বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের হুশিয়ারিতে ছাত্রদলের গ্রাফিতি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে  ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধের দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, হল ও সীমানা প্রাচীরে এই কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাল-কালো রঙ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়ালে ফুটিয়ে তোলেন। স্লোগানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল– “সব দেয়ালে লিখে দে, গুপ্ত দেখলে থুতু দে”, “গুপ্ত মুক্ত হল”, “দড়ি ধরে মারো টান, গুপ্ত হবে খান খান”, “শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না” এবং “গুপ্তদের প্রবেশ নিষেধ”।দেয়াল লিখন চলাকালে সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে ছাত্রশিবির। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বা গোপনীয় রাজনীতির ঠাঁই হবে না। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির কোনো অপচেষ্টা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা মামুন সরকার বলেন, ‘শিবির প্রতিটি ক্যাম্পাসে একদিকে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চায়, অন্যদিকে ঠিকই গোপনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই রাজনীতি হবে প্রকাশ্যে। গোপনে প্রেম হয়, রাজনীতি নয়।’তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে গুপ্ত রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করা হলো। যদি কেউ গোপনে রাজনীতি করার চেষ্টা করে, তবে ছাত্রদল তা কঠোর হস্তে দমন করবে।’উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার রেশ ধরে এবং দেশব্যাপী ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
২৩ ঘন্টা আগে

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পাল্টে গেল তোফায়েলের ভাগ্য: বাদাম চাষে অভাবনীয় সাফল্য

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গ্রামের মাঠে এখন সোনালী ফসলের হাসি। সেই হাসির কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন কৃষক তোফায়েল আহমেদ। গতানুগতিক ফসলের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি এবার ঝুঁকেছিলেন বাদাম চাষের দিকে। আর সেই স্বপ্ন তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। মাত্র ১২ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করে তোফায়েল আহমেদ এখন এলাকার কৃষকদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তার এই সাফল্য যেন এক রূপকথার গল্পের মতোই, যেখানে কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক পরামর্শ মিলেমিশে একাকার হয়েছে।সবকিছু যে খুব সহজ ছিল, তা কিন্তু নয়। যখন তোফায়েল বাদাম চাষের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে তিনি সরে আসেননি। কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিনি জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ বপন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত যত্নসহকারে সম্পন্ন করেছেন। এই পুরো যাত্রায় তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন চান্দিনা পৌর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব গোলাম সারোয়ার। চারা গজানোর পর থেকে বাদাম তোলা পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে গোলাম সারোয়ার তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। মাটির গুণাগুণ বুঝে সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সঠিক সময়ে কীটনাশকের ব্যবহার,এই কারিগরি সহযোগিতাগুলোই মূলত তার ফসলকে বাম্পার ফলনের দিকে নিয়ে গেছে।তোফায়েল আহমেদের হিসাব মতে, ১২ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো। সার, বীজ, চাষাবাদ এবং শ্রমিক—সব খরচ বাদ দিলেও লাভ যে ভালো থাকবে, তা তিনি আগেই নিশ্চিত হয়েছিলেন। আর ফলন তোলার পর সেই আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেছে। তিনি প্রায় ৪ থেকে ৫ মণ উন্নত মানের বাদাম পেয়েছেন। বর্তমান বাজারদরে এই পরিমাণ বাদাম বিক্রি করে তার যে আয় হবে, তা বিনিয়োগের তুলনায় অনেক বেশি। স্বল্প সময়ে এবং কম পুঁজিতে এমন লাভজনক ফসল চাষের নজির গড়ে তিনি স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।বড় গোবিন্দপুর গ্রামের এই মাঠ এখন অন্যদের জন্যও শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আশপাশের গ্রামের কৃষকরা তোফায়েলের বাদাম ক্ষেত দেখতে আসছেন এবং তার কাছ থেকে জানছেন চাষাবাদের পদ্ধতি। অনেকেই এখন তোফায়েলের দেখানো পথে আগামী মৌসুমে বাদাম চাষের পরিকল্পনা করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা পেলে এ অঞ্চলে বাদাম চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। তোফায়েল আহমেদের এই উদ্যোগ কেবল তার নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং পুরো এলাকার কৃষিখাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।কৃষক তোফায়েল আহমেদ আজ অত্যন্ত খুশি। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র গতানুগতিক ধান বা সবজি চাষের ওপর নির্ভর না করে যদি মাটির ধরন অনুযায়ী লাভজনক ফসলের দিকে নজর দেওয়া যায়, তবে কৃষিতে টিকে থাকা অনেক সহজ। আগামীতে তিনি নিজের জমির পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। গোলাম সারোয়ারের মতো নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা এবং তোফায়েলের মতো সাহসী কৃষকদের উদ্যম থাকলে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা যে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বড় গোবিন্দপুরের এই বাদাম ক্ষেত শুধু কয়েক মণ ফসলের গল্প নয়, এটি একটি পরিশ্রমী মানুষের সফল হওয়ার গল্প এবং একটি সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিশ্রুতি। তোফায়েল আহমেদ আজ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বাংলাদেশের মাটি থেকেই সোনার ফসল ফলানো সম্ভব।
২২ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি খুন

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে একের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী।নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জামাল উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জের আবু নাসের শামীম।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের বারাকওয়ানে এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের শামীম (বারা শামীম)। নিহত আবু নাসের শামীমের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।স্থানীয় প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফোর্ডসবার্গ থেকে বাজার করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছান শামীম। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা এক আততায়ী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।প্রবাসীরা জানান, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।এদিকে এই ঘটনার দুই দিন আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে জোহানেসবার্গের পামরিজ এলাকায় দোকান লুটের সময় ডাকাতের গুলিতে নিহত হন জামাল উদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশিপুর গ্রামে।স্থানীয় সূত্র জানায়, একদল ডাকাত তার দোকানের কন্টেইনার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় নগদ টাকা ও মালামাল লুটের সময় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরপর দুটি ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এখন নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।এই দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। এই শোকাবহ মুহূর্তে আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
২২ এপ্রিল ২০২৬
তুরষ্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে কুবির ১০ জন স্কলার

তুরষ্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে কুবির ১০ জন স্কলার

‎তুরস্কের টোকাট গাজি ওসমানপাশা ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।‎‎বুধবার ( ২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর ও আইকিউএসি’র যৌথ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান টোগুর র‍্যাংকিংস অ্যান্ড প্রোটোকল অফিসের প্রধান ড. মারভে কোনইয়ার।‎‎কুবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির মেয়াদ সর্বনিম্ন ৭ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২ মাস। এই সময়ে অংশগ্রহণকারীদের আবাসন ও খাদ্যের ব্যবস্থা করবে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়টি।আবেদনের শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল নির্ধারণ করা হলেও সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।‎‎ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রাম সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে তুরস্ক থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ড. মারভে কোনইয়ার এবং প্রোগ্রামের পরিচালক এমিনে দেমির।‎‎সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সোলাইমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মশিউর রহমান।‎‎ড. মারভে কোনইয়ার বলেন, 'এ বছর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ জনকে ভিএসপি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা টোগুর অতিথি হিসেবে সেখানে যাবেন এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ চুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতা দুই প্রতিষ্ঠানের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।’‎সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ অর্জন আরও অর্থবহ হবে।’ ‎‎তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্ক ছাড়াও চীনসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।’‎‎আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘গত প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যে সমঝোতা ও একাডেমিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটি তার প্রথম বাস্তব ফল।’ ‎‎তিনি আরও বলেন, ‘এ কর্মসূচিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। অনেকের কাছেই এ ধরনের সুযোগ নতুন হওয়ায় সেমিনারের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক থেকে যুক্ত অতিথিরা কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।’
২১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মামলা প্রত্যাহার হওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর-এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে?উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামলার শিকার হয়েছেন, ২০ বছর আগে কবরে গেছেন এমন মানুষ মামলার শিকার হয়েছেন, দুই হাত পঙ্গু তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তিনি ঢাকা শহরে ময়লার ট্রাকে বোমা মেরেছে। এসব মামলার ধরন আমরা জানি। তিনি আরও বলেন, যেসব মামলা হয়েছে প্রত্যাহার হয়েছে তার সার্টিফাইড কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে দরখাস্ত করার অনুরোধ করব। আর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে অনুরোধ করব যেসব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট জটিলতা যাতে অতি দ্রুত নিষ্পন্ন করেন। এর বাইরে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না।
০১ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি খুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি খুন

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে একের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী।নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জামাল উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জের আবু নাসের শামীম।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের বারাকওয়ানে এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের শামীম (বারা শামীম)। নিহত আবু নাসের শামীমের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।স্থানীয় প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফোর্ডসবার্গ থেকে বাজার করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছান শামীম। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা এক আততায়ী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।প্রবাসীরা জানান, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।এদিকে এই ঘটনার দুই দিন আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে জোহানেসবার্গের পামরিজ এলাকায় দোকান লুটের সময় ডাকাতের গুলিতে নিহত হন জামাল উদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশিপুর গ্রামে।স্থানীয় সূত্র জানায়, একদল ডাকাত তার দোকানের কন্টেইনার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় নগদ টাকা ও মালামাল লুটের সময় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরপর দুটি ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এখন নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।এই দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। এই শোকাবহ মুহূর্তে আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

তুরষ্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে কুবির ১০ জন স্কলার

তুরষ্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে কুবির ১০ জন স্কলার

‎তুরস্কের টোকাট গাজি ওসমানপাশা ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।‎‎বুধবার ( ২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর ও আইকিউএসি’র যৌথ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান টোগুর র‍্যাংকিংস অ্যান্ড প্রোটোকল অফিসের প্রধান ড. মারভে কোনইয়ার।‎‎কুবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির মেয়াদ সর্বনিম্ন ৭ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২ মাস। এই সময়ে অংশগ্রহণকারীদের আবাসন ও খাদ্যের ব্যবস্থা করবে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়টি।আবেদনের শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল নির্ধারণ করা হলেও সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।‎‎ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রাম সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে তুরস্ক থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ড. মারভে কোনইয়ার এবং প্রোগ্রামের পরিচালক এমিনে দেমির।‎‎সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সোলাইমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মশিউর রহমান।‎‎ড. মারভে কোনইয়ার বলেন, 'এ বছর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ জনকে ভিএসপি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা টোগুর অতিথি হিসেবে সেখানে যাবেন এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ চুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতা দুই প্রতিষ্ঠানের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।’‎সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ অর্জন আরও অর্থবহ হবে।’ ‎‎তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্ক ছাড়াও চীনসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।’‎‎আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘গত প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যে সমঝোতা ও একাডেমিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটি তার প্রথম বাস্তব ফল।’ ‎‎তিনি আরও বলেন, ‘এ কর্মসূচিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। অনেকের কাছেই এ ধরনের সুযোগ নতুন হওয়ায় সেমিনারের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক থেকে যুক্ত অতিথিরা কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।’
২১ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পাল্টে গেল তোফায়েলের ভাগ্য: বাদাম চাষে অভাবনীয় সাফল্য

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পাল্টে গেল তোফায়েলের ভাগ্য: বাদাম চাষে অভাবনীয় সাফল্য

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গ্রামের মাঠে এখন সোনালী ফসলের হাসি। সেই হাসির কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন কৃষক তোফায়েল আহমেদ। গতানুগতিক ফসলের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি এবার ঝুঁকেছিলেন বাদাম চাষের দিকে। আর সেই স্বপ্ন তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। মাত্র ১২ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করে তোফায়েল আহমেদ এখন এলাকার কৃষকদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তার এই সাফল্য যেন এক রূপকথার গল্পের মতোই, যেখানে কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক পরামর্শ মিলেমিশে একাকার হয়েছে।সবকিছু যে খুব সহজ ছিল, তা কিন্তু নয়। যখন তোফায়েল বাদাম চাষের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে তিনি সরে আসেননি। কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিনি জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ বপন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত যত্নসহকারে সম্পন্ন করেছেন। এই পুরো যাত্রায় তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন চান্দিনা পৌর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব গোলাম সারোয়ার। চারা গজানোর পর থেকে বাদাম তোলা পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে গোলাম সারোয়ার তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। মাটির গুণাগুণ বুঝে সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সঠিক সময়ে কীটনাশকের ব্যবহার,এই কারিগরি সহযোগিতাগুলোই মূলত তার ফসলকে বাম্পার ফলনের দিকে নিয়ে গেছে।তোফায়েল আহমেদের হিসাব মতে, ১২ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো। সার, বীজ, চাষাবাদ এবং শ্রমিক—সব খরচ বাদ দিলেও লাভ যে ভালো থাকবে, তা তিনি আগেই নিশ্চিত হয়েছিলেন। আর ফলন তোলার পর সেই আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেছে। তিনি প্রায় ৪ থেকে ৫ মণ উন্নত মানের বাদাম পেয়েছেন। বর্তমান বাজারদরে এই পরিমাণ বাদাম বিক্রি করে তার যে আয় হবে, তা বিনিয়োগের তুলনায় অনেক বেশি। স্বল্প সময়ে এবং কম পুঁজিতে এমন লাভজনক ফসল চাষের নজির গড়ে তিনি স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।বড় গোবিন্দপুর গ্রামের এই মাঠ এখন অন্যদের জন্যও শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আশপাশের গ্রামের কৃষকরা তোফায়েলের বাদাম ক্ষেত দেখতে আসছেন এবং তার কাছ থেকে জানছেন চাষাবাদের পদ্ধতি। অনেকেই এখন তোফায়েলের দেখানো পথে আগামী মৌসুমে বাদাম চাষের পরিকল্পনা করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা পেলে এ অঞ্চলে বাদাম চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। তোফায়েল আহমেদের এই উদ্যোগ কেবল তার নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং পুরো এলাকার কৃষিখাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।কৃষক তোফায়েল আহমেদ আজ অত্যন্ত খুশি। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র গতানুগতিক ধান বা সবজি চাষের ওপর নির্ভর না করে যদি মাটির ধরন অনুযায়ী লাভজনক ফসলের দিকে নজর দেওয়া যায়, তবে কৃষিতে টিকে থাকা অনেক সহজ। আগামীতে তিনি নিজের জমির পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। গোলাম সারোয়ারের মতো নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা এবং তোফায়েলের মতো সাহসী কৃষকদের উদ্যম থাকলে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা যে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বড় গোবিন্দপুরের এই বাদাম ক্ষেত শুধু কয়েক মণ ফসলের গল্প নয়, এটি একটি পরিশ্রমী মানুষের সফল হওয়ার গল্প এবং একটি সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিশ্রুতি। তোফায়েল আহমেদ আজ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বাংলাদেশের মাটি থেকেই সোনার ফসল ফলানো সম্ভব।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র