সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বিসিবি থেকে পদত্যাগ করলেন মীর শাকরুল আলম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন কমিটি গঠনের মাত্র একদিনের মাথায় পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির পুত্র মীর শাকরুল আলম সীমান্ত সোমবার (৮ জুন, ২০২৬) বিসিবি সভাপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। চিঠিতে তিনি ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণ উল্লেখ করে বলেন, বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চল থেকে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তার পিতা সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। এ কারণে বিসিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না।তিনি আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিসিবি সভাপতির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, রাজশাহী অঞ্চল থেকে একক প্রার্থী হওয়ায় মীর শাকরুল আলম সীমান্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনের আগেই তিনি পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন না করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার একদিনের মধ্যেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।
২ ঘন্টা আগে

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও সমাবেশ

নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।সোমবার (৮ জুন) সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী বাজারে এ কর্মসূচির আয়োজন করে চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।বিক্ষোভ মিছিলটি চরএলাহী বাজার থেকে শুরু হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক ও বাদামতলা বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চরএলাহী বাজারের জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।সমাবেশে বক্তব্য দেন চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসেন মেম্বার, চরএলাহী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন তোতা, সাবেক সহ-সভাপতি মহিন উদ্দিন এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক রুবেলসহ স্থানীয় নেতারা।বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা দাবি করেন, নোয়াখালীর কালাদরাপ ইউনিয়নে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর ঘটনা তারই অংশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।বক্তারা আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
৯ ঘন্টা আগে

ইউনূস-নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হাম ও রুবেলার ভ্যাকসিন (টিকা) যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা এবং টিকার অভাবে দেশব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় এই মামলার আবেদন করেন।আবেদনের পর এ বিষয়ে শুনানির আবেদন গৃহীতের বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ।মামলায় আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান উপস্থিত আছেন।​মামলার অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করা হয়। তবে ১ নম্বর আসামি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়মিত টিকা আমদানির যে প্রচলিত প্রক্রিয়া ছিল, তা আসামিদের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়, যার ফলে দেশে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।​অভিযোগে আরো বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স (যিনি মামলার ২ নম্বর সাক্ষী) গত ২০ মে গণমাধ্যমে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে ১ থেকে ৫ নম্বর আসামির দপ্তরের ৫-৬টি চিঠির মাধ্যমে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম অবহেলা প্রদর্শন করে সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি।টিকা না পাওয়ার কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করে। মামলার আরজিতে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি হিসাব মতেই গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫,৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। টিকার অভাবে সরকারি তথ্যমতেই দেশে প্রায় ৬১০ জন কোমলমতি শিশুর নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং প্রায় ৭৫,৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।​অভিযোগে নির্দিষ্ট করে কতিপয় শিশুর মৃত্যুর বিবরণ দিয়ে বলা হয়, বিগত ২ জুন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের হারুনুর রশিদ ও ইশরাত জাহান দম্পতির সন্তান আবদুল্লাহ আল ফাহিম এবং ২২ মে আবদুল্লাহ আল নোমান নামে আরেক শিশু ঢাকার হাসপাতালে মারা যায়। এছাড়া ২২ এপ্রিল জাফরজান ইসলাম ও হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাইয়াজ হাসান তাজিম ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।​বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভিআইপি ব্যক্তি হওয়ায় স্থানীয় বনানী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আদালত বরাবর দায়ের করার পরামর্শ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে জেলহাজতে আটকে রাখার এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের প্রার্থনা করা হয়েছে।
১০ ঘন্টা আগে
ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

পাঁচ সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকার পর প্রথমবারের মতো একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর পর ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধ থামাতে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর রোববার রাতে ইরান ইসরাইলে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরাইল ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ইসরাইলের পাল্টা হামলার মাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সংযম প্রদর্শনের বিষয়ে মিত্র ট্রাম্পের আহ্বান অগ্রাহ্য করেছেন বলেই মনে হচ্ছে। দুই নেতার সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও ইরানকে অবিলম্বে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করতে হবে। — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’কয়েক মিনিট পর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, শান্তির লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে চলছে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলি হামলার পর তেহরান এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।লেবাননের রাজধানীতে হামলা হলে ইসরাইলে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে আসছিল ইরান।নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুদ্ধাবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় জ্বালানি ও পণ্যের বৈশ্বিক সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে।কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘প্রভাবিত’ হতে পারেমধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সম্পৃক্ততায় সংঘাতের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, ঠিক তখনই এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ‘এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা প্রভাবিত হওয়াটা পুরোপুরি স্বাভাবিক।’তবে তিনি বলেন, ‘সব পরিস্থিতিতেই কূটনৈতিক আলোচনা স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।’তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবন কেঁপে ওঠে একটি বড় বিস্ফোরণে। পরে আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা সম্ভবত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছিল বলে এএফপির এক প্রতিবেদক জানান।ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের আকাশে একটি ‘শত্রু ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কাছে একটি ‘বিশেষ চিঠি’ পৌঁছে দিতে তেহরান সফর করেন। পরে তিনি পাকিস্তানে ফিরে গেছেন বলে পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে।তেহরান বলেছে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ করতে হবে। সেখানে ইসরাইল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।‘বিপজ্জনক খেলা’এ পর্যন্ত ইসরাইল বা ইরান কোনো দেশেই হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। ইসরাইলি এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, রবিবার রাত থেকে ইরান প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে এএফপির সাংবাদিকরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে।ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নফ বিমানঘাঁটি এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি অনুরূপ স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব আঘাত হানা হয়েছে।বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ‘ইসরাইল একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করেছে, যার বিস্তার পুরো অঞ্চলের জ্বালানিসংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত পৌঁছাবে।’তাসনিম বার্তা সংস্থাকে একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ‘জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।’ইয়েমেন থেকেও হামলাইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এপ্রিলের শুরু থেকে এটিই তাদের প্রথম হামলা। একই সঙ্গে তারা লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এ অঞ্চলের আর কোনো উত্তেজনা প্রয়োজন নেই।’এদিকে তেহরানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কার হাতে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা মুজতবা খামেনি মার্চে তাঁর বাবা আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর এখনো জনসমক্ষে আসেননি।সোমবার তেহরানে অবশ্য যুদ্ধাবস্থার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় ক্যাফেগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল, আর মোটরসাইকেলগুলো দ্রুতগতিতে দুপুরের যানজটের ভেতর দিয়ে চলাচল করছিল বলে এএফপির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন।তবে সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় সড়কে যানবাহন কিছুটা কম ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অনেকে বাড়িতেই অবস্থান করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে।রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই।তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্তই আমি নিই। সে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না।’
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৭ জুন

ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৭ জুন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।আজ ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে, তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন।আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।পরে গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলায় দ-বিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।তবে, ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন।
১৪ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিটিভিকে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার

বিটিভিকে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সর্বমাধ্যম (অল মিডিয়া) সম্প্রচারস্বত্ব সরাসরি ফিফা থেকে ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে ফিফার কাছ থেকে এই সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের অনুমোদন চেয়ে কমিটির কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে।প্রস্তাব অনুযায়ী, এ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ে মোট চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।প্রস্তাবের আওতায়, বিটিভি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ অর্জন করবে। যার ফলে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটি প্রস্তাবটির কারিগরি ও আর্থিক দিকসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র সাথে সরাসরি এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।সরকারি সম্প্রচার সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার বড় বড় আসর পৌঁছে দেওয়ার সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলনই এই উদ্যোগ।প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর, দেশব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা বিটিভির মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সরাসরি সম্প্রচার এবং এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।
০৭ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

পাঁচ সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকার পর প্রথমবারের মতো একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর পর ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধ থামাতে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর রোববার রাতে ইরান ইসরাইলে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরাইল ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ইসরাইলের পাল্টা হামলার মাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সংযম প্রদর্শনের বিষয়ে মিত্র ট্রাম্পের আহ্বান অগ্রাহ্য করেছেন বলেই মনে হচ্ছে। দুই নেতার সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও ইরানকে অবিলম্বে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করতে হবে। — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’কয়েক মিনিট পর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, শান্তির লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে চলছে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলি হামলার পর তেহরান এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।লেবাননের রাজধানীতে হামলা হলে ইসরাইলে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে আসছিল ইরান।নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুদ্ধাবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় জ্বালানি ও পণ্যের বৈশ্বিক সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে।কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘প্রভাবিত’ হতে পারেমধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সম্পৃক্ততায় সংঘাতের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, ঠিক তখনই এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ‘এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা প্রভাবিত হওয়াটা পুরোপুরি স্বাভাবিক।’তবে তিনি বলেন, ‘সব পরিস্থিতিতেই কূটনৈতিক আলোচনা স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।’তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবন কেঁপে ওঠে একটি বড় বিস্ফোরণে। পরে আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা সম্ভবত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছিল বলে এএফপির এক প্রতিবেদক জানান।ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের আকাশে একটি ‘শত্রু ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কাছে একটি ‘বিশেষ চিঠি’ পৌঁছে দিতে তেহরান সফর করেন। পরে তিনি পাকিস্তানে ফিরে গেছেন বলে পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে।তেহরান বলেছে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ করতে হবে। সেখানে ইসরাইল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।‘বিপজ্জনক খেলা’এ পর্যন্ত ইসরাইল বা ইরান কোনো দেশেই হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। ইসরাইলি এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, রবিবার রাত থেকে ইরান প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে এএফপির সাংবাদিকরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে।ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নফ বিমানঘাঁটি এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি অনুরূপ স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব আঘাত হানা হয়েছে।বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ‘ইসরাইল একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করেছে, যার বিস্তার পুরো অঞ্চলের জ্বালানিসংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত পৌঁছাবে।’তাসনিম বার্তা সংস্থাকে একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ‘জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।’ইয়েমেন থেকেও হামলাইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এপ্রিলের শুরু থেকে এটিই তাদের প্রথম হামলা। একই সঙ্গে তারা লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এ অঞ্চলের আর কোনো উত্তেজনা প্রয়োজন নেই।’এদিকে তেহরানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কার হাতে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা মুজতবা খামেনি মার্চে তাঁর বাবা আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর এখনো জনসমক্ষে আসেননি।সোমবার তেহরানে অবশ্য যুদ্ধাবস্থার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় ক্যাফেগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল, আর মোটরসাইকেলগুলো দ্রুতগতিতে দুপুরের যানজটের ভেতর দিয়ে চলাচল করছিল বলে এএফপির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন।তবে সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় সড়কে যানবাহন কিছুটা কম ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অনেকে বাড়িতেই অবস্থান করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে।রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই।তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্তই আমি নিই। সে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না।’
১ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
১৩ মে ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

১৩ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও সমাবেশ

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও সমাবেশ

নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।সোমবার (৮ জুন) সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী বাজারে এ কর্মসূচির আয়োজন করে চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।বিক্ষোভ মিছিলটি চরএলাহী বাজার থেকে শুরু হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক ও বাদামতলা বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চরএলাহী বাজারের জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।সমাবেশে বক্তব্য দেন চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসেন মেম্বার, চরএলাহী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন তোতা, সাবেক সহ-সভাপতি মহিন উদ্দিন এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক রুবেলসহ স্থানীয় নেতারা।বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা দাবি করেন, নোয়াখালীর কালাদরাপ ইউনিয়নে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর ঘটনা তারই অংশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।বক্তারা আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
১৩ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি