শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চাঁদপুরে পরকীয়ার প্রতিবাদে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের কচুয়ায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মরিয়ম আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরে অভিযুক্ত স্বামী আলমগীর হোসেনকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে কচুয়া থানার পুলিশ।শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করেছে।ওসি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে এসআই সাজ্জাদ হোসেনসহ সঙ্গী ফোর্স রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কচুয়া থানায় আনা হচ্ছে। রবিবার (২৮ জুন) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। অপর অভিযুক্ত শাহীন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।এরআগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ১৮ বছর আগে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে আলমগীর তার চাচাতো ভাই প্রবাসী হুমায়ুনের স্ত্রী শাহীন আক্তারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলমগীর স্ত্রী মরিয়মকে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জ্ঞান হারালে তাকে প্রথমে সাচারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পর থেকে আলমগীর পলাতক ছিলেন। এদিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শাহীন আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
৩ ঘন্টা আগে

ঘানার আলোচিত সেই তান্ত্রিক জানালেন কে হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ঘানার বিতর্কিত আধ্যাত্মিক সাধক নানা কোয়াকু বনসাম। সম্প্রতি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ওপর জাদু করার দাবি করে আলোচনায় আসা এই 'উইচ ডাক্তার' এবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।নানা কোয়াকু বনসামের দাবি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও পর্তুগালই এবারের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, ফুটবল মাঠের বাইরেই এই ফলাফল ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে।বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি বলেন, "এই বিশ্বকাপ পর্তুগাল এবং রোনালদোর জন্য। তারাই জিতবে। পর্তুগাল আধ্যাত্মিক জগতে ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট জিতে গেছে। রোনালদো আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন, কারণ তার মুহূর্ত এসে গেছে।"বনসামের এই দাবি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, অতীতেও তিনি মাঠের ফলাফলের সঙ্গে আধ্যাত্মিক শক্তির সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ড-ঘানা বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে তিনি হ্যারি কেনকে লক্ষ্য করে আধ্যাত্মিক শক্তি প্রয়োগের কথা বলেন। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড গোলশূন্য ড্র করে এবং কেনও গোল করতে পারেননি।ম্যাচের আগে বনসাম বলেছিলেন, "আগেও দেখিয়েছি আমি কী করতে পারি। তাই তাকে (হ্যারি কেন) থামাতে আমাকে কী করতে হবে, তা আমি জানি।"ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্রয়ের পর তিনি আবারও শিরোনামে আসেন। তবে পরে হ্যারি কেনকে নিয়ে নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করেন। তিনি বলেন, "হ্যারি কেন আমার শত্রু নয়। আমার একটি সন্তান আছে, যার নাম শিগগিরই হ্যারি কেনের নামে রাখব।"নানা কোয়াকু বনসাম ঘানার অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তিনি তিনটি উপাসনালয় পরিচালনা করেন এবং নিজেকে একজন আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী পুরোহিত ও ভেষজ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। তার দাবি, আধ্যাত্মিক নির্দেশনা ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে তিনি মানুষকে সহায়তা করেন।এর আগেও, ২০১৪ বিশ্বকাপে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। সে সময় দাবি করেছিলেন, ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চোটের পেছনে তার ভূমিকা ছিল। তার ভাষ্য ছিল, তিনি আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে রোনালদোকে ম্যাচের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন।
৪ ঘন্টা আগে

ইতালিতে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের তিনজন নিহত

ইতালিতে নিজ বাসায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিন সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার করেছে দুর্বৃত্তরা।শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে রাজধানী রোমের পার্শ্ববর্তী এলাকা ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।নিহতরা হলেন, উপজেলার চরকাঁকড়া ৫ নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম ও ৫ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। এঘটনায় তার ২০ বয়সী ছেলে আমির হোসেন অয়ন আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের আত্মীয় আফনান হোসেন নাইম জানান, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাবুলের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। এসময় তারা বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার চলমান অবস্থায় বাবুলের ছেলে অয়ন বাহির থেকে ঘরে এসে রুমে প্রবেশ করার সময় বিষয়টি টের পায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা দ্রুত বের হওয়ার সময় অয়নকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে অয়নের চিৎকারে আশপাশের লোকজন বের হয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে  স্থানীয়রা বাবুলসহ চারজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অয়নকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় বাবুলের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জস্থ গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মখর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম বলেন, স্থানীয় ভাবে বিষয়টি শুনেছি। নিহতের গ্রামের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হবে।
১০ ঘন্টা আগে
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৭০০

হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৭০০

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৮ জনে।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন। এছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৬১৫ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জন এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এ সময়ে সারা দেশে ৭৪৪ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিশুদের সময়মতো হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
৩ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

অবশেষে বাংলাদেশীদের জন্য চালু হচ্ছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা

অবশেষে বাংলাদেশীদের জন্য চালু হচ্ছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিরা আবার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে।বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমরা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য স্বাভাবিক ভিসা আবেদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করছি। আগামী ২৮ জুন থেকে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।”তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরের ভিসা সেন্টারেও এ কার্যক্রম চালু করা হবে।হাইকমিশনার বলেন, “আমরা আশা করি, এর ফলে আমাদের দুই সার্বভৌম দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দৈনিক ঘোষণার ভিত্তিতে ভিসা কার্যক্রম স্থগিতই রাখা হয়।গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই মাসের মাঝামাঝি সীমিত পরিসরে কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা হয়।এরপর ১৬ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন কেবল জরুরি ও মেডিক্যাল ভিসা ইস্যু করবে।ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সেই অচলাবস্থার অবসান হয়নি। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। মে মাসের মাঝামাঝি খবর আসে, ভারত শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করতে যাচ্ছে। অবশেষে দেড় মাস পর নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিল।
১১ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ঘানার আলোচিত সেই তান্ত্রিক জানালেন কে হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

ঘানার আলোচিত সেই তান্ত্রিক জানালেন কে হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ঘানার বিতর্কিত আধ্যাত্মিক সাধক নানা কোয়াকু বনসাম। সম্প্রতি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ওপর জাদু করার দাবি করে আলোচনায় আসা এই 'উইচ ডাক্তার' এবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।নানা কোয়াকু বনসামের দাবি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও পর্তুগালই এবারের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, ফুটবল মাঠের বাইরেই এই ফলাফল ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে।বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি বলেন, "এই বিশ্বকাপ পর্তুগাল এবং রোনালদোর জন্য। তারাই জিতবে। পর্তুগাল আধ্যাত্মিক জগতে ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট জিতে গেছে। রোনালদো আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন, কারণ তার মুহূর্ত এসে গেছে।"বনসামের এই দাবি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, অতীতেও তিনি মাঠের ফলাফলের সঙ্গে আধ্যাত্মিক শক্তির সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ড-ঘানা বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে তিনি হ্যারি কেনকে লক্ষ্য করে আধ্যাত্মিক শক্তি প্রয়োগের কথা বলেন। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড গোলশূন্য ড্র করে এবং কেনও গোল করতে পারেননি।ম্যাচের আগে বনসাম বলেছিলেন, "আগেও দেখিয়েছি আমি কী করতে পারি। তাই তাকে (হ্যারি কেন) থামাতে আমাকে কী করতে হবে, তা আমি জানি।"ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্রয়ের পর তিনি আবারও শিরোনামে আসেন। তবে পরে হ্যারি কেনকে নিয়ে নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করেন। তিনি বলেন, "হ্যারি কেন আমার শত্রু নয়। আমার একটি সন্তান আছে, যার নাম শিগগিরই হ্যারি কেনের নামে রাখব।"নানা কোয়াকু বনসাম ঘানার অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তিনি তিনটি উপাসনালয় পরিচালনা করেন এবং নিজেকে একজন আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী পুরোহিত ও ভেষজ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। তার দাবি, আধ্যাত্মিক নির্দেশনা ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে তিনি মানুষকে সহায়তা করেন।এর আগেও, ২০১৪ বিশ্বকাপে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। সে সময় দাবি করেছিলেন, ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চোটের পেছনে তার ভূমিকা ছিল। তার ভাষ্য ছিল, তিনি আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে রোনালদোকে ম্যাচের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন।
৪ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ইতালিতে নিহত প্রবাসী পরিবারকে এক বছর আগে পাঠানো হয়েছিল হত্যার হুমকির চিঠি

ইতালিতে নিহত প্রবাসী পরিবারকে এক বছর আগে পাঠানো হয়েছিল হত্যার হুমকির চিঠি

ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী ও মেয়েসহ নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি কামাল উদ্দিন বাবুলকে প্রায় এক বছর আগে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বাবা সিরাজুল ইসলাম। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতমের মধ্যেই তিনি এ দাবি তুলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন স্বজন ও পরিচিতজনরা।নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “প্রায় এক বছর আগে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম। তিনি আরও জানান, শুক্রবার (২৬ জুন) ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডে জড়িত রয়েছে নিহত বাবুলের বন্ধু একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত।  নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮)।স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই নিহতদের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আহত অয়নকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।ইতালির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রোম পুলিশের বিশেষ শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন।কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।  
৩ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
১৯ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

১৯ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

হাতিয়ায় মামাতো বোনকে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ

হাতিয়ায় মামাতো বোনকে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাকিব উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের পরিবারের বিরুদ্ধে।শনিবার (২৭ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পর্কে তার আপন মামাতো বোন।স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছে। গত ২ জুন তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ৫ জুন বিকেলে কিশোরী তার এক খালাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্ত সাকিব জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে  নির্জন স্থানে নিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।আরও জানা গেছে, পরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা খালাতো বোন বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান পাননি। পরে তাকে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার পর তিনি অভিযুক্তের পরিবার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হাতিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।এদিকে মামলার পর থেকেই অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।তাদের দাবি, গত ১৬ জুন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য ও বহিরাগত কয়েকজন মিলে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ভুক্তভোগীর বাবা-মা, জ্যাঠা-জ্যাঠি ও শিশুসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরে তারা চিকিৎসা নেন এবং হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত সাকিব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য পরিচিত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। তবে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় একটি এবং পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৯ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি