বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চান্দিনায় হাত পাখার পক্ষে ভোট চাইলেন চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার চান্দিনায় নিজের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় চান্দিনা পূর্ব বাজার মাঠে জনসভায় কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) ও কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের দুই প্রার্থীর পক্ষে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।এসময় কুমিল্লা-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল করিম ও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুফতি এহেতাশামুল হক কাশেমী’র হাতে হাত পাখা তুলে দিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রধান অতিথি চরমোনাই পীর।মুফতি এহেতাশামুল হক কাশেমী’র সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামী আলোচক মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ্, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইমরান হোসেন নূর, মাও. এহতেরামুল হক উজানী, মাও. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সরকার, সেক্রেটারী মুফতি রাসেদুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা সভাপতি খায়রুল ইসলাম ফরাজী, সহসভাপতি মুফতি ইসমাইল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মাহাদী হাসান প্রমুখ।
১৬ ঘন্টা আগে

বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা: নোয়াখালীতে বিএনপির ৯ নেতাকে বহিষ্কার

নোয়াখালী- ৬ (হাতিয়া) আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার আবুল কালাম, হাতিয়া পৌর বিএনপি সাবেক সভাপতি কাজী আবদুর রহিম, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন নিজাম চৌধুরী, এডভোকেট মোঃ ইউনুছ, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদসহ ৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার আবুল কালাম, হাতিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুর রহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোছলে উদ্দিন নিজাম চৌধুরী, এ্যাড. মোঃ ইউনুছ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হাসান, শেখ ফরিদ, সহ-কোষাধ্যক্ষ ফয়জুর রহমান নান্টু।জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার আবুল কালাম বলেন, আমরা দলের বিপক্ষে নই, আমরা প্রার্থীর বিপক্ষে। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম হাতিয়াবাসীর সাথে ছিলেন। আমরা বর্তমানে তার সাথে রয়েছি। দল আগে আমাদের প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে। দল থেকে আমাদের বহিষ্কারের কথা শুনেছি। তবে লিখিত কোন কাগজ পাইনি।নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো আরও বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট না করায় কেন্দ্র থেকে এই সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চান্দিনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের পক্ষে গল্লাই ইউনিয়নের নারীদের মিছিল

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। এই আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জনাব আতিকুল আলম শাওনের সমর্থনে পুরো চান্দিনা উপজেলা জুড়ে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চান্দিনার নারী সমাজ আতিকুল আলম শাওনের পক্ষে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছে। উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় নারীরা এখন দলবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন।গল্লাই ইউনিয়নের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আতিকুল আলম শাওনের নির্বাচনী প্রতীক ‘কলস’ মার্কার পক্ষে কোমর বেঁধে নেমেছেন। তারা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নারীদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে কলস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই নারীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীরা জানিয়েছেন, তারা চান্দিনায় একজন যোগ্য এবং তারুণ্যদীপ্ত নেতৃত্ব দেখতে চান যিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন। সেই ভরসার জায়গা থেকেই তারা আতিকুল আলম শাওনকে সমর্থন দিচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারীদের এই দলবদ্ধ প্রচারণা এখন গল্লাই ইউনিয়নের প্রতিটি অলিগলিতে কলস মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, আতিকুল আলম শাওনের পক্ষে নারীদের এই সক্রিয় অবস্থান আগামী নির্বাচনে জয়ের পথে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুবিতে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যা

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুবিতে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যা

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের উদ্যোগে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।‎‎মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।‎‎পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত নিসফি শাবান উৎসবকে চারটি পর্বে ভাগ করে পালন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বাংলার গান, গজল ও নাশীদ পরিবেশনা, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কিয়ামুল লাইল এবং মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তি। ‎‎এছাড়াও গজল ও নাশীদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সবশেষে হালুয়া রুটি বিতরণের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সমাপ্ত করা হয়, এবং নিসফি শাবান বা শবে বরাতের রাত উপলক্ষে সবাইকে আজ রাত আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করার আহ্বান জানানো হয়।‎‎কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, 'এই রাতে বাংলার ঘরে ঘরে আলো জ্বলে ওঠে, হালুয়া–রুটির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ মানুষকে ডাকে, ক্ষমা চায় ও ক্ষমা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক সময় নিসফি শাবানকে কেবল মাসআলার কঠোর তুলাদণ্ডে বিচার করতে গিয়ে এর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক আবেদন উপেক্ষা করে বসি। অথচ প্রশ্ন হলো যে সংস্কৃতি মানুষকে আল্লাহমুখী করে, যে উৎসব মানুষকে তওবার পথে ফেরায় এবং যে রাত অহংকার ভেঙে মানুষকে নরম করে, তা কি অস্বীকার করার মতো বিষয় হতে পারে? সংস্কৃতি তখনই মূল্যহীন হয়ে পড়ে, যখন তা মানুষকে গাফেল করে তোলে।'‎‎তিনি আরও বলেন, 'সংস্কৃতি তখনই জীবন্ত থাকে, যখন তা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফেরায়। আমরা যদি নিসফি শাবানকে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য, উৎসব ও আবহমান সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সংযম, শালীনতা এবং ইসলামের মূলনীতির আলোকে বরণ করতে পারি, তাহলে এই রাত আবার আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্ত ভিত্তিতে পরিণত হবে। আজকের এই নাশীদ সন্ধ্যার উদ্দেশ্য সেটিই নিজেদের শিকড়ে ফিরে যাওয়া এবং নিজেদের সংস্কৃতিকে ইসলামের সৌন্দর্যে আলোকিত করা। সবশেষে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আয়োজন করা এই নাশীদ সন্ধ্যা ও নিসফি শাবান কেন্দ্রিক কার্যক্রম যেন তিনি কবুল করেন, আমিন।'
৭ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এর আগেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। তবে সে সময় এটি ছিল প্রথাগত পোস্টাল ভোট পদ্ধতির আওতায়।নিজ নির্বাচনী এলাকা পাবনায় গিয়ে ভোট না দেওয়ার ব্যাখ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তখন বলেছিলেন, বঙ্গভবন থেকে সরাসরি এলাকায় গেলে নিরাপত্তাজনিত কারণে শুধু ভোটকেন্দ্র নয়, পুরো পাবনা জেলাতেই একটি প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ব্যবস্থায় অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও এই পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় ভোট দিতে এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধস, জরুরি অবস্থা জারি

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ সিসিলিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সিসিলির নিসেমি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। কয়েক দিন আগে অঞ্চলটিতে সাইক্লোন হ্যারির প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে পাহাড়ি ঢালের মাটি নরম হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য বাইরে থেকে দেখলে নান্দনিক মনে হলেও বাস্তবে তা স্থানীয়দের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটি ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দিশেহারা এসব মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগেও এমন একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল, যার স্মৃতি আজও তাদের মনে তাজা।স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের প্রধান ফাবিও চিসিলিয়ানো জানান, ভূমিধস এখনো থেমে যায়নি। তিনি বলেন, “আমি নিজে মোবাইল ফোনে ভূমিধসের দৃশ্য ধারণ করেছি। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হচ্ছে।”চলমান ঝুঁকি ও সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিসিলির পাশাপাশি সার্দিনিয়া ও কালাব্রিয়া অঞ্চলেও জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইতালির মেলোনি সরকার।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুবিতে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যা

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুবিতে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যা

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের উদ্যোগে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।‎‎মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।‎‎পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত নিসফি শাবান উৎসবকে চারটি পর্বে ভাগ করে পালন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বাংলার গান, গজল ও নাশীদ পরিবেশনা, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কিয়ামুল লাইল এবং মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তি। ‎‎এছাড়াও গজল ও নাশীদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সবশেষে হালুয়া রুটি বিতরণের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সমাপ্ত করা হয়, এবং নিসফি শাবান বা শবে বরাতের রাত উপলক্ষে সবাইকে আজ রাত আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করার আহ্বান জানানো হয়।‎‎কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, 'এই রাতে বাংলার ঘরে ঘরে আলো জ্বলে ওঠে, হালুয়া–রুটির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ মানুষকে ডাকে, ক্ষমা চায় ও ক্ষমা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক সময় নিসফি শাবানকে কেবল মাসআলার কঠোর তুলাদণ্ডে বিচার করতে গিয়ে এর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক আবেদন উপেক্ষা করে বসি। অথচ প্রশ্ন হলো যে সংস্কৃতি মানুষকে আল্লাহমুখী করে, যে উৎসব মানুষকে তওবার পথে ফেরায় এবং যে রাত অহংকার ভেঙে মানুষকে নরম করে, তা কি অস্বীকার করার মতো বিষয় হতে পারে? সংস্কৃতি তখনই মূল্যহীন হয়ে পড়ে, যখন তা মানুষকে গাফেল করে তোলে।'‎‎তিনি আরও বলেন, 'সংস্কৃতি তখনই জীবন্ত থাকে, যখন তা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফেরায়। আমরা যদি নিসফি শাবানকে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য, উৎসব ও আবহমান সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সংযম, শালীনতা এবং ইসলামের মূলনীতির আলোকে বরণ করতে পারি, তাহলে এই রাত আবার আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্ত ভিত্তিতে পরিণত হবে। আজকের এই নাশীদ সন্ধ্যার উদ্দেশ্য সেটিই নিজেদের শিকড়ে ফিরে যাওয়া এবং নিজেদের সংস্কৃতিকে ইসলামের সৌন্দর্যে আলোকিত করা। সবশেষে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আয়োজন করা এই নাশীদ সন্ধ্যা ও নিসফি শাবান কেন্দ্রিক কার্যক্রম যেন তিনি কবুল করেন, আমিন।'
৭ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

চান্দিনায় হাত পাখার পক্ষে ভোট চাইলেন চরমোনাই পীর

চান্দিনায় হাত পাখার পক্ষে ভোট চাইলেন চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার চান্দিনায় নিজের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় চান্দিনা পূর্ব বাজার মাঠে জনসভায় কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) ও কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের দুই প্রার্থীর পক্ষে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।এসময় কুমিল্লা-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল করিম ও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুফতি এহেতাশামুল হক কাশেমী’র হাতে হাত পাখা তুলে দিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রধান অতিথি চরমোনাই পীর।মুফতি এহেতাশামুল হক কাশেমী’র সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামী আলোচক মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ্, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইমরান হোসেন নূর, মাও. এহতেরামুল হক উজানী, মাও. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সরকার, সেক্রেটারী মুফতি রাসেদুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা সভাপতি খায়রুল ইসলাম ফরাজী, সহসভাপতি মুফতি ইসমাইল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মাহাদী হাসান প্রমুখ।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

পদত্যাগ করলেন বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম

পদত্যাগ করলেন বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম স্বেচ্ছায় তার সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনাল চলাকালীন সময় দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন শামীম।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বিসিবির পরিচালক পদসহ অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। ফিক্সিংয়ের অভিযোগের একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।ফেসবুক পোস্টে মোখলেছুর রহমান শামীম লেখেন, সাম্প্রতিক অভিযোগের কারণে দায়িত্বে থাকা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন কোনো পরিস্থিতি তিনি চান না। তাই নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, যা কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়। বরং দেশের ক্রিকেট ও বোর্ডের মর্যাদা রক্ষার অংশ হিসেবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্তটি কষ্টের হলেও দেশের ক্রিকেটের সুনাম তার কাছে সর্বাগ্রে। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন বিশ্বাস তার রয়েছে এবং তিনি সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে ছিলেন ও থাকবেন।এর আগে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিম প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে মোখলেছুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়। ওই ভিডিওতে একাধিক কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়, যেখানে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার আলামত রয়েছে বলে দাবি করা হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বিপিএলের সিলেট পর্বে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একটি ম্যাচে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে শামীম জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেটের নূরজাহান হোটেলে ফিক্সিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একত্র করা হতো এবং পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয় সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো। এ সংক্রান্ত আগাম অর্থ পরিশোধের কল রেকর্ডও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান ওই সাংবাদিক।নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৌহিদ হোসেন ও ইমরান হাসানের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিসিবির নির্দেশে তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগে বলা হয়, এরপরও অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।উল্লেখ্য, সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরিচালক হন মোখলেছুর রহমান শামীম। পরে তাকে বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস লিগ পর্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চান্দিনায় হাত পাখার পক্ষে ভোট চাইলেন চরমোনাই পীর

চান্দিনায় হাত পাখার পক্ষে ভোট চাইলেন চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার চান্দিনায় নিজের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় চান্দিনা পূর্ব বাজার মাঠে জনসভায় কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) ও কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের দুই প্রার্থীর পক্ষে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।এসময় কুমিল্লা-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল করিম ও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুফতি এহেতাশামুল হক কাশেমী’র হাতে হাত পাখা তুলে দিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রধান অতিথি চরমোনাই পীর।মুফতি এহেতাশামুল হক কাশেমী’র সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামী আলোচক মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ্, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইমরান হোসেন নূর, মাও. এহতেরামুল হক উজানী, মাও. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সরকার, সেক্রেটারী মুফতি রাসেদুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা সভাপতি খায়রুল ইসলাম ফরাজী, সহসভাপতি মুফতি ইসমাইল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মাহাদী হাসান প্রমুখ।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ