সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

অবিশ্বাস্য অর্জন: মাত্র ১৮ মাসে এশিয়া বুক অব রেকর্ডস-এর গ্র্যান্ড মাস্টার

শিশুরা জন্মগতভাবেই অসীম সম্ভাবনার অধিকারী। সেই সম্ভাবনার বিকাশে প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা। এমনই এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে খাগড়াছড়ির ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল। মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তিনি অর্জন করেছেন Asia Book of Records-এর মর্যাদাপূর্ণ "Grand Master" স্বীকৃতি, যা বাংলাদেশের জন্যও এক গর্বের অর্জন।খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, ছেলের বয়স যখন মাত্র ৭ মাস, তখন থেকেই খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে তাকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরিচিত করানো শুরু হয়। কোনো ধরনের চাপ বা মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে ছবি, খেলনা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন বস্তুর মাধ্যমে শেখানো হতো নতুন নতুন শব্দ।ধীরে ধীরে শেহজাদ ঘরের প্রায় সব জিনিসের নাম ইংরেজিতে চিনতে শেখে। পাশাপাশি ফল, ফুল, পশু-পাখি, যানবাহন ও বিভিন্ন বস্তুর নামও সাবলীলভাবে বলতে শুরু করে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সে প্রথমে ইংরেজিতে শব্দ ও ছোট ছোট বাক্য বলতে শেখে, এরপর ধীরে ধীরে বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করে।শাহজাদের এই অসাধারণ ভাষাগত দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়নের জন্য তার বাবা-মা Asia Book of Records-এর কিডস প্রোগ্রামে আবেদন করেন। মূল্যায়নের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার ৮টি ভিডিও জমা দেওয়া হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকরা শাহজাদকে "Grand Master" স্বীকৃতিতে ভূষিত করেন।এই অর্জনে আনন্দিত পুরো পরিবার। শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন,এটি শুধু আমার সন্তানের সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশেরও সম্মান। বর্তমান বিশ্বে মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই সঠিক পরিবেশ ও উৎসাহ পেলে শিশুরা অসাধারণ কিছু অর্জন করতে পারে।তিনি আরও বলেন, দেশের স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বয়স উপযোগীভাবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে উঠবে।শেহজাদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা, ধৈর্য, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের ইতিবাচক সহযোগিতা। মাত্র ১৮ মাস বয়সে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে শাহজাদ আজ শুধু তার পরিবারের নয়, খাগড়াছড়ি এবং সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব।বাংলাদেশের শিশুদের সম্ভাবনা যে বিশ্বমঞ্চেও স্বীকৃতি পেতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল।
৮ ঘন্টা আগে

সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৫ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে আকামা (বাসস্থান), সীমান্ত নিরাপত্তা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৫ হাজার ২৩১ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।শনিবার (২৭ জুন,২০২৬) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৮৯ জন বাসস্থান আইন, ৪ হাজার ৪৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ১৯৯ জন শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে ১১ হাজার ২৯৭ জন অবৈধ বাসিন্দাকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।এ ছাড়া, ১৫ হাজার ১০৯ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে ভ্রমণ নথি (আউটপাস) সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, ৩ হাজার ৬১৮ জনকে ভ্রমণের টিকিট বুকিং সম্পন্ন করার জন্য পাঠানো হয়েছে।অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৭৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনি, ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।অন্যদিকে, অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টাকালে আরও ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।বর্তমানে ২৪ হাজার ৩৩৪ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৩ জন নারীসহ মোট ২৬ হাজার ৪০৭ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে কাউকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করেন, যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন অথবা আশ্রয় কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা বা পরিষেবা প্রদান করেন, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
১৩ ঘন্টা আগে

ইউনিকর্ন গ্রুপে অনুষ্ঠিত হলো ‘ফুটবল ফিয়েস্তা ও ফল উৎসব’

ঢাকা, ২৭ জুন, ২০২৬: বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনাকে ঘিরে ইউনিকর্ন গ্রুপের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর রামপুরার ইউনিকর্ন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফুটবল ফিয়েস্তা ও ফল উৎসব’। এ উপলক্ষে ছিল আকর্ষণীয় বিশেষ টিভি অফার, প্রিয় দলের জার্সি বিতরণ এবং কর্মী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে আনন্দঘন ফল উৎসব। এতে ইউনিকর্ন পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটি (এবিসি)-এর সভাপতি চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরী, বিবিসি বাংলার স্পোর্টস জার্নালিস্ট ফয়সাল তিতুমীর, ইউসিবি ব্যাংকের এফএভিপি গাজী আশরাফুল আলম, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধি সিফাত শোভন, আজো এলিভেটরের স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদ রনি দেওয়ান, এডভোকেট নাহিদা উর্মিসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে ইউনিকর্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসরুর রহমান পিয়াল, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মামুনুর রশীদ রাজ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আহসান হাবিব ফাহিম, ডিরেক্টর অতশী আক্তার, ইভানা আক্তার, রুমা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ইমপোর্টেড লিফট এর সাথে বিশেষ টিভি অফার ঘোষণা, অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রিয় দলের জার্সি বিতরণ এবং মৌসুমি ফলের সমাহারে আয়োজিত ফল উৎসব। উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত অতিথি ও কর্মীরা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে একটি স্মরণীয় সময় অতিবাহিত করেন।আয়োজকরা জানান, কর্মীদের মধ্যে ঐক্য, উৎসাহ, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুস্থ জীবনধারার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং বিশ্বকাপের আনন্দকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২৩ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার কুশল বিনিময়

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার কুশল বিনিময়

জাতীয় সংসদে দিনের কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে করমর্দন করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তারা পরস্পরের খোঁজখবর নেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কুশল বিনিময় করেন।পরে বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সংসদ কক্ষে এ সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে।
৫৩ মিনিট আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার কুশল বিনিময়

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার কুশল বিনিময়

জাতীয় সংসদে দিনের কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে করমর্দন করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তারা পরস্পরের খোঁজখবর নেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কুশল বিনিময় করেন।পরে বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সংসদ কক্ষে এ সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে।
৫৩ মিনিট আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট, জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট, জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা আরেকটি দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফল আসে ১৯তম মিনিটে, যখন জিওভানি লো সেলসোর গোলে এগিয়ে যায় দলটি। এরপর ৩১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে।দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জর্ডান। ৫৫তম মিনিটে মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। তবে সেই আশা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে লিওনেল মেসি নিজের স্বভাবসুলভ দক্ষতায় গোল করে দলের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।পরিসংখ্যানেও ছিল আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্য। পুরো ম্যাচে তারা ১৩টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বিপরীতে জর্ডান ৫টি শট নিলেও মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। বল দখলেও ছিল বড় ব্যবধান। আর্জেন্টিনা ৭০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, যেখানে জর্ডানের দখলে ছিল ৩০ শতাংশ।পাসিংয়েও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। তারা ৭৮০টি পাস সম্পন্ন করে ৯৩ শতাংশ সফলতার হার ধরে রাখে। এছাড়া কর্নার আদায়েও ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে জর্ডানের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সমীকরণ।
২৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

অবিশ্বাস্য অর্জন: মাত্র ১৮ মাসে এশিয়া বুক অব রেকর্ডস-এর গ্র্যান্ড মাস্টার

অবিশ্বাস্য অর্জন: মাত্র ১৮ মাসে এশিয়া বুক অব রেকর্ডস-এর গ্র্যান্ড মাস্টার

শিশুরা জন্মগতভাবেই অসীম সম্ভাবনার অধিকারী। সেই সম্ভাবনার বিকাশে প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা। এমনই এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে খাগড়াছড়ির ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল। মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তিনি অর্জন করেছেন Asia Book of Records-এর মর্যাদাপূর্ণ "Grand Master" স্বীকৃতি, যা বাংলাদেশের জন্যও এক গর্বের অর্জন।খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, ছেলের বয়স যখন মাত্র ৭ মাস, তখন থেকেই খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে তাকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরিচিত করানো শুরু হয়। কোনো ধরনের চাপ বা মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে ছবি, খেলনা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন বস্তুর মাধ্যমে শেখানো হতো নতুন নতুন শব্দ।ধীরে ধীরে শেহজাদ ঘরের প্রায় সব জিনিসের নাম ইংরেজিতে চিনতে শেখে। পাশাপাশি ফল, ফুল, পশু-পাখি, যানবাহন ও বিভিন্ন বস্তুর নামও সাবলীলভাবে বলতে শুরু করে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সে প্রথমে ইংরেজিতে শব্দ ও ছোট ছোট বাক্য বলতে শেখে, এরপর ধীরে ধীরে বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করে।শাহজাদের এই অসাধারণ ভাষাগত দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়নের জন্য তার বাবা-মা Asia Book of Records-এর কিডস প্রোগ্রামে আবেদন করেন। মূল্যায়নের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার ৮টি ভিডিও জমা দেওয়া হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকরা শাহজাদকে "Grand Master" স্বীকৃতিতে ভূষিত করেন।এই অর্জনে আনন্দিত পুরো পরিবার। শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন,এটি শুধু আমার সন্তানের সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশেরও সম্মান। বর্তমান বিশ্বে মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই সঠিক পরিবেশ ও উৎসাহ পেলে শিশুরা অসাধারণ কিছু অর্জন করতে পারে।তিনি আরও বলেন, দেশের স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বয়স উপযোগীভাবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে উঠবে।শেহজাদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা, ধৈর্য, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের ইতিবাচক সহযোগিতা। মাত্র ১৮ মাস বয়সে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে শাহজাদ আজ শুধু তার পরিবারের নয়, খাগড়াছড়ি এবং সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব।বাংলাদেশের শিশুদের সম্ভাবনা যে বিশ্বমঞ্চেও স্বীকৃতি পেতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল।
৮ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, এখন জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, এখন জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক

এক সময়ের দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা রাতারাতি রঙ বদলে এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গ সংগঠন 'জাতীয় যুব শক্তি'র আহ্বায়ক বনে গেছেন। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ১১নং নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটেছে। দলবদল ও পরিচয় গোপনের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় এবং নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মোঃ জুয়েল, যিনি বর্তমানে ফেসবুকে মেহেদী হাসান জুয়েল নামে পরিচিত। তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলালের ছেলে।অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোঃ জুয়েল হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং প্রথম সারিতে থেকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জোরালো বক্তব্য দিতেন। নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদিত হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তিনি ‘গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে দায়িত্ব পান। এ ছাড়াও তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন এবং ‘সজিব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’ নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুয়েল নিজের অতীত পরিচয় আড়াল করতে এবং নতুন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কৌশলের আশ্রয় নেন। তিনি হঠাৎ করেই নিজের পরিচয় গোপন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাথে রাজনীতি শুরু করেন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছদ্মনাম ব্যবহার শুরু করেন। আগে তার ফেসবুক আইডির নাম ‘নুর মোহাম্মদ জুয়েল’ থাকলেও ৫ আগস্টের পর তা পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মেহেদী হাসান জুয়েল’।অতীত রাজনৈতিক খোলস পাল্টে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ, সদস্য সচিব সাইফুর ইসলাম রাকিব এবং মুখ্য সংগঠক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল স্বাক্ষরিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট নিঝুম দ্বীপ যুব শক্তির এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।রাজনীতিতে ভোল্ট পাল্টানো ছাড়াও এই জুয়েলের বিরুদ্ধে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সরকারি খালসহ একাধিক জায়গা অবৈধভাবে দখলের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কীভাবে পরিচয় গোপন করে রাতারাতি জাতীয় যুব শক্তির মতো একটি সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হলেন, তা নিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান কর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের সুযোগসন্ধানী ও বিতর্কিত ব্যক্তির পুনর্বাসনের ফলে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই কমিটি পুনর্মূল্যায়ন এবং জুয়েলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এই বিষয়ে  জুয়েলের মতামত নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে অফলাইনে অনলাইনে  একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।  তার তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহবায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা জানান- বিগত সরকারের আমলে কেউ রাজনীতির সাথে সংপৃক্ত থাকতে না চাইলেও সাবেক এমপির কাছে সবাই হাজিরা দেওয়া লাগতো আবার জোর করে পদ দিয়ে দেওয়া হতো। জুয়েল ছাত্রলীগের উপজেলা গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ছিলেন এটা সত্য। এখন নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের যুব শক্তির আহ্বায়ক এটাও সত্য।
২০ জুন ২০২৬
হাতিয়ায় আলী বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জাফর, সম্পাদক টুটুল নির্বাচিত

হাতিয়ায় আলী বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জাফর, সম্পাদক টুটুল নির্বাচিত

২০ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২০ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি