সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর সমাপ্ত করে নিউইয়র্ক ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। দুবাই হয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সূচি অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছাবে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ ও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরাসফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারের মতো বাংলায় দেওয়া ভাষণ। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই বক্তব্যে তিনি বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।বৈশ্বিক শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জনগণের ক্ষমতায়ন, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশলের বিষয়টিও ভাষণে তুলে ধরেন।রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকনিউইয়র্ক অবস্থানকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের বিষয়টি উঠে আসে। জলবায়ু সহনশীলতা ও বহুপক্ষীয় কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ২৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মানবিক সংকট মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।একই দিনে গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় জনস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, টিকাদান, সাশ্রয়ী টিকা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাসফরকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো স্থান পায়।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।এ ছাড়া হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের পরিকল্পনা‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী নিশ্চিত করতে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।এ সময় গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত ও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ তুলে ধরেন তিনি। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানো, সহজলভ্য ও পূর্বানুমেয় অভিযোজন অর্থায়ন, জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।বাংলাদেশ, সুইডেন ও ইউএনএফপিএ আয়োজিত ধাত্রীবিদ্যাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘সুস্থ বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। তাঁদের মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ বা ধাত্রী থাকবেন। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনাবিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে ম্যানহাটনে জেপিমরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এ সময় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।পরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিসফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।এ ছাড়া ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনাতেও যোগ দেন তাঁরা।সফরের আরেকটি কর্মসূচিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্ব সংস্থাটির এই মঞ্চে বক্তব্য রাখলেন।এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন। ফলে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। পুরো বক্তব্য তিনি বাংলায় দেন। ভাষণে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, সংঘাত নিরসন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।ভাষণের শুরুতে নিজের পরিবারের জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মঞ্চে দাঁড়ানোর সময় তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের কথা তাঁর মনে পড়ছে। তাঁদের ধারাবাহিকতায় দেশের জনগণের স্বার্থ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এখানে দাঁড়িয়েছেন।বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বিরোধ মেটাতে সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা, ন্যায়সংগত আচরণ, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।রোহিঙ্গা সংকটও তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। চার দশকের পারিবারিক সম্পৃক্ততাজাতিসংঘের সঙ্গে তারেক রহমানের পরিবারের সম্পৃক্ততা শুরু হয় তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে তিনি বক্তব্য দেন। সে সময় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি একাধিকবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশেষ অধিবেশন ও জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনেও অংশ নেন তিনি।দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখলেন তারেক রহমান। তাঁর এই উপস্থিতির মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় যুক্ত হলো নতুন একটি অধ্যায়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব, চাঁদপুর-ঢাকা লঞ্চভাড়া ২০ টাকা বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ডেকের জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২২০ টাকা হয়েছে। গত দুই দিন ধরে নতুন ভাড়া কার্যকর রয়েছে।লঞ্চ মালিকদের দাবি, ভাড়া বাড়ানোর পরও যাত্রী কম থাকায় তাঁরা লোকসান গুনছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, সড়কপথে যাতায়াত বাড়ায় চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে লঞ্চের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চাঁদপুর লঞ্চঘাটে অবস্থান করে যাত্রী, লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।দুপুরে ঢাকা থেকে চাঁদপুরে আসা এমভি রহমত লঞ্চের যাত্রী শিক্ষার্থী মো. রাশেদ বলেন, তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি হোটেল ব্যবস্থাপনার কাজ শিখছেন। শিক্ষার্থী হিসেবে লঞ্চভাড়া বাড়ানো তাঁর কাছে স্বস্তিদায়ক নয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ভাড়া না বাড়লেই ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই লঞ্চের যাত্রী রাবেয়া আক্তার বলেন, একজন যাত্রীর জন্য ২০ টাকা বাড়তি ভাড়া হয়তো বড় সমস্যা নয়। কিন্তু চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় কাজে একটি পরিবারের কয়েকজনকে একসঙ্গে যাতায়াত করতে হলে বাড়তি এই খরচ তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। অনেক মানুষ চিকিৎসার খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।লঞ্চঘাটে কথা হয় যাত্রী রুহুল আমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে শুধু লঞ্চভাড়া নয়, জীবনযাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।আরেক যাত্রী আক্তার হোসেন বলেন, দুই দিন আগে তিনি লঞ্চে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তখন ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। বৃহস্পতিবার ফেরার সময় ২০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে যাত্রীদের তেমন কিছু করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমানে নৌপথে যাত্রীসংখ্যা অনেক কম। যে সংখ্যক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল করছে, তাতে পরিচালন ব্যয় ওঠে না। মালিকদের প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বলেন, চাঁদপুর লঞ্চঘাটের অনেক যাত্রী এখন সড়কপথে যাতায়াত করেন। লঞ্চের তুলনায় বাসে সময় কম লাগায় যাত্রীদের একটি অংশ সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। এর ফলে এই নৌপথে লঞ্চের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তিনি বলেন, আগে ঢাকা-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ নৌপথে প্রায় ৪০টি লঞ্চ চলাচল করত। বর্তমানে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন যদি ১৬টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং একইসংখ্যক লঞ্চ চাঁদপুরে ফিরে আসে।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে নিউইয়র্ক সফর সমাপ্ত করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকালে তাঁকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ২১ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।ছবি: পিএমওএর আগে স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটটি। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে পুনরায় উড্ডয়ন করে বিমানটি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীজাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আলোচনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, মানবিক সংকট এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে ১১টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।ঢাকায় ফেরার আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনাগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য খাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।তিনি আরও জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর অংশগ্রহণনিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সফরকালে তিনি মোট আটটি কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।তাঁর অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান।
১৫ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে নিউইয়র্ক সফর সমাপ্ত করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকালে তাঁকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ২১ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।ছবি: পিএমওএর আগে স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটটি। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে পুনরায় উড্ডয়ন করে বিমানটি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীজাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আলোচনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, মানবিক সংকট এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে ১১টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।ঢাকায় ফেরার আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনাগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য খাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।তিনি আরও জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর অংশগ্রহণনিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সফরকালে তিনি মোট আটটি কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।তাঁর অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান।
১৫ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

কয়েক দফা দরপতনের পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ কমে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ০০:২১ জিএমটি পর্যন্ত নভেম্বর সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ২২ সেন্ট বা ০.২২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০.৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।এর আগে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৯.৬৯ ডলারে নেমে আসে।এদিকে, অক্টোবর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। এর দাম ২ সেন্ট বা ০.০২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫.৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।অন্যদিকে, বাজারে বেশি সক্রিয় নভেম্বর সরবরাহের ডব্লিউটিআই চুক্তির দাম ১৩ সেন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে।নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকেই এখন বাজারের নজর। সম্ভাব্য আলোচনা বা উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

ভালো ফলাফল করতে হলে সময়ের মূল্য ও সৎ সঙ্গকে গুরুত্ব দিতে হবে--চাঁসক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্না

ভালো ফলাফল করতে হলে সময়ের মূল্য ও সৎ সঙ্গকে গুরুত্ব দিতে হবে--চাঁসক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্না

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম আব্দুল মান্নান বলেছেন, স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজজীবনে প্রবেশের এই সময়টি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছরকে কাজে লাগাতে হলে সময়ের মূল্য বুঝে নিয়মিত পড়াশোনা, নৈতিকতা ও ভালো সঙ্গকে গুরুত্ব দিতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পরিহার করতে হবে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজের মিলনায়তনে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, ‘তোমরা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আজ কলেজজীবনে প্রবেশ করেছ। এই সময়টা তোমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের ওপর একটি সূরা নাজিল হয়েছে সূরা আসর। তোমরা যদি সূরা আসরকে অনুসরণ করো, তাহলে জীবনে সফল হতে পারবে।’তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘কুনু মা‘আস সাদিকীন’ সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো এবং ‘কুনু মা‘আস সালেহীন’ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে থাকো। সূরা আসরে মানুষের জীবনের সফলতা ও ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।অধ্যক্ষ বলেন, ‘ওয়াল আসরি, ইন্নাল ইনসানা লাফি খুসর’—নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে, তারা এর ব্যতিক্রম। তাই তোমাদের একে অপরকে সত্যের পথে চলার এবং ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিতে হবে।’তিনি আরও বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজে এসেছে, কঠোর পরিশ্রম করলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব। এজন্য বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। ভালো বন্ধু যেমন মানুষকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে, তেমনি অসৎ সঙ্গ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, ‘জিপিএ-৫ পেয়েছ বলে বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। অনেক জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে ঝরে গেছে। তাই আগামী দুই বছর তোমাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।’তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।অধ্যক্ষ একেএম আব্দুল মান্নান বলেন, ‘তোমরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক ও ধার্মিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। সুশিক্ষায় নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মা-বাবার কথা শুনতে হবে এবং তাদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।’অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আলী আজগর ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান মিয়া।এ সময় বক্তব্য দেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. খালেদ ইকবাল, পদার্থবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ এবং পাঠ উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহজালাল।ছাত্রনেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চাঁদপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবু নাঈম খান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি ও ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আজমির হাসান তারেক।নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুল আলম, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার তাহসিন আহমেদ সাকিব এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার।
০৮ আগস্ট ২০২৬
মতলব উত্তরে মেঘনায় লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

মতলব উত্তরে মেঘনায় লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

০৮ আগস্ট ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
০৮ আগস্ট ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রগতির মূল্য কত: এআইয়ের আড়ালে নিঃশেষ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি?

প্রগতির মূল্য কত: এআইয়ের আড়ালে নিঃশেষ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি?

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে কয়েকটা শব্দ লিখে পাঠালেই চোখের পলকে ফুটে উঠছে কাঙ্ক্ষিত উত্তর, তৈরি হয়ে যাচ্ছে সুন্দর একটি ছবি কিংবা জটিল কোনো গবেষণার সারসংক্ষেপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আজ আমাদের জীবনকে এতটাই সহজ ও চটপটে করে তুলেছে যে, এটিকে আমরা কেবলই এক অলৌকিক ডিজিটাল প্রযুক্তি বলে মনে করি। কিন্তু স্ক্রিনের ওপারে চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কঠিন ও বস্তুগত বাস্তব। এআই কোনো শূন্যতার মধ্য থেকে কাজ করে না; একে সচল রাখতে বিশ্বজুড়ে দিনরাত জ্বলছে লাখ লাখ প্রসেসর। আর চরম উত্তাপে জ্বলতে থাকা এসব বিশাল ডাটা সেন্টার ঠান্ডা রাখতে নীরবে বাষ্পীভূত হয়ে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন লিটার সুপেয় পানি। আমরা যখন এআইয়ের জাদুকরী সুফলে মুগ্ধ, তখন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কিন্তু মানুষের সুপেয় পানির পাত্রটি আস্তে আস্তে ফাঁকা হয়ে আসছে। প্রগতির এই আলো কি তবে আমাদের অস্তিত্বের সবচেয়ে মৌলিক উপাদান বিশুদ্ধ পানিকেই নিঃশেষ করে দিচ্ছে? এআইয়ের এই অদৃশ্য পানির তৃষ্ণা এবং মানবজীবনে তার মারাত্মক প্রভাব নিয়ে ভাবার সময় এখনই।একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, কঠিন গাণিতিক বিশ্লেষণ, পেশাদারি লেখালেখি, ছবি ও ভিডিও তৈরি কিংবা জটিল গবেষণার কাজ—সবই এখন হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই করা সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ, গতিশীল ও সমৃদ্ধ করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই অভাবনীয় ডিজিটাল বিপ্লবের পেছনে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য ও গভীর সংকট। আমরা যখন চ্যাটবটের সঙ্গে কথাপোকথন কিংবা কোনো এআই টুল ব্যবহার করি, তখন নেপথ্যে সার্ভার রুমগুলোতে নীরবে বাষ্পীভূত হয়ে শেষ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানি।বাহ্যিকভাবে এআই-কে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বা ভার্চুয়াল জগত মনে হলেও বাস্তবে এর একটি বিশাল ভৌগোলিক ও বস্তুগত অস্তিত্ব রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল ডাটা সেন্টার। এসব ডাটা সেন্টারে হাজার হাজার শক্তিশালী কম্পিউটার প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যখন এআই-কে কোনো নির্দেশ দিই, তখন এই শক্তিশালী প্রসেসরগুলো দ্রুত গতিতে কোটি কোটি হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় চিপগুলো মারাত্মক গরম হয়ে ওঠে। যদি প্রসেসরগুলোকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঠান্ডা রাখা না হয়, তবে পুরো ডাটা সেন্টারের যন্ত্রাংশ পুড়ে অকেজো হয়ে যাবে।এই চরম উত্তাপ থেকে সার্ভারগুলোকে রক্ষা করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো পানির ব্যবহার। বিশেষ কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে পাইপলাইনে বরফশীতল পানি প্রবাহিত করা হয় এবং প্রসেসরের ওপর ঠান্ডা পানির সূক্ষ্ম স্প্রে করা হয়। ডাটা সেন্টারের তীব্র উত্তাপে সেই পানির বড় একটি অংশ বাষ্প হয়ে আকাশে উড়ে যায়, যা আর সরাসরি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এ ছাড়া ডাটা সেন্টারগুলো পরিচালনার জন্য যে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনেও (যেমন: কয়লা, গ্যাস বা হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্টে) পরোক্ষভাবে বিপুল পরিমাণ সুপেয় পানি খরচ হয়।সহজ হিসাব করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ একটি ছোট বার্তা বা প্রম্পট প্রসেস করতে এআই ডাটা সেন্টারে কয়েক মিলিলিটার পানি লাগে। কিন্তু যখন এআই দিয়ে কোনো উচ্চমানের ছবি জেনারেট বা এডিট করা হয় কিংবা কোনো দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রসেস করা হয়, তখন এক একটি কাজের পেছনে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার—অর্থাৎ প্রায় আধা লিটার থেকে এক বোতল বিশুদ্ধ পানি খরচ কিংবা বাষ্পীভূত হয়। শুনতে হয়তো এক বোতল পানি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ যখন হাজার হাজার কোটি প্রম্পট ও ছবি জেনারেট করছে, তখন দৈনিক পানি খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে শতকোটি লিটারে।এই অনিয়ন্ত্রিত পানি ব্যবহারের সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের বাস্তব জীবনে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে আগে থেকেই পানির সংকট রয়েছে বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, সেখানে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ স্থানীয় মানুষের সুপেয় পানি ও কৃষিকাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাটা সেন্টারগুলো আশপাশের নদী, হ্রদ কিংবা ভূগর্ভস্থ অ্যাকুইফার (Aquifer) থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি তুলে নিচ্ছে। ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা খাবার পানি ও টিউবওয়েলে পানি না পাওয়ার সংকটে পড়ছেন, কৃষকদের সেচের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনে মন্দা দেখা দিচ্ছে।ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যারিজোনা ও ওরেগনের মতো খরাপ্রবণ এলাকায় বিশাল ডাটা সেন্টারগুলোর পানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় অধিবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন। ইউরোপের দেশ স্পেনে কয়েক বছরের ভয়াবহ খরার পর কৃষকরা তাদের সেচের পানি রক্ষার দাবিতে টেক কোম্পানিগুলোর ডাটা সেন্টার প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করছেন। উরুগুয়েতে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসখ্যাত সুপেয় পানির সংকট চলাকালে এক টেক জায়ান্ট বিশাল ডাটা সেন্টার করার পরিকল্পনা করলে জনরোষের মুখে তারা পানির বদলে বাতাস দিয়ে ঠান্ডা করার প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে আদালতের রায়ে পানির সুরক্ষার স্বার্থে একটি বড় ডাটা সেন্টারের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এসব ঘটনা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত তৃষ্ণা এখন মানুষের মৌলিক জীবনধারনের সরাসরি মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে।তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, পানির সংকটের কথা চিন্তা করে কি মানুষের এআই বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত? উত্তর হলো, একদমই নয়। প্রযুক্তি বর্জন করা কোনো সমাধান হতে পারে না; সমস্যা প্রযুক্তিতে নয়, সমস্যা সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে। পৃথিবীতে মানুষের ব্যবহারের জন্য যে সুপেয় পানি রয়েছে, তার সিংহভাগ (প্রায় ৭০ শতাংশ) ব্যবহৃত হয় কৃষিকাজে এবং ২০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয় সাধারণ শিল্পকারখানায়। এআই ডাটা সেন্টারের ব্যবহৃত পানি সেই তুলনায় শতাংশের হিসাবে কম হলেও, এটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।তাই এই সংকট সামলাতে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব নেতাদের। কেবল খাওয়ার উপযোগী বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার না করে ডাটা সেন্টারগুলোতে ড্রেনেজ বা কারখানার শোধিত বর্জ্য পানি (Recycled Water) এবং সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রসেসর ঠান্ডা রাখার জন্য বাতাসভিত্তিক এয়ার-কুলিং (Air Cooling) কিংবা ‘ক্লোজড-লুপ ওয়াটার সিস্টেম’ প্রযুক্তি দ্রুত চালু করতে হবে, যেখানে একই পানি বারবার রিসাইকেল করে ব্যবহার করা যায় এবং বাষ্পীভবন শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। টেক জায়ান্টদের ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ওয়াটার পজিটিভ’ বা ব্যবহৃত পানির চেয়ে বেশি পানি প্রাকৃতিক উৎস ও জলাশয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা কঠোরভাবে আইনি তদারকির অধীনে আনতে হবে।একই সাথে সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদেরও কিছুটা দায়িত্বশীল হতে হবে। অনর্থক প্রম্পট দেওয়া, অপ্রয়োজনে বারবার ছবি জেনারেট বা পরিবর্তন করার অভ্যাস এড়িয়ে চলে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য এআই ব্যবহার করা উচিত। ডিজিটাল প্রযুক্তিরও যে একটি পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক মূল্য রয়েছে, তা অনুধাবন করাই হলো সচেতন নাগরিকের লক্ষণ।প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে মানবজাতির অগ্রগতি, কল্যাণ ও সুবিধা বাড়াতে। কিন্তু সেই প্রগতির চাকা চালাতে গিয়ে যদি আমরা মানুষের বেঁচে থাকার মূল উপাদান—বিশুদ্ধ পানিকেই নিঃশেষ করে দিই, তবে সেই উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তীব্র তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচাতে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো স্বাধীন সত্তা নয়, বরং এটি মানুষেরই তৈরি একটি যুগান্তকারী হাতিয়ার। প্রগতির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই প্রযুক্তি যে নিঃশব্দে সুপেয় পানির মতো অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ গ্রাস করছে, তা আজকের বাস্তবতায় অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সংকট প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে নয়, সংকট লুকিয়ে আছে সম্পদ ব্যবস্থাপনার দূরদর্শিতা ও জবাবদিহিতার অভাবে। এক গ্লাস খাবার পানি কিংবা এক একর জমির সেচের পানির বিপরীতে হাজার হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানির বাষ্পীভবন কখনোই কোনো স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষণ হতে পারে না।প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে পরিবেশবান্ধব ও পানি-সাশ্রয়ী কুলিং প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে এবং খরাপ্রবণ এলাকায় পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণ, করপোরেট পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর ডিজিটাল সচেতনতা, এই তিনের মেলবন্ধনেই সমাধান সম্ভব। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, প্রযুক্তির গতি যতই বৃদ্ধি পাক, সুপেয় পানির কোনো বিকল্প বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির প্রতিটি ফোটা রক্ষা করার এখনই সর্বোচ্চ সময়।
ওসমান গানি