় প্রমাণ আসে যখন তিনি প্রথম অনলাইন ইনকাম করেন ৪৬৫ ডলার। অনেকের কাছে এটি হয়তো ছোট একটি অঙ্ক ছিল, কিন্তু তার কাছে এটি ছিল জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক মুহূর্ত। এই অর্জন তাকে বুঝিয়ে দেয়— সঠিক পথে পরিশ্রম করলে স্বপ্ন সত্যি করা সম্ভব।এরপর ধীরে ধীরে তিনি কাজ করার সুযোগ পান USA, UK, Canada এবং Australia-এর বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি শুধু আয়ই করেননি, বরং গ্লোবাল মার্কেট সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। যোগাযোগ দক্ষতা, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনায়ও এসেছে নতুন পরিপক্বতা।বর্তমানে Rakib Hasan প্রতি মাসে আনুমানিক ১ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন। তার আয়ের মূল উৎস Digital Marketing Services, Video Marketing এবং Business Growth Projects। শুরুতে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করলেও এখন তিনি নিজের এজেন্সির মাধ্যমে সরাসরি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছেন।বর্তমানে তিনি পরিচালনা করছেন দুটি প্রতিষ্ঠান—SBF Outsourcing Institute ও SBF Marketing Agency Ltdএই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি একদিকে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সার্ভিস দিচ্ছেন, অন্যদিকে তরুণদের ডিজিটাল স্কিল শেখানোর কাজও করছেন। তার সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি হলো প্রায় ১২০০ জন মানুষকে ডিজিটাল স্কিল ট্রেনিং দেওয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের সফলতার পাশাপাশি অন্যদের সফল হতে সাহায্য করাও একজন উদ্যোক্তার বড় দায়িত্ব।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে Rakib Hasan জানান, তিনি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বড় পরিসরে একটি ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চান। তার স্বপ্ন এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং ও সার্ভিস ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যেখানে তরুণরা দক্ষতা শিখে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।নতুনদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ খুবই সহজ কিন্তু বাস্তবসম্মত—“দ্রুত সফলতার পেছনে না ছুটে আগে নিজের স্কিল তৈরি করুন। ধৈর্য, প্র্যাকটিস এবং ধারাবাহিক শেখাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। সময় ও পরিশ্রম দিলে এই সেক্টরে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।”
২৮ মে ২০২৬
মু’তার যুদ্ধ: ইসলামের ইতিহাসে সাহস, ত্যাগ ও আদর্শের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

মু’তার যুদ্ধ: ইসলামের ইতিহাসে সাহস, ত্যাগ ও আদর্শের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

রাসূলুল্লাহ ﷺ ৮ হিজরিতে প্রায় ৩০০০ সাহাবির একটি বাহিনী প্রেরণ করেন মু’তা অঞ্চলে (বর্তমান জর্ডান এলাকায়)। কারণ, মুসলিম দূতকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যা ছিল চুক্তি ভঙ্গের গুরুতর অপরাধ। এই বাহিনীর নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে তিনজন সাহাবির হাতে ছিল:- প্রথমে যায়েদ ইবনে হারিসাএরপর জাফর ইবনে আবু তালিবএবং পরে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহারাসূল ﷺ নির্দেশ দিয়েছিলেন,যদি একজন শহীদ হন, তবে পরবর্তীজন নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন। মুসলিম বাহিনী সেখানে পৌঁছে দেখে বিপরীতে রোমান ও তাদের মিত্রদের বিশাল সেনাবাহিনী। সংখ্যায় মুসলমানরা খুবই কম ছিল, কিন্তু তাদের ঈমান ছিল পাহাড়ের মতো দৃঢ়।প্রথমে যায়েদ ইবনে হারিসা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তিনি ঘোড়া থেকে নেমে যুদ্ধ শুরু করেন, যেন কেউ মনে না করে তিনি পালাচ্ছেন। তিনি ইসলামের পতাকা শক্ত করে হাতে ধরেন। শত্রুর আঘাতে তাঁর ডান হাত কেটে যায়। তিনি সাথে সাথে বাম হাতে পতাকা তুলে নেন। এরপর বাম হাতও কেটে ফেলা হয়।তবুও তিনি পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি। তিনি নিজের বুক ও শরীর দিয়ে পতাকাকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। অবশেষে তিনি অসংখ্য আঘাতে শহীদ হন।মদিনায় বসেই রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের খবর পান। তিনি সাহাবিদের জানান, যায়েদ শহীদ হয়েছেন, তারপর জাফর শহীদ হয়েছেন, এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা শহীদ হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে দুই ডানা দিয়েছেন এবং তিনি সেখানে উড়ছেন। এজন্য তাঁকে “জাফর আত-তাইয়ার” (ডানাওয়ালা জাফর) বলা হয়।মু’তার যুদ্ধের গল্প শুধু ইতিহাস নয়, এটা জীবনের জন্য এক নীরব অনুপ্রেরণা। হজরত জাফর ইবনে আবু তালিব আমাদের শেখান:- একজন মানুষ কতটা দৃঢ় হতে পারে, যখন সে তার বিশ্বাসকে ভালোবাসে। দুটি হাত হারানোর পরও তিনি পতাকা ছাড়েননি। কারণ তার কাছে পতাকা শুধু কাপড় ছিল না, এটা ছিল সত্য, দায়িত্ব আর আদর্শের প্রতীক।>দায়িত্ব যাই হোক, মাঝপথে ছেড়ে দিও না>চাপ এলে ভেঙে পড়ো না, শক্ত থাকো>সত্য ও নীতির সাথে আপস করো না>লক্ষ্য বড় হলে কষ্ট ছোট মনে হয় জীবনে অনেক সময় আমরা ছোট সমস্যায় থেমে যাই। আজকের জীবনে ছোট ছোট বাধায় আমরা অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু মু’তার যুদ্ধের এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে মানুষ নিজের বিশ্বাস ও আদর্শ আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে, সে কখনো প্রকৃত অর্থে পরাজিত হয় না।
৪ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনকল্যাণমুখী সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে নয়াদিল্লির অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন।ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বার্তায় মোদি বাংলাদেশের ‘ভাতৃপ্রতিম জনগণকে’ ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান।বার্তায় মোদি লিখেছেন, এই পবিত্র উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের কোটি কোটি মুসলিম অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করছেন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদুল আজহার ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শাশ্বত আদর্শকে সমুন্নত রাখে, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।ভারতের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, যৌথ আত্মত্যাগ, সাংস্কৃতিক মিল এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পারস্পরিক আকাক্সক্ষার ওপর ভিত্তি করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনমুখী পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।মোদি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্বিপাক্ষিক অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্য ও ভাবনা দুই দেশের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও  কল্যাণ কামনা করেন এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
২৮ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনাবাহিনী মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া শুরু হলো।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, (১৯ মে, ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬) পর্যন্ত রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার বিষয়ক একটি মহড়া পরিচালনা করছে।’রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত আছে, তা পরীক্ষা করা।
১৯ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় জয় দাস

ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় জয় দাস

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট’-এ ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ জয় দাস। আগামীকাল ৩০ মে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননাটি প্রদান করা হবে।জয় দাস ‘লার্ন উইথ জয়’ (Learn with JOY) উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইংরেজি ভাষা শেখানো, আইইএলটিএস প্রস্তুতি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছেন। বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ উপায়ে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, নেতৃত্ব এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছার স্বীকৃতি হিসেবেই জয় দাসকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তারা এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈশ্বিক শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করবেন জয়। এবারের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগির সাক্ষী মালিক।এই অর্জন নিয়ে জয় দাস বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, এই সম্মাননা শুধু তার একার নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এবং তার সকল শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত অর্জন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা তার জন্য অনেক গর্বের বিষয়।আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন তরুণ বাংলাদেশির এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক উদ্যোগে আরও বেশি উৎসাহ জোগাবে।
৮ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৮ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৮ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত রূপান্তর এবং একে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে তিনি আকস্মিকভাবে এই হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের খাবারের মান যাচাই করতে রন্ধনশালার খাবার নিজেই পরীক্ষা করে দেখেন।দীর্ঘদিন ধরেই ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া হাসপাতালের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবে নবস্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্টটি পুরোপুরি চালু না হওয়া নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ ছিল। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টের সমস্যার বিষয়ে তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকেই পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপন এবং একই সাথে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া হাসপাতালের সামনের সড়কের বেহাল দশা নিরসনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।মন্ত্রীর এমন আকস্মিক পরিদর্শন ও যুগান্তকারী ঘোষণায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা এখন দ্রুত এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চান। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আশরাফুল হক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
১৮ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র