বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

আবারও বাড়তে পারে এলপিজি গ্যাসের দাম

বাজারে নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে। এ বিষয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে এলপিজির দামে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামেও অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে নতুন করে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। বোতলজাতকরণ ও বিক্রয় চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবপ্রস্তাব অনুযায়ী, এলপিজি কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করতে চায়। ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।এ ছাড়া প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।বিইআরসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্থাপিত প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্যই গণশুনানি ডাকা হয়েছে। শুনানিতে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করা হবে। তবে গণশুনানি আয়োজনের অর্থ এই নয় যে, প্রস্তাবগুলো অনুমোদন করা হবে বা এলপিজির দাম বাড়ানো নিশ্চিত।নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রিএলপিজির বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের উদ্বেগের কারণ। অভিযোগ অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে বাড়তি দামে গ্যাস কেনার চাপের পাশাপাশি নতুন করে চার্জ ও কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাব ভোক্তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।এদিকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে এর আগে দেশব্যাপী দুই দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতাদের দাবি, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি, গুদামভাড়া এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।গত ১৪ অক্টোবর বিইআরসি দাবিগুলো নিয়ে শুনানির আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন।কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাএলপিজির সরবরাহ ও বাজারমূল্য নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে।এখন ২৯ অক্টোবরের গণশুনানিতে ব্যবসায়ীদের চার্জ ও কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাবের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা হবে। তবে ভোক্তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কি না, সেটিও নির্ভর করবে বিইআরসির পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
২৭ অক্টোবর ২০২৬

হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইরানের মধ্যস্থতায় গোষ্ঠীটিকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এ দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরান সফর করেন। ওই সফরে তিনি সৌদি সামরিক পরিবহন বিমান হারকিউলিসে করে ১০০ কোটি ডলার নিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে অর্থ বহন কিংবা হস্তান্তরের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।তেহরানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার ফলে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে রেখে ইরান এ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, সংলাপের পথ তৈরি করা এবং কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করাও এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়াই বর্তমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি সমঝোতার অংশ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।হুথিদের অভিযোগ, সৌদি আরব ওই সমঝোতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। অন্যদিকে, সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে পড়ে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে না দেশটি।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের এ বৈঠক ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এ বৈঠকের উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পায় বলে দাবি করা হয়েছে।তবে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এবং সামরিক বিমানে করে তেহরানে ওই অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
২৭ অক্টোবর ২০২৬

আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি লুলা দা সিলভা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গণনায় এগিয়ে থেকে জয় পেয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে এগিয়ে গেছেন তিনি। ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের জন্য পরিচিত লুলার এই জয়কে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর সোয়া ৬টার দিকে ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়, প্রায় ৯৯ শতাংশ ব্যালট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। গণনা করা ভোটের মধ্যে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে পড়েছে ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট।দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান কম থাকায় ভোট গণনার শেষ পর্যায় পর্যন্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। ফলে উভয় শিবিরেই চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। এর আগে নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন বামপন্থি নেতা লুলা দা সিলভা। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে জাইর বলসোনারোর ভূমিকা এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতা ব্রাজিলের রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এবার বাবার পরিবর্তে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।গত ৪ অক্টোবর ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই দফায় কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী রানঅফে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও বলসোনারো এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান ঘুচিয়ে তাকে পেছনে ফেলেন লুলা। ফলে প্রথম দফায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত লড়াইয়ে পরাজয়ের মুখে পড়েন ফ্লাভিও।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের পর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবারই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় পরাজিত হয়েছেন।সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।
২৬ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লায় হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লায় হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান ও হাসপাতালের পরিবেশ পর্যালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দুই অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনকালে ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত এবং পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ঘটনায় অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি।হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।এ ছাড়া হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলো কনডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে।তিনি আরও বলেন, মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম তার নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে।চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৪ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

কুমিল্লায় হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লায় হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান ও হাসপাতালের পরিবেশ পর্যালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দুই অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনকালে ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত এবং পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ঘটনায় অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি।হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।এ ছাড়া হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলো কনডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে।তিনি আরও বলেন, মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম তার নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে।চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৪ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইরানের মধ্যস্থতায় গোষ্ঠীটিকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এ দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরান সফর করেন। ওই সফরে তিনি সৌদি সামরিক পরিবহন বিমান হারকিউলিসে করে ১০০ কোটি ডলার নিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে অর্থ বহন কিংবা হস্তান্তরের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।তেহরানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার ফলে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে রেখে ইরান এ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, সংলাপের পথ তৈরি করা এবং কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করাও এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়াই বর্তমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি সমঝোতার অংশ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।হুথিদের অভিযোগ, সৌদি আরব ওই সমঝোতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। অন্যদিকে, সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে পড়ে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে না দেশটি।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের এ বৈঠক ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এ বৈঠকের উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পায় বলে দাবি করা হয়েছে।তবে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এবং সামরিক বিমানে করে তেহরানে ওই অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
২৭ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

আল আমিন একাডেমীর বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

আল আমিন একাডেমীর বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

চাঁদপুরে আল আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর ) প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারুকুল ইসলাম ও সিনিয়র শিক্ষক নাছির উদ্দিন।বক্তারা বলেন, প্রকৃত শিক্ষা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, শিষ্টাচার ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে। ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা, সালাম বিনিময়, বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার মাধ্যমে সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন তাঁরা।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক আবু আহমেদ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন শফিউল বাশার এবং ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান সানি।অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
হাতিয়ায় নবীপুর দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগের পাহাড়, হিসাব দিতে শুনানিতে অনুপস্থিত সভাপতি

হাতিয়ায় নবীপুর দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগের পাহাড়, হিসাব দিতে শুনানিতে অনুপস্থিত সভাপতি

০৫ অক্টোবর ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
মতামত

মতামত

আনন্দের আলোয় শিক্ষা: চাপমুক্ত প্রজন্মের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

আনন্দের আলোয় শিক্ষা: চাপমুক্ত প্রজন্মের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

আধুনিক সভ্যতার এই রমরমা যুগে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এক অন্তহীন প্রতিযোগিতার চক্রে আবর্তিত হচ্ছে। সকালে ভারী স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছুটে চলা শিশুটির ক্লান্ত মুখ কিংবা জিপিএ-৫ পাওয়ার অলৌকিক চাপের নিচে পিষ্ট হওয়া কিশোরটির মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা আজ এক নির্মম বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে সমাজকে। শিক্ষা মানে যেখানে হওয়ার কথা ছিল জ্ঞানের আলোয় মনকে প্রসারিত করা, কৌতূহলকে উসকে দেওয়া এবং আলোর মিছিলে শামিল হওয়া, সেখানে শিক্ষা আজ এক আতঙ্কজনক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। অথচ এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের সর্বজনস্বীকৃত এবং পরীক্ষিত চাবিকাঠি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা। শিক্ষাকে যখন ভয়ের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে আনন্দের চাদরে মুড়ে দেওয়া হয়, তখন তা কেবল একটি প্রক্রিয়া থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে মানবসত্তার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের এক চমৎকার মাধ্যম।মানবশিশুর জন্মগত বৈশিষ্ট্যই হলো কৌতূহল। সে চারপাশের প্রকৃতি, রঙ, শব্দ এবং গন্ধের মধ্য দিয়ে নতুন কিছু জানতে চায়, বুঝতে চায়। কিন্তু আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থা এবং প্রাচীন মেমোরি বেসড বা মুখস্থ নির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি শিশুদের এই সহজাত কৌতূহলকে গলা টিপে হত্যা করে। ক্লাসরুমগুলো যেন একেকটি বন্দিশালা, যেখানে শিক্ষককের একঘেয়ে লেকচার আর মুখস্থ করার নিরন্তর তাড়া শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। এই ভীতিপ্রসূত পরিবেশে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে নম্বর অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা মুখ্য হয়ে ওঠে। যখন একটি শিশু পরীক্ষার ভয়ে কুঁকড়ে থাকে বা হোমওয়ার্ক না করার অপরাধবোধে ভোগে, তখন তার মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর বিপরীতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণার মূল দর্শন হলো শিক্ষার্থীর মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি। আনন্দঘন পরিবেশে যখন কোনো বিষয় উপস্থাপন করা হয়, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন ও অক্সিডোসিনের মতো পজিটিভ হরমোন ক্ষরিত হয়, যা শেখার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় করে তোলে।আনন্দময় শিক্ষার প্রকৃত রূপ কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রকৃতির বুক থেকে শুরু করে খেলার মাঠ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। প্রাচীনকালে আমাদের দেশে বা গুরুগৃহে শিক্ষার পরিবেশ কেমন ছিল তা স্মরণ করলে দেখা যায়, উন্মুক্ত প্রকৃতি গাছের ছায়ায় গুরুর সান্নিধ্যে জীবনের পাঠ নেওয়া হতো খেলাধুলা, গল্প ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতীর আদর্শে এই আনন্দময় শিক্ষার সুর স্পষ্টভাবে বেজে উঠেছিল, যেখানে ছাতিম তলার মুক্ত বাতাসে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে গান, নাটক ও সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জন করত। আজকের দিনেও ফিনল্যান্ড বা জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থায় এই দর্শনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে শিশুদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয় না, হোমওয়ার্কের বোঝা চাপানো হয় না, বরং খেলাধুলা, প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্ট এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ভেতরের প্রতিভা ফুটিয়ে তোলা হয়।আমাদের সমাজে প্রায়শই একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, পড়াশোনায় আনন্দ যুক্ত হলে পড়াশোনার মান বা গুরুত্ব কমে যায়। অভিভাবকরা মনে করেন, শাসন, ভয়ভীতি এবং কড়া অনুশাসন না থাকলে সন্তান পড়ালেখা করবে না। এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে শৈশব থেকেই শিশুদের ওপর এক নিষ্ঠুর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। খেলার মাঠ থেকে কেড়ে নিয়ে তাদের কোচিং সেন্টার আর প্রাইভেট মাস্টারের বেড়াজালে বন্দি করা হয়। ফলাফলস্বরূপ, আমাদের শিশুরা সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষিত হয়ে উঠলেও তাদের মধ্যে মৌলিক চিন্তার শক্তি বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে পরীক্ষার গণ্ডি পার হতে পারলেও বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে হোঁচট খায়। অথচ আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কখনো ভোলা যায় না, কারণ তা মানুষের হৃদয়ের গভীর গ্রথিত হয়ে যায়। যখন কোনো শিক্ষার্থী গণিতকে একটি ভয়ের বিষয় না ভেবে একটি আকর্ষণীয় ধাঁধা হিসেবে নেয়, বিজ্ঞানকে জটিল সূত্র না ভেবে চারপাশের রহস্য উদ্ঘাটনের আনন্দ হিসেবে দেখে, তখন পড়াশোনা আর বোঝা থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে পরম প্রাপ্তি।শিক্ষায় আনন্দের এই ধারা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে অগ্রণী। একজন শিক্ষক কেবল তথ্য সরবরাহকারী নন, তিনি একজন মেন্টর বা নির্দেশক যিনি শিক্ষার্থীর মনের ভেতর সুপ্ত থাকা সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারেন। গতানুগতিক মুখস্থ করানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে শিক্ষকদের আধুনিক ও সৃজনশীল শিক্ষণ কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। গল্পের ছলে কঠিন ব্যাকরণ বোঝানো, নাট্যাভিনয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের কোনো ঘটনা ফুটিয়ে তোলা কিংবা বিজ্ঞানাগারের বাইরে খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া, এসব কৌশল শিক্ষাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। যখন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভুল করার স্বাধীনতা দেন এবং প্রতিটি ছোট সাফল্যকে উৎসাহ ও প্রশংসার সাথে বরণ করেন, তখন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। ভয়হীন ক্লাসরুমে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে শেখে, যুক্তি দেখাতে শেখে এবং নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সাহস পায়।পরিবার হলো শিশুর প্রথম পাঠশালা এবং মা-বাবা হলো তার প্রথম শিক্ষক। তাই আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তন সবার আগে প্রয়োজন। সন্তানের রেজাল্ট নিয়ে প্রতিবেশী বা আত্মীয়স্বজনের সাথে অসুস্থ তুলনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সন্তান পরীক্ষায় কত নম্বর পেল তার চেয়ে বড় কথা হলো সে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখতে পেরে আনন্দ পেল কি না, তা অনুধাবন করা জরুরি। ছুটির দিনে সন্তানকে সারাদিন পড়ার টেবিলে আটকে না রেখে তাকে খেলার মাঠে যেতে দেওয়া, বই পড়ার আনন্দ উপভোগ করানো এবং প্রকৃতির সাথে মেশার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। যৌথ পরিবার কিংবা পারিবারিক আড্ডায় গল্প বলার মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার যে ঐতিহ্য আমাদের সংস্কৃতিতে ছিল, তা ফিরিয়ে আনা দরকার। যখন ঘরে এবং বাইরে শিশু একটি নিরাপদ, স্নেহময় ও আনন্দঘন পরিবেশ পায়, তখন তার মানসিক বিকাশ সুষম হয়।ডিজিটাল যুগের এই সময়ে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেও শিক্ষাকে দারুণভাবে আনন্দময় করে তোলা সম্ভব। অ্যানিমেশন, কার্টুন, শিক্ষামূলক ভিডিও গেম এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাপস আজ শিক্ষার ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে কার্টুনের চরিত্রের মাধ্যমে বর্ণমালা বা নামতা শেখানোর পদ্ধতি শিশুদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। তবে এই ডিজিটাল মাধ্যম যেন আবার স্ক্রিন টাইমের অতিরিক্ত আসক্তিতে পরিণত না হয়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রযুক্তিকে সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য করে তোলা যেতে পারে, যা প্রথাগত পাঠ্যপুস্কের একঘেয়েমি দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দময় শিক্ষার এই ধারণাটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শিক্ষাক্রমে পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং কন্টিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্টের ওপর যে জোর দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক ও আন্তরিকভাবে বাস্তবায়িত হলে মুখস্থ বিদ্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে। তবে এর পাশাপাশি শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, ক্লাসরুমের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। বড় বড় শহরগুলোর পাশাপাশি মফস্বল ও গ্রামবাংলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও যদি আনন্দময় শিক্ষার পর্যাপ্ত উপকরণ ও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবেই সত্যিকার অর্থে শিক্ষার সুফল সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।একটি জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন একটি সুস্থ, সবল ও সৃজনশীল প্রজন্ম। যে শিশু শৈশবে আনন্দ নিয়ে পড়াশোনা করতে শেখে, সে বড় হয়ে একজন কৌতূহলী গবেষক, দক্ষ পেশাজীবী এবং মানবিক গুণসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে। ভীতি ও প্রতিযোগিতার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শিক্ষাকে কোনো শাস্তিমূলক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য আনন্দের অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করার সময় এখনই। আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি শিশুর শৈশব হাসিখুশিতে মুখরিত থাকবে এবং জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে প্রতিটি হৃদয়ে আনন্দ ও উদ্দীপনার স্ফুলিঙ্গ হয়ে।
ডেস্ক নিউজ