বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ৭ অক্টোবর দেশের সর্বউত্তরের বাংলাবান্ধা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়ে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা থেকে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর কর্মসূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা। তিনি জানান, ৩৬ দিনের কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পদযাত্রা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।কর্মসূচির শুরুতে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার উদ্দেশে পদযাত্রা করবে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ২১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি চত্বরে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কর্মসূচি পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হবে।‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটে পাওয়া জনরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সল এবং বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ইউসুফ আম্মারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।এ ছাড়া কবি বোরহান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান, সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, জুলাইয়ে চোখ হারানো যোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল শাফিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমদসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
০৫ অক্টোবর ২০২৬

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে সোমবার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ঘোষণা পর্ব। এবার ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং ওজন কমানোর ওষুধের পেছনে থাকা গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।নোবেল পুরস্কার নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গবেষণা এবার স্বীকৃতি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানবদেহের মাইক্রোবায়োম, ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ হরমোন নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোন মানুষের ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ওজেম্পিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ডেভিড পেন্ডেলবুরি মনে করেন, এসব গবেষণার যেকোনো একটি নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি পেতে পারে। তার মতে, জিএলপি-১ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এর চিকিৎসাগত প্রভাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক।জিএলপি-১ গবেষণায় বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ত্বকের পুনর্গঠন ও স্টেম সেল গবেষণাও আলোচনায়চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কমিটি এবার অন্য কোনো গবেষণাক্ষেত্রকেও বেছে নিতে পারে। মানুষের ত্বক কীভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ক্ষত সারিয়ে তোলে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে স্টেম সেল গবেষণাও সম্ভাব্য পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে।সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক আনিকা ওস্টম্যানের মতে, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোষবিজ্ঞানী এলাইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চিকিৎসা ইমেজিং প্রযুক্তিও সম্ভাব্য তালিকায়চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ধরনের ইমেজিং প্রযুক্তি অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি নিয়েও নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি একটি অ-আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি। প্রতিফলিত আলোর সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর উচ্চ রেজোলিউশনের ক্রস-সেকশনাল ছবি তৈরি করা যায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে এটি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণার সম্ভাবনারোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলো কীভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডহেশন রিসেপ্টর নিয়েও নোবেল কমিটির আগ্রহ থাকতে পারে। মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগার এসব রিসেপ্টর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।এই রিসেপ্টরগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষকে রক্তনালির দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং পরবর্তী সময়ে টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমিত স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।এ ছাড়া স্তন ক্যানসার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির উদ্ভাবনও এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণার পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান এবং বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড সামরিক ঘাঁটি থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি মার্কিন কর্তৃপক্ষ।ব্রিটিশ ওই ঘাঁটি থেকে রোববার কয়েকটি বি-১ বোমারু বিমান উড্ডয়ন করেছে বলে বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্যে দেখা গেছে। এর আগে ফেয়ারফোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান অবস্থান করছিল।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিটি তাদের বোমারু বিমান পরিচালনার কাজে ব্যবহার করে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ঘাঁটিটির আশপাশে একটি ‘সন্দেহজনক ঘটনা’ ঘটার পরই বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।গত ২৭ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছাকাছি তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন অবস্থান করাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস দমন পুলিশ তদন্ত করছে।তবে বিমান সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে ওই ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।এদিকে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।টিডিএন/
০৫ অক্টোবর ২০২৬
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে নাহিদ ইসলামের ক্ষোভ, সিন্ডিকেটকে দায়ী

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে নাহিদ ইসলামের ক্ষোভ, সিন্ডিকেটকে দায়ী

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, অসাধু সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি মূল্য চাপিয়ে দিচ্ছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।মাল্টার দামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে এক কেজি মাল্টা প্রায় ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে ফলটির দাম এ পর্যায়েই রয়েছে। তার দাবি, আমদানিসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসায়িক মুনাফা যোগ করলেও সর্বোচ্চ ব্যয় ২১০ টাকার মধ্যে থাকার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা নেই।নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন, আমদানি ও সরবরাহের তথ্য এমন হওয়ার পরও মাল্টার দাম এত বেশি কেন। তার ভাষ্য, বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বলা হলেও গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে গত দুই মাসে ভোক্তাদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে অসাধু চক্র।পোলাওয়ের চালের দাম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, প্রতি কেজি প্রায় ১২০ টাকার চাল বর্তমানে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সুগন্ধি চাল দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বা সংকটের কারণে এর দাম বাড়ার সরাসরি কোনো কারণ নেই।রপ্তানির কারণে চালের দাম বেড়েছে বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, ২০০৯ সালে রপ্তানি শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু সে সময়ও প্রতি কেজি চালের দাম ১২০ টাকার বেশি ছিল না। তার হিসাব অনুযায়ী, গত তিন মাসে শুধু পোলাওয়ের চালের বাড়তি দামের কারণে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।ডিমের বাজার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল প্রায় ১২০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস একটি ডিম কিনতেই এখন প্রায় ১৫ টাকা খরচ হচ্ছে।ডিমের দাম বৃদ্ধির পেছনে মুরগির খাবারের মূল্যবৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও সেই ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলামের দাবি, খাবারের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে প্রতি ডিমের দাম সর্বোচ্চ প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রতি ডিমে প্রায় পাঁচ টাকা করে দাম বেড়েছে। তার হিসাবে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিমের বাড়তি দামের কারণে জনগণের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত চলে গেছে।এলপিজির দাম নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তার ভাষ্য, সরকার কয়েক দফায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রতিটি সিলিন্ডারে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকার আমদানি পর্যাপ্ত থাকার কথা জানালেও অতিরিক্ত এই অর্থ কারা নিচ্ছে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে।তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম এখন প্রায় ২০০ টাকা। এরই মধ্যে দুধের দামও বেড়েছে। মানুষের আয় সেই অনুপাতে না বাড়লেও জীবনযাপনের ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘদিনের তুলনায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর কার পৃষ্ঠপোষকতা বা প্ররোচনায় সেই সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে। এর মধ্যে নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ অতিরিক্ত দামে হাতিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে আর কোনো অপশক্তিকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
৯ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন ৪টি বই; কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন ৪টি বই; কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রী

আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ চারটি নতুন বই যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।তিনি বলেন, ২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমের যেসব জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।ভর্তি নিয়ে চলমান বিড়ম্বনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আসন সংখ্যার তুলনায় ভর্তির যোগ্য প্রার্থী অনেক কম। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী যারা প্রথমে আবেদন করেছিলেন, তাদের ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেক আসন খালি রয়েছে। এ কারণেই ভর্তির ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার নারীশিক্ষার অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে নিয়ে পাঠ্যবইয়ে লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দ্রব্যমূল্যের সংকটটি বৈশ্বিক। জনগণের ওপর যতটুকু চাপ পড়ছে, তা প্রশমন করে সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কাজ করবে।কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কুমিল্লার স্বার্থে ইতিবাচকভাবে কাজ করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।এর আগে সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে রঙিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, মোবাশ্বর আলম ভূঁইয়া এমপি, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজসহ দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে।
৭ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে সোমবার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ঘোষণা পর্ব। এবার ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং ওজন কমানোর ওষুধের পেছনে থাকা গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।নোবেল পুরস্কার নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গবেষণা এবার স্বীকৃতি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানবদেহের মাইক্রোবায়োম, ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ হরমোন নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোন মানুষের ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ওজেম্পিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ডেভিড পেন্ডেলবুরি মনে করেন, এসব গবেষণার যেকোনো একটি নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি পেতে পারে। তার মতে, জিএলপি-১ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এর চিকিৎসাগত প্রভাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক।জিএলপি-১ গবেষণায় বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ত্বকের পুনর্গঠন ও স্টেম সেল গবেষণাও আলোচনায়চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কমিটি এবার অন্য কোনো গবেষণাক্ষেত্রকেও বেছে নিতে পারে। মানুষের ত্বক কীভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ক্ষত সারিয়ে তোলে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে স্টেম সেল গবেষণাও সম্ভাব্য পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে।সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক আনিকা ওস্টম্যানের মতে, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোষবিজ্ঞানী এলাইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চিকিৎসা ইমেজিং প্রযুক্তিও সম্ভাব্য তালিকায়চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ধরনের ইমেজিং প্রযুক্তি অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি নিয়েও নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি একটি অ-আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি। প্রতিফলিত আলোর সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর উচ্চ রেজোলিউশনের ক্রস-সেকশনাল ছবি তৈরি করা যায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে এটি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণার সম্ভাবনারোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলো কীভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডহেশন রিসেপ্টর নিয়েও নোবেল কমিটির আগ্রহ থাকতে পারে। মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগার এসব রিসেপ্টর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।এই রিসেপ্টরগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষকে রক্তনালির দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং পরবর্তী সময়ে টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমিত স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।এ ছাড়া স্তন ক্যানসার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির উদ্ভাবনও এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণার পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান এবং বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

নোয়াখালীর নতুন কূপে গ্যাস, দৈনিক উঠতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট

নোয়াখালীর নতুন কূপে গ্যাস, দৈনিক উঠতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এর আগে গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়।বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন ডিএসটি পরীক্ষা চলবে। এরপর কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
চাঁদপুরে ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, অভিযানের আগেই মাদক কারবারির পলায়ন

চাঁদপুরে ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, অভিযানের আগেই মাদক কারবারির পলায়ন

২৭ আগস্ট ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রগতির মূল্য কত: এআইয়ের আড়ালে নিঃশেষ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি?

প্রগতির মূল্য কত: এআইয়ের আড়ালে নিঃশেষ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি?

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে কয়েকটা শব্দ লিখে পাঠালেই চোখের পলকে ফুটে উঠছে কাঙ্ক্ষিত উত্তর, তৈরি হয়ে যাচ্ছে সুন্দর একটি ছবি কিংবা জটিল কোনো গবেষণার সারসংক্ষেপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আজ আমাদের জীবনকে এতটাই সহজ ও চটপটে করে তুলেছে যে, এটিকে আমরা কেবলই এক অলৌকিক ডিজিটাল প্রযুক্তি বলে মনে করি। কিন্তু স্ক্রিনের ওপারে চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কঠিন ও বস্তুগত বাস্তব। এআই কোনো শূন্যতার মধ্য থেকে কাজ করে না; একে সচল রাখতে বিশ্বজুড়ে দিনরাত জ্বলছে লাখ লাখ প্রসেসর। আর চরম উত্তাপে জ্বলতে থাকা এসব বিশাল ডাটা সেন্টার ঠান্ডা রাখতে নীরবে বাষ্পীভূত হয়ে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন লিটার সুপেয় পানি। আমরা যখন এআইয়ের জাদুকরী সুফলে মুগ্ধ, তখন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কিন্তু মানুষের সুপেয় পানির পাত্রটি আস্তে আস্তে ফাঁকা হয়ে আসছে। প্রগতির এই আলো কি তবে আমাদের অস্তিত্বের সবচেয়ে মৌলিক উপাদান বিশুদ্ধ পানিকেই নিঃশেষ করে দিচ্ছে? এআইয়ের এই অদৃশ্য পানির তৃষ্ণা এবং মানবজীবনে তার মারাত্মক প্রভাব নিয়ে ভাবার সময় এখনই।একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, কঠিন গাণিতিক বিশ্লেষণ, পেশাদারি লেখালেখি, ছবি ও ভিডিও তৈরি কিংবা জটিল গবেষণার কাজ—সবই এখন হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই করা সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ, গতিশীল ও সমৃদ্ধ করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই অভাবনীয় ডিজিটাল বিপ্লবের পেছনে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য ও গভীর সংকট। আমরা যখন চ্যাটবটের সঙ্গে কথাপোকথন কিংবা কোনো এআই টুল ব্যবহার করি, তখন নেপথ্যে সার্ভার রুমগুলোতে নীরবে বাষ্পীভূত হয়ে শেষ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানি।বাহ্যিকভাবে এআই-কে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বা ভার্চুয়াল জগত মনে হলেও বাস্তবে এর একটি বিশাল ভৌগোলিক ও বস্তুগত অস্তিত্ব রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল ডাটা সেন্টার। এসব ডাটা সেন্টারে হাজার হাজার শক্তিশালী কম্পিউটার প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যখন এআই-কে কোনো নির্দেশ দিই, তখন এই শক্তিশালী প্রসেসরগুলো দ্রুত গতিতে কোটি কোটি হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় চিপগুলো মারাত্মক গরম হয়ে ওঠে। যদি প্রসেসরগুলোকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঠান্ডা রাখা না হয়, তবে পুরো ডাটা সেন্টারের যন্ত্রাংশ পুড়ে অকেজো হয়ে যাবে।এই চরম উত্তাপ থেকে সার্ভারগুলোকে রক্ষা করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো পানির ব্যবহার। বিশেষ কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে পাইপলাইনে বরফশীতল পানি প্রবাহিত করা হয় এবং প্রসেসরের ওপর ঠান্ডা পানির সূক্ষ্ম স্প্রে করা হয়। ডাটা সেন্টারের তীব্র উত্তাপে সেই পানির বড় একটি অংশ বাষ্প হয়ে আকাশে উড়ে যায়, যা আর সরাসরি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এ ছাড়া ডাটা সেন্টারগুলো পরিচালনার জন্য যে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনেও (যেমন: কয়লা, গ্যাস বা হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্টে) পরোক্ষভাবে বিপুল পরিমাণ সুপেয় পানি খরচ হয়।সহজ হিসাব করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ একটি ছোট বার্তা বা প্রম্পট প্রসেস করতে এআই ডাটা সেন্টারে কয়েক মিলিলিটার পানি লাগে। কিন্তু যখন এআই দিয়ে কোনো উচ্চমানের ছবি জেনারেট বা এডিট করা হয় কিংবা কোনো দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রসেস করা হয়, তখন এক একটি কাজের পেছনে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার—অর্থাৎ প্রায় আধা লিটার থেকে এক বোতল বিশুদ্ধ পানি খরচ কিংবা বাষ্পীভূত হয়। শুনতে হয়তো এক বোতল পানি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ যখন হাজার হাজার কোটি প্রম্পট ও ছবি জেনারেট করছে, তখন দৈনিক পানি খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে শতকোটি লিটারে।এই অনিয়ন্ত্রিত পানি ব্যবহারের সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের বাস্তব জীবনে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে আগে থেকেই পানির সংকট রয়েছে বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, সেখানে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ স্থানীয় মানুষের সুপেয় পানি ও কৃষিকাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাটা সেন্টারগুলো আশপাশের নদী, হ্রদ কিংবা ভূগর্ভস্থ অ্যাকুইফার (Aquifer) থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি তুলে নিচ্ছে। ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা খাবার পানি ও টিউবওয়েলে পানি না পাওয়ার সংকটে পড়ছেন, কৃষকদের সেচের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনে মন্দা দেখা দিচ্ছে।ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যারিজোনা ও ওরেগনের মতো খরাপ্রবণ এলাকায় বিশাল ডাটা সেন্টারগুলোর পানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় অধিবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন। ইউরোপের দেশ স্পেনে কয়েক বছরের ভয়াবহ খরার পর কৃষকরা তাদের সেচের পানি রক্ষার দাবিতে টেক কোম্পানিগুলোর ডাটা সেন্টার প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করছেন। উরুগুয়েতে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসখ্যাত সুপেয় পানির সংকট চলাকালে এক টেক জায়ান্ট বিশাল ডাটা সেন্টার করার পরিকল্পনা করলে জনরোষের মুখে তারা পানির বদলে বাতাস দিয়ে ঠান্ডা করার প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে আদালতের রায়ে পানির সুরক্ষার স্বার্থে একটি বড় ডাটা সেন্টারের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এসব ঘটনা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত তৃষ্ণা এখন মানুষের মৌলিক জীবনধারনের সরাসরি মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে।তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, পানির সংকটের কথা চিন্তা করে কি মানুষের এআই বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত? উত্তর হলো, একদমই নয়। প্রযুক্তি বর্জন করা কোনো সমাধান হতে পারে না; সমস্যা প্রযুক্তিতে নয়, সমস্যা সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে। পৃথিবীতে মানুষের ব্যবহারের জন্য যে সুপেয় পানি রয়েছে, তার সিংহভাগ (প্রায় ৭০ শতাংশ) ব্যবহৃত হয় কৃষিকাজে এবং ২০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয় সাধারণ শিল্পকারখানায়। এআই ডাটা সেন্টারের ব্যবহৃত পানি সেই তুলনায় শতাংশের হিসাবে কম হলেও, এটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।তাই এই সংকট সামলাতে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব নেতাদের। কেবল খাওয়ার উপযোগী বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার না করে ডাটা সেন্টারগুলোতে ড্রেনেজ বা কারখানার শোধিত বর্জ্য পানি (Recycled Water) এবং সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রসেসর ঠান্ডা রাখার জন্য বাতাসভিত্তিক এয়ার-কুলিং (Air Cooling) কিংবা ‘ক্লোজড-লুপ ওয়াটার সিস্টেম’ প্রযুক্তি দ্রুত চালু করতে হবে, যেখানে একই পানি বারবার রিসাইকেল করে ব্যবহার করা যায় এবং বাষ্পীভবন শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। টেক জায়ান্টদের ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ওয়াটার পজিটিভ’ বা ব্যবহৃত পানির চেয়ে বেশি পানি প্রাকৃতিক উৎস ও জলাশয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা কঠোরভাবে আইনি তদারকির অধীনে আনতে হবে।একই সাথে সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদেরও কিছুটা দায়িত্বশীল হতে হবে। অনর্থক প্রম্পট দেওয়া, অপ্রয়োজনে বারবার ছবি জেনারেট বা পরিবর্তন করার অভ্যাস এড়িয়ে চলে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য এআই ব্যবহার করা উচিত। ডিজিটাল প্রযুক্তিরও যে একটি পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক মূল্য রয়েছে, তা অনুধাবন করাই হলো সচেতন নাগরিকের লক্ষণ।প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে মানবজাতির অগ্রগতি, কল্যাণ ও সুবিধা বাড়াতে। কিন্তু সেই প্রগতির চাকা চালাতে গিয়ে যদি আমরা মানুষের বেঁচে থাকার মূল উপাদান—বিশুদ্ধ পানিকেই নিঃশেষ করে দিই, তবে সেই উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তীব্র তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচাতে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো স্বাধীন সত্তা নয়, বরং এটি মানুষেরই তৈরি একটি যুগান্তকারী হাতিয়ার। প্রগতির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই প্রযুক্তি যে নিঃশব্দে সুপেয় পানির মতো অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ গ্রাস করছে, তা আজকের বাস্তবতায় অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সংকট প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে নয়, সংকট লুকিয়ে আছে সম্পদ ব্যবস্থাপনার দূরদর্শিতা ও জবাবদিহিতার অভাবে। এক গ্লাস খাবার পানি কিংবা এক একর জমির সেচের পানির বিপরীতে হাজার হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানির বাষ্পীভবন কখনোই কোনো স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষণ হতে পারে না।প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে পরিবেশবান্ধব ও পানি-সাশ্রয়ী কুলিং প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে এবং খরাপ্রবণ এলাকায় পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণ, করপোরেট পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর ডিজিটাল সচেতনতা, এই তিনের মেলবন্ধনেই সমাধান সম্ভব। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, প্রযুক্তির গতি যতই বৃদ্ধি পাক, সুপেয় পানির কোনো বিকল্প বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির প্রতিটি ফোটা রক্ষা করার এখনই সর্বোচ্চ সময়।
ওসমান গানি