সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যাহ্নভোজ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা। রোববার (২৮ জুন,২০২৬) সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় এই প্রীতিভোজ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র ২১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির ১৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।ভোজ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং নানা বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সমানভাবে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে এমন একান্ত পরিবেশে মধ্যাহ্নভোজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।উল্লেখ্য, সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব শিক্ষার্থী সেখানে গিয়েছিলেন। এদিন তারা সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন, সংসদ লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন এবং উত্তর প্লাজায় ফটোসেশনে অংশ নেন। সবশেষে তারা অধিবেশন কক্ষে বসে সংসদের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন।
৬ ঘন্টা আগে

আবারও পেছালো হাদি হত্যা প্রতিবেদন দাখিল

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।আজ রোববার (২৮ জুন,২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে ১৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।এরপর ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) অভিযোগ সংযোজনের আদেশ দেন। এর আগে, ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।তবে ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আর বাকি ৬ জন পলাতক।
৭ ঘন্টা আগে

সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক মু: রেজা হাসান

আজ ২৮ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মু: রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এতদিন কুমিল্লার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: ইসমাইল হোসেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নবনিযুক্ত ডিসি শীঘ্রই সিলেটে যোগদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।একই প্রজ্ঞাপনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিস রোজী আক্তারকে কুমিল্লার নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। গত বছরের ১৮ আগস্ট (২০২৫) থেকে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
৮ ঘন্টা আগে
বিমানবন্দরে আটক কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

বিমানবন্দরে আটক কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

বাড়ি ফেরা হলোনা বাছিরের। বৈষম‍্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত‍্যা মামলার আসামী হয়ে দির্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থেকে বাড়ির উদ্দেশ‍্যে বিমান বন্দরে নেমেই আটক হলেন তিনি।রোববার সকালে আরব আমিরাত থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে আটক করেন। বাছিরের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।আটক বাছির উদ্দিন(৪০) দেবীদ্বার পৌরএলাকার চাঁপানগর গ্রামের মো. আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। এবং দেবীদ্বার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কমিশনার ও সেচ্ছা সেবক লীগ নেতা ছিলেন।দির্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরে বিমান বন্দর থেকেই আটক হলেন বৈষম‍্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রুবেল হত‍্যা, ছাব্বির হত‍্যা ও আবু বক্কর হত‍্যার চেষ্টা মামলার এজহার নামীয় আসামী। বাছির কমিশনারকে গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম‍্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় গুলিবিদ্ধ এবং কুপিয়ে পিটিয়ে আব্দুর রহমান রুবেলকে হত‍্যা এবং কলেজ রোডে কুপিয়ে পিটিয়ে স্কুল ছাত্র সাব্বিরকে হত‍্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজহারভূক্ত আসামি।এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাছির রুবেল হত‍্যা, সাব্বির হত‍্যা এবং আবুবকর হত‍্যাচেষ্টা মামলার আসামী। তাকে বিমান বন্দর থানা পুলিশ আজ সকালে গ্রেফতার করেন।
৩ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যাহ্নভোজ

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যাহ্নভোজ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা। রোববার (২৮ জুন,২০২৬) সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় এই প্রীতিভোজ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র ২১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির ১৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।ভোজ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং নানা বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সমানভাবে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে এমন একান্ত পরিবেশে মধ্যাহ্নভোজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।উল্লেখ্য, সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব শিক্ষার্থী সেখানে গিয়েছিলেন। এদিন তারা সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন, সংসদ লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন এবং উত্তর প্লাজায় ফটোসেশনে অংশ নেন। সবশেষে তারা অধিবেশন কক্ষে বসে সংসদের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন।
৬ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট, জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট, জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা আরেকটি দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফল আসে ১৯তম মিনিটে, যখন জিওভানি লো সেলসোর গোলে এগিয়ে যায় দলটি। এরপর ৩১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে।দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জর্ডান। ৫৫তম মিনিটে মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। তবে সেই আশা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে লিওনেল মেসি নিজের স্বভাবসুলভ দক্ষতায় গোল করে দলের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।পরিসংখ্যানেও ছিল আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্য। পুরো ম্যাচে তারা ১৩টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বিপরীতে জর্ডান ৫টি শট নিলেও মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। বল দখলেও ছিল বড় ব্যবধান। আর্জেন্টিনা ৭০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, যেখানে জর্ডানের দখলে ছিল ৩০ শতাংশ।পাসিংয়েও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। তারা ৭৮০টি পাস সম্পন্ন করে ৯৩ শতাংশ সফলতার হার ধরে রাখে। এছাড়া কর্নার আদায়েও ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে জর্ডানের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সমীকরণ।
১৩ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইতালিতে নিহত প্রবাসী পরিবারকে এক বছর আগে পাঠানো হয়েছিল হত্যার হুমকির চিঠি

ইতালিতে নিহত প্রবাসী পরিবারকে এক বছর আগে পাঠানো হয়েছিল হত্যার হুমকির চিঠি

ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী ও মেয়েসহ নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি কামাল উদ্দিন বাবুলকে প্রায় এক বছর আগে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বাবা সিরাজুল ইসলাম। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতমের মধ্যেই তিনি এ দাবি তুলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন স্বজন ও পরিচিতজনরা।নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “প্রায় এক বছর আগে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম। তিনি আরও জানান, শুক্রবার (২৬ জুন) ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডে জড়িত রয়েছে নিহত বাবুলের বন্ধু একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত।  নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮)।স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই নিহতদের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আহত অয়নকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।ইতালির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রোম পুলিশের বিশেষ শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন।কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।  
২৭ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আল আমিন একাডেমি ছাত্রী শাখায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আল আমিন একাডেমি ছাত্রী শাখায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠিত

আল আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী শাখায় ২০২৬ সালের এইচএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮জুন) প্রতিষ্ঠানের মিলিনায়তনে দোয়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আল আমিন একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনে সফল হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে তিনি এইচএসসি-২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রভাষক সাকিয়া সুলতানা। মানপত্র পাঠ করেন একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নুসাইবা। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন জারিফা তাসরিন হিতৈসি।কলেজ শাখার ইনচার্জ ফারজানা আক্তারের পরিচালনায় শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজ শাখার সমন্বয়কারী আয়েশা সিদ্দিকা,সহকারী অধ্যাপক উম্মে কুলসুম, সহকারী অধ্যাপক পারভীন সুলতানা, প্রভাষক ফারজানা আক্তার।অনুষ্ঠানের শেষে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ সফলতা ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল আন্তরিকতা, শুভকামনা ও আবেগে ভরপুর।
১৯ জুন ২০২৬
নোয়াখালীর সেই আর্জেন্টিনা ভক্ত আজাদ মেম্বার গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সেই আর্জেন্টিনা ভক্ত আজাদ মেম্বার গ্রেপ্তার

১৯ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১৯ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি