শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাতিয়ায় এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলসহ অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দখল, চাঁদাবাজি ও সরকারি সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এনসিপি নেতা ইমরানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, এলাকায় ইমরান দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে প্রভাব বিস্তার করছেন। অতীতে বুড়িরচর ইউনিয়নের দানার দোল ঘাটে সার ও ইলিশ মাছের নৌকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে আইনি জটিলতায় পড়ে এবং পরবর্তীতে বিদেশে অবস্থান করেন। দেশে ফিরে এসে তিনি পুনরায় স্থানীয় একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন বলে এলাকাবাসীর দাবি।স্থানীয় একাধিক সূত্র আরও দাবি করে, দেশে ফেরার পর তিনি তার পূর্বের কিছু সহযোগীকে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং চৌমুহনী বাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, লিজ ও সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।অভিযোগের মধ্যে আরও বলা হয়, একটি সরকারি খাদ্য গুদাম ইজারা বা লিজ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে এবং গুদামের ভেতরের সম্পদ গাছ, পাথর ও লোহার সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। পাশাপাশি গুদাম এলাকায় অবৈধভাবে ব্যবসায়িক স্থাপনা তৈরি এবং জমি থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে হাতিয়া এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনের একাংশের নামও আলোচনায় আসছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও নোয়াখালী ৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি হান্নান মাসউদের এর ঘনিষ্ঠ বলয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি সম্পদ লুট, দখল বা অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় এলাকায় আইনের শাসন ও জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান উদ্দিনকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। তাই তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
৩ ঘন্টা আগে

চান্দিনায় অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর সময় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার (৬ জুন) সকালে উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তারা আহত হন। তবে ঘটনার সুযোগ নিয়ে আটককৃতদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি কিছু সুযোগসন্ধানী লোক সরিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।আটক ব্যক্তিরা হলেন, কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার টনকি গ্রামের মো. ফারুক মিয়া ও বাহাদুর, কাশিমপুর গ্রামের মনির হোসেন, থোল্লা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ গ্রামের মোহন বেপারী। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৩-৪ জন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে একটি পিকআপ ভ্যানে করে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাচ্ছিল সন্দেহভাজন এই দলটি। পথে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের কালিয়ারচর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় তাদের পিকআপটি। অটোরিকশার চালক ও যাত্রীরা সেটি আটকানোর চেষ্টা করলেও ডাকাত দল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে অটোরিকশার আরোহীরা মোবাইল ফোনে বিষয়টি কুটুম্বপুর এলাকার বাসিন্দাদের জানালে স্থানীয়রা শীলবাড়ি এলাকায় অলি কোম্পানির বাড়ির সামনের সড়কে ব্যারিকেড দেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পিকআপটি সেখানে পৌঁছালে স্থানীয়রা সেটিকে আটকে পাঁচজনকে ধরে ফেলেন।খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।এদিকে ঘটনার পর নতুন একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জনাকীর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু লোক আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি অপরাধে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ডাকাতদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামাল ও সরিয়ে ফেলা পিকআপ ভ্যানটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৪ ঘন্টা আগে

চৌদ্দগ্রামে প্রায় বিশ হাজার ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে উনিশ হাজার নয়শত পঞ্চাশ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বিজিবি।শনিবার (০৬ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জব্দকৃত এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।বিজিবি জানিয়েছে, ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ আমানগন্ডা সীমান্ত ফাঁড়ির একটি বিশেষ টহলদল এই মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।অভিযান চলাকালীন সীমান্তের ভেতরের বাবুর্চি পাড়া এলাকা থেকে মো. খলিলুর রহমান নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে এই বিশাল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।আটককৃত ব্যক্তি স্থানীয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলারই বাসিন্দা।সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত ইয়াবা চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৬ ঘন্টা আগে
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ২৪

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ২৪

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে নয়জন যুবলীগ এবং ১৫ জন ছাত্রলীগ নেতা রয়েছে।শনিবার (৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার এওজবালিয়া, কালাদরাপ ও নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল চলাকালে বাজার এলাকায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও মিছিলকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলের কর্মসূচির আগে দুপুর থেকেই সংগঠনটির প্রায় হাজার খানেক নেতাকর্মি বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।ওসি মো.তৌহিদুল ইসলাম আরও বলেন, মিছিলের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর আগেই বাঁধেরহাট বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করতে না পেরে পরে তারা বাজারের বাইরে মিছিল করে। ঘটনার পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৩ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

আবারও সীমান্তে বিএসএফ ভারতীয় ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

আবারও সীমান্তে বিএসএফ ভারতীয় ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার ভোর রাতে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের ৫৬ বিজিবির বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫-এর কাছে বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্প ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়।পরে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির একটি টহলদল তাদের বাধা দেয়।বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০ জনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা ভারতের অংশে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাসসকে বলেন, বিজিবির টহলদল সতর্ক অবস্থানে থেকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তের উভয়পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহলদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
০৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে : খামেনি

যুদ্ধে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে : খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অভিযোগ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানিদের মধ্যে ‘বিভেদ’ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।তেহরান থেকে এএফপি জানায়, এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘অশুভ শত্রু’ জনগণের মধ্যে ‘সন্দেহ, হতাশা, ভয়, অবিশ্বাস ও বিভেদের বীজ বপন’ করতে চাইছে।বার্তাটিতে বলা হয়, ‘এই অসৎ উদ্দেশ্যের মোকাবিলায় সবাইকে দৃঢ়তা, দূরদৃষ্টি এবং ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের অশুভ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।’ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকীর ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক নামাজের ইমাম খামেনির এ বার্তা পাঠ করে শোনান।১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ  মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তার রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটায়।১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তিনি নিহত হন, যার পর একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হয়।৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেমে গেলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৪ জুন আলি খামেনি স্মরণানুষ্ঠানে ভাষণ দিতেন। তবে এ বছর তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত সমাধিসৌধে তার প্রতিকৃতিসহ একটি খালি চেয়ার রাখা হয় বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে।মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন এবং মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে ইরানিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, সমাধিসৌধে মোজতবা খামেনি এবং তার আগের দুই সর্বোচ্চ নেতার প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা এবং ইরান-সমর্থিত লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহর ব্যানার বহন করেন।ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি অঞ্চলজুড়ে সংঘাত বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতিও রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে।
০৫ জুন ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন

জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আমির হোসেন।শনিবার (৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. আমির হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটবে—সেই সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।ড. আমির হোসেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার নিয়োগের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের৷
৬ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২১ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

২১ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ২৪

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ২৪

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে নয়জন যুবলীগ এবং ১৫ জন ছাত্রলীগ নেতা রয়েছে।শনিবার (৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার এওজবালিয়া, কালাদরাপ ও নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল চলাকালে বাজার এলাকায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও মিছিলকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলের কর্মসূচির আগে দুপুর থেকেই সংগঠনটির প্রায় হাজার খানেক নেতাকর্মি বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।ওসি মো.তৌহিদুল ইসলাম আরও বলেন, মিছিলের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর আগেই বাঁধেরহাট বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করতে না পেরে পরে তারা বাজারের বাইরে মিছিল করে। ঘটনার পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২১ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি