শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাইমচরের জন্য শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ইপিজেড হাইমচরেই বাস্তবায়নের দাবি

চাঁদপুরের হাইমচরের জন্য প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইমচরবাসী। স্থানীয়দের দাবি, হাইমচরের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি হাইমচরেই বাস্তবায়ন করতে হবে।জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাইমচরে বাংলাদেশ স্কাউটসের ৬ষ্ঠ জাতীয় কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি বলেন, হেলিকপ্টারে করে আসার পথে হাইমচরের বিস্তীর্ণ এলাকা তার পছন্দ হয়েছে এবং এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র ও নৌ-ভ্রমণের জন্য বিশেষ স্পট তৈরির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র, নদী বাঁধ, শিল্পাঞ্চল, থানা ও হাসপাতাল নির্মাণের কথাও বলা হয়েছিল। স্থানীয়দের মতে, এসব বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন অবহেলিত ও দুর্গম হাইমচরের সার্বিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।হাইমচরের মধ্যচর এলাকার ভূখণ্ড মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের জীবনমান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।তবে সম্প্রতি প্রস্তাবিত প্রকল্পটি হাইমচর থেকে সরিয়ে চাঁদপুর সদরে নেওয়ার পরিকল্পনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী ১৬ মে চাঁদপুর সফরকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন। কিছুদিন আগে চাঁদপুর_০৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এক সাক্ষাৎকারে জানান- ইপিজেড টি চাঁদপুর সদর হলে ভালো হবে এতে আশে-পাশের জেলার জন্য ও ভালো হবে।এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাইমচরের ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে “হাইমচরের প্রকল্প হাইমচরেই চাই” শিরোনামে নানা প্রচারণা ও প্রতিবাদ চলছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইমচর বারবার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই হাইমচরের জন্য প্রস্তাবিত এই প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে না নিয়ে এখানেই বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, হাইমচরের মতো দুর্গম অঞ্চলে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
১৫ ঘন্টা আগে

হাইমচরে ৪ হাজার জেলের মাঝে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

চাঁদপুরের হাইমচরে ২০২৫–২০২৬ অর্থ বছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় অবায়াশ্রম এলাকার জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেছে হাইমচর উপজেলা পরিষদ।জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে কর্মহীন হয়ে পড়া নদীনির্ভর জেলেদের সহায়তায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায়,উপজেলা মৎস্য কর্মকতা ও নৌ অফিসার এ সময় প্রত্যেক জেলেদের মাঝে,১২ কেজি আটা, ৮ কেজি মসুর ডাল, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবন, ১৬ কেজি আলু, ও ১০ লিটার সয়াবিন তেল বিতরণ করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বলেন- মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের জন্য নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। “অবায়াশ্রম এলাকার জেলেরা সবাই ইলিশ মাছের উপর নির্ভরশীল।এ দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধ থাকায় তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় অধিকাংশ জেলে পরিবার আয়ের সংকটে পড়ে। তাদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, ২০২৫–২০২৬ অর্থ বছরে হাইমচরে মোট ৪ হাজার জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলায় নিবন্ধিত মোট জেলের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার ৩০৩ জন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকল্প সহায়তা আরো আসবে বলেও জানান তিনি।খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলেরা। এক জেলে বলেন, “এত বছর কোনো পুনর্বাসন পাই নাই, এই বছর পাইছি।” আরেক জেলে বলেন, “এই সহায়তায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। সরকার যেন ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালু রাখে।” স্থানীয় জেলেরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি জেলেকে এ সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানান।
১৮ ঘন্টা আগে

হঠাৎ আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আইনজীবীর কালো গাউন পরে সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর শুরু হওয়া ভোট পরবর্তী সহিংসতার একটি মামলায় সওয়াল করতে তিনি আদালতে হাজির হন।তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিজে লড়ছেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচারপতির কাছে জরুরি সুরক্ষা প্রার্থনা করেছেন।শুনানির শুরুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে এটিই তার প্রথম উপস্থিতি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সহিংসতার হাত থেকে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তিনি আদালতে ১০ জন নিহত ব্যক্তির একটি তালিকা জমা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে ৬ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া তিনি একটি তফশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ৯২ বছর বয়সী বিধবার ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২ বছরের কিশোরীদেরও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কি ঘুমিয়ে আছে কি না। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়’।  মাছের বাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধ প্রতিরোধ না করে উল্টো এফআইআর নিতে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বোমাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আদালতে হাজিরা প্রমাণ করে যে তিনি বিপদের সময় বাংলার মানুষকে ছেড়ে যান না। প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সাহস ও সংকল্পের সঙ্গে লড়াই করছেন।  অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করা বিজেপির পক্ষ থেকে এই সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যার মতো ঘটনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের নির্দেশনার দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারাদেশ।
১৮ ঘন্টা আগে
ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি

ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি

ফেনীতে বিএনপির জন্য অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে উঠেছে যুবদলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। দলীয় কমিটিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংশ্লিষ্টদের স্থান দেওয়া, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বের অভিযোগ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রত ও ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌরসভা যুবদলের সভাপতি একেএম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। অভিযোগ ওঠে, এসব কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়েছে।সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় ২০১৭ সালের ৩ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি এনামুল হক সুজনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে ওই ওয়ার্ড কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে একের পর এক ইউনিটে পদত্যাগ শুরু হলে চাপের মুখে পৌর কমিটি বিলুপ্ত এবং আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও জেলা যুবদল সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে, এনামুল হক সুজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত নন।পরবর্তীতে ৪ মে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে ফেনী জেলা যুবদলের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।দলের অভ্যন্তরে অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। যুবলীগের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত রাকিবকে ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি, ছাত্র হত্যা মামলার আসামি নাদিমকে পদ দেওয়া এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য রিপুকে আহ্বায়কের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে কমিটিতে রাখা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। একইভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পদ দেওয়ার অভিযোগে সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।।যুবলীগের সন্ত্রাসী মহিপালের ছাত্র-জনতা গণহত্যা মামলার আসামি নাহিয়ান চৌধুরীর ভাই শরীফ মাহমুদ চৌধুরী তাসরীপকে ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নাহিয়ান ৮টি হত্যাসহ ১৬ মামলায় এক বছর কারাগারে আটক। ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান রুমন দায়িত্ব পান ওই ওয়ার্ডের যুবদলের সহ-সভাপতির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রাজনীতিতে এসে সরাসরি ১০নং ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি হন জিসান। এসব কারণে ত্যাগী নেতারা বলছেন ফেনী জেলা যুবদল হয়ে উঠেছে আওয়ামী পুনর্বাসন কেন্দ্র। অন্যদিকে, দাগনভূঞা, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় যুবদলের নেতাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, চোরাচালান, ট্রাক চুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।সদ্য স্থগিত হওয়া কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আল ইমরান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, মিথ্যা মামলায় মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়ে ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।এছাড়া আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মনছুর আহমদ ঢাকায় ব্যবসা করেন। সে সুবাদে তারা ঢাকাতেই বসবাস করেন। সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন পবির সম্প্রতি ট্রাক চুরির ঘটনায় বহিষ্কার হয়েছেন। আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ।২০১৭ সালে ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী জসিম উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উল হায়দার চৌধুরী ও তার ছোট ভাই পাঠান নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর স্ত্রীর সাথে শেয়ারে জমি ক্রয়ের রেজিস্টার্ড বায়না করার অভিযোগ রয়েছে।  সম্প্রতি র‍্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্প ভারতীয় হোমিওপ্যাথি ওষুধসহ দুইজনকে আটক করে। আটক শাহ আলম সদ্য স্থগিত হওয়া জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইনের ভাই বলে জানা গেছে। এদিকে, স্থগিত কমিটির আহ্বায়ক নাছির খন্দকারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে।অন্যদিকে, সদ্য স্থগিত হওয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাছির খন্দকারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন খন্দকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী নানা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব ঘটনায় ফেনীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ফেনী জেলা যুবদল এখন আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, জেলা ও পৌর যুবদলের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি। এসব কমিটি কেন্দ্রীয় যুবদল অনুমোদন দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ ফরিদ বাহার বলেন, আমরা কোনো কমিটি দিইনি, এমনকি এ বিষয়ে আগে থেকে অবগতও ছিলাম না। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতিকে আমি  বলেছি, জেলা বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ না করেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনারাই কমিটি দিয়েছেন। এখন আপানারা যা ভালো মনে করেন, তাই করেন। এ কমিটির দায়ভার আমরা নিতে পারব না।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন ।(ঢাকা, ৯ মে, ২০২৬) তিনি তাদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের 'নতুন সংগ্রামে' নামতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো-আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।'আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।তিনি আরো বলেন, 'গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।'নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’তিনি বলেন 'কারণ ভোট দেয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দিব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে।  নারী পুরুষ শিশু সকলে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।'তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে, আমাদের উপরে যে রকম অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হতে হচ্ছে তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করবো, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবো।তারেক রহমান বলেন, 'আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।'এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট(কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায়  স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও  উপস্থিত রয়েছেন।উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি  এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সাথে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।
০৯ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

হঠাৎ আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

হঠাৎ আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আইনজীবীর কালো গাউন পরে সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর শুরু হওয়া ভোট পরবর্তী সহিংসতার একটি মামলায় সওয়াল করতে তিনি আদালতে হাজির হন।তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিজে লড়ছেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচারপতির কাছে জরুরি সুরক্ষা প্রার্থনা করেছেন।শুনানির শুরুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে এটিই তার প্রথম উপস্থিতি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সহিংসতার হাত থেকে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তিনি আদালতে ১০ জন নিহত ব্যক্তির একটি তালিকা জমা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে ৬ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া তিনি একটি তফশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ৯২ বছর বয়সী বিধবার ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২ বছরের কিশোরীদেরও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কি ঘুমিয়ে আছে কি না। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়’।  মাছের বাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধ প্রতিরোধ না করে উল্টো এফআইআর নিতে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বোমাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আদালতে হাজিরা প্রমাণ করে যে তিনি বিপদের সময় বাংলার মানুষকে ছেড়ে যান না। প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সাহস ও সংকল্পের সঙ্গে লড়াই করছেন।  অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করা বিজেপির পক্ষ থেকে এই সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যার মতো ঘটনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের নির্দেশনার দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারাদেশ।
১৮ ঘন্টা আগে
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেল কুবি

প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেল কুবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নবম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. এম এম শরীফুল করীমকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও জানানো হয়, উপাচার্য হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধাও ভোগ করবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
২৩ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৩০ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

৩০ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
২০ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি

ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি

ফেনীতে বিএনপির জন্য অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে উঠেছে যুবদলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। দলীয় কমিটিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংশ্লিষ্টদের স্থান দেওয়া, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বের অভিযোগ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রত ও ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌরসভা যুবদলের সভাপতি একেএম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। অভিযোগ ওঠে, এসব কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়েছে।সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় ২০১৭ সালের ৩ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি এনামুল হক সুজনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে ওই ওয়ার্ড কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে একের পর এক ইউনিটে পদত্যাগ শুরু হলে চাপের মুখে পৌর কমিটি বিলুপ্ত এবং আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও জেলা যুবদল সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে, এনামুল হক সুজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত নন।পরবর্তীতে ৪ মে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে ফেনী জেলা যুবদলের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।দলের অভ্যন্তরে অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। যুবলীগের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত রাকিবকে ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি, ছাত্র হত্যা মামলার আসামি নাদিমকে পদ দেওয়া এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য রিপুকে আহ্বায়কের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে কমিটিতে রাখা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। একইভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পদ দেওয়ার অভিযোগে সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।।যুবলীগের সন্ত্রাসী মহিপালের ছাত্র-জনতা গণহত্যা মামলার আসামি নাহিয়ান চৌধুরীর ভাই শরীফ মাহমুদ চৌধুরী তাসরীপকে ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নাহিয়ান ৮টি হত্যাসহ ১৬ মামলায় এক বছর কারাগারে আটক। ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান রুমন দায়িত্ব পান ওই ওয়ার্ডের যুবদলের সহ-সভাপতির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রাজনীতিতে এসে সরাসরি ১০নং ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি হন জিসান। এসব কারণে ত্যাগী নেতারা বলছেন ফেনী জেলা যুবদল হয়ে উঠেছে আওয়ামী পুনর্বাসন কেন্দ্র। অন্যদিকে, দাগনভূঞা, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় যুবদলের নেতাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, চোরাচালান, ট্রাক চুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।সদ্য স্থগিত হওয়া কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আল ইমরান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, মিথ্যা মামলায় মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়ে ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।এছাড়া আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মনছুর আহমদ ঢাকায় ব্যবসা করেন। সে সুবাদে তারা ঢাকাতেই বসবাস করেন। সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন পবির সম্প্রতি ট্রাক চুরির ঘটনায় বহিষ্কার হয়েছেন। আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ।২০১৭ সালে ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী জসিম উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উল হায়দার চৌধুরী ও তার ছোট ভাই পাঠান নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর স্ত্রীর সাথে শেয়ারে জমি ক্রয়ের রেজিস্টার্ড বায়না করার অভিযোগ রয়েছে।  সম্প্রতি র‍্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্প ভারতীয় হোমিওপ্যাথি ওষুধসহ দুইজনকে আটক করে। আটক শাহ আলম সদ্য স্থগিত হওয়া জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইনের ভাই বলে জানা গেছে। এদিকে, স্থগিত কমিটির আহ্বায়ক নাছির খন্দকারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে।অন্যদিকে, সদ্য স্থগিত হওয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাছির খন্দকারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন খন্দকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী নানা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব ঘটনায় ফেনীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ফেনী জেলা যুবদল এখন আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, জেলা ও পৌর যুবদলের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি। এসব কমিটি কেন্দ্রীয় যুবদল অনুমোদন দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ ফরিদ বাহার বলেন, আমরা কোনো কমিটি দিইনি, এমনকি এ বিষয়ে আগে থেকে অবগতও ছিলাম না। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতিকে আমি  বলেছি, জেলা বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ না করেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনারাই কমিটি দিয়েছেন। এখন আপানারা যা ভালো মনে করেন, তাই করেন। এ কমিটির দায়ভার আমরা নিতে পারব না।
৩০ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র