শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে 'উজান'-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তোলার প্রত্যয়ে মেহেরপুরে উদযাপিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ৫ই জুন (শুক্রবার) পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘Ujaan’ (উজান)-এর উদ্যোগে জেলাটিতে একটি ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।এবারের কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ও বিশেষত্ব ছিল ‘শিশুবন্ধুদের’ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এই খুদে পরিবেশবাদীরা নিজ হাতে মাটির ছোঁয়া নিয়ে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে। শৈশব থেকেই যেন শিশুরা প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে পারে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিজেদের ভূমিকা বুঝতে পারে—সেই উদ্দেশ্যেই শিশুদের এই কার্যক্রমে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সম্পৃক্ত করা হয়।কর্মসূচিতে উজানের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবেশ অনুরাগী শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল গাছ লাগানোর মাঝেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না; রোপণ করা চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে।আয়োজনটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মো. নওসাদ আলী বলেন, "এই খুদে শিশুদের মাঝে পরিবেশ রক্ষার যে তাগিদ আজ আমরা দেখেছি, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এদের সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। এই কর্মসূচির অংশ হতে পেরে আমার ভীষণ ভালো লাগছে।"উজান-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. আশিকুর রহমান এই আয়োজন সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে হলে এখন থেকেই শিশুদের প্রকৃতির বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের এই সচেতনতা আমাদের দারুণ আশাবাদী করে। সবুজ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে উজানের এই সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব পথচলা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
১ ঘন্টা আগে

এনসিপির ছায়া বাজেট প্রকাশ: ৭১টি নীতিগত প্রস্তাব উপস্থাপন

জাতীয় নাগরিক পার্টির ছায়া বাজেট কমিটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ছায়া বাজেট প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই বাজেটে ১২ টি প্রধান খাতে বিভক্ত করে মোট ৭১ টি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতির প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩ টায় রূপায়ন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় ছায়া বাজেট কমিটির উদ্যোগে এই প্রস্তাবগুলো গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, ছায়া বাজেট কমিটির উপ-প্রধান আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহবায়ক সজিব ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্য দেন। পরে আতিক মুজাহিদ এবং আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল ৭১ টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবে তারা ‘রাজস্ব ও সামষ্টিক অর্থনীতি’, ‘রাজস্ব কাঠামো ও করজাল সম্প্রসারণ’, ‘কর ন্যায়বিচার ও সংস্কার’, ‘শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’, ‘স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা’, ‘কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা’, ‘পরিষ্কার জ্বালানি ও পরিবেশ’, ‘নারী, যুব ও অন্তর্ভুক্তি’, ‘সরকারি কর্মচারী ও শাসন সংস্কার’, ‘ব্যাংকিং, মূলধন বাজার ও অর্থায়ন’, ‘প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা’ এবং ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ খাতে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। রাজস্ব ও সামষ্টিক অর্থনীতি খাতে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ১. সামাজিক খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করা। এনসিপির প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি জিডিপির মাত্র ৩.০৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হতো। ২. মোট বাজেটের আকার হতো ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এনসিপি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় মোট ব্যয় ৬২, হাজার ১৫৭ কোটি টাকা (৭.৮৭%) বৃদ্ধির প্রস্তাব করছে, ৩। ১৩% নমিনাল প্রবৃদ্ধিতে জিডিপি প্রক্ষেপণ ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। দলটি ক্ষমতায় থাকলে ৯.২% মূল্যস্ফীতিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৮%-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে। একইসাথে শক্তিশালী কৃষি উৎপাদন, কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং একটি দায়িত্বশীল মুদ্রানীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তা ৬%-এ স্থিতিশীল করার রূপরেখা বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার করছে দলটি। এছাড়াও, ৪. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ব ৩২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, ৫. রাজস্ব জিডিপির অনুপাত ৯.৩২ শতাংশে উন্নীতকরণ, ৬. সুদ ব্যয় বাজেটের ১৫.৪% থেকে ১৩% নামিয়ে আনা এবং ৭. ব্যাংকিং খাতে সরকারি ঋণ ১৪,০০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে দলটি। রাজস্ব কাঠামো ও করজাল সম্প্রসারণ খাতের অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮. ছয়টি রাজস্ব লিভারে ৭৬,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয়, ৯. রাজস্ব বাড়াতে প্রতি মাসে ৭৫ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিটি গ্রাহকের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, ১০. টিআইএন-এনআইডি-এমএফএস সংযোগ করে প্রথম বছরেই ১৫,০০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয়, ১১. 'জাতীয় ডিজিটাল সম্পদ নিবন্ধন' (NDAR) চালুর মাধ্যমে প্রথম বছরেই ২০,০০০ কোটি টাকা নতুন রাজস্ব আদায়, ১২. বন্দর ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল, ১৩. অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি বাতিল, এবং ১৪. রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান (SOE) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিকরণ। কর ন্যায়বিচার ও সংস্কার খাতের অধীনে ১৫. সাধারণ করমুক্ত সীমা ৪.৫ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, ১৬. নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের করমুক্ত সীমা ৪,৭৫,০০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫,০০,০০০ টাকায় উন্নীত করা, ১৭. যাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তি, ১৮. প্রগতিশীল উত্তরাধিকার কর (Inheritance Tax) চালু, ১৯. কর্পোরেট কর ২৫%-এ হ্রাস, ২০. তাইওয়ানের অনুপ্রেরণায় ভ্যাট লটারি স্কিম চালু, ২১. ৮ টি নিত্যপ্রয়োজণীয় পণ্য পাঁচ বছর ভ্যাটমুক্ত করার আইনি গ্যারান্টি: ২২. মোবাইল ইন্টারনেট কর ৩০%-এ হ্রাস, ২৩. ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) ও স্টার্টআপের জন্য কর রেয়াত এবং ২৪. লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের জন্য ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে করার প্রস্তাব করেছে দলটি। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের অধীনে ২৫. শিক্ষায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া, ২৬. শতভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু, ২৭. ৫,০০০ কোটি টাকার ‘শিক্ষক গুণমান তহবিল’ গঠন, ২৮. বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণ, ২৯. কারিগরি শিক্ষা নথিভুক্তি ৩০%-এ উন্নীতকরণ, ৩০. ৫০০ কোটি টাকার সরকার-সমর্থিত স্টার্টআপ গ্যারান্টি তহবিল গঠন, ৩১. পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ৩২. তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বৈষম্যমূলক শর্ত বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৩৩. স্বাস্থ্য বাজেট ২৫% বৃদ্ধি ও জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা (NHI) চালু, ৩৪. নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ডায়ালাইসিস, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারিতে ৭০% পর্যন্ত সরাসরি ভর্তুকি নিশ্চিত করতে বিশেষ তহবিল গঠন, ৩৫. দুটি আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণ, ৩৬. দেশব্যাপী ৫০০ নতুন জিপিএস-ট্র্যাকড অ্যাম্বুলেন্স ও প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকসহ একটি আধুনিক প্রি-হাসপাতাল জরুরি ব্যবস্থা গড়া, ৩৭. টিসিবি স্মার্ট কার্ডের আধুনিকায়ন, ৩৮. প্রতিবন্ধী ভাতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি, ৩৯. জুলাই ২০২৪ অত্যুত্থানের বীরদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় ভাতা, ৪০. চলমান ১৪০টির বেশি ছড়ানো-ছিটানো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একীভূতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে ৪১. আধুনিক শস্য বিক্রয় কেন্দ্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অবসান, ৪২. কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ, ৪৩. সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সার ভর্তুকি, ৪৪. খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি অক্ষুণ্ণ রাখা, ৪৫. ৫০০ কোটি টাকার ব্লু ইকোনমি কর্মসূচির প্রস্তাব করা হয়েছে।  পরিষ্কার জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে ৪৬. 'সোলার এনার্জি সভাবেন্টি অ্যাক্ট' প্রণয়ন করা হতো, যার অধীনে প্রতিটি সৌর পণ্য-প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, পাম্প ও স্ট্রিট লাইটে আগামী পাঁচ বছর ০% মোট কর নিশ্চিত করা হতো। এই আইন দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া কোনো সরকার বাতিল করতে পারত না। ৪৭. ৬,০০০ কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি গ্রহণ, ৪৮. শক্তি-সাশ্রয়ী টিভি, ফ্রিজ, এসি, ওভেন, এয়ার ফ্রায়ার, ব্লেন্ডার, ইনডাকশন কুকার, ওয়াটার হিটার, লাইট ও ফ্যান উৎপাদনে কর হ্রাসসহ উৎসাহ দেওয়া যেখানে ৩০% কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পণ্যকে এনার্জি এফিসিয়েন্ট হিসেবে গণ্য করা হবে, ৪৯. পরিবেশবান্ধব ইভি (EV) কর কাঠামো, ৫০. ২০ লাখ ই-রিকশা লিথিয়াম ব্যাটারিতে রূপান্তর, ৫১. অচল সোলার স্ট্রিট লাইট পুনরুজ্জীবিতকরণ এবং ৫২. ওয়াশ বাজেট ৩৭.৬% বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে দলটি। নারী, যুব ও অন্তর্ভুক্তি খাতে ৫৩. বৈতনিক মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিতকরণ, ৫৪. ৫,০০০ কোটি টাকার নারী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, যার অধীনে নারীরা ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ জামানতমুক্ত ঋণ পেতেন, ৫৫. স্যানিটারি ন্যাপকিনে সকল ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক মওকুফ এবং ৫৬. 'অবেঞ্জ বন্ড' চালুকরণ, ৫৭. ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের সামাজিক অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ১৬-তে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।সরকারি কর্মচারী ও শাসন সংস্কার খাতে ৫৮. সরকারি বেতন সংশোধন, ৫৯. তিন বছর পরপর স্বয়ংক্রিয় বেতন স্কেল পর্যালোচনা আইন, ৬০. স্বাধীন পদোন্নতি কমিশন গঠন এবং ৬১. মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও এআই-চালিত দক্ষতা ব্যবহারের কথা বলছে এনসিপি। ব্যাংকিং, মূলধন বাজার ও অর্থায়ন খাতে প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬২. কঠোর 'স্বেচ্ছাকৃত খেলাপি আইন' প্রণয়ন করা, যার অধীনে ৫০ লাখ টাকার বেশি ঋণখেলাপিদের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে রাখা হতো যারা কোনো কোম্পানির পরিচালক হতে পারতেন না, নির্বাচনে দাঁড়াতে পারতেন না, তাদের পাসপোর্ট নবায়ন হতো না এবং তারা সকল সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি থেকে আজীবন বঞ্চিত হতেন, ৬৩. রাষ্ট্রীয় 'ব্যাড ব্যাংক' (সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি) গঠন: ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের (NPL) সংকট দূর করতে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রাথমিক মূলধনে একটি রাষ্ট্রীয় 'ব্যাড ব্যাংক' গঠন করা হতো, যা ব্যাংকগুলোর খারাপ অনাদায়ী ঋণ ছাড়কৃত বাজারমূল্যে নিয়ে ব্যাংকিং খাতকে সচল করত, ৬৪. ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা (AQR) প্রকাশ, ৬৫. মূলধন বাজার-জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৪০% এবং লেনদেন খরচ মওকুফ এবং ৬৬. সার্বভৌম ওয়াকফ সুকুক ও গ্রিন বন্ড চালু। প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৬৭. প্রতিরক্ষা বাজেট ৫,৭৭৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি: ৬৮. দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম তৈরির কথা বলেছে দলটি। সর্বশেষ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা খাতে ৬৯. 'হিসাব দাও পোর্টাল' চালুকরণ, ৭০. গোপন সম্পদ কর (অলিগার্কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা) চালু, ৭১. সম্পূর্ণ স্বাধীন বাজেট অফিস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছে দলটি। প্রস্তাবগুলো তুলে ধরার আগে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া একটি সংকটাপন্ন অর্থনীতি সরকার হাতে পেয়েছে। যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি। প্রতিবছর ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি করতে হয়, যা দেড় লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। অপব্যবহারমূলক ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহন করতে হয়। আওয়ামীলীগের সময়ে পরিসংখ্যানকে বিকৃত করে জনগণের কাছে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র লুকানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রচলন করেছিল, ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করেছিল এবং অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ চালু করেছিল। ব্যাংকগুলতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫ করা হয়েছিল, যা বিএনপি সরকার ডিস্টর্ট করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রধান নিয়ামক ধরে চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক প্রশস্তির একটি স্বরূপ জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছে, বিএনপি সরকার তা থেকে দূরে সরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যেভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে যারা অর্থনীতি নিয়ে খোঁজ রাখেন, তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ইসলামী ব্যাংকের যে বিষয়গুলো আমাদের নজরে পড়ছে, সেটিও অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিম্নতম পর্যায়ে; মাত্র ৬.৭%। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো ২০১৫ সালের পর আর পুনর্বিবেচনা করা হয়নি।তিনি আরও বলেন, ১ কোটি ৪০ লাখ স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীর কথা বলেও এই অর্থসংস্থান কীভাবে হবে? এই টাকা কী অন্য সেফটি নেটের প্রোগ্রাম থেকে কাটা হবে? নাহলে এই কোটি টাকার সংস্থান কীভাবে হবে? এই প্রশ্নগুলো সামনে আসছে। জ্বালানি স্বনির্ভর হওয়ার রূপরেখা আমরা পাব, নাকি আমদানিনির্ভর থাকবে? বাজেটে কর্মসংস্থানের কী ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে? শিক্ষা খাতে কি ধরণের বিনিয়োগ রয়েছে? স্বাস্থ্য খাতকে কতটা প্রায়োরিটি দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নগুলো আসছে।হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা অঙ্গীকার করছি, একটি সমতাভিত্তিক অর্থনীতি আমরা নিশ্চিত করব; যেটি হবে বৈষম্যহীন। একইসাথে রাষ্ট্রের সাথে জনগণের যে অঙ্গীকারের সম্পর্ক, তা আমরা নিশ্চিত করব। দায় ও দরদের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থ যেমন আমরা সংরক্ষণের অঙ্গীকার করছি, একইসাথে উৎপাদকের স্বার্থও সংরক্ষণ করার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। যারা ট্যাক্স দেয়, তাদেরকে আমরা উৎসাহিত করব। অন্যদিকে এই টাকায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিষেবা যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সেটিও আমরা নজরদারিতে রাখব। আমরা শুধু পরিসংখ্যান নির্ভর নামসর্বস্ব কোনো বাজেট দেখতে চাই না।
৩ ঘন্টা আগে

আবারও সীমান্তে বিএসএফ ভারতীয় ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার ভোর রাতে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের ৫৬ বিজিবির বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫-এর কাছে বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্প ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়।পরে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির একটি টহলদল তাদের বাধা দেয়।বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০ জনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা ভারতের অংশে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাসসকে বলেন, বিজিবির টহলদল সতর্ক অবস্থানে থেকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তের উভয়পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহলদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
৪ ঘন্টা আগে
ফরিদগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নুরনবীর মৃত্যু, রেখে গেলেন তিন মাসের কন্যাসন্তান

ফরিদগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নুরনবীর মৃত্যু, রেখে গেলেন তিন মাসের কন্যাসন্তান

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে বজ্রপাতে মো. নুরনবী (২৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।নিহত নুরনবী ওই ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা নোয়া বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মো. মনির হোসেন ও খাতেজা বেগমের ছেলে। জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজ করতেন নুরনবী। তাঁর বাবা একজন রিকশাচালক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ জুন (শুক্রবার) সকালে কৃষিকাজ করতে যান নুরনবী। কৃষিকাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নুরনবীর অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও মাত্র তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের নুরনবী কৃষিকাজের মাধ্যমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।এদিকে বজ্রপাতে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান। পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
৩৬ মিনিট আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

আবারও সীমান্তে বিএসএফ ভারতীয় ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

আবারও সীমান্তে বিএসএফ ভারতীয় ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার ভোর রাতে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের ৫৬ বিজিবির বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫-এর কাছে বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্প ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়।পরে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির একটি টহলদল তাদের বাধা দেয়।বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০ জনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা ভারতের অংশে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাসসকে বলেন, বিজিবির টহলদল সতর্ক অবস্থানে থেকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তের উভয়পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহলদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
৪ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে : খামেনি

যুদ্ধে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে : খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অভিযোগ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানিদের মধ্যে ‘বিভেদ’ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।তেহরান থেকে এএফপি জানায়, এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘অশুভ শত্রু’ জনগণের মধ্যে ‘সন্দেহ, হতাশা, ভয়, অবিশ্বাস ও বিভেদের বীজ বপন’ করতে চাইছে।বার্তাটিতে বলা হয়, ‘এই অসৎ উদ্দেশ্যের মোকাবিলায় সবাইকে দৃঢ়তা, দূরদৃষ্টি এবং ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের অশুভ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।’ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকীর ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক নামাজের ইমাম খামেনির এ বার্তা পাঠ করে শোনান।১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ  মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তার রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটায়।১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তিনি নিহত হন, যার পর একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হয়।৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেমে গেলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৪ জুন আলি খামেনি স্মরণানুষ্ঠানে ভাষণ দিতেন। তবে এ বছর তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত সমাধিসৌধে তার প্রতিকৃতিসহ একটি খালি চেয়ার রাখা হয় বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে।মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন এবং মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে ইরানিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, সমাধিসৌধে মোজতবা খামেনি এবং তার আগের দুই সর্বোচ্চ নেতার প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা এবং ইরান-সমর্থিত লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহর ব্যানার বহন করেন।ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি অঞ্চলজুড়ে সংঘাত বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতিও রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে।
১৪ ঘন্টা আগে
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় জয় দাস

ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় জয় দাস

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট’-এ ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ জয় দাস। আগামীকাল ৩০ মে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননাটি প্রদান করা হবে।জয় দাস ‘লার্ন উইথ জয়’ (Learn with JOY) উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইংরেজি ভাষা শেখানো, আইইএলটিএস প্রস্তুতি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছেন। বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ উপায়ে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, নেতৃত্ব এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছার স্বীকৃতি হিসেবেই জয় দাসকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তারা এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈশ্বিক শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করবেন জয়। এবারের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগির সাক্ষী মালিক।এই অর্জন নিয়ে জয় দাস বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, এই সম্মাননা শুধু তার একার নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এবং তার সকল শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত অর্জন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা তার জন্য অনেক গর্বের বিষয়।আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন তরুণ বাংলাদেশির এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক উদ্যোগে আরও বেশি উৎসাহ জোগাবে।
২৯ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৮ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৮ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

ফরিদগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নুরনবীর মৃত্যু, রেখে গেলেন তিন মাসের কন্যাসন্তান

ফরিদগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নুরনবীর মৃত্যু, রেখে গেলেন তিন মাসের কন্যাসন্তান

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে বজ্রপাতে মো. নুরনবী (২৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।নিহত নুরনবী ওই ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা নোয়া বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মো. মনির হোসেন ও খাতেজা বেগমের ছেলে। জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজ করতেন নুরনবী। তাঁর বাবা একজন রিকশাচালক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ জুন (শুক্রবার) সকালে কৃষিকাজ করতে যান নুরনবী। কৃষিকাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নুরনবীর অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও মাত্র তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের নুরনবী কৃষিকাজের মাধ্যমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।এদিকে বজ্রপাতে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান। পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
১৮ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি