বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

টিকটকে ছড়াল স্কুলছাত্রকে পেটানোর ভিডিও

নোয়াখালীর সেনবাগে এক স্কুলছাত্রকে মারধরের ভিডিও ধারণ করে টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে।বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ভিডিওটি স্থানীয়দের নজরে আসে। এর আগে, গত সোমবার ২২ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের গোরকাটা এলাকার কাশেম খালাসি বাড়ি সংলগ্ন একটি কালভার্টের ওপর এ ঘটনা ঘটে।মারধরের শিকার মাশরাফি ইব্রাহীম (১৬) অর্জুনতলা ইউনিয়নের উত্তর গোরকাটা এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আজমের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।ভুক্তভোগী মাশরাফির অভিযোগ করে বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সেনবাগ বাজার থেকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে কাদরা ইউনিয়নের ইমনের নেতৃত্বে একদল কিশোর গ্যাং সদস্য তার সাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তারা তার কাছে সিগারেট ও টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহির সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে দাবি করে তাকে বেধড়ক চড়-থাপ্পড় শুরু করেন। এ সময় হামলাকারীরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। যা পরে টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি রাহিকে জানালে তিনি জানান, মারধরের ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হযরত আলী মিলন বলেন, ভিডিওটি এখনো পুলিশের নজরে আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ ঘন্টা আগে

হারিয়ে যাচ্ছে বজ্রপাতের ‘বর্ম’ ও বাবুই পাখির নীড়

গ্রামবাংলার বুক চিরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই চেনা গাছটি আজ আর তেমন চোখে পড়ে না। দূর থেকে যার পাতা বাতাসে দুললে মনে হতো কোনো এক রূপকথার ডানা ঝাপটানো, সেই তালগাছ আজ কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলার লোকসংস্কৃতি, প্রকৃতি আর রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মিশে থাকা এই চিরচেনা গাছটি এখন আমাদের অবহেলা আর অসচেতনতার কারণে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। অথচ গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছের অবদান অনস্বীকার্য।শৈশবের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ কবিতাটি পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। একসময় গ্রামীণ মেঠো পথ, পুকুর পাড় কিংবা ফসলের মাঠের আইল ধরে সারিবদ্ধ তালগাছের যে নয়নকাড়া দৃশ্য দেখা যেত, তা এখন শুধুই স্মৃতির পাতায় বন্দি। আধুনিকতার ছোঁয়া আর নগরায়ণের আগ্রাসনে নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে এই দীর্ঘজীবী গাছ। একটি তালগাছ পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে এবং ফল দিতে দীর্ঘ সময় নেয় বলে নতুন করে এই গাছ রোপণের প্রতি মানুষের আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে নতুন করে যেমন গাছ রোপণ করা হচ্ছে না, তেমনি পুরনো গাছগুলোও রক্ষা পাচ্ছে না কাঠের লোভী করাত থেকে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালগাছকে নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এটি বজ্রপাত প্রতিরোধ করে এবং একে প্রাকৃতিক ‘বজ্র নিরোধক’ বলা হয়ে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় লাখ লাখ তালগাছের বীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, তালগাছ বজ্রপাত ‘প্রতিরোধ’ করে, এই কথার কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আসলে গাছ কখনো বজ্রপাত ঠেকাতে বা রুখে দিতে পারে না। মূল বিষয় হলো, তালগাছ অত্যন্ত সুউচ্চ এবং এর কাণ্ড সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। আকাশে যখন মেঘের ঘর্ষণজনিত কারণে বিদ্যুতায়ন ঘটে, তখন বিদ্যুৎ সবসময় ভূমিতে নামার জন্য সবচেয়ে কাছের এবং উঁচু মাধ্যমটিকে বেছে নেয়। গ্রামীণ জনপদে অন্য গাছের তুলনায় তালগাছ বেশি উঁচু হওয়ায় বজ্রপাত সরাসরি এর ওপর আছড়ে পড়ে। এতে করে চারপাশের ঘরবাড়ি বা নিচু এলাকায় থাকা মানুষ ও গবাদিপশু বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। অর্থাৎ, তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধ করে না, বরং নিজের বুকে বজ্রপাতকে টেনে নিয়ে চারপাশের পরিবেশের জন্য একটি ঢাল বা বর্ম হিসেবে কাজ করে। দুঃখের বিষয় হলো, বিজ্ঞানসম্মত এই কার্যকারিতাটুকু পাওয়ার আগেই আমরা দেশজুড়ে উজার করে ফেলছি এই প্রাকৃতিক রক্ষাকবচকে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে প্রতি বছর বজ্রপাতে শত শত মানুষের অকাল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।তালগাছ শুধু মানুষের ঢাল হিসেবেই কাজ করে না, এটি ছিল এক অনন্য জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তালগাছের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে খড়কুটো আর কাশবনের পাতা দিয়ে বোনা বাবুই পাখির সেই শৈল্পিক বাসা। তালগাছের পাতায় পাতায় ঝুলে থাকা বাবুই পাখির নিখুঁত কারুকার্যের বাসা দেখে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ বিরল। বাতাস এলে যখন তালগাছের পাতাগুলো দোল খেত, তখন সেই দোলনার মতো ঝুলন্ত বাসায় বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ। প্রকৃতি ও পাখির এই নান্দনিক মিতালী গ্রামীণ আবহকে এক স্বর্গীয় রূপ দিত। কিন্তু আজ তালগাছ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে শিল্পী পাখি বাবুই আর তার সেই বিখ্যাত ঝুলন্ত বাসা। এখন আর মেঠো পথের ধারে বাতাসে দোল খাওয়া তালপাতার সেই চিরচেনা শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায় না, শোনা যায় না পাখির কলকাকলি।প্রকৃতির পরম বন্ধু এই গাছটির অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। তাল পাতা দিয়ে তৈরি হাতপাখা, ঘরের ছাউনি, চাটাই এবং নানা রকমের কুটির শিল্প গ্রামীণ নারীদের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল। তালের রস, সুস্বাদু তালের পিঠা কিংবা গরমে কচি তালের শাঁস বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ আমরা এই অমূল্য সম্পদটিকে হারিয়ে ফেলছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বজ্রপাতের হাত থেকে গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা এবং হারিয়ে যাওয়া বাবুই পাখিকে ফিরিয়ে আনতে আজ তালগাছ সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শুধু বীজ রোপণের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, রোপণকৃত গাছের সঠিক পরিচর্যা ও পুরনো তালগাছ কাটা নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বাংলার বুক থেকে এই ঐতিহ্যবাহী গাছটিকে চিরতরে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।
৮ ঘন্টা আগে

চাঁদপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে বেজার প্রাথমিক পরিদর্শন

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মেঘনার চরাঞ্চলে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) স্থাপনের লক্ষ্যে প্রাথমিক পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) সালেহ আহমদ ‘চররাও’ ও ‘ঈশালবালা’ মৌজা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।​প্রস্তাবিত এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও অবকাঠামোগত সুবিধা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং বেজার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল।​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই দুই মৌজায় বিপুল পরিমাণ খাস জমি রয়েছে, যা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে নৌ-যোগাযোগের সুবিধার পাশাপাশি স্থানীয় বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।​পরিদর্শন শেষে বেজার নির্বাহী সদস্য ও জেলা প্রশাসক সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনের পর কারিগরি ও পরিবেশগত দিকগুলো আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পায়ন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৮ ঘন্টা আগে
তীব্র ঝড়ের শঙ্কায় ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ

তীব্র ঝড়ের শঙ্কায় ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ

বুধবার রাতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৪টায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। তবে ঠিক সেই সময় মিয়ামিতে বজ্রসহ ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলে ম্যাচ সাময়িকভাবে স্থগিত করার নিয়ম রয়েছে। শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ১৫ মিনিট না পেরোনো পর্যন্ত খেলা পুনরায় শুরু করা যায় না। ফলে ম্যাচে দীর্ঘ সময় বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এর আগে সোমবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ফ্রান্স ও ইরাকের ম্যাচটি তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বিরতির সময় দর্শকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয় এবং খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। দীর্ঘ বিরতির কারণে উভয় দলের ফুটবলারদের ম্যাচে ফিরতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।স্কটল্যান্ডের প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্ক জানিয়েছেন, আবহাওয়ার কারণে ম্যাচে বিলম্ব হলে তা মোকাবিলার জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।মঙ্গলবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত রাতের ফ্রান্সের ম্যাচে আবহাওয়ার কারণে বিলম্ব হয়েছে। টুর্নামেন্টে এটাই প্রথম এমন ঘটনা। এখন পর্যন্ত আমরা হয়তো আবহাওয়ার দিক থেকে কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম।’তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির কারণে খেলা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছি। তবে বিলম্ব কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।’ক্লার্ক যোগ করেন, ‘শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তাই বিলম্ব দীর্ঘও হতে পারে। যদি খেলা স্থগিত হয়, তাহলে আশা করি সেটি খুব বেশি সময়ের জন্য হবে না। আমরা জানি, এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে।’নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে স্কটল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচ থেকে অন্তত এক পয়েন্ট অর্জন করা জরুরি। তবে হারলেও তাদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না, কারণ সেরা তিন দল পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে আজ রাতেই বেইজিং যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে আজ রাতেই বেইজিং যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিংয়ে চলমান রাষ্ট্রীয় সফরে যোগ দিতে আজ রাতে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন দিনের সরকারি সফরে অংশ নিতে আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এয়ার চায়নার একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভায় অংশ নেবেন তথ্যমন্ত্রী। এ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।এ ছাড়া, চীনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)’ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি’র সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন গণমাধ্যম সহযোগিতা জোরদারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করবেন জহির উদ্দিন স্বপন। চীনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এসব চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর এ গুরুত্বপূর্ণ সফরে বেইজিংয়ে বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের আরও কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অবস্থান করছেন।তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আগামী ২৬ জুন রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
২৩ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

তীব্র ঝড়ের শঙ্কায় ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ

তীব্র ঝড়ের শঙ্কায় ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ

বুধবার রাতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৪টায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। তবে ঠিক সেই সময় মিয়ামিতে বজ্রসহ ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলে ম্যাচ সাময়িকভাবে স্থগিত করার নিয়ম রয়েছে। শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ১৫ মিনিট না পেরোনো পর্যন্ত খেলা পুনরায় শুরু করা যায় না। ফলে ম্যাচে দীর্ঘ সময় বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এর আগে সোমবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ফ্রান্স ও ইরাকের ম্যাচটি তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বিরতির সময় দর্শকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয় এবং খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। দীর্ঘ বিরতির কারণে উভয় দলের ফুটবলারদের ম্যাচে ফিরতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।স্কটল্যান্ডের প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্ক জানিয়েছেন, আবহাওয়ার কারণে ম্যাচে বিলম্ব হলে তা মোকাবিলার জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।মঙ্গলবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত রাতের ফ্রান্সের ম্যাচে আবহাওয়ার কারণে বিলম্ব হয়েছে। টুর্নামেন্টে এটাই প্রথম এমন ঘটনা। এখন পর্যন্ত আমরা হয়তো আবহাওয়ার দিক থেকে কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম।’তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির কারণে খেলা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছি। তবে বিলম্ব কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।’ক্লার্ক যোগ করেন, ‘শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তাই বিলম্ব দীর্ঘও হতে পারে। যদি খেলা স্থগিত হয়, তাহলে আশা করি সেটি খুব বেশি সময়ের জন্য হবে না। আমরা জানি, এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে।’নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে স্কটল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচ থেকে অন্তত এক পয়েন্ট অর্জন করা জরুরি। তবে হারলেও তাদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না, কারণ সেরা তিন দল পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে।
১ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইতালির ১৫ শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি

ইতালির ১৫ শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার রাজধানী রোম ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র মিলানসহ দেশের ১৫টি শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে। দেশজুড়ে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার লাল সতর্কতার আওতায় থাকা শহরের সংখ্যা আরও বেড়ে ১৬টিতে পৌঁছাতে পারে। ‘লাল সতর্কতা’ সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শুধু বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য নয়, সুস্থ মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের কারণে জনগণকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংস্থাটি নাগরিকদের হালকা খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না বের হওয়া এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত ঠান্ডা পানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ইতালিতেও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র গরমের প্রভাব বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।সূত্র: এএফপি
১৪ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
০৯ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

০৯ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

টিকটকে ছড়াল স্কুলছাত্রকে পেটানোর ভিডিও

টিকটকে ছড়াল স্কুলছাত্রকে পেটানোর ভিডিও

নোয়াখালীর সেনবাগে এক স্কুলছাত্রকে মারধরের ভিডিও ধারণ করে টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে।বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ভিডিওটি স্থানীয়দের নজরে আসে। এর আগে, গত সোমবার ২২ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের গোরকাটা এলাকার কাশেম খালাসি বাড়ি সংলগ্ন একটি কালভার্টের ওপর এ ঘটনা ঘটে।মারধরের শিকার মাশরাফি ইব্রাহীম (১৬) অর্জুনতলা ইউনিয়নের উত্তর গোরকাটা এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আজমের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।ভুক্তভোগী মাশরাফির অভিযোগ করে বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সেনবাগ বাজার থেকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে কাদরা ইউনিয়নের ইমনের নেতৃত্বে একদল কিশোর গ্যাং সদস্য তার সাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তারা তার কাছে সিগারেট ও টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহির সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে দাবি করে তাকে বেধড়ক চড়-থাপ্পড় শুরু করেন। এ সময় হামলাকারীরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। যা পরে টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি রাহিকে জানালে তিনি জানান, মারধরের ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হযরত আলী মিলন বলেন, ভিডিওটি এখনো পুলিশের নজরে আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
০৯ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি