শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাতিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নৈরাজ্যের রাজত্ব

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাত এখন রীতিমতো বাণিজ্যিক নৈরাজ্যের চেহারা নিয়েছে। দ্বীপনগরীর বিভিন্ন ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চলছে অতিরিক্ত টাকা আদায়, ভুল রিপোর্ট প্রদান, কমিশনভিত্তিক প্যাথলজি রেফারেন্স এবং অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সেন্টারের বেড়াজাল। চিকিৎসা নেওয়া সাধারণ মানুষ এখন কার্যত দুর্নীতির ফাঁদে আটকে পড়া রোগী।রোগীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির মতো টাকা আদায়, হাতিয়ার প্রায় সবগুলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নির্ধারিত ফি-র বাইরে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যে। এ রকম অভিযোগ এখন হাতিয়ার মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।কমিশন খাওয়ার উৎসবে ডাক্তার–ডায়াগনস্টিক সেন্টার আঁতাতে চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বহু চিকিৎসক রোগীকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান, কারণ সেখানে কমিশন অনিবার্য। প্রতিটি রিপোর্টে ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কমিশন ডাক্তার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে যায়- যার বোঝা পরে রোগীর ওপর।রোগী বাড়ে, কমিশন বাড়ে, সঠিক রিপোর্ট কমে। অনেক ল্যাবেই নেই দক্ষ টেকনোলজিস্ট। রিপোর্ট ভুল হলে দায় কে নেবে? হাতিয়ার বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই সনদপ্রাপ্ত টেকনোলজিস্ট, নেই এমবিবিএস প্যাথলজিস্টের সিগনেচার। অনেক সেন্টার প্যাথলজি রিপোর্টে কম দামের রি-এজেন্ট ব্যবহার করে, যার ফলে রক্তপরীক্ষা, থাইরয়েড, ডেঙ্গু, ইউরিন—সবক্ষেত্রেই রিপোর্ট ভুল আসছে নিয়মিত।রোগী ভুল রিপোর্টে ভুল চিকিৎসা নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে, স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে- কিন্তু প্রশাসনের তেমন নজরদারি নেই। অভিযোগ রয়েছে হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন এসব অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে জেনেও নীরবতা পালন করছে, শুধু ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতালে অনিয়ম নয় সকল ক্ষেত্রে অনিয়ম হচ্ছে জেনেও তারা কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়নি এবং নিচ্ছেও না। হাতিয়ায় লুকানো আরেক বাণিজ্য- টেস্টের নাম করে খালি কাগজে সিল-স্বাক্ষর! অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী উপস্থিত না থাকলেও টেস্টের রিপোর্ট 'সিরিয়াল দেখাতে' আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হয়। মেডিকেল ইনভেস্টিগেশন ছাড়াই রিপোর্ট তৈরি-যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যকে বিপন্ন করছে।স্বাস্থ্য বিভাগ নির্বিকার- নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের আশীর্বাদ ছাড়া এমন বেপরোয়া নৈরাজ্য সম্ভব নয়- স্থানীয়দের এমন অভিযোগ নিবন্ধনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বছরের পর বছর ধরে চালু, কিন্তু কোনো বাস্তবিক অভিযান বা লাইসেন্স যাচাইয়ের তৎপরতা নেই। স্থানীয়রা বলছেন, হাতিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেক্টর এখন খাঁচাবন্দি বাণিজ্য। রোগী বাঁচবে না মরবে- এটাই যেন ব্যবসায়ীদের আগ্রহ নয়।স্বাস্থ্যসেবা নয়, এখানে চলছে নির্যাতন’ অতিমাত্রায় ফি, ভুল রিপোর্ট এবং কমিশন-ভিত্তিক চিকিৎসায় রোগীরা চরম ভুক্তভোগী। তথ্য রয়েছে, হাতিয়ার মোট ডায়াগনস্টিক বাণিজ্যের অর্ধেকই অনিয়ন্ত্রিত বা অবৈধভাবে চলছে। প্রশাসন পালন করছে নিরব ভূমিকা, নিচ্ছে না কোন আইনি ব্যবস্থা।অভিযোগ রয়েছে বেশিরভাগই ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারি খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে হাতিয়া উপজেলার পৌরসভার সাধারণ জনগণের গলার কাঁটা হয়ে উঠবে।স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, ডাক্তার এক কথা বলে, রিপোর্ট আসে আরেক কথা। আমরা গরিব মানুষ-টাকা দিয়ে টেস্ট করি, কিন্তু রিপোর্টের উপর ভরসা রাখতে পারি না। ভুল রিপোর্টে চিকিৎসা নিলে জীবনটাই ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে।পৌরসভার বাসিন্দা ইমরান বলেন, অনেক সেন্টারে অপ্রশিক্ষিত লোক দিয়ে টেস্ট করানো হয়। ডাক্তারদের সাথে তাদের সিন্ডিকেট আছে-রোগী পাঠালে কমিশন দেয়। তারা সরাসরি জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। বুড়িরচর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা খাতুন (৪৫) বলেন, আমার রিপোর্ট ভুল আসার কারণে অন্য ওষুধ খেতে হয়েছিল। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে আবার টেস্ট করে বুঝলাম আগের রিপোর্ট ভুল ছিল। আমরা তাহলে কার কাছে যাবো?নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা সদরের স্থানীয় একজন চিকিৎসক বলেন, কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে যারা শুধুই ব্যবসা করছে, স্বাস্থ্যসেবা না। অনেক সময় তারা ভুল বা নিম্নমানের রিপোর্ট দেয়, যা চিকিৎসকদের জন্যও বিব্রতকর। এই সেক্টরে মনিটরিং খুবই দুর্বল।এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন  হাতিয়া উপজেলার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ বলেন, হাতিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো যেন হয়ে উঠেছে এক ধরনের 'নিয়ন্ত্রণহীন স্বাস্থ্য ব্যবসা কেন্দ্র' যেখানে রোগ নির্ণয়ের চেয়ে লাভই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুল রিপোর্ট, অতিরিক্ত ফি, কমিশন বাণিজ্য আর অদক্ষ জনবল- সব মিলিয়ে এই খাত এখন সাধারণ মানুষের জীবনের জন্যই হুমকি হয়ে উঠছে।এই বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মানসী রানী সরকারকে অফলাইনে ও অনলাইনে বার বার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি তাই তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্বাস্থ্য খাতে কোন অনিয়ম ও দূর্নীতি অভিযোগের বিষয়ে জানালে তিনি তা রেসপন্স করেন না।হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, আমি মাত্র জয়ের করছি আপাতত তেলের সিন্ডিকেট নিয়ে কাজ করছি, তার পর ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে কাজ করবো। তবে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা ও বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন মরিয়ম সিমি বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনায় নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। লাইসেন্সবিহীন বা মানহীন সেবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে আরও তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
৩ ঘন্টা আগে

চাঁদপুরে ইঞ্জিন চালিত ট্রলি-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ১

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পানি সেচের শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি মুরগী বহনকারী ট্রলির সাথে সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো.কিবরিয়া (৩০) নামের যাত্রী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় নারী সহ আহত হয়েছে আরো ৩জন।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জের বাকিলা এলাকায় ইউপি সদস্য জাফরের বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত কিবরিয়া শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী ইউনিয়নের রায়শ্রী গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে। আহত নারী রিনা বেগম (২৫) একই উপজেলার পিপলকরা এলাকার আবু সুফিয়ানের স্ত্রী। রিনাসহ অপর যাত্রিরা হাজীগঞ্জ থেকে সিএনজি স্কুটারে করে চাঁদপুর শহরে যাচ্ছিলেন।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত রিনা বেগম বলেন, আমাদের বহনকারী অটোরিকশা দ্রুত গতি ছিলো, ঠিক তেমনি বিপরীত দিক থেকে আসা মুরগীর ট্রলিটি দ্রুত বেগে এসে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে যাত্রীরা সিএনজি থেকে ছিটকে দুই দিকে পড়ে যায়। এর মাঝে কিবরিয়া নামের একজন সড়কের উপরে পড়েছে। ট্রলির সাথে মারাত্মক সংঘর্ষের কারণে তার শরীর থেকে মাথাটি আলাদা হয়ে যায়।স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার পর পর আমরা ছুটে এসে ৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই, তবে তাৎক্ষনিক তাদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। আহতের মধ্যে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক রয়েছেন। ট্র্রলি ও অটোরিকশা আটক রেখে পুলিশকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসি। আহত যাত্রী রিনা আমাকে জানান, নিহত ব্যক্তির নাম কিবরিয়া। অটোরিকশার সাথে মুরগীবহনকারী গাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। এর পরে কি হয়েছে তিনি আর স্মরণ করতে পারেন না।হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুর জব্বার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশা, ট্রলি ও মৃত ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৪ ঘন্টা আগে

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছান, এবং তার সঙ্গে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা রেবেকা সুলতানা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কুশল বিনিময় করেন। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করার পর কিছুক্ষণ খেলা দেখে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসেন।গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সাক্ষাৎ।
২৬ মার্চ ২০২৬
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ নানার বাড়ির বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে আবরাহাম (১) নামের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকালে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ৯নম্বর ওয়ার্ড আলীগঞ্জ-কংগাইশ গ্রামের বড় হাজী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুই দিন আগে শিশুটি তার মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। আবরাহাম একই উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালচোঁ গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুই দিন আগে মায়ের সাথে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে আবরাহাম। দুপুরে তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হন। এ সময় নানার বসতঘরের ভিতরের বাথরুমে থাকা বালতির পানিতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে শিশুটির মা ডাক-চিৎকার শুরু করেন। তাৎক্ষনিক পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত শিশুর পরিবারের ধারণা বসতঘরের বাথরুমের বালতির পানিতে শিশুটি খেলতে গিয়ে কোনভাবে উপুড় হয়ে বালটিতে আটকে যায়। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই শিশুটি মারা গিয়েছে। যে সব ঘরে সাঁতার না জানা শিশু থাকে, সেসব পরিবার যেন বাথরুমে কোনভাবে পানি জমিয়ে না রাখা হয় বলে পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু আহম্মেদ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ নেই।
২ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছান, এবং তার সঙ্গে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা রেবেকা সুলতানা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কুশল বিনিময় করেন। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করার পর কিছুক্ষণ খেলা দেখে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসেন।গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সাক্ষাৎ।
২৬ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ থামাতে ইরান চুক্তির জন্য ‘কাকুতি-মিনতি করছে’: ট্রাম্প

যুদ্ধ থামাতে ইরান চুক্তির জন্য ‘কাকুতি-মিনতি করছে’: ট্রাম্প

ইরান চুক্তির জন্য ‘কাকুতি-মিনতি করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরান শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না-এমন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টায় হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘রেকর্ড পরিষ্কার করার জন্য বলছি, চুক্তির জন্য তারা মিনতি করছে, আমি নই। গত কয়েকদিনে যা ঘটেছে, তা যারা দেখেছেন, তারা সবাই জানেন কেন (তারা এমন করছে)। আমি জানি না আমরা শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি করতে পারব কি না। আমি জানি না আমরা আদৌ তা করতে ইচ্ছুক কি না।’প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তিনি অদূর ভবিষ্যতে কোনো চুক্তিতে যেতে পারেন না।তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরানি নেতারাই মূলত আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন।ইরানিদের ‘চতুর মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বোকা নয়। তারা আসলে কিছু নির্দিষ্ট উপায়ে বেশ বুদ্ধিমান। তারা খুব বাজে যোদ্ধা, কিন্তু দুর্দান্ত মধ্যস্থতাকারী।’তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের চার সপ্তাহ আগেই এটি করা উচিত ছিল।’
২৬ মার্চ ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

ফেনী ইউনিভার্সিটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

ফেনী ইউনিভার্সিটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

ফেনী ইউনিভার্সিটিতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ফেনী ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাশেম। পতাকা উত্তোলন শেষে উপস্থিত সকলে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোহাঃ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে স্বাধীনতার তাৎপর্য ও জাতীয় দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সভায় আগত সকলকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাশেম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতার মহান আদর্শ, দেশের উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের দর্শন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের অগ্রগতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজন করার জন্য ফেনী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাবকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক সোহরাব হোসেন; কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন আহমেদ মাহবুব উল আলম; প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক মোঃ আয়াতুল্লাহ এবং ছাত্র উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক সুদীপ দাস। অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব মডারেটর মোঃ রেজওয়ান হোসেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ উল হক ভূঁইয়া এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার নুপুর। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা সাইমা ও মাহমুদুল হাসান।বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২৬ মার্চ ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ নানার বাড়ির বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে আবরাহাম (১) নামের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকালে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ৯নম্বর ওয়ার্ড আলীগঞ্জ-কংগাইশ গ্রামের বড় হাজী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুই দিন আগে শিশুটি তার মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। আবরাহাম একই উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালচোঁ গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুই দিন আগে মায়ের সাথে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে আবরাহাম। দুপুরে তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হন। এ সময় নানার বসতঘরের ভিতরের বাথরুমে থাকা বালতির পানিতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে শিশুটির মা ডাক-চিৎকার শুরু করেন। তাৎক্ষনিক পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত শিশুর পরিবারের ধারণা বসতঘরের বাথরুমের বালতির পানিতে শিশুটি খেলতে গিয়ে কোনভাবে উপুড় হয়ে বালটিতে আটকে যায়। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই শিশুটি মারা গিয়েছে। যে সব ঘরে সাঁতার না জানা শিশু থাকে, সেসব পরিবার যেন বাথরুমে কোনভাবে পানি জমিয়ে না রাখা হয় বলে পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু আহম্মেদ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ নেই।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ