শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

ডিমের বাজার সিন্ডিকেট ও ডিম ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

পোলট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের মূল্য নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী পোল্ট্রি ডিলার এ্যাসেসিয়েশন ও প্রান্তিক খামারী সংগঠন।শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের মোসলেমের মোড় এই কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শতাধিক পোলট্রি ডিম ব্যবসায়ী ও খামারিরা অংশ নেন।এই মানববন্ধন আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন প্রান্তিক খামারী সংগঠনের সভাপতি প্রার্থী জয়নুল আবেদীন।এতে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী পোলট্রি ডিলার এ্যাসেসিয়েশন সেক্রেটারি মোঃ কামাল হোসেন , প্রান্তিক খামারী সংগঠনের সভাপতি প্রার্থী মোঃ জয়নুল আবেদীন , হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব, আদর্শ পোল্ট্রি ফিড এর মালিক মোঃ আরিফ হোসেন, নাটোর সুগার মিলের আয়ুব আলী, মোসলেমের মোড় কমিটির সেক্রেটারি মোঃ রেজাউল করিম রেজা, খামারি সাদ্দাম হোসেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পোলট্রি  খামারে ব্যবহৃত অন্যান্য দ্রব্যের দাম লাগামহীন হারে বেড়েছে। অথচ খামারে উৎপাদিত ডিম  দাম বাড়ে না। এ কারণে এই শিল্প ধ্বংস হওয়ার পথে। দিন দিন মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বেকারত্বের হারও বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও ডিমের দাম না দেওয়ায় খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।আরও বলেন, অনেক খামারী রয়েছে যারা পোল্ট্রি খামার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে আজ তারা নিঃশ্ব । অনেকেই সব কিছু হারিয়ে দেশের চলে গেছে আবার অনেকে বেকার হয়েছে।প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ হয় ৯ টাকা ৫০ পয়শা কিন্তু খামারীরা পাচ্ছে মাত্র ৬ টাকা ৫০ পয়শা। এতে খামারীরা উৎপাদন খরচ এর চেয়ে প্রতিটি ডিমে কম পাচ্ছে ৩ টাকা। এতে করে খামারীরা লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বেশি।খামারীরা দাবি করেন, ডিমের বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকার ডিমের বাজার সিন্ডিকেট মুক্ত করে ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে।স্থানীয় খামারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাচ্চু মিয়া, শফিকুল ইসলাম, নূর হক, ফরহাদ হোসেন, শামিম হোসেন, মোঃ রকি , শিমুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, মোঃ আলাউদ্দিন, ইয়াসিন আলী, কাওসার হোসেন'সহ বিভিন্ন স্থানের খামারীরা ।
৬ ঘন্টা আগে

ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ৩ থেকে ৪ লাখ প্রাণহানির শঙ্কা!

ফিলিপাইন ও আশপাশের অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অল্প ব্যবধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা আরও বেড়েছে।ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প যে কোনো সময় ঘটতে পারে। এমন একটি ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকার হাজার হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং প্রাণহানি ৩ থেকে ৪ লাখে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির প্রধান কারণ হবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল নির্মাণমান এবং ভবন নির্মাণে নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা। প্রকৌশলবিদদের একটি বহুল প্রচলিত বক্তব্য হলো “ভূমিকম্প মানুষকে হত্যা করে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে হত্যা করে।”যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য বলছে, প্রতি বছর গড়ে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ১৫ থেকে ১৬টি বড় ভূমিকম্প ঘটে।বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা (Magnitude) এবং তীব্রতা (Intensity) এক বিষয় নয়। তবে উভয়ই বেশি হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ এমন একটি ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই রয়েছে। ইতিহাস বলছে, ১৭৬২ সালে আরাকান অঞ্চলে প্রায় ৮ মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে ৮.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যদিও এর অর্থ এই নয় যে একই মাত্রার ভূমিকম্প এখনই হবে, তবে কখন ঘটবে সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৮৬৯ সালে কাছাড়ে ৭.৫, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল আর্থকোয়েক ৭.১, ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা বিবেচনায় বাংলাদেশে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প যে কোনো সময় ঘটতে পারে।তিনি জানান, বাংলাদেশের চারপাশে একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। এর মধ্যে ডাউকি ফল্ট, আরাকান ফল্ট এবং নোয়াখালী-সিলেট ও সিলেট-কাছাড় অঞ্চলের প্লেট বাউন্ডারিগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহন করছে।মেহেদী আহমেদ আনসারীর মতে, বড় প্রশ্ন হলো, এমন একটি দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা পর্যাপ্ত?জাইকা (JICA) ও সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (CDMP) এক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। তবে কোন ভবনগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো নেই।তিনি জানান, রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টিনশেড, ছোট ভবন বা বস্তি, যেখানে ধসের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কিন্তু অবশিষ্ট প্রায় ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবনের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। তবে আধুনিক নির্মাণমান নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করা, বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নাগরিকদের দুর্যোগ প্রস্তুতি বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
৭ ঘন্টা আগে

শিক্ষামন্ত্রীর গ্রামের সড়ক সংস্কার কাজ ঝুলে আছে

চাঁদপুর কচুয়া গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নে গোবিন্দপুর গ্রামে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এর বাড়ির সামনের ৩.৪ কিলোমিটার (এলজিইডি)’র গ্রামীণ সড়ক সংস্কার কাজ শুরে করে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। নির্ধারিত সময়ের একমাস পার হলেও কাজ শেষ করার কোন ধরণের উদ্যোগ নেই। সড়কে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও পানি জমে থাকায় চলমান বৃষ্টি মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ছে স্থানীয়দের। উপজেলা প্রকৌশলী বলছে চেষ্টা করছি এই ঠিকাদার দিয়ে কাজটি শেষ করার জন্য। আর না হয় চুক্তি বাতিল করে অন্য ঠিকাদার নিয়োগ হবে।উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়। সে আলোকে তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার কথা গত ১১ মে। এর মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারকে বেশ কয়েকবার তাগাদা দিলেও তিনি কাজটি শেষ করতে পারেননি। শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে ‘রহিমানগর-কৈতবা-আমুজান’ রহিমানগর বাজার সড়ক অভিমুখে ৩.৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ৩০লাখ টাকা।সরেজমিন ওই সড়কে গিয়ে দেখাগেছে, সড়কটি সংস্কার করার জন্য দুই পাশে ইট দিয়ে এজিং করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট ভেঙে রাখা হয়েছে। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি নেই। সড়কটির শুরু থেকে রহিমা নগর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে গর্ত এবং পানি জমে আছে। যে কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি হচ্ছে। কারণ এটি উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য মূল সড়ক। বিকল্প সড়ক দিয়ে গেলে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ঘুরে যেতে হয়।গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু রায়হান ও মিসবাহ উদ্দিন বলেন, গত কয়েমাস দেখছি সড়কের এজিং করে আর কাজ করা হয়নি। বহু বছর এই সড়কের সংস্কার বন্ধ। বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে আছে। বিকল্প সড়ক দিয়ে আমাদের চলতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা ও বৃষ্টি মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, কেশরকোট গ্রামের সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা। মন্ত্রীর বাড়ির সামনের এই সড়ক বহু বছর সংস্কার হয়নি। এখনো সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ। ওই এলাকার লোকদের এখন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে ঘুরে আসতে হয়।সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ রাখার কারণ জানতে ফোন করা হয় ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহকে। তিনি বলেন, কাজের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি কাজটি করবেন। অর্থ সংকটে তিনি কাজ করতে পারেননি। ঠিকাদার এ সময় অনেকটা হুমকি দিয়ে বলেন, গত ১৭বছর কোথায় ছিলেন। আপনি কী প্রধান প্রকৌশলী। কাজ সম্পর্কে এত প্রশ্ন করেন কেন?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর লিটন। এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যাওয়া হয় তার দপ্তরে। মন্ত্রীর বাড়ির সামনের সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে এমন প্রশ্ন করার পর তার জবাবে মনে হয়েছে ঠিকাদার তার আপন ভাই। তার পক্ষ নিয়ে কয়েক মিনিট কথা বললেন। ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহ শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের কাজ করে। সেখানে বিল পেলে এই কাজ শুরু করবেন। তাকে দিয়ে কাজটি করানোর জন্য চেষ্টা করছেন।তিনি আরো বলেন, সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ না করায় তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকেও চাপে রয়েছেন। ঠিকাদারকে অনুরোধ করার পরেও কাজটি শেষ করেননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে বিধি মোতাবেক বিকল্প ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করা হবে।
২৫ জুন ২০২৬
জামায়াতে নামাজ আদায় করায় সাইকেল পুরস্কার পেল ১৩ শিশু

জামায়াতে নামাজ আদায় করায় সাইকেল পুরস্কার পেল ১৩ শিশু

ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মসজিদমুখী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের দেশখাগুড়িয়া সমাজকল্যাণ পরিষদ। টানা ২৭৫ ওয়াক্ত জামায়াতে নামাজ আদায় করায় ১৩ শিশুকে সাইকেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দেশখাগুড়িয়া এলাকায় সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশখাগুড়িয়া সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আজাদ হোসেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল হামিদ। ১৩ শিশুর হাতে সাইকেল প্রদান এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকেও সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মুরতেজা কামাল, শিক্ষক আবদুল হান্নান, স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান, মাওলানা আবু বকর, জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা মজিবুর রহমান প্রমূখ।বক্তারা বলেন, শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।এ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উৎসাহিত করতে এমন উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

জাতীয় যুব পুরস্কার ঘিরে নতুন সিন্ডিকেট: সোহাগ মহাজনকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

জাতীয় যুব পুরস্কার ঘিরে নতুন সিন্ডিকেট: সোহাগ মহাজনকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজেকে গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি পরিচয়দানকারী সোহাগ মহাজনকে ঘিরে জাতীয় যুব পুরস্কার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক ও যুব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি জাতীয় যুব পুরস্কার অর্জনের চেষ্টা করছেন।অভিযোগ রয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন সোহাগ মহাজন। বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।প্রতি বছরের মতো এবারও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান কার্যক্রম চলছে। আত্মকর্মী ও সংগঠক ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার প্রদানের জন্য রয়েছে "জাতীয় যুব পুরস্কার নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬" এবং নির্ধারিত মূল্যায়ন কাঠামো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নীতিমালায় বর্ণিত যোগ্যতা ও কার্যক্রমের সঙ্গে সোহাগ মহাজনের বাস্তব কর্মকাণ্ডের যথেষ্ট মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরও তিনি বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে পুরস্কার তালিকায় স্থান পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যুব সংগঠক অভিযোগ করেছেন, তাদের জমাকৃত নথিপত্র ও কার্যক্রমের তথ্য গোপন বা বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। তাদের আশঙ্কা, পূর্বের বিতর্কিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে প্রকৃত যোগ্যদের বঞ্চিত করার অপচেষ্টা হতে পারে।উল্লেখ্য, গত বছর জাতীয় যুব পুরস্কারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় কয়েকজন ব্যক্তি অনিয়মের মাধ্যমে পুরস্কার লাভ করেন। পরে তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট পুরস্কার বাতিল ঘোষণা করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।এ বিষয়ে কয়েকজন সাবেক জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগঠকের সঙ্গে কথা বললে তারাও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, প্রকৃত যুব উদ্যোক্তা ও সংগঠকদের মূল্যায়নের পরিবর্তে যদি প্রভাব ও তদবির প্রাধান্য পায়, তাহলে জাতীয় যুব পুরস্কারের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহাগ মহাজন। তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
২৫ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

তীব্র ঝড়ের শঙ্কায় ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ

তীব্র ঝড়ের শঙ্কায় ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ

বুধবার রাতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৪টায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। তবে ঠিক সেই সময় মিয়ামিতে বজ্রসহ ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলে ম্যাচ সাময়িকভাবে স্থগিত করার নিয়ম রয়েছে। শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ১৫ মিনিট না পেরোনো পর্যন্ত খেলা পুনরায় শুরু করা যায় না। ফলে ম্যাচে দীর্ঘ সময় বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এর আগে সোমবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ফ্রান্স ও ইরাকের ম্যাচটি তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বিরতির সময় দর্শকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয় এবং খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। দীর্ঘ বিরতির কারণে উভয় দলের ফুটবলারদের ম্যাচে ফিরতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।স্কটল্যান্ডের প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্ক জানিয়েছেন, আবহাওয়ার কারণে ম্যাচে বিলম্ব হলে তা মোকাবিলার জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।মঙ্গলবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত রাতের ফ্রান্সের ম্যাচে আবহাওয়ার কারণে বিলম্ব হয়েছে। টুর্নামেন্টে এটাই প্রথম এমন ঘটনা। এখন পর্যন্ত আমরা হয়তো আবহাওয়ার দিক থেকে কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম।’তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির কারণে খেলা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছি। তবে বিলম্ব কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।’ক্লার্ক যোগ করেন, ‘শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তাই বিলম্ব দীর্ঘও হতে পারে। যদি খেলা স্থগিত হয়, তাহলে আশা করি সেটি খুব বেশি সময়ের জন্য হবে না। আমরা জানি, এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে।’নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে স্কটল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচ থেকে অন্তত এক পয়েন্ট অর্জন করা জরুরি। তবে হারলেও তাদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না, কারণ সেরা তিন দল পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে।
২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, ১ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, ১ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন,২০২৬) সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, এতে হাজার থেকে লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে।  ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।  ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ও বড় ভূমিকম্পটির কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য এবং ১ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।  তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আফটারশকের ঝুঁকি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকতে এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে জনগণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  দেশটির সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও।
২৫ জুন ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
০৯ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

০৯ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

জামায়াতে নামাজ আদায় করায় সাইকেল পুরস্কার পেল ১৩ শিশু

জামায়াতে নামাজ আদায় করায় সাইকেল পুরস্কার পেল ১৩ শিশু

ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মসজিদমুখী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের দেশখাগুড়িয়া সমাজকল্যাণ পরিষদ। টানা ২৭৫ ওয়াক্ত জামায়াতে নামাজ আদায় করায় ১৩ শিশুকে সাইকেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দেশখাগুড়িয়া এলাকায় সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশখাগুড়িয়া সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আজাদ হোসেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল হামিদ। ১৩ শিশুর হাতে সাইকেল প্রদান এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকেও সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মুরতেজা কামাল, শিক্ষক আবদুল হান্নান, স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান, মাওলানা আবু বকর, জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা মজিবুর রহমান প্রমূখ।বক্তারা বলেন, শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।এ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উৎসাহিত করতে এমন উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।
০৯ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি