বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চান্দিনায় কৃষকদের মাঝে কম্বাইন্ড রিপার মেশিন বিতরণ

কুমিল্লার চান্দিনায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণের আওতায় সমলয় চাষাবাদ ও কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র ‘রিপার মেশিন’ বিতরণ করা হয়েছে।  বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং চান্দিনা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মেশিন হস্তান্তর করা হয়। চান্দিনা পৌরসভাসহ উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়নে এই রিপার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দিনা আসনের সংসদ সদস্য জনাব আতিকুল আলম শাওন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোরশেদ আলম, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার লিটন চন্দ্র দত্ত এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।এদিন উপজেলার মাইজখার, এতবারপুর, বাড়েরা, বরকইট, জোয়াগ, নবাবপুর, মহিচাইল, বাতাঘাসি ও কেরনখাল ইউনিয়ন এবং চান্দিনা পৌরসভার সুফলভোগী কৃষকদের হাতে এই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি শ্রমিকের সংকট দূর হয়ে দ্রুত সময়ে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। তিনি কৃষকদের এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক এই রিপার মেশিনের সাহায্যে কৃষকরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে এবং অল্প সময়ে মাঠের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৭ ঘন্টা আগে

নোয়াখালীতে বিয়ের ৭ মাস পর গৃহবধূর আত্মহত্যা, মরদেহ উদ্বার

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়ন থেকে অহিদা আক্তার শিখা (২১) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।  এর আগে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পূর্ব শোশালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত শিখা উপজেলার শোশালিয়া গ্রামের আমজাদ উদ্দিন মুন্সি বাড়ির মোরশেদ আলমের স্ত্রী এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর ডল্টা গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লার মেয়ে।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে মোরশেদ আলমের সঙ্গে শিখার বিয়ে হয়। মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।।যোগাযোগ করা হলে নিহতের ভাই মাইনউদ্দিন বলেন, আমি বোনের মরদেহ নিয়ে ময়নাতদন্ত করানোর জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসেছি। আমাদের কোন অভিযোগ নেই। আপনারা পুলিশের সাথে কথা বলেন। অভিযোগ করলে আপনাদের ফোন দিয়ে জানাবো।  চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান বলেন, ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা করে। স্বামী তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসে। পরে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। তার সংশ্লিষ্টতা না থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার কোন কারণ জানা যায়নি। তবে ওই গৃহবধূ একটু মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্থ ছিল বলে জানা গেছে।তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩ ঘন্টা আগে

তুলা উৎপাদন বাড়াতে ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার

দেশে তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলা চাষিদের জন্য ২০ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ করেছে সরকার।এ বিষয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) মৃত্তিকা উর্বরতা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘দেশে তুলার উৎপাদন বাড়াতে এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিতে টানা তৃতীয়বারের মতো এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।’এই কর্মসূচির আওতায় ২৬টি জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে সাথি ফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন।মূলত এই প্রণোদনা কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করবে এবং এই অর্থকরী ফসলের সামগ্রিক উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন সিডিবি’র এই বিশেষজ্ঞ।তিনি বলেন, দেশে পাট চাষের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পর তুলা এখন অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ‘দেশে তুলার চেয়ে বেশি লাভজনক আর কোনো ফসল নেই। তাই কৃষকদের তুলা উৎপাদনে উৎসাহিত করলে তারা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি কাঁচা তুলা আমদানির ওপর নির্ভরতাও কমবে।’তুলা উৎপাদনের আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে জানতে সিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিনের সঙ্গে কথা হয় বাসসের। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বিপরীতে একজন কৃষক এক বিঘা জমিতে ১৫ মণ (প্রতি মণ ৩৭.৩২ কেজি) কাঁচা তুলা উৎপাদন করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।তিনি আরও জানান, সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তুলার বীজ বপন শুরু হয় এবং ডিসেম্বর মাসে ফসল সংগ্রহ করা হয়। ফলে প্রতি কেজি তুলা উৎপাদনের বিপরীতে কৃষকরা সরকারের প্রায় ৪ মার্কিন ডলার আমদানি খরচ সাশ্রয় করছেন।তুলা চাষে প্রণোদনা উদ্যোগ প্রসঙ্গে সিডিবি’র সিনিয়র জিনিং অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন বাসস'কে বলেন, তুলা চাষ মাটির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, কারণ এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায়। অন্যদিকে, একই জমিতে পরপর তিনবার ভুট্টা চাষ করলে মাটির উর্বরতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।তিনি আরও বলেন, এই প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে তুলা চাষের জন্য ৮ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি উপকরণ পাবেন। এর মধ্যে থাকবে ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড তুলার বীজ; ৫০ কেজি করে টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার; ২ কেজি অণুখাদ্য বোরন সার; ৪৫০ মিলিলিটার ছত্রাকনাশক এবং ১৫০ মিলিলিটার উদ্ভিদের বৃদ্ধিকারক।প্রণোদনা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জোনভিত্তিক বিভাজনে দেখা যায়, যশোর জোনে ৩ হাজার; চুয়াডাঙ্গায় সাড়ে ৫ হাজার; ঝিনাইদহে ৩ হাজার ২০০; কুষ্টিয়ায় ৬ হাজার ২০০; রাজশাহীতে ২ হাজার; বগুড়ায় ১ হাজার ২০০; ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০০; রংপুরে ৬৮০; ময়মনসিংহে ১ হাজার ২০০ এবং ঢাকা, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জোনের প্রতিটিতে ৩৮০ জন করে কৃষক এই প্রণোদনা সুবিধা পাবেন।কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে এই তহবিল হস্তান্তর করবে এবং আগামী মাস থেকে জেলা পর্যায়ে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার (সিসিডিও) সমন্বয়ে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে।২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার ১২ হাজার ৩৭৫ জন প্রান্তিক কৃষককে তুলা চাষের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ হাজার ১০০ জন কৃষকের তুলা উৎপাদনের জন্য ১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।এদিকে, অধিক ফলন নিশ্চিত করতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) তুলার জাত প্রবর্তন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞানীরা।তাছাড়া, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিস্থিতি তুলা চাষের জন্য এক অনন্য সুবিধা প্রদান করে। দেশের দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর ও মধ্যাঞ্চল মিলিয়ে ৩২টিরও বেশি জেলা জুড়ে বিস্তৃত উঁচু ও পাহাড়ি উভয় প্রকার ভূমি তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়, যেখান থেকে বার্ষিক প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৭২ বেল তুলা উৎপাদিত হয়।তবে স্থানীয় এই উৎপাদন জাতীয় চাহিদার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ পূরণ করতে পারে। দেশের শক্তিশালী টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারণে তুলার এই বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে, যার জন্য প্রতি বছর আনুমানিক ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল তুলার প্রয়োজন হয়।সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশ থেকে ৭৩ লাখ বেল কাঁচা তুলা আমদানির পেছনে সরকারকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল।সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশ থেকে ৭৩ লাখ বেল কাঁচা তুলা আমদানির পেছনে সরকারকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল।
১৭ ঘন্টা আগে
আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সকল সুবিধা

আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সকল সুবিধা

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। অর্থ্যাৎ একই ব্যক্তি বা পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন ভাতা পাওয়ার দ্বৈততা (ডাবল বুকিং) বন্ধ হবে। পাশাপাশি প্রকৃত অভাবী ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে যাবে।প্রস্তাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার। এটি চালু হলে মাত্র একটি কার্ড ও কিউআর কোডের মাধ্যমেই প্রান্তিক মানুষেরা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা পাবেন।সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। এছাড়াও বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’- এর অগ্রগতি, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মূলত ফেজ বাই ফেজ বা পর্যায়ক্রমে গ্রাজুয়ালি অগ্রসর হচ্ছি। এই কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। পাইলটিং মূলত করাই হয় ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর জন্য। যেন মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো আইডেন্টিফাই করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা যায়।’কার্ড বিতরণে প্রান্তিক মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত যারা বেনিফিশিয়ারি, তারা এই কার্ড পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন। তবে যেহেতু আমরা একটি একটি ওয়ার্ড করে দিচ্ছি, তাই পার্শ্ববর্তী অনান্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলার মানুষের মধ্যেও তীব্র আকাঙক্ষা তৈরি হয়েছে। তাদেরও মনে হচ্ছে, এ সুবিধা কখন পাবেন! এই ব্যাপক চাহিদাই বলে দিচ্ছে, আমরা যে উদ্দেশ্যে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি নিয়েছি, তা সফলভাবে লক্ষ্য পূরণ করছে। সরকার গঠনের শুরুতেই এটি হাতে নেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক ও দায়বদ্ধ।’তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির প্রধান কাজ হচ্ছে উপকারভোগীদের কাছে ঠিকমতো টাকা পৌঁছানো। অর্থাৎ যার টাকা সে যেন সরাসরি পায়। এটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডেটা ফাইন্ডিং করা হচ্ছে। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আরও ২০টি ওয়ার্ডে এই কার্ড চালু করা হয়। ফারজানা শারমীন আরও জানান, আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এসব এলাকায় মাঠ পর্যায় থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করে কার্ড বিতরণ করা হবে।ইউরোপ বা আমেরিকার আদলে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামের একটি পারিবারিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ফলে একটি একক ডিজিটাল আইডির অধীনেই জানা যাবে কোন কোন পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি ভাতা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় কার্ড বা প্রতিবন্ধী ভাতা সচল থাকবে।’তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যারা বর্তমানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা নতুন এই কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতাটি সারেন্ডার বা ত্যাগ করতে হবে।ভবিষ্যতে কৃষক ও হেলথ কার্ডসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড একীভূত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সামাজিক বাস্তবতায় একই পরিবারে কৃষক, গর্ভবতী মা কিংবা বিধবা থাকতে পারেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সময় যদি দেখা যায়, উপযুক্ত নারীটি ইতোমধ্যে বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, তবে ডাবল বুকিং বন্ধের নিয়ম অনুযায়ী তাকে আগের কম অঙ্কের কার্ডটি সারেন্ডার করতে হবে। তবে তার স্বামী যদি কৃষক কার্ড নেন বা অন্য কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তাহলে তা সচল থাকবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সকল মন্ত্রণালয় মিলে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাই, যাতে এক ক্লিকে বা একটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে উপকারভোগীর সমস্ত তথ্য চলে আসে এবং ডেটাবেজটি সরাসরি এনআইডি যুক্ত থাকে। এটি করতে পারলে ভাতা নিয়ে যেসব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, বিশেষ করে একজনের নামের কার্ডের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে যায়, সেই অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি মেথডে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর জীবনযাত্রার মান, ঘরে টেলিভিশন বা ফ্রিজ আছে কিনা কিংবা বাড়ির ছাদের অবস্থা কেমন, এমন নানা সূচকে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৮১৪-এর নিচে থাকা ‘অতি দরিদ্র’ পরিবারগুলোই কেবল এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে।’ফারজানা শারমীন বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হল প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যই গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।’ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাইলটিংয়ের উদ্দেশ্যই হল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা। যেখানেই অনিয়ম বা কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সেখানে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সরকার ও উপকারভোগীর মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি।’
৬ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সকল সুবিধা

আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সকল সুবিধা

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। অর্থ্যাৎ একই ব্যক্তি বা পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন ভাতা পাওয়ার দ্বৈততা (ডাবল বুকিং) বন্ধ হবে। পাশাপাশি প্রকৃত অভাবী ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে যাবে।প্রস্তাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার। এটি চালু হলে মাত্র একটি কার্ড ও কিউআর কোডের মাধ্যমেই প্রান্তিক মানুষেরা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা পাবেন।সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। এছাড়াও বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’- এর অগ্রগতি, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মূলত ফেজ বাই ফেজ বা পর্যায়ক্রমে গ্রাজুয়ালি অগ্রসর হচ্ছি। এই কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। পাইলটিং মূলত করাই হয় ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর জন্য। যেন মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো আইডেন্টিফাই করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা যায়।’কার্ড বিতরণে প্রান্তিক মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত যারা বেনিফিশিয়ারি, তারা এই কার্ড পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন। তবে যেহেতু আমরা একটি একটি ওয়ার্ড করে দিচ্ছি, তাই পার্শ্ববর্তী অনান্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলার মানুষের মধ্যেও তীব্র আকাঙক্ষা তৈরি হয়েছে। তাদেরও মনে হচ্ছে, এ সুবিধা কখন পাবেন! এই ব্যাপক চাহিদাই বলে দিচ্ছে, আমরা যে উদ্দেশ্যে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি নিয়েছি, তা সফলভাবে লক্ষ্য পূরণ করছে। সরকার গঠনের শুরুতেই এটি হাতে নেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক ও দায়বদ্ধ।’তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির প্রধান কাজ হচ্ছে উপকারভোগীদের কাছে ঠিকমতো টাকা পৌঁছানো। অর্থাৎ যার টাকা সে যেন সরাসরি পায়। এটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডেটা ফাইন্ডিং করা হচ্ছে। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আরও ২০টি ওয়ার্ডে এই কার্ড চালু করা হয়। ফারজানা শারমীন আরও জানান, আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এসব এলাকায় মাঠ পর্যায় থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করে কার্ড বিতরণ করা হবে।ইউরোপ বা আমেরিকার আদলে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামের একটি পারিবারিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ফলে একটি একক ডিজিটাল আইডির অধীনেই জানা যাবে কোন কোন পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি ভাতা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় কার্ড বা প্রতিবন্ধী ভাতা সচল থাকবে।’তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যারা বর্তমানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা নতুন এই কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতাটি সারেন্ডার বা ত্যাগ করতে হবে।ভবিষ্যতে কৃষক ও হেলথ কার্ডসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড একীভূত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সামাজিক বাস্তবতায় একই পরিবারে কৃষক, গর্ভবতী মা কিংবা বিধবা থাকতে পারেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সময় যদি দেখা যায়, উপযুক্ত নারীটি ইতোমধ্যে বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, তবে ডাবল বুকিং বন্ধের নিয়ম অনুযায়ী তাকে আগের কম অঙ্কের কার্ডটি সারেন্ডার করতে হবে। তবে তার স্বামী যদি কৃষক কার্ড নেন বা অন্য কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তাহলে তা সচল থাকবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সকল মন্ত্রণালয় মিলে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাই, যাতে এক ক্লিকে বা একটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে উপকারভোগীর সমস্ত তথ্য চলে আসে এবং ডেটাবেজটি সরাসরি এনআইডি যুক্ত থাকে। এটি করতে পারলে ভাতা নিয়ে যেসব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, বিশেষ করে একজনের নামের কার্ডের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে যায়, সেই অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি মেথডে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর জীবনযাত্রার মান, ঘরে টেলিভিশন বা ফ্রিজ আছে কিনা কিংবা বাড়ির ছাদের অবস্থা কেমন, এমন নানা সূচকে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৮১৪-এর নিচে থাকা ‘অতি দরিদ্র’ পরিবারগুলোই কেবল এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে।’ফারজানা শারমীন বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হল প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যই গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।’ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাইলটিংয়ের উদ্দেশ্যই হল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা। যেখানেই অনিয়ম বা কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সেখানে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সরকার ও উপকারভোগীর মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি।’
৬ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনাবাহিনী মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া শুরু হলো।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, (১৯ মে, ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬) পর্যন্ত রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার বিষয়ক একটি মহড়া পরিচালনা করছে।’রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত আছে, তা পরীক্ষা করা।
১৯ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে উপাচার্যের সাক্ষাতের সময় ও নিয়ম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে বসে থাকার বদভ্যাস ভাঙতেই নতুন উপাচার্য যোগ দিয়েই এই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়। এর আগে গত ১৬ মে জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, পূর্বের উপাচার্যদের সময় থেকেই কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের দাপ্তরিক কাজ ফেলে দীর্ঘসময় উপাচার্যের দপ্তরে অবস্থান করতেন। নতুন উপাচার্য যোগদানের পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা ও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। মূলত দপ্তরে এই অহেতুক ভিড় এড়াতে, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং আগের আমলের এই অপসংস্কৃতি ভাঙতেই নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে অতি জরুরি বিষয় ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকতে হবে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কার্যদিবসে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে। তবে এর জন্য যথাযথ মাধ্যম অনুসরণ করে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পূর্বানুমতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
১৮ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চান্দিনায় কৃষকদের মাঝে কম্বাইন্ড রিপার মেশিন বিতরণ

চান্দিনায় কৃষকদের মাঝে কম্বাইন্ড রিপার মেশিন বিতরণ

কুমিল্লার চান্দিনায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণের আওতায় সমলয় চাষাবাদ ও কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র ‘রিপার মেশিন’ বিতরণ করা হয়েছে।  বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং চান্দিনা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মেশিন হস্তান্তর করা হয়। চান্দিনা পৌরসভাসহ উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়নে এই রিপার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দিনা আসনের সংসদ সদস্য জনাব আতিকুল আলম শাওন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোরশেদ আলম, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার লিটন চন্দ্র দত্ত এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।এদিন উপজেলার মাইজখার, এতবারপুর, বাড়েরা, বরকইট, জোয়াগ, নবাবপুর, মহিচাইল, বাতাঘাসি ও কেরনখাল ইউনিয়ন এবং চান্দিনা পৌরসভার সুফলভোগী কৃষকদের হাতে এই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি শ্রমিকের সংকট দূর হয়ে দ্রুত সময়ে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। তিনি কৃষকদের এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক এই রিপার মেশিনের সাহায্যে কৃষকরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে এবং অল্প সময়ে মাঠের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র