রোববার, ১০ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চান্দিনায় মাতৃভূমি মডেল স্কুল ও মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লার চান্দিনায় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে মাতৃভূমি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মাতৃভূমি মডেল দাখিল মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে স্কুল মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন আতিকুল আলম শাওন এমপি।মাতৃভূমি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মু. আখতার হোসাইন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইকবাল হাছান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাতৃভূমি মডেল মাদ্রাসার সভাপতি আবদুর রব ভুঁইয়া ও চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাওলানা আবুল খায়ের।মাতৃভূমি বৃত্তি প্রকল্পের পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মাওলানা মিজানুর রহমান, মাতৃভূমি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, অভিভাবক ফোরামের যুগ্ম-সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ হেলালী এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব ফজলুল ছাত্তার মাস্টার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাতৃভূমি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল আল মামুন, মাতৃভূমি মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম এবং মাতৃভূমি মডেল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কেএম একে মহিউদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্যায়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা সনদ, নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
১১ ঘন্টা আগে

চাঁদপুরে জ্বালানি তেল জব্দ, ৪ জনের অর্থদন্ড

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুদকৃত প্রায় ২ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এই ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে ৭৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।শনিবার (৯ মে) রাতে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, উপজেলার দশানী সংলগ্ন এলাকায় শনিবার দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড স্টেশন চাঁদপুর ও আউটপোস্ট মোহনপুর কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওই এলাকার চারটি গোডাউন তল্লাশি করে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুদকৃত প্রায় ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) সহ ৪ জন অসাধু ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।পরবর্তীতে মতলব উত্তর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসি ল্যান্ড) রহমত উল্যাহ এর উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ব্যক্তিদের নিকট হতে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে জব্দকৃত জ্বালানি তেল ফেরত প্রদান করা হয়।তিনি আরও বলেন, অবৈধ মজুদ ও কৃত্রিম সংকট রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
১৯ ঘন্টা আগে

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন ।(ঢাকা, ৯ মে, ২০২৬) তিনি তাদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের 'নতুন সংগ্রামে' নামতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো-আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।'আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।তিনি আরো বলেন, 'গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।'নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’তিনি বলেন 'কারণ ভোট দেয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দিব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে।  নারী পুরুষ শিশু সকলে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।'তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে, আমাদের উপরে যে রকম অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হতে হচ্ছে তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করবো, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবো।তারেক রহমান বলেন, 'আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।'এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট(কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায়  স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও  উপস্থিত রয়েছেন।উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি  এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সাথে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।
২২ ঘন্টা আগে
আদেশ পেয়েও ফেনীর এসপি হিসেবে যোগদান করতে পারেননি চান্দিনার মাহবুব;

আদেশ পেয়েও ফেনীর এসপি হিসেবে যোগদান করতে পারেননি চান্দিনার মাহবুব;

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুব আলম খান। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আদেশ পান।ওই আদেশে পাওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। তার যোগদান ঠেকাতে একটি মহলের শুরু হয় অপতৎপরতা। আদেশ পেয়েও চান্দিনার সন্তান হিসেবে পুলিশ সুপার পদে দায়িত্বপালনে বাঁধাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে মো. মাহবুব আলম খানকে নিযুক্ত না করার দাবি জানিয়ে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যাদিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. সেতাউর রহমান।তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুলিশ সুপার মাহবুব আলম এর বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনেন। ওই অভিযোগ গুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আমলে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যুবদল, ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের উপর নির্মম অত্যাচারের কথা প্রকাশ করা হয়। এসব ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে ২টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তবে ওই মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান।তিনি বলেন- আমার বিরুদ্ধে আনিত ২টি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। মূলত আমার পূর্ববর্তী কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোন একটি মহলের ষড়যন্ত্রে এসব মিথ্যা মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী মো. সেতাউর রহমানের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে আমি ২০১৬ সালের ১৭ আগষ্ট তার ভাইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাই। প্রকৃতপক্ষে আমি তার তিনদিন আগে ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ৩০তম পুলিশ ফাইনেন্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্সে অংশ গ্রহণ করি। বর্তমানে ওই মামলায় আমার অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষমও হয়েছি। খুব শীঘ্রই মামলাটি থেকে আমি অব্যাহতি পাবো। অপর একটি মামলায় আমার কোন সংশ্লিষ্ট না থাকায় আমাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।এসপি মাহবুব দাবি করেন- আমি চাকুরীতে যোগদান করার পর থেকে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক আমার উপর সরকারি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার চেষ্টা করে আসছি। আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে কোন একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।এদিকে, ওইসব মামলার নানা নথি ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান এর যাবতীয় নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রকৃতপক্ষে ঘটনার দিন ও সময়ে তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না এবং তার কোন সংশ্লিষ্টতার প্রদানও মিলেনি।অপরদিকে, চান্দিনা উপজেলা বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান বলেন- এসপি মাহবুব আলম খান চান্দিনার গর্ব। তার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক ছিলেন। আমরা যখন শুনেছি তাকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োজিত করা হচ্ছে, ওই কথা শুনার পর আমরা আনন্দিত হই। যখনই এমন মিথ্যা অপপ্রচার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাতে আমরা বিভ্রান্তিতে পরি এবং তাকে দায়িত্ব না দেয়ায় আমরা হত্যাশাগ্রস্থ।ছয়ঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার মাকসুদুল হাসান জানান- চান্দিনার সন্তান একটি জেলার পুলিশ সুপার  এমন কথা শুনে আমরা গর্বিত হই। মাহবুব আলম খান এর মতো এমন নিষ্ঠাবান ছেলের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান- মাহবুব আলম খানকে আমরা ছাত্রজীবন থেকে চিনি। সে ছাত্রজীবনে এলাকায় ছাত্রদলের সাথে যুক্ত ছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়ণরত অবস্থায় সহিদুল্লাহ হলের ছাত্রদল কমিটির সদস্য ছিল। এলাকায় শিক্ষায় অধিক মনোযোগী পরিবারের সন্তান মাহবুব। তাকে পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত না করা সম্পূর্ণ বৈষম্য।মাইজখার ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাসান মাহমুদ হানিফ জানান- মাহবুব আলম ছাত্র জীবন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে রাজনীতি করে আসছিল। তিনি চাকুরীতে যোগদানের পর রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি বিভিন্ন ভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এ বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
১০ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন ।(ঢাকা, ৯ মে, ২০২৬) তিনি তাদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের 'নতুন সংগ্রামে' নামতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো-আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।'আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।তিনি আরো বলেন, 'গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।'নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’তিনি বলেন 'কারণ ভোট দেয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দিব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে।  নারী পুরুষ শিশু সকলে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।'তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে, আমাদের উপরে যে রকম অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হতে হচ্ছে তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করবো, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবো।তারেক রহমান বলেন, 'আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।'এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট(কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায়  স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও  উপস্থিত রয়েছেন।উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি  এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সাথে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।
২২ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইরানের রাজধানীসহ একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাজধানীসহ একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটি ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে চালানো হামলার পাল্টা জবাব।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। একইসঙ্গে সক্রিয় হতে দেখা যায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও। হামলার পর রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা আসার মাত্র একদিনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে ইসরাইল এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের হুমকির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ।এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড-সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও দ্রুতগামী ছোট নৌযান ব্যবহার করে মার্কিন রণতরীগুলোর ওপর হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি।অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলার দায় স্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের আব্বাস ও কেশম বন্দরে হামলার তথ্যও স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
০৮ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কুবি উপাচার্যকে গ্রেফতারসহ ৯ দফা দাবিতে কুবি ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

কুবি উপাচার্যকে গ্রেফতারসহ ৯ দফা দাবিতে কুবি ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ সময় তারা ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করে।বুধবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও সাইদুল ইসলাম শাওনসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি চলছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তারা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।তাদের উপস্থাপিত ৯ দফা দাবিগুলো হলো-১)ফৌজদারি মামলার আসামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গ্রেফতারের দাবি। ২) ২০০৯ পরবর্তী সময় থেক ১২ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের তদন্ত রিপোর্ট আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।৩) ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ।৪) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের চিঠির জবাবও শিক্ষার্থীদের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।৫) গত ১৮ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা নিয়োগের সকলের তথ্য প্রকাশ করতে হবে।৬) উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ দুর্নীতির সাথে জড়িত প্রসাশনের সকলকে পদত্যাগ করতে হবে।৭) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বার বার ব্যর্থ প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের অপসারণ করতে হবে।৮)আবাসিক হল ও ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের খাবার মান উন্নতি নিশ্চিতকরন করতে হবে।৯)তুচ্ছ ঘটনায় অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের মতো কোন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এমন অবস্থায় তিনি কীভাবে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি আমাদের প্রশ্ন। আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগগুলোর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।”ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে দুর্ভাগা। বর্তমান ভিসি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভিসি গোপনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। 'তিনি আরও বলেন, 'এসব বিষয়ে জাতির কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে ভিসিকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।"
০৬ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

২২ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

আদেশ পেয়েও ফেনীর এসপি হিসেবে যোগদান করতে পারেননি চান্দিনার মাহবুব;

আদেশ পেয়েও ফেনীর এসপি হিসেবে যোগদান করতে পারেননি চান্দিনার মাহবুব;

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুব আলম খান। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আদেশ পান।ওই আদেশে পাওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। তার যোগদান ঠেকাতে একটি মহলের শুরু হয় অপতৎপরতা। আদেশ পেয়েও চান্দিনার সন্তান হিসেবে পুলিশ সুপার পদে দায়িত্বপালনে বাঁধাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে মো. মাহবুব আলম খানকে নিযুক্ত না করার দাবি জানিয়ে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যাদিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. সেতাউর রহমান।তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুলিশ সুপার মাহবুব আলম এর বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনেন। ওই অভিযোগ গুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আমলে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যুবদল, ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের উপর নির্মম অত্যাচারের কথা প্রকাশ করা হয়। এসব ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে ২টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তবে ওই মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান।তিনি বলেন- আমার বিরুদ্ধে আনিত ২টি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। মূলত আমার পূর্ববর্তী কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোন একটি মহলের ষড়যন্ত্রে এসব মিথ্যা মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী মো. সেতাউর রহমানের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে আমি ২০১৬ সালের ১৭ আগষ্ট তার ভাইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাই। প্রকৃতপক্ষে আমি তার তিনদিন আগে ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ৩০তম পুলিশ ফাইনেন্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্সে অংশ গ্রহণ করি। বর্তমানে ওই মামলায় আমার অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষমও হয়েছি। খুব শীঘ্রই মামলাটি থেকে আমি অব্যাহতি পাবো। অপর একটি মামলায় আমার কোন সংশ্লিষ্ট না থাকায় আমাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।এসপি মাহবুব দাবি করেন- আমি চাকুরীতে যোগদান করার পর থেকে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক আমার উপর সরকারি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার চেষ্টা করে আসছি। আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে কোন একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।এদিকে, ওইসব মামলার নানা নথি ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান এর যাবতীয় নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রকৃতপক্ষে ঘটনার দিন ও সময়ে তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না এবং তার কোন সংশ্লিষ্টতার প্রদানও মিলেনি।অপরদিকে, চান্দিনা উপজেলা বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান বলেন- এসপি মাহবুব আলম খান চান্দিনার গর্ব। তার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক ছিলেন। আমরা যখন শুনেছি তাকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োজিত করা হচ্ছে, ওই কথা শুনার পর আমরা আনন্দিত হই। যখনই এমন মিথ্যা অপপ্রচার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাতে আমরা বিভ্রান্তিতে পরি এবং তাকে দায়িত্ব না দেয়ায় আমরা হত্যাশাগ্রস্থ।ছয়ঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার মাকসুদুল হাসান জানান- চান্দিনার সন্তান একটি জেলার পুলিশ সুপার  এমন কথা শুনে আমরা গর্বিত হই। মাহবুব আলম খান এর মতো এমন নিষ্ঠাবান ছেলের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান- মাহবুব আলম খানকে আমরা ছাত্রজীবন থেকে চিনি। সে ছাত্রজীবনে এলাকায় ছাত্রদলের সাথে যুক্ত ছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়ণরত অবস্থায় সহিদুল্লাহ হলের ছাত্রদল কমিটির সদস্য ছিল। এলাকায় শিক্ষায় অধিক মনোযোগী পরিবারের সন্তান মাহবুব। তাকে পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত না করা সম্পূর্ণ বৈষম্য।মাইজখার ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাসান মাহমুদ হানিফ জানান- মাহবুব আলম ছাত্র জীবন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে রাজনীতি করে আসছিল। তিনি চাকুরীতে যোগদানের পর রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি বিভিন্ন ভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এ বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
২২ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র