বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

জামায়াতের স্বাবলম্বী প্রকল্পে সহায়তা পেল দুই অসচ্ছল পরিবার

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাইমচর  উপজেলা। তাদের উদ্যোগে এক দরিদ্র পরিবারকে এক বান টিন প্রদান করা হয়েছে এবং আরেক অসচ্ছল ব্যক্তিকে জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ উদ্বোধন করে দেওয়া হয়েছে।আজ ১৮ই মার্চ বেলা ৩ঃ০০ টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন বাহার, ৩ নং দক্ষিণ ইউনিয়নের আমির মাওলানা হাফিজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসচ্ছল মানুষদের পাশে দাঁড়ানো একটি সামাজিক দায়িত্ব। একটি ঘরের জন্য টিন প্রদান যেমন একটি পরিবারের মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করে, তেমনি একটি দোকান প্রদান একজন মানুষের জন্য স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করে দেয়।উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাহার তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামীক দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের জন্য স্বাবলম্বী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছেন। ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, প্রকৃত অসচ্ছল ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং তাদেরকেই এই সহায়তার আওতায় আনা হয়, যাতে তারা সমাজে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারেন।তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, বরং মানুষের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একটি ছোট দোকান একজন ব্যক্তির জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং ধীরে ধীরে তাকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সক্ষম।এ সময় উপকারভোগী পরিবারগুলো তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই সহায়তা তাদের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার পর তারা এখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক জীবনের।স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এমন মানবিক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তি ও সংগঠনকেও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
৪ ঘন্টা আগে

যমুনাসেতু দিয়ে এক দিনে ৪৭ হাজার যানবাহন পারাপার

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষ ঘরমুখো হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনাসেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু থেকে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ এবং ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন ছিল। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা।যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও এখনও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুইপাশে ২টি করে বুথ দিয়ে আলাদাভাবে মোটরসাইকেলের জন্য পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
১৫ ঘন্টা আগে

সাবেক দুইবারের এমপির মৃত্যু

চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি জি এম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সলিম উল্লা সেলিম।তিনি বলেন, বার্ধক্যজনিত রোগে তিনি মারা গেছেন।জি এম ফজলুল হক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি জি এম ফজলুল হক চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের তরপুরচন্ডি গ্রামে ১৯৪৭ সালে ১০ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে এবং দুই মেয়েসহ বহু রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, আত্মীয়, বন্ধু রেখে গেছেন।তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে পরাজিত হন। তিনি একবার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার ছিল গভীর আস্থা। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্লা সেলিম।
১৫ ঘন্টা আগে
অবৈধভাবে নদীর বালু উত্তোলন আমরা কেউ সমর্থন করবো না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অবৈধভাবে নদীর বালু উত্তোলন আমরা কেউ সমর্থন করবো না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নদীর কোল ঘেষে চাঁদপুর জেলা গড়ে উঠেছে। তাই খাল খননের পাশাপাশি নদীগুলো রক্ষা করতে হবে। নদী রক্ষা না হলে নদীর পাশের জেলাগুলো বিপদে পড়বে। আর এসব নদী থেকে পরিকল্পতিভাবে বালু উত্তোলন না করলে বসতি ভেঙে নদী গর্ভে যাবে। তখন সেখানকার বাসিন্দারা ছিন্নমূল হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিবে। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে আমরা কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে সমর্থন করবো না।বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টি চাঁদপুর সদর উপজেলার আয়োজনে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, এখন আমাদেরকে ওয়াদা করতে হবে আর কেউ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করবে না, নদীকে শ্রদ্ধা করবে। কারণ এই নদীতে আপনার জীবীকা। এই নদী যতদিন বেঁচে থাকবে, আপনিও বেঁচে থাকবেন।নাসীরউদ্দীন বলেন, চাঁদপুরের ব্যবসা বাণিজ্যসহ অনেক সুনাম ছিলো। কিন্তু যারাই বিগত দিনে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা চাঁদপুরের দিকে নজর দেয়ার সময় ছিলো না। আগেও চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী ছিলো এখনো আছে। মন্ত্রী আসে যায়, কিন্তু চাঁদপুরের শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। চাঁদপুর সরকারি কলেজসহ যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোর মান উন্নয়নে আমাদের নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা ভোট পেয়ে ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রী হয়ে চাঁদপুরের কথা ভুয়ে যায়েন না। বারবার নাড়ির টানে ফিরে আসতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের নমুনা হচ্ছে-আপনি যদি অমুক দলের পোস্টে থাকেন তাহলে আপনি ভিসি হতে পারবেন, আপনি যদি নির্বাচনে পরাজিত হন, তাহলে আপনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারবেন। কিন্তু দলীয় যে কোটার নিয়ম এটার বিরুদ্ধেই আমাদের আন্দোলন হয়েছিলো। তখন আপনারা বলেছিলেন কোটা না মেধা। কিন্তু এখন কোটায় নিয়োগ হচ্ছে। আপনারা দেখেন বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগ হয়েছে সোয়েটার ব্যবসায়ী।তিনি আরো বলেন, আমরা দেখছি আওয়ামী লীগ আবার পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এদের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে। কারো যদি তাদের প্রতি এত পিরিত থাকে, তাহলে ভারতে শেখ হাসিনার কাছেই চলে যান।এই নেতা বলেন, অবৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যাদের বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই, তারা যেন কোনোভাবেই কাজ করতে না পারে সে বিষয়ে স্থানীয়দের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা নামে-বেনামে ঠিকাদারি করতে আসে, তাদের চিহ্নিত করে বড় বড় খালি গাছের সাথে বেঁধে আটক রেখে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবেন।ইফতার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী তামিম খান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা শাখার আহবায়ক সাগর হোসেন।চাঁদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

ঈদ ফিরতি ট্রেনযাত্রার ষষ্ঠ দিনের টিকিট বিক্রি হবে আজ

ঈদ ফিরতি ট্রেনযাত্রার ষষ্ঠ দিনের টিকিট বিক্রি হবে আজ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব শেষ হওয়ার পর ঘরমুখো মানুষের ফিরতি যাত্রার জন্য আজ ট্রেনের আসনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ষষ্ঠ দিন। বুধবার (১৮ মার্চ) পাওয়া যাবে আগামী ২৮ মার্চের ট্রেনের টিকিট।বরাবরের মতো এবারও আন্তঃনগর ট্রেনের সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে।সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে এসব টিকিটের বিক্রি শুরু হবে। এ সময় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের টিকিট পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনযাত্রার প্রস্তুতিমূলক সভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ মার্চের টিকিট ১৩ মার্চ, ২৪ মার্চের টিকিট ১৪ মার্চ, ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ এবং ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া, ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চে বিক্রি করা হবে।আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে, নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট এক যাত্রী সর্বোচ্চ একবার কিনতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করা যাবে। কোনো টিকিট রিফান্ড করা হবে না।
১৫ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

শেল্টারে যাওয়ার আগেই আঘাত হানল মিসাইল, ইসরায়েলে দুজন নিহত

শেল্টারে যাওয়ার আগেই আঘাত হানল মিসাইল, ইসরায়েলে দুজন নিহত

ইরানের মিসাইল হামলায় দখলদার ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের রামাত গানে দুজন নিহত হয়েছেন। ইরান থেকে মিসাইল ছোড়ার পর সাইরেন বাজলে তারা নিজেদের বাড়ির বোমা শেল্টারে ঢুকতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মিসাইল এসে আঘাত হানে, যার ফলে দুজনের মৃত্যু হয়।টাইমস অব ইসরায়েল নামক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত দুই ব্যক্তির বয়স প্রায় ৭০ বছর। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাপার্টমেন্টের সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ওই সময় ভবনের বোমা শেল্টারের দিকে যাচ্ছিলেন।এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল, ইরান নতুন হামলায় ক্লাস্টার মিসাইল ব্যবহার করেছে, যেগুলোর প্রতিটিতে ২০টি ছোট বোমা থাকে। যখন মিসাইলগুলো নিচে নেমে আসে, তখন এই বোমাগুলো মিসাইলের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। এগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় আড়াই কেজি, ফলে যেখানে আঘাত হানে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
১৯ ঘন্টা আগে
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

ঈদের দিনেও বাড়ি ফেরা হবে না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ আনসার সদস্যের

ঈদের দিনেও বাড়ি ফেরা হবে না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ আনসার সদস্যের

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ প্রিয়জনের কাছে ফিরছেন, ঠিক তখনই পরিবারের সান্নিধ্য থেকে দূরে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ জন আনসার সদস্য।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে কর্মরত মোট ৬৪ জন আনসার সদস্যের মধ্যে ৫১ জনই এবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা ক্যাম্পাসেই দায়িত্ব পালন করছেন।ঈদের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ফাঁকা হয়ে গেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতা রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খালি রাস্তা, নির্জন আবাসিক হল এবং বন্ধ একাডেমিক ভবনের মাঝেও নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।আনসার কমান্ডার মো. সুজানুর রহমান সুজন বলেন, “ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছা করে। কিন্তু দায়িত্বের কথা ভেবে থাকতে হচ্ছে। আমরা দায়িত্বে থাকি বলেই অন্যরা নিশ্চিন্তে ঈদ উদযাপন করতে পারে।”নিরাপত্তাকর্মী মো. রুবেল হোসেন বলেন, “ঈদের সময় পরিবারের কথা খুব মনে পড়ে। কষ্ট তো হয়ই। তবে দেশের জন্য কাজ করছি—এটাই গর্বের। দায়িত্বই আগে।”আরেক আনসার সদস্য মো. বকুল হোসেন বলেন, “ঈদের দিনে পরিবারের কথা বেশি মনে পড়ে। ফোনে সবাইকে একসঙ্গে দেখলে খারাপ লাগে। তবু দায়িত্বের কথা ভেবে নিজেকে সামলে নিই।”বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার রাখতে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।এদিকে ঈদের আনন্দের মধ্যেও দায়িত্বে থাকা এসব আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।
১৭ মার্চ ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

হাতিয়ায় দুই হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন ইয়াহইয়া ফাউন্ডেশন

হাতিয়ায় দুই হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন ইয়াহইয়া ফাউন্ডেশন

নোয়াখালী হাতিয়ায়  দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন মাষ্টার মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া ফাউন্ডেশন । মঙ্গল ও বুধবার দুই দিনব্যাপী প্রায় দুই হাজার পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও শাড়ি বিতরণ করা হয়।উপজেলা তমরদ্দি ইউনিয়নের খিরোদিয়া গ্রামে মাস্টার ইয়াহইয়া মাদ্রাসা মাঠে এই বিতরণ কার্যক্রম করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন  ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মোসলেহ উদ্দিন নিজাম চৌধুরী, সভাপতি মহি উদ্দিন হেলাল চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ফারুক চৌধুরী, হাফেজ মাওলানা আকবর আলী এবং অন্যান্য সমাজকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এর আগে তমরদ্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই হাজার লোকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তালিকায় থাকা লোকজনকে লাইনে দাড় করিয়ে বিতরণ করা হয় ঈদ সামগ্রী। মহিলাদের দেওয়া হয় শাড়ি ও পুরুষদের দেওয়া হয় নগদ অর্থ।এই বিষয়ে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মোঃ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমারা নিজস্ব অর্থায়নে চেষ্টা করি এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এই ফাউন্ডেশনের মুল উদ্দেশ্য হলো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ইতিমধ্যে অনেক অসহায় পরিবারকে নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশনটি শুধুমাত্র সামাজিক সহায়তা নয়, বরং একটি হাফেজি মাদ্রাসা, একটি নূরানী মাদ্রাসা এবং একটি কাওমী মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছে। 
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মতামত

মতামত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও টিকে থাকবে, আবার জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত হয়। এতে মাহফুজ আলম বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সংস্কার প্রক্রিয়া, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের টানাপোড়েন এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তার মতে, এই কাঠামোর ভেতরে থেকে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা সবাই পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে গেলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া কঠিন।তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা, যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করে দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তার মতে, ক্ষমতায় বিএনপি কিংবা জামায়াত, যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত নিরাময় করতে না পারলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনর্নির্ধারণ না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় যেতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই মাসের ২৮ তারিখ মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন। তিনি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
ডেস্ক নিউজ