মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

১৭ বছর আওয়ামী লীগ করেছে, এখন জামায়াত-শিবির ও এনসিপি করছে: নাছির উদ্দীন

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেছে, এখন জামায়াত-শিবির ও এনসিপি ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। ‎ ‎রোববার রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‎ ‎নাছির উদ্দীন বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। ‎ ‎তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ‎ ‎ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে। ছাত্রদল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাই কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত। ‎ ‎দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ‎ ‎এ সময় নোয়াখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ জাফর উল্যাহ রাসেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলসহ বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ‎ ‎পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
১৩ ঘন্টা আগে

শরণার্থী না হয়ে আশ্রয়দাতা হওয়া আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত: ব্যারিস্টার আরমান

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজার যাওয়ার পথে নিজের অনুভূতি ও ইতিহাসের নানা দিক তুলে ধরে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া ওই পোস্টে তিনি মুসলিম ইতিহাসে মক্কা থেকে হিজরতকারী সাহাবিদের অভিজ্ঞতা, মদিনার আনসারদের আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।ব্যারিস্টার আরমান লেখেন, মক্কার বিত্তবান সাহাবিরা একসময় নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। মক্কার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আলী (রা.) মদিনায় গিয়ে জীবিকার জন্য শ্রমিকের কাজ করেছেন। অন্যদিকে, মদিনার আনসারদের আতিথেয়তা যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাঙালিরাও একসময় বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী হয়েছিল। শরণার্থী ক্যাম্পে বিতরণ করা খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়েছে অনেককে। অথচ তাঁদের মধ্যে অনেকে নিজ এলাকায় পেশাজীবী ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতার তুলনা করে তিনি লেখেন, ইতিহাসের আবর্তে আজ বাংলাদেশ লাখো মানুষের আশ্রয়দাতা। যাঁরা নিজ দেশে স্বচ্ছল ও সম্মানিত ছিলেন, তাঁরাই আজ বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন।সিরিয়া ও ইউক্রেনের উদাহরণ টেনে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, আল্লাহর হিকমতে কে বাস্তুচ্যুত হবে আর কে আশ্রয়দাতা হবে, তা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। সিরিয়া ও ইউক্রেনের পরিস্থিতি বিশ্ববাসী নিজেদের চোখের সামনেই দেখেছে। এক রাতের ব্যবধানে একটি জাতির বহু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আল্লাহ যখন মানুষকে শরণার্থী না বানিয়ে অন্যকে আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, তখন সেই রবের সামনে মানুষের মাথা নত করা উচিত নয় কি?নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন তিনি। আয়াতটিতে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা, ইচ্ছানুযায়ী ক্ষমতা ও সম্মান দান এবং তা প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।পোস্টের শেষাংশে ব্যারিস্টার আরমান লেখেন, সমস্ত কর্তৃত্ব আল্লাহর হাতে। মানুষ তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে।উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সদস্য।
১৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক সংহতি বার্তায় এসব কথা বলেন নেহা বোরা। বার্তাটি সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতে বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বাংলাদেশ ও ভারতের আন্দোলনের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে উল্লেখ করে নেহা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। একইভাবে ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণেরাও ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন।ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, ভারতের তরুণেরাও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার তুলনা করে নেহা বোরা শিক্ষার গেরুয়াকরণ ও একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তচিন্তার পরিসর সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিল, সেই প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা বোরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের তরুণদের পারস্পরিক সহযোগিতা একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ভারতে তরুণদের আন্দোলনে নেহা বোরা অন্যতম আলোচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তাঁর উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ে। নাট্যকর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে তিনি নির্বাচনি সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিবেশ এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নিয়ে সরব রয়েছেন।
১৪ অক্টোবর ২০২৬
গাড়ি থেকে নিজ হাতেই সরকারি স্টিকার খুললেন ইশরাক

গাড়ি থেকে নিজ হাতেই সরকারি স্টিকার খুললেন ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের গাড়ি থেকে সরকারি স্টিকার ও লোগো খুলে ফেলেছেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বাড়ি থেকে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তিনি নিজেই স্টিকারটি সরিয়ে নেন।গণমাধ্যমকে ইশরাক হোসেন জানান, দল থেকে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই পদত্যাগ করছেন। বিশেষ কিছু কারণে তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশে একটি মাঠসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ওই অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করতে দেখা যায়।ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযানের সময়কার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।এদিকে, রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন ওই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।এরপর সোমবার সকালে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেই ধারাবাহিকতায় দুপুরে সরকারি স্টিকার সরিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
৯ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

গাড়ি থেকে নিজ হাতেই সরকারি স্টিকার খুললেন ইশরাক

গাড়ি থেকে নিজ হাতেই সরকারি স্টিকার খুললেন ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের গাড়ি থেকে সরকারি স্টিকার ও লোগো খুলে ফেলেছেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বাড়ি থেকে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তিনি নিজেই স্টিকারটি সরিয়ে নেন।গণমাধ্যমকে ইশরাক হোসেন জানান, দল থেকে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই পদত্যাগ করছেন। বিশেষ কিছু কারণে তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশে একটি মাঠসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ওই অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করতে দেখা যায়।ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযানের সময়কার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।এদিকে, রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন ওই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।এরপর সোমবার সকালে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেই ধারাবাহিকতায় দুপুরে সরকারি স্টিকার সরিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
৯ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
১৮ মিনিট আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক সংহতি বার্তায় এসব কথা বলেন নেহা বোরা। বার্তাটি সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতে বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বাংলাদেশ ও ভারতের আন্দোলনের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে উল্লেখ করে নেহা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। একইভাবে ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণেরাও ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন।ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, ভারতের তরুণেরাও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার তুলনা করে নেহা বোরা শিক্ষার গেরুয়াকরণ ও একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তচিন্তার পরিসর সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিল, সেই প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা বোরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের তরুণদের পারস্পরিক সহযোগিতা একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ভারতে তরুণদের আন্দোলনে নেহা বোরা অন্যতম আলোচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তাঁর উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ে। নাট্যকর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে তিনি নির্বাচনি সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিবেশ এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নিয়ে সরব রয়েছেন।
১৪ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

টেন্ডার ও মেকানিজমের বসঃ নুরআলম মল্লিক ওরফে লাকি

টেন্ডার ও মেকানিজমের বসঃ নুরআলম মল্লিক ওরফে লাকি

পর্দার অন্তরালে থেকেই হাজার কোটি টাকার মালিক ফ্যাসিস্টদের দোসর, তবুও আছে বহাল তবিয়তে ‎ ‎এ যেন রুপ কথার গল্পকেও হার মানানো এক ঘটনা। একটা সময়ে সাধারণ জীবন-যাপন করা ব্যক্তি হঠাৎ যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। বনে গেছে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি ও গাড়ির মালিক। বিদেশে অর্থ পাচার করে সেকেন্ড হোম হিসেবে মালয়েশিয়ায় বাড়ি কিনে সেখানে মেয়েকে রেখে পড়ালেখা করিয়েছে। পোশাক পরিবর্তরেন মত গাড়ির মডেল পরিবর্তন যেন তার বাঁ হাতের ব্যাপার। এক সময়ে গ্রামের বাড়ীতে ছিল জরাজীর্ন টিনের ঘর রাতারাতি সেখানে গড়ে উঠছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্যুইমিং পুল সমৃদ্ধ অত্যাধুনিক আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, প্রকল্প থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অত্যন্ত দূরভিসন্ধি, সুযোগ সন্ধানি, চতুর, এই টেন্ডার মাফিয়াকে টেন্ডার মেকানিজমের বস বলা হয়। ‎ ‎কে এই ব্যক্তি ‎ ‎টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়ন ও গ্রামের নুরালম মল্লিক ওরফে নুরা ওরফে লাকি। বর্তমান ঠিকানাঃ বেইলী রীজ, ফ্ল্যাট নং এ/৯, বেইলী রোড, শান্তিনগর, রমনা, ঢাকা এবং ফ্যালকন স্প্রিং, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা, বাড়ি নং ১৮, রোড নং ১২. ব্লক-জে, বারিধারা, ঢাকা, মোবাইল-০১৭১১৮৯১০৩৩, ০১৬১৩৮৯১০৩৩। যিনি এক সময়ে তার সৎ ভাই আরেক টেন্ডার মাফিয়া ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বিগত ১৭বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়রে কয়েকবারের চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামি লীগের যগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহাবুব আলম মল্লিক ওরফে হুর মহল এর সাথে ব্যবসায় করতেন। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কলহ থেকে নুরালম মল্লিক ওরফে নুরা ওরফে লাকিকে ব্যবসায় থেকে বের করে দেয়। অত্যন্ত সুযোগ সন্ধানি, চতুর, টেন্ডার টেন্ডার মাফিয়া হওয়ায় এই নুরা ওরফে লাকি তার ভাইয়ের ব্যবসায় থেকে বের হয়ে জনপ্রশান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও তৎকালিন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব ইকবাল মাহমুদ এর ভাই সাদেক মাহমুদ বকুল এর সাথে দীর্ঘ দিনের পরিচয় থেকে সখ্যতা ও ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর সূত্র ধরে কোটি কোটি টাকারতদবির বানিজ্য করে। সেই সাথে টেন্ডার বাণিজ্যও শুরু করে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাদেক মাহমুদ বকুল (ফ্যালকন স্প্রিং, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা, বাড়ি নং ১৮, রোড নং ১২. ব্লক-জে, বারিধারা, ঢাকা, মোবাইল নং ০১৭১১৫২০১৪৪) নিজেও একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি ও গাড়ির মালিক হয়েছেন। বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.এ ইঞ্জিনিয়ারিং, নাহিদ এ্যাডভারটাইজিং এ্যান্ড প্রিন্টিং, আর্ডেন্ট সিসটেম এবং রঞ্জি জেভি (জয়েন্ট ভেঞ্চার), তুষার এন্টারপ্রাইজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাথে নেগোশিয়েট করে তাদের নামে কাজ বাগিয়ে আনে। নিয়েছেন এভাবে নিজেদের ধরা-ছোয়ার বাইরে রেখে সুকৌশলে টেন্ডার মেকানিজমের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নিচে বিবরণীতে তুলে ধরা হলো। ‎ ‎বিআইডব্লিউটিএ থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণঃ ‎ ‎২০১৬ সালে বিআইডব্লিউটিএ এর অধীনস্ত মেঘনা-তিতাস নদীর দাউদকান্দি-হোমনা-রামকৃষ্ণপুর এবং রামচন্দ্রপুর নদী পথ এর ৪৫,৮৮,৭৫০০০/- টাকার ড্রেজিং কাজ অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও সূক্ষ্ম টেন্ডার মেকানিজমের মাধ্যমে Ardent System and Ronji JV এর নামে বাগিয়ে নেয়। মেয়াদ শেষে হলেও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে যোগসজসে কাজের বর্ধিত কাজের নাম ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে আরো ৫ কোটি টাকা তুলে নেয়। এছাড়াও ২০১৫ সালে রামপালের মংলা-গাসিয়াখালি খাল খননের ১,৯৯,৬০,০০০ টাকার ড্রেজিংয়ের কাজ একইভাবে হাতিয়ে নেয়। উক্ত কোম্পানিতে নুরালম মল্লিক ওরফে নুরা ওরফে লাকিকে ও সাদিক মাহমুদ ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে রোল প্লে করে Ardent System and Ronji JV এর নামে ব্যাংকে হিসাব খুলে উভয়ের স্বাক্ষরে সমস্ত লেনদেন ও কার্যাবলি পরিচালিত হয়। কাজ না করে অফিস ম্যানেজ করে ভূয়া বিল ভাউচার বানিয়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে কোটি কোটি টাকার বিল তুলে নেয়। এছাড়াও নিজস্ব কোন ড্রেজার না থাকায় কখনও ভাড়ায় চালিত কখনো ডিজেল চালিত স্যালো মেশিন দিয়ে বালু কাটা হতো। এ ব্যাপারে তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। ‎ ‎প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণঃ ‎ ‎Integrated Livestock Development Project in Coastal Char Land এর প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ‎ ‎Integrated Livestock Development Project in Haor areas এর প্রায় ২০০ কোটি টাকা ‎ ‎ILDP in 86 Disadvantaged Areas and River-side Chor in the Northern Border এর প্রায় ২০০ কোটি টাকা ‎ ‎উপরোক্ত প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিনা মূল্যে হাঁস, মুরগি, ছাগল ও ভেড়া এবং এসব হাঁস, মুরগি, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালনের জন্য ঘর নির্মাণ করে প্রদান করা হয় যার সম্পূর্ণ কাজ নুর আলম মল্লিক ওরফে লাকি টেন্ডার মেকানিজমের মাধ্যমে এবং সাবেক দুদক চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে আনফিট কোম্পানি (একজাতীয়/সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও এম.এ ইঞ্জিনিয়ারিং, নাহিদ এ্যাডভারটাইজিং এ্যান্ড প্রিন্টিং ও তুষার এন্টারপ্রাইজ) এর নামে কাজ বাগিয়ে নেয়। প্রথমে আনফিট প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ আদায় করে নিয়ে অফিসের সাথে আতাত করে পরবর্তী প্রকাশিত সকল টেন্ডারেরশর্তাবলি টেন্ডার মাফিয়া নুর আলম মল্লিক আগেই এমনভাবে নির্ধারন করে দিতেন যাতে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান উক্ত কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহন করতে না পারে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে হাঁস, মুরগি, ভেড়া ও ছাগল গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিনা মূল্যে বিতরন এবং তা পালনের জন্য ঘর বা শেড নির্মাণ বাবদ প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সকল টেন্ডার এম.এ ইঞ্জিনিয়ারিং, নাহিদ এ্যাডভারটাইজিং এ্যান্ড প্রিন্টিং ও তুষার এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠানের নামে হাতিয়ে নিয়ে অফিস ম্যানেজ করে ভূয়া চালান ভাউচারের মাধ্যমে নিজেরা বিল তুলে নেয়। সাদিক মাহমুদ এর ভাই দুদক চেয়ারম্যান হওয়ায় তাকে অন্তরালে রেখে সকল প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন নুরালম মল্লিক ওরফে নুরা ওরফে লাকি পরিচালনা করে। যমুনা ব্যাংক পিএলসি, দিলকুশা, ঢাকা এর তৎকালিন শাখা প্রধান জনাব আনোয়ার কবিরের সাথে তাদের সুসম্পর্ক থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুথলি লেনদেন করার জন্য নিয়ম বর্হিভূত ভাবে নাহিদ এ্যাডভারটাইজিং এ্যান্ড প্রিন্টিং কোম্পানি থেকে নুর আলম মল্লিক এর নামে পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি নিয়ে তিনি নিজেই উক্ত কোম্পানির নামে এ্যাকাউন্ট ওপেন করে পরিচালনা করে যার নম্বরঃ ১০০১০০০০৭৫০২৭ ও ০০০৬০২১০০২২৩২৫ যমুনা ব্যাংক পিএলসি, দিলকুশা, ঢাকা। ‎ ‎অন্যদিকে এম.এ ইঞ্জিনিয়ারিং ও তুষার এন্টারপ্রাই এর বিল পাওয়ার পর উক্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে নগদ অথবা সরাসরি নূর আলম মল্লিক এর মালিকাধীন Hoor and Company এর এ্যাকাউন্ট নং ০০৬০২১০০২২৫৮ যমুনা ব্যাংক পিএলসি, দিলকুশা, ঢাকা সহ অন্যান্য হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। উক্ত কাজে সঠিক ওজনের হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া প্রদান না করে কম ওজনের পশু সরবরাহ করে বিল তুলে নেয়। সুনামগঞ্জে সংসদ সদস্য পশুপ্রাণি বিতরন অনুষ্ঠানে নিজে উপস্থিত থাকা অবস্থায় সুফলভোগীদের মাঝে শর্তাবলি অপেক্ষা কম ওজনের ছাগল-ভেড়া সরবরাহ করার সময় বিষয়টি সাংসদের নজরে এলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ কাজ বন্ধ করে দেন এবং উক্ত ঠিকাদার কোম্পানির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন। এ ব্যাপারে একাধিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও প্রভাবশালী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া, হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়ার ঘর সঠিকভাবে তৈরি না করে নিম্ন মানের ঘর প্রদান করা হয়েছে, এমনকি অনেক জায়গায় ঘর তৈরি করে সরবরাহ না করে প্রান্তিক ভোগকারিদের শুধুামাত্র কাঠ, টিন হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিল তুলে নিয়েছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বিরুদ্ধে বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় গত ০৪.০৯.২০২২ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। ‎ ‎জনস্বস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণঃ ‎ ‎করনা মহামারি পরবর্তী সময়ে জনস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১২৪৭১১৫৯.৩০০ কোটি টাকার Construction of 24 Nos Public Sanitation and Hygiene Facilities with running Water by Installing Deep Submersible Tubewell etc. কাজ এম.এ ইঞ্জিনিয়ারিং এর নামে আদায় করে নেয়।ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণঃ ‎ ‎২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পূর্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে খাল, পুনরুদ্ধা, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের ২৯,১৬,৭৯,৪০৯/- টাকার মান্ডা খাল খননের কাজ হাতিয়ে নেয়। ৫ই আগস্ট ২০২৪, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর উক্ত বন্ধ থাকে এবং বাতিল হয়। কিন্তু যেহেতু তারা প্রভাবশালী, তাদের দোসর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এখনো বহাল থাকায় তাদের মাধ্যমে বাতিল হওয়া কাজটি ফিরিয়ে এনে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বিল তুলে নেয়। ‎ ‎অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ ‎ ‎এছাড়া সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অধিদপ্তর, প্রকল্প, অফিস, ডিজিডিপি সহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান (যুমনা ফার্টিলাইজার লিঃ এর থেকে মাহমুদ এ্যান্ড কোম্পানি এর নামে ২০ কোটি টাকার ক্যাটালিস্ট টিউব, ডিজিডিপি থেকে ওরিয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ এর নামে প্রায় ৫ কোটি টাকার মুগ ডাল এর কাজ) থেকে হুর এ্যান্ড কোম্পানি, ওরিয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ, মাহমুদ এ্যান্ড কোম্পানি সহ অন্যান্য কোম্পানির নামে প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজ টেন্ডার মেকানিজমের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। ‎ ‎হাতিয়ে নেয়া অর্থের সার সংক্ষেপঃ ‎ ‎এম.এ ইঞ্জিনিয়ারিং এর নামে ৪০০ কোটি টাকা ‎ ‎নাহিদ এ্যাডভারটাইজিং এ্যান্ড প্রিন্টিং এর নামে ২০০ কোটি টাকা ‎ ‎তুষার এন্টারপ্রাইজ এর নামে ৩০০ কোটি টাকা ‎ ‎আর্ডেন্ট সিসটেম এবং রঞ্জি জেভি (জয়েন্ট ভেঞ্চার) এর নামে ৬০ কোটি টাকা ‎ ‎বেনামে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ‎ ‎এছাড়াও এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট উচ্চ মহল তদন্ত করলে তাদের আরো অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি সামনে আসবে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে নেমে প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে নেমে প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত

মতামত

পানি আছে, তবু সংকট কেন

পানি আছে, তবু সংকট কেন

বাংলাদেশকে নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও ভূগর্ভস্থ পানির দেশ বলা হয়। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি যেন অতিরিক্ত, আবার শুষ্ক মৌসুমে একই দেশের মানুষকে এক কলস নিরাপদ পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। উপকূলের কোনো পরিবার লবণাক্ততার কারণে মিঠা পানির সন্ধানে দূরে যায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর ঢাকার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মে পানির চাপ কমে যায়। তাহলে প্রশ্নটি স্বাভাবিক: পানি সমৃদ্ধ দেশে পানির সংকট কেন?সমস্যাটি আসলে পানির পরিমাণের চেয়ে পানির প্রাপ্যতা, গুণমান, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের। বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রচুর হলেও সেই পানির বড় অংশ বর্ষাকালে দ্রুত নদী দিয়ে সাগরে চলে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি ধরে রাখার সক্ষমতা সীমিত। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ষার পানি সংরক্ষণের সীমিত অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।এই ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ ঢাকা। শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভ থেকে আসে এবং অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর বছরে কয়েক মিটার পর্যন্ত নেমেছে। একই সময়ে নদী ও জলাশয়গুলো দূষিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সহজে ব্যবহারযোগ্য পৃষ্ঠের পানির উৎসও সংকুচিত হয়েছে।এখানেই বাংলাদেশের পানি সংকটের একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যায়। আমরা পানি তুলছি, কিন্তু পানি ধরে রাখছি না। জলাভূমি ভরাট করছি, খাল দখল বা সংকুচিত করছি, নদীতে বর্জ্য ফেলছি; আবার বৃষ্টির পানি চলে যাওয়ার পর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করছি। অর্থাৎ পানি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত প্রাকৃতিক চক্র হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সম্পদ উত্তোলনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছি।কৃষিও এই চাপের বড় অংশ তৈরি করে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা অনেক এলাকায় বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩২ ঘনকিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। একই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার সম্মিলিত ঝুঁকিও দেখানো হয়েছে।তবে শুধু ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়াই সমস্যা নয়। পানি থাকলেও সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য বলছে, দেশের ৯৮.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত মৌলিক পানীয় পানির সুবিধা পেলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, গৃহস্থালি পর্যায়ে সংগৃহীত পানির ৮৪.৯ শতাংশে ই-কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে।উপকূলীয় অঞ্চলে সংকটটির চরিত্র আবার ভিন্ন। সেখানে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মিঠা পানির উৎসের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে দেশের এক অংশে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন যেমন সমস্যা, অন্য অংশে মিঠা পানির উৎসে লবণাক্ততা তেমনি বড় বাধা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবার খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষির নির্ভরতা ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করছে। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ জেলায় অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা নির্ধারণের প্রকল্প নিয়েছে, যা সমস্যাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নির্দেশ করে।অবশ্য উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও নগরায়ণের জন্য পানির ব্যবহার বাড়বে, সেটি স্বাভাবিক। তাই সমাধান পানি ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং কোথায় কত পানি উত্তোলন করা যাবে, কোথায় পানি সংরক্ষণ করা দরকার এবং কোন উৎস কোন কাজে ব্যবহারযোগ্য, সেই ব্যবস্থাপনা বদলানো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাভূমি ও খাল পুনরুদ্ধার, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার এবং শহরের পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ব্যবহারের তথ্য, উত্তোলনের পরিমাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে নিয়মিত ও উন্মুক্ত তথ্য প্রয়োজন।বাংলাদেশের পানি সংকট তাই পানির অভাবের সরল গল্প নয়। এটি একদিকে অতিরিক্ত পানি, অন্যদিকে অনুপস্থিত মিঠা পানি; একদিকে দূষিত নদী, অন্যদিকে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর; একদিকে বর্ষার জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমের তৃষ্ণার গল্প। পানি সমৃদ্ধ দেশ হওয়া আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা। কিন্তু সেই সুবিধা স্থায়ী সম্পদে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমরা পানিকে কতটা পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারছি তার ওপর। প্রশ্নটি তাই ‘বাংলাদেশে পানি আছে কি না’ নয়, বরং আমাদের প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় জায়গায়, নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা আছে কি না।
তানজিদ শুভ্র