বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নোয়াখালীতে এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা

ঘরে কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও আইপিএস। এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেই গত আগস্টে বিদ্যুৎ বিল এসেছিল মাত্র ১ হাজার ৩২৬ টাকা। কিন্তু পরের মাসেই সেই বিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। এমন অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পেয়ে হতবাক গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।‎ঘটনাটি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়ির। ভুক্তভোগী গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি। তাঁর ব্যবহৃত বিদ্যুৎ মিটারটি তাঁর দাদা মৃত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত।‎‎গ্রাহকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ আগের মাসগুলোতে তাঁদের বিদ্যুৎ বিল ছিল স্বাভাবিক। গত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ১৮৭ ইউনিট। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট।‎শহীদুল ইসলাম জানান, তাঁদের বাড়িতে সাধারণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ছাড়া উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কোনো ভারী যন্ত্রপাতি নেই। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন তাঁরা। হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল হাতে পেয়ে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন।‎‎তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভুলের কারণেই এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। বিল নিয়ে আসা কর্মীর কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানো হলে তাঁকে সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।‎‎এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদুল ইসলাম বলেন, ভুল বিল তৈরি হলে তা সংশোধনের জন্য গ্রাহককে কেন হয়রানির শিকার হতে হবে? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।‎‎এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।‎‎পরে বিলের কপি দেখার পর তিনি জানান, ভুলবশত এমন বিল তৈরি হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বিল সংশোধন করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।‎‎এখন গ্রাহকের প্রত্যাশা, দ্রুত মিটার পরীক্ষা করে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল সংশোধন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
১৪ ঘন্টা আগে

গাড়ি থেকে নিজ হাতেই সরকারি স্টিকার খুললেন ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের গাড়ি থেকে সরকারি স্টিকার ও লোগো খুলে ফেলেছেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বাড়ি থেকে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তিনি নিজেই স্টিকারটি সরিয়ে নেন।গণমাধ্যমকে ইশরাক হোসেন জানান, দল থেকে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই পদত্যাগ করছেন। বিশেষ কিছু কারণে তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশে একটি মাঠসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ওই অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করতে দেখা যায়।ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযানের সময়কার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।এদিকে, রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন ওই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।এরপর সোমবার সকালে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেই ধারাবাহিকতায় দুপুরে সরকারি স্টিকার সরিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
১৯ অক্টোবর ২০২৬

১৭ বছর আওয়ামী লীগ করেছে, এখন জামায়াত-শিবির ও এনসিপি করছে: নাছির উদ্দীন

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেছে, এখন জামায়াত-শিবির ও এনসিপি ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। ‎ ‎রোববার রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‎ ‎নাছির উদ্দীন বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। ‎ ‎তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ‎ ‎ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে। ছাত্রদল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাই কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত। ‎ ‎দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ‎ ‎এ সময় নোয়াখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ জাফর উল্যাহ রাসেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলসহ বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ‎ ‎পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
১৯ অক্টোবর ২০২৬
পদত্যাগ হলো বর্তমান সরকারের সর্ট ট্রাম প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

পদত্যাগ হলো বর্তমান সরকারের সর্ট ট্রাম প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপনারা দেখে থাকবেন বর্তমান সরকারের দলে থাকা কেউ কোন অপরাধ করলে তাকে দল থেকে পদত্যাগ করিয়ে তা শেষ করা হয়। ফৌজদারি অপরাধ পদত্যাগে সমাধান যোগ্য নয়। পদত্যাগ হলো বর্তমান সরকারের একটি সর্ট ট্রাম প্যারাসিটামল থেরাপি।কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যেরাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে, এলাহাবাদ গনমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি দক্ষিনাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)।এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে আরও বলেন, মাদক দমনের কাজ হচ্ছে পুলিশের এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। যখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজেই অস্র হাতে মাঠে নামতে বাধ্য হয়, তার মানে বুঝা যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে না- মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করছে না। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, ঘের দখলের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওনি ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, তাকেও পদত্যাগ করা উচিত। পুলিশ সচেষ্ট থাকলে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সচেষ্ট থাকলে আজকে ইশরাক ভাইকে অস্রহাতে রাস্তায় নামতে হতো না। যেটা হয়েছে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়ভার ইশরাক ভাইয়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।আমরা দেখেছি প্রতিমন্ত্রীর পিছনে পাভেল নামের একজন লাইসেন্স বিহীন অস্রহাতে দাঁড়িয়েছিল, ওনার বিচারটা কি হবে? দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা আর কিবা আশা করতে পারি। রাড্ডায় হাসপাতাল ভাংচুরের মতো ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় আমরা দেখেছি পদত্যাগ করিয়ে শেষ হয়ে গেছে। তাহলে মন্ত্রী খুণ করলে তাকে পদত্যাগ করলেই কি সব শেষ হয়ে যাবে? সাধারণ মানুষের বেলায় কি শুধু আইন প্রয়োগ হয়?পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমরা একই সমাজে একসাথে বাস করি। আমাদের সামাজিক সম্প্রিতীর সম্পর্ক অটুট রাখতে হবে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। আপনারা নির্বিঘ্নে পূজা উৎসব পালন করুন। চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর আপনাদের মন্দির আমাদের ভাইয়েরা পাহারা দিয়েছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আপনারা নির্বিঘ্নে পূজা উৎসব পালন করুন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় আমার।এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফয়সল উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নোমান আহমেদ, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রোকসানা, জাতীয় নাগরিক পার্টি দেবীদ্বার উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনীল চক্রবর্তী, জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম হৃদয় এছাড়াও এনসিপি ও এর অংগসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে মন্ডপগুলোতে উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
১০ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

পদত্যাগ হলো বর্তমান সরকারের সর্ট ট্রাম প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

পদত্যাগ হলো বর্তমান সরকারের সর্ট ট্রাম প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপনারা দেখে থাকবেন বর্তমান সরকারের দলে থাকা কেউ কোন অপরাধ করলে তাকে দল থেকে পদত্যাগ করিয়ে তা শেষ করা হয়। ফৌজদারি অপরাধ পদত্যাগে সমাধান যোগ্য নয়। পদত্যাগ হলো বর্তমান সরকারের একটি সর্ট ট্রাম প্যারাসিটামল থেরাপি।কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যেরাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে, এলাহাবাদ গনমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি দক্ষিনাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)।এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে আরও বলেন, মাদক দমনের কাজ হচ্ছে পুলিশের এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। যখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজেই অস্র হাতে মাঠে নামতে বাধ্য হয়, তার মানে বুঝা যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে না- মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করছে না। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, ঘের দখলের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওনি ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, তাকেও পদত্যাগ করা উচিত। পুলিশ সচেষ্ট থাকলে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সচেষ্ট থাকলে আজকে ইশরাক ভাইকে অস্রহাতে রাস্তায় নামতে হতো না। যেটা হয়েছে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়ভার ইশরাক ভাইয়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।আমরা দেখেছি প্রতিমন্ত্রীর পিছনে পাভেল নামের একজন লাইসেন্স বিহীন অস্রহাতে দাঁড়িয়েছিল, ওনার বিচারটা কি হবে? দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা আর কিবা আশা করতে পারি। রাড্ডায় হাসপাতাল ভাংচুরের মতো ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় আমরা দেখেছি পদত্যাগ করিয়ে শেষ হয়ে গেছে। তাহলে মন্ত্রী খুণ করলে তাকে পদত্যাগ করলেই কি সব শেষ হয়ে যাবে? সাধারণ মানুষের বেলায় কি শুধু আইন প্রয়োগ হয়?পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমরা একই সমাজে একসাথে বাস করি। আমাদের সামাজিক সম্প্রিতীর সম্পর্ক অটুট রাখতে হবে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। আপনারা নির্বিঘ্নে পূজা উৎসব পালন করুন। চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর আপনাদের মন্দির আমাদের ভাইয়েরা পাহারা দিয়েছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আপনারা নির্বিঘ্নে পূজা উৎসব পালন করুন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় আমার।এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফয়সল উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নোমান আহমেদ, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রোকসানা, জাতীয় নাগরিক পার্টি দেবীদ্বার উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনীল চক্রবর্তী, জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম হৃদয় এছাড়াও এনসিপি ও এর অংগসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে মন্ডপগুলোতে উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
১০ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২৩ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক সংহতি বার্তায় এসব কথা বলেন নেহা বোরা। বার্তাটি সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতে বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বাংলাদেশ ও ভারতের আন্দোলনের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে উল্লেখ করে নেহা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। একইভাবে ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণেরাও ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন।ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, ভারতের তরুণেরাও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার তুলনা করে নেহা বোরা শিক্ষার গেরুয়াকরণ ও একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তচিন্তার পরিসর সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিল, সেই প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা বোরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের তরুণদের পারস্পরিক সহযোগিতা একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ভারতে তরুণদের আন্দোলনে নেহা বোরা অন্যতম আলোচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তাঁর উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ে। নাট্যকর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে তিনি নির্বাচনি সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিবেশ এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নিয়ে সরব রয়েছেন।
১৪ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

নোয়াখালীতে এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা

নোয়াখালীতে এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা

ঘরে কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও আইপিএস। এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেই গত আগস্টে বিদ্যুৎ বিল এসেছিল মাত্র ১ হাজার ৩২৬ টাকা। কিন্তু পরের মাসেই সেই বিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। এমন অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পেয়ে হতবাক গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।‎ঘটনাটি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়ির। ভুক্তভোগী গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি। তাঁর ব্যবহৃত বিদ্যুৎ মিটারটি তাঁর দাদা মৃত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত।‎‎গ্রাহকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ আগের মাসগুলোতে তাঁদের বিদ্যুৎ বিল ছিল স্বাভাবিক। গত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ১৮৭ ইউনিট। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট।‎শহীদুল ইসলাম জানান, তাঁদের বাড়িতে সাধারণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ছাড়া উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কোনো ভারী যন্ত্রপাতি নেই। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন তাঁরা। হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল হাতে পেয়ে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন।‎‎তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভুলের কারণেই এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। বিল নিয়ে আসা কর্মীর কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানো হলে তাঁকে সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।‎‎এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদুল ইসলাম বলেন, ভুল বিল তৈরি হলে তা সংশোধনের জন্য গ্রাহককে কেন হয়রানির শিকার হতে হবে? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।‎‎এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।‎‎পরে বিলের কপি দেখার পর তিনি জানান, ভুলবশত এমন বিল তৈরি হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বিল সংশোধন করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।‎‎এখন গ্রাহকের প্রত্যাশা, দ্রুত মিটার পরীক্ষা করে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল সংশোধন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন রূপে চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন রূপে চট্টগ্রাম

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত

মতামত

পানি আছে, তবু সংকট কেন

পানি আছে, তবু সংকট কেন

বাংলাদেশকে নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও ভূগর্ভস্থ পানির দেশ বলা হয়। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি যেন অতিরিক্ত, আবার শুষ্ক মৌসুমে একই দেশের মানুষকে এক কলস নিরাপদ পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। উপকূলের কোনো পরিবার লবণাক্ততার কারণে মিঠা পানির সন্ধানে দূরে যায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর ঢাকার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মে পানির চাপ কমে যায়। তাহলে প্রশ্নটি স্বাভাবিক: পানি সমৃদ্ধ দেশে পানির সংকট কেন?সমস্যাটি আসলে পানির পরিমাণের চেয়ে পানির প্রাপ্যতা, গুণমান, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের। বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রচুর হলেও সেই পানির বড় অংশ বর্ষাকালে দ্রুত নদী দিয়ে সাগরে চলে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি ধরে রাখার সক্ষমতা সীমিত। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ষার পানি সংরক্ষণের সীমিত অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।এই ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ ঢাকা। শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভ থেকে আসে এবং অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর বছরে কয়েক মিটার পর্যন্ত নেমেছে। একই সময়ে নদী ও জলাশয়গুলো দূষিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সহজে ব্যবহারযোগ্য পৃষ্ঠের পানির উৎসও সংকুচিত হয়েছে।এখানেই বাংলাদেশের পানি সংকটের একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যায়। আমরা পানি তুলছি, কিন্তু পানি ধরে রাখছি না। জলাভূমি ভরাট করছি, খাল দখল বা সংকুচিত করছি, নদীতে বর্জ্য ফেলছি; আবার বৃষ্টির পানি চলে যাওয়ার পর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করছি। অর্থাৎ পানি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত প্রাকৃতিক চক্র হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সম্পদ উত্তোলনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছি।কৃষিও এই চাপের বড় অংশ তৈরি করে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা অনেক এলাকায় বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩২ ঘনকিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। একই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার সম্মিলিত ঝুঁকিও দেখানো হয়েছে।তবে শুধু ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়াই সমস্যা নয়। পানি থাকলেও সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য বলছে, দেশের ৯৮.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত মৌলিক পানীয় পানির সুবিধা পেলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, গৃহস্থালি পর্যায়ে সংগৃহীত পানির ৮৪.৯ শতাংশে ই-কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে।উপকূলীয় অঞ্চলে সংকটটির চরিত্র আবার ভিন্ন। সেখানে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মিঠা পানির উৎসের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে দেশের এক অংশে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন যেমন সমস্যা, অন্য অংশে মিঠা পানির উৎসে লবণাক্ততা তেমনি বড় বাধা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবার খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষির নির্ভরতা ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করছে। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ জেলায় অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা নির্ধারণের প্রকল্প নিয়েছে, যা সমস্যাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নির্দেশ করে।অবশ্য উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও নগরায়ণের জন্য পানির ব্যবহার বাড়বে, সেটি স্বাভাবিক। তাই সমাধান পানি ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং কোথায় কত পানি উত্তোলন করা যাবে, কোথায় পানি সংরক্ষণ করা দরকার এবং কোন উৎস কোন কাজে ব্যবহারযোগ্য, সেই ব্যবস্থাপনা বদলানো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাভূমি ও খাল পুনরুদ্ধার, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার এবং শহরের পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ব্যবহারের তথ্য, উত্তোলনের পরিমাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে নিয়মিত ও উন্মুক্ত তথ্য প্রয়োজন।বাংলাদেশের পানি সংকট তাই পানির অভাবের সরল গল্প নয়। এটি একদিকে অতিরিক্ত পানি, অন্যদিকে অনুপস্থিত মিঠা পানি; একদিকে দূষিত নদী, অন্যদিকে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর; একদিকে বর্ষার জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমের তৃষ্ণার গল্প। পানি সমৃদ্ধ দেশ হওয়া আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা। কিন্তু সেই সুবিধা স্থায়ী সম্পদে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমরা পানিকে কতটা পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারছি তার ওপর। প্রশ্নটি তাই ‘বাংলাদেশে পানি আছে কি না’ নয়, বরং আমাদের প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় জায়গায়, নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা আছে কি না।
তানজিদ শুভ্র