মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাতিয়ায় শেরআলীর ত্রাসের রাজত্ব, চাঁদাবাজির অভিযোগ

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এক নতুন চাঁদাবাজ চক্র। এমনই অভিযোগ উঠেছে নিজেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতার অনুসারী দাবি করা আকবর হোসেন শেরআলীর বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে, শেরআলীর এসব কর্মকাণ্ডে নেপথ্যে রয়েছেন একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন। তাদের প্রভাবেই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় তেমন প্রভাব না থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে শেরআলী এখন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।গতকাল সোনাদিয়া ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী নারী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন শেরআলী টিউবওয়েল দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩৭ হাজার টাকা নিয়েছে। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর পর থেকে তার অপকর্ম গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।পরবর্তীতে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে ভুক্তভোগী ওই নারীকে হুমকি দমকি দিয়ে শেরআলী নিজেই জবানবন্দি নেয় বলে অভিযোগ করেছেন নারীটি।ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে রেহাই, কিংবা সামাজিক শালিশের নামে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে সোনাদিয়া ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, আজগর মেস্তরি: ৪০ হাজার টাকা, মাঈন উদ্দীন: ৩৫ হাজার টাকা, এক হাবিলদারের ছেলে: ৩০ হাজার টাকা, সাহাবুদ্দিন হুজুর: ৩০ হাজার টাকা, রিয়াজের মা: ২০ হাজার টাকা,প্রবাসী ওসমান গনি: ২০ হাজার টাকা ছাড়াও প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষ থেকে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ডিলারশিপের নামে প্রতারণার অভিযোগ, হাতিয়া সোনাদিয়া ইউনিয়নের সেন্টার বাজারের ব্যবসায়ী জামসেদের কাছ থেকে ১৫ টাকা দামের চালের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিলারশিপ না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে যদি নতুন করে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরো বলেন, কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি চাউল বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে শেরআলীর বিরুদ্ধে।সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাড জাল করে সরকারি স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ৬৫ জনের তালিকা তৈরির অভিযোগও উঠেছে শেরআলীর বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম মোল্লা ও  সচিব ভুষন চন্দ দে এর  নজরে এলে তা বন্ধ হয়ে যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, সরকারি টিউবওয়েল, বিদ্যুতের খুঁটি, স্যানিটারি সুবিধা দিবে বলে টাকা নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে এখন হুমকি দেয়, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহ নেওয়াজকে দিয়ে মামলা দিবে এসব বলেও হুমকি দমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের মাধ্যমে তার বিচার চাই। সেন্টার বাজারের ব্যবসায়ী জামসেদ বলেন, ১৫ টাকা দামের চালের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা নেয় শের আলী, পরে  ডিলারশিপ দেয়নি টাকাও ফেরত দেয়নি! টাকা ফেরত চাইলে আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়। পরবর্তীতে শালিসী বৈঠকে অর্ধেক টাকা দিতে বাধ্য হলেও বাকি অর্ধেক টাকা এখনো পরিষোধ করেনি!সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ভুষন চন্দ্র জানান, একটি সন্দেহজনক তালিকা আমাদের কাছে স্বাক্ষরের জন্য আসে। যাচাই করে আমরা সেটি বাতিল করি। ইউনিয়ন পরিষদের প্যাড ব্যবহারের বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম মোল্লা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যাড জালিয়াতি করে আইন ভঙ্গ করেছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২৬ এপ্রিল ২০২৬

চান্দিনার মাঠজুড়ে সোনালী স্বপ্নের হাতছানি: ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তা।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে এখন সোনালী স্বপ্নের হাতছানি। দিগন্তজোড়া ফসলের ক্ষেত দেখে মনে হচ্ছে যেন কেউ সবুজ গালিচায় সোনালী আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। চান্দিনা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন ধানের শিষগুলো বাতাসে দুলছে। অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো সার ও সেচ সুবিধার কারণে এবার প্রতিটি ক্ষেতেই ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকের চোখে-মুখে এখন একরাশ তৃপ্তি। সারাবছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর ধানের এই প্রাচুর্য তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কিন্তু এই হাসির আড়ালে এখন চিন্তার ভাঁজও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।চান্দিনা উপজেলার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং কৃষিবান্ধব। এখানকার কৃষকরা মূলত ধান চাষের ওপরই নির্ভরশীল। এখানকার মাটি এবং জলবায়ু ধান উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় ঐতিহাসিকভাবেই কৃষকরা ধান চাষে অভ্যস্ত। তবে বর্তমানে মাঠভরা সোনালী ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এক তীব্র সংকটের মুখে পড়েছেন তারা। ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব এখন কৃষকদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতেই ধান পেকেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে। কিন্তু মাঠের ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় কামলা বা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।গ্রামবাংলার চিরচেনা এই সময়ে ধান কাটার ধুম পড়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে যেন কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। কৃষকরা বলছেন, মাঠে ফসল থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস এবং আকাশের মেঘাচ্ছন্ন রূপ কৃষকদের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যেকোনো সময় কালবৈশাখী বা অসময়ের বৃষ্টি হানা দিতে পারে। প্রকৃতির এই অনিশ্চয়তার হাত থেকে কষ্টের ফসল রক্ষা করতে কৃষকরা এখন মরিয়া। দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারলে যে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তা তাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।যদি সময়মতো পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যেত, তবে এই ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হতো। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং গ্রামে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক কৃষক নিজেরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন, কিন্তু বিশাল মাঠের ধান একা হাতে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহযোগিতা এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা। কম্বাইন হারভেস্টার বা ধান কাটার যন্ত্রের ব্যবহার এক্ষেত্রে বড় সমাধান হতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত যন্ত্রের অভাবে সাধারণ কৃষকরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।চান্দিনার কৃষকরা জানান, তারা কেবল নিজেরা কঠোর পরিশ্রম করতে অভ্যস্ত নন, বরং তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বড় একটি অংশীদার। কিন্তু মৌসুমি ধান কাটার সময় যদি শ্রমিক সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকে। তাই ধান পাকার এই মুহূর্তে শ্রমিক সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষকের চোখের এই সোনালী স্বপ্ন যেন প্রকৃতির দুর্যোগে ঝরে না পড়ে, সেই প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর। মাঠভরা ফসল যেন হাসি মুখে কৃষকের গোলায় ওঠে, এটিই এখনকার প্রধান দাবি। অকাল দুর্যোগের আগেই ধান ঘরে তোলার জন্য কৃষকরা এখন প্রহর গুনছেন এবং আকাশের পানে তাকিয়ে দোয়া করছেন, যেন প্রকৃতি অন্তত কয়েকটা দিন তাদের সহায় হয়। উর্বর মাটি আর পরিশ্রমী কৃষকের এই জনপদে বোরো মৌসুমের সাফল্য যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেদিকেই সবার দৃষ্টি।
২৬ এপ্রিল ২০২৬

জাটকা ধরা থেকে বিরত সাড়ে ৮ হাজার জেলের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা

ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বিগত বছরগুলোতে ৪ মাস ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল খাদ্য সহায়াত (বিজিএফ) দিয়ে আসছিলো সরকার। তবে এবার চালের পাশাপাশি চাঁদপুরের জাটকা প্রবণ এলাকার সাড়ে ৮ হাজার জেলের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার।শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।তিনি বলেন, জেলার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৪ মাস ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ হয় ৩৯ হাজার ৪০০ জেলের জন্য। ইতোমধ্যে প্রথম দুই মাসের কিস্তি দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তিতে সদর উপজেলায় বিতরণ শুরু হয়েছে।তিনি আরো বলেন, পদ্মা-মেঘনার জাটকা প্রবণ এলাকার জেলেদের জন্য এবার বিশেষ বরাদ্দ এসেছে। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থপনা প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার জেলেকে চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ এসেছে। এপ্রিল মাসের মধ্যে এসব খাদ্য সহায়তা জেলেদের হাতে পৌঁছাবে।বিশেষ এই খাদ্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে-১০ লিটার সয়াবিন, ১২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবন ও ৮ কেজি মসুর ডাল।জেলার মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেরা গত কয়েকবছর দাবী করে আসছিলো এক মাসে ৪০ কেজি চাল দিয়ে তাদের সংসার চলে না। যার ফলে সরকার তাদের এই দাবি বিবেচনা করে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা প্রকৃত জেলেদের জন্য এই বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করে।
২৫ এপ্রিল ২০২৬
নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১, আহত ৮

নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১, আহত ৮

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামে এক যুবদল কর্মি গুলিবিদ্ধ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮জন আহত হয়।সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামের বাহারের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধ শাকিল উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির আলমগীরের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। অপর দিকে আহতরা হলেন, মো.আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯) তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে মাহফুজুর রহমান (২২) মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৮) আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছয়ানীয় ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মি মাসুদের ছেলে ইমন (১৯) আরেক বিএনপি কর্মি মাহফুজকে মারধর করে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ইমন ছয়ানী বাজারে নব গঠিত কৃষকদলের আনন্দ মিছিলে যাচ্ছিলো। ওই সময় মাহফুজ নিরবকে পেয়ে মারধর করে। মিছিল শেষে বিকেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন দলীয় লোকজন নিয়ে তাহেরপুর এলাকায় যান। একপর্যায়ে সেখানে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংষর্ঘ বেধে যায়। এতে দুই পক্ষের ৮জন আহত হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মাহফুজ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার বাবা মহর আলী জামায়াত করে। মাহফুজদের বাড়ির অধিকাংশ লোক জামায়াত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপির নেতাকর্মিরা রাত সোয়া ৯টার দিকে মাহফুজের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে যুবদল কর্মি শাকিল পাটেয়ারির বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হন ও আলাউদ্দিনের মাথা ফেটে যায়। তখন মহর আলীর ৬ অনুসারীও আহত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা শাকিল উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো.আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে মহর আলীসহ তার লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। ওই সময় স্থানীয় রাকিব নামে এক যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।জানতে চাইলে রাকিব বলেন, তিনি পেশায় একজন পিকআপ ভ্যান চালক। তিনি কাউকে গুলি করেননি। অভিযোগটি ডাহা মিথ্যা। বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের গুলি মিস ফায়ার হলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। তখন রাজু মেম্বারকেও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়।ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানে জামায়াত বিএনপির কোন সংঘর্ষ হয়নি। জামায়াতের লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করেছে। আমাদের দলীয় কোন কোন্দলের কোনো বিষয় নেই এখানে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা বিএনপি-বিএনপি করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মিরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের দলের কোন লোক এই হামলার সাথে জড়িত নেই।বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ মিনিট আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মামলা প্রত্যাহার হওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর-এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে?উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামলার শিকার হয়েছেন, ২০ বছর আগে কবরে গেছেন এমন মানুষ মামলার শিকার হয়েছেন, দুই হাত পঙ্গু তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তিনি ঢাকা শহরে ময়লার ট্রাকে বোমা মেরেছে। এসব মামলার ধরন আমরা জানি। তিনি আরও বলেন, যেসব মামলা হয়েছে প্রত্যাহার হয়েছে তার সার্টিফাইড কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে দরখাস্ত করার অনুরোধ করব। আর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে অনুরোধ করব যেসব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট জটিলতা যাতে অতি দ্রুত নিষ্পন্ন করেন। এর বাইরে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না।
০১ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি খুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি খুন

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে একের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী।নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জামাল উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জের আবু নাসের শামীম।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের বারাকওয়ানে এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের শামীম (বারা শামীম)। নিহত আবু নাসের শামীমের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।স্থানীয় প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফোর্ডসবার্গ থেকে বাজার করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছান শামীম। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা এক আততায়ী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।প্রবাসীরা জানান, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।এদিকে এই ঘটনার দুই দিন আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে জোহানেসবার্গের পামরিজ এলাকায় দোকান লুটের সময় ডাকাতের গুলিতে নিহত হন জামাল উদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশিপুর গ্রামে।স্থানীয় সূত্র জানায়, একদল ডাকাত তার দোকানের কন্টেইনার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় নগদ টাকা ও মালামাল লুটের সময় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরপর দুটি ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এখন নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।এই দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। এই শোকাবহ মুহূর্তে আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ বাস মালিকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জব্দ করা একটি বাস হস্তান্তর করেছে। তবে এ ব্যাপারে জানেন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শাহিনুল ইসলাম গালিবের কাছে টাকা স্থানান্তর করে বলে জানান বাস মালিক পক্ষ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ জাকির পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ কোম্পানির একটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুক্তভোগী এবং বাস মালিকের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি।এরপর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মু. আবুল বাশার বাধা দেন।তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়ে ক্যাম্পাসে বাস নিয়ে এসেছে এবং প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেই ঘটনা সমাধান করার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। শিক্ষার্থীরা কেন এখানে সমঝোতা করে টাকা নেবে? আর প্রক্টরিয়াল বডি সমাধান না করে কেন শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ করে দিয়েছে, সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়।'প্রক্টরিয়াল বডির ভাষ্যমতে, তারা কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লেনদেনের অনুমতি দেয়নি এবং কারা এ লেনদেন করেছে, সে বিষয়েও তারা অবগত নয়।এ বিষয়ে শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, 'আমার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী আল-আরাফাহ বাসের এক কর্মচারীর হাতে মারধরের শিকার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি বাস নিয়ে আসি। এরপর প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাস মালিকপক্ষ আমাদের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলে।'তিনি আরও বলেন, 'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোঃ জাকির বলেন, 'গত ৯ তারিখ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছে বাসের এক কর্মচারী। এতে আমি আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাস মালিকপক্ষ আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে।'ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস হস্তান্তরের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশানকে এখনো জানানো হয়নি, তবে আমরা তাদেরকে জানাবো।”প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, ' গত সপ্তাহে আমরা বাস মালিকপক্ষের সাথে বসে বিষয়টা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় সেদিন সমাধান হয়নি। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু টাকা-পয়সা নিয়ে সমঝোতার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।'এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলে বাস নিয়ে আসেনি। তারা বাস আনার পাঁচ দিন পর আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর আমরা বাস মালিকপক্ষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু সেদিন প্রধান অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।'টাকা নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, 'টাকা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সেদিন হয়নি। এখন কেউ যদি টাকা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে, এমন অভিযোগ পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
২৫ এপ্রিল ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১, আহত ৮

নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১, আহত ৮

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামে এক যুবদল কর্মি গুলিবিদ্ধ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮জন আহত হয়।সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামের বাহারের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধ শাকিল উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির আলমগীরের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। অপর দিকে আহতরা হলেন, মো.আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯) তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে মাহফুজুর রহমান (২২) মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৮) আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছয়ানীয় ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মি মাসুদের ছেলে ইমন (১৯) আরেক বিএনপি কর্মি মাহফুজকে মারধর করে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ইমন ছয়ানী বাজারে নব গঠিত কৃষকদলের আনন্দ মিছিলে যাচ্ছিলো। ওই সময় মাহফুজ নিরবকে পেয়ে মারধর করে। মিছিল শেষে বিকেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন দলীয় লোকজন নিয়ে তাহেরপুর এলাকায় যান। একপর্যায়ে সেখানে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংষর্ঘ বেধে যায়। এতে দুই পক্ষের ৮জন আহত হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মাহফুজ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার বাবা মহর আলী জামায়াত করে। মাহফুজদের বাড়ির অধিকাংশ লোক জামায়াত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপির নেতাকর্মিরা রাত সোয়া ৯টার দিকে মাহফুজের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে যুবদল কর্মি শাকিল পাটেয়ারির বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হন ও আলাউদ্দিনের মাথা ফেটে যায়। তখন মহর আলীর ৬ অনুসারীও আহত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা শাকিল উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো.আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে মহর আলীসহ তার লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। ওই সময় স্থানীয় রাকিব নামে এক যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।জানতে চাইলে রাকিব বলেন, তিনি পেশায় একজন পিকআপ ভ্যান চালক। তিনি কাউকে গুলি করেননি। অভিযোগটি ডাহা মিথ্যা। বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের গুলি মিস ফায়ার হলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। তখন রাজু মেম্বারকেও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়।ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানে জামায়াত বিএনপির কোন সংঘর্ষ হয়নি। জামায়াতের লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করেছে। আমাদের দলীয় কোন কোন্দলের কোনো বিষয় নেই এখানে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা বিএনপি-বিএনপি করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মিরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের দলের কোন লোক এই হামলার সাথে জড়িত নেই।বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র