বুধবার, ২০ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

সারভাইভার’স ভয়েস সামিট অনুষ্ঠিত

দেশের তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আজ ১৯ মে (মঙ্গলবার) রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী ‘সারভাইভার’স ভয়েস সামিট ২০২৬’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সারভাইভার্স পাথ’ এবং ‘এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে এই বিশেষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার লক্ষ্যে বিশেষ প্রযুক্তিগত সমাধান ‘মনবার্তা অ্যাপ’ এবং একটি ২৪/৭ মানসিক স্বাস্থ্য হেল্পলাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।আয়োজকরা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, সাইবার বুলিং, ট্রমা এবং নানাবিধ সামাজিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সামাজিক কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ আমাদের সমাজে অত্যন্ত সীমিত। এই বাধা দূর করে তরুণ, পেশাজীবী, অ্যাডভোকেট ও সারভাইভারদের জন্য একটি নিরাপদ ও ক্ষমতায়নমূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতেই এই সামিটের আয়োজন। এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীরবতা ভেঙে আশার আলো ছড়ানো এবং প্রতিটি কণ্ঠস্বরকে ক্ষমতায়ন করা’ (Breaking Silence, Building Hope, Empowering Every Voice)।সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এমপি। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ এবং অনুষ্ঠানে চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারভাইভার’স পাথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুনজিয়া স্নিগ্ধা মুন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. এসকে ফরিদ আহমেদ এবং ফাহাদ হোসেন।দিনব্যাপী এই আয়োজনে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ওয়েলবিং, যুব নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং নেটওয়ার্কিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সামিটের মূল আকর্ষণ হিসেবে ছিল কুসংস্কারমুক্ত আলোচনা ও ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার গল্প নিয়ে বিশেষ সেশন 'সার্ভাইভার ক্রনিকলস'। এছাড়া বিকেলে সরকার ও অংশীজনদের কাছে তরুণদের নীতিগত দাবি তুলে ধরতে 'সার্ভাইভার্স ম্যানিফেস্টো প্রণয়ন' শীর্ষক একটি বিশেষ ব্রেকআউট সেশন অনুষ্ঠিত হয়।দিনব্যাপী এই আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়ে। যুব উন্নয়ন প্যানেলে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন আব্দুল কাইয়ুম, শেখ রিফাদ মাহমুদ, মুনজিয়া স্নিগ্ধা মুন এবং মেহেদী হাসান। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সানজিদা।মানসিক স্বাস্থ্য প্যানেলে আলোচনা করেন বিশিষ্ট সাইকোলজিস্ট ড. আতিকুল হক মজুমদার, গবেষক ও পলিসি অ্যানালিস্ট মাহাদি-উল-মোর্শেদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মওদুদুল হাসান এবং ডা. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি। সঞ্চালনা করেন ড. আল আমিন।আয়োজক প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের প্রত্যাশা, এই সামিটের মাধ্যমে তরুণদের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় হবে এবং সারভাইভারদের অধিকার রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
১৪ ঘন্টা আগে

পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে অভিজ্ঞ লুকা মদ্রিচ

ইনজুরি কাটিয়ে ক্যারিয়ারে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন ক্রোয়েশিয়ান তারকা লুকা মদ্রিচ।কোচ জ্লাতকো ডালিক গতকাল ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষনা করেছেন। এই দলে লুকা ছাড়াও আরও রয়েছেন অভিজ্ঞ ইভান পেরিসিচ।গত মাসে এসি মিলানের হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলতে গিয়ে মদ্রিচের গালের হাড়ে চিড় ধরা পড়ে। কিন্তু আগামী ১৭ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার আগে অধিনায়কের ফিট হয়ে ওঠার আশা করছে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ-এল’র অপর দুই দল হলো পানামা ও ঘানা।লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর দীর্ঘ আধিপত্য ভেঙ্গে ২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অর জয় করেছিলেন ৪০ বছর বয়সী মদ্রিচ। ২০০৬ সালে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ইতোমধ্যেই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯৬ ম্যাচ খেলেছেন। ক্রোয়েশিয়া যদি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার করতে পারে তবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন মদ্রিচ।ডালিচের এবারের বিশ্বকাপ দলটি মোটেই অনভিজ্ঞ নয়। এই দলে রয়েছে গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ, ডিফেন্ডার জাসকো গাভারডিওল, মিডফিল্ডার মাতেও কোভাচিচ ও মারিও পাসালিচ এবং আন্দ্রেজ ক্রামারিচ।২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। পরের আসরে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে তৃতীয় স্থান লাভ করেছিল ক্রোয়েটরা।২৬ সদস্যের দলের সাথে ডালিচ সাতজন স্ট্যান্ড-বাই খেলোয়াড়ের নামও ঘোষনা করেছেন।ক্রোয়েশিয়া স্কোয়াড :গোলরক্ষক: ডোমিনিক লিভাকোভিচ, ডোমিনিক কোটারস্কি, ইভর পান্ডুরডিফেন্ডার: জাসকো গাভারডিওল, ডুয়ে কালেটা-কার, জোসিপ স্টুয়ালো, জোসিপ স্টানিসিচ, মারিন পনগ্রাসিস, মার্টিন আর্লিক, লুকা ভুসকোভিচমিডফিল্ডার: লুকা মদ্রিচ, মাতেও কোভাচিচ, মারিও পাসালিচ, নিকোলা ডালিচ, লুকা সুসিচ, মার্টিন বাতুরিনা, ক্রিস্টিয়ান জাকিচ, পিটার সুসিচ, নিকোলা মোরো, টনি ফ্রুকফরোয়ার্ড: ইভান পেরিসিচ, আন্দ্রেজ ক্রামারিচ, আন্দে বুডিমির, মার্কো পাসালিচ, পিটার মুসা, ইগর মাটানোভিচস্ট্যান্ড-বাই খেলোয়াড় : লোভরো মায়ার, ফ্রায়ো ইভানোভিচ, ডিওন ড্রেনা বেলো, ইভান সোমোলসিচ, কার্লো লেটিকা, আদ্রিয়ান সেগেসিচ, লুকা স্টোয়কোভিচ।
১৪ ঘন্টা আগে

নোয়াখালীতে গভীর রাতে এসআইর বাড়ি থকে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল ও কাচ ভেঙে ঘরে ঢুকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৬ লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তির হাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী মো. রিফাত হোসেন কুমিল্লা জেলা পুলিশে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত। তিনি শান্তির হাট এলাকার আজাদ মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে একটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাড়ির সামনে আসে। পরে জানালার গ্রিল কেটে ও থাই গ্লাস খুলে তারা বসতঘরে প্রবেশ করে। এরপর স্টিলের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। ঘটনার সময় বাড়িতে এসআই রিফাতের মা ও ছোট বোন ছিলেন। কাচ ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে তার মা চিৎকার দেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে লুটেরারা দ্রুত পালিয়ে যায়।এসআই রিফাত হোসেন বলেন, দুর্বৃত্তরা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও আমার বড় ভাইয়ের ব্যবসার নগদ ৬ লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে।এ বিষয়ে চর জব্বর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ৫ লক্ষ টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় একটি চুরির মামলা নেওয়া হয়েছে।
১৫ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গুলশান লেকের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গুলশান লেকের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক হয়।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে গুলশান লেকের পানি দূষণ রোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং লেক কেন্দ্রিক নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লেকের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গুলশান লেকের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গুলশান লেকের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক হয়।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে গুলশান লেকের পানি দূষণ রোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং লেক কেন্দ্রিক নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লেকের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার সেনাবাহিনী মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া শুরু হলো।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, (১৯ মে, ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬) পর্যন্ত রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার বিষয়ক একটি মহড়া পরিচালনা করছে।’রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত আছে, তা পরীক্ষা করা।
১৮ ঘন্টা আগে
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

কাজে ফাঁকি দিয়ে ভিসি দপ্তরে ভিড়, যোগ দিয়েই কঠোর পদক্ষেপ জাবিপ্রবি উপাচার্যের

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে উপাচার্যের সাক্ষাতের সময় ও নিয়ম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে বসে থাকার বদভ্যাস ভাঙতেই নতুন উপাচার্য যোগ দিয়েই এই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়। এর আগে গত ১৬ মে জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, পূর্বের উপাচার্যদের সময় থেকেই কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের দাপ্তরিক কাজ ফেলে দীর্ঘসময় উপাচার্যের দপ্তরে অবস্থান করতেন। নতুন উপাচার্য যোগদানের পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা ও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। মূলত দপ্তরে এই অহেতুক ভিড় এড়াতে, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং আগের আমলের এই অপসংস্কৃতি ভাঙতেই নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে অতি জরুরি বিষয় ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকতে হবে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কার্যদিবসে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে। তবে এর জন্য যথাযথ মাধ্যম অনুসরণ করে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পূর্বানুমতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
১৮ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৪ মে ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

১৪ মে ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

নোয়াখালীতে গভীর রাতে এসআইর বাড়ি থকে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

নোয়াখালীতে গভীর রাতে এসআইর বাড়ি থকে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল ও কাচ ভেঙে ঘরে ঢুকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৬ লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তির হাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী মো. রিফাত হোসেন কুমিল্লা জেলা পুলিশে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত। তিনি শান্তির হাট এলাকার আজাদ মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে একটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাড়ির সামনে আসে। পরে জানালার গ্রিল কেটে ও থাই গ্লাস খুলে তারা বসতঘরে প্রবেশ করে। এরপর স্টিলের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। ঘটনার সময় বাড়িতে এসআই রিফাতের মা ও ছোট বোন ছিলেন। কাচ ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে তার মা চিৎকার দেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে লুটেরারা দ্রুত পালিয়ে যায়।এসআই রিফাত হোসেন বলেন, দুর্বৃত্তরা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও আমার বড় ভাইয়ের ব্যবসার নগদ ৬ লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে।এ বিষয়ে চর জব্বর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ৫ লক্ষ টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় একটি চুরির মামলা নেওয়া হয়েছে।
১৪ মে ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র