শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চাঁদপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ৮টায় শহরের মিশন রোড মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বায়তুল আমিন চত্বর ঘুরে ঘটনাস্থলে এসে শেষ হয়। এরপর জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতে সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া ও এনসিটির জেলা কমিটির আহবায়ক মাহবুব আলম।সঞ্চালনায় ছিলেন চাঁদপুর শহর জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারী সাইফুল ইসলাম সবুজ।মিছিল ও সমাবেশে উপস্তিত ছিলেন চাঁদপুর শহর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাওলা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা খান মো. নিয়াজ মোরশেদ, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা আব্দুল হাই লাভলু ও সৈয়দ সাকিবুল ইসলাম, চাঁদপুর সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন প্রমূখ।বক্তারা বলেন, একজন জুলাইযোদ্ধ বেঁচে থাকতে বাংলার মাটিতে কোন ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না। যারা জুলাই এবং চিনিমিনি, গণভোটের রায় নিয়ে গড়িমসি করছেন, জুলাই যোদ্ধাদের গ্রেপ্তার করছেন এবং জুলাই স্মৃতি মুছেফেলার চেষ্টা করছেন তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। আমরা বলতে চাই, জুলাই আমাদের চেতনা এবং মুক্তির পথ দেখিয়েছে।বক্তারা চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, যেখানে ফ্যাসিবাদ পাবেন, তাদেরকে আইনের আওতায় তুলেদেবেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্টরাই আগুন দিয়েছে। প্রত্যেক স্থানে আওয়ামী লীগের লোকদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। জুলাই যুদ্ধারা হারিয়ে যায়নি। তারা এখনো রয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে যারা আগুন দিয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।এর আগে আজ বেলা আইড়টার দিকে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
১ ঘন্টা আগে

স্বৈরাচার আ. লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা হত্যাকাণ্ড, গণহত্যা, জুলুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, অথচ নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চায়নি বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত এক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গুম ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। শাপলা চত্বরে আলেমদের হত্যা এবং মসজিদে রক্তপাতের ঘটনাও তাদের শাসনামলে ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব কারণে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে জানান মন্ত্রী।তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিভক্তি থাকতে পারে। তবে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, একটি পক্ষ আন্দোলনের নামে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির ফিরে আসার পথ তৈরি করতে চায়।অন্য একটি রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ইসলামের কথা বলে রাজনীতি করলেও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে নয়। তাদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন যেসব বিষয় বাদ দিয়েছিল, সেগুলো পুনরায় সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস এবং ‘বিসমিল্লাহ’ পুনঃস্থাপনের কথাও জানান তিনি।
৭ ঘন্টা আগে

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈচিত্র্যময় ‘আদিবাসী উৎসব’ উদযাপন

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় শিল্প, সাহিত্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ‘আদিবাসী উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ‘ইভেন্ট ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্সের ব্যবহারিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।​সকাল ১০টায় আদিবাসী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা ওঠে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইসমত আরা ভূইয়া ইলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।​উৎসবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২৫ প্রাপ্ত উন্নয়নকর্মী, লেখক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, কবি ও সাহিত্যিক পরাগ রিসিল এবং বিরিশিরির পরিচালক প্রিংসন সাংমা।​উদ্বোধনী পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। অতিথিদের জীবন-অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গল্প নিয়ে আয়োজিত হয় ‘বহমান আমারও পদচিহ্ন’ শীর্ষক বিশেষ পর্ব। এ ছাড়া বিকেলের আয়োজনে ছিল আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, মারমা রূপকথা নিয়ে গল্প বলার আসর এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পাশাপাশি শব্দকুঞ্জ আবৃত্তি সংগঠন, ড্রামা চেম্বার, নজরুল ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড মিউজিক সোসাইটি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যান্স ক্লাব এবং ষড়ঙ্গ ব্যান্ডের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন।​উৎসব প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার ও জীবনধারার নানা উপাদান প্রদর্শন করা হয়। ফলে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক মিলনমেলা।​আয়োজনের বিষয়ে কোর্সটির তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কোর্সের অংশ হিসেবেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের এই পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। তাঁদের সেই আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতি সংহতি প্রকাশের জায়গা থেকেই আমাদের এ আয়োজন।’​এ উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বহুত্ববাদী সমাজচর্চাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
২২ ঘন্টা আগে
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ায় চাঁদপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ায় চাঁদপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল

৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্বে আগুন দেয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডে জেলা বিএনপির কার্যালয় সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিলটি বের হযে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।মিছিলে নেতৃত্ব দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ।জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ইসমাইল হোসেন, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাসুদ মাঝি, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শামছুল আলম সূর্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মিছিলে অংশ নেন।মিছিল শেষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার কড়া প্রতিবাদ জানান নেতারা। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তারা।এর আগে আজ বেলা আড়াইটায় চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়েক দূর্বৃত্তরা ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্বে আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
৪১ মিনিট আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

জালিয়াতি ঠেকাতে এনআইডি সংশোধনে কঠোর ইসি

জালিয়াতি ঠেকাতে এনআইডি সংশোধনে কঠোর ইসি

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পত্তি বিক্রি, উত্তরাধিকার দাবি, পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জালিয়াতির চেষ্টা হচ্ছে। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনআইডির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ যাচাই করে সন্তুষ্ট হওয়ার পরই সংশোধনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বাসসকে বলেন, এনআইডি সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেফতারের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কমিশন কোনো ছাড় দিচ্ছে না।তিনি জানান, নাম পরিবর্তন করে সম্পত্তি বিক্রি, উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা কিংবা জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তনের মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। এ কারণে যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো আবেদন অনুমোদন করা সম্ভব নয়। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থাএনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে সম্প্রতি ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. ছত্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। একই অভিযোগে পঞ্চগড় সদর কার্যালয়ের অফিস সহকারী কামনা রানী সরকারকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।ইসির কর্মকর্তাদের মতে, অনেক আবেদনেই তথ্যগত অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও পিতা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান মাত্র তিন বছর, আবার কোথাও মা ও মেয়ের বয়সের ব্যবধান দুই থেকে তিন বছর দেখানো হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে একাধিক জন্মনিবন্ধন বা ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাগত সনদের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।এসব অসংগতি যাচাই না করে সংশোধন করা হলে ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি সংগ্রহ এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।সিইসি বলেন, বিদেশি নাগরিক কিংবা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগও পাওয়া যায়। তাই আবেদন যাচাই, তদন্ত ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।বয়স ও পরিচয় পরিবর্তনের আবেদনে বাড়তি সতর্কতাইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, অনেক আবেদনকারী এমন জন্মতারিখ পরিবর্তনের আবেদন করেন, যা তাদের পূর্ববর্তী নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং ২০১৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ভোটার হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি জন্মসাল ২০০২ করার আবেদন করেছেন। এতে নিবন্ধনের সময় তার বয়স দাঁড়ায় মাত্র ১৩ বছর। অথচ ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বয়স ছিল ১৮ বছর। এ ধরনের অসংগতিপূর্ণ আবেদন অনুমোদনের সুযোগ নেই।তিনি আরও বলেন, অনেকে বিদেশযাত্রা বা ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে মানবিক বিবেচনায় তথ্য সংশোধনের আবেদন করেন। কিন্তু যথাযথ যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনকেই জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।যেসব নথিপত্র যাচাই করছে নির্বাচন কমিশন ইসি কর্মকর্তারা জানান, এনআইডির অধিকাংশ সাধারণ সংশোধন উপজেলা পর্যায়েই সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে নাম, পিতা-মাতার পরিচয় কিংবা জন্মতারিখের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একসঙ্গে পরিবর্তনের আবেদনগুলো জটিল হওয়ায় উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়।এসব ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করা হয়। বিশেষ করে পিতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পিতার এনআইডি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।শুধু হলফনামার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয় না।সিইসি এ প্রসঙ্গে বলেন, কেউ নিজের নাম ও বাবার নাম পরিবর্তন করতে চাইলে তার ভাই-বোনদের এনআইডিও যাচাইয়ের জন্য চাওয়া হতে পারে। পরিবারের অন্য সদস্যদের পরিচয়পত্রে বাবার নামের সঙ্গে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়।সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীর ভোগান্তিএদিকে এনআইডি সংশোধন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং একাধিক ধাপে যাচাইয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন আবেদনকারী।সম্প্রতি যশোরের কেশপুরের বাসিন্দা হরিদাশ কর্মকার (ছদ্মনাম) এনআইডি সংশোধনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আসেন। তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রীর নাম সংশোধনের আবেদন করেছিলেন। তখন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়, তার স্ত্রীর নামে দুটি জন্মনিবন্ধন রয়েছে। একটি বাতিল করে আসার পর সংশোধনের কাজ করা হবে।পরবর্তী সময়ে একটি জন্মনিবন্ধন বাতিল করে আবার ইসিতে যোগাযোগ করলে স্ত্রীর ভাই-বোনদের প্রত্যয়নপত্র, বায়োমেট্রিক তথ্যসহ আরও কয়েক ধরনের নথি চাওয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় এখনো সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। ৬৫ লাখের বেশি আবেদনের মধ্যে বাতিল ১৩ লাখ ৫৫ হাজারনির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এনআইডি সংশোধনের জন্য এখন পর্যন্ত ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি বাতিল হয়েছে।বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে সিইসি জানান, অনেক আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য বা জন্মসনদ থাকে না। আবার কারও একাধিক জন্মসনদ, এসএসসি কিংবা স্নাতকের সনদ থাকায় কোন নথিকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।তবে আবেদন বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর সংশোধনের সুযোগ পাবেন না, বিষয়টি এমন নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বাতিল হওয়া আবেদনের সংখ্যা দিয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে না। কারণ, একজন ব্যক্তি একই বিষয়ে একাধিকবার আবেদন করতে পারেন। আবার একটি আবেদনে একাধিক তথ্য সংশোধনের অনুরোধ থাকলে তার কিছু অংশ অনুমোদিত হলেও অন্য অংশ বাতিল হতে পারে।তিনি জানান, উপজেলা থেকে মহাপরিচালক পর্যায় পর্যন্ত আবেদন বাতিল হওয়ার পরও সচিব পর্যায়ে আপিলের সুযোগ রয়েছে। কোনো কোনো আবেদন ছয় থেকে সাতবার পর্যন্ত বাতিল হয়েছে। ফলে মোট বাতিলের সংখ্যা প্রকৃত আবেদনকারীর সংখ্যাকে নির্দেশ করে না।প্রবাসীদের এনআইডি সেবায় বিশেষ গুরুত্বপ্রবাসীদের এনআইডি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সেবা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যেসব আবেদনকারীর তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক রয়েছে, তাদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।সিইসি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি দূতাবাসে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা চালু করা হয়েছে।তিনি বলেন, অনেক প্রবাসী সঠিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে যাননি কিংবা দালালের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার কারণে তাদের তথ্য যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে কাজ করার বিষয়েও প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে।প্রবাসীদের গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক থাকলে তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকায় তাদের সেবাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।অন্যদিকে, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, অনেকেই এনআইডি করার পর জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরি করেন। এ সময় দুটি নথির তথ্যের মধ্যে অমিল তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা দেখা দেয়। জন্মনিবন্ধন তৈরির সময় এনআইডির তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব।তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের নির্দিষ্ট শর্ত থাকায় অনেকে বয়স ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করেন। পরে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তনের আবেদনও করেন। এনআইডির কোন তথ্য সহজে সংশোধন করা যায়?নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো, ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকেরা যেন সঠিক তথ্য প্রদান করেন। এতে ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা কমবে।ইসির কর্মকর্তারা জানান, স্থান পরিবর্তনের কারণে ঠিকানা সংশোধন, বিয়ে বা বিবাহবিচ্ছেদের কারণে বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন এবং ধর্ম পরিবর্তনের মতো বিষয় নির্ধারিত নিয়মে সংশোধন করা যায়।তবে নাম, বাবা-মায়ের পরিচয় এবং জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ ও নথিপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক।জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, এনআইডির মৌলিক তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়।
০৪ নভেম্বর ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইরানের মধ্যস্থতায় গোষ্ঠীটিকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এ দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরান সফর করেন। ওই সফরে তিনি সৌদি সামরিক পরিবহন বিমান হারকিউলিসে করে ১০০ কোটি ডলার নিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে অর্থ বহন কিংবা হস্তান্তরের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।তেহরানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার ফলে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে রেখে ইরান এ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, সংলাপের পথ তৈরি করা এবং কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করাও এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়াই বর্তমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি সমঝোতার অংশ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।হুথিদের অভিযোগ, সৌদি আরব ওই সমঝোতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। অন্যদিকে, সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে পড়ে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে না দেশটি।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের এ বৈঠক ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এ বৈঠকের উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পায় বলে দাবি করা হয়েছে।তবে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এবং সামরিক বিমানে করে তেহরানে ওই অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
২৭ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ায় চাঁদপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ায় চাঁদপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল

৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্বে আগুন দেয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডে জেলা বিএনপির কার্যালয় সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিলটি বের হযে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।মিছিলে নেতৃত্ব দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ।জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ইসমাইল হোসেন, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাসুদ মাঝি, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শামছুল আলম সূর্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মিছিলে অংশ নেন।মিছিল শেষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার কড়া প্রতিবাদ জানান নেতারা। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তারা।এর আগে আজ বেলা আড়াইটায় চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়েক দূর্বৃত্তরা ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্বে আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

চাঁদপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

০৫ অক্টোবর ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
মতামত

মতামত

আনন্দের আলোয় শিক্ষা: চাপমুক্ত প্রজন্মের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

আনন্দের আলোয় শিক্ষা: চাপমুক্ত প্রজন্মের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

আধুনিক সভ্যতার এই রমরমা যুগে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এক অন্তহীন প্রতিযোগিতার চক্রে আবর্তিত হচ্ছে। সকালে ভারী স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছুটে চলা শিশুটির ক্লান্ত মুখ কিংবা জিপিএ-৫ পাওয়ার অলৌকিক চাপের নিচে পিষ্ট হওয়া কিশোরটির মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা আজ এক নির্মম বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে সমাজকে। শিক্ষা মানে যেখানে হওয়ার কথা ছিল জ্ঞানের আলোয় মনকে প্রসারিত করা, কৌতূহলকে উসকে দেওয়া এবং আলোর মিছিলে শামিল হওয়া, সেখানে শিক্ষা আজ এক আতঙ্কজনক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। অথচ এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের সর্বজনস্বীকৃত এবং পরীক্ষিত চাবিকাঠি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা। শিক্ষাকে যখন ভয়ের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে আনন্দের চাদরে মুড়ে দেওয়া হয়, তখন তা কেবল একটি প্রক্রিয়া থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে মানবসত্তার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের এক চমৎকার মাধ্যম।মানবশিশুর জন্মগত বৈশিষ্ট্যই হলো কৌতূহল। সে চারপাশের প্রকৃতি, রঙ, শব্দ এবং গন্ধের মধ্য দিয়ে নতুন কিছু জানতে চায়, বুঝতে চায়। কিন্তু আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থা এবং প্রাচীন মেমোরি বেসড বা মুখস্থ নির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি শিশুদের এই সহজাত কৌতূহলকে গলা টিপে হত্যা করে। ক্লাসরুমগুলো যেন একেকটি বন্দিশালা, যেখানে শিক্ষককের একঘেয়ে লেকচার আর মুখস্থ করার নিরন্তর তাড়া শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। এই ভীতিপ্রসূত পরিবেশে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে নম্বর অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা মুখ্য হয়ে ওঠে। যখন একটি শিশু পরীক্ষার ভয়ে কুঁকড়ে থাকে বা হোমওয়ার্ক না করার অপরাধবোধে ভোগে, তখন তার মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর বিপরীতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণার মূল দর্শন হলো শিক্ষার্থীর মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি। আনন্দঘন পরিবেশে যখন কোনো বিষয় উপস্থাপন করা হয়, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন ও অক্সিডোসিনের মতো পজিটিভ হরমোন ক্ষরিত হয়, যা শেখার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় করে তোলে।আনন্দময় শিক্ষার প্রকৃত রূপ কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রকৃতির বুক থেকে শুরু করে খেলার মাঠ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। প্রাচীনকালে আমাদের দেশে বা গুরুগৃহে শিক্ষার পরিবেশ কেমন ছিল তা স্মরণ করলে দেখা যায়, উন্মুক্ত প্রকৃতি গাছের ছায়ায় গুরুর সান্নিধ্যে জীবনের পাঠ নেওয়া হতো খেলাধুলা, গল্প ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতীর আদর্শে এই আনন্দময় শিক্ষার সুর স্পষ্টভাবে বেজে উঠেছিল, যেখানে ছাতিম তলার মুক্ত বাতাসে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে গান, নাটক ও সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জন করত। আজকের দিনেও ফিনল্যান্ড বা জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থায় এই দর্শনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে শিশুদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয় না, হোমওয়ার্কের বোঝা চাপানো হয় না, বরং খেলাধুলা, প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্ট এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ভেতরের প্রতিভা ফুটিয়ে তোলা হয়।আমাদের সমাজে প্রায়শই একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, পড়াশোনায় আনন্দ যুক্ত হলে পড়াশোনার মান বা গুরুত্ব কমে যায়। অভিভাবকরা মনে করেন, শাসন, ভয়ভীতি এবং কড়া অনুশাসন না থাকলে সন্তান পড়ালেখা করবে না। এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে শৈশব থেকেই শিশুদের ওপর এক নিষ্ঠুর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। খেলার মাঠ থেকে কেড়ে নিয়ে তাদের কোচিং সেন্টার আর প্রাইভেট মাস্টারের বেড়াজালে বন্দি করা হয়। ফলাফলস্বরূপ, আমাদের শিশুরা সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষিত হয়ে উঠলেও তাদের মধ্যে মৌলিক চিন্তার শক্তি বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে পরীক্ষার গণ্ডি পার হতে পারলেও বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে হোঁচট খায়। অথচ আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কখনো ভোলা যায় না, কারণ তা মানুষের হৃদয়ের গভীর গ্রথিত হয়ে যায়। যখন কোনো শিক্ষার্থী গণিতকে একটি ভয়ের বিষয় না ভেবে একটি আকর্ষণীয় ধাঁধা হিসেবে নেয়, বিজ্ঞানকে জটিল সূত্র না ভেবে চারপাশের রহস্য উদ্ঘাটনের আনন্দ হিসেবে দেখে, তখন পড়াশোনা আর বোঝা থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে পরম প্রাপ্তি।শিক্ষায় আনন্দের এই ধারা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে অগ্রণী। একজন শিক্ষক কেবল তথ্য সরবরাহকারী নন, তিনি একজন মেন্টর বা নির্দেশক যিনি শিক্ষার্থীর মনের ভেতর সুপ্ত থাকা সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারেন। গতানুগতিক মুখস্থ করানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে শিক্ষকদের আধুনিক ও সৃজনশীল শিক্ষণ কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। গল্পের ছলে কঠিন ব্যাকরণ বোঝানো, নাট্যাভিনয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের কোনো ঘটনা ফুটিয়ে তোলা কিংবা বিজ্ঞানাগারের বাইরে খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া, এসব কৌশল শিক্ষাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। যখন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভুল করার স্বাধীনতা দেন এবং প্রতিটি ছোট সাফল্যকে উৎসাহ ও প্রশংসার সাথে বরণ করেন, তখন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। ভয়হীন ক্লাসরুমে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে শেখে, যুক্তি দেখাতে শেখে এবং নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সাহস পায়।পরিবার হলো শিশুর প্রথম পাঠশালা এবং মা-বাবা হলো তার প্রথম শিক্ষক। তাই আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তন সবার আগে প্রয়োজন। সন্তানের রেজাল্ট নিয়ে প্রতিবেশী বা আত্মীয়স্বজনের সাথে অসুস্থ তুলনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সন্তান পরীক্ষায় কত নম্বর পেল তার চেয়ে বড় কথা হলো সে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখতে পেরে আনন্দ পেল কি না, তা অনুধাবন করা জরুরি। ছুটির দিনে সন্তানকে সারাদিন পড়ার টেবিলে আটকে না রেখে তাকে খেলার মাঠে যেতে দেওয়া, বই পড়ার আনন্দ উপভোগ করানো এবং প্রকৃতির সাথে মেশার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। যৌথ পরিবার কিংবা পারিবারিক আড্ডায় গল্প বলার মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার যে ঐতিহ্য আমাদের সংস্কৃতিতে ছিল, তা ফিরিয়ে আনা দরকার। যখন ঘরে এবং বাইরে শিশু একটি নিরাপদ, স্নেহময় ও আনন্দঘন পরিবেশ পায়, তখন তার মানসিক বিকাশ সুষম হয়।ডিজিটাল যুগের এই সময়ে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেও শিক্ষাকে দারুণভাবে আনন্দময় করে তোলা সম্ভব। অ্যানিমেশন, কার্টুন, শিক্ষামূলক ভিডিও গেম এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাপস আজ শিক্ষার ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে কার্টুনের চরিত্রের মাধ্যমে বর্ণমালা বা নামতা শেখানোর পদ্ধতি শিশুদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। তবে এই ডিজিটাল মাধ্যম যেন আবার স্ক্রিন টাইমের অতিরিক্ত আসক্তিতে পরিণত না হয়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রযুক্তিকে সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য করে তোলা যেতে পারে, যা প্রথাগত পাঠ্যপুস্কের একঘেয়েমি দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দময় শিক্ষার এই ধারণাটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শিক্ষাক্রমে পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং কন্টিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্টের ওপর যে জোর দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক ও আন্তরিকভাবে বাস্তবায়িত হলে মুখস্থ বিদ্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে। তবে এর পাশাপাশি শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, ক্লাসরুমের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। বড় বড় শহরগুলোর পাশাপাশি মফস্বল ও গ্রামবাংলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও যদি আনন্দময় শিক্ষার পর্যাপ্ত উপকরণ ও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবেই সত্যিকার অর্থে শিক্ষার সুফল সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।একটি জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন একটি সুস্থ, সবল ও সৃজনশীল প্রজন্ম। যে শিশু শৈশবে আনন্দ নিয়ে পড়াশোনা করতে শেখে, সে বড় হয়ে একজন কৌতূহলী গবেষক, দক্ষ পেশাজীবী এবং মানবিক গুণসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে। ভীতি ও প্রতিযোগিতার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শিক্ষাকে কোনো শাস্তিমূলক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য আনন্দের অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করার সময় এখনই। আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি শিশুর শৈশব হাসিখুশিতে মুখরিত থাকবে এবং জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে প্রতিটি হৃদয়ে আনন্দ ও উদ্দীপনার স্ফুলিঙ্গ হয়ে।
ডেস্ক নিউজ