শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক সংহতি বার্তায় এসব কথা বলেন নেহা বোরা। বার্তাটি সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতে বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বাংলাদেশ ও ভারতের আন্দোলনের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে উল্লেখ করে নেহা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। একইভাবে ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণেরাও ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন।ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, ভারতের তরুণেরাও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার তুলনা করে নেহা বোরা শিক্ষার গেরুয়াকরণ ও একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তচিন্তার পরিসর সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিল, সেই প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা বোরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের তরুণদের পারস্পরিক সহযোগিতা একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ভারতে তরুণদের আন্দোলনে নেহা বোরা অন্যতম আলোচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তাঁর উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ে। নাট্যকর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে তিনি নির্বাচনি সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিবেশ এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নিয়ে সরব রয়েছেন।
১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং এবং জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচারের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানান।সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামনের কয়েক মাস গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে সরকারি সংস্থাগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ডেঙ্গু মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় ও করণীয় তুলে ধরার নির্দেশনা দেন তিনি।এ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১৩ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।মঙ্গলবার  (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে । এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বন্ধক নেওয়া (লিজ) ৩০ শতক জমি দিদারের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে কেন্দ্র করে তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাঁকে মারধরও করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন, এরপরও আবার টাকা চাচ্ছে দিদার ও তার সহযোগীরা।আমেনা নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান- অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে আমরা বসবাসের উপযোগী করে তুলছি। কিন্তু দিদার ও তার সহযোগীরা আমাদের ও উপর ও অন্যায় করছে।আমরা বিচার চাই।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।আরেক বাসিন্দা খলিল অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের ভাই ও ভাগিনা পরিচয় দেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা ফারুক মাঝি অভিযোগ করে বলেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, জমি দখলসহ নানা ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
১৩ অক্টোবর ২০২৬
শরণার্থী না হয়ে আশ্রয়দাতা হওয়া আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত: ব্যারিস্টার আরমান

শরণার্থী না হয়ে আশ্রয়দাতা হওয়া আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত: ব্যারিস্টার আরমান

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজার যাওয়ার পথে নিজের অনুভূতি ও ইতিহাসের নানা দিক তুলে ধরে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া ওই পোস্টে তিনি মুসলিম ইতিহাসে মক্কা থেকে হিজরতকারী সাহাবিদের অভিজ্ঞতা, মদিনার আনসারদের আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।ব্যারিস্টার আরমান লেখেন, মক্কার বিত্তবান সাহাবিরা একসময় নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। মক্কার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আলী (রা.) মদিনায় গিয়ে জীবিকার জন্য শ্রমিকের কাজ করেছেন। অন্যদিকে, মদিনার আনসারদের আতিথেয়তা যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাঙালিরাও একসময় বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী হয়েছিল। শরণার্থী ক্যাম্পে বিতরণ করা খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়েছে অনেককে। অথচ তাঁদের মধ্যে অনেকে নিজ এলাকায় পেশাজীবী ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতার তুলনা করে তিনি লেখেন, ইতিহাসের আবর্তে আজ বাংলাদেশ লাখো মানুষের আশ্রয়দাতা। যাঁরা নিজ দেশে স্বচ্ছল ও সম্মানিত ছিলেন, তাঁরাই আজ বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন।সিরিয়া ও ইউক্রেনের উদাহরণ টেনে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, আল্লাহর হিকমতে কে বাস্তুচ্যুত হবে আর কে আশ্রয়দাতা হবে, তা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। সিরিয়া ও ইউক্রেনের পরিস্থিতি বিশ্ববাসী নিজেদের চোখের সামনেই দেখেছে। এক রাতের ব্যবধানে একটি জাতির বহু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আল্লাহ যখন মানুষকে শরণার্থী না বানিয়ে অন্যকে আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, তখন সেই রবের সামনে মানুষের মাথা নত করা উচিত নয় কি?নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন তিনি। আয়াতটিতে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা, ইচ্ছানুযায়ী ক্ষমতা ও সম্মান দান এবং তা প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।পোস্টের শেষাংশে ব্যারিস্টার আরমান লেখেন, সমস্ত কর্তৃত্ব আল্লাহর হাতে। মানুষ তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে।উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সদস্য।
১৮ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

কম খরচে পার্সেল সেবা, তবুও আড়ালে  ডাকবিভাগের সুবিধা

কম খরচে পার্সেল সেবা, তবুও আড়ালে ডাকবিভাগের সুবিধা

পার্সেল পাঠাতে বেসরকারি কুরিয়ার—এটাই যেন সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত চিত্র। অথচ তুলনামূলক কম খরচে সরকারি ডাকঘরেও রয়েছে পার্সেল ও স্পিড পোস্ট সেবা। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্পিড পোস্টে প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত ডাক চার্জ ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজি বা অংশবিশেষে ৫ টাকা। এর সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বা GEP এবং ইলেকট্রনিক চার্জ যোগ হয়। শুধু কম খরচই নয়, স্পিড পোস্টে Track & Tracing সুবিধাও রয়েছে। পার্সেল ডাকঘরে পৌঁছালে প্রাপকের মোবাইলে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা ডাকঘরেও চালু রয়েছে এ সেবা। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্টকোড তালিকায় হাইমচর উপজেলা পোস্ট অফিসের কোড ৩৬৬০ উল্লেখ রয়েছে।তবে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে থমকে আছে এ সেবা। সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে এই সেবার সুফল থেকে।  হাইমচর উপজেলা পোস্টমাস্টার জানান, এখানে স্পিডপোস্ট এর মাধ্যমে যে পার্সেল গুলো আসে তা আমরা বিলি করি এবং কেউ পাঠাতে চাইলে তা আমরা ইস্যূ করি করি। ইতি পূর্বে হাইমচর থেকে স্পিড পোস্ট এর মাধ্যমে পার্সেল প্রেরণ করা হয়েছে এবং যে পার্সেল গুলো এসেছে তা আমরা বিলি করেছি। আজকেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পার্সেল এসেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এ সেবা নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় অনেকেই এ বিষয়ে জানেন না। এ বিষয়ে পোস্টমাস্টার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,ইতিপূর্বে  স্থানীয়ভাবে কোন প্রচারণা চালানো হয়নি। তবে , এখন আমাদের বাহিরে পোস্টার এবং লিফলেট করে প্রচারণার উদ্যোগ  রয়েছে। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পার্সেল পাঠাতে কত খরচ লাগে?ডাক বিভাগের বর্তমান প্রকাশিত তথ্য  অনুযায়ী, স্পিড পোস্টে প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজি বা তার অংশবিশেষের জন্য ৫ টাকা। এর সঙ্গে ৩ টাকা রেজিস্ট্রেশন চার্জ অথবা ৫ টাকা GEP চার্জ এবং ১ টাকা ইলেকট্রনিক চার্জ প্রযোজ্য। স্পিড পোস্টের সর্বোচ্চ ওজনসীমা ৩০ কেজি। কীভাবে স্পিড পোস্টে পার্সেল পাঠাবেন?প্রথমে পার্সেলটি ভালো ভাবে প্যাকেট করতে হবে। এরপর প্রেরক ও প্রাপকের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, উপজেলা/থানা, জেলা, পোস্টকোড এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে। বিশেষ করে স্পিড পোস্টে মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক। পার্সেল ডাকঘরের কাউন্টারে জমা দেওয়ার পর ওজন অনুযায়ী টাকা  পরিশোধ করে বুকিং করা হয়। বুকিংয়ের পর পাওয়া ট্র্যাকিং তথ্য ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানা যায়। পার্সেল গন্তব্য ডাকঘরে পৌঁছালে প্রাপকের মোবাইলে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে এবং ওই স্থানীয়  পোষ্ট অফিস থেকেও ফোনকলে জানানো হয়। তবে স্পিড পোস্টে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেই; সংশ্লিষ্ট ডাকঘর থেকে পার্সেল সংগ্রহ করতে হয়। হাইমচরের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য পার্সেল পাঠানোর খরচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পণ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দূরের কোনো এলাকায় পাঠাতে প্রতিবার বেশি পরিবহন ব্যয় হলে ব্যবসার ওপরও তার প্রভাব পড়ে।সরকারি ডাকঘরের তুলনামূলক সাশ্রয়ী স্পিড পোস্ট সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতে পারলে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এ সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্যও কম খরচে পণ্য পাঠানোর একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি সরকারের ও বিপুল রাজস্ব আয়ের পথ হবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু ডাকঘরের ভেতরে সেবা চালু রাখার পাশাপাশি বাজার, উপজেলা সদর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হলে সরকারি এই সেবা সম্পর্কে আরও বেশি মানুষ জানতে পারবেন।
১৩ অক্টোবর ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক সংহতি বার্তায় এসব কথা বলেন নেহা বোরা। বার্তাটি সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতে বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বাংলাদেশ ও ভারতের আন্দোলনের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে উল্লেখ করে নেহা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। একইভাবে ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণেরাও ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন।ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, ভারতের তরুণেরাও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার তুলনা করে নেহা বোরা শিক্ষার গেরুয়াকরণ ও একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তচিন্তার পরিসর সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিল, সেই প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা বোরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের তরুণদের পারস্পরিক সহযোগিতা একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ভারতে তরুণদের আন্দোলনে নেহা বোরা অন্যতম আলোচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তাঁর উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ে। নাট্যকর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে তিনি নির্বাচনি সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিবেশ এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নিয়ে সরব রয়েছেন।
১৪ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

শরণার্থী না হয়ে আশ্রয়দাতা হওয়া আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত: ব্যারিস্টার আরমান

শরণার্থী না হয়ে আশ্রয়দাতা হওয়া আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত: ব্যারিস্টার আরমান

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজার যাওয়ার পথে নিজের অনুভূতি ও ইতিহাসের নানা দিক তুলে ধরে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া ওই পোস্টে তিনি মুসলিম ইতিহাসে মক্কা থেকে হিজরতকারী সাহাবিদের অভিজ্ঞতা, মদিনার আনসারদের আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।ব্যারিস্টার আরমান লেখেন, মক্কার বিত্তবান সাহাবিরা একসময় নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। মক্কার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আলী (রা.) মদিনায় গিয়ে জীবিকার জন্য শ্রমিকের কাজ করেছেন। অন্যদিকে, মদিনার আনসারদের আতিথেয়তা যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাঙালিরাও একসময় বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী হয়েছিল। শরণার্থী ক্যাম্পে বিতরণ করা খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়েছে অনেককে। অথচ তাঁদের মধ্যে অনেকে নিজ এলাকায় পেশাজীবী ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতার তুলনা করে তিনি লেখেন, ইতিহাসের আবর্তে আজ বাংলাদেশ লাখো মানুষের আশ্রয়দাতা। যাঁরা নিজ দেশে স্বচ্ছল ও সম্মানিত ছিলেন, তাঁরাই আজ বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন।সিরিয়া ও ইউক্রেনের উদাহরণ টেনে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, আল্লাহর হিকমতে কে বাস্তুচ্যুত হবে আর কে আশ্রয়দাতা হবে, তা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। সিরিয়া ও ইউক্রেনের পরিস্থিতি বিশ্ববাসী নিজেদের চোখের সামনেই দেখেছে। এক রাতের ব্যবধানে একটি জাতির বহু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আল্লাহ যখন মানুষকে শরণার্থী না বানিয়ে অন্যকে আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, তখন সেই রবের সামনে মানুষের মাথা নত করা উচিত নয় কি?নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন তিনি। আয়াতটিতে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা, ইচ্ছানুযায়ী ক্ষমতা ও সম্মান দান এবং তা প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।পোস্টের শেষাংশে ব্যারিস্টার আরমান লেখেন, সমস্ত কর্তৃত্ব আল্লাহর হাতে। মানুষ তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে।উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সদস্য।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাকা চুরির অভিযোগে মারধর, খুঁটিতে বাঁধা যুবকের মিলল মরদেহ; আটক ২

টাকা চুরির অভিযোগে মারধর, খুঁটিতে বাঁধা যুবকের মিলল মরদেহ; আটক ২

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত

মতামত

পানি আছে, তবু সংকট কেন

পানি আছে, তবু সংকট কেন

বাংলাদেশকে নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও ভূগর্ভস্থ পানির দেশ বলা হয়। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি যেন অতিরিক্ত, আবার শুষ্ক মৌসুমে একই দেশের মানুষকে এক কলস নিরাপদ পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। উপকূলের কোনো পরিবার লবণাক্ততার কারণে মিঠা পানির সন্ধানে দূরে যায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর ঢাকার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মে পানির চাপ কমে যায়। তাহলে প্রশ্নটি স্বাভাবিক: পানি সমৃদ্ধ দেশে পানির সংকট কেন?সমস্যাটি আসলে পানির পরিমাণের চেয়ে পানির প্রাপ্যতা, গুণমান, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের। বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রচুর হলেও সেই পানির বড় অংশ বর্ষাকালে দ্রুত নদী দিয়ে সাগরে চলে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি ধরে রাখার সক্ষমতা সীমিত। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ষার পানি সংরক্ষণের সীমিত অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।এই ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ ঢাকা। শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভ থেকে আসে এবং অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর বছরে কয়েক মিটার পর্যন্ত নেমেছে। একই সময়ে নদী ও জলাশয়গুলো দূষিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সহজে ব্যবহারযোগ্য পৃষ্ঠের পানির উৎসও সংকুচিত হয়েছে।এখানেই বাংলাদেশের পানি সংকটের একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যায়। আমরা পানি তুলছি, কিন্তু পানি ধরে রাখছি না। জলাভূমি ভরাট করছি, খাল দখল বা সংকুচিত করছি, নদীতে বর্জ্য ফেলছি; আবার বৃষ্টির পানি চলে যাওয়ার পর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করছি। অর্থাৎ পানি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত প্রাকৃতিক চক্র হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সম্পদ উত্তোলনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছি।কৃষিও এই চাপের বড় অংশ তৈরি করে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা অনেক এলাকায় বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩২ ঘনকিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। একই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার সম্মিলিত ঝুঁকিও দেখানো হয়েছে।তবে শুধু ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়াই সমস্যা নয়। পানি থাকলেও সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য বলছে, দেশের ৯৮.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত মৌলিক পানীয় পানির সুবিধা পেলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, গৃহস্থালি পর্যায়ে সংগৃহীত পানির ৮৪.৯ শতাংশে ই-কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে।উপকূলীয় অঞ্চলে সংকটটির চরিত্র আবার ভিন্ন। সেখানে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মিঠা পানির উৎসের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে দেশের এক অংশে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন যেমন সমস্যা, অন্য অংশে মিঠা পানির উৎসে লবণাক্ততা তেমনি বড় বাধা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবার খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষির নির্ভরতা ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করছে। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ জেলায় অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা নির্ধারণের প্রকল্প নিয়েছে, যা সমস্যাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নির্দেশ করে।অবশ্য উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও নগরায়ণের জন্য পানির ব্যবহার বাড়বে, সেটি স্বাভাবিক। তাই সমাধান পানি ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং কোথায় কত পানি উত্তোলন করা যাবে, কোথায় পানি সংরক্ষণ করা দরকার এবং কোন উৎস কোন কাজে ব্যবহারযোগ্য, সেই ব্যবস্থাপনা বদলানো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাভূমি ও খাল পুনরুদ্ধার, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার এবং শহরের পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ব্যবহারের তথ্য, উত্তোলনের পরিমাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে নিয়মিত ও উন্মুক্ত তথ্য প্রয়োজন।বাংলাদেশের পানি সংকট তাই পানির অভাবের সরল গল্প নয়। এটি একদিকে অতিরিক্ত পানি, অন্যদিকে অনুপস্থিত মিঠা পানি; একদিকে দূষিত নদী, অন্যদিকে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর; একদিকে বর্ষার জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমের তৃষ্ণার গল্প। পানি সমৃদ্ধ দেশ হওয়া আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা। কিন্তু সেই সুবিধা স্থায়ী সম্পদে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমরা পানিকে কতটা পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারছি তার ওপর। প্রশ্নটি তাই ‘বাংলাদেশে পানি আছে কি না’ নয়, বরং আমাদের প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় জায়গায়, নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা আছে কি না।
তানজিদ শুভ্র