বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
The Dhaka News Bangla

কুমিল্লার চান্দিনায় লরির ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২, আহত ১

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় একটি দ্রুতগামী লরির ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার তীব্রতায় অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেওয়ার পর লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।নিহতরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার পাঁচকিত্তা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং অটোরিকশাচালক হানিফ মিয়া এবং দেবীদ্বার উপজেলার দাঁড়িয়াপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে লাবিব হোসেন। এই ঘটনায় আহত সজীব হোসেন নিহত লাবিবের মামাতো ভাই এবং তিনি একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে মাধাইয়া থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি নূরীতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চট্টগ্রামগামী একটি লরি এটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাহনই ছিটকে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে নিমজ্জিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফ মিয়া ও লাবিব হোসেনের মৃত্যু হয়। বিকেল গড়াতেই নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ নিহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
০৮ জুলাই ২০২৬

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের পদ ছাড়ার ঘোষণা জাবেরের

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘোষণা দেন।পোস্টে তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর তার ওয়ারিশ সংক্রান্ত ইস্যুতে সংগঠনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ওসমান হাদীর সম্মানার্থে এবং তার ওয়ারিশদের দাবির ভিত্তিতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সার্বিক দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।স্ট্যাটাসে আব্দুল্লাহ আল জাবের উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদী শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিলেও তা সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই এটি জনতার আমানত হিসেবে পরিচিত এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে শাহাদাত পরবর্তী উত্থাপিত ওয়ারিশ সংক্রান্ত ইস্যু সমাধানের চেষ্টা চলছিল। এই সময়ে বেশ কিছু নতুন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে বিষয়গুলো আরও জটিল আকার ধারণ করে বলে জানান তিনি।তিনি লেখেন, "আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ভালোবাসা ও সম্মান আপনারা আমায় দিয়েছেন, তার জন্য আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।"আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্বপালনকালে মানুষের আস্থা রক্ষার চেষ্টা তিনি আপ্রাণ করেছেন। তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর ঢাকা-৮ ও কালচারাল সেন্টার সংশ্লিষ্ট সব একাউন্ট ফ্রিজ থাকায় সংশ্লিষ্ট হিসাব ব্যতীত তার দায়িত্বকালীন সময়ের বাকি সব হিসাব দ্রুততম সময়ে প্রকাশ করা হবে।স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, শহীদ ওসমান হাদী যে ইনসাফের লড়াই ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্বপ্ন জাগিয়ে গেছেন, তা বহন করার দায়িত্ব পালনের জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার-কেন্দ্রিক নিজের যাত্রা এখানেই সমাপ্ত হচ্ছে বলে জানিয়ে দেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।
০৮ জুলাই ২০২৬

কুবিতে র‍্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং উন্নয়ন ও একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, এশিয়ায় ইরাসমাস প্লাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস (ইএনএফপিএস) নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সহায়তা কার্যক্রমের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. আশিকুর রহমান, আইকিউএসি (ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান, গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান।আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ড. আশিকুর রহমান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং কোনো প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যক্রমের প্রতিফলন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত কর্মপরিবেশ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগ থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন কোনো সাফল্যের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সব অংশীজনের সম্মিলিত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।"তিনি আরও বলেন, 'কিউএস, টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই), সাংহাই র‍্যাংকিং এবং সিমাগো-সহ আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ব্যবস্থার বিভিন্ন মূল্যায়ন সূচক বিবেচনা করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করতে হবে।'আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বলেন, "ড. আশিকুর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং ও উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাস্তবসম্মত করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় উপাচার্য গবেষণা পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ততা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা প্রকাশনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে এক বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে মতৈক্য হয়েছে।"তিনি আরও বলেন, "আমরা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে এগোতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আমরা আশাবাদী।"
০৭ জুলাই ২০২৬
এবার খামেনির দাফনস্থল মাশহাদে মার্কিন হামলা

এবার খামেনির দাফনস্থল মাশহাদে মার্কিন হামলা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনস্থল মাশহাদের পথে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, হামলায় মাশহাদের পথে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদেই খামেনিকে দাফন করার কথা রয়েছে।এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানি হামলার জেরে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়।এর আগে বুধবার ভোরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। ইরান ওমান উপকূলে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনা ও বন্দর এলাকায় হামলা চালায়। তবে বৃহস্পতিবারের হামলা আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে ইরান। বৃহস্পতিবার সকালে বাহরাইনে অন্তত দুইবার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় রয়েছে।তবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে চালানো হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে প্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আইআরজিসিও বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলার দৃশ্য দেখা গেছে।সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, “কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশ অনুযায়ী ইরানে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো প্রাণঘাতী হামলার জবাব দিতেও আমরা প্রস্তুত।”যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং দেশটির সক্ষমতা দুর্বল করাই এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহর ছাড়াও চাবাহার, কোনারাক, বান্দার আব্বাস ও সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একটি বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশের একটি রেলসেতুতেও হামলা হয়েছে। তবে গোলেস্তান ও মাশহাদের পথে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলো একই হামলার অংশ কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এদিকে ন্যাটো সম্মেলন শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “এটি ইরানের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ। যদি আবার এমন কিছু ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “ভয় দেখানো এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো মূল্য নেই এ শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্র এখনো নেয়নি। আমি স্পষ্ট করে বলছি, তোমরা হামলা করলে তার জবাব অবশ্যই পাবে।”সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পও ন্যাটো সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি আর ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
৩ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করছে একটি গোষ্ঠী: রিজভী

সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করছে একটি গোষ্ঠী: রিজভী

দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরন্তর চেষ্টাকে কেউ যেন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে দেশবাসীকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এখনও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যাচ্ছে একটি গোষ্ঠী।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের পাশাপাশি কাজ করবে বিএনপি। তার ভাষায়, কোনো অপশক্তি এই জাতির ঐক্য ভাঙতে পারবে না।তিনি আরও বলেন, চক্রান্ত ও উসকানি এড়িয়ে নির্ভয়ে রথযাত্রা পালিত হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সতর্ক অবস্থানে থাকবে বিএনপি।স্কুল ফিডিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি মানহীন খাবার সরবরাহ করে যারা অপরাধ করছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বানও জানান তিনি।
১ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মিশরকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে: মামদানী

মিশরকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে: মামদানী

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের নাটকীয় ৩-২ গোলের পরাজয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফএ) আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের পর এবার এই আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। তিনি সরাসরি মন্তব্য করেছেন, ম্যাচটিতে মিশরকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে।গত মঙ্গলবারের ওই ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের একাধিক সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। ইএফএ ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরদিনই নিউইয়র্কের মেয়রের এই মন্তব্য এলো ।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের মোস্তফা জিকো একটি অনবদ্য গোল করলেও ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, গোলের ঠিক ২০ সেকেন্ড আগে একটি ফাউল হয়েছিল। এই কারণ দেখিয়ে রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।বুধবার নিউইয়র্কে যানজট নিরসন ও দ্রুত বাস সেবা সংক্রান্ত এক কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে হঠাৎই বিশ্বকাপের এই বিতর্কিত ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলে আনেন মেয়র জোহরান মামদানী। তিনি বলেন, নতুন বাস সেবার কারণে যাত্রীদের যে সময় বাঁচবে, তা তারা পরিবারকে দিতে পারবেন। এরপর রসিকতা ও ক্ষোভ মিশ্রিত সুরে যোগ করেন, এর মানে হলো বন্ধুদের সঙ্গে বসে এই বিষয়ে একমত হওয়ার সময়ও পাওয়া যাবে যেমিশরের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে এবং তাদের ডাকাতি করে হারানো হয়েছে।ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেফারিং ও ভিএআর সিস্টেমের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় ইএফএ। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা চুপ থাকতে পারে না।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিশরের এক তারকা ফুটবলার ক্রীড়া মাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাচটি ‘ফিক্সড’ বা পাতানো ছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, পেনাল্টি ও বৈধ গোল বাতিল করানোর জন্য আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
১২ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

এবার খামেনির দাফনস্থল মাশহাদে মার্কিন হামলা

এবার খামেনির দাফনস্থল মাশহাদে মার্কিন হামলা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনস্থল মাশহাদের পথে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, হামলায় মাশহাদের পথে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদেই খামেনিকে দাফন করার কথা রয়েছে।এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানি হামলার জেরে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়।এর আগে বুধবার ভোরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। ইরান ওমান উপকূলে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনা ও বন্দর এলাকায় হামলা চালায়। তবে বৃহস্পতিবারের হামলা আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে ইরান। বৃহস্পতিবার সকালে বাহরাইনে অন্তত দুইবার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় রয়েছে।তবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে চালানো হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে প্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আইআরজিসিও বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলার দৃশ্য দেখা গেছে।সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, “কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশ অনুযায়ী ইরানে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো প্রাণঘাতী হামলার জবাব দিতেও আমরা প্রস্তুত।”যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং দেশটির সক্ষমতা দুর্বল করাই এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহর ছাড়াও চাবাহার, কোনারাক, বান্দার আব্বাস ও সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একটি বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশের একটি রেলসেতুতেও হামলা হয়েছে। তবে গোলেস্তান ও মাশহাদের পথে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলো একই হামলার অংশ কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এদিকে ন্যাটো সম্মেলন শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “এটি ইরানের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ। যদি আবার এমন কিছু ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “ভয় দেখানো এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো মূল্য নেই এ শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্র এখনো নেয়নি। আমি স্পষ্ট করে বলছি, তোমরা হামলা করলে তার জবাব অবশ্যই পাবে।”সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পও ন্যাটো সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি আর ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
৩ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

হাতিয়ায় রেকর্ড মিলিমিটার বৃষ্টি, অস্বাভাবিক জোয়ার ও ভারী বর্ষণে উপকূল বিপর্যস্ত

হাতিয়ায় রেকর্ড মিলিমিটার বৃষ্টি, অস্বাভাবিক জোয়ার ও ভারী বর্ষণে উপকূল বিপর্যস্ত

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে ফসলের খেত ও মাছের ঘের। পানি ঢুকে পড়েছে হাজারো মানুষের বসতবাড়িতে, যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের তীব্রতায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। বিশেষ করে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও মাছের প্রজেক্ট তলিয়ে গেছে। এছাড়া মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নিঝুম দ্বীপ, দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে।এলাকার মানুষের দাবি, বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং উপচে পানি ঢোকার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা সানা উল্যাহ বলেন, একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে ভারী বর্ষণে হাতিয়ার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। অনেকের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুইদিন ধরে ঘরে চুলাই জ্বলেনি, হাঁড়ি ওঠেনি। অথচ এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বা কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।তমরদ্দি এলাকার স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষী মেহরাজ উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ করে পানি আসায় মাছের ঘের রক্ষা করার কোনো সুযোগ পাইনি। লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ফসলের খেতও পানির নিচে। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, আর পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব—তা নিয়ে এখন দিশেহারা।এদিকে জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।সার্বিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি বলেন, হাতিয়ার কিছু এলাকার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে, আবার কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসব এলাকার বেড়িবাঁধ দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।তবে দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হলেও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় তাদের গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত সরকারি ত্রাণ সহায়তা এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। 
২৯ জুন ২০২৬
নোয়াখালীতে ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

নোয়াখালীতে ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

২৯ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি রিতু, জুয়াইরিয়া ও মারুফাদের

র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি রিতু, জুয়াইরিয়া ও মারুফাদের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রকাশিত নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বশেষ সাপ্তাহিক র‍্যাংকিংয়ে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের।মঙ্গলবার প্রকাশিত এই হালনাগাদ র‍্যাংকিংয়ে ব্যাটারদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। তিনি সাত ধাপ এগিয়ে ৯৬তম স্থানে উঠে এসেছেন। এর আগের সপ্তাহেও ৩৬ ধাপ উন্নতি হয়েছিল তার।এ ছাড়া শারমিন আক্তার ছয় ধাপ এগিয়ে ৪৪তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। আরেক ওপেনার সোবহানা মোস্তারি চার ধাপ এগিয়ে এখন রয়েছেন ৪০তম স্থানে।বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এখনও সবার ওপরে অবস্থান করছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এক ধাপ এগিয়ে তিনি যৌথভাবে ১৯তম স্থানে রয়েছেন। ব্যাটারদের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার জর্জিয়া ভল।বোলারদের র‍্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের দুই পেসারের। রিতু মনি ১১ ধাপ এগিয়ে ৪০৮ রেটিং নিয়ে উঠে এসেছেন ৭৫তম স্থানে। অন্যদিকে মারুফা আক্তার ছয় ধাপ এগিয়ে ৫৩৬ রেটিং নিয়ে অবস্থান করছেন ৩৮তম স্থানে।বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। এক ধাপ এগিয়ে তিনি এখন যৌথভাবে ১৭তম স্থানে আছেন। আর টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শ্রী চারানি।এদিকে, নারী টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকার এক নম্বরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস।
০১ জুলাই ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২৯ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ