বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের কুপিয়ে জখম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনায় চার মাদকসেবিকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার (২ই জুন) দুপুরে মাদক ব্যবসায়ী পৌর সদরের শ্রীপুর গ্রামের বাবু নামে এক মাদকসেবি জেল থেকে বেরিয়ে বাদী ও সাক্ষীসহ ৭জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। হামলায় আহতরা হলো; জোনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন। আহতরা সকলে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের যুবক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মাদক সেবকি আটক করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকসেবন ও মাদককেন্দ্রিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন যাত্রাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। অবশেষে গত ১ জুন এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাত্রাপুর এলাকায় মাদকসেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন যাত্রাপুরের শাহজাহান মিয়া, শ্রীপুর পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন ও ওয়াসীম এবং ফেলনা গ্রামের মুসা।ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে আবুল বাশার নামে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি এলাকার মাদক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। এলাকাবাসীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করাই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।কিন্তু গ্রেপ্তারের পর আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) বাদী আবুল বাশার এবং মামলার সাক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণেই বাদী ও সাক্ষীদের টার্গেট করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠতেই একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের হামলার পথ বেছে নিয়েছে।এলাকাবাসী বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে।”ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়, তাহলে তা শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো সমাজের মাদকবিরোধী অবস্থানের ওপর আঘাত। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।অভিযুক্ত বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
০২ জুন ২০২৬

লোক সংগীতের আধুনিক রূপকার হাবিব ওয়াহিদ

কামরান চৌধুরী:বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এমন কিছু শিল্পী রয়েছেন, যাঁরা শুধু গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেননি, বরং সংগীতের ধারাকেই নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ সেই সকল শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি বাংলা গানে আধুনিকতার ছোঁয়া এনেছেন, আবার একই সঙ্গে লোকসংগীতের শিকড়কেও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস এর পরিবারে জন্ম নেওয়া হাবিব ছোটোবেলা থেকেই সংগীতের আবহে বেড়ে ওঠেন। বিদেশে সংগীত প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি দেশে ফিরে বাংলা গানে নতুন ধরনের সাউন্ড ও সংগীতায়োজনের প্রয়োগ শুরু করেন। তাঁর সংগীতজীবনের প্রত্যাবর্তন হয় ২০০৩ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘কৃষ্ণ’ এর মাধ্যমে। সিলেটের লোকশিল্পী ও গীতিকার শাহ্ আবদুল করিমের এই গানটিকে আধুনিক সংগীতের কাঠামোয় উপস্থাপন করে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলা গানের শ্রোতারা যেন প্রথমবারের মতো লোকসংগীতের এক নতুন রূপের সঙ্গে পরিচিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, লোকসংগীত কেবল গ্রামীণ জনপদের সম্পদ নয় বরং এটি সঠিক উপস্থাপনায় তা বিশ্বসংগীতের পরিমণ্ডলেও সমাদৃত হতে পারে। তাঁর সুর ও সংগীতে গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, একই সঙ্গে বিশ্ব দরবারেও পৌঁছে গেছে।তাঁর প্রথম ‘কৃষ্ণ’-এর সাফল্যের পর হাবিব ওয়াহিদ থেমে থাকেননি। একের পর এক প্রকাশ করেন ‘মায়া’, ‘ময়না গো’, ‘শোনো’ ও ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’র মতো জনপ্রিয় অ্যালবাম। এসব অ্যালবামের গান শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই পায়নি, বরং তরুণ প্রজন্মের সংগীত রুচিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল দিয়েছেন জাদুকরী সুর। দেশের কিছু চলচ্চিত্রেও রয়েছেও তাঁর অসাধারণ মুন্সীয়ানা। তাছাড়া লোকগানের সুর, গ্রামীণ জীবনের আবেগ এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক সংগীতের সমন্বয়ে তিনি এমন এক ধারা তৈরি করেন, যা বাংলা গানের জগতে স্বতন্ত্র পরিচয় লাভ করে। তাঁর সংগীতায়োজনে ‘দিন গেল’, ‘ভালোবাসবো বাসবো রে’ কিংবা 'পাঞ্জাবিওয়ালা’র মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলার আধুনিক সংগীত জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে আছেন। লোকগীতির ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সংগীতধারার সঙ্গে সংযুক্ত করে তিনি যে পথ নির্মাণ করেছেন, তা বাংলা সংগীতের ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাই হাবিব ওয়াহিদকে শুধু একজন সফল শিল্পী বা সুরকার হিসেবে নয়, বরং লোকগীতির আধুনিক রূপকার হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয়। লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক
০২ জুন ২০২৬

চৌদ্দগ্রামে বশির হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবু তাহের গ্রেপ্তার

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আলোচিত রাজমিস্ত্রী বশির উদ্দিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবু তাহের (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় পৌরসভার রামরায়গ্রাম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই আবুল কালামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রামরায়গ্রামের মৃত বারাক মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে।মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার বৈদ্দেরখিল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন বশির উদ্দিন ও আবু রশিদ। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়।দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান বশির উদ্দিন। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা আবু রশিদের দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে দুটি বসতঘর পুড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে, এতে অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।এ ঘটনায় নিহত বশিরের স্ত্রী বাদী হয়ে আবু তাহেরসহ পাঁচজনকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওসি আরিফ হোছাইন আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আবু তাহেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
০২ জুন ২০২৬
চবির আইন অনুষদে জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ৫ জুন, অংশ নিচ্ছে ৪২ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ১৬ দল

চবির আইন অনুষদে জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ৫ জুন, অংশ নিচ্ছে ৪২ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ১৬ দল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন অনুষদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘প্রফেসর ড. খবির উদ্দিন আহমেদ ন্যাশনাল মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০২৬’। সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজ (এসসিএলএস) এর আয়োজনে আগামী ৫ ও ৬ জুন দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় পর্যায়ের আইনভিত্তিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল’। দেশের আইন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৪২টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি দল লিখিত মেমোরিয়াল জমা দিয়েছে।জমাকৃত মেমোরিয়াল যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে ১৬টি দল মৌখিক সাবমিশন পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি প্রিলিমিনারি রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল এই চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত দলগুলো আইনি গবেষণা, বিশ্লেষণ, যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা এবং আদালতকেন্দ্রিক সাবমিশনের মাধ্যমে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা প্রদর্শন করবে।প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রেজাউল করিম।এছাড়া বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামিম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদূর রউফ এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন) ও জেলা ও দায়রা জজ এ.ই.এম. ইসমাইল হোসেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাফর উল্লাহ তালুকদার, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলএল.এম. অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার শাহ মুহাম্মদ ইজাজ রহমান এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের ডিন এ.বি.এম. ইমদাদুল হক খান।আয়োজকদের মতে, এ প্রতিযোগিতা আইন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা আইনি জ্ঞান, গবেষণা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং যুক্তিনির্ভর বিতর্কে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল’ বিষয়টি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক আইন, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সুরক্ষা ও মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবনের সুযোগ করে দেবে।
২৩ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনকল্যাণমুখী সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে নয়াদিল্লির অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন।ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বার্তায় মোদি বাংলাদেশের ‘ভাতৃপ্রতিম জনগণকে’ ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান।বার্তায় মোদি লিখেছেন, এই পবিত্র উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের কোটি কোটি মুসলিম অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করছেন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদুল আজহার ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শাশ্বত আদর্শকে সমুন্নত রাখে, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।ভারতের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, যৌথ আত্মত্যাগ, সাংস্কৃতিক মিল এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পারস্পরিক আকাক্সক্ষার ওপর ভিত্তি করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনমুখী পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।মোদি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্বিপাক্ষিক অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্য ও ভাবনা দুই দেশের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও  কল্যাণ কামনা করেন এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
২৮ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনাবাহিনী মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া শুরু হলো।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, (১৯ মে, ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬) পর্যন্ত রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার বিষয়ক একটি মহড়া পরিচালনা করছে।’রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত আছে, তা পরীক্ষা করা।
১৯ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় জয় দাস

ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় জয় দাস

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট’-এ ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ জয় দাস। আগামীকাল ৩০ মে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননাটি প্রদান করা হবে।জয় দাস ‘লার্ন উইথ জয়’ (Learn with JOY) উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইংরেজি ভাষা শেখানো, আইইএলটিএস প্রস্তুতি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছেন। বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ উপায়ে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, নেতৃত্ব এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছার স্বীকৃতি হিসেবেই জয় দাসকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তারা এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈশ্বিক শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করবেন জয়। এবারের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগির সাক্ষী মালিক।এই অর্জন নিয়ে জয় দাস বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, এই সম্মাননা শুধু তার একার নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এবং তার সকল শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত অর্জন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা তার জন্য অনেক গর্বের বিষয়।আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন তরুণ বাংলাদেশির এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক উদ্যোগে আরও বেশি উৎসাহ জোগাবে।
২৯ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৮ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৮ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের কুপিয়ে জখম

মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের কুপিয়ে জখম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনায় চার মাদকসেবিকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার (২ই জুন) দুপুরে মাদক ব্যবসায়ী পৌর সদরের শ্রীপুর গ্রামের বাবু নামে এক মাদকসেবি জেল থেকে বেরিয়ে বাদী ও সাক্ষীসহ ৭জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। হামলায় আহতরা হলো; জোনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন। আহতরা সকলে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের যুবক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মাদক সেবকি আটক করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকসেবন ও মাদককেন্দ্রিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন যাত্রাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। অবশেষে গত ১ জুন এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাত্রাপুর এলাকায় মাদকসেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন যাত্রাপুরের শাহজাহান মিয়া, শ্রীপুর পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন ও ওয়াসীম এবং ফেলনা গ্রামের মুসা।ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে আবুল বাশার নামে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি এলাকার মাদক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। এলাকাবাসীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করাই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।কিন্তু গ্রেপ্তারের পর আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) বাদী আবুল বাশার এবং মামলার সাক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণেই বাদী ও সাক্ষীদের টার্গেট করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠতেই একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের হামলার পথ বেছে নিয়েছে।এলাকাবাসী বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে।”ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়, তাহলে তা শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো সমাজের মাদকবিরোধী অবস্থানের ওপর আঘাত। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।অভিযুক্ত বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
১৮ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র