বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

দেশের বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম, নতুন দর কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পতন দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভালো মানের স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা।বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম কমার প্রভাবেই এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।নতুন দর অনুযায়ী- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ: ২,৪০,৩৩৭ টাকা (ভরি প্রতি) ২১ ক্যারেট স্বর্ণ: ২,২৯,৪৩১ টাকা ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: ১,৯৬,৬৫৫ টাকা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: ১,৬০,১৪৭ টাকা এর আগে ধারাবাহিকভাবে কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম কমানো হয়। গত ২৩, ২৮ ও ২৯ এপ্রিলসহ মোট চার দফায় দাম কমে ৭ দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরিতে কমেছে ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা।অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমান বাজার অনুযায়ী- ২২ ক্যারেট রুপা: ৫,৪৮২ টাকা (ভরি প্রতি) ২১ ক্যারেট রুপা: ৫,১৯০ টাকা ১৮ ক্যারেট রুপা: ৪,৪৯১ টাকা সনাতন পদ্ধতির রুপা: ৩,৩৮৩ টাকা বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদা-যোগানের ওপর ভিত্তি করেই স্বর্ণের এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
৫ ঘন্টা আগে

ইনুকে ‘টেনশন না করতে’ বলা সেই দুই পুলিশ সদস্য শাস্তির মুখে

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে উদ্দেশ করে ‘টেনশন না করতে’ বলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।বুধবার (২৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।চিঠিতে বলা হয়, ডিএমপি থেকে প্রেষণে ট্রাইব্যুনালে কর্মরত কনস্টেবল মো. জামাল হোসেন ও কনস্টেবল মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।ট্রাইব্যুনালের তথ্যমতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ইনুকে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়া-আনার সময় ওই দুই পুলিশ সদস্য তার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত কথোপকথনে জড়ান। ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজে তাদের আচরণ দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এমন আচরণ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং বিচারিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করার ঝুঁকি তৈরি করে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাইব্যুনাল-২ এর এজলাস থেকে ইনুকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দুই সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘টেনশন কইরেন না, আমরা আছি তো স্যার।’উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। বুধবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ মে তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
৬ ঘন্টা আগে

পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ চলবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের দেয়া নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে সাফ জানিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা করা হচ্ছে। ফের আগ্রাসন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতি চলছে যা গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ঘোষণা দেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নজরদারির বিপরীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।এর মধ্যেই গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে, ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধের অবসানের জন্য ইরানের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পেয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এই প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ‘অসন্তুষ্ট’ বলে জানান।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান নেতা আরও দাবি করেন যে, ইরান অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চায়, যা তার মতে ‘বোমা হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর’।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, মার্কিন অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি তার অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে না পারায় তাদের তেল সংরক্ষণাগার এবং পাইপলাইনগুলো ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, ‘বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধটা কিছুটা বেশি কার্যকর। তাদের দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে। ওরা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা এখন মীমাংসা করতে চায়। তারা চায় না আমি অবরোধটা অব্যাহত রাখি। তবে আমি অবরোধ তুলতে চাই না, কারণ আমি চাই না ওদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক।’ ইরানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এখন হার মেনে নেয়ার এবং ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’ বলার সময় এসেছে। তার কথায়, ‘প্রশ্ন হলো, তারা যথেষ্ট কঠোর হবে কি না। এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়ে একমত হয়।’আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার আশায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরান সরকারকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে এবং আরও নমনীয়তা দেখাতে চাপ দেবে।মার্কিন হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ঠিক করছে। আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি আবারও কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের ইরানের সম্পূর্ণ নতুন সামরিক কৌশল ও নজিরবিহীন প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে হবে।এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়েছেন সমরমন্ত্রী পিট হেগসেথ। এক ডেমোক্র্যাট সদস্য এই যুদ্ধকে ‘কৌশলগত ভুল’ এবং ‘চোরাবালি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। শুনানিতে এক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, ঘাঁটিটি ইরানের লক্ষ্যবস্তু তালিকায় থাকার পরও মার্কিন সেনাদের সেখানে পাঠিয়ে ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছে। তবে হেগসেথ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেনাদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।এই যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত সেনা আহত হয়েছেন। বিপুল এই খরচের বড় একটি অংশ গেছে অস্ত্রশস্ত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের পেছনে, যা এখন মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
অবৈধ বাংলাদেশিদের সুখবর দিলো রোমানিয়া

অবৈধ বাংলাদেশিদের সুখবর দিলো রোমানিয়া

ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আশার বার্তা এসেছে। দেশটির সরকার নন-ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিদেশি কর্মীদের শর্তসাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়ে একটি জরুরি অধ্যাদেশ জারি করেছে। বুখারেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি গেজেটে এই বিশেষ ‘রাজক্ষমা’ বা এমনেস্টি কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যেসব বিদেশি কর্মী বৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুযোগ কার্যকর থাকবে। দূতাবাস জানায়, অনেক বাংলাদেশি কর্মী ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে রোমানিয়ায় পৌঁছানোর পর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জটিলতায় পড়েন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্মীকে কাজে না নেওয়া, সময়মতো ট্যাক্স জমা না দেওয়া কিংবা টেম্পোরারি রেসিডেন্স কার্ড (টিআরসি) আবেদন না করার কারণে কর্মীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধতা হারান। ফলে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ অবস্থায় চলে যান। নতুন বিধানের আওতায় আসতে আগ্রহীদের আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে একটি নতুন বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করে তার অধীনে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে। এরপর টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যারা ইতোমধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ (রিটার্ন ডিসিশন) পেয়েছেন বা অবৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। দূতাবাস আরও জানায়, এটি নতুন একটি প্রক্রিয়া হওয়ায় শুরুতে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজন হলে দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রোমানিয়ায় অবস্থানরত বহু বাংলাদেশি কর্মীর জন্য বৈধভাবে কাজ করার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

ইনুকে ‘টেনশন না করতে’ বলা সেই দুই পুলিশ সদস্য শাস্তির মুখে

ইনুকে ‘টেনশন না করতে’ বলা সেই দুই পুলিশ সদস্য শাস্তির মুখে

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে উদ্দেশ করে ‘টেনশন না করতে’ বলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।বুধবার (২৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।চিঠিতে বলা হয়, ডিএমপি থেকে প্রেষণে ট্রাইব্যুনালে কর্মরত কনস্টেবল মো. জামাল হোসেন ও কনস্টেবল মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।ট্রাইব্যুনালের তথ্যমতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ইনুকে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়া-আনার সময় ওই দুই পুলিশ সদস্য তার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত কথোপকথনে জড়ান। ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজে তাদের আচরণ দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এমন আচরণ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং বিচারিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করার ঝুঁকি তৈরি করে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাইব্যুনাল-২ এর এজলাস থেকে ইনুকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দুই সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘টেনশন কইরেন না, আমরা আছি তো স্যার।’উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। বুধবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ মে তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
৬ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ চলবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ চলবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের দেয়া নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে সাফ জানিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা করা হচ্ছে। ফের আগ্রাসন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতি চলছে যা গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ঘোষণা দেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নজরদারির বিপরীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।এর মধ্যেই গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে, ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধের অবসানের জন্য ইরানের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পেয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এই প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ‘অসন্তুষ্ট’ বলে জানান।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান নেতা আরও দাবি করেন যে, ইরান অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চায়, যা তার মতে ‘বোমা হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর’।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, মার্কিন অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি তার অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে না পারায় তাদের তেল সংরক্ষণাগার এবং পাইপলাইনগুলো ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, ‘বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধটা কিছুটা বেশি কার্যকর। তাদের দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে। ওরা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা এখন মীমাংসা করতে চায়। তারা চায় না আমি অবরোধটা অব্যাহত রাখি। তবে আমি অবরোধ তুলতে চাই না, কারণ আমি চাই না ওদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক।’ ইরানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এখন হার মেনে নেয়ার এবং ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’ বলার সময় এসেছে। তার কথায়, ‘প্রশ্ন হলো, তারা যথেষ্ট কঠোর হবে কি না। এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়ে একমত হয়।’আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার আশায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরান সরকারকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে এবং আরও নমনীয়তা দেখাতে চাপ দেবে।মার্কিন হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ঠিক করছে। আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি আবারও কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের ইরানের সম্পূর্ণ নতুন সামরিক কৌশল ও নজিরবিহীন প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে হবে।এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়েছেন সমরমন্ত্রী পিট হেগসেথ। এক ডেমোক্র্যাট সদস্য এই যুদ্ধকে ‘কৌশলগত ভুল’ এবং ‘চোরাবালি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। শুনানিতে এক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, ঘাঁটিটি ইরানের লক্ষ্যবস্তু তালিকায় থাকার পরও মার্কিন সেনাদের সেখানে পাঠিয়ে ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছে। তবে হেগসেথ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেনাদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।এই যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত সেনা আহত হয়েছেন। বিপুল এই খরচের বড় একটি অংশ গেছে অস্ত্রশস্ত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের পেছনে, যা এখন মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ বাস মালিকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জব্দ করা একটি বাস হস্তান্তর করেছে। তবে এ ব্যাপারে জানেন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শাহিনুল ইসলাম গালিবের কাছে টাকা স্থানান্তর করে বলে জানান বাস মালিক পক্ষ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ জাকির পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ কোম্পানির একটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুক্তভোগী এবং বাস মালিকের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি।এরপর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মু. আবুল বাশার বাধা দেন।তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়ে ক্যাম্পাসে বাস নিয়ে এসেছে এবং প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেই ঘটনা সমাধান করার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। শিক্ষার্থীরা কেন এখানে সমঝোতা করে টাকা নেবে? আর প্রক্টরিয়াল বডি সমাধান না করে কেন শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ করে দিয়েছে, সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়।'প্রক্টরিয়াল বডির ভাষ্যমতে, তারা কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লেনদেনের অনুমতি দেয়নি এবং কারা এ লেনদেন করেছে, সে বিষয়েও তারা অবগত নয়।এ বিষয়ে শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, 'আমার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী আল-আরাফাহ বাসের এক কর্মচারীর হাতে মারধরের শিকার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি বাস নিয়ে আসি। এরপর প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাস মালিকপক্ষ আমাদের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলে।'তিনি আরও বলেন, 'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোঃ জাকির বলেন, 'গত ৯ তারিখ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছে বাসের এক কর্মচারী। এতে আমি আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাস মালিকপক্ষ আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে।'ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস হস্তান্তরের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশানকে এখনো জানানো হয়নি, তবে আমরা তাদেরকে জানাবো।”প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, ' গত সপ্তাহে আমরা বাস মালিকপক্ষের সাথে বসে বিষয়টা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় সেদিন সমাধান হয়নি। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু টাকা-পয়সা নিয়ে সমঝোতার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।'এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলে বাস নিয়ে আসেনি। তারা বাস আনার পাঁচ দিন পর আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর আমরা বাস মালিকপক্ষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু সেদিন প্রধান অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।'টাকা নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, 'টাকা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সেদিন হয়নি। এখন কেউ যদি টাকা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে, এমন অভিযোগ পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
২৫ এপ্রিল ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড চান্দিনা: বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড চান্দিনা: বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বোরো ধান ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়ভাঙা খাটুনি আর বুকভরা আশা নিয়ে চাষ করা সোনার ফসল এখন চোখের সামনে পচে নষ্ট হচ্ছে, যা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ এখন থৈ থৈ করছে বৃষ্টির পানিতে, আর সেই অথৈ জলে ভাসছে কৃষকের সারা বছরের অন্ন।চলতি মৌসুমে চান্দিনার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাজার হাজার একর জমিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আশা করেছিলেন এবার ঘরের গোলা ভরে উঠবে সোনালী ধানে। অনেক জায়গায় ধান পাকতে শুরু করেছিল এবং কোনো কোনো এলাকায় কাটা মাত্র শুরু হয়েছিল। ঠিক এই মূহুর্তে প্রকৃতির অকাল তাণ্ডব কৃষকদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। বৃষ্টির পানি ও উজান থেকে আসা স্রোতে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির পাকা ও আধা-পাকা ধান। কৃষকরা আক্ষেপ করে বলছেন, অনেক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং ধারদেনা করে তারা চাষাবাদের টাকা জোগাড় করেছিলেন। ফলন দেখে মুখে হাসি ফুটলেও এখন সেই হাসি বিষাদে পরিণত হয়েছে। অনেক কৃষককে দেখা গেছে পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই ধান বাড়িতে নেওয়া বা শুকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।ধানের পাশাপাশি সবজি চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। চান্দিনা এলাকাটি সবজি উৎপাদনের জন্য বেশ পরিচিত। টমেটো, করলা, ঝিঙা ও লতাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ফলন ভালো হয়েছিল এ বছর। কিন্তু গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতগুলো এখন পানির নিচে। বৃষ্টির জমা পানিতে সবজির গাছ পচে যাচ্ছে, ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনে অনেক কৃষক এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।কৃষকদের এই দুর্ভোগের সাথে যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যারাও পাওয়া যাচ্ছেন, তাদের মজুরি এতটাই বেশি যে সাধারণ কৃষকদের পক্ষে তা বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে অনেক কৃষকই এখন বাকরুদ্ধ। তারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন বা ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন, তার কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। চান্দিনার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন কৃষকদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে। সরকারি সহযোগিতা বা বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কৃষকদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র