বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা মোঃ শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মি. ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার (Mr. Christian Brix Møller) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।আজ (বৃহস্পতিবার) সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্ক দূতাবাসের উপপ্রধান মি. অ্যান্ডার্স বি. কার্লসেন (Mr. Anders B. Karlsen) উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ডেনমার্কের অবদান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় মানসম্মত ওষুধ আমদানিসহ স্বাস্থ্য খাতে ডেনমার্কের সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা মেরিটাইম ও ব্লু ইকোনমি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন এনার্জি, তৈরি পোশাক শিল্প, শ্রমিক অধিকার এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ডেনমার্কের চলমান সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।এ সময় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, বিচার বিভাগীয় সংস্কার, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে ডেনিশ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের বিষয়ে ডেনমার্কের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি এবং দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমেদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
৬ ঘন্টা আগে

দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে। তিনি বলেন, "দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন এবং জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।"রাজধানীর মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের জন্য চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের ৮৮ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়। এবার আমরা ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছি। গত বছর ৮৮ হাজার কোটি টাকা ছিল। তবে তখন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যয় একত্রে যুক্ত করা হয়েছিল, এবার তা করা হয়নি। আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াবো।মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ এত বিশাল সম্পদের দেশ, এত সুন্দর দেশ। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? একটি ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে আছি, সেটি শিক্ষা খাত। শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে।’তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপও করেন তিনি।ড. মিলন জানান, দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। পরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি বলেন, ‘দেশকে সেবা করার জন্যই দেশে ফিরেছিলাম, দুর্নীতির জন্য নয়। দুর্নীতির জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিনি।’শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী।/বাসস
১১ ঘন্টা আগে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। প্রতিদিনের পরীক্ষা বেলা দেড়টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে অনিবার্য কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরিবর্তনের অধিকার সংরক্ষণ করে।প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী প্রথম দিন ২৭ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাস: ভাষা সংস্কৃতি ও পরিচয় (নতুন সিলেবাস), স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (পুরাতন সিলেবাস) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিভাগের বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা চলবে।রুটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। পরীক্ষার সময় শুরু হওয়ার পর পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ পরে জানিয়ে দেবে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, অনার্স প্রথম বর্ষের লিখিত পরীক্ষা ২০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের রুটিন অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নিজ নিজ কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
১২ ঘন্টা আগে
বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর জাতীয় বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন।রাষ্ট্রপ্রধান আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে তাঁর কার্যালয়ে বাজেট দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটটি অনুমোদিত হয়।প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।সংসদ সূত্র জানায়, এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব মো. আব্দুর রহমান খান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।একই সঙ্গে এটি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে  ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের যাত্রা’।২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে এটি প্রথম জাতীয় বাজেট। ওই সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।রাষ্ট্রপতি এ সময় জাতীয় সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন।/বিএসএস
৫ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর জাতীয় বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন।রাষ্ট্রপ্রধান আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে তাঁর কার্যালয়ে বাজেট দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটটি অনুমোদিত হয়।প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।সংসদ সূত্র জানায়, এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব মো. আব্দুর রহমান খান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।একই সঙ্গে এটি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে  ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের যাত্রা’।২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে এটি প্রথম জাতীয় বাজেট। ওই সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।রাষ্ট্রপতি এ সময় জাতীয় সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন।/বিএসএস
৫ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ

মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আজ (১১ জুন, ২০২৬) বৃহস্পতিবার রাতে পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের।মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে ‘গ্রুপ এ’-এর এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। তার আগে একই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের প্রথম জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয় যৌথভাবে এবারের আসরের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানে আরও থাকবেন জে বালভিন এবং পপ ব্যান্ড মানার মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা।এবারের উদ্বোধনী ম্যাচ অনেকটা ২০১০ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তির মতো। সেবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকো। ১৬ বছর আগের সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এবার অবশ্য ভেন্যু মেক্সিকোর ঘরের মাঠ। ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকরা খেলবে সেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই।মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে শক্ত ভিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ওচোয়া রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে গড়া দলটি গত ৮ ম্যাচের ৬টিতেই ক্লিনশিট রাখতে সক্ষম হয়েছে।অন্যদিকে, কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলতে বেশ পটু দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ৯ ম্যাচের প্রতিটিতেই গোলের দেখা পেয়েছে আফ্রিকার দেশটি।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন শুধু মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরদিন বাংলাদেশ সময় রাত একই সময়ে কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পারফর্ম করবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং আলিসিয়া কারা।সবশেষে শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বসবে উদ্বোধনী ত্রয়ীর শেষ আয়োজন। হলিউড ঘরানার এই চোখ ধাঁধানো আয়োজনে মঞ্চ মাতাবেন ক্যাটি পেরি, ব্ল্যাকপিংক ব্যান্ডের লিসা, ফিউচার এবং অ্যানিত্তার মতো জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক তারকারা।
১২ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৭ জন

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৭ জন

ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে।এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। দেশটির সকসারজেন অঞ্চলেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩১ জনের মরদেহ।এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেক। দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বসতবাড়ি হারিয়েছে।গতকাল সোমবার (৮ ,জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় সকালে দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিনদানাও দ্বীপে ব্যাপক আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র সাড়ে ৬ মাইল গভীরে। ভূমিকম্পের পর আশপাশের অঞ্চলে এক থেকে ছয় মাত্রার প্রায় ১৪০টি আফটারশক অনুভূত হয়।এ ঘটনার পর ফিলিপাইনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সাময়িকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওতে আনুমানিক আড়াই কোটি মানুষের বসবাস।
০৯ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
১৯ মে ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

১৯ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

দেশব্যাপী বাংলা কিউআর কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রচারণা শুরু

দেশব্যাপী বাংলা কিউআর কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রচারণা শুরু

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণ এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছে।বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে একটি বিশেষ প্রচারণা কর্মসূচির সূচনা করা হয়। ১ জুলাই থেকে সারাদেশে বাংলা কিউআর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বাস্তবায়ন উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় দেশের তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটরের (পিএসও) প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে গভর্নরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীরা একটি ফটোসেশনে অংশ নেন।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহক, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুবিধা ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক ও অংশীজনের সহযোগিতায় ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বাংলা কিউআর-এর সফল বাস্তবায়ন দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার আরও বিস্তার ঘটাবে এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, একক ও আন্তঃকার্যকর এই পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকরা আরও সহজে ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন, যা নগদবিহীন অর্থনীতি গঠনের পথকে আরও সুগম করবে।
১৯ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি