রোববার, ২১ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. সারওয়ার আলমকে বদলিপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১০ মাস দায়িত্ব পালনের পর নতুন আদেশের মাধ্যমে তাকে মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।তবে নতুন করে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনের পর প্রশাসনিক মহলে এ বদলির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের বিষয়ে আলাদা কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
৭ ঘন্টা আগে

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। বাবাদের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশের জন্য বিশেষ এই দিনটি উৎসর্গ করা হয়েছে।বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, শেয়ার করেন পুরোনো ছবি ও অনুভূতির কথা। কেউ প্রকাশ করেন কৃতজ্ঞতা, আবার কেউ স্মরণ করেন প্রয়াত বাবাকে।বাবা দিবসের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এই দিবসকে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সনোরা স্মার্ট ডড। ছোটবেলায় মাকে হারানোর পর তিনি দেখেছিলেন, কীভাবে তার বাবা একাই সাত সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। বাবার সেই ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।এরপর বাবাদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিনের দাবি তোলেন তিনি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপিত হয়। ধীরে ধীরে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি দিবসে পরিণত হয়েছে।একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি সন্তানের জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। সন্তানকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে, তার স্বপ্ন পূরণে সাহস জোগাতে এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে বাবার ভূমিকা অপরিসীম।'বাবা' শব্দটি ছোট হলেও এর গভীরতা অনেক। ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ব ও নির্ভরতার এক অনন্য প্রতীক তিনি। নিজের ইচ্ছা ও স্বপ্নকে অনেক সময় আড়ালে রেখে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেই একজন বাবা নিরলস পরিশ্রম করে যান।সর্বোপরি একজন বাবা নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার নেপথ্য কারিগর।
৯ ঘন্টা আগে

কুমিল্লায় ছাত্রী অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোপালনগর মহিলা আলীম মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ছাত্রীর মা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী গোপালনগর মহিলা আলীম মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। ছাত্রীর মায়ের দাবি, মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি মাদ্রাসার অন্য দুই শিক্ষক ফজলুল হক ও খায়েরুল ইসলামকে জানানো হলে অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে মা-মেয়েকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীটি মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, মাদ্রাসার সামনে থেকে শিক্ষক আলমগীর হোসেন জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে গেছেন।চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে কাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
১১ ঘন্টা আগে
পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র জাফলং। শনিবার (২১ জুন) দিবাগত রাতে পিয়াইন নদীর পানি চোখের পলকে বৃদ্ধি পেয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার কয়েক শ দোকানপাট সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গভীর রাতের এই আকস্মিক দুর্যোগে ঘুমন্ত ও প্রস্তুতিহীন ব্যবসায়ীদের মালামাল নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার রাতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। এর জেরে গভীর রাতে জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন পিয়াইন নদীতে আকস্মিকভাবে পানির স্তর হু হু করে বাড়তে থাকে। ঢলের তীব্র গতি এতই বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর তেমন সুযোগই পাননি। অনেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ দোকানেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের তোড়ে দোকানপাট ভেঙে মালামাল ভেসে যায়। গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সামান্য কিছু জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশেরই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে অনেকেই ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন। কিন্তু এই একটি রাতের দুর্যোগ তাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটুকু কেড়ে নিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিয়েছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করছেন শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের কারণে আমাদের কয়েক শ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ পথে বসে গেছেন। প্রতি বছরই আমাদের এই জীবন ও জীবিকার ঝুঁকিতে থাকতে হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের সিঁড়ির নিচ থেকে জিরো পয়েন্টের দোকানদারদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী শেড বা দোকানঘর নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে এই পর্যটন শিল্প ও ব্যবসায়ীদের রক্ষা করা যাবে না।এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে পিয়াইন নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টের দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৩ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. সারওয়ার আলমকে বদলিপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১০ মাস দায়িত্ব পালনের পর নতুন আদেশের মাধ্যমে তাকে মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।তবে নতুন করে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনের পর প্রশাসনিক মহলে এ বদলির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের বিষয়ে আলাদা কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
৭ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে ফিরছেন নেইমার

স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে ফিরছেন নেইমার

বিশ্বকাপ ফুটবলে গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড় নেইমার। এমন সুখবর দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আগামী ২৫ জুন, ২০২৬ ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।  ডান পায়ের মাংসপেশির ইনজুরির কারনে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর, হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পায় ব্রাজিল। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘আগামীকাল একা অনুশীলন করবেন নেইমার। সোমবার থেকে দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে অনুশীলন করবেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে।’গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান পায়ের মাংসপেশিকে গ্রেড টু ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। পায়ের ইনজুরি থাকা সত্বেও ব্রাজিলের ঘোষিত ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান তিনি। ইনজুরি ও ফর্মহীনতার কারণে ২০২৩ সালের পর জাতীয় দলের হয়ে একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন নেইমার।
২০ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৫

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৫

ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র একদিন পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, মধ্যরাতের পর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের এক ডজনেরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলার বেশিরভাগই নাবাতিয়েহ ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত হয়।বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাবাতিয়েহ শহর ও এর উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনী গোলাবর্ষণও করেছে। এনএনএর খবরে বলা হয়, আরব সালিম শহরে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দেইর জাহরানিতে নিহত হয়েছেন আরও একজন।এ ছাড়া দুয়েইর শহরের প্রবেশমুখে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হন। শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ইসরাইল ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এক উপসাগরীয় কূটনীতিকও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত বলেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চললে ইসরাইলও তা মেনে চলবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে চুক্তি হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা।ওই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষও বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার জানায়, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, লেবাননে ১৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়ে ‘ডজনখানেক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে’ হত্যা করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে একটি সর্বাত্মক ও টেকসই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত প্রয়োজন।
২০ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
০৮ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

০৮ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র জাফলং। শনিবার (২১ জুন) দিবাগত রাতে পিয়াইন নদীর পানি চোখের পলকে বৃদ্ধি পেয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার কয়েক শ দোকানপাট সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গভীর রাতের এই আকস্মিক দুর্যোগে ঘুমন্ত ও প্রস্তুতিহীন ব্যবসায়ীদের মালামাল নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার রাতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। এর জেরে গভীর রাতে জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন পিয়াইন নদীতে আকস্মিকভাবে পানির স্তর হু হু করে বাড়তে থাকে। ঢলের তীব্র গতি এতই বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর তেমন সুযোগই পাননি। অনেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ দোকানেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের তোড়ে দোকানপাট ভেঙে মালামাল ভেসে যায়। গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সামান্য কিছু জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশেরই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে অনেকেই ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন। কিন্তু এই একটি রাতের দুর্যোগ তাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটুকু কেড়ে নিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিয়েছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করছেন শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের কারণে আমাদের কয়েক শ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ পথে বসে গেছেন। প্রতি বছরই আমাদের এই জীবন ও জীবিকার ঝুঁকিতে থাকতে হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের সিঁড়ির নিচ থেকে জিরো পয়েন্টের দোকানদারদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী শেড বা দোকানঘর নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে এই পর্যটন শিল্প ও ব্যবসায়ীদের রক্ষা করা যাবে না।এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে পিয়াইন নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টের দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
০৮ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি