শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে: কুমিল্লায় জামায়াত আমীর

জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিলেট বিভাগ হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না, কুমিল্লা বিভাগ দিয়ে দেন। ১৯৯৪ সাল থেকে কুমিল্লাবাসী বিভাগের দাবি করে আসছে। তাই ‘কুমিল্লা' নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় লংমার্চ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনারা কি ঠিকমতো গ্যাস পান, বিদ্যুৎ পান, পানি পান? চাঁদাবাজি ছাড়া কি ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় কি দুর্নীতি আছে? আপনারা কি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চান?দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জনদুর্ভোগের অবসানসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নামার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সমাধানের জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনারা কি সমাধান চান? দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব দাবি আদায় করেই ছাড়ব। ডিজিটালম্যাপ দেখুনতিনি বলেন, জনগণের দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং সব দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবেন।কুমিল্লার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লা এ কারণে কুমিল্লার প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব দেখানো হয়ে থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো জেলা বা অঞ্চলের মানুষকে অবহেলা কিংবা অপমান করা হলে সেই অঞ্চলের মানুষ মনে কষ্ট পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।জামায়াত আমির বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি ভালো? সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আপনারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন কিছু বলেন না? তিনি তো সংসদে সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। উনার নিজের মন্ত্রণালয়ের তো কোনো খবর নেই, আমরা আর কী বলব! সংবাদআর্কাইভ অনুসন্ধানতিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির সিনিয়র নেতা বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন দেশে নাকি মাদকের জয়জয়কার চলছে এবং এসব মাদক আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই। কিন্তু তিনি নিজের বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারছেন না, অথচ সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।লংমার্চ কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।এ ছাড়া সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবদুল হালিমসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
১ ঘন্টা আগে

অবশেষে আলোচনার জট কাটিয়ে সিসিকে মেয়র প্রার্থী দিল জামায়াত

আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে থাকা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।সিলেট মহানগরীর থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের দিনব্যাপী 'শিক্ষা শিবির'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের পক্ষে এই ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম এমপি।সিলেট মহানগরীর থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের দিনব্যাপী ‘শিক্ষা শিবির’ চলাকালে ড. বাবুলের নাম ঘোষণা করে তাঁর জন্য কাজ করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেন এটিএম আজহার। এমনটা জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নগরবাসীর নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং সিলেট সিটিকে "একটি ইনসাফভিত্তিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য মডেল নগরী" হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি বাবুলকে "পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও সততার প্রতীক" আখ্যায়িত করে এই বার্তা নগরীর প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন থানা ইউনিটের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সিসিকের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
২২ ঘন্টা আগে

নোয়াখালী বিভাগ করার দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন ঢাকাস্থ নোয়াখালীর বাসিন্দারা। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।আন্দোলনকারীরা নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানান।/টিডিএন
২৩ ঘন্টা আগে
রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের যানবাহন চোখে পড়লেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুলাইয়ে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে এমন অনেক গাড়ি চলাচল করছে, যেগুলো থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। তবে গাড়ির মান বা ফিটনেস নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নয়। কোনো যানবাহন আইন ভঙ্গ করলে ট্রাফিক পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।তিনি জানান, প্রতিবছর বিআরটিএ থেকে যানবাহনের ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়। সাধারণত ইঞ্জিনের ত্রুটি হলে কালো ধোঁয়া তৈরি হতে পারে। নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের কারণেও ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু মামলা করে সমস্যার সমাধান নয়ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হলেও শুধু মামলার সংখ্যা প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনেক গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা হওয়ার পরও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন দেখা যায় না।তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে সমস্যার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। এরপর কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।জুলাইয়ের মামলাগুলোর অধিকাংশই বাস ও কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি শনাক্ত করতে সব সময় আলাদা কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে খালি চোখেই ধোঁয়া দেখে তা বোঝা যায়। দৃশ্যমানভাবে অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গত হলে সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দূষণের প্রভাব ট্রাফিক পুলিশের ওপরওআনিছুর রহমান বলেন, কালো ধোঁয়া শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ এ দূষণের সরাসরি শিকার হচ্ছে।তিনি বলেন, কালো ধোঁয়ার কারণে চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে নানা ধরনের ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ মানুষ কিছুক্ষণ রাস্তায় থাকার পর অন্যত্র চলে যেতে পারেন, কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশের সেই সুযোগ থাকে না। যৌথ অভিযানেও রয়েছে সীমাবদ্ধতাডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সময়ে যৌথ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। তবে চেকপোস্ট বসানো হলে অনেক কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি সড়কে না নেমে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। অভিযান শেষ হলে আবার সেগুলো চলাচল শুরু করে।তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা বা মামলা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা পুলিশের নেই। তারপরও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার পরও একই অপরাধে আবার ধরা পড়লে দ্বিগুণ জরিমানা করা হয়।তবে শুধু মামলা ও জরিমানার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আনিছুর রহমান। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় তাদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে আসে। কিন্তু কালো ধোঁয়ার সমস্যা যে বাস্তব, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তির ভাবনাকালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দ ও হর্নের ব্যবহার নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শব্দদূষণের অভিযোগে গত মাসে অনেক মামলা করা হয়েছে।তিনি বলেন, রাজধানীতে নীরব এলাকা ঘোষণা করে সাইনবোর্ড দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানছেন না। নীরব এলাকা কোথা থেকে শুরু বা শেষ হচ্ছে, সেটিও অনেকে খেয়াল করেন না। ফলে সেখানে নিয়ম ভেঙে হর্ন বাজানোর ঘটনা ঘটছে।আনিছুর রহমান জানান, উন্নত বিশ্বে ‘হর্ন পি’ নামে একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা কোন গাড়ি নিয়ম ভেঙে হর্ন বাজিয়েছে তা শনাক্ত করতে পারে। বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ চলছে।তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যয় ও বাজেটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের যানবাহন চোখে পড়লেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুলাইয়ে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে এমন অনেক গাড়ি চলাচল করছে, যেগুলো থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। তবে গাড়ির মান বা ফিটনেস নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নয়। কোনো যানবাহন আইন ভঙ্গ করলে ট্রাফিক পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।তিনি জানান, প্রতিবছর বিআরটিএ থেকে যানবাহনের ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়। সাধারণত ইঞ্জিনের ত্রুটি হলে কালো ধোঁয়া তৈরি হতে পারে। নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের কারণেও ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু মামলা করে সমস্যার সমাধান নয়ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হলেও শুধু মামলার সংখ্যা প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনেক গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা হওয়ার পরও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন দেখা যায় না।তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে সমস্যার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। এরপর কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।জুলাইয়ের মামলাগুলোর অধিকাংশই বাস ও কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি শনাক্ত করতে সব সময় আলাদা কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে খালি চোখেই ধোঁয়া দেখে তা বোঝা যায়। দৃশ্যমানভাবে অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গত হলে সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দূষণের প্রভাব ট্রাফিক পুলিশের ওপরওআনিছুর রহমান বলেন, কালো ধোঁয়া শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ এ দূষণের সরাসরি শিকার হচ্ছে।তিনি বলেন, কালো ধোঁয়ার কারণে চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে নানা ধরনের ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ মানুষ কিছুক্ষণ রাস্তায় থাকার পর অন্যত্র চলে যেতে পারেন, কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশের সেই সুযোগ থাকে না। যৌথ অভিযানেও রয়েছে সীমাবদ্ধতাডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সময়ে যৌথ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। তবে চেকপোস্ট বসানো হলে অনেক কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি সড়কে না নেমে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। অভিযান শেষ হলে আবার সেগুলো চলাচল শুরু করে।তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা বা মামলা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা পুলিশের নেই। তারপরও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার পরও একই অপরাধে আবার ধরা পড়লে দ্বিগুণ জরিমানা করা হয়।তবে শুধু মামলা ও জরিমানার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আনিছুর রহমান। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় তাদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে আসে। কিন্তু কালো ধোঁয়ার সমস্যা যে বাস্তব, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তির ভাবনাকালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দ ও হর্নের ব্যবহার নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শব্দদূষণের অভিযোগে গত মাসে অনেক মামলা করা হয়েছে।তিনি বলেন, রাজধানীতে নীরব এলাকা ঘোষণা করে সাইনবোর্ড দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানছেন না। নীরব এলাকা কোথা থেকে শুরু বা শেষ হচ্ছে, সেটিও অনেকে খেয়াল করেন না। ফলে সেখানে নিয়ম ভেঙে হর্ন বাজানোর ঘটনা ঘটছে।আনিছুর রহমান জানান, উন্নত বিশ্বে ‘হর্ন পি’ নামে একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা কোন গাড়ি নিয়ম ভেঙে হর্ন বাজিয়েছে তা শনাক্ত করতে পারে। বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ চলছে।তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যয় ও বাজেটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
১ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

আবারও দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি

আবারও দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। জন্মাষ্টমীর উৎসবকে কেন্দ্র করে বাইরে বের হওয়া মানুষও এ সময় বৃষ্টির মধ্যে পড়েন। আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি এবং আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে ফের রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।দুপুরের দিকে কালো মেঘে ঢেকে যায় দিল্লির আকাশ। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে।আইএমডির তিন ঘণ্টা অন্তর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পালামে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৩.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অন্যদিকে, নজফগড়ে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ০.৫ মিলিমিটার। ওই সময়ের মধ্যে দিল্লির অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি।দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জারি করা স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসে আইএমডি জানায়, পরবর্তী দুই ঘণ্টায় দিল্লির অনেক এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোর আশঙ্কাও রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।অন্য এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকাতে পারে। এ সময়ও কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী তিন ঘণ্টায় দিল্লির বেশিরভাগ এলাকায় মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে, যা দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।এর আগে ২৫ আগস্টও দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়েছিল। সেবার জলমগ্ন সড়ক, কোথাও কোমরসমান পানি এবং ধীরগতির যানবাহনের কারণে তীব্র যানজট দেখা যায়। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তখনও রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল আইএমডি।
১৯ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

চাঁদপুরে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ী শরিফ একাদশ

চাঁদপুরে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ী শরিফ একাদশ

চাঁদপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন মাঠে স্থানীয় যুব ও কিশোরদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আনন্দঘন পরিবেশে এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরিফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ বলেন, “যাঁরা বিভিন্ন ফুটবল এবং ক্রিকেটে পারদর্শী, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি ক্রীড়া সংগঠন দাঁড় করাবেন। এক্ষেত্রে যদি আমার সহযোগিতা লাগে, আমি আপনাদের সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর।”তিনি আরও বলেন, “আপনারা অবগত আছেন চাঁদপুর মাটি ও মানুষের নেতা, চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই নিজে একজন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক। তিনি সর্বদাই খেলাধুলাকে উৎসাহিত করেন এবং তরুণ ও শিশু-কিশোরদের অনুপ্রেরণা জোগান। পাশাপাশি ক্রীড়া অঙ্গনের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। আমি আমার নেতার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আপনারা উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করুন, খেলার মাঠের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য আমরা সরকারিভাবে জায়গা বরাদ্দের ব্যবস্থা ও সার্বিক সহযোগিতা করব। বিষয়টি আমি মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কেও অবহিত করব।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিন্টু দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক খান, বিএনপি নেতা স্বপন, জেলা ছাত্রদল নেতা সোহাগ বেপারী, যুবদল নেতা অফিল মিজি, ফারুক ঢালি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলমগীর ও মোবারকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ফাইনাল ম্যাচে 'শরিফ একাদশ' ও 'খান বাড়ি একাদশ' মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় ট্রাইবেকারে। শেষ পর্যন্ত ট্রাইবেকারে ৩-১ ব্যবধানে খান বাড়ি একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে শরিফ একাদশ। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের মাঝে ট্রফি বিতরণ করেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ।খেলায় বিপুল পরিমাণ দর্শক উপস্থিত ছিল।
০৩ আগস্ট ২০২৬
গর্ভবতীদের জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান

গর্ভবতীদের জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান

০৩ আগস্ট ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
১৬ আগস্ট ২০২৬
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
০৩ আগস্ট ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ