মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চৌদ্দগ্রামে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা মেয়ে নিহত, আহত ৪

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহত ও অপর চারজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন: পৌর এলাকার বালুজুড়ি গ্রামের নুর ইসলাম মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আক্তার(৪২) ও মেয়ে নুসরাত জাহান (৪)। সোমবার (১৮ মে ) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নবগ্রাম এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আবদুল জাব্বার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুজুড়ির জেসমিন আক্তার, তাঁর মেয়ে নুসরাত জাহান, নাটাপাড়া গ্রামের জাফর আহম্মেদের স্ত্রী মমতাজ বেগম, একই গ্রামের ফুল মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম ও এতিম আলীর স্ত্রী কহিনুর বেগম সোমবার দুপুর ১২টার সময় চৌদ্দগ্রাম বাজারে পারিবারিক খরচ শেষে নাটাপাড়ার নিজাম উদ্দিনের অটোরিকশায় উঠে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নবগ্রাম এলাকায় উল্টোপথে যাওয়ার সময় কে কে ট্রাভেলসের যাত্রীবাহী একটি বাসের (ঢাকামেট্রো-ব-১২-৩৩৫৯) মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে অটোরিকশাটি স্বজোরে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে নিহত হন অটোরিকশা যাত্রী বালুজুড়ির জেসমিন আক্তার। আহত হন অটোরিকশা চালক নিজাম উদ্দিনসহ অপর পাঁচজন যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লায় নেয়া হয়েছে। অপর দিকে গুরতর আহত নুসরাত জাহান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় মারা যায়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক রবিউল হাসান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জেসমিন আক্তার নামের এক নারী হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে। মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল তৈরী করে সাথে সাথে স্বজনদের নিকট নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়। দূর্ঘটনা কবলিত গাড়ি উদ্ধার শেষে থানায় নেয়া হয়েছে।
১১ ঘন্টা আগে

পরিবেশবান্ধব উপহারে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে বরণ, গঠনমূলক সাংবাদিকতার আহ্বান

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করায় তাঁকে ‘পরিবেশবন্ধু’ গাছ উপহার দিয়ে এই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উপাচার্যের সভাকক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসাইনের নেতৃত্বে সমিতির সদস্যরা উপাচার্যের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা নতুন প্রশাসনের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে প্রতীকী ও পরিবেশবান্ধব উপহার তুলে দেন। তরুণ সাংবাদিকদের এমন ব্যতিক্রমী ও পরিবেশবান্ধব উপহারে আন্তরিক ধন্যবাদ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। মতবিনিময়কালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তাঁর ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জাবিপ্রবিতে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার মান উন্নয়ন ও কার্যক্রম জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রযাত্রা এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান উপাচার্য৷ মতবিনিময় সভায় জাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ইয়াসির আরাফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মুসলিম ইবনে রবি, অর্থ সম্পাদক শাহরিয়ার রোকন, কার্যকরী সদস্য মো. মিরাজ হোসেন ও মো. তৌহিদুল ইসলাম। এ ছাড়াও সহযোগী সদস্য মো. ইকরাম মাহমুদ বাঁধন ও নাইমুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৩ ঘন্টা আগে

চান্দিনায় কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ: কোল্ড স্টোরেজ ও ন্যায্য মূল্যের তীব্র সংকট

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী কৃষিপ্রধান অঞ্চল চান্দিনায় এবার আলুসহ সবজির  বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ আর বাম্পার ফলনের আনন্দকে এক নিমেষেই ফিকে করে দিয়েছে বাজারমূল্যের আকস্মিক পতন এবং হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতার তীব্র সংকট। প্রতি বছরই এই অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ধারদেনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আলুসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করেন। কিন্তু ফসল তোলার ভরা মৌসুমে এসে তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ যেখানে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে বর্তমান বাজারদরে ফসল বিক্রি করে সেই খরচ তোলাই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জমি থেকে সরাসরি আলু তোলার পর কৃষকদের বড় একটি অংশ তা সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজগুলোতে নিয়ে যান। কিন্তু ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত আলু উৎপাদনের কারণে অধিকাংশ হিমাগারের ফটকেই ঝুলছে 'জায়গা খালি নেই' সাইনবোর্ড। অনেক কৃষক দিনের পর দিন হিমাগারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আলু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার সুযোগ পেলেও বস্তাপ্রতি ভাড়ার অতিরিক্ত বোঝা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে লোকসানের পাল্লাই ভারী হচ্ছে।হিমাগারে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক প্রান্তিক চাষি খোলা আকাশের নিচে বা কম দামে মাঠেই ফসল বিক্রি করে দিচ্ছেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার নিমসার বাজারের চিত্রও এখন হতাশাজনক। বাজারে সরবরাহ প্রচুর থাকলেও স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, বড় বড় পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রাখায় তারা উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, অথচ খুচরা বাজারে ভোক্তাদের চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে। এই অসম বাজার ব্যবস্থার কারণে চাষিরা সরাসরি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।চান্দিনার ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, যদি সরকারি উদ্যোগে হিমাগারের সংখ্যা বাড়ানো না যায় এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে পণ্য ক্রয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা করা না হয়, তবে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। আগামীতে চাষিরা আলুসহ অন্যান্য সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর বাজার মনিটরিং এবং কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সমাজ।
১৪ ঘন্টা আগে
কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে উপাচার্যের সাক্ষাতের সময় ও নিয়ম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে বসে থাকার বদভ্যাস ভাঙতেই নতুন উপাচার্য যোগ দিয়েই এই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়। এর আগে গত ১৬ মে জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, পূর্বের উপাচার্যদের সময় থেকেই কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের দাপ্তরিক কাজ ফেলে দীর্ঘসময় উপাচার্যের দপ্তরে অবস্থান করতেন। নতুন উপাচার্য যোগদানের পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা ও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। মূলত দপ্তরে এই অহেতুক ভিড় এড়াতে, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং আগের আমলের এই অপসংস্কৃতি ভাঙতেই নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে অতি জরুরি বিষয় ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকতে হবে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কার্যদিবসে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে। তবে এর জন্য যথাযথ মাধ্যম অনুসরণ করে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পূর্বানুমতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
১০ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আজ  সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) সকালে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বঙ্গভবনের প্রেস উইং এ কথা জানায়।বিমানবন্দরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর এ্যালিসন জে ক্রস (অষরংড়হ ঔ ঈৎড়ংং) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে যুক্তরাজ্যে ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ৯ মে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।গত ১২ মে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়।এ সময় হৃদযন্ত্রে একটি গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং সফলভাবে একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।বর্তমানে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে।উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণকালেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ সামারি ও নথি ডিজিটালি অনুমোদন ও স্বাক্ষর করেন ।এছাড়া, সফরকালে লন্ডনের হোটেল হিলটনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিসের সাথে রাষ্ট্রপতির একটি অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
১৮ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

হঠাৎ আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

হঠাৎ আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আইনজীবীর কালো গাউন পরে সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর শুরু হওয়া ভোট পরবর্তী সহিংসতার একটি মামলায় সওয়াল করতে তিনি আদালতে হাজির হন।তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিজে লড়ছেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচারপতির কাছে জরুরি সুরক্ষা প্রার্থনা করেছেন।শুনানির শুরুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে এটিই তার প্রথম উপস্থিতি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সহিংসতার হাত থেকে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তিনি আদালতে ১০ জন নিহত ব্যক্তির একটি তালিকা জমা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে ৬ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া তিনি একটি তফশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ৯২ বছর বয়সী বিধবার ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২ বছরের কিশোরীদেরও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কি ঘুমিয়ে আছে কি না। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়’।  মাছের বাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধ প্রতিরোধ না করে উল্টো এফআইআর নিতে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বোমাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আদালতে হাজিরা প্রমাণ করে যে তিনি বিপদের সময় বাংলার মানুষকে ছেড়ে যান না। প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সাহস ও সংকল্পের সঙ্গে লড়াই করছেন।  অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করা বিজেপির পক্ষ থেকে এই সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যার মতো ঘটনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের নির্দেশনার দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারাদেশ।
১৪ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে উপাচার্যের সাক্ষাতের সময় ও নিয়ম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে বসে থাকার বদভ্যাস ভাঙতেই নতুন উপাচার্য যোগ দিয়েই এই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়। এর আগে গত ১৬ মে জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, পূর্বের উপাচার্যদের সময় থেকেই কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের দাপ্তরিক কাজ ফেলে দীর্ঘসময় উপাচার্যের দপ্তরে অবস্থান করতেন। নতুন উপাচার্য যোগদানের পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা ও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। মূলত দপ্তরে এই অহেতুক ভিড় এড়াতে, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং আগের আমলের এই অপসংস্কৃতি ভাঙতেই নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে অতি জরুরি বিষয় ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকতে হবে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কার্যদিবসে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে। তবে এর জন্য যথাযথ মাধ্যম অনুসরণ করে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পূর্বানুমতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
১০ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চান্দিনায় কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ: কোল্ড স্টোরেজ ও ন্যায্য মূল্যের তীব্র সংকট

চান্দিনায় কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ: কোল্ড স্টোরেজ ও ন্যায্য মূল্যের তীব্র সংকট

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী কৃষিপ্রধান অঞ্চল চান্দিনায় এবার আলুসহ সবজির  বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ আর বাম্পার ফলনের আনন্দকে এক নিমেষেই ফিকে করে দিয়েছে বাজারমূল্যের আকস্মিক পতন এবং হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতার তীব্র সংকট। প্রতি বছরই এই অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ধারদেনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আলুসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করেন। কিন্তু ফসল তোলার ভরা মৌসুমে এসে তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ যেখানে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে বর্তমান বাজারদরে ফসল বিক্রি করে সেই খরচ তোলাই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জমি থেকে সরাসরি আলু তোলার পর কৃষকদের বড় একটি অংশ তা সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজগুলোতে নিয়ে যান। কিন্তু ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত আলু উৎপাদনের কারণে অধিকাংশ হিমাগারের ফটকেই ঝুলছে 'জায়গা খালি নেই' সাইনবোর্ড। অনেক কৃষক দিনের পর দিন হিমাগারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আলু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার সুযোগ পেলেও বস্তাপ্রতি ভাড়ার অতিরিক্ত বোঝা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে লোকসানের পাল্লাই ভারী হচ্ছে।হিমাগারে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক প্রান্তিক চাষি খোলা আকাশের নিচে বা কম দামে মাঠেই ফসল বিক্রি করে দিচ্ছেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার নিমসার বাজারের চিত্রও এখন হতাশাজনক। বাজারে সরবরাহ প্রচুর থাকলেও স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, বড় বড় পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রাখায় তারা উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, অথচ খুচরা বাজারে ভোক্তাদের চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে। এই অসম বাজার ব্যবস্থার কারণে চাষিরা সরাসরি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।চান্দিনার ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, যদি সরকারি উদ্যোগে হিমাগারের সংখ্যা বাড়ানো না যায় এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে পণ্য ক্রয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা করা না হয়, তবে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। আগামীতে চাষিরা আলুসহ অন্যান্য সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর বাজার মনিটরিং এবং কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সমাজ।
১৪ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র