বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
The Dhaka News Bangla

মাদক কারবারির জার্সি পরিবর্তন করে ব্রাজিলের রঙে প্রকাশ করায় এসআই শোকজ

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ।পরে মিডিয়া উইং থেকে সেই ছবিতে এআই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে আর্জেন্টিনার জার্সির রং পরিবর্তন করে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এই ভুয়ো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং সাধারণ নেটিজেনদের কঠোর সমালোচনার সৃষ্টি হয়।এসআই তানজিল আহমেদ বিষয়টিকে ‘দুষ্টুমির ছলে’ সম্পাদিত বলে দাবি করেছেন এবং দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের অপেশাদার আচরণের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
১০ ঘন্টা আগে

২০২৪ সালের আজকের এই দিনে শুরু হয়েছিল 'জুলাই আন্দোলন'

আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনের দ্বিতীয় বার্ষিকী। ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল একটি আন্দোলন, যা পরবর্তীতে ‘জুলাই আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সূচনা হওয়া এই আন্দোলন ক্রমে ছাত্র-জনতার বৃহৎ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।শুরুর দিকে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার। তবে আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং সহিংসতার ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে, যা আন্দোলনের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের দাবি কোটা সংস্কারের গণ্ডি অতিক্রম করে বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হলে এটি সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে পরিণত হয়। ধারাবাহিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের এক পর্যায়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। অনেকের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আজ দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে জুলাই আন্দোলনের সূচনাকে। একই সঙ্গে আন্দোলনে নিহতদের প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা এবং স্মরণ করা হচ্ছে তাঁদের, যাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে।বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ১ জুলাই আজও অনেকের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
১১ ঘন্টা আগে

বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে, ১৫ অঞ্চলে ঝড়-বজ্রপাতের আভাস

আষাঢ়ের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছিল। কোথাও কোথাও বয়ে গেছে তাপপ্রবাহও। তবে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে, যা আগামী কয়েক দিন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আজ (বুধবার) দেশের ১৫টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ দুপুরের মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।এরই মধ্যে বুধবার মধ্যরাত থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। সকালেও রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন।আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকাল ৭টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ বেলা ১টার মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বজ্রপাতও হতে পারে। দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এর প্রভাবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে।
১৪ ঘন্টা আগে
হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ ঢালাই

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ ঢালাই

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় রাস্তার সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর আর বিটুমিন ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। যা সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলল উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়ক সংস্কার কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী ও পরিমাণে কম বিটুমিন ব্যবহারের ফলেই রাস্তার এমন বেহাল দশা হয়েছে।স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় জানান, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় এবং ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পান চাষী নামে এক ঠিকাদার ।স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল না মেনে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেনকে ম্যানেজ করে কয়েক দিন ধরে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ করেন ঠিকাদারের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তারা সড়কের ৯৮ ভাগ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন হাত দিয়ে টানলে উঠে আসে রাস্তার কার্পেটিং। স্থানীয় ননা মিয়ার দোকানের সামনের রাস্তার এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেলে ঠিকাদারের লোক সড়কে গিয়ে গালমন্দ করে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নোয়াখালী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যেগসাজশে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এমন অবস্থা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন খোদ নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন। নিন্মমানের কাজ শেষে বিল পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সহযোগিতা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী। বরং তিনি ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কাজের সিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করবেন না বলে জানান।মো. সাজু নামে এক যুবক বলেন, এই সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নির্ধারিত পুরুত্বও বজায় রাখা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরকার এত টাকা খরচ করে রাস্তা করেছে, কিন্তু এলজিইডি ও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে সব টাকা জলে গেল। যেখানে হাত দিয়ে রাস্তার কার্পেট তোলা যাচ্ছে, সেখানে ভারী যানবাহন কীভাবে চলবে। এলজিইডি-ঠিকাদারের জন্য সরকারের বদনাম।অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো.চাষীর মুফোঠোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে যান। যে অভিযোগ উঠেছে এটা কোন অভিযোগের আওতায় পড়েনা। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য আইনে আবেদন করুন। তখন আমি তথ্য দেব।  তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
৯ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

মাদক কারবারির জার্সি পরিবর্তন করে ব্রাজিলের রঙে প্রকাশ করায় এসআই শোকজ

মাদক কারবারির জার্সি পরিবর্তন করে ব্রাজিলের রঙে প্রকাশ করায় এসআই শোকজ

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ।পরে মিডিয়া উইং থেকে সেই ছবিতে এআই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে আর্জেন্টিনার জার্সির রং পরিবর্তন করে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এই ভুয়ো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং সাধারণ নেটিজেনদের কঠোর সমালোচনার সৃষ্টি হয়।এসআই তানজিল আহমেদ বিষয়টিকে ‘দুষ্টুমির ছলে’ সম্পাদিত বলে দাবি করেছেন এবং দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের অপেশাদার আচরণের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
১০ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট, জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট, জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা আরেকটি দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফল আসে ১৯তম মিনিটে, যখন জিওভানি লো সেলসোর গোলে এগিয়ে যায় দলটি। এরপর ৩১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে।দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জর্ডান। ৫৫তম মিনিটে মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। তবে সেই আশা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে লিওনেল মেসি নিজের স্বভাবসুলভ দক্ষতায় গোল করে দলের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।পরিসংখ্যানেও ছিল আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্য। পুরো ম্যাচে তারা ১৩টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বিপরীতে জর্ডান ৫টি শট নিলেও মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। বল দখলেও ছিল বড় ব্যবধান। আর্জেন্টিনা ৭০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, যেখানে জর্ডানের দখলে ছিল ৩০ শতাংশ।পাসিংয়েও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। তারা ৭৮০টি পাস সম্পন্ন করে ৯৩ শতাংশ সফলতার হার ধরে রাখে। এছাড়া কর্নার আদায়েও ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে জর্ডানের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সমীকরণ।
২৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
৩০ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ ঢালাই

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ ঢালাই

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় রাস্তার সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর আর বিটুমিন ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। যা সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলল উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়ক সংস্কার কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী ও পরিমাণে কম বিটুমিন ব্যবহারের ফলেই রাস্তার এমন বেহাল দশা হয়েছে।স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় জানান, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় এবং ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পান চাষী নামে এক ঠিকাদার ।স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল না মেনে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেনকে ম্যানেজ করে কয়েক দিন ধরে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ করেন ঠিকাদারের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তারা সড়কের ৯৮ ভাগ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন হাত দিয়ে টানলে উঠে আসে রাস্তার কার্পেটিং। স্থানীয় ননা মিয়ার দোকানের সামনের রাস্তার এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেলে ঠিকাদারের লোক সড়কে গিয়ে গালমন্দ করে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নোয়াখালী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যেগসাজশে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এমন অবস্থা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন খোদ নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন। নিন্মমানের কাজ শেষে বিল পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সহযোগিতা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী। বরং তিনি ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কাজের সিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করবেন না বলে জানান।মো. সাজু নামে এক যুবক বলেন, এই সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নির্ধারিত পুরুত্বও বজায় রাখা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরকার এত টাকা খরচ করে রাস্তা করেছে, কিন্তু এলজিইডি ও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে সব টাকা জলে গেল। যেখানে হাত দিয়ে রাস্তার কার্পেট তোলা যাচ্ছে, সেখানে ভারী যানবাহন কীভাবে চলবে। এলজিইডি-ঠিকাদারের জন্য সরকারের বদনাম।অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো.চাষীর মুফোঠোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে যান। যে অভিযোগ উঠেছে এটা কোন অভিযোগের আওতায় পড়েনা। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য আইনে আবেদন করুন। তখন আমি তথ্য দেব।  তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
২৪ জুন ২০২৬
নোয়াখালী বিভাগ: দাবির পেছনে কী কী যৌক্তিকতা রয়েছে?

নোয়াখালী বিভাগ: দাবির পেছনে কী কী যৌক্তিকতা রয়েছে?

২৪ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি রিতু, জুয়াইরিয়া ও মারুফাদের

র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি রিতু, জুয়াইরিয়া ও মারুফাদের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রকাশিত নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বশেষ সাপ্তাহিক র‍্যাংকিংয়ে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের।মঙ্গলবার প্রকাশিত এই হালনাগাদ র‍্যাংকিংয়ে ব্যাটারদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। তিনি সাত ধাপ এগিয়ে ৯৬তম স্থানে উঠে এসেছেন। এর আগের সপ্তাহেও ৩৬ ধাপ উন্নতি হয়েছিল তার।এ ছাড়া শারমিন আক্তার ছয় ধাপ এগিয়ে ৪৪তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। আরেক ওপেনার সোবহানা মোস্তারি চার ধাপ এগিয়ে এখন রয়েছেন ৪০তম স্থানে।বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এখনও সবার ওপরে অবস্থান করছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এক ধাপ এগিয়ে তিনি যৌথভাবে ১৯তম স্থানে রয়েছেন। ব্যাটারদের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার জর্জিয়া ভল।বোলারদের র‍্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের দুই পেসারের। রিতু মনি ১১ ধাপ এগিয়ে ৪০৮ রেটিং নিয়ে উঠে এসেছেন ৭৫তম স্থানে। অন্যদিকে মারুফা আক্তার ছয় ধাপ এগিয়ে ৫৩৬ রেটিং নিয়ে অবস্থান করছেন ৩৮তম স্থানে।বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। এক ধাপ এগিয়ে তিনি এখন যৌথভাবে ১৭তম স্থানে আছেন। আর টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শ্রী চারানি।এদিকে, নারী টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকার এক নম্বরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস।
১৪ ঘন্টা আগে
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২৪ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ