সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বইমেলায় জাহানারা মতিনের কবিতার বই ‘শখের সমাধি’

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে জাহানারা মতিনের প্রথম বই ‘শখের সমাধি’। বইটি প্রকাশ করেছে বাবুই প্রকাশনী এবং বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মোর্শেদ আলম হৃদয়।প্রকাশক জানান, মেলা প্রাঙ্গণে প্রকাশনীর ৬৩১ ও ৬৩২ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন বুকশপ ই-বই বিতান থেকেও সংগ্রহ করা যাবে। বইটির প্রচ্ছদমূল্য ২৭০ টাকা।বইটির মূল উপজীব্য হলো আমাদের যাপিত জীবনের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা আটপৌরে বাস্তবতা ও মানবমনের অনুভূতি। লেখিকা জাহানারা মতিন বলেন, অভিযোগ বা আবেগ দিয়ে নয়, বরং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধের মাধ্যমেই আমাদের সচেতনতা তৈরি হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে অপরাধবোধ থেকে যেন এই সচেতনতার জন্ম হয়, সেটাই সভ্য সমাজের ব্রত হওয়া প্রয়োজন।লেখিকা জাহানারা মতিনের জন্ম চট্টগ্রামের একটি শিক্ষিত পরিবারে এবং বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর সেই বৈচিত্র্যময় জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমাজভাবনা এই বইয়ের পাতায় পাতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
১৪ মার্চ ২০২৬

নোয়াখালীতে নিখোঁজের দুইদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিখোঁজের দুইদিন পর একটি পুকুর থেকে রঞ্জিত কুরী (৫৩) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা প্রায় পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার গোনাই রামশংকর এলাকার একটি পুকুরে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।নিহত রঞ্জিত কুরী নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং প্রকাশ চন্দ্র কুরীর ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে রঞ্জিত কুরীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। দুইদিন পর শনিবার সকালে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে জানায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, তিনি আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৪ মার্চ ২০২৬

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ছড়াপাঠ

লেখক ও সাংবাদিক আবিদ আজমের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ শীর্ষক সংকলন। দেশের তিন শতাধিক ছড়াকারের ছড়া নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন ও ছড়াপাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে।অনুষ্ঠানে গ্রন্থভুক্ত বিশিষ্ট ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ছড়াশিল্পীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক ছড়া পাঠে অংশ নেন।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সংকলনটির প্রধান সম্পাদক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম আহমেদ, কবি জাকির আবু জাফর, জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ, ছড়াকার সৈয়দ আল ফারুক এবং কবি হাসান আলীম।আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থের সম্পাদক আবিদ আজম এবং সহযোগী সম্পাদক ছড়াকবি জিয়া হক।অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা ও গণঅভ্যুত্থানে মানুষকে উৎসাহিত করতে ছড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা অসংখ্য ছড়া পরে স্লোগানের মতো মানুষের মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও অভ্যুত্থানের মূল্যবোধকে ধারণ করায় এই সংকলনটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে থেকে যাবে।জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ সংকলনটি এ দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।গ্রন্থের সম্পাদক ছড়াকবি আবিদ আজম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং সময়ের রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতাকে ছড়ার ভাষায় ধারণ করতেই এই সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া প্রায় চার হাজার ছড়ার মধ্য থেকে বাছাই করে সংকলনের ছড়াগুলো নির্বাচন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংকলনটি নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি শামস আরেফিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই শুধু মিছিলের ইতিহাস নয়; রক্ত, কান্না ও আত্মত্যাগের পাশাপাশি কবিতা ও ছড়ায়ও সেই ইতিহাস রচিত হয়েছে। প্রতিটি শহীদের রক্ত আমাদের কাঁধে দায়বদ্ধতার ভার রেখে গেছে এবং সংকলনের প্রতিটি ছড়া সেই দায়বদ্ধতার শিল্পরূপ।৩৬০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে তিন শতাধিক ছড়াকারের লেখা স্থান পেয়েছে। সংকলনে অগ্রজ ও তরুণ ছড়াকারদের মধ্যে রয়েছেন আবু সালেহ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, ফারুক হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, শাহীন রেজা, হাসান হাফিজ, এনায়েত রসুল, মাহমুদউল্লাহ, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, জুলফিকার শাহাদাত, টোকন ঠাকুর, জগলুল হায়দার, নয়ন আহমেদ, আল হাফিজ, শান্তা মারিয়া, আতিক হেলাল, আমির খসরু সেলিম, আরিফ বখতিয়ার, সৈয়দ আহসান কবীর, আহমদ সাইফ, আহমাদ স্বাধীন, এমরান কবির, কামাল হোসাইন খান, জব্বার আল নাঈম, পলিয়ার ওয়াহিদ, মঈন মুনতাসীর, মামুন সারওয়ার, মনসুর আজিজ, মুহিম মাহফুজ, রবিউল কমল, রহমান মল্লিক, শিকদার মোস্তফা, শাকিল মাহমুদ, সাম্য শাহ, সুমন রায়হান, সুজন হাসান, তানজিদ শুভ্রসহ আরও অনেক ছড়াকার ও কবি।
১৪ মার্চ ২০২৬
হাতিয়ায় প্রকাশ্যেই চলছে সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যান এলাকার গাছ কাটার মহোৎসব

হাতিয়ায় প্রকাশ্যেই চলছে সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যান এলাকার গাছ কাটার মহোৎসব

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যান এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে গাছ কাটার মহোৎসব। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তাদের গাফিলতি, দায়িত্বহীনতা এবং ভূমি অফিসের অনিয়মতান্ত্রিক বন্দোবস্তের কারণে মাইলের পর মাইল বনভূমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে ব্যাপকহারে গাছ কাটা ও রিং দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বনভূমি এখন বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ার সন্নিকটে।বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সূত্রে জানা যায়, জাহাজমারা রেঞ্জের ৪টি বিটের আওতায় ১৩টি চরে সরকারি গেজেটভুক্ত প্রায় ২১ হাজার ৪৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এছাড়া ১১টি চরে সরকারি গেজেটভুক্ত ৪০ হাজার ৩৯০ একর এলাকা নিয়ে গঠিত নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ এলাকাকে “নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান” ঘোষণা করে।হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল হাতিয়া উপজেলাধীন নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে। কিন্তু বাস্তবে এ কমিটির কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় উদ্যানের সরকারি গেজেটভুক্ত চর ইউনুসকে চর হেয়ার ও নতুন সুখচর নামকরণসহ বিভিন্ন চরকে নতুন নামে চিহ্নিত করে ভূমি অফিস হাত নকশা তৈরি করে বন্দোবস্ত দেয়। এতে ভূমিখেকোরা বনভূমি দখলের সুযোগ পায়। টাস্কফোর্স গঠনের পরও ভূমি অফিস কর্তৃক বন্দোবস্ত দেওয়া বনভূমির মধ্যে চর কালামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় চার মাস আগে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। চর ইউনুস এলাকায় ১৭৪, ১৭৫, ১৫০, ১৫১, ১৫৩, ১৫৪ ও ১৫৯ নম্বর খতিয়ানসহ অসংখ্য খতিয়ান খুলে বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।টাস্কফোর্স কমিটির সর্বশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল। সভায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগ যৌথভাবে সরেজমিনে তদন্ত করে জবরদখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত এবং দখলকৃত ভূমির পরিমাণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে সংরক্ষিত বনের সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় ভূমি অফিসকে নতুন বন্দোবস্ত না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং বন্দোবস্তকৃত বনভূমি বুঝিয়ে না দিতে বলা হয়।এছাড়া সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যানের ১৩টি চরের ডিজিটাল জরিপ কাজ শুরু করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। বনভূমি দখল ও গাছ কর্তন বন্ধে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের কিছুদিন পর থেকেই আবারও শুরু হয় বন সাফ করার ঘটনা। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর চর ইউনুসের আমতলী প্রজেক্ট (টুয়াচর ও রাস্তার চর) এলাকায় ব্যাপকহারে গাছ নিধন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনের এই গাছ নিধনের ক্ষেত্রে স্থানীয় দুই রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থাকা প্রায় ৫৫ থেকে ৬০জন বন অপরাধীর সাথে শতাধিক ভূমি লোভী নারী-পুরুষ যুক্ত হয়। একই সময়ে নিঝুম দ্বীপ বিট এলাকাতেও চলতে থাকে বনের গাছ কাটা।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অপ-রাজনীতির প্রভাবের পাশাপাশি জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মকর্তা, সদর বিট কর্মকর্তা এবং চর ওছমান (নিঝুম দ্বীপ) বিট কর্মকর্তার চরম গাফিলতির কারণেই বন ধ্বংস ঠেকানো যায়নি।অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতে ধীরে ধীরে বন কাটার ঘটনা ঘটলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তা ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।ঘটনাকালে জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন ৪১তম বিসিএস (বন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এসিএফ একেএম আরিফ-উজ-জামান, যিনি রেঞ্জ প্রশিক্ষণে ছিলেন। সে সময় ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন নিঝুম দ্বীপ বিট কর্মকর্তা মো. জাহিদ প্রামানিক। বর্তমানে তিনিই নিঝুমদ্বীপ বিট কর্মকর্তা ও জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, আউটসোর্সিং কর্মী মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে রেঞ্জ কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। প্রায় সাত বছর আগে তিনি জাহাজমারা রেঞ্জে যোগ দেন। সে সময় রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুর রহমানের কার্য ক্ষেত্রের সহায়ক ছিলেন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বন বিভাগের ওপর প্রভাব খাটিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, বন অপরাধ চলাকালে রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফ-উজ-জামান কেবল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দিয়ে দায়সারা দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তা মো. জাহিদ প্রামানিক অনেক সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতেন বলেও স্থানীয়রা জানান।বর্তমানে আমতলী প্রজেক্টসহ জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন এলাকায় মাইলের পর মাইল গাছ কেটে এবং রিং দিয়ে শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি বনবিভাগের ক্যাম্প ভবনের সাথে সংযুক্ত গাছগুলোও রক্ষা পায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, রিং দেওয়া গাছগুলো দুই মাসের মধ্যে শুকিয়ে গেলে পুরো বনভূমি বিরান হয়ে যাবে।সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আরিফ-উজ-জামান বলেন, বন কাটার সময় অপরাধীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। এ বিষয়ে ২৪ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফুল্লাহিল নিশানসহ দুই নেতাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আউটসোর্সিংয়ের মাসুদের প্রভাব বিস্তরের ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওর (মাসুদের) সব কথা শুনতাম না, খোঁজ খবর নিয়ে আমি কাজ করতাম।বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহিদ প্রামানিক বলেন, সরকারি বাগানের গাছ কাটার ঘটনায় মামলা হয়েছে, তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র দেখাতে রাজি হননি। সদর বিট কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন।সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনভূমি দখলে জড়িতদের মধ্যে আমতলী বাজার কমিটির সভাপতি লিটন, সেক্রেটারি মন্নান, জাহাজমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমির, কালু মাঝি, শরীফ, হেজু মাঝি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন মাঝি, বাবর সর্দার, আমির, দুবাই, মোতালেবসহ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ জন রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি নেতা লুৎফুল্লাহিল নিশান বলেন, বন এলাকায় বিশাল একটি সিন্ডিকেট আছে। এদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বন কর্মকর্তাকে বলেছি। হয়ত এসব অপরাধের সাথে বনবিভাগের লোকেরাও থাকতে পারে।উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন রনি বলেন, দুর্বৃত্তায়ন সব দলে আছে, কিন্তু বন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন এ প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জাহাজমারা রেঞ্জের সদর বিটের চর, ইউনুসের আমতলী প্রজেক্ট (টুয়ারচর-রাস্তার চর), হাজির গোপট, হাবুল্লাহর গোপট, আশিকের গোপট ও আজিমনগর এলাকা। এবং নিঝুম দ্বীপের হরিণ বাজার, ডুবাই খাল,বস্তাখালী,চৌধুরী খালের মাথা, বাধার খালের মাথা ও মোরখালী এলাকা।জাতীয় উদ্যান এলাকায় ভূমি বন্দোবস্ত ও দখল বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।সংরক্ষিত ও জাতীয় উদ্যানের গাছ নিধনের ঘটনায় দায়িত্বশীলদের অবহেলার বিষয়ে উপকূলীয় অঞ্চল বন রক্ষক মিহির কুমার দে মোবাইল ফোনে জানান, নোয়াখালী জেলা উপকূলীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
৬ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ছড়াপাঠ

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ছড়াপাঠ

লেখক ও সাংবাদিক আবিদ আজমের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ শীর্ষক সংকলন। দেশের তিন শতাধিক ছড়াকারের ছড়া নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন ও ছড়াপাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে।অনুষ্ঠানে গ্রন্থভুক্ত বিশিষ্ট ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ছড়াশিল্পীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক ছড়া পাঠে অংশ নেন।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সংকলনটির প্রধান সম্পাদক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম আহমেদ, কবি জাকির আবু জাফর, জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ, ছড়াকার সৈয়দ আল ফারুক এবং কবি হাসান আলীম।আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থের সম্পাদক আবিদ আজম এবং সহযোগী সম্পাদক ছড়াকবি জিয়া হক।অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা ও গণঅভ্যুত্থানে মানুষকে উৎসাহিত করতে ছড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা অসংখ্য ছড়া পরে স্লোগানের মতো মানুষের মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও অভ্যুত্থানের মূল্যবোধকে ধারণ করায় এই সংকলনটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে থেকে যাবে।জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ সংকলনটি এ দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।গ্রন্থের সম্পাদক ছড়াকবি আবিদ আজম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং সময়ের রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতাকে ছড়ার ভাষায় ধারণ করতেই এই সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া প্রায় চার হাজার ছড়ার মধ্য থেকে বাছাই করে সংকলনের ছড়াগুলো নির্বাচন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংকলনটি নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি শামস আরেফিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই শুধু মিছিলের ইতিহাস নয়; রক্ত, কান্না ও আত্মত্যাগের পাশাপাশি কবিতা ও ছড়ায়ও সেই ইতিহাস রচিত হয়েছে। প্রতিটি শহীদের রক্ত আমাদের কাঁধে দায়বদ্ধতার ভার রেখে গেছে এবং সংকলনের প্রতিটি ছড়া সেই দায়বদ্ধতার শিল্পরূপ।৩৬০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে তিন শতাধিক ছড়াকারের লেখা স্থান পেয়েছে। সংকলনে অগ্রজ ও তরুণ ছড়াকারদের মধ্যে রয়েছেন আবু সালেহ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, ফারুক হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, শাহীন রেজা, হাসান হাফিজ, এনায়েত রসুল, মাহমুদউল্লাহ, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, জুলফিকার শাহাদাত, টোকন ঠাকুর, জগলুল হায়দার, নয়ন আহমেদ, আল হাফিজ, শান্তা মারিয়া, আতিক হেলাল, আমির খসরু সেলিম, আরিফ বখতিয়ার, সৈয়দ আহসান কবীর, আহমদ সাইফ, আহমাদ স্বাধীন, এমরান কবির, কামাল হোসাইন খান, জব্বার আল নাঈম, পলিয়ার ওয়াহিদ, মঈন মুনতাসীর, মামুন সারওয়ার, মনসুর আজিজ, মুহিম মাহফুজ, রবিউল কমল, রহমান মল্লিক, শিকদার মোস্তফা, শাকিল মাহমুদ, সাম্য শাহ, সুমন রায়হান, সুজন হাসান, তানজিদ শুভ্রসহ আরও অনেক ছড়াকার ও কবি।
১৪ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ একটি চিঠিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি বলেছেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ভাষণে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বলেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না। উল্লেখ্য, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
১৩ মার্চ ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

৯ মার্চ থেকে ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

৯ মার্চ থেকে ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে ঈদুল ফিতরের ছুটি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। রোববার (৮ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৮ মার্চ) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট ম্যানেজমেন্ট টিমের (এসএমটি) একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাঠানো পত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আগামীকাল (সোমবার) থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো যথারীতি খোলা থাকবে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৯ মার্চের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে এবং অফিসসমূহ খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে আগামীকাল বিস্তারিত জানানো হবে।
০৯ মার্চ ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

হাতিয়ায় প্রকাশ্যেই চলছে সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যান এলাকার গাছ কাটার মহোৎসব

হাতিয়ায় প্রকাশ্যেই চলছে সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যান এলাকার গাছ কাটার মহোৎসব

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যান এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে গাছ কাটার মহোৎসব। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তাদের গাফিলতি, দায়িত্বহীনতা এবং ভূমি অফিসের অনিয়মতান্ত্রিক বন্দোবস্তের কারণে মাইলের পর মাইল বনভূমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে ব্যাপকহারে গাছ কাটা ও রিং দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বনভূমি এখন বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ার সন্নিকটে।বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সূত্রে জানা যায়, জাহাজমারা রেঞ্জের ৪টি বিটের আওতায় ১৩টি চরে সরকারি গেজেটভুক্ত প্রায় ২১ হাজার ৪৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এছাড়া ১১টি চরে সরকারি গেজেটভুক্ত ৪০ হাজার ৩৯০ একর এলাকা নিয়ে গঠিত নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ এলাকাকে “নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান” ঘোষণা করে।হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল হাতিয়া উপজেলাধীন নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে। কিন্তু বাস্তবে এ কমিটির কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় উদ্যানের সরকারি গেজেটভুক্ত চর ইউনুসকে চর হেয়ার ও নতুন সুখচর নামকরণসহ বিভিন্ন চরকে নতুন নামে চিহ্নিত করে ভূমি অফিস হাত নকশা তৈরি করে বন্দোবস্ত দেয়। এতে ভূমিখেকোরা বনভূমি দখলের সুযোগ পায়। টাস্কফোর্স গঠনের পরও ভূমি অফিস কর্তৃক বন্দোবস্ত দেওয়া বনভূমির মধ্যে চর কালামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় চার মাস আগে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। চর ইউনুস এলাকায় ১৭৪, ১৭৫, ১৫০, ১৫১, ১৫৩, ১৫৪ ও ১৫৯ নম্বর খতিয়ানসহ অসংখ্য খতিয়ান খুলে বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।টাস্কফোর্স কমিটির সর্বশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল। সভায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগ যৌথভাবে সরেজমিনে তদন্ত করে জবরদখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত এবং দখলকৃত ভূমির পরিমাণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে সংরক্ষিত বনের সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় ভূমি অফিসকে নতুন বন্দোবস্ত না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং বন্দোবস্তকৃত বনভূমি বুঝিয়ে না দিতে বলা হয়।এছাড়া সংরক্ষিত বন ও জাতীয় উদ্যানের ১৩টি চরের ডিজিটাল জরিপ কাজ শুরু করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। বনভূমি দখল ও গাছ কর্তন বন্ধে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের কিছুদিন পর থেকেই আবারও শুরু হয় বন সাফ করার ঘটনা। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর চর ইউনুসের আমতলী প্রজেক্ট (টুয়াচর ও রাস্তার চর) এলাকায় ব্যাপকহারে গাছ নিধন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনের এই গাছ নিধনের ক্ষেত্রে স্থানীয় দুই রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থাকা প্রায় ৫৫ থেকে ৬০জন বন অপরাধীর সাথে শতাধিক ভূমি লোভী নারী-পুরুষ যুক্ত হয়। একই সময়ে নিঝুম দ্বীপ বিট এলাকাতেও চলতে থাকে বনের গাছ কাটা।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অপ-রাজনীতির প্রভাবের পাশাপাশি জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মকর্তা, সদর বিট কর্মকর্তা এবং চর ওছমান (নিঝুম দ্বীপ) বিট কর্মকর্তার চরম গাফিলতির কারণেই বন ধ্বংস ঠেকানো যায়নি।অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতে ধীরে ধীরে বন কাটার ঘটনা ঘটলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তা ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।ঘটনাকালে জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন ৪১তম বিসিএস (বন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এসিএফ একেএম আরিফ-উজ-জামান, যিনি রেঞ্জ প্রশিক্ষণে ছিলেন। সে সময় ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন নিঝুম দ্বীপ বিট কর্মকর্তা মো. জাহিদ প্রামানিক। বর্তমানে তিনিই নিঝুমদ্বীপ বিট কর্মকর্তা ও জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, আউটসোর্সিং কর্মী মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে রেঞ্জ কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। প্রায় সাত বছর আগে তিনি জাহাজমারা রেঞ্জে যোগ দেন। সে সময় রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুর রহমানের কার্য ক্ষেত্রের সহায়ক ছিলেন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বন বিভাগের ওপর প্রভাব খাটিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, বন অপরাধ চলাকালে রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফ-উজ-জামান কেবল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দিয়ে দায়সারা দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তা মো. জাহিদ প্রামানিক অনেক সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতেন বলেও স্থানীয়রা জানান।বর্তমানে আমতলী প্রজেক্টসহ জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন এলাকায় মাইলের পর মাইল গাছ কেটে এবং রিং দিয়ে শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি বনবিভাগের ক্যাম্প ভবনের সাথে সংযুক্ত গাছগুলোও রক্ষা পায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, রিং দেওয়া গাছগুলো দুই মাসের মধ্যে শুকিয়ে গেলে পুরো বনভূমি বিরান হয়ে যাবে।সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আরিফ-উজ-জামান বলেন, বন কাটার সময় অপরাধীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। এ বিষয়ে ২৪ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফুল্লাহিল নিশানসহ দুই নেতাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আউটসোর্সিংয়ের মাসুদের প্রভাব বিস্তরের ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওর (মাসুদের) সব কথা শুনতাম না, খোঁজ খবর নিয়ে আমি কাজ করতাম।বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহিদ প্রামানিক বলেন, সরকারি বাগানের গাছ কাটার ঘটনায় মামলা হয়েছে, তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র দেখাতে রাজি হননি। সদর বিট কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন।সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনভূমি দখলে জড়িতদের মধ্যে আমতলী বাজার কমিটির সভাপতি লিটন, সেক্রেটারি মন্নান, জাহাজমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমির, কালু মাঝি, শরীফ, হেজু মাঝি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন মাঝি, বাবর সর্দার, আমির, দুবাই, মোতালেবসহ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ জন রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি নেতা লুৎফুল্লাহিল নিশান বলেন, বন এলাকায় বিশাল একটি সিন্ডিকেট আছে। এদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বন কর্মকর্তাকে বলেছি। হয়ত এসব অপরাধের সাথে বনবিভাগের লোকেরাও থাকতে পারে।উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন রনি বলেন, দুর্বৃত্তায়ন সব দলে আছে, কিন্তু বন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন এ প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জাহাজমারা রেঞ্জের সদর বিটের চর, ইউনুসের আমতলী প্রজেক্ট (টুয়ারচর-রাস্তার চর), হাজির গোপট, হাবুল্লাহর গোপট, আশিকের গোপট ও আজিমনগর এলাকা। এবং নিঝুম দ্বীপের হরিণ বাজার, ডুবাই খাল,বস্তাখালী,চৌধুরী খালের মাথা, বাধার খালের মাথা ও মোরখালী এলাকা।জাতীয় উদ্যান এলাকায় ভূমি বন্দোবস্ত ও দখল বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।সংরক্ষিত ও জাতীয় উদ্যানের গাছ নিধনের ঘটনায় দায়িত্বশীলদের অবহেলার বিষয়ে উপকূলীয় অঞ্চল বন রক্ষক মিহির কুমার দে মোবাইল ফোনে জানান, নোয়াখালী জেলা উপকূলীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ