সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

মিজানুর রহমান মিনুকে মন্ত্রী পরিষদে দেখতে চান রাজশাহীবাসি

গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হলো ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্বাধীনতার পর এমন ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচন আর কখনো বাঙ্গালী জাতি দেখেননি। নির্বাচন মানেই হামলা, খুন রাহাজানি, সংঘর্ষ। কিন্তু এবারই প্রথম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘর্ষহীনভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। যা সারা বিশ্বের কাছে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের পর আলোচনা শুরু হয়েছে কারা এবার মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাচ্ছেন। সেই আলোচনার মধ্যে এবার রাজশাহীর নাম আসছে বারবার। প্রতিমন্ত্রী পেলেও দীর্ঘদিন রাজশাহীবাসি মন্ত্রী পাননি। রাজশাহীবাসির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একজন মন্ত্রীর। কিন্তু বরাবরই রাজশাহীবাসির সেই আশায় গুড়েবালি হয়েছে। তবে আবারও আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে রাজশাহীর মানুষ। রাজশাহীবাসির প্রত্যাশা এবার বিএনপি সরকার গঠন করার পর রাজশাহীতে একজন মন্ত্রী পাবেন। নির্বাচনের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে চলছে নানান আলোচনা। নেটিজেনরা এ নিয়ে কথা তুলছেন। দাবি তোলা হচ্ছে রাজশাহী থেকে একজন মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাবে। আর রাজশাহী থেকে বিএনপির যে চারজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে জোরালোভাবে যে নামটি আসছে সেটি হলো উত্তরাঞ্চল রাজনীতির সিংহ পুরুষ, উন্নয়নের কারিগর মিজানুর রহমান মিনুর নাম। মিজানুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তাকে ফুল মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান রাজশাহীবাসি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার নিরস্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এবার নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়েছে বিএনপি। এটি বিএনপির জন্য বড় অর্জন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাজশাহীর ৬টি আসনের মধ্যে চারটি পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচিত এ চারজন এমপির মধ্যে উপজেলা সদরের রয়েছেন তিনজন। উপজেলা সদরের তিন এমপিরা সবাই নতুন। এক মাত্র রাজশাহী-২ সদর আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু রয়েছেন পুরাতনের তালিকায়। মিজানুর রহমান মিনু পরপর তিনবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, একবার সদর আসনের এমপির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনও করেছেন। সেদিক থেকে মিজানুর রহমান মিনু যেমন অভিজ্ঞ তেমনি বর্ষিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তি। নেটিজেনদের ভাষায় উত্তরাঞ্চলে মিজানুর রহমান মিনুর মত এমন বিচক্ষন রাজনৈতিক ব্যক্তি আর নেই। আর এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা দিলে শুধু রাজশাহীর নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের চিত্র পরিবর্তন হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষক সমাজ, ব্যবসায়ী মহলসহ সাধারণ মানুষ।মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদল দিয়ে। মিজানুর রহমান মিনু ১৯৭৮ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি তুখোড় ছাত্রনেতা হিসাবে এ অঞ্চলে প্রথম পরিচিতি লাভ করেন। তার বলিষ্ঠ্য নেতৃত্বে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রদল ছিল সুসংগঠিত। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ছাত্রদল থেকে যুবদলে আসার পর মিজানুর রহমান মিনুর রাজনীতি নতুন মোড় নেয়। মূলত ছাত্রদল পরিচালনার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে মিজানুর রহমান মিনুকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়। মিনুর সময় জাতীয়তাবাদী যুবদল ছিল অন্যান্য দলের জন্য আইকন। মিনুর দক্ষতা দেখে মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৮৭ সালে কেন্দ্র তাকে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। বৃহত্তর রাজশাহীর তৃণমুল থেকে বিএনপির হাইকমান্ড, সব জায়গায় মিজানুর রহমান মিনুর দক্ষতার কারণে কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ তাকে সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠ্য করেন। এরপর ১৯৯১ সালে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। বিপুল ভোটে মিজানুর রহমান মিনু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগকে (রাজশাহী ও রংপুর) শক্তিশালি করার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালে মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সাথে ১৯৯৬ সালে মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি রাজশাহী-২ সদর আসনে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। একই বছর ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর মিজানুর রহমান মিনু প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্ঠা নির্বাচিত হন। এছাড়াও সর্বশেষ গত জানুয়ারীতে এসে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্ঠা হিসাবে রয়েছেন। এক মাত্র মিজানুর রহমান মিনুর রয়েছে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস। সেই জায়গা থেকে এবার তাকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান রাজশাহীবাসী।রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, মিজানুর রহমান মিনুর মত এমন বলিষ্ঠ্য রাজনৈতিক নেতা উত্তরাঞ্চলে নেই। তাকে সড়ক মন্ত্রী করা হলে তার দক্ষতায় এ সেক্টর রোল মডেল হয়ে উঠবে। আমরা বিগত দিনে বঞ্চিত হয়েছি। এবার বঞ্চিত হতে চাই না। আমরা চাই এবার মিজানুর রহমান মিনুকে মন্ত্রী পরিষদে দেখতে চাই। তাকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হলে পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের চিত্র বদলে যাবে।রাজশাহী মহানগর এমপিওভুক্ত বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম বলেন, এই নগরীকে শিক্ষা নগরীর রুপ দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। এবার রাজশাহী থেকে নির্বাচিত চারজন এমপির মধ্যে মিজানুর রহমান মিনু একজন দক্ষ অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি এক সময় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে আমরা চাই মিজানুর রহমান মিনুকে এবার মন্ত্রী করা হোক। তাকে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য করা হলে আবারো শিক্ষা নগরী তার আসল রুপ ফিরে পাবে রাজশাহী বাসি ।
৮ ঘন্টা আগে

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গোপন নিয়োগ উৎসব: বিধি লঙ্ঘন করে ৬০ জনের চাকরি

​দেশের শিক্ষা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আইনের তোয়াক্কা না করে এক ‘বিস্ময়কর’ নিয়োগ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ছাড়পত্র ছাড়াই রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে প্রায় ৬০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডেলি লেবার) শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।​অভিযোগ উঠেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও বোর্ডের নিজস্ব বিধিমালা লঙ্ঘন করে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান   প্রফেসর আখম মোফাকখারুল ইসলাম ও সচিব প্রফেসর ডঃ শামীম আরা চৌধুরী এবং প্রেষণে কর্মরতডিডিসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।​অনুসন্ধানে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল মামলা নং ৩০০/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী, পদ শূন্য হলে বিজ্ঞাপন (Advertisement) দিয়ে এবং দৈনিক মজুরদের বয়স শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই এবং সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ না দিয়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছে।​এমনকি বোর্ডের নিজস্ব প্রবিধান ‘এস আর ৬৫’-এর ২ নং ধারাকে সরাসরি উপেক্ষা করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে সিলেকশন কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে কোনো কমিটির তোয়াক্কা করা হয়নি।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বোর্ডের প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি করে সচিব ও চেয়ারম্যানের কক্ষে বসেই নিয়োগ ও যোগদানপত্র প্রদান করা হয়েছে।​সূত্রমতে, এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন ‘মামুন’ নামের এক দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক। অভিযোগ আছে, চেয়ারম্যান ও সচিব এই মামুনের মাধ্যমেই যাবতীয় আর্থিক লেনদেন এবং বোর্ড সভার ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেছেন। সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তাদের এড়িয়ে নিয়োগ ও যোগদানপত্র সরাসরি চেয়ারম্যানের কক্ষে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।​বোর্ডের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে, এই ৬০ জনের নিয়োগের বিনিময়ে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে।নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় সবাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দৈনিক মজুর হিসেবে বোর্ডে যোগদান করেছিলেন। বর্তমান সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে কোনো প্রকার অবহিত না করেই এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে।​দুর্নীতি ঢাকতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়োগ পত্রে স্মারক নম্বর হিসেবে ৭৪৯ ও ৭৫০ ব্যবহার করা হলেও বোর্ডের মূল স্মারক বইয়ে (Dispatch Register) এর কোনো এন্ট্রি নেই। মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং তথ্য গোপন রাখতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।​এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে চেয়ারম্যান ও সচিব ছাড়াও প্রেষণে নিয়োজিত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে কলেজ পরিদর্শক, স্কুল পরিদর্শক এবং উপ-পরিচালক (ডিডি) সরাসরি এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে, কোনো প্রকার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই এই ৬০ জনকে নিয়োগ দেওয়ায় বোর্ডের নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।​রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এই নজিরবিহীন অনিয়ম নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।জানতে চাইলে সচিব প্রফেসর ডঃ শামীম আরা চৌধুরী বলেন ফ্যাসিস্ট বিদায়ের পর আমরা শিক্ষা বোর্ডে একটা সংষ্কার করতে এসেছিলাম। সে অনুযায়ী আমরা সচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছি। বোর্ড চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতা বলে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারে, যা বোর্ড সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হয়। নিয়ম মেনে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। অভিযোগকারীরা এ নিয়োগে সুবিধা করতে না পেরে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে বলেও উল্লেখ্য করেন তিনি। কথা বলতে একাধিকবার ফোন ও ম্যাসেজ দিয়েও পাওয়া যায়নি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আখম মোফাকখারুল ইসলামকে। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। লেনদেনে অভিযুক্ত ডে লেবার মামুনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।
৮ ঘন্টা আগে

দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা 'চাঁদপুরের' জন্মদিন আজ

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নদীমাতৃক জনপদ চাঁদপুর জেলা জেলা দিবস। এই দিনেই প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে চাঁদপুর পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পদ্মা ও মেঘনার মিলনভূমিতে গড়ে ওঠা এ জনপদ আজ ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।১৯৬০ খ্রি. পর্যন্ত এ জেলার নাম ছিল ত্রিপুরা জেলা। যা ৪টি মহকুমা নিয়ে গঠিত ছিল। সেগুলো হলো ত্রিপুরা সদর উত্তর, ত্রিপুরা সদর দক্ষিণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর। ত্রিপুরার ২১টি থানা ও ৩৬২টি ইউনিয়ন কাউন্সিল ছিল। চাঁদপুর মহকুমায় চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও মতলব নামে ৫টি থানা ছিলো।ঔপনিবেশিক আমল থেকেই চাঁদপুর ছিল নদীপথকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে রেলস্টেশন ও নদীবন্দর স্থাপিত হওয়ায় এ অঞ্চল দ্রুত অর্থনৈতিক গুরুত্ব অর্জন করে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।বর্তমানে জেলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—চাঁদপুর সদর উপজেলা, হাইমচর উপজেলা, মতলব উত্তর উপজেলা, মতলব দক্ষিণ উপজেলা, ফরিদগঞ্জ উপজেলা, হাজীগঞ্জ উপজেলা ও কচুয়া উপজেলা—যেগুলো কৃষি, মৎস্য ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।চাঁদপুরের পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু হলো— চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা হলো পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর এক অপূর্ব মিলনস্থল, যা ‘বড় স্টেশন মোলহেড’ নামেও পরিচিত। দেশের সেরা ইলিশের জন্য এ জেলা বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার লঞ্চঘাট ও রেলওয়ে যোগাযোগ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও অন্যান্য জেলার সংযোগ স্থাপনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন ও নদীবন্দর দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল রেখেছে।২০১৭ সালে দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুর স্বীকৃতি পায়।মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অবদান। বিভিন্ন স্থানে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিচিহ্ন আজও স্বাধীনতার ইতিহাস বহন করছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, মেলা ও লোকজ ঐতিহ্য এই জেলাকে করেছে বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত।নদীভাঙন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ থাকলেও চাঁদপুর এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও কৃষিভিত্তিক উৎপাদন এ জেলার উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।জেলা দিবসে চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা—উন্নয়ন হবে টেকসই, নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে আরও অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।চাঁদপুর কেবল একটি প্রশাসনিক জেলা নয়; এটি নদী ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতীক, ইতিহাসের ধারক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল নাম।
১১ ঘন্টা আগে
হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা সঠিক নয়: পুলিশ

হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা সঠিক নয়: পুলিশ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চানন্দী ইউনিয়নে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের ঘটনাটি সম্পূর্ণ প্রোপাগান্ডা বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া সার্কেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।এর আগে গতকাল রাতে হাতিয়া চাননন্দী ইউনিয়নে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে এক তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শনিবার দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী। পরে তাকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় নলেরচর একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আজকে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্লাটফর্মে একজন নারী অভিযোগ করেছেন যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে একজন এডিশনাল এসপিকে পাঠানো হয়। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে সেখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সে ঘটনারও দুই ঘণ্টা আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তবু আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন রনি বলেন, সারাদিন যে ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছগানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এনসিপি এ সকল প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।
৬ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা 'চাঁদপুরের' জন্মদিন আজ

দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা 'চাঁদপুরের' জন্মদিন আজ

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নদীমাতৃক জনপদ চাঁদপুর জেলা জেলা দিবস। এই দিনেই প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে চাঁদপুর পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পদ্মা ও মেঘনার মিলনভূমিতে গড়ে ওঠা এ জনপদ আজ ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।১৯৬০ খ্রি. পর্যন্ত এ জেলার নাম ছিল ত্রিপুরা জেলা। যা ৪টি মহকুমা নিয়ে গঠিত ছিল। সেগুলো হলো ত্রিপুরা সদর উত্তর, ত্রিপুরা সদর দক্ষিণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর। ত্রিপুরার ২১টি থানা ও ৩৬২টি ইউনিয়ন কাউন্সিল ছিল। চাঁদপুর মহকুমায় চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও মতলব নামে ৫টি থানা ছিলো।ঔপনিবেশিক আমল থেকেই চাঁদপুর ছিল নদীপথকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে রেলস্টেশন ও নদীবন্দর স্থাপিত হওয়ায় এ অঞ্চল দ্রুত অর্থনৈতিক গুরুত্ব অর্জন করে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।বর্তমানে জেলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—চাঁদপুর সদর উপজেলা, হাইমচর উপজেলা, মতলব উত্তর উপজেলা, মতলব দক্ষিণ উপজেলা, ফরিদগঞ্জ উপজেলা, হাজীগঞ্জ উপজেলা ও কচুয়া উপজেলা—যেগুলো কৃষি, মৎস্য ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।চাঁদপুরের পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু হলো— চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা হলো পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর এক অপূর্ব মিলনস্থল, যা ‘বড় স্টেশন মোলহেড’ নামেও পরিচিত। দেশের সেরা ইলিশের জন্য এ জেলা বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার লঞ্চঘাট ও রেলওয়ে যোগাযোগ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও অন্যান্য জেলার সংযোগ স্থাপনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন ও নদীবন্দর দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল রেখেছে।২০১৭ সালে দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুর স্বীকৃতি পায়।মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অবদান। বিভিন্ন স্থানে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিচিহ্ন আজও স্বাধীনতার ইতিহাস বহন করছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, মেলা ও লোকজ ঐতিহ্য এই জেলাকে করেছে বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত।নদীভাঙন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ থাকলেও চাঁদপুর এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও কৃষিভিত্তিক উৎপাদন এ জেলার উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।জেলা দিবসে চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা—উন্নয়ন হবে টেকসই, নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে আরও অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।চাঁদপুর কেবল একটি প্রশাসনিক জেলা নয়; এটি নদী ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতীক, ইতিহাসের ধারক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল নাম।
১১ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

জার্মানিতে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

জার্মানিতে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

আলোচনার টেবিলে বসেছে বিশ্বরাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তারা জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে এই বৈঠকটি করেন। খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।আলোচনায় ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিতে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয় দু'পক্ষই।ওয়াং ই জানান, ইতিমধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। ২০২৬ সালে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে কাজ করবে উভয় পক্ষ।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

বেতার: ঐতিহ্যের আয়নায় সমাজ ও সময়ের বিবর্তন

বেতার: ঐতিহ্যের আয়নায় সমাজ ও সময়ের বিবর্তন

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব বেতার দিবস। প্রযুক্তির উৎকর্ষে আমাদের বিনোদনের মাধ্যম বদলেছে, বদলেছে যোগাযোগের ধরণ। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন সংবাদ, বিনোদন কিংবা সমাজের মানুষের একত্র হওয়ার একমাত্র উপলক্ষ ছিল বেতার। এবারের বিশ্ব বেতার দিবসে পাঠকদের লেখায় উঠে এসেছে বেতারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, গ্রামবাংলার সামাজিক বন্ধন এবং সময়ের স্রোতে এই মাধ্যমের বিবর্তনের চিত্র।হারিয়ে যাওয়া বেতার ও সোনালী অতীতফারনাজ মুক্তা২০১২ সাল থেকে ইউনেস্কোর ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব বেতার দিবস। বেতার কেবল একটি যন্ত্র নয়, এটি মানবসভ্যতার এমন এক আবিষ্কার যা তথ্য, শিক্ষা ও বিনোদনকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। যোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে এর জুড়ি মেলা ভার। পৃথিবীর দুর্গমতম স্থানেও মুহূর্তের মধ্যে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বেতার।একসময় গ্রামের মানুষের কাছে বিনোদন মানেই ছিল বেতার। নজরুল-রবীন্দ্রসংগীত, বাংলা ছায়াছবির গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান কিংবা টানটান উত্তেজনার খেলার ধারাবিবরণী—সবকিছুর উৎস ছিল এই বাক্সটি। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টির সংকেত বা রাজনৈতিক খবর জানার জন্যও মানুষ কান পাতত রেডিওতে। তবে আধুনিক যুগে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের দাপটে সেই সনাতন রেডিও আজ বিলুপ্তপ্রায়। গ্রামের হাটবাজারেও এখন আর ব্যাটারিচালিত রেডিওর দেখা মেলে না। প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এই বেতার আগামী প্রজন্মের কাছে হয়তো শুধুই এক সোনালি স্মৃতি হয়ে থাকবে।শিক্ষার্থী: সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ।উঠোনভর্তি আড্ডা ও ঐক্যের বন্ধনরুহুল আমিনএকসময় রেডিও এবং টেলিভিশন ছিল মানুষের আবেগের চূড়ান্ত স্থান। যার বাড়িতে একটি রেডিও বা টিভি থাকত, তিনি যেন এলাকাজুড়ে সমাদৃত হতেন। সারাদিন মাঠের কাজ শেষে রাতে যখন সবাই টিভির সামনে বা রেডিও ঘিরে গোল হয়ে বসত, মনে হতো যেন এক উৎসব লেগেছে। প্রতি রাতে কোনো এক উঠানে বসত প্রাণের মেলা, যেখানে সবাই পূর্ণাঙ্গ তৃপ্তি পেত।সেই আনন্দঘন মুহূর্তে বিঘ্ন না ঘটে, তাই যেন ঝিঁঝি পোকাও তাদের ডাক থামিয়ে গহীন নিস্তব্ধতায় রূপ দিত। আসর শেষ হলেই সবার মুখে ফুটত তৃপ্তির হাসি। শুরু হতো আখ্যান—কে কী শিখল তা নিয়ে আলোচনা। কেউ বলত, "দুঃখে কাউকে ছাড়তে নেই", কেউবা নাটকের উদাহরণ টানত। আমাদের সেই সোনালী অতীত আর হয়তো ফিরবে না। প্রযুক্তির উৎকর্ষে আমরা যত এগোচ্ছি, ততই যেন সেই একাত্মবোধ আর মনুষ্যত্ব থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।শিক্ষার্থী: অর্থনীতি বিভাগ (১ম বর্ষ), সরকারি আকবর আলী কলেজ।বেতার এক আবেগের নামইকরাম আকাশটেলিভিশন-পূর্ববর্তী বিনোদনের মাধ্যম ছিল বেতার। পরবর্তীতে সময়ের পরিক্রমায় বেতার হয়ে ওঠে তরুণদের ভরসার সঙ্গী। বেতারে যেন মনের প্রশান্তি নিয়ে এগিয়ে আসে। সকলের মনে গুনগুন করে ওঠে পছন্দের গান, আবহাওয়ার গতিবিধি, জ্যামের পরিস্থিতি এবং কানে গুঁজে রাখা হেডফোন এক নস্টালজিয়া।ভূত এফএম, আরজে কিবরিয়া, আরজে মিথিলাসহ অনেকের নাম কিংবা আর্টসেল, শিরোনামহীন, পুরোনো দিনের গান অথবা তৎসময়ে জনপ্রিয় সকল গানের ভান্ডারে যেন পরিপূর্ণ ছিল বেতার। বেতার শুধু গানের জন্য নয়, প্রিয় মানুষের কাছে মেসেজ পাঠানোরও সহজ মাধ্যম। যদিও এখন বেতারে কিছুটা ভাঁটা পড়েছে তবুও বৃদ্ধ থেকে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই আবেগের নাম বেতার।শিক্ষার্থী: সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।বেতার কেবল খবর বা গানের বাক্স ছিল না, এটি ছিল মানুষে-মানুষে যোগাযোগের এক অদৃশ্য সেতু। প্রযুক্তির ভিড়ে হয়তো রেডিওর সেই জৌলুস কমেছে, কিন্তু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাতায় বেতার চিরকাল অমলিন হয়েই থাকবে।
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদার রাখতে বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ভোটের মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষায় এই বিপুল সংখ্যক সদস্য কাজ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য দেশের ৫টি জেলার ১৭টি আসনে দায়িত্ব পালন করবেন। বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ সদস্য প্রস্তুত থাকবে সহায়তার জন্য। এছাড়া বিজিবির ১ হাজার ২১০ প্লাটুন, অর্থাৎ ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মোতায়েন থাকবে।কোস্টগার্ড দেশের ১০টি জেলার ১৭টি আসনের ২০টি উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য নিয়োজিত করবে। পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ সদস্য এবং র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ সদস্যও নির্বাচনী নিরাপত্তায় কাজ করবেন। পাশাপাশি আনসার বাহিনীর ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিএনসিসির ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।অন্যদিকে, নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার থাকবেন ৬৯ জন এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার ৫৯৮ জন। সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ২১ হাজার ২৭৩টি সাধারণ এবং ২১ হাজার ৫০৬টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রিজাইডিং অফিসার থাকবেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উৎসবমুখর পরিবেশে কাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

উৎসবমুখর পরিবেশে কাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা সঠিক নয়: পুলিশ

হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা সঠিক নয়: পুলিশ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চানন্দী ইউনিয়নে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের ঘটনাটি সম্পূর্ণ প্রোপাগান্ডা বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া সার্কেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।এর আগে গতকাল রাতে হাতিয়া চাননন্দী ইউনিয়নে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে এক তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শনিবার দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী। পরে তাকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় নলেরচর একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আজকে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্লাটফর্মে একজন নারী অভিযোগ করেছেন যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে একজন এডিশনাল এসপিকে পাঠানো হয়। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে সেখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সে ঘটনারও দুই ঘণ্টা আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তবু আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন রনি বলেন, সারাদিন যে ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছগানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এনসিপি এ সকল প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ