শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

লগআউট জীবনে আপডেটেড থাকার উপায়

হঠাৎ করেই যেন থমকে গিয়েছিল ডিজিটাল দুনিয়া! প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য ফেসবুকের সার্ভার ডাউন থাকায় অনেকেই নিজেদের ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ আউট হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যায় উৎকণ্ঠা আর হতাশা মিশ্রিত প্রতিক্রিয়া। বারবার পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকার চেষ্টা, আর 'কী হলো' ভেবে অস্থির হওয়াটা বুঝিয়ে দেয় আমরা কতটা এই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ফেসবুক ছাড়া কি সত্যিই আমাদের জীবন অচল? একদমই নয়!বরং এই অপ্রত্যাশিত বিরতিটাকে একটা দারুণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যায়। চলুন দেখে নিই ফেসবুকের বাইরে কীভাবে নিজেকে আপডেট রাখা যায় আর দারুণভাবে সময় কাটানো যায়।খবরের জন্য সরাসরি নিউজ পোর্টালে ঢুঁ মারাআমরা আজকাল খবরের জন্য পুরোপুরি ফেসবুকের নিউজফিডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। কিন্তু দেশ ও বিদেশের সঠিক খবরটি পেতে সরাসরি বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টালগুলোতে ভিজিট করার অভ্যাসটা ফিরিয়ে আনা খুব জরুরি। এতে ভুয়া খবরের বিভ্রান্তি থেকে যেমন বাঁচা যায়, তেমনি অনেক দ্রুত সব খবরের আপডেটও পাওয়া যায়।বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাওয়াস্ক্রলিংয়ের বদলে এই সময়টা বই পড়ার জন্য দারুণ কাজে লাগতে পারে। বুকশেলফ থেকে একটা রোমান্টিক থ্রিলার, প্রিয় কোনো কবিতার বই কিংবা এমনকি ছোটদের মজার কোনো গল্পের বই হাতে তুলে নেওয়া যায়। বইয়ের জগতে একবার ঢুকে গেলে সময় যে কীভাবে কেটে যাবে, তা টেরও পাওয়া যাবে না।প্রকৃতির সাথে কিছুটা সময় কাটানোস্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে একটু প্রকৃতির দিকে তাকানোর একটা চমৎকার সুযোগ হতে পারে এই সময়টা। বারান্দা বা ছাদের গাছগুলোর একটু যত্ন নেওয়া, গাছের পাতাগুলো একটু খুঁটিয়ে দেখা বা নতুন একটা চারা গাছ লাগানোর কাজে সময় দেওয়া যায়। উদ্ভিদের সাথে কাটানো এই সামান্য সময়টুকুও দারুণ মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। অথবা রাতের আকাশে চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকায় মানা কোথায়!নতুন প্রযুক্তি বা স্কিল শেখাঅলস সময়টাতে নিজেকে একটু ঝালিয়ে নেওয়া যায়। নতুন কোনো এআই টুলস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা, এআই দিয়ে প্রেজেন্টেশন তৈরির কৌশল শেখা অথবা নিজের প্রফেশনাল স্কিল বাড়ানোর জন্য নতুন কিছু জানার চেষ্টা করা যেতে পারে। এতে সময়টাও কাজে লাগে, আবার নিজেরও উন্নতি হয়।আশেপাশের মানুষদের সময় দেওয়াভার্চুয়াল জগতের বাইরেও আমাদের একটা সুন্দর জগৎ আছে। পরিবারের মানুষদের সাথে বসে চা খাওয়া, গল্প করা বা অনেকদিন কথা হয় না এমন কোনো বন্ধুকে সরাসরি ফোন করে আড্ডা দেওয়া যায়।ফেসবুক আমাদের জীবনের একটা অংশ মাত্র, পুরো জীবন নয়। মাঝে মাঝে এমন ছোট্ট একটা ব্রেক আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্ক্রিনের বাইরের দুনিয়াটাও কিন্তু বেশ দারুণ! শুধুমাত্র সার্ভার ডাউনে নয় বরং রুটিন থেকে স্ক্রলিং টাইম কমিয়ে এই কাজগুলোর নিয়মিত চর্চা আপনার সুন্দর সময় হতে পারে। 
১ ঘন্টা আগে

হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহে নেই আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব

হযরত শাহজালাল (র.)–এর দরগাহে প্রতিদিনের আয় ও ব্যয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না বলে জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেছেন, দরগাহে প্রাপ্ত নগদ অর্থ ও নজরানার হিসাব রাখার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এসব অর্থ কোথায় ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি।আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগাহ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডেপুটি কমিশনার এসব কথা বলেন।মো. সারওয়ার আলম বলেন, সরকার প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে দরগাহ এলাকায় একটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে এবং বাকি ৫ কোটি টাকা দরগাহ কর্তৃপক্ষের দেওয়ার কথা। ইতিমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন ৩ কোটি টাকা দিয়েছে। তবে অবশিষ্ট ২ কোটি টাকা দরগাহ কর্তৃপক্ষ দিতে পারছে না।তিনি বলেন, এ কারণে পরিকল্পনা কমিশন দরগাহের আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, দরগাহে প্রতিদিনের আয় ও ব্যয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না। নগদ অর্থ ও নজরানার হিসাবও লিপিবদ্ধ করা হয় না। কিছু ব্যক্তি অর্থ সংগ্রহ করেন এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ব্যয় করেন।ডেপুটি কমিশনার বলেন, ‘এটি একটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি এবং জনসম্পদ। তাই এখানে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব থাকা প্রয়োজন। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, এখন থেকে সব ধরনের আয় ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।’দরগাহ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মো. সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (র.)–এর দরগাহ শুধু সিলেট বা বাংলাদেশের জন্য নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ঐতিহ্য। এখানে দরগাহ, মসজিদ ও মাদ্রাসা এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত করে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মাদ্রাসাটি উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক। মসজিদটি নান্দনিক ও সুবিধাসম্পন্ন হোক, যাতে আগত মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমানে এখানে কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’ডেপুটি কমিশনার আরও বলেন, দরগাহ এলাকায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে বহুতল ভবন নির্মাণ, পার্কিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পুরো এলাকাকে একটি পরিকল্পিত ও আকর্ষণীয় ধর্মীয় কমপ্লেক্সে রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে।তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠুক, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এসে একটি সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক ব্যবস্থাপনা দেখতে পাবেন। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল (র.)–এর ইসলাম প্রচারের আদর্শ ও শিক্ষাকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হবে।’এ বিষয়ে আগামী ১৬ জুন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান ডেপুটি কমিশনার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দরগাহ এলাকাকে একটি আদর্শ ইসলামিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরের মাধ্যমে এটি সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
৬ ঘন্টা আগে

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলেন সেনেসি

ইনজুরি আক্রান্ত লিওনার্দো বেলার্দির স্থানে টটেনহ্যামে সদ্য চুক্তিভূক্ত মার্কোস সেনেসিকে বিশ্বকাপ দলে ডেকেছে আর্জেন্টিনা। চলতি মাসে পায়ের ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান বেলার্দি। আর তাতেই ভাগ্য খুলে যায় ২৯ বছর বয়সী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার সেনেসির। প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন সেনেসি। আগামী মৌসুমে প্রথমবারের মত ইউরোপীয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জণ করেছে বোর্নমাউথ। আর এই যাত্রায় বেলার্দির অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তারপরও সেনেসি ক্লাবের সাথে নতুন চুক্তিতে সম্মত হয়নি। তার পরিবর্তে টটেনহ্যামের সাথে নতুন চুক্তিতে সাক্ষর করেছেন। আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে আর্জেন্টিনা।/টিডিএন
১৩ ঘন্টা আগে
'ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে হয়েছে

'ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে হয়েছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট 'ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেটপরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এ কথা বলেন। ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে তারা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেকাংশে ‘ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে পরিণত হয়েছে। যদিও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবুও সামগ্রিক বিশ্লেষণে বাজেটটি বাস্তবসম্মত নয়। আতিক মুজাহিদ বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বড়। কিন্তু বর্তমান ভঙ্গুর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির বাস্তবতায় এত বড় বাজেট ‘কাল্পনিক’ ও ‘অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী’। বাজেটটি সংখ্যাভিত্তিক বাস্তব পরিকল্পনার চেয়ে ইশতেহারনির্ভর প্রতিশ্রুতির ওপর বেশি দাঁড়িয়ে আছে।রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে ড. আতিক বলেন, সরকার এনবিআরের জন্য উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা অর্জনের বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা দেয়নি। এনবিআর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সরকার ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায় সম্ভব হবে না। ফলে শুরু থেকেই আড়াই লাখ কোটি টাকার মতো ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।আতিক মুজাহিদ বলেন, বাজেটে বিপুল ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও সেই ব্যয় নির্বাহের নির্ভরযোগ্য অর্থের উৎস স্পষ্ট নয়। এ কারণে পরবর্তীতে বাজেট সংকোচন বা ব্যয় কমানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা জনগণের প্রত্যাশাকে হতাশ করবে।ব্যাংক ঋণনির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আতিক মুজাহিদ বলেন, দেশের বৈদেশিক ঋণ ইতোমধ্যে ১০ লাখ কোটি টাকার বেশি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের পরিমাণও প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ব্যাংক কার্যত সংকটে রয়েছে, কিন্তু বাজেটে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ কিংবা খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।ড. আতিক বলেন, রাজস্ব ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকার যদি টাকা ছাপানোর পথে যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। অথচ একই সঙ্গে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর-ভ্যাট কমানোর কথা বলছে, যা পরস্পরবিরোধী।কর ব্যবস্থার সমালোচনা করে এনসিপি নেতা আতিক মুজাহিদ বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক ব্যাংক হিসাব থাকলেও খুব অল্পসংখ্যক মানুষ নিয়মিত কর দেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করা হলে অনেক মানুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন। এতে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তিনি ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর উৎসে কর আরোপেরও বিরোধিতা করেন। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধার মুখে পড়বেন।তিনি আরও বলেন, অর্থপাচার ও কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেই। এটি নৈতিক ও অর্থনৈতিক, উভয় দিক থেকেই উদ্বেগজনক।শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; সেই অর্থ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে নাকি সেবার মান উন্নয়নে, তা স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও নিশ্চিত করতে হবে।ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তবসম্মত, বৈষম্যহীন ও রূপান্তরমুখী বাজেট প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে, যার ব্যয়ের তুলনায় আয়ের উৎস অস্পষ্ট।  এটি মূলত ইশতেহারনির্ভর ও ফাঁপা প্রতিশ্রুতির বাজেট। তাই এনসিপি এ বাজেটের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।এক প্রশ্নের জবাবে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, একটি বাজেট একাই পুরো অর্থব্যবস্থা বদলে দিতে পারে না। তবে প্রতি বছর যদি একই ধরনের গতানুগতিক বাজেট প্রণয়ন করা হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক রূপান্তর কখনোই সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি ছাড়া প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কেবল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।আতিক মুজাহিদ জানান, এনসিপির প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বৃদ্ধি, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উন্নয়ন। পাশাপাশি একটি সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও তাদের অগ্রাধিকারে থাকত।এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও ছায়া বাজেট কমিটির সদস্য আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, লুটতরাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি যেভাবে দুর্বল করা হয়েছে এবং অর্থনীতিকে যেভাবে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধনির্ভর করে তোলা হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেট একটি রূপান্তরমুখী (ট্রান্সফরমেটিভ) বাজেট হওয়া প্রয়োজন ছিল। এমন একটি বাজেটের প্রত্যাশা ছিল, যা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক ভিত্তিকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেবে।আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি ও প্রকৃত অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) প্রয়োজনের দিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দিয়ে একে অনেকটা নির্বাচনী ইশতেহারনির্ভর বাজেটে পরিণত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যেমন ভোটের সময় জনগণের কাছে অনেক সময় অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয়, বাজেটেও তেমন কিছু প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।আলাউদ্দীন মোহাম্মদ আশা প্রকাশ করে বলেন, বাজেট অধিবেশনে রাজনৈতিক দল ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বাজেটটি সংশোধন করবে। কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং বাংলাদেশকে আগামী দিনে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনটি সন্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবদিন শিশির ও কেন্দ্রীয় সদস্য পাঠান প্রমুখ।
২৮ মিনিট আগে
জাতীয়

জাতীয়

বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর জাতীয় বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন।রাষ্ট্রপ্রধান আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে তাঁর কার্যালয়ে বাজেট দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটটি অনুমোদিত হয়।প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।সংসদ সূত্র জানায়, এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব মো. আব্দুর রহমান খান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।একই সঙ্গে এটি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে  ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের যাত্রা’।২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে এটি প্রথম জাতীয় বাজেট। ওই সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।রাষ্ট্রপতি এ সময় জাতীয় সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন।/বিএসএস
১১ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলেন সেনেসি

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলেন সেনেসি

ইনজুরি আক্রান্ত লিওনার্দো বেলার্দির স্থানে টটেনহ্যামে সদ্য চুক্তিভূক্ত মার্কোস সেনেসিকে বিশ্বকাপ দলে ডেকেছে আর্জেন্টিনা। চলতি মাসে পায়ের ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান বেলার্দি। আর তাতেই ভাগ্য খুলে যায় ২৯ বছর বয়সী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার সেনেসির। প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন সেনেসি। আগামী মৌসুমে প্রথমবারের মত ইউরোপীয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জণ করেছে বোর্নমাউথ। আর এই যাত্রায় বেলার্দির অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তারপরও সেনেসি ক্লাবের সাথে নতুন চুক্তিতে সম্মত হয়নি। তার পরিবর্তে টটেনহ্যামের সাথে নতুন চুক্তিতে সাক্ষর করেছেন। আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে আর্জেন্টিনা।/টিডিএন
১৩ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৭ জন

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৭ জন

ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে।এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। দেশটির সকসারজেন অঞ্চলেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩১ জনের মরদেহ।এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেক। দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বসতবাড়ি হারিয়েছে।গতকাল সোমবার (৮ ,জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় সকালে দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিনদানাও দ্বীপে ব্যাপক আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র সাড়ে ৬ মাইল গভীরে। ভূমিকম্পের পর আশপাশের অঞ্চলে এক থেকে ছয় মাত্রার প্রায় ১৪০টি আফটারশক অনুভূত হয়।এ ঘটনার পর ফিলিপাইনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সাময়িকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওতে আনুমানিক আড়াই কোটি মানুষের বসবাস।
০৯ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
১৯ মে ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

১৯ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

'ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে হয়েছে

'ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে হয়েছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট 'ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেটপরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এ কথা বলেন। ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে তারা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেকাংশে ‘ফাঁপা বুলি’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বাজেটে পরিণত হয়েছে। যদিও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবুও সামগ্রিক বিশ্লেষণে বাজেটটি বাস্তবসম্মত নয়। আতিক মুজাহিদ বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বড়। কিন্তু বর্তমান ভঙ্গুর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির বাস্তবতায় এত বড় বাজেট ‘কাল্পনিক’ ও ‘অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী’। বাজেটটি সংখ্যাভিত্তিক বাস্তব পরিকল্পনার চেয়ে ইশতেহারনির্ভর প্রতিশ্রুতির ওপর বেশি দাঁড়িয়ে আছে।রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে ড. আতিক বলেন, সরকার এনবিআরের জন্য উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা অর্জনের বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা দেয়নি। এনবিআর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সরকার ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায় সম্ভব হবে না। ফলে শুরু থেকেই আড়াই লাখ কোটি টাকার মতো ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।আতিক মুজাহিদ বলেন, বাজেটে বিপুল ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও সেই ব্যয় নির্বাহের নির্ভরযোগ্য অর্থের উৎস স্পষ্ট নয়। এ কারণে পরবর্তীতে বাজেট সংকোচন বা ব্যয় কমানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা জনগণের প্রত্যাশাকে হতাশ করবে।ব্যাংক ঋণনির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আতিক মুজাহিদ বলেন, দেশের বৈদেশিক ঋণ ইতোমধ্যে ১০ লাখ কোটি টাকার বেশি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের পরিমাণও প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ব্যাংক কার্যত সংকটে রয়েছে, কিন্তু বাজেটে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ কিংবা খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।ড. আতিক বলেন, রাজস্ব ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকার যদি টাকা ছাপানোর পথে যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। অথচ একই সঙ্গে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর-ভ্যাট কমানোর কথা বলছে, যা পরস্পরবিরোধী।কর ব্যবস্থার সমালোচনা করে এনসিপি নেতা আতিক মুজাহিদ বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক ব্যাংক হিসাব থাকলেও খুব অল্পসংখ্যক মানুষ নিয়মিত কর দেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করা হলে অনেক মানুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন। এতে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তিনি ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর উৎসে কর আরোপেরও বিরোধিতা করেন। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধার মুখে পড়বেন।তিনি আরও বলেন, অর্থপাচার ও কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেই। এটি নৈতিক ও অর্থনৈতিক, উভয় দিক থেকেই উদ্বেগজনক।শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; সেই অর্থ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে নাকি সেবার মান উন্নয়নে, তা স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও নিশ্চিত করতে হবে।ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তবসম্মত, বৈষম্যহীন ও রূপান্তরমুখী বাজেট প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে, যার ব্যয়ের তুলনায় আয়ের উৎস অস্পষ্ট।  এটি মূলত ইশতেহারনির্ভর ও ফাঁপা প্রতিশ্রুতির বাজেট। তাই এনসিপি এ বাজেটের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।এক প্রশ্নের জবাবে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, একটি বাজেট একাই পুরো অর্থব্যবস্থা বদলে দিতে পারে না। তবে প্রতি বছর যদি একই ধরনের গতানুগতিক বাজেট প্রণয়ন করা হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক রূপান্তর কখনোই সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি ছাড়া প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কেবল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।আতিক মুজাহিদ জানান, এনসিপির প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বৃদ্ধি, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উন্নয়ন। পাশাপাশি একটি সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও তাদের অগ্রাধিকারে থাকত।এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও ছায়া বাজেট কমিটির সদস্য আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, লুটতরাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি যেভাবে দুর্বল করা হয়েছে এবং অর্থনীতিকে যেভাবে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধনির্ভর করে তোলা হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেট একটি রূপান্তরমুখী (ট্রান্সফরমেটিভ) বাজেট হওয়া প্রয়োজন ছিল। এমন একটি বাজেটের প্রত্যাশা ছিল, যা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক ভিত্তিকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেবে।আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি ও প্রকৃত অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) প্রয়োজনের দিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দিয়ে একে অনেকটা নির্বাচনী ইশতেহারনির্ভর বাজেটে পরিণত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যেমন ভোটের সময় জনগণের কাছে অনেক সময় অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয়, বাজেটেও তেমন কিছু প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।আলাউদ্দীন মোহাম্মদ আশা প্রকাশ করে বলেন, বাজেট অধিবেশনে রাজনৈতিক দল ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বাজেটটি সংশোধন করবে। কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং বাংলাদেশকে আগামী দিনে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনটি সন্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবদিন শিশির ও কেন্দ্রীয় সদস্য পাঠান প্রমুখ।
১৯ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি