শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র দুটোই ফাঁকা

সাগর থেকে নদীতে আসা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে সব ধরণের মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে মেঘনা নদী ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দুটোই ফাঁকা রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন, টিলাবাড়ী ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখাগেছে পুরো নদী ফাঁকা। কোথাও কোন জেলে নৌকা দেখা মিলেনি। ট্রলার নিয়ে নদীতে মাইকিং করে জেলেদের সচেতন করতে দেখাগেছে জেলা মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীদের।অপরদিকে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাটও ফাঁকা। যেখানে নিষেধাজ্ঞার আগে গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) ছিলো কর্মচাঞ্চল্য। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত পাইকারি ও খুচরা ইলিশ কেনাবেচা। তবে এখন ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ আড়তের সামনে ফাঁকা। কিছু আড়তের সামনে লোক থাকলেও তার হিসেব-নিকেশ এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে।জেলা ট্রাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে ২২ দিনের জন্য শহরের যত বরফ কল রয়েছে, সবগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে দেশীয় জলাশয়ে চাষ করা মাছ বিক্রি করতে নিষেধাজ্ঞা নেই।ঘাটের ইলিশ বিক্রেতা আকবর আলী বেপারী বলেন, প্রতিদিন সকাল হলে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আড়তে থাকি। যে কারণে আজকেও ওই সময় এসে উপস্থিত হয়েছি। তবে তেমন কোন কাজ নেই। অনেকেই আড়ৎ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছে।এই ঘাটে ইলিশ ক্রয়-বিক্রির কাজে শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তাদেরকে আড়ত ও বিভিন্ন স্থানে অবসর সময় কাটাতে দেখাগেছে।শ্রমিক সোলায়মান ও আনিছুর রহমান বলেন, কাজ না থাকলেও বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না। যে কারণে আড়তের পাশে বসে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছি। ২২ দিন আমাদের অবসর থাকতে হবে। সবাই এই সময়ের জন্য বেকার হয়ে পড়েছে।চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, অভয়াশ্রম এলাকার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত জেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌ বাহিনী এবং কোস্টগার্ডসহ তিনটি দল অভিযান পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ২৪ঘন্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে।মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত। এ সময় পদ্মা-মেঘনায় ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেলা ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
১৩ ঘন্টা আগে

আবারও সৌদি আরবের দুই বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩

সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত ও অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবারের এসব হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে আরও সরাসরি সংঘাতের মধ্যে টেনে নিচ্ছে।সৌদি জেনারেল অথরিটি ফর সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, আবহা বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি সংস্থাটি। এর আগে হুথিরা এসব বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে।সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আবহা বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। অন্যদিকে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।এদিকে গত কয়েক দিন ধরে সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলার ঘটনা বাড়ায় বিমানবন্দরের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর বিমানবন্দরের কাছে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও অন্যান্য স্থাপনার চারপাশে নতুন করে খাঁচার মতো প্রতিরক্ষা কাঠামো স্থাপন করা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল ও সামরিক স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশটির ওপর এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল কমে যাওয়ায় বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। একই অভিযানে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের দিকে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত একটি প্ল্যাটফর্মও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এপি।এর আগে প্রায় এক মাস আগে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা পুনর্দখলে বড় ধরনের স্থল ও বিমান অভিযান শুরু করে।হুথিদের দখলে থাকা এসব এলাকা সৌদি সংশ্লিষ্ট নৌযান চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি চালানোর সুবিধা দিচ্ছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মকর্তারা সোমবার জানিয়েছেন, প্রণালির আশপাশের বেশ কয়েকটি কৌশলগত এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে।বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপথের নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
১৭ ঘন্টা আগে

আবরার ফাহাদের খুনিদের শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরদিন ভোরে তাঁর মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। এ ঘটনায় করা মামলায় আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেও সাত বছর পরও সেই রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে আবরারের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।আবরারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়িটিতে আবারও ফিরে এসেছে সেই পুরোনো শোকের স্মৃতি। সাত বছর আগে যে ঘর থেকে মাকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন আবরার, সেই ঘরেই এখনো তাঁর ব্যবহার করা ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বই-খাতা ও পড়ার টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরের স্মৃতিগুলো রয়ে গেছে, নেই শুধু পরিবারের সেই মেধাবী সন্তান।২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকার উদ্দেশে বাসে ওঠার আগে মা রোকেয়া খাতুন নিজ হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে আবরারের শেষ দেখা। পরদিন ভোরে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে পরিবারে। সেই দিনের শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বজনেরা।আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুরও নাতির হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। জীবনের শেষ সময়ে এসে তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা, মৃত্যুর আগে যেন তিনি আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের সাজা কার্যকর হতে দেখে যেতে পারেন।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বর্তমানে অসুস্থ। তিনি ছোট ছেলে আবরার ফাইয়াজের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর ফাইয়াজও বুয়েটে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে তিনি বড় ভাইয়ের স্মৃতি ও অসমাপ্ত স্বপ্নকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন।কুষ্টিয়ার বাড়িতে আবরারের ব্যবহার করা বিভিন্ন সামগ্রী এখনো যত্ন করে রাখা হয়েছে। শোকেসে থাকা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন, পড়ার টেবিল, বই-খাতা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পরিবারের কাছে এখন স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব স্মৃতিচিহ্নের মধ্যেই প্রিয় সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি খুঁজে ফেরেন তাঁর মা-বাবা।এদিকে আবরারের স্মৃতি সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহাসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।২০১৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল। আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সাজা কার্যকর না হওয়ায় আবরারের পরিবারের কাছে সাত বছর পরও বিচার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।প্রতিটি মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সামনে ফিরে আসে আবরারের শেষ বিদায়ের স্মৃতি। মায়ের হাতে শেষবারের মতো খাবার খাওয়া, বাবার সঙ্গে শেষ কথা বলা এবং বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া সেই তরুণের স্মৃতি আজও স্বজনদের তাড়িয়ে বেড়ায়। পরিবারের প্রত্যাশা, দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করা হবে এবং এর মধ্য দিয়ে আবরার হত্যার বিচার পূর্ণতা পাবে।আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাসসকে বলেন, সন্তানের হত্যার বিচার পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় তাঁরা দীর্ঘ সাত বছর পার করেছেন। তিনি বলেন, এত সময় পেরিয়ে গেলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। আবরার যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে শহীদ হয়েছেন, সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিতদের দ্রুত সাজা কার্যকর দেখতে চান তাঁরা।
০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।উপ-প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন বলেও জানান সুজন মাহমুদ।বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
৬ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।উপ-প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন বলেও জানান সুজন মাহমুদ।বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
৬ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

আবারও সৌদি আরবের দুই বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩

আবারও সৌদি আরবের দুই বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩

সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত ও অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবারের এসব হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে আরও সরাসরি সংঘাতের মধ্যে টেনে নিচ্ছে।সৌদি জেনারেল অথরিটি ফর সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, আবহা বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি সংস্থাটি। এর আগে হুথিরা এসব বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে।সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আবহা বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। অন্যদিকে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।এদিকে গত কয়েক দিন ধরে সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলার ঘটনা বাড়ায় বিমানবন্দরের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর বিমানবন্দরের কাছে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও অন্যান্য স্থাপনার চারপাশে নতুন করে খাঁচার মতো প্রতিরক্ষা কাঠামো স্থাপন করা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল ও সামরিক স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশটির ওপর এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল কমে যাওয়ায় বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। একই অভিযানে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের দিকে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত একটি প্ল্যাটফর্মও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এপি।এর আগে প্রায় এক মাস আগে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা পুনর্দখলে বড় ধরনের স্থল ও বিমান অভিযান শুরু করে।হুথিদের দখলে থাকা এসব এলাকা সৌদি সংশ্লিষ্ট নৌযান চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি চালানোর সুবিধা দিচ্ছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মকর্তারা সোমবার জানিয়েছেন, প্রণালির আশপাশের বেশ কয়েকটি কৌশলগত এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে।বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপথের নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
১৭ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

 মাতৃপীঠের সঙ্গে আমার আবেগ ও ভালো লাগা জড়িয়ে আছে : এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ

মাতৃপীঠের সঙ্গে আমার আবেগ ও ভালো লাগা জড়িয়ে আছে : এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেছেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদেরই পরিচালনা করতে হবে। তাই এখন থেকেই নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীদের কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি পরিবারকে শিক্ষিত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি বাবা-মাকেও পরিশ্রম করতে হয়। একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের পেছনে প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষকের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতা রয়েছে। মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় যে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ জন্য তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় চর্চায় মনোযোগী হতে হবে। নিজেদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলে যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা চর্চার প্রতিও তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার পাঁচ বোন এই বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার আবেগ ও ভালো লাগা জড়িয়ে আছে। আগামী দিনে তোমাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকব। তোমাদের লক্ষ্য হবে এই বিদ্যালয়কে বাংলাদেশের এক নম্বর বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত করা।’বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যেসব সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন, সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের পানির সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য কিছু খেলাধুলার সামগ্রীও প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দেন তিনি।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক চাঁদ সুলতানা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়তা।অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা ঈষা ও আয়শা খানম। এ সময় গান পরিবেশন করেন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণকলি, কবিতা আবৃত্তি করেন তাসপিয়া আক্তার এবং নৃত্য পরিবেশন করেন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিবেদিতা।অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ফেরদৌস আলম বাবু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল কাদির বেপারী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদা সুলতানা সেতু, সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নাসরিন আক্তারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৪২ জন এবং অষ্টম শ্রেণির ৬৮ জনসহ মোট ১১০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীকে অনুষ্ঠানে কৃতি সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
২৮ আগস্ট ২০২৬
চাঁদপুরে আড়াই হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক কারবারি

চাঁদপুরে আড়াই হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক কারবারি

২৮ আগস্ট ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২৮ আগস্ট ২০২৬
মতামত

মতামত

পানি আছে, তবু সংকট কেন

পানি আছে, তবু সংকট কেন

বাংলাদেশকে নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও ভূগর্ভস্থ পানির দেশ বলা হয়। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি যেন অতিরিক্ত, আবার শুষ্ক মৌসুমে একই দেশের মানুষকে এক কলস নিরাপদ পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। উপকূলের কোনো পরিবার লবণাক্ততার কারণে মিঠা পানির সন্ধানে দূরে যায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর ঢাকার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মে পানির চাপ কমে যায়। তাহলে প্রশ্নটি স্বাভাবিক: পানি সমৃদ্ধ দেশে পানির সংকট কেন?সমস্যাটি আসলে পানির পরিমাণের চেয়ে পানির প্রাপ্যতা, গুণমান, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের। বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রচুর হলেও সেই পানির বড় অংশ বর্ষাকালে দ্রুত নদী দিয়ে সাগরে চলে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি ধরে রাখার সক্ষমতা সীমিত। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ষার পানি সংরক্ষণের সীমিত অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।এই ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ ঢাকা। শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভ থেকে আসে এবং অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর বছরে কয়েক মিটার পর্যন্ত নেমেছে। একই সময়ে নদী ও জলাশয়গুলো দূষিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সহজে ব্যবহারযোগ্য পৃষ্ঠের পানির উৎসও সংকুচিত হয়েছে।এখানেই বাংলাদেশের পানি সংকটের একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যায়। আমরা পানি তুলছি, কিন্তু পানি ধরে রাখছি না। জলাভূমি ভরাট করছি, খাল দখল বা সংকুচিত করছি, নদীতে বর্জ্য ফেলছি; আবার বৃষ্টির পানি চলে যাওয়ার পর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করছি। অর্থাৎ পানি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত প্রাকৃতিক চক্র হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সম্পদ উত্তোলনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছি।কৃষিও এই চাপের বড় অংশ তৈরি করে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা অনেক এলাকায় বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩২ ঘনকিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। একই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার সম্মিলিত ঝুঁকিও দেখানো হয়েছে।তবে শুধু ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়াই সমস্যা নয়। পানি থাকলেও সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য বলছে, দেশের ৯৮.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত মৌলিক পানীয় পানির সুবিধা পেলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, গৃহস্থালি পর্যায়ে সংগৃহীত পানির ৮৪.৯ শতাংশে ই-কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে।উপকূলীয় অঞ্চলে সংকটটির চরিত্র আবার ভিন্ন। সেখানে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মিঠা পানির উৎসের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে দেশের এক অংশে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন যেমন সমস্যা, অন্য অংশে মিঠা পানির উৎসে লবণাক্ততা তেমনি বড় বাধা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবার খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষির নির্ভরতা ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করছে। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ জেলায় অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা নির্ধারণের প্রকল্প নিয়েছে, যা সমস্যাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নির্দেশ করে।অবশ্য উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও নগরায়ণের জন্য পানির ব্যবহার বাড়বে, সেটি স্বাভাবিক। তাই সমাধান পানি ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং কোথায় কত পানি উত্তোলন করা যাবে, কোথায় পানি সংরক্ষণ করা দরকার এবং কোন উৎস কোন কাজে ব্যবহারযোগ্য, সেই ব্যবস্থাপনা বদলানো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাভূমি ও খাল পুনরুদ্ধার, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার এবং শহরের পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ব্যবহারের তথ্য, উত্তোলনের পরিমাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে নিয়মিত ও উন্মুক্ত তথ্য প্রয়োজন।বাংলাদেশের পানি সংকট তাই পানির অভাবের সরল গল্প নয়। এটি একদিকে অতিরিক্ত পানি, অন্যদিকে অনুপস্থিত মিঠা পানি; একদিকে দূষিত নদী, অন্যদিকে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর; একদিকে বর্ষার জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমের তৃষ্ণার গল্প। পানি সমৃদ্ধ দেশ হওয়া আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা। কিন্তু সেই সুবিধা স্থায়ী সম্পদে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমরা পানিকে কতটা পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারছি তার ওপর। প্রশ্নটি তাই ‘বাংলাদেশে পানি আছে কি না’ নয়, বরং আমাদের প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় জায়গায়, নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা আছে কি না।
তানজিদ শুভ্র