বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের মধ্যে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বুধবার (৬ মে) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দিবাগত রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।এ অবস্থায় উল্লিখিত এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।অন্যদিকে, আবহাওয়া অফিসের সকালবেলার পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
২০ ঘন্টা আগে

কুবি উপাচার্যকে গ্রেফতারসহ ৯ দফা দাবিতে কুবি ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ সময় তারা ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করে।বুধবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও সাইদুল ইসলাম শাওনসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি চলছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তারা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।তাদের উপস্থাপিত ৯ দফা দাবিগুলো হলো-১)ফৌজদারি মামলার আসামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গ্রেফতারের দাবি। ২) ২০০৯ পরবর্তী সময় থেক ১২ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের তদন্ত রিপোর্ট আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।৩) ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ।৪) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের চিঠির জবাবও শিক্ষার্থীদের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।৫) গত ১৮ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা নিয়োগের সকলের তথ্য প্রকাশ করতে হবে।৬) উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ দুর্নীতির সাথে জড়িত প্রসাশনের সকলকে পদত্যাগ করতে হবে।৭) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বার বার ব্যর্থ প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের অপসারণ করতে হবে।৮)আবাসিক হল ও ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের খাবার মান উন্নতি নিশ্চিতকরন করতে হবে।৯)তুচ্ছ ঘটনায় অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের মতো কোন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এমন অবস্থায় তিনি কীভাবে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি আমাদের প্রশ্ন। আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগগুলোর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।”ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে দুর্ভাগা। বর্তমান ভিসি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভিসি গোপনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। 'তিনি আরও বলেন, 'এসব বিষয়ে জাতির কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে ভিসিকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।"
০৬ মে ২০২৬

চান্দিনায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান

কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামে সংঘটিত ওই অগ্নিকাণ্ডে ৬টি বসতঘর ও ৩টি রান্নাঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক পরিবার।সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি পরিবারের মাঝে সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক তুলে দেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন।এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মানিক মিয়া, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর, উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার এবং উপজেলা সমবায় সমিতির সভাপতি এবিএম সিরাজুল ইসলাম।
০৪ মে ২০২৬
চাঁদপুর পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে কাজ ছাড়াই পুরাতন প্রকল্প দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ

চাঁদপুর পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে কাজ ছাড়াই পুরাতন প্রকল্প দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ

চাঁদপুর পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় কোনো কাজ না করেই পৌরসভার অর্থায়নে টেন্ডারে বাস্তবায়িত প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা লোপাট চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন এবং ভাণ্ডার রক্ষক ফয়সালের বিরুদ্ধে এই লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি তথ্য অধিকার আইনে এ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আবেদন ফরম জমা দিতে গেলে এক সাংবাদিককে বহিরাগতদের দ্বারা মারধর করার অভিযোগও উঠেছে প্রশাসকের বিরুদ্ধে।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় কিস্তিতে চাঁদপুর পৌরসভার জন্য বরাদ্দ আসে ২১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩০ টাকা। কাগজ-কলমে এই অর্থ দিয়ে কয়েকটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে দেখানো হয়েছে সাবেক প্রশাসক গোলাম জাকারিয়ার আমলে সম্পন্ন হওয়া কাজগুলো। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেসব কাজকে বর্তমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো অন্তত ৪-৫ মাস আগে টেন্ডারের মাধ্যমে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে।প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এসব কাজ ৪-৫ মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান প্রশাসক এরশাদ উদ্দিনের সময়ে এখানে নতুন করে কোনো কাজ হয়নি।২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাঁদপুর পৌরসভায় এসব প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে মোট বরাদ্দ ছিল ২১ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩০ টাকা। এর মধ্যে একটি মসজিদে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে কোনো প্রকল্প এলাকায় এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন এবং ভান্ডার রক্ষক ফয়সালের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে।এদিকে, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গত ২৮ এপ্রিল পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন দৈনিক ভোরের আকাশ ও বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি আবেদনকারী মুসাদ্দেক আল আকিবকে বহিরাগতদের দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এরশাদ উদ্দিন এ ঘটনায় মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে ‘কথাকাটাকাটি’ হয়েছে বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং অর্থ লোপাটে ব্যর্থ হয়ে পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন ও তার মদদ পুষ্ট চক্র পৌরসভার কর্মচারীদের নামে বেনামি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় কিস্তির উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভার পূর্বে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো দেখানো হয়েছে। এসব কাজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পৌরসভার অর্থায়নে ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। তখন প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম জাকারিয়া।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোলাম জাকারিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বর্তমান প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন পূর্বের কাজ দেখিয়ে টিআর প্রকল্পের ২০ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন।উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-চাঁদপুর স্টেডিয়াম রোডে ইলিশ চত্বর মেরামত ও সংস্কার (৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা), দোকানঘর রাস্তা মাটি ভরাট ও সংস্কার (৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা), স্টাফ কোয়ার্টার পার্কে রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ (৪ লাখ টাকা), স্টাফ কোয়ার্টার পার্কে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন (৪ লাখ টাকা), পুরান বাজার পাবলিক টয়লেট ও পোল মেরামত (৩ লাখ ৭ হাজার ৩৩০ টাকা ৭৭ পয়সা) সহ মোট ২০ লাখ ৭ হাজার ৩৩০ টাকা লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্টাফ কোয়ার্টার পার্কের দারোয়ান আব্দুল লতিফ পাটোয়ারী বলেন, “বর্তমান প্রশাসকের আমলে এখানে কোনো কাজ হয়নি। তবে সাবেক প্রশাসক গোলাম জাকারিয়ার সময়ে কিছু কাজ হয়েছিল, যা ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হয়।”সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ইমাম হোসেন মিয়াজি জানান, “আমার লাইসেন্সে কাজটি পেয়েছিলাম, তবে কাজটি সহকারী ঠিকাদার শাহাদাত করেছেন।”সহকারী ঠিকাদার শাহাদাত বলেন, “আমি ৪-৫ মাস আগে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি নিয়েছি। এখনো বিল পাইনি। এটি টিআর প্রকল্প নয়, পৌরসভার অর্থায়নে হয়েছে।”জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইলিশ চত্বরটি পুনরায় সংস্কার করে উদ্বোধন করা হয়।ইলিশ চত্বর সংস্কার প্রসঙ্গে একাধিক ঠিকাদার জানান, কাজগুলো ভাঙা, টাইলস বসানো, পানির ফোয়ারা, মোটর ও বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি পৌরসভার অর্থায়নে করা হয়েছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়ুয়া বলেন, “এ বিষয়টি ভান্ডার রক্ষক ফয়সাল দেখেন। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তথ্য জানতে হলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে হবে।”অনুসন্ধানে জানা যায়, টিআর প্রকল্পটি ভান্ডার রক্ষক ফয়সাল তদারকি করতেন। তিনি দাবি করেন, “প্রথম পর্যায়ে ১৩টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।” তবে কারা কাজ পেয়েছেন-এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে একজন ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সভাপতি হতে পারেন না। অথচ বাস্তবে একাধিক প্রকল্পে একই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, “ইলিশ চত্বরের কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে হয়েছে এবং এতে টিআর প্রকল্পের কোনো অর্থ ব্যবহার হয়নি।”উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আফতাবুল ইসলাম বলেন, “এ প্রকল্পটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার। ২ ডিসেম্বর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দফায় ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৩১ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, “আমরা ৫০ শতাংশ টাকা ছাড় করেছি। কাজ শেষে সাইনবোর্ড স্থাপন করে ছবি জমা দিতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। কোনো প্রকল্পের কাজ না হলে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে অর্থ ফেরত নেওয়া হবে।”বিধি অনুযায়ী তথ্য অধিকার আইনে উপরোক্ত প্রকল্পের তথ্য চেয়ে আবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে বিষয়টি পুরো জেলা জুড়ে সর্বমহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন চাঁদপুরের সচেতন মহল।
১৯ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতে পারে এবং নিজ নিজ অধিকার ভোগ করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই আমাদের সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।’তারেক রহমান বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও তা করিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি সবাই সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এ দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার ও আমাদের সকলের।’বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।শুরুতেই সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।তিনি বলেন, এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে, আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।
৩০ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১ মে) দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ফ্লোরিডা পুলিশ বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি তার বলে নিশ্চিত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। একই দিনে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও। পরবর্তীতে ফ্লোরিডার একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
০১ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কুবি উপাচার্যকে গ্রেফতারসহ ৯ দফা দাবিতে কুবি ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

কুবি উপাচার্যকে গ্রেফতারসহ ৯ দফা দাবিতে কুবি ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ সময় তারা ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করে।বুধবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও সাইদুল ইসলাম শাওনসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি চলছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তারা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।তাদের উপস্থাপিত ৯ দফা দাবিগুলো হলো-১)ফৌজদারি মামলার আসামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গ্রেফতারের দাবি। ২) ২০০৯ পরবর্তী সময় থেক ১২ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের তদন্ত রিপোর্ট আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।৩) ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ।৪) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের চিঠির জবাবও শিক্ষার্থীদের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।৫) গত ১৮ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা নিয়োগের সকলের তথ্য প্রকাশ করতে হবে।৬) উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ দুর্নীতির সাথে জড়িত প্রসাশনের সকলকে পদত্যাগ করতে হবে।৭) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বার বার ব্যর্থ প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের অপসারণ করতে হবে।৮)আবাসিক হল ও ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের খাবার মান উন্নতি নিশ্চিতকরন করতে হবে।৯)তুচ্ছ ঘটনায় অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের মতো কোন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এমন অবস্থায় তিনি কীভাবে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি আমাদের প্রশ্ন। আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগগুলোর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।”ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে দুর্ভাগা। বর্তমান ভিসি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভিসি গোপনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। 'তিনি আরও বলেন, 'এসব বিষয়ে জাতির কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে ভিসিকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।"
০৬ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

২২ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চাঁদপুর পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে কাজ ছাড়াই পুরাতন প্রকল্প দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ

চাঁদপুর পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে কাজ ছাড়াই পুরাতন প্রকল্প দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ

চাঁদপুর পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় কোনো কাজ না করেই পৌরসভার অর্থায়নে টেন্ডারে বাস্তবায়িত প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা লোপাট চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন এবং ভাণ্ডার রক্ষক ফয়সালের বিরুদ্ধে এই লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি তথ্য অধিকার আইনে এ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আবেদন ফরম জমা দিতে গেলে এক সাংবাদিককে বহিরাগতদের দ্বারা মারধর করার অভিযোগও উঠেছে প্রশাসকের বিরুদ্ধে।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় কিস্তিতে চাঁদপুর পৌরসভার জন্য বরাদ্দ আসে ২১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩০ টাকা। কাগজ-কলমে এই অর্থ দিয়ে কয়েকটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে দেখানো হয়েছে সাবেক প্রশাসক গোলাম জাকারিয়ার আমলে সম্পন্ন হওয়া কাজগুলো। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেসব কাজকে বর্তমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো অন্তত ৪-৫ মাস আগে টেন্ডারের মাধ্যমে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে।প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এসব কাজ ৪-৫ মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান প্রশাসক এরশাদ উদ্দিনের সময়ে এখানে নতুন করে কোনো কাজ হয়নি।২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাঁদপুর পৌরসভায় এসব প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে মোট বরাদ্দ ছিল ২১ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩০ টাকা। এর মধ্যে একটি মসজিদে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে কোনো প্রকল্প এলাকায় এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন এবং ভান্ডার রক্ষক ফয়সালের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে।এদিকে, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গত ২৮ এপ্রিল পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন দৈনিক ভোরের আকাশ ও বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি আবেদনকারী মুসাদ্দেক আল আকিবকে বহিরাগতদের দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এরশাদ উদ্দিন এ ঘটনায় মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে ‘কথাকাটাকাটি’ হয়েছে বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং অর্থ লোপাটে ব্যর্থ হয়ে পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন ও তার মদদ পুষ্ট চক্র পৌরসভার কর্মচারীদের নামে বেনামি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় কিস্তির উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভার পূর্বে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো দেখানো হয়েছে। এসব কাজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পৌরসভার অর্থায়নে ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। তখন প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম জাকারিয়া।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোলাম জাকারিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বর্তমান প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন পূর্বের কাজ দেখিয়ে টিআর প্রকল্পের ২০ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন।উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-চাঁদপুর স্টেডিয়াম রোডে ইলিশ চত্বর মেরামত ও সংস্কার (৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা), দোকানঘর রাস্তা মাটি ভরাট ও সংস্কার (৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা), স্টাফ কোয়ার্টার পার্কে রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ (৪ লাখ টাকা), স্টাফ কোয়ার্টার পার্কে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন (৪ লাখ টাকা), পুরান বাজার পাবলিক টয়লেট ও পোল মেরামত (৩ লাখ ৭ হাজার ৩৩০ টাকা ৭৭ পয়সা) সহ মোট ২০ লাখ ৭ হাজার ৩৩০ টাকা লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্টাফ কোয়ার্টার পার্কের দারোয়ান আব্দুল লতিফ পাটোয়ারী বলেন, “বর্তমান প্রশাসকের আমলে এখানে কোনো কাজ হয়নি। তবে সাবেক প্রশাসক গোলাম জাকারিয়ার সময়ে কিছু কাজ হয়েছিল, যা ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হয়।”সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ইমাম হোসেন মিয়াজি জানান, “আমার লাইসেন্সে কাজটি পেয়েছিলাম, তবে কাজটি সহকারী ঠিকাদার শাহাদাত করেছেন।”সহকারী ঠিকাদার শাহাদাত বলেন, “আমি ৪-৫ মাস আগে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি নিয়েছি। এখনো বিল পাইনি। এটি টিআর প্রকল্প নয়, পৌরসভার অর্থায়নে হয়েছে।”জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইলিশ চত্বরটি পুনরায় সংস্কার করে উদ্বোধন করা হয়।ইলিশ চত্বর সংস্কার প্রসঙ্গে একাধিক ঠিকাদার জানান, কাজগুলো ভাঙা, টাইলস বসানো, পানির ফোয়ারা, মোটর ও বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি পৌরসভার অর্থায়নে করা হয়েছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়ুয়া বলেন, “এ বিষয়টি ভান্ডার রক্ষক ফয়সাল দেখেন। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তথ্য জানতে হলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে হবে।”অনুসন্ধানে জানা যায়, টিআর প্রকল্পটি ভান্ডার রক্ষক ফয়সাল তদারকি করতেন। তিনি দাবি করেন, “প্রথম পর্যায়ে ১৩টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।” তবে কারা কাজ পেয়েছেন-এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে একজন ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সভাপতি হতে পারেন না। অথচ বাস্তবে একাধিক প্রকল্পে একই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, “ইলিশ চত্বরের কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে হয়েছে এবং এতে টিআর প্রকল্পের কোনো অর্থ ব্যবহার হয়নি।”উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আফতাবুল ইসলাম বলেন, “এ প্রকল্পটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার। ২ ডিসেম্বর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দফায় ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৩১ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, “আমরা ৫০ শতাংশ টাকা ছাড় করেছি। কাজ শেষে সাইনবোর্ড স্থাপন করে ছবি জমা দিতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। কোনো প্রকল্পের কাজ না হলে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে অর্থ ফেরত নেওয়া হবে।”বিধি অনুযায়ী তথ্য অধিকার আইনে উপরোক্ত প্রকল্পের তথ্য চেয়ে আবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে বিষয়টি পুরো জেলা জুড়ে সর্বমহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন চাঁদপুরের সচেতন মহল।
২২ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র