মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় কার্যালয় ও ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি।সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সার্বিক ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে দেশের ১৯ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় মতাদর্শের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৬৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক পদেও দলীয় লোকজনকে বসানো হয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়নবঞ্চিত ও নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দেয় এবং রেকর্ড পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন, সেচ, সারসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে।তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা জ্বলছে না। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।নাহিদ ইসলামের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো ক্রয়াদেশ রক্ষা করতে পারছে না। তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাত্র দুই মাসের মাথায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।এর সঙ্গে তীব্র লোডশেডিং, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল এবং ক্যাপাসিটি চার্জের চাপও যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত জাতীয় কমিটির সুপারিশগুলোও বর্তমান সরকার আমলে নিচ্ছে না। যেকোনো সংকট তৈরি হলেই তার দায় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা ফ্যাসিস্ট সরকারের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।তার দাবি, বর্তমান সরকারের পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকে।কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না এবং চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ঋণ প্রবৃদ্ধিও ক্রমাগত বাড়ছে।স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতির কারণে মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় আগের সরকারের ওপর চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান সরকারের সময়েও স্বাস্থ্য খাতের সংকট কাটেনি এবং কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।শিক্ষাঙ্গনগুলোতে দলীয় দখলদারিত্ব চলছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও কোনো বিচার হচ্ছে না।তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে দেশে ৮০০টির বেশি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার বড় একটি অংশ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করা হয়। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
১২ ঘন্টা আগে

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন কাতারের আমির

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় কাতারের আমির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনে তাঁর সাফল্য কামনা করেন।শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার ও সম্প্রসারিত হবে।উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন শুক্রবার তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
২৩ আগস্ট ২০২৬

বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।রাষ্ট্রপতি আজ বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটক-২ এ বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়।পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত ও চৌকস দল ক্রেডেনশিয়াল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। গার্ড অব অনার শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি তাঁর অফিস কক্ষে অবস্থান করে বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন।এরপর তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
২৩ আগস্ট ২০২৬
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জনগণ যাতে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার (২৪ আগস্ট, ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে একটি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আরও তিনটি ঘটনার তদন্ত চলছে। গুমের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও জানান তিনি।মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে কোনো মিথ্যা মামলা হচ্ছে না, এমন দাবি করা যাবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিছু জটিলতা রয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর আইনটি সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন প্রয়োজন অনুযায়ী এতে সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নাম এখনো পাওয়া যায়নি।দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুলাই সনদের পথ ধরেই এগোতে চাই।’
১২ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জনগণ যাতে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার (২৪ আগস্ট, ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে একটি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আরও তিনটি ঘটনার তদন্ত চলছে। গুমের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও জানান তিনি।মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে কোনো মিথ্যা মামলা হচ্ছে না, এমন দাবি করা যাবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিছু জটিলতা রয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর আইনটি সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন প্রয়োজন অনুযায়ী এতে সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নাম এখনো পাওয়া যায়নি।দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুলাই সনদের পথ ধরেই এগোতে চাই।’
১২ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিতের নীতি বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালত এ রায় দেন।আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।রায়ে বিচারক জিনেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষিত ভিসা স্থগিতের নীতিটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই সাধারণত কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে আরও বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এই নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতির আওতায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশও ছিল।এ ছাড়া আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি দেশও ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২২ আগস্ট ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

নোয়াখালীর পরিচিত রিকশাওয়ালার বাঁধ অপসারণ

নোয়াখালীর পরিচিত রিকশাওয়ালার বাঁধ অপসারণ

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সংকট নিরসনে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আলগির খালের ওপর নির্মিত ‘ফারাক্কা বাঁধ’ নামে পরিচিত বহুল আলোচিত ‘রিকশাওয়ালার বাঁধ’ অপসারণ করা হয়েছে। ‎‎সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধটি কেটে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। ‎‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দা। ‎‎একসময় বামনী নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ ঠেকাতে মাটির এই আড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে তা নোয়াখালী সদর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জের পানি নিষ্কাশনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ‎‎সম্প্রতি বামনী নদীতে ক্লোজার ও ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণের পর এই আড়িবাঁধটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি আলগির খাল ও জালিয়ার খালের মোট ১০.৫ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হচ্ছে। ‎‎প্রশাসন জানায়, বাঁধ অপসারণ ও খাল খনন সম্পন্ন হলে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার প্রায় ২৮০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সুরক্ষার পথ সুগম হবে। ‎
১২ জুলাই ২০২৬
মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে, ধৈর্য ধরতে হবে : প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী

মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে, ধৈর্য ধরতে হবে : প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী

১২ জুলাই ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১২ জুলাই ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ