শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চান্দিনায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত: দুর্ভোগের কবলে হাজার হাজার গ্রাহক

কুমিল্লার চান্দিনায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। তীব্র দাবদাহ ও গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে এই এলাকার স্বাভাবিক কর্মচঞ্চলতা। শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি কাজ—সবক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অঘোষিত লোডশেডিংয়ের কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।বিদ্যুৎ সংকটের এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এটি কেবল চান্দিনার সমস্যা নয়, বরং সারাদেশে চলমান বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়েরই প্রতিফলন এখানে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে চান্দিনা এলাকায় বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় ১৮১ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় এই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।তবে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতির আশা জাগিয়ে প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্টের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ যুক্ত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এই সহায়তাটুকু না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।বিদ্যুৎহীন দীর্ঘ সময়ের ফলে চান্দিনার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কলকারখানায় কাজ না থাকায় শ্রমিকরা যেমন বেকার হয়ে পড়ছেন, তেমনি মালিকপক্ষ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ খাবার পানি নিয়েও চরম সংকটে পড়েছেন, কারণ গভীর নলকূপগুলো বিদ্যুৎ ছাড়া অচল। সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে, যা অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলছে।সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দুর্ভোগের বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অবগত আছেন। এই সংকট কাটাতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তীব্র গরমে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি বন্ধে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনার সর্বস্তরের মানুষ। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকটের হাত থেকে মুক্তি মেলে চান্দিনাবাসীর।
২৪ এপ্রিল ২০২৬

সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।একই ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যার নম্বর ২২৭১।ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক (৪০) অভিযোগ করেন, মো. আনিসুর রহমান (৪০) ও মাওলানা শহিদুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি তাদের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অশ্লীল, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে আসছেন। এতে তার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ফেসবুক লিংকের মাধ্যমে নিয়মিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তারা আরও সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন।এর আগে গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার অপরাধ দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০, ধারা ১৭/২৫)। কিন্তু এরপরও অপপ্রচার বন্ধ না হওয়ায় তিনি পুনরায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হন।কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৪ এপ্রিল ২০২৬

ধরিত্রী দিবসে কালিয়াকৈরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘প্রফুল্ল’র বৃক্ষ বিতরণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে ধরিত্রী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণ করা হয়েছে। ‘পৃথিবীর প্রতি মানুষের ঋণ শোধের অন্যতম উপায় হলো বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে শিশুদের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।বৃহস্পতিবার সকালে সফিপুরের আল ফারাবী ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোর্শেদা হক।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ ও বনজ চারা তুলে দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আল ফারাবী ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক সরকার তার বক্তব্যে বলেন, “প্রকৃতি আমাদের আগলে রাখে, কিন্তু নগরায়নের ফলে আমরা প্রতিনিয়ত গাছ হারিয়ে ফেলছি। আজকের এই কোমলমতি শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতে একটি করে গাছ তুলে দেওয়ার অর্থ হলো একটি সুন্দর ও সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন বুনে দেওয়া। আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন একটি করে গাছ বড় করার দায়িত্ব নেয়।”অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক এবং সদস্য মাহমুদুল হাসান মন। এছাড়াও স্থানীয় সচেতন তরুণদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল মাহমুদ, আল আমিন রাকিব, অনিক মাহমুদ ও মোস্তাকিন হাসান মনিরসহ অনেকে।পুরো আয়োজনটির নেতৃত্বে ছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রফুল্ল’। সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর মোঃ শামিম হোসাইন এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বার ওমর ফারুক চৌধুরী মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচীটি সমন্বয় করেন। এছাড়াও প্রফুল্ল’র পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল সদস্যরা এই বৃক্ষ বিতরণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষার এই বার্তা শুধু একদিনের জন্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মের অভ্যাসে পরিণত করতেই তারা স্কুল পর্যায়ে এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। অনুষ্ঠান শেষে স্কুলের বাগান ও শিক্ষার্থীদের আঙিনায় রোপণের জন্য কয়েকশ চারাগাছ উপহার দেওয়া হয়।
২৩ এপ্রিল ২০২৬
সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ বাস মালিকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জব্দ করা একটি বাস হস্তান্তর করেছে। তবে এ ব্যাপারে জানেন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শাহিনুল ইসলাম গালিবের কাছে টাকা স্থানান্তর করে বলে জানান বাস মালিক পক্ষ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ জাকির পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ কোম্পানির একটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুক্তভোগী এবং বাস মালিকের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি।এরপর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মু. আবুল বাশার বাধা দেন।তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়ে ক্যাম্পাসে বাস নিয়ে এসেছে এবং প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেই ঘটনা সমাধান করার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। শিক্ষার্থীরা কেন এখানে সমঝোতা করে টাকা নেবে? আর প্রক্টরিয়াল বডি সমাধান না করে কেন শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ করে দিয়েছে, সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়।'প্রক্টরিয়াল বডির ভাষ্যমতে, তারা কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লেনদেনের অনুমতি দেয়নি এবং কারা এ লেনদেন করেছে, সে বিষয়েও তারা অবগত নয়।এ বিষয়ে শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, 'আমার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী আল-আরাফাহ বাসের এক কর্মচারীর হাতে মারধরের শিকার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি বাস নিয়ে আসি। এরপর প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাস মালিকপক্ষ আমাদের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলে।'তিনি আরও বলেন, 'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোঃ জাকির বলেন, 'গত ৯ তারিখ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছে বাসের এক কর্মচারী। এতে আমি আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাস মালিকপক্ষ আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে।'ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস হস্তান্তরের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশানকে এখনো জানানো হয়নি, তবে আমরা তাদেরকে জানাবো।”প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, ' গত সপ্তাহে আমরা বাস মালিকপক্ষের সাথে বসে বিষয়টা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় সেদিন সমাধান হয়নি। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু টাকা-পয়সা নিয়ে সমঝোতার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।'এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলে বাস নিয়ে আসেনি। তারা বাস আনার পাঁচ দিন পর আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর আমরা বাস মালিকপক্ষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু সেদিন প্রধান অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।'টাকা নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, 'টাকা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সেদিন হয়নি। এখন কেউ যদি টাকা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে, এমন অভিযোগ পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
৩৩ মিনিট আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়িমসি, সংসদে প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মামলা প্রত্যাহার হওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ হলেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর-এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে?উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামলার শিকার হয়েছেন, ২০ বছর আগে কবরে গেছেন এমন মানুষ মামলার শিকার হয়েছেন, দুই হাত পঙ্গু তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তিনি ঢাকা শহরে ময়লার ট্রাকে বোমা মেরেছে। এসব মামলার ধরন আমরা জানি। তিনি আরও বলেন, যেসব মামলা হয়েছে প্রত্যাহার হয়েছে তার সার্টিফাইড কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে দরখাস্ত করার অনুরোধ করব। আর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে অনুরোধ করব যেসব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট জটিলতা যাতে অতি দ্রুত নিষ্পন্ন করেন। এর বাইরে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না।
০১ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি খুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি খুন

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে একের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী।নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জামাল উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জের আবু নাসের শামীম।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের বারাকওয়ানে এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের শামীম (বারা শামীম)। নিহত আবু নাসের শামীমের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।স্থানীয় প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফোর্ডসবার্গ থেকে বাজার করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছান শামীম। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা এক আততায়ী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।প্রবাসীরা জানান, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।এদিকে এই ঘটনার দুই দিন আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে জোহানেসবার্গের পামরিজ এলাকায় দোকান লুটের সময় ডাকাতের গুলিতে নিহত হন জামাল উদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশিপুর গ্রামে।স্থানীয় সূত্র জানায়, একদল ডাকাত তার দোকানের কন্টেইনার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় নগদ টাকা ও মালামাল লুটের সময় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরপর দুটি ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এখন নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।এই দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। এই শোকাবহ মুহূর্তে আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকায় জব্দ বাস হস্তান্তর, জানে না কুবি প্রশাসন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ বাস মালিকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জব্দ করা একটি বাস হস্তান্তর করেছে। তবে এ ব্যাপারে জানেন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শাহিনুল ইসলাম গালিবের কাছে টাকা স্থানান্তর করে বলে জানান বাস মালিক পক্ষ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ জাকির পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ কোম্পানির একটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুক্তভোগী এবং বাস মালিকের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি।এরপর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মু. আবুল বাশার বাধা দেন।তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়ে ক্যাম্পাসে বাস নিয়ে এসেছে এবং প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেই ঘটনা সমাধান করার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। শিক্ষার্থীরা কেন এখানে সমঝোতা করে টাকা নেবে? আর প্রক্টরিয়াল বডি সমাধান না করে কেন শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ করে দিয়েছে, সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়।'প্রক্টরিয়াল বডির ভাষ্যমতে, তারা কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লেনদেনের অনুমতি দেয়নি এবং কারা এ লেনদেন করেছে, সে বিষয়েও তারা অবগত নয়।এ বিষয়ে শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, 'আমার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী আল-আরাফাহ বাসের এক কর্মচারীর হাতে মারধরের শিকার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি বাস নিয়ে আসি। এরপর প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাস মালিকপক্ষ আমাদের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলে।'তিনি আরও বলেন, 'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোঃ জাকির বলেন, 'গত ৯ তারিখ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছে বাসের এক কর্মচারী। এতে আমি আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাস মালিকপক্ষ আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে।'ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস হস্তান্তরের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশানকে এখনো জানানো হয়নি, তবে আমরা তাদেরকে জানাবো।”প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, ' গত সপ্তাহে আমরা বাস মালিকপক্ষের সাথে বসে বিষয়টা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় সেদিন সমাধান হয়নি। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু টাকা-পয়সা নিয়ে সমঝোতার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।'এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলে বাস নিয়ে আসেনি। তারা বাস আনার পাঁচ দিন পর আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর আমরা বাস মালিকপক্ষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু সেদিন প্রধান অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।'টাকা নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, 'টাকা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সেদিন হয়নি। এখন কেউ যদি টাকা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে, এমন অভিযোগ পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
৩৩ মিনিট আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চান্দিনায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত: দুর্ভোগের কবলে হাজার হাজার গ্রাহক

চান্দিনায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত: দুর্ভোগের কবলে হাজার হাজার গ্রাহক

কুমিল্লার চান্দিনায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। তীব্র দাবদাহ ও গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে এই এলাকার স্বাভাবিক কর্মচঞ্চলতা। শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি কাজ—সবক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অঘোষিত লোডশেডিংয়ের কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।বিদ্যুৎ সংকটের এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এটি কেবল চান্দিনার সমস্যা নয়, বরং সারাদেশে চলমান বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়েরই প্রতিফলন এখানে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে চান্দিনা এলাকায় বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় ১৮১ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় এই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।তবে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতির আশা জাগিয়ে প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্টের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ যুক্ত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এই সহায়তাটুকু না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।বিদ্যুৎহীন দীর্ঘ সময়ের ফলে চান্দিনার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কলকারখানায় কাজ না থাকায় শ্রমিকরা যেমন বেকার হয়ে পড়ছেন, তেমনি মালিকপক্ষ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ খাবার পানি নিয়েও চরম সংকটে পড়েছেন, কারণ গভীর নলকূপগুলো বিদ্যুৎ ছাড়া অচল। সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে, যা অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলছে।সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দুর্ভোগের বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অবগত আছেন। এই সংকট কাটাতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তীব্র গরমে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি বন্ধে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনার সর্বস্তরের মানুষ। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকটের হাত থেকে মুক্তি মেলে চান্দিনাবাসীর।
১৪ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র