শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

রাজশাহী-২ আসন: স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে ডাঃ জাহাঙ্গীরের বড় পরিকল্পনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জনমনে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এলাকায় ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আগামীর লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি রাজশাহীর দীর্ঘদিনের চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। বিশেষ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদ্যমান শয্যা সংকট দূর করতে ১২০০ বেড থেকে ৩ হাজারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।​স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ থাকলেও রোগীর চাপের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। ৩ হাজার রোগী থাকলেও বেড মাত্র ১২০০, ফলে রোগীদের মেঝেতে থাকতে হয়। তিনি নির্বাচিত হলে বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে মানসম্মত ওষুধ ও পথ্য নিশ্চিত করবেন। এছাড়া একটি সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা  এবং ডেন্টাল ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ কলেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।​রাজশাহীর বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিল্ক সিটি’ বা ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ বলা হলেও এখানে কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট। তাই এখানে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প (এগ্রোবেসড ইন্ডাস্ট্রি) গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে কৃষকেরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অনেকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি হাইটেক পার্ককে কার্যকর করে আইটি খাতের উন্নয়ন এবং মৃতপ্রায় বিসিক ও রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা জানান তিনি।​পদ্মা নদী ও সমাজ সংস্কার নিয়ে এই প্রার্থী জানান, পদ্মার পানি পরিকল্পিতভাবে সেচের আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে। এছাড়া নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের সকল কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।​জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্যের পক্ষে। দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে না পারে, সেজন্য আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করছি।” তিনি প্রত্যাশা করেন, গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবার আর ‘ডামি’ নির্বাচন হবে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে।উল্লেখ্য, ​রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।রাজশাহী-২ (মহানগরী) আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে প্রতিষ্ঠিত বড় দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতারা অতীতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং তাদের অনেকেই নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়াকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) আর নেই। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও তার ইন্তেকালের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। দ্রুত তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এ সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এদিকে জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া আরেকটি পোস্টে জানানো হয়, শেরপুর জেলা জামায়াতের সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক রাত ৩টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। পোস্টে তার কিডনিজনিত রোগে ভোগার কথাও উল্লেখ করা হয়।পোস্টে আরও বলা হয়, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং তার শোকাহত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করেন।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুবিতে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যা

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের উদ্যোগে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।‎‎মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।‎‎পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত নিসফি শাবান উৎসবকে চারটি পর্বে ভাগ করে পালন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বাংলার গান, গজল ও নাশীদ পরিবেশনা, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কিয়ামুল লাইল এবং মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তি। ‎‎এছাড়াও গজল ও নাশীদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সবশেষে হালুয়া রুটি বিতরণের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সমাপ্ত করা হয়, এবং নিসফি শাবান বা শবে বরাতের রাত উপলক্ষে সবাইকে আজ রাত আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করার আহ্বান জানানো হয়।‎‎কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, 'এই রাতে বাংলার ঘরে ঘরে আলো জ্বলে ওঠে, হালুয়া–রুটির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ মানুষকে ডাকে, ক্ষমা চায় ও ক্ষমা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক সময় নিসফি শাবানকে কেবল মাসআলার কঠোর তুলাদণ্ডে বিচার করতে গিয়ে এর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক আবেদন উপেক্ষা করে বসি। অথচ প্রশ্ন হলো যে সংস্কৃতি মানুষকে আল্লাহমুখী করে, যে উৎসব মানুষকে তওবার পথে ফেরায় এবং যে রাত অহংকার ভেঙে মানুষকে নরম করে, তা কি অস্বীকার করার মতো বিষয় হতে পারে? সংস্কৃতি তখনই মূল্যহীন হয়ে পড়ে, যখন তা মানুষকে গাফেল করে তোলে।'‎‎তিনি আরও বলেন, 'সংস্কৃতি তখনই জীবন্ত থাকে, যখন তা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফেরায়। আমরা যদি নিসফি শাবানকে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য, উৎসব ও আবহমান সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সংযম, শালীনতা এবং ইসলামের মূলনীতির আলোকে বরণ করতে পারি, তাহলে এই রাত আবার আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্ত ভিত্তিতে পরিণত হবে। আজকের এই নাশীদ সন্ধ্যার উদ্দেশ্য সেটিই নিজেদের শিকড়ে ফিরে যাওয়া এবং নিজেদের সংস্কৃতিকে ইসলামের সৌন্দর্যে আলোকিত করা। সবশেষে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আয়োজন করা এই নাশীদ সন্ধ্যা ও নিসফি শাবান কেন্দ্রিক কার্যক্রম যেন তিনি কবুল করেন, আমিন।'
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে রাজশাহীতে হ্যাঁ ভোটের ক্যাম্পিং

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে রাজশাহীতে হ্যাঁ ভোটের ক্যাম্পিং

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণে আজ বিকেল ৪টায় রাজশাহীর সিএনবি স্মৃতি স্তম্ভের সামনে থেকে লক্ষীপুর মোড় পর্যন্ত “হ্যাঁ ভোটের ক্যাম্পিং” কার্যক্রম হয়েছে।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাদ রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিবসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু এবং নাটোর জেলা আহ্বায়ক শিশির আহমেদ সিরাজগঞ্জ জেলা আহবায়ক সহ রাজশাহী বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ।এই ক্যাম্পিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণের মাঝে হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এর আগেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। তবে সে সময় এটি ছিল প্রথাগত পোস্টাল ভোট পদ্ধতির আওতায়।নিজ নির্বাচনী এলাকা পাবনায় গিয়ে ভোট না দেওয়ার ব্যাখ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তখন বলেছিলেন, বঙ্গভবন থেকে সরাসরি এলাকায় গেলে নিরাপত্তাজনিত কারণে শুধু ভোটকেন্দ্র নয়, পুরো পাবনা জেলাতেই একটি প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ব্যবস্থায় অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও এই পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় ভোট দিতে এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সিসিলির নিসেমি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। কয়েক দিন আগে অঞ্চলটিতে সাইক্লোন হ্যারির প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে পাহাড়ি ঢালের মাটি নরম হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য বাইরে থেকে দেখলে নান্দনিক মনে হলেও বাস্তবে তা স্থানীয়দের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটি ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দিশেহারা এসব মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগেও এমন একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল, যার স্মৃতি আজও তাদের মনে তাজা।স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের প্রধান ফাবিও চিসিলিয়ানো জানান, ভূমিধস এখনো থেমে যায়নি। তিনি বলেন, “আমি নিজে মোবাইল ফোনে ভূমিধসের দৃশ্য ধারণ করেছি। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হচ্ছে।”চলমান ঝুঁকি ও সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিসিলির পাশাপাশি সার্দিনিয়া ও কালাব্রিয়া অঞ্চলেও জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইতালির মেলোনি সরকার।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুবিতে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যা

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুবিতে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যা

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের উদ্যোগে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।‎‎মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।‎‎পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত নিসফি শাবান উৎসবকে চারটি পর্বে ভাগ করে পালন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বাংলার গান, গজল ও নাশীদ পরিবেশনা, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কিয়ামুল লাইল এবং মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তি। ‎‎এছাড়াও গজল ও নাশীদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সবশেষে হালুয়া রুটি বিতরণের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সমাপ্ত করা হয়, এবং নিসফি শাবান বা শবে বরাতের রাত উপলক্ষে সবাইকে আজ রাত আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করার আহ্বান জানানো হয়।‎‎কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, 'এই রাতে বাংলার ঘরে ঘরে আলো জ্বলে ওঠে, হালুয়া–রুটির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ মানুষকে ডাকে, ক্ষমা চায় ও ক্ষমা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক সময় নিসফি শাবানকে কেবল মাসআলার কঠোর তুলাদণ্ডে বিচার করতে গিয়ে এর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক আবেদন উপেক্ষা করে বসি। অথচ প্রশ্ন হলো যে সংস্কৃতি মানুষকে আল্লাহমুখী করে, যে উৎসব মানুষকে তওবার পথে ফেরায় এবং যে রাত অহংকার ভেঙে মানুষকে নরম করে, তা কি অস্বীকার করার মতো বিষয় হতে পারে? সংস্কৃতি তখনই মূল্যহীন হয়ে পড়ে, যখন তা মানুষকে গাফেল করে তোলে।'‎‎তিনি আরও বলেন, 'সংস্কৃতি তখনই জীবন্ত থাকে, যখন তা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফেরায়। আমরা যদি নিসফি শাবানকে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য, উৎসব ও আবহমান সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সংযম, শালীনতা এবং ইসলামের মূলনীতির আলোকে বরণ করতে পারি, তাহলে এই রাত আবার আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্ত ভিত্তিতে পরিণত হবে। আজকের এই নাশীদ সন্ধ্যার উদ্দেশ্য সেটিই নিজেদের শিকড়ে ফিরে যাওয়া এবং নিজেদের সংস্কৃতিকে ইসলামের সৌন্দর্যে আলোকিত করা। সবশেষে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আয়োজন করা এই নাশীদ সন্ধ্যা ও নিসফি শাবান কেন্দ্রিক কার্যক্রম যেন তিনি কবুল করেন, আমিন।'
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

দুর্নীতিমুক্ত দেশের প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী শাহাজাহান মিয়ার

দুর্নীতিমুক্ত দেশের প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী শাহাজাহান মিয়ার

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর–৩ আসনের ১১ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহাজাহান মিয়া বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হাইমচর উপজেলায় দিনব্যাপী নির্বাচনী গণসংযোগ ও সমাবেশে অংশ নেন।সকালে তিনি উপজেলার কয়েকটি ওয়ার্ডে পৃথক পৃথক সমাবেশে বক্তব্য দেন। পরে বেলা ১২টার দিকে তেলিরমোড় এলাকায় একটি "মহিলা সমাবেশে" অংশগ্রহণ করেন। এরপর তেলিরমোড় বাজারে গণসংযোগ চালিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের কাছে দোয়া ও ভোট প্রত্যাশা করেন।বেলা ২টার দিকে তিনি কাটাখালি বাজারে একটি "নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন" করেন। উদ্বোধন শেষে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।পরে বিকাল ৩টার দিকে তিনি "২ নং উত্তর আলগী ইউনিয়নে" এক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শাহাজাহান মিয়া বলেন,“জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই জোটে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা সবাই পরীক্ষিত, তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ঋণখেলাপির অভিযোগ নেই। অন্য দিকে দেখা যায় অন্য দলের বন্ধুরা নমিনেশন দিয়েছে সেখানে ৪৬ জন ঋণ খেলাপি পাওয়া গেছে। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের আমানত নিয়ে খেয়ানত করে ব্যাংকের টাকা লুট করে ঋণ খেলাপির তালিকায় আছে তারা কি জনগণের সেবা করবে "তারা যদি সুযোগ পায় দেশের মাটিসহ বিক্রি করে ফেলবে" নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের মা বোনদের হেনস্তা করেছে কাপড় খুলেছে যারা নির্বাচন উপলক্ষে এ অপরাধ করতে পারে তারা যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে জাতির কাপড কারো পরনে থাকবে না "আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন,“আমরা চাই ঈদের আনন্দের মতো একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যিনি বিজয়ী হবেন তাকে ফুলের মালা দেব, আর যিনি পরাজিত হবেন তার পরামর্শ নিয়েই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করব।”এ সময় উপজেলা জামায়াতের সভাপতি, সেক্রেটারি, বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।সমাবেশ শেষে আসরের নামাজের পর তিনি "আলগী বাজারে গণসংযোগ" করেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া ও ভোট কামনা করেন।মাগরিব নামাজের পর তিনি "হাইমচর থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের" সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত সেক্রেটারি নিহত

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত সেক্রেটারি নিহত

৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

পদত্যাগ করলেন বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম

পদত্যাগ করলেন বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম স্বেচ্ছায় তার সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনাল চলাকালীন সময় দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন শামীম।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বিসিবির পরিচালক পদসহ অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। ফিক্সিংয়ের অভিযোগের একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।ফেসবুক পোস্টে মোখলেছুর রহমান শামীম লেখেন, সাম্প্রতিক অভিযোগের কারণে দায়িত্বে থাকা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন কোনো পরিস্থিতি তিনি চান না। তাই নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, যা কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়। বরং দেশের ক্রিকেট ও বোর্ডের মর্যাদা রক্ষার অংশ হিসেবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্তটি কষ্টের হলেও দেশের ক্রিকেটের সুনাম তার কাছে সর্বাগ্রে। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন বিশ্বাস তার রয়েছে এবং তিনি সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে ছিলেন ও থাকবেন।এর আগে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিম প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে মোখলেছুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়। ওই ভিডিওতে একাধিক কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়, যেখানে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার আলামত রয়েছে বলে দাবি করা হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বিপিএলের সিলেট পর্বে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একটি ম্যাচে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে শামীম জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেটের নূরজাহান হোটেলে ফিক্সিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একত্র করা হতো এবং পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয় সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো। এ সংক্রান্ত আগাম অর্থ পরিশোধের কল রেকর্ডও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান ওই সাংবাদিক।নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৌহিদ হোসেন ও ইমরান হাসানের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিসিবির নির্দেশে তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগে বলা হয়, এরপরও অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।উল্লেখ্য, সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরিচালক হন মোখলেছুর রহমান শামীম। পরে তাকে বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস লিগ পর্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

কালের সাক্ষী চান্দিনার ‘তিন গম্বুজ’ মসজিদ: যেন চুন-সুরকিতে আঁকা জীবন্ত ইতিহাস

কালের সাক্ষী চান্দিনার ‘তিন গম্বুজ’ মসজিদ: যেন চুন-সুরকিতে আঁকা জীবন্ত ইতিহাস

চান্দিনার নিভৃত পল্লী মেহার গ্রাম। সেখানে মেঠো পথের ধারে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন, নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ। চুন-সুরকি আর চীনামাটির কারুকাজে ঘেরা তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে এক শতাব্দী ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।গত শতাব্দীর শুরুর দিকের কথা। ১৯২৫ সালে যখন জমিদারি প্রথার প্রতাপ তুঙ্গে, তখন মেহার গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও ধর্মপ্রাণ দানবীর হাজি নজর মামুদ এই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মক্কা শরিফ থেকে পায়ে হেঁটে হজ করে আসা এই মনীষীর মনে ইচ্ছে জাগে এলাকার মানুষের জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ গড়ার। তবে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহের অনুমতি ছাড়া এমন বড় কাজ করা ছিল দুরূহ। ইতিহাসের পাতা উল্টে জানা যায়, মহিচাইলের প্রভাবশালী সেই হিন্দু জমিদার কেবল অনুমতিই দেননি, বরং তিনি নিজে হাতিতে চড়ে এসে রাজকীয় ঢঙে মসজিদের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছিলেন। ভৈরব চন্দ্র সিংহের সেই মহানুভবতা এবং হাজি নজর মামুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠে এই নান্দনিক স্থাপত্য। আজও স্থানীয় প্রবীণদের মুখে জমিদার ও হাজি সাহেবের সেই সৌহার্দ্যের গল্প শোনা যায়।মসজিদটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব এর অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং বৈচিত্র্যময় কারুকাজ। তিন ফুট পুরু দেয়ালগুলো সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছে চুন-সুরকি দিয়ে, যার ফলে বাইরের আবহাওয়া যাই হোক না কেন, মসজিদের ভেতরটা থাকে এক বিস্ময়কর তাপমাত্রায়। বিজ্ঞানের কোনো আধুনিক যন্ত্র ছাড়াই এক জাদুকরী উপায়ে তীব্র শীতে মসজিদের অভ্যন্তরে যেমন ওম বা উষ্ণ অনুভূতি পাওয়া যায়, তেমনি গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে ভেতরে বিরাজ করে শীতল প্রশান্তি। মসজিদের দেয়ালজুড়ে নিখুঁতভাবে বসানো হয়েছে চীনামাটির ভাঙা প্লেটের বর্ণিল টুকরো, যা সূর্যের আলোয় ঝিলমিল করে এক অপার্থিব সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়। ভেতরের মিম্বারটিতেও রয়েছে কারিগরের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়া, যা একপলক দেখলে চোখ ফেরানো দায়।মসজিদের দেয়ালে খোদাই করা ১৯২৫ সাল এবং বাংলা ১৩৩১ সনের স্মৃতি আজও অমলিন। শুধু মসজিদ নির্মাণ করেই হাজি নজর মামুদ ক্ষান্ত হননি, মুসল্লিদের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা ভেবে তিনি ছিলেন সুদূরপ্রসারী। মসজিদের সামনে মুসল্লিদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আলোচনার জন্য রেখেছেন প্রশস্ত বসার স্থান। দক্ষিণ পাশে মুসল্লিদের অজু ও গোসলের জন্য ১২০ শতক জায়গাজুড়ে খনন করেছেন সুবিশাল এক পুকুর, যার পাকা ঘাট আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। মসজিদের ব্যয়ভার মেটানো, ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি এবং প্রতি বছর পবিত্র শবে কদরের রাতে মুসল্লিদের বিশেষ আপ্যায়নের জন্য তিনি মোট ২৬৪ শতক জমি ওয়াক্ফ করে গেছেন।সরকারি নথিপত্র বা ওয়েবসাইটে মসজিদটির নাম নিয়ে সামান্য ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কোথাও এটি মেহার মধ্যপাড়া হাজী বাড়ি জামে মসজিদ, আবার কোথাও মেহার রমিজ হাজী বাড়ির জামে মসজিদ নামে পরিচিত। তবে ইতিহাসের সত্যতা আর শেকড়ের সন্ধানে গেলে এর প্রকৃত নাম ‘নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ’ হিসেবেই উদ্ভাসিত হয়। কালের বিবর্তনে অনেক আধুনিক দালানকোঠা নির্মিত হলেও চুন-সুরকির এই প্রাচীন স্থাপনাটির মোহনীয়তা এতটুকু কমেনি। এটি কেবল চান্দিনা নয়, বরং পুরো কুমিল্লার গর্ব হিসেবে মোগল ও ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতির এক মেলবন্ধন হয়ে টিকে আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।  
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ