শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দল মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
৬ ঘন্টা আগে

২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতিতে হাতেখড়ি, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠকের ভূমিকা, সরকারি চাকরি ও শিক্ষকতা দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হতে যাচ্ছেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছাত্রজীবন ও রাজনীতিতে হাতেখড়ি১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক সদস্য।ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকার ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের জন্য মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। এভাবেই ছাত্ররাজনীতি থেকে তাঁর জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পথ তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পর১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন তিনি। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেছেন তিনি। সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতেমূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন মির্জা ফখরুল। এর দুই বছর পর, ১৯৮৮ সালে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমানে এ পদটি মেয়র হিসেবে পরিচিত।নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। এরপর ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন তিনি।প্রথমে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপির অন্য পাঁচজন নির্বাচিত সদস্যকে সংসদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তারা ২০২২ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করেন।২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ পথ২০১১ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তাকে বিএনপির মহাসচিবের স্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়।১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।তাঁর মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের সময়টি ছিল বিএনপির জন্য অত্যন্ত কঠিন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও পরবর্তী অসুস্থতার সময়েও দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁর নির্দেশনায় দলের সামনের সারির অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এ সময় তাকে তিনবার কারাবরণও করতে হয়। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিতদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর দলীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার সময় আবেগঘন এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পারিবারিক জীবনমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেন।এই দম্পতির দুই মেয়ে। দুজনই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়নদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন মধ্যপন্থী ও বিনয়ী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনেক নেতাকর্মীর কাছ থেকেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রশংসা এসেছে।দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিএনপি নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বিএনপির কঠিন সময়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদার মানসিকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।দীর্ঘ শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব, স্থানীয় সরকার, মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
৯ ঘন্টা আগে

২৩তম রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত বঙ্গভবন

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের পাশেই অবস্থিত রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রাষ্ট্রপতির শপথকে ঘিরে বঙ্গভবন এলাকায় তৈরি হয়েছে ভিন্নরকম পরিবেশ। সাধারণত কোলাহলপূর্ণ ও জনবহুল এই এলাকায় এখন নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি চলছে সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ। নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বদলে গেছে পুরো এলাকার চিত্র। নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে বরণে যেন প্রস্তুত বঙ্গভবন।শুক্রবার (২১ আগস্ট) গুলিস্তান ও বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গভবনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ব্যারিকেডগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশপাশের সড়কগুলোও পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।এ ছাড়া বঙ্গভবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সড়কে ডাইভারশন রাখা হয়েছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গুলিস্তান থেকে বঙ্গভবনমুখী সড়কের ফুটপাত থেকেও অবৈধ ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ফুটপাতসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকা তুলনামূলক ফাঁকা দেখা গেছে। তবে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত রয়েছে।রাষ্ট্রীয় এই ভবনের ভেতরে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে বরণে বড় ধরনের প্রস্তুতি চললেও বাইরে থেকে তার পুরো চিত্র বোঝার সুযোগ নেই। তবে বঙ্গভবনের সামনের অংশ পরিচ্ছন্ন ও সুসজ্জিত করে রাখা হয়েছে। প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন স্থাপনার আশপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।এদিকে, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন এলাকার যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।এর আগে বৃহস্পতিবারই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদেশক্রমে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
৯ ঘন্টা আগে
অবশেষে ২৩ আগস্ট ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অবশেষে ২৩ আগস্ট ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৩ আগস্ট তাঁর দিল্লি সফর হতে পারে বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা চলছে। জুনের শুরুতে সফরটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও পরে তা আর এগোয়নি। এরপর জুলাইয়ে আগস্টের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় পক্ষ ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য সফরের তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করে। তবে একই সময়ে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর সফর নিয়ে আলোচনা স্থগিত করে বিষয়টি ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরে ঢাকা।
৫ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

অবশেষে ২৩ আগস্ট ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অবশেষে ২৩ আগস্ট ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৩ আগস্ট তাঁর দিল্লি সফর হতে পারে বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা চলছে। জুনের শুরুতে সফরটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও পরে তা আর এগোয়নি। এরপর জুলাইয়ে আগস্টের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় পক্ষ ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য সফরের তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করে। তবে একই সময়ে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর সফর নিয়ে আলোচনা স্থগিত করে বিষয়টি ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরে ঢাকা।
৫ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি ইরানের সেনাপ্রধানের

ট্রাম্পকে ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি ইরানের সেনাপ্রধানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, তেহরানের এমন রক্ষক রয়েছে, যারা প্রয়োজনে ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দিতে’ পারে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন আমির হাতামি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়া বড় ধরনের ভুল।ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, ‘ইরানের এমন রক্ষক রয়েছে, যারা প্রয়োজনে আপনার পা ভেঙে দেবে।’তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীকে কার্যত ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের অনুমতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আমির হাতামি বলেন, ইরানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না। ইরান কখনোই তা হতে দেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।এর আগে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ওই বক্তব্যের জবাবেই ইরানের সেনাপ্রধান এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন।
১৭ আগস্ট ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

চৌদ্দগ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

চৌদ্দগ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন।এর আগে পাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম খাঁনের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ মাওলা।সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন, কবি মো. আহসান উল্লাহ, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, সিনিয়র সহসভাপতি মো. এমদাদ উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সাংবাদিক আবু বকর সুজন, কোমাল্লা এবতেদায়ী স্বতন্ত্র মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক এ কে এম শামছুল হক, তরুণ ইসলামী বক্তা মাওলানা মোবারক বিন আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সভায় অধ্যাপক আহমেদ মাওলা বলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে বইপাঠের কোনো বিকল্প নেই। আর পাঠাগারই বইপাঠের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র তৈরি করে। একটি সমাজ পাঠাগারের প্রতি কতটা আন্তরিক, তা দেখলেই সেই সমাজের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থার অনেকটা বোঝা যায়।তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিলকিছ-আলম পাঠাগারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এসব প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো উচিত।কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন।এর আগে পাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম খাঁনের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ মাওলা।সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন, কবি মো. আহসান উল্লাহ, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, সিনিয়র সহসভাপতি মো. এমদাদ উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সাংবাদিক আবু বকর সুজন, কোমাল্লা এবতেদায়ী স্বতন্ত্র মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক এ কে এম শামছুল হক, তরুণ ইসলামী বক্তা মাওলানা মোবারক বিন আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সভায় অধ্যাপক আহমেদ মাওলা বলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে বইপাঠের কোনো বিকল্প নেই। আর পাঠাগারই বইপাঠের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র তৈরি করে। একটি সমাজ পাঠাগারের প্রতি কতটা আন্তরিক, তা দেখলেই সেই সমাজের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থার অনেকটা বোঝা যায়।তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিলকিছ-আলম পাঠাগারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এসব প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো উচিত।তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পাঠাগার কার্যক্রম অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নিয়ে পাঠাগারে আসা এবং তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা। ইউএনও আরও বলেন, বিলকিছ-আলম পাঠাগারের মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কোমাল্লা গ্রামে পাঠাগারটির স্থায়ী ভবন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাঠাগারটি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের শিশু-কিশোর ও তরুণদের জ্ঞানচর্চা, সাহিত্যপাঠ ও সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
০৯ জুলাই ২০২৬
টিলা কাটার প্রতিবাদ করায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড: অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের

টিলা কাটার প্রতিবাদ করায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড: অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের

০৯ জুলাই ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
০৯ জুলাই ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ