সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

মেঘনা ভাঙনে হুমকিতে উপকূল, জরুরি কাজের আশ্বাস পানিসম্পদ মন্ত্রীর

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে এখানে বসবাস করে। নদীর পাড়ে এ অঞ্চলের মানুষ যারা থাকে, তারা সব সময় ভাঙ্গন, প্লাবন, বন্যা এই পরিস্থিতি গুলোকে মোকাবেলা করে এখানে বসবাস করে আসছে।রোববার (১৭ মে) দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আজকে দেশে একটা নির্বাচিত সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের দুর্দশা লাঘবে যখন যা কিছু করা দরকার সব কিছুর দিকেই তিনি নজর রাখছেন। প্রত্যেকটা দাবির প্রতি তিনি মর্যাদা দিচ্ছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেই দিক বিবেচনায় আমরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের পাশে থেকে জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি।মন্ত্রী আরও বলেন, মেঘনা নদীর বাঙ্গন সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করলাম। অনেক বাজার, স্কুল, কলেজ, জমি সবই ভেঙ্গে যাচ্ছে। চোখের সামনে আমরা দেখতেছি একটা স্কুল ভেঙ্গে পড়েছে। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরি কাজ হাতে নিয়েছি। আমার বিশ্বাস সবাই একসাথে কাজ করলে মানুষ উপকার পাবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোসহ স্থানীয় নেতারা।
১৯ ঘন্টা আগে

প্রযুক্তি কি ভবিষ্যৎ গড়ছে, নাকি তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাতে মোবাইল। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত ফেসবুক, গেম, শর্ট ভিডিও কিংবা অনলাইন আড্ডা এভাবেই দিন কাটছে অনেক তরুণের। প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার তৈরি করছে ভয়ংকর আসক্তি। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মোবাইল নির্ভরতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়; বরং এর ভুল ব্যবহারই বড় সমস্যা। একই মোবাইল ফোন দিয়ে কেউ অনলাইনে দক্ষতা শিখে আয় করছে, আবার কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিংয়ে।বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় দিচ্ছে। রাত জেগে গেম খেলা, শর্ট ভিডিও দেখা কিংবা অকারণে অনলাইনে সময় কাটানোর ফলে কমছে মনোযোগ, বাড়ছে মানসিক চাপ এবং দেখা দিচ্ছে ঘুমের সমস্যা। পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কেও তৈরি হচ্ছে দূরত্ব।তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারও কম নয়। এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেই অনেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখছে, অনলাইন ব্যবসা করছে, ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা গ্রাফিক ডিজাইনের মতো দক্ষতা অর্জন করছে। ইউটিউব, অনলাইন কোর্স এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।শিক্ষাবিদদের মতে, প্রযুক্তিকে নিষিদ্ধ নয়, নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার শেখাতে হবে। পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং শিশু-কিশোরদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে মোবাইল ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি খেলাধুলা, বই পড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে।তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল ফোন একদিকে যেমন জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার, অন্যদিকে অপব্যবহারে তা হতে পারে সময় ও মেধা নষ্টের বড় কারণ। তাই প্রযুক্তিকে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদে পরিণত করতে প্রয়োজন সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ব্যবহার।
২০ ঘন্টা আগে

অক্ষরহীন এক চিত্রনাট্য, মারুফের লেন্সের জাদুতে 'প্রভালোচন'

​বলা হয়ে থাকে, একটি ছবি হাজারটি শব্দের সমান। কখনো কখনো হাজার শব্দের দীর্ঘ বর্ণনাও যে অব্যক্ত অনুভূতি ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, ক্যামেরার একটি ক্লিক যেন মুহূর্তেই তার সবটুকু বলে দেয়। ফটোগ্রাফি হলো সময়ের বুকে এক চিমটি আলো দিয়ে আঁকা চিরন্তন এক চিত্রনাট্য; চারপাশের বয়ে চলা জীবনের যে মুহূর্তটি এইমাত্র হারিয়ে গেল, তাকে অনন্তকালের জন্য বন্দি করার এক জাদুকরী শিল্প।​বিখ্যাত মার্কিন ফটোগ্রাফার ইমোজেন কানিংহাম একবার বলেছিলেন, "আমার প্রিয় ছবি হলো সেটিই, যা আমি আগামীকাল তুলবো।" প্রতিটি নতুন ফ্রেমে অদেখা কোনো গল্পকে বুনে নেওয়ার এই যে চিরন্তন তাড়না, কানিংহামের সেই দর্শনেরই যেন এক নিভৃত, নীরব অনুসারী মো. আবদুল্লাহিল মারুফ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাবেক এই শিক্ষার্থীর চোখে লেন্স কোনো যান্ত্রিক কাচ নয়, বরং আলো-ছায়া আর অনুভূতির এক জীবন্ত ক্যানভাস, যা সাধারণ দৃশ্যপটকেও রূপ দেয় অসাধারণে। তার হাত ধরেই লালমাটির এই ক্যাম্পাসে জন্ম নিয়েছে এক অনন্য ফটোগ্রাফি প্ল্যাটফর্ম-'প্রভালোচন'।​আলো আর চোখের সন্ধি: 'প্রভালোচন'​২০২২ সালের শরৎ আর হেমন্তের সন্ধিক্ষণে মারুফ শুরু করেন তার এই শৈল্পিক যাত্রা। 'প্রভা' মানে আলো, আর 'লোচন' মানে চোখ। "চোখের আলোতে চিত্র ভাসুক" এই গভীর জীবনবোধ থেকেই 'প্রভালোচন' নামের উৎপত্তি। লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী ও ফটোগ্রাফারের কাছে ক্যামেরা কেবল যন্ত্র নয়, বরং এক অদৃশ্য অনুভূতির দোভাষী।​সংগ্রাম থেকে সৃষ্টির পথেমারুফের শুরুর গল্পটা আর দশটা রূপকথার মতো মসৃণ ছিল না। চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে কেনা একটি পুরোনো ক্যামেরা আর বুকভরা স্বপ্নই ছিল তার একমাত্র পুঁজি। পরিবারের অগোচরে ছবি তোলা, স্বজনদের অবজ্ঞা কিংবা প্রতিবেশীদের বাঁকা চাহনি সবই সইতে হয়েছে তাকে। জীবনের ধূসর সময়গুলোতে যখন হতাশা ঘিরে ধরেছে, মারুফ তখন আশ্রয় খুঁজে নিয়েছেন ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে। শত বাধা সত্ত্বেও তিনি ফটোগ্রাফিকে আঁকড়ে ধরে থেকেছেন অস্তিত্বের তাগিদে।​এক জীবন্ত ফ্রেম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ​মারুফের চোখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, বরং অনুভূতির এক বিশাল সমাহার। তিনি বিশ্বাস করেন, লালমাটির এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি গল্প কখনো তা জয়ের উল্লাসের, কখনোবা একাকিত্বের দীর্ঘশ্বাসের। মারুফের লেন্স এড়িয়ে যায় না কিছুই। তার কাছে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া কৃত্রিম পোজের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ক্যাফেটেরিয়ার ধোঁয়া ওঠা আড্ডার প্রাণচাঞ্চল্য, কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের শ্রান্ত দেহভঙ্গি কিংবা চৈত্রের তপ্ত দুপুরে ক্লান্ত পথকুকুরের অবুঝ চাহনি।ক্যাম্পাসের চেনা রাস্তা, করিডোর কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ডালে যে অদেখা সৌন্দর্য সাধারণ চোখে ধরা পড়ে না, মারুফ সেটিই পরম মমতায় ফুটিয়ে তোলেন তার ফ্রেমে।​ভালোবাসাই যখন প্রাপ্তিখ্যাতি বা প্রতিপত্তির মোহ কোনোদিন টানেনি মারুফকে। তিনি চেয়েছিলেন ‘প্রভালোচন’-এর আড়ালে থেকেই ক্যাম্পাসের এক টুকরো ইতিহাস হয়ে থাকতে। তার নিরলস কাজের সার্থকতা মেলে এক বিকেলে, যখন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তাকে চিনে ফেলে প্রশ্ন করেন, "আপনিই কি প্রভালোচন?" মারুফের কাছে সেই মুহূর্তটি ছিল তার দীর্ঘ সাধনার শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলোকে আলো-ছায়ার ফ্রেমে বন্দি করে রাখা এই শিল্পী যেন কুবি ক্যাম্পাসের এক নীরব চিত্র-দার্শনিক। চেনা আঙিনায় অচেনা সব দৃশ্যকাব্য বুনে মারুফ প্রমাণ করেছেন সঠিক দৃষ্টি থাকলে একটি সাধারণ মুহূর্তও হয়ে উঠতে পারে কালজয়ী কোনো ইতিহাস।
২১ ঘন্টা আগে
চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে “স্বপ্ন জয়ের পথে: দক্ষ ক্যারিয়ার ও আদর্শ মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে” শীর্ষক ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাঝে ক্যারিয়ার সচেতনতা, নৈতিকতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে শুধু একাডেমিক শিক্ষায় নয়, দক্ষতা, সততা ও আদর্শিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। তিনি তরুণদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, আত্মউন্নয়ন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি আব্দুল মোহাইমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্যারিয়ার গঠনের পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল তার বক্তব্যে উচ্চশিক্ষা, আইন পেশা, ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তব জীবনে সফল হওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নৈতিকতার বিকল্প নেই।এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাহাব উদ্দিন। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আত্মগঠন, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক নেতৃত্বের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,আমরা প্রায়ই শুনি ছাত্রশিবির গুপ্ত সংগঠন বা তারা মানুষের ক্ষতি করে। কিন্তু আজকের এই প্রোগ্রামে এসে আমরা সবকিছু প্রকাশ্যভাবে দেখেছি। এখানে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনের বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ইতিবাচক আয়োজন করুক।
১৫ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

৪ কোটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী

৪ কোটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান বলেছেন, নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশে আমি গিয়েছি। তখন মা- বোনদের বলেছি নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি এবং ধীরে ধীরে ৪ কোটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। বিশেষ করে যারা গ্রামে বসবাস করে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ২২ জেলার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরপরই আমরা এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। আজকে চাঁদপুরে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে আপনারা সবাই এই কার্ড পাবেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধুমাত্র ফ্যামিলি কার্ডই দিব না। কারণ এই দেশে সবচাইতে বেশি সংখ্যা হচ্ছে কৃষক। আমরা কৃষকদের কৃষিকার্ড দিব। এটি পেলে কৃষকরা উপকৃত হবে। তারেক রহমান বলেন, আগামী যে বাজেট। সেই বাজেটে আমরা শিক্ষার ওপর সবচাইতে বেশি বরাদ্দ রেখেছি। এই বরাদ্দ থেকে দেশের যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো প্রয়োজন তা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে করে আগামী প্রজন্মকে ভালোভাবে পাঠদান করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় চাঁদপুর জেলায় একটি ইপিজেড করার ব্যবস্থা করতে বিডার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই করে এটি বাস্তবায়ন হলে যেমন চাঁদপুর জেলার লোকজনের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি অন্য জেলার লোকজনও কাজ পাবে।অনুষ্ঠানে দশজন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলেদেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।বক্তব্য দেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম।অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

হঠাৎ আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

হঠাৎ আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আইনজীবীর কালো গাউন পরে সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর শুরু হওয়া ভোট পরবর্তী সহিংসতার একটি মামলায় সওয়াল করতে তিনি আদালতে হাজির হন।তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিজে লড়ছেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচারপতির কাছে জরুরি সুরক্ষা প্রার্থনা করেছেন।শুনানির শুরুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে এটিই তার প্রথম উপস্থিতি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সহিংসতার হাত থেকে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তিনি আদালতে ১০ জন নিহত ব্যক্তির একটি তালিকা জমা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে ৬ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া তিনি একটি তফশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ৯২ বছর বয়সী বিধবার ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২ বছরের কিশোরীদেরও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কি ঘুমিয়ে আছে কি না। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়’।  মাছের বাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধ প্রতিরোধ না করে উল্টো এফআইআর নিতে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বোমাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আদালতে হাজিরা প্রমাণ করে যে তিনি বিপদের সময় বাংলার মানুষকে ছেড়ে যান না। প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সাহস ও সংকল্পের সঙ্গে লড়াই করছেন।  অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করা বিজেপির পক্ষ থেকে এই সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যার মতো ঘটনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের নির্দেশনার দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারাদেশ।
১৪ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে “স্বপ্ন জয়ের পথে: দক্ষ ক্যারিয়ার ও আদর্শ মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে” শীর্ষক ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাঝে ক্যারিয়ার সচেতনতা, নৈতিকতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে শুধু একাডেমিক শিক্ষায় নয়, দক্ষতা, সততা ও আদর্শিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। তিনি তরুণদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, আত্মউন্নয়ন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি আব্দুল মোহাইমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্যারিয়ার গঠনের পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল তার বক্তব্যে উচ্চশিক্ষা, আইন পেশা, ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তব জীবনে সফল হওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নৈতিকতার বিকল্প নেই।এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাহাব উদ্দিন। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আত্মগঠন, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক নেতৃত্বের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,আমরা প্রায়ই শুনি ছাত্রশিবির গুপ্ত সংগঠন বা তারা মানুষের ক্ষতি করে। কিন্তু আজকের এই প্রোগ্রামে এসে আমরা সবকিছু প্রকাশ্যভাবে দেখেছি। এখানে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনের বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ইতিবাচক আয়োজন করুক।
১৫ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
০৬ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

০৬ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

মহিচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিনের ইন্তেকাল

মহিচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিনের ইন্তেকাল

কুমিল্লার চান্দিনার মেহার গ্রামের বাসিন্দা ও মহিচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিন (৬০) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত রোববার (১৬ মে) সন্ধ্যায় স্ট্রোকজনিত কারণে আকস্মিকভাবে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মেহার গ্রামের মৃত মহব্বত আলী খলিফার সন্তান।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক সুনাম ছিল। তার এই আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাসহ পুরো শিক্ষক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
০৬ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র