মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

সিলেটে হামের থাবায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে বিভাগে হামসংক্রান্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৫৫ তে পৌঁছেছে ।মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে আফসরনগরের রমজান আলীর ১৪ মাসের ছেলে মহসিন, সিলেট সদর উপজেলার পীরেরগাঁওয়ের মাজেদের আট মাসের ছেলে মাজহারুল ও মৌলভীবাজার সদরের বড়কাপনের মিলু মিয়ার চার মাসের কন্যাশিশু তানিয়া।বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ মে পর্যন্ত বিভাগে মোট ১৬৪ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ৪ জনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
২৫ মে ২০২৬

ঈদুল আযহা ঘিরে চান্দিনায় জমে উঠেছে পশুর হাট; শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা

পবিত্র ঈদুল আযহা দরজায় কড়া নাড়ছে। আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পশুর হাটগুলো এখন সম্পূর্ণ জমজমাট। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাদের লালন-পালন করা গরু নিয়ে হাজির হচ্ছেন হাটগুলোতে। বাজারে পশুর সরবরাহ যেমন প্রচুর, তেমনি শেষ মুহূর্তের পছন্দের কোরবানিটি কিনতে ক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।চান্দিনা উপজেলার বৃহত্তর এবং উল্লেখযোগ্য পশুর হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বদরপুর গরুর বাজার, নবাবপুর গরুর বাজার এবং চান্দিনা সদর গরুর বাজার। বর্তমানে এই প্রতিটি বাজারই ক্রেতা ও বিক্রেতার সমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে দরদাম আর বেচাকেনা। বাজারে ছোট, মাঝারি ও বড় সব সাইজের গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ক্রেতারা তাদের বাজেট অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।এবারের হাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় দিক হলো হাসিল বা টোল আদায়ের প্রক্রিয়া। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, হাটের হাসিলের হার এবার বেশ সন্তোষজনক এবং সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। সব বাজারে হাসিল প্রায় একই রকম রাখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বাজারের ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারের কাছ থেকে কিছু কিছু বাজার একটু বেশি মূল্যে ইজারা বা ডাক নিতে হয়েছে। যার ফলে একেক বাজারে হাসিলের হারে সামান্য তারতম্য দেখা যেতে পারে। তবে তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই হার কোনোভাবেই সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সীমার বাইরে নয়। বর্তমানে প্রতিটি গরু বিক্রির বিপরীতে হাসিল বা খাজনা ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ বা ১৩০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে, যা ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, ঈদ যেহেতু একদম অতি সন্নিকটে, তাই এখন আর দাম নিয়ে খুব বেশি চুলচেরা বিশ্লেষণ করার সময় নেই। পরিবারের পছন্দ এবং সাধ্যের মধ্যে একটি সুস্থ-সবল গরু কেনাটাই এখন মূল লক্ষ্য। দাম কিছুটা এদিক-সেদিক হলেও তারা কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য পছন্দের পশুটি কিনে নিচ্ছেন। ফলে বাজারে বেচাকেনার গতি বেশ ভালো এবং বিক্রেতারাও কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি।এদিকে হাটের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ এবং সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ব্যাপক ও নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের কোরবানির পশু কেনাবেচা সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরতে পারেন।
২৫ মে ২০২৬

র‍্যাগ ডে নাকি বেহায়াপনা? প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকর!

বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় “র‍্যাগ ডে” বা “ফেয়ারওয়েল উদযাপন” এর নামে কিছু অশালীন ও বেপরোয়া কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের অবাধ ফ্রি-মিক্সিং, টি-শার্টে অশালীন লেখা ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, টিকটক ভিডিও তৈরি এবং সামাজিক মূল্যবোধবিরোধী আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এমন কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কিংবা শিক্ষকদের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে এসব আয়োজন করা হচ্ছে। ভিডিওগুলোতে শিক্ষার্থীদের এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা যায়, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র সমালোচনা করছে।সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞান ও নৈতিকতা শেখার জায়গা হলেও বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থী পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিকসমূহ১. নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি:অশালীন অঙ্গভঙ্গি, পোশাক ও আচরণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করছে। ছোট শিক্ষার্থীরাও এসব দেখে প্রভাবিত হচ্ছে।২. শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া:শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশের পরিবর্তে বিনোদন ও উচ্ছৃঙ্খলতা বাড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ লেখাপড়া থেকে সরে যাচ্ছে।৩. সামাজিক ও পারিবারিক অস্বস্তি:অভিভাবকরা সন্তানদের এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবি অনেক পরিবারকে বিব্রত করছে।৪. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে আঘাত:বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক আচরণ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।৫. অনলাইন আসক্তি ও টিকটক সংস্কৃতি: ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার নেশায় অনেক শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করছে, যা তাদের মানসিকতা ও ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।৬. শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়া:অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এখনই এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা তৈরিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
২৫ মে ২০২৬
চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত রূপান্তর এবং একে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে তিনি আকস্মিকভাবে এই হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের খাবারের মান যাচাই করতে রন্ধনশালার খাবার নিজেই পরীক্ষা করে দেখেন।দীর্ঘদিন ধরেই ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া হাসপাতালের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবে নবস্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্টটি পুরোপুরি চালু না হওয়া নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ ছিল। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টের সমস্যার বিষয়ে তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকেই পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপন এবং একই সাথে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া হাসপাতালের সামনের সড়কের বেহাল দশা নিরসনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।মন্ত্রীর এমন আকস্মিক পরিদর্শন ও যুগান্তকারী ঘোষণায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা এখন দ্রুত এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চান। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আশরাফুল হক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
২৫ মে ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

১ আগস্ট থেকে ঢাকা ফ্লাইট চালু করছে রিয়াদ এয়ার

১ আগস্ট থেকে ঢাকা ফ্লাইট চালু করছে রিয়াদ এয়ার

সৌদি আরবের নতুন রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস ‘রিয়াদ এয়ার’ আগামী ১ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। প্রবাসী কর্মী ও ওমরাহ যাত্রীদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে দ্রুত সম্প্রসারিত বাংলাদেশ-সৌদি আরব বিমানবাজারে এ উদ্যোগ প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সৌদি এয়ারলাইনটির এ প্রবেশ বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবাজারে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করবে, যেখানে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও সৌদিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে আছে।রিয়াদ এয়ারের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগ হোসেন আজ বাসসকে বলেন, ‘আমরা এখন পরিচালনাগত প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। আগামী ১ আগস্ট থেকে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করব।’তিনি বলেন, ঢাকা-রিয়াদ রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এয়ারলাইনটি স্লটের আবেদন করেছে।ফ্লাইটটি দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিকেল ৩টায় রিয়াদের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।সোহাগ হোসেন, ভবিষ্যতে জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনায় ফ্লাইট সম্প্রসারণের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরবর্তী ধাপে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রিয়াদ এয়ারের জন্য সব ধরনের নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর আগে তাদের পরিচালন সূচির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, সৌদি রুটে বিশেষ করে ভাড়া, ট্রানজিট সংযোগ ও সেবার মানের ক্ষেত্রে এ এয়ারলাইনটির আগমন প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনাকারী আরেকটি পূর্ণাঙ্গ সেবাদানকারী উপসাগরীয় এয়ারলাইন যুক্ত হওয়ায় বিমান ভাড়ায় প্রতিযোগিতা বাড়বে, যাত্রী সংযোগ উন্নত হবে এবং সৌদি আরবে বসবাসরত ও কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির জন্য ভ্রমণ সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে।’নজরুল ইসলাম বলেন, রিয়াদ এয়ারের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণখাতের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা এবং উপসাগরীয় বিমান নেটওয়ার্কে দেশের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমের মধ্যে বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ঢাকা রুটে রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে আগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তখন উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ চাহিদার প্রতিফলন।২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা রিয়াদ এয়ার সৌদি আরবের নতুন রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস, যা দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’ অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।এয়ারলাইনটি পুরোপুরি সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন এবং রিয়াদকে একটি বৈশ্বিক বিমান ও লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।এয়ারলাইনটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইতিহাদ এয়ারওয়েজের সাবেক প্রধান নির্বাহী টনি ডগলাস। দ্রুত সম্প্রসারিত বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, এয়ারবাস এ৩২১নিও এবং এয়ারবাস এ৩৫০ উড়োজাহাজ বহরের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০টির বেশি গন্তব্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ এয়ার দেশটির তেলনির্ভর নয় এমন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।বাংলাদেশের বিমানবাজারে গত এক দশকে উপসাগরমুখী যাত্রী চলাচল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বড় অংশই প্রবাসী কর্মী ও ধর্মীয় ভ্রমণকারীদের কারণে ঘটেছে।
২৩ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনাবাহিনী মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া শুরু হলো।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, (১৯ মে, ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬) পর্যন্ত রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার বিষয়ক একটি মহড়া পরিচালনা করছে।’রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত আছে, তা পরীক্ষা করা।
১৯ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

জাবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালককে মব, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

জাবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালককে মব, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার ও অর্থ পরিচালকের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি, অবরুদ্ধ রাখা, হেনস্তা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় রেজিস্ট্রারকে সেখানে অবরুদ্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে কক্ষ থেকে বের করে প্রশাসনিক ভবন ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা সরে যান। এসময় রেজিস্ট্রারের হাতে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়।একই দিনে অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের কক্ষেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে অপমান-অপদস্থ করে আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।ঘটনার বিষয়ে জাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী বলেন, “কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী দীর্ঘ সময় আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন। তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক হেনস্তা করেছেন। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, কোনো অভিযোগ থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে চাপ প্রয়োগ করে সই আদায় করে।” তিনি দাবি করেন, নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আসলামও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, “তারা দলবল নিয়ে এসে আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং অপমান করে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, মানসম্মানের ভয়ে আমাকে তাদের প্রস্তুত করা কাগজে সই করতে হয়েছে।”বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের অনেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের বিরোধীতা, শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের পক্ষে অবস্থান এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগে অভিযুক্ত যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল আলম (শুভ), সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসান, প্রভাষক মো. সাইদুর রহমান৷ সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম মাহবুবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আল মামুন সরকার, প্রভাষক হোসাইন মাহমুদ (আপেল) ও প্রভাষক ইমরুল কবির ৷ এছাড়াও অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর মালিহা আক্তার মালা'সহ আরও কয়েকজন ৷ এদিকে, জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী) কাওসার আহমেদ স্বাধীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য নিয়েও ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক ভাষায় মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ জানান, নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের অভিযোগ ও অনিয়ম আড়াল করতেই একটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নতুন প্রশাসনের কাছে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নাজমুল হুদা বলেন, “এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা কেবল দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। রেজিস্ট্রার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।”সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল আলম শুভও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “রেজিস্ট্রার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। আমি সেখানে শুধু আইনি বিষয়ে কথা বলেছি।” অন্যদিকে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির নিজস্ব বিধি রয়েছে। লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো ধরনের মব সৃষ্টি বা ব্যক্তিগত হেনস্তার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
২৩ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৭ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৭ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত রূপান্তর এবং একে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে তিনি আকস্মিকভাবে এই হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের খাবারের মান যাচাই করতে রন্ধনশালার খাবার নিজেই পরীক্ষা করে দেখেন।দীর্ঘদিন ধরেই ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া হাসপাতালের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবে নবস্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্টটি পুরোপুরি চালু না হওয়া নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ ছিল। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টের সমস্যার বিষয়ে তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকেই পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপন এবং একই সাথে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া হাসপাতালের সামনের সড়কের বেহাল দশা নিরসনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।মন্ত্রীর এমন আকস্মিক পরিদর্শন ও যুগান্তকারী ঘোষণায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা এখন দ্রুত এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চান। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আশরাফুল হক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
১৭ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র