রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিতের নীতি বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালত এ রায় দেন।আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।রায়ে বিচারক জিনেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষিত ভিসা স্থগিতের নীতিটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই সাধারণত কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে আরও বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এই নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতির আওতায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশও ছিল।এ ছাড়া আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি দেশও ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৮ ঘন্টা আগে

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।পরে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন-বইয়ে স্বাক্ষর করেন।পরিদর্শন-বইয়ে রাষ্ট্রপতি লেখেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।’তিনি আরও লেখেন, ‘এই পবিত্র জাতীয় স্মৃতিসৌধ আমাদের জাতীয় গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন স্মারক, যা চিরকাল দেশপ্রেম ও দেশগঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’রাষ্ট্রপতি লেখেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছি। তাঁদের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমাদের জাতীয় ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।’তিনি আরও লেখেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’সবশেষে তিনি লেখেন, ‘মহান আল্লাহতায়ালা বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত দান করুন। এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ওপর অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বর্ষণ করুন। আমিন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’পরে রাষ্ট্রপতি একটি উদয় পদ্মের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণ শেষে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টের জিওসি উপস্থিত ছিলেন।
১১ ঘন্টা আগে

অবশেষে ২৩ আগস্ট ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৩ আগস্ট তাঁর দিল্লি সফর হতে পারে বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা চলছে। জুনের শুরুতে সফরটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও পরে তা আর এগোয়নি। এরপর জুলাইয়ে আগস্টের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় পক্ষ ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য সফরের তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করে। তবে একই সময়ে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর সফর নিয়ে আলোচনা স্থগিত করে বিষয়টি ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরে ঢাকা।
২১ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং

রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং

কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে লোডশেডিং বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। পাওয়ারগ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতি এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট।এর এক ঘণ্টা আগে বিকেল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর আগে বিকেল ৩টায় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট।দিনের শুরুতে বিদ্যুতের ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট এবং দুপুর ১টায় ছিল ৭৮৬ মেগাওয়াট।এর আগের রাতেও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল বেশি। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন কম হচ্ছে। আদানির কাছ থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া দিনের বেলায় পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমে যায়।তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় একটি অংশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।এ ছাড়া শনিবার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়।ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানায়, শনিবার তাদের এলাকায় সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহের এই ঘাটতি সামাল দিতে ছুটির দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
৪ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।পরে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন-বইয়ে স্বাক্ষর করেন।পরিদর্শন-বইয়ে রাষ্ট্রপতি লেখেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।’তিনি আরও লেখেন, ‘এই পবিত্র জাতীয় স্মৃতিসৌধ আমাদের জাতীয় গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন স্মারক, যা চিরকাল দেশপ্রেম ও দেশগঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’রাষ্ট্রপতি লেখেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছি। তাঁদের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমাদের জাতীয় ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।’তিনি আরও লেখেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’সবশেষে তিনি লেখেন, ‘মহান আল্লাহতায়ালা বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত দান করুন। এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ওপর অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বর্ষণ করুন। আমিন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’পরে রাষ্ট্রপতি একটি উদয় পদ্মের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণ শেষে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টের জিওসি উপস্থিত ছিলেন।
১১ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিতের নীতি বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালত এ রায় দেন।আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।রায়ে বিচারক জিনেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষিত ভিসা স্থগিতের নীতিটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই সাধারণত কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে আরও বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এই নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতির আওতায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশও ছিল।এ ছাড়া আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি দেশও ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৮ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং

রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং

কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে লোডশেডিং বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। পাওয়ারগ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতি এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট।এর এক ঘণ্টা আগে বিকেল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর আগে বিকেল ৩টায় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট।দিনের শুরুতে বিদ্যুতের ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট এবং দুপুর ১টায় ছিল ৭৮৬ মেগাওয়াট।এর আগের রাতেও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল বেশি। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন কম হচ্ছে। আদানির কাছ থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া দিনের বেলায় পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমে যায়।তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় একটি অংশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।এ ছাড়া শনিবার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়।ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানায়, শনিবার তাদের এলাকায় সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহের এই ঘাটতি সামাল দিতে ছুটির দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
১২ জুলাই ২০২৬
চাঁদপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সভাপতি-সেক্রেটারি সম্মেলন

চাঁদপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সভাপতি-সেক্রেটারি সম্মেলন

১২ জুলাই ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১২ জুলাই ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ