মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

কারাগারে বসেই এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে নোয়াখালীর মাহবুব

দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে নোয়াখালীর এক কিশোর শিক্ষার্থী, তবে ব্যতিক্রমীভাবে সে পরীক্ষা দিচ্ছে কারাগারের ভেতর থেকে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব এলাহী রাজিন (১৫) বর্তমানে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে। আদালতের বিশেষ অনুমতিতে সে কারাগার থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।জানা গেছে, মাহবুব নোয়ান্নই উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থী। বর্তমানে তার পরীক্ষা কেন্দ্র নোয়াখালী জিলা স্কুল। কারাগারের অভ্যন্তরে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে জিলা স্কুল কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে তার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর মাহবুবকে প্রথমে টঙ্গী কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তার আবেদনের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করেন।নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেলার আবু মুছা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা অনুসরণ করে তার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও একইভাবে কারাগার কেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হবে।এ বিষয়ে কারাগারের জেল সুপার আ. বারেক বলেন, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন বলেন, নোয়াখালী জেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার সার্বিক আয়োজন বেশ বড় পরিসরে সম্পন্ন হচ্ছে। মোট ৭৫টি কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৫০১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। দাখিলে ৮ হাজার ৬৭১ জন এবং ভোকেশনালে ১ হাজার ৭২৩ জন অংশগ্রহণ করছে।
৭ ঘন্টা আগে

জাল টাকাসহ আটক ১, ল্যাপটপ ও প্রিন্টার জব্দ

কুমিল্লার চান্দিনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৩ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোটসহ মো. আরিফুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চান্দিনা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেলাশ্বর এলাকায় (পালকী সিনেমা হলের সামনে) অবস্থান নেয়। সেখানে জাল টাকা কেনাবেচার সময় হাতেনাতে আরিফুলকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছে থাকা বিভিন্ন মানের মোট ১৩ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।আটক আরিফুল ইসলাম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া (বেত বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৩টার দিকে মুরাদনগরের বাবুটিপাড়ায় তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় তার শয়নকক্ষ থেকে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।এ বিষয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আরিফুল দীর্ঘদিন ধরেই জাল টাকা তৈরি এবং তা বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১১ ঘন্টা আগে

চাঁদপুরে বাপাউবোর প্রকল্পের কাজ শুরুর পূর্বেই সংঘবদ্ধ চক্রের বিভ্রান্তি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা ধনগোদা সেচ প্রকেল্পর আওতাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ বিগত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে চলমান। তবে বোরো আবাদের জন্য বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই উন্নয়ণ কাজ বন্ধ থাকে। সম্প্রতি একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই সংঘবদ্ধ চক্র বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার শুরু করেছে। আর এর সাথে জড়িয়েছে সংস্থার এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে। ব্যাক্তির প্রতি ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্পটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে মনে করেন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সব ধরনের কাজে তদারকি হয় ছয়টি ভাগে। প্রত্যেকটি ভাগের জন্য পৃথক কর্মকর্তা রয়েছে। বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে যেসব টেন্ডার হয়েছে ওইসব কাজ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হয়েছে। এরপর আর কোন কাজ হয়নি। আর এসব কাজ কোন ঠিকাদার শুরু করতে হলে অব্যশই নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমতি নিয়ে করতে হয়।গত কয়েকবছর এই সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেনি। কিন্তু কালিপুর এলাকায় প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই কাজটিতে যে কয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহন করে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিলো স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার ওই কাজটি স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় শুরু হয় বিরোধ। ওই কাজ যেসব প্রতিষ্ঠান পেয়েছে তাদেরকে স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন হুমকি ধমকি দিতে শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে তারা নানা মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে।ওই চক্রটি মেঘনা ধনাগোদা প্রকল্পের ফরাজিকান্দি ও এখলাছপুর এলাকায় যে অনিয়মের কথা প্রচার করে, মূলত ওই কাজটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। আমিন এন্ড কোং নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই কাজ সম্পন্ন করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে কাজ বাস্তবায়ন করেন চাঁদপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আজিজ এণ্ড ব্রাদার্স। আজিজ এণ্ড ব্রাদার্সের সত্ত্বাাধিকারী আজিজ মিয়াজী বলেন, তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে প্রকল্পের স্ল্যাব নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। এরপর নির্মাণ সামগ্রী থাকায় তিনি ব্যাক্তিগতভাবে ফরাজিকান্দিতে কিছু স্ল্যাব নির্মাণ তৈরি করে রেখেছেন। এই নির্মাণ কাজের সাথে পাউবোর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এদিকে সংঘবদ্ধ চক্র যে প্রকল্পের অনিয়মের কথা প্রচার করছে। সেটি হচ্ছে কালিপুর এলাকায়। ওই প্রকল্পের কাজটিও করবে আমিন এণ্ড কোং। ওই কাজের সেকশন অফিসার হচ্ছে মো. জুবায়ের। ওই কাজ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। যেখানে কাজ শুরু হয়নি, সেখানে অনিয়ম হওয়ার কোন সুযোগই নেই।মেঘনা ধনাগোদা পওর বিভাগ চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, সেচ প্রকল্পের বেড়ি বাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ১২টি প্যাকেজে হচ্ছে। এই কাজ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চলমান থাকে। যেসব কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এগুলো সঠিক নয়। কোন একটি পক্ষ তাদের সুবিধা না পেয়ে এই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে। এসব কাজের সাথে আমাদের সংস্থার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন কিংবা অন্য কেউ কোন ধরণের অনিয়মের সাথে জড়িত নেই। এসব বিষয় আমি গণমাধ্যমে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ ধরণের অপপ্রচার একটি সংস্থার সুনাম ক্ষুন্ন ছাড়া অন্য কিছু নয়। যদি সত্যিকারে অনিয়ম হয়, তাহলে সঠিক তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হতে পারে।
২০ ঘন্টা আগে
হারিয়ে যাওয়া কারিগর: বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা এখন কেবল স্মৃতি

হারিয়ে যাওয়া কারিগর: বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা এখন কেবল স্মৃতি

প্রকৃতির অনন্য স্থাপত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিত বাবুই পাখি এখন আমাদের গ্রামবাংলার আকাশ থেকে যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় গ্রামের তাল, নারিকেল, খেজুর ও সুপারি গাছের মাথায় সারিবদ্ধভাবে ঝুলতে দেখা যেত বাবুই পাখির নিখুঁত ও শৈল্পিক বাসা। সেই দৃশ্য এখন অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো। সবুজ প্রকৃতিতে যখন দখিনা হাওয়া বইত, তখন বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর তাদের হাতের কাজের মতো নিপুণ বাসা তৈরির দৃশ্য ছিল গ্রামীণ জনপদের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু কালের বিবর্তনে, প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতায় এবং মানুষের অসচেতনতায় আজ এই পাখি বিলুপ্তির পথে। আবহমান গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা রূপটি এখন কেবল স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।বাবুই পাখি তার বাসা তৈরির দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তাদের বাসাগুলো যেন প্রকৌশলবিদ্যার এক চমৎকার নিদর্শন। শক্ত ঘাস, খড়, লতাপাতা আর গাছের আঁশ দিয়ে তারা যে বাসা তৈরি করে, তা প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতেও টিকে থাকতে সক্ষম। একটি পুরুষ বাবুই পাখি তার সঙ্গী পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে বাসা তৈরি করে। বাসাটি অর্ধেক তৈরি হলে সে নারী বাবুই পাখিকে আকৃষ্ট করার জন্য ডাকাডাকি শুরু করে। নারী বাবুই পাখি বাসা পরিদর্শন করে যদি সেটি পছন্দ করে, তবেই তারা সেখানে সংসার শুরু করে। এমন অদ্ভুত ও চমৎকার স্বভাবের পাখি আজ পরিবেশের চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা যায় আবাসস্থলের সংকট। আমাদের দেশ থেকে নির্বিচারে তাল, খেজুর ও নারিকেল গাছ কেটে ফেলার ফলে বাবুই পাখিরা তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় স্থান হারিয়েছে। যে গাছগুলোতে তারা নিরাপদে বাসা বাঁধত, সেই গাছগুলোর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।এছাড়া আধুনিক কৃষিব্যবস্থায় ব্যাপক হারে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাবুই পাখির জীবনচক্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। জমিতে ছিটানো বিষাক্ত ওষুধের কারণে পাখিগুলো যেমন খাবারের অভাবে ভুগছে, তেমনি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছে। প্রকৃতির পরম বন্ধু বাবুই পাখি এখন পরিবেশ দূষণের শিকার। খাদ্যের অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি অনেক সময় শৌখিন মানুষের হাতে বাসা শিকার হওয়ার কারণেও তাদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। আগে যখন গ্রামবাংলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ থাকত, তখন বাবুই পাখিরা তাদের খাদ্যের অভাব বোধ করত না। কিন্তু এখন ফসলের মাঠ সংকুচিত হয়ে আসায় এবং প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় উজাড় হওয়ার ফলে এই ক্ষুদে পাখিটি টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে।পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বাবুই পাখি প্রকৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে কৃষকের উপকার করে। কিন্তু আজ মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে গাছ কেটে এবং প্রকৃতিকে দূষিত করে বাবুই পাখির মতো নিরীহ পাখিদের হারিয়ে ফেলছে। প্রকৃতির এই ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। যদি আমরা এখনই বাবুই পাখিদের আবাসস্থল রক্ষায় সচেষ্ট না হই, তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো কেবল পাঠ্যপুস্তকে বা ছবিতে এই পাখির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে। তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি তাল ও নারিকেল গাছ লাগানো এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করা সময়ের দাবি। এছাড়া পাখি শিকার বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।পরিশেষে, প্রকৃতির এই শৈল্পিক প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশের সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে বাবুই পাখির অস্তিত্ব অপরিহার্য। গ্রামবাংলার আকাশ আবার যেন বাবুই পাখির কিচিরমিচিড়ে মুখরিত হয়, তার জন্য প্রয়োজন আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাল গাছের মাথায় দোল খাওয়া সেই শৈল্পিক বাসাগুলো হারিয়ে গেলে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের এক বিশাল অংশই চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। তাই আসুন, গাছ লাগানো এবং প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে আমরা এই চমৎকার পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বাসযোগ্য ও জীববৈচিত্র্যময় পৃথিবী গড়ে তুলি। বাবুই পাখি বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, আর প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচব আমরা সবাই।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মামলা প্রত্যাহার হওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর-এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে?উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামলার শিকার হয়েছেন, ২০ বছর আগে কবরে গেছেন এমন মানুষ মামলার শিকার হয়েছেন, দুই হাত পঙ্গু তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তিনি ঢাকা শহরে ময়লার ট্রাকে বোমা মেরেছে। এসব মামলার ধরন আমরা জানি। তিনি আরও বলেন, যেসব মামলা হয়েছে প্রত্যাহার হয়েছে তার সার্টিফাইড কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে দরখাস্ত করার অনুরোধ করব। আর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে অনুরোধ করব যেসব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট জটিলতা যাতে অতি দ্রুত নিষ্পন্ন করেন। এর বাইরে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না।
০১ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

উইকিপিডিয়া পড়ে ঢাকা অঞ্চলের কুইজ চ্যাম্পিয়ন চাঁদপুরের দুই শিক্ষার্থী

উইকিপিডিয়া পড়ে ঢাকা অঞ্চলের কুইজ চ্যাম্পিয়ন চাঁদপুরের দুই শিক্ষার্থী

বিশ্ব শব্দকোষ উইকিপিডিয়া পড়ে ঢাকা অঞ্চলের কুইজ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চাঁদপুরের দুই শিক্ষার্থী হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আব্দুল্লাহ এবং আল আমিন একাডেমির সাহেলা।শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানির ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিলনায়তনে উইকিস্কলার ২০২৬ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ঢাকা আঞ্চলের ৯ টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে ঢাকা বিভাগের ‘উইকিস্কলার ২০২৬’ কুইজ প্রতিযোগিতা। এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্ত জ্ঞান শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের চিন্তা ও জানার আগ্রহকে আরও শক্তিশালী করা।দুই গ্রুপে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ক’ গ্রুপে (৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণি): চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আলিফ। প্রথম রানার্সআপ এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলস্কুলের শিক্ষার্থী কে.এম তাজরিন কাবির এবং শিহাব আহমেদ।‘খ’ গ্রুপে (৯ম–১০ম শ্রেণি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাহেলা মেহজাবিন ছোঁয়া । প্রথম রানার্সআপ ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে যথাক্রমে ইস্পাহানী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের নাবিল আল জিহাদ এবং হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মিনহাজ বিন শাহাদাত।উল্লেখ্য ক গ্ৰুপ চ্যাম্পিয়ন আব্দুল্লাহ আলিফ এর পিতা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন খান হাজীগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার এবং মাতা সাইয়েদা নাবিলা নুর একজন আদর্শ গৃহিনী।ক গ্ৰুপ চ্যাম্পিয়ন আব্দুল্লাহ আলিফ এই কৃতিত্বের জন্য তার পিতা-মাতার উৎসাহ ঐকান্তিক সহযোগিতা বলে জানান। অপরদিকে খ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ এর শিক্ষার্থী সাহেলা মেহজাবিন ছোঁয়ার পিতা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সমবায়ি প্রতিষ্ঠান চান্দ্রা শিক্ষিত সমবায় সমিতির কর্মকর্তা এবং মাতা নুরুন নাহার আল আমিন একাডেমি ছাত্রী শাখার মাধ্যমিক এর সিনিয়র শিক্ষক। সাহেলা এ চ্যাম্পিয়নের পিছনে তার বাবা- মায়ের সঠিক দিক নির্দেশনা এবং উৎসাহ প্রদানে সাহস যুগানোর কথা উল্লেখ করেন।উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর মাসুম আল হাসানের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন অভ্র টিমের সদস্য ও একুশে পদক বিজয়ী শাবাব মুস্তাফা ও ড্যাফোডিল ফ্যামিলির নির্বাহী পরিচালক ড. কে এম হাসান রিপন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উইকিপিডিয়ার ওপর কর্মশালা পরিচালনা করেন, বাংলা উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি টিমের সদস্য নাহিদ সুলতান।ঢাকা উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উইকিমিডয়া স্টুয়ার্ড ইয়াহিয়া, ঢাকা উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের হাসনাত আব্দুল্লাহ, রামিশা তাবাসসুম, ইশতিয়াক আব্দুল্লাহ, সহ-সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকবৃন্দ।
১১ এপ্রিল ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কুবিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তি ;দুই দশকেও হয়নি নিজস্ব সাব - স্টেশন

কুবিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তি ;দুই দশকেও হয়নি নিজস্ব সাব - স্টেশন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কয়েক দিন ধরেই ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের ছুটির পর থেকেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো হয়নি নিজস্ব সাব-স্টেশন, নেই শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটর সুবিধা তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বেড়ে যায় সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি ।স্বাভাবিক আবহাওয়াতেও প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাতবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ইদানীং বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্লাস, ল্যাব, প্রেজেন্টেশন ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, 'গরম শুরু হওয়ার পর থেকে হলে বিদ্যুতের সমস্যা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে দুপুরের সময়ে, যখন শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ একাডেমিক কাজ থাকে, তখনই বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে হলের ওয়াইফাই সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ ফিরে এলেও পুনরায় সংযুক্ত হতে অনেক সময় লাগে। বর্তমানে একাডেমিক কার্যক্রমের অনেক কিছুই অনলাইননির্ভর হওয়ায় এতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।'বিজয়–২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ লোকমান বলেন, 'বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে রাতে নিয়মিত লোডশেডিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি গরমের মধ্যে হলে স্বাভাবিকভাবে থাকা ও বিশ্রাম নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বর্তমানে অনলাইন ক্লাস ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কাজও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।'কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুন বলেন, 'অন্যান্য এলাকার তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও এখানে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক ক্লাস ও প্রেজেন্টেশন মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে হয় এবং শিক্ষার্থীদের ল্যাব পরীক্ষাও থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা প্রয়োজন।'তিনি আরও বলেন, 'বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদেরও নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।'বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার (বৈদ্যুতিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬০০ কিলোওয়াট, যা পিডিবি সরবরাহ করছে। গত দুই দিন গাছপালা কাটার কাজের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া ইদানীং কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে বলেও আমরা লক্ষ্য করছি। এ বিষয়ে কোটবাড়ী সাব-স্টেশনের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইনটিকে বিআইপি লাইনের আওতায় রাখার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।'এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, 'ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আমরা গত রবিবার পিডিবিকে চিঠি দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যেন স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে, সে জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে দ্রুত সাড়া না পেলে পিডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।'
২ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১১ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১১ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

হারিয়ে যাওয়া কারিগর: বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা এখন কেবল স্মৃতি

হারিয়ে যাওয়া কারিগর: বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা এখন কেবল স্মৃতি

প্রকৃতির অনন্য স্থাপত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিত বাবুই পাখি এখন আমাদের গ্রামবাংলার আকাশ থেকে যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় গ্রামের তাল, নারিকেল, খেজুর ও সুপারি গাছের মাথায় সারিবদ্ধভাবে ঝুলতে দেখা যেত বাবুই পাখির নিখুঁত ও শৈল্পিক বাসা। সেই দৃশ্য এখন অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো। সবুজ প্রকৃতিতে যখন দখিনা হাওয়া বইত, তখন বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর তাদের হাতের কাজের মতো নিপুণ বাসা তৈরির দৃশ্য ছিল গ্রামীণ জনপদের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু কালের বিবর্তনে, প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতায় এবং মানুষের অসচেতনতায় আজ এই পাখি বিলুপ্তির পথে। আবহমান গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা রূপটি এখন কেবল স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।বাবুই পাখি তার বাসা তৈরির দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তাদের বাসাগুলো যেন প্রকৌশলবিদ্যার এক চমৎকার নিদর্শন। শক্ত ঘাস, খড়, লতাপাতা আর গাছের আঁশ দিয়ে তারা যে বাসা তৈরি করে, তা প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতেও টিকে থাকতে সক্ষম। একটি পুরুষ বাবুই পাখি তার সঙ্গী পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে বাসা তৈরি করে। বাসাটি অর্ধেক তৈরি হলে সে নারী বাবুই পাখিকে আকৃষ্ট করার জন্য ডাকাডাকি শুরু করে। নারী বাবুই পাখি বাসা পরিদর্শন করে যদি সেটি পছন্দ করে, তবেই তারা সেখানে সংসার শুরু করে। এমন অদ্ভুত ও চমৎকার স্বভাবের পাখি আজ পরিবেশের চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা যায় আবাসস্থলের সংকট। আমাদের দেশ থেকে নির্বিচারে তাল, খেজুর ও নারিকেল গাছ কেটে ফেলার ফলে বাবুই পাখিরা তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় স্থান হারিয়েছে। যে গাছগুলোতে তারা নিরাপদে বাসা বাঁধত, সেই গাছগুলোর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।এছাড়া আধুনিক কৃষিব্যবস্থায় ব্যাপক হারে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাবুই পাখির জীবনচক্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। জমিতে ছিটানো বিষাক্ত ওষুধের কারণে পাখিগুলো যেমন খাবারের অভাবে ভুগছে, তেমনি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছে। প্রকৃতির পরম বন্ধু বাবুই পাখি এখন পরিবেশ দূষণের শিকার। খাদ্যের অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি অনেক সময় শৌখিন মানুষের হাতে বাসা শিকার হওয়ার কারণেও তাদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। আগে যখন গ্রামবাংলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ থাকত, তখন বাবুই পাখিরা তাদের খাদ্যের অভাব বোধ করত না। কিন্তু এখন ফসলের মাঠ সংকুচিত হয়ে আসায় এবং প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় উজাড় হওয়ার ফলে এই ক্ষুদে পাখিটি টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে।পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বাবুই পাখি প্রকৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে কৃষকের উপকার করে। কিন্তু আজ মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে গাছ কেটে এবং প্রকৃতিকে দূষিত করে বাবুই পাখির মতো নিরীহ পাখিদের হারিয়ে ফেলছে। প্রকৃতির এই ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। যদি আমরা এখনই বাবুই পাখিদের আবাসস্থল রক্ষায় সচেষ্ট না হই, তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো কেবল পাঠ্যপুস্তকে বা ছবিতে এই পাখির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে। তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি তাল ও নারিকেল গাছ লাগানো এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করা সময়ের দাবি। এছাড়া পাখি শিকার বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।পরিশেষে, প্রকৃতির এই শৈল্পিক প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশের সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে বাবুই পাখির অস্তিত্ব অপরিহার্য। গ্রামবাংলার আকাশ আবার যেন বাবুই পাখির কিচিরমিচিড়ে মুখরিত হয়, তার জন্য প্রয়োজন আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাল গাছের মাথায় দোল খাওয়া সেই শৈল্পিক বাসাগুলো হারিয়ে গেলে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের এক বিশাল অংশই চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। তাই আসুন, গাছ লাগানো এবং প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে আমরা এই চমৎকার পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বাসযোগ্য ও জীববৈচিত্র্যময় পৃথিবী গড়ে তুলি। বাবুই পাখি বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, আর প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচব আমরা সবাই।
১১ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ