শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে অধিভুক্ত সকল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-৫৯১৬/২০০৮ এর রায়ের আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রণীত নীতিমালা অনুসারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কমিটি গঠন করতে হবে।নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, কমিটিতে মোট পাঁচজন সদস্য থাকবেন এবং সদস্যদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ নারী হতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভব হলে কমিটির সভাপতির দায়িত্বও একজন নারীকে দিতে হবে। গঠিত কমিটি ইউজিসি প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে অধিভুক্ত সকল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের দ্রুত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে

কোন চাপে বাধ্য হয়ে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলেন?

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে একেবারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়। কিন্তু বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬ ) যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে দেখা যায়, এটি কোনো আত্মসমর্পণের দলিল নয়; বরং এতে ইরানের জন্য বেশ কিছু সুবিধাজনক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তেহরান ফিরে পেয়েছে তেল রপ্তানির বড় সুযোগ। শত শত কোটি ডলারের আয়ের পথ খুলে যাওয়ায় সংকটাপন্ন ইরানি সরকারের ওপর চাপ অনেকাংশে কমবে। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং সরকার পতনের যে লক্ষ্য ট্রাম্প শুরুতে ঘোষণা করেছিলেন, তার কোনোটিই পূরণ হয়নি। বরং ইরান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে টিকে থেকে উদযাপনযোগ্য অবস্থান নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বলছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা ও দর-কষাকষির ওপর এত গুরুত্ব দেওয়া একজন প্রেসিডেন্টের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া রীতিমতো বিস্ময়কর। সমঝোতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনার ইঙ্গিতও রয়েছে, যা ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।চুক্তির আওতায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথও খুলছে। ট্রাম্প বলছেন, এটি শুধু ভালো আচরণের বিনিময়ে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি অনেকটাই সেই ধরনের ছাড়, যা ২০১৫ সালে বারাক ওবামা দিয়েছিলেন। যে চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে ট্রাম্প নিজেই ক্ষমতায় এসেছিলেন।রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী অংশ এবং ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী সরকার ইতোমধ্যে এই চুক্তির বিরোধিতা শুরু করেছে। তাদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানকে ব্যাহত করবে।ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি চাননি ইতিহাসে তাঁকে হার্বার্ট হুভারের মতো দেখা হোক, যার আমলে মহামন্দা শুরু হয়েছিল। যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারত বলেও তিনি আশঙ্কা করছিলেন। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালিয়ে এই চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল।ট্রাম্প ইরানকে উত্তর কোরিয়ার পথ অনুসরণ করতে না দেওয়ার দাবি করলেও, বাস্তবে তিনি পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনার পথ খুলে দিয়েছেন। আলোচনা ৬০ দিনের বেশি চলতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রাণ গেছে ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং তিন হাজারের বেশি ইরানির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী অবস্থানে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প কতটা বড় বিজয় দাবি করতে পারবেন, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
১৩ ঘন্টা আগে

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, হাইতির বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এতে সেলেসাও শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনের কলম্বিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মারকিনিওস ও রাফিনিয়া।অনুশীলন মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মজার ছলে নেইমার বলেন, 'আমাকে মিস করেছ?'তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক তখন বলে ওঠেন, 'অবশেষে অপেক্ষার অবসান! হালেলুইয়া!'পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফেরার পর শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে তিনি কত মিনিট খেলবেন কিংবা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন। এরপর একদিনের ব্যবধানে দলীয় অনুশীলনে অংশ নিয়ে পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেন।নেইমারের ফেরাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তার সতীর্থরাও। অনুশীলনের সময় করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এমনকি মজার ছলে ‘ইনিশিয়েশন টানেল’ তৈরি করে তাকে অভিনন্দন জানান ব্রাজিলের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের ফেরার খবর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।
১৮ জুন ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে সতর্কতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে সতর্কতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সতর্ক থাকতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।আগামী (২৩ জুন, ২০২৬) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির কাছে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি বার্তা পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তর।বার্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ওই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা হতে পারে।এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে এ বার্তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তারা এ-সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা আশঙ্কার তথ্য নেই। আমরা সতর্ক আছি।” তিনি আরও বলেন, “সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।”নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।”২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা এবং প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। জোটসঙ্গী বিভিন্ন দলের কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের তেমন দেখা যায় না।আন্দোলন দমনে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার চলছে। বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় অভিযান ও ধরপাকড় চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
৪ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের (ইউএন) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের (ইকোসক) মানবিক বিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) সকালে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।মানবিক নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।এ ছাড়া, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে মানবিক অর্থায়নের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান। তিনি মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন।জাতিসংঘে অবস্থানকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ ২০২৬ সালের ইকোসকের মানবিক বিষয়ক অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা-২-এ অংশ নেবেন।এ ছাড়া, তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
১৮ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, হাইতির বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, হাইতির বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এতে সেলেসাও শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনের কলম্বিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মারকিনিওস ও রাফিনিয়া।অনুশীলন মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মজার ছলে নেইমার বলেন, 'আমাকে মিস করেছ?'তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক তখন বলে ওঠেন, 'অবশেষে অপেক্ষার অবসান! হালেলুইয়া!'পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফেরার পর শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে তিনি কত মিনিট খেলবেন কিংবা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন। এরপর একদিনের ব্যবধানে দলীয় অনুশীলনে অংশ নিয়ে পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেন।নেইমারের ফেরাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তার সতীর্থরাও। অনুশীলনের সময় করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এমনকি মজার ছলে ‘ইনিশিয়েশন টানেল’ তৈরি করে তাকে অভিনন্দন জানান ব্রাজিলের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের ফেরার খবর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।
১৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

কোন চাপে বাধ্য হয়ে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলেন?

কোন চাপে বাধ্য হয়ে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলেন?

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে একেবারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়। কিন্তু বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬ ) যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে দেখা যায়, এটি কোনো আত্মসমর্পণের দলিল নয়; বরং এতে ইরানের জন্য বেশ কিছু সুবিধাজনক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তেহরান ফিরে পেয়েছে তেল রপ্তানির বড় সুযোগ। শত শত কোটি ডলারের আয়ের পথ খুলে যাওয়ায় সংকটাপন্ন ইরানি সরকারের ওপর চাপ অনেকাংশে কমবে। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং সরকার পতনের যে লক্ষ্য ট্রাম্প শুরুতে ঘোষণা করেছিলেন, তার কোনোটিই পূরণ হয়নি। বরং ইরান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে টিকে থেকে উদযাপনযোগ্য অবস্থান নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বলছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা ও দর-কষাকষির ওপর এত গুরুত্ব দেওয়া একজন প্রেসিডেন্টের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া রীতিমতো বিস্ময়কর। সমঝোতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনার ইঙ্গিতও রয়েছে, যা ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।চুক্তির আওতায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথও খুলছে। ট্রাম্প বলছেন, এটি শুধু ভালো আচরণের বিনিময়ে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি অনেকটাই সেই ধরনের ছাড়, যা ২০১৫ সালে বারাক ওবামা দিয়েছিলেন। যে চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে ট্রাম্প নিজেই ক্ষমতায় এসেছিলেন।রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী অংশ এবং ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী সরকার ইতোমধ্যে এই চুক্তির বিরোধিতা শুরু করেছে। তাদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানকে ব্যাহত করবে।ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি চাননি ইতিহাসে তাঁকে হার্বার্ট হুভারের মতো দেখা হোক, যার আমলে মহামন্দা শুরু হয়েছিল। যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারত বলেও তিনি আশঙ্কা করছিলেন। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালিয়ে এই চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল।ট্রাম্প ইরানকে উত্তর কোরিয়ার পথ অনুসরণ করতে না দেওয়ার দাবি করলেও, বাস্তবে তিনি পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনার পথ খুলে দিয়েছেন। আলোচনা ৬০ দিনের বেশি চলতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রাণ গেছে ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং তিন হাজারের বেশি ইরানির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী অবস্থানে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প কতটা বড় বিজয় দাবি করতে পারবেন, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
১৩ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আবহাওয়া

আবহাওয়া

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

রাতেই ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ফলে গরমের হাঁসফাঁস অবস্থা কিছুটা কমলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও রয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এরই মধ্যে রবিবার (৭ জুন, ২০২৬ ) অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রবিবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
০৫ জুন ২০২৬
রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতেই ১২ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

০৫ জুন ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারের লজ্জা দিয়েছিল টাইগাররা। ঐ ম্যাচ ৫ উইকেটে জয়ের পর অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টেস্টে একবার ও টি-টোয়েন্টিতে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়া পেসার নাথান এলিসের শিকার হয়ে ৫ রানে ফেরেন সাইফ।দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর শতরানে নেন তানজিদ ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন তানজিদ। এলিসের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। এ বছর ৭ ওয়ানডে খেলে চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পেলেন তানজিদ।দলীয় ১০৬ রানে তানজিদ ফেরার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তার সাথে ১৯ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে ১২তম অর্ধশতকের দেখা পান শান্ত। চার নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। মাত্র ৭ রানে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। রেনশর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রানে থামেন শান্ত। দলীয় ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫১ বলে ৩১ রানে বিদায় নেন হৃদয়। তবে অন্য প্রান্তে ৪৯ বলে ওয়ানডে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ব্যক্তিগত ২২ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের হাফ-সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলাম ৫ রানে আউট হলে ৪৫তম ওভারে ২৩৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক।৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রানে আউট হন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার এলিস ৩টি, লিয়াম স্কট ও রেনশ ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ১১তম ওভারে ইংলিশকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। কনোলি ফেরার পর পেসার নাহিদ রানার তোপ ও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় হারের লজ্জার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। জুটি ৩৪ বলে ৩৫ রান তোলার পর বজ্র ও বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেট ১৯১ রান। পরবর্তীতে বৃষ্টি না থামলে এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।আগামী ১১ জুন মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। 
০৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে সতর্কতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে সতর্কতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সতর্ক থাকতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।আগামী (২৩ জুন, ২০২৬) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির কাছে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি বার্তা পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তর।বার্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ওই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা হতে পারে।এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে এ বার্তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তারা এ-সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা আশঙ্কার তথ্য নেই। আমরা সতর্ক আছি।” তিনি আরও বলেন, “সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।”নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।”২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা এবং প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। জোটসঙ্গী বিভিন্ন দলের কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের তেমন দেখা যায় না।আন্দোলন দমনে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার চলছে। বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় অভিযান ও ধরপাকড় চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
০৫ জুন ২০২৬
মতামত

মতামত

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

সভ্যতার শেষ নোঙর: উদ্ভিদের বিপন্নতা ও মানুষের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ

মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহে মানুষের আগমন কোটি কোটি বছরের বিবর্তন ইতিহাসের এক সাম্প্রতিক ঘটনা মাত্র। অথচ মানুষ প্রায়শই নিজেকে এই নাট্যমঞ্চের একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বা মহাপ্রধান ভাবিতে পছন্দ করে। রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, আকাশচুম্বী প্রযুক্তি আর সভ্যতার চাকচিক্য, সবকিছুর কেন্দ্রে মানুষ নিজেকেই স্থাপন করিয়াছে। কিন্তু প্রকৃতির আদিম এবং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে এই অহংকার কেবলই এক মরীচিকা। মানুষের বহু পূর্বে এই ধরণী ছিল অরণ্যের, শৈবালের, ঘাসের আর লতাগুল্মের। আজ মানুষ তাহার যাপিত জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, এমনকি ভারী শিল্পোন্নয়নের যে বিপুল কাঁচামাল ভোগ করিতেছে, তাহার প্রতিটির উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উদ্ভিদজগৎ। ফলে, সেই আদিম সবুজ যদি সংকুচিত হইতে থাকে, তবে মানুষের তৈরি এই জাঁকজমকপূর্ণ সভ্যতার ভিত্তি কাচের প্রাসাদের মতোই চূর্ণবিচূর্ণ হইতে বাধ্য।সম্প্রতি বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্ববাসীর আত্মতৃপ্তির দেয়ালে এক তীব্র চপেটাঘাত করিয়াছে। গবেষকগণ প্রায় ৬৭ হাজারেরও অধিক উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করিয়া এক ভয়ানক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন। তাঁহাদের पूर्वानुमान অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর ৭ হইতে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাহাদের বর্তমান চারণভূমি বা আবাসস্থলের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারাইতে পারে। সহজ কথায়, বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলাইয়া যাইবার চরম ঝুঁকিতে রহিয়াছে। এই সতর্কবার্তা কেবল কিছু গাছের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ নহে, ইহা মূলত মানবজাতির আত্মহননের এক বৈজ্ঞানিক দলিল।আমরা প্রায়শই জলবায়ু পরিবর্তন বলিলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গরম বাড়িয়া যাওয়াকেই বুঝি। কিন্তু প্রকৃতার্থে জলবায়ু পরিবর্তন এক জটিল, বহুমাত্রিক ও আপাত-অদৃশ্য বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। ইহা কেবল থার্মোমিটারের পারদ চড়ায় না; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন, মাটির রাসায়নিক ও ভৌত গুণাগুণ, বাতাসের আর্দ্রতা, বনের ছায়া এবং দাবদাহ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিকে আমূল ওলটপালট করিয়া দেয়। একটি উদ্ভিদের অস্তিত্ব কেবল মাটির গভীরে শিকড় চলাইয়া দাঁড়াইয়া থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। তাহার বাঁচিয়া থাকা নির্ভর করে আলো, বাতাস, মাটি ও পানির এক অতি সূক্ষ্ম এবং সংবেদনশীল ভারসাম্যময় শর্তের ওপর। আধুনিক জলবায়ু বিপর্যয় সেই প্রাচীন শর্তগুলিকেই ভেঙে চুরমার করিয়া দিতেছে, যার ফলে উদ্ভিদের জন্য এই চেনা পৃথিবী ক্রমেই অচেনা ও সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে।মানুষের মতো উদ্ভিদের পা নাই যে জলবায়ুর প্রতিকূলতা দেখিয়া সে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করিবে। উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও নতুন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়া অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। বাতাস, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ কিংবা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভর করিয়া বীজ ও রেণুর মাধ্যমে তাহারা এক প্রজন্ম হইতে অন্য প্রজন্মে ধাবিত হয়। এই প্রাকৃতিক অভিবাসনে বহু শতাব্দী সময় কাটিয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এতই তীব্র ও উন্মত্ত যে, বহু উদ্ভিদ প্রজাতি সেই পরিবর্তনের গতির সহিত প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে পারিতেছে না। নতুন কোনো নিরাপদ অঞ্চলে বীজ ছড়াইয়া দিবার পূর্বেই, বর্তমান আবাসস্থলের চরম আবহাওয়ায় তাহারা অকালে প্রাণ হারাইতেছে।উদ্ভিদজগতের এই মহাবিপর্যয় কেবল প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যহানি ঘটাইবে না; ইহা সমগ্র গ্রহের ফুসফুসকে অচল করিয়া দিবে। উদ্ভিদ কেবল প্রকৃতির অলংকার নহে, বরং স্থলভাগের সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের প্রাণভোমরা। পৃথিবীর বিশাল বনভূমি ও উদ্ভিদরাজি প্রতিমুহূর্তে বায়ুমণ্ডল হইতে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করিয়া পরিবেশকে শীতল রাখিতেছে। তাহারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীর আশ্রয় জোগায় এবং মেঘের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করিয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। যখন এই উদ্ভিদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাইবে, তখন প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্বনচক্র সম্পূর্ণ বিকল হইয়া পড়িবে। উদ্ভিদ কার্বন শোষণ করিতে না পারিলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়িবে, যাহা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করিবে। অর্থাৎ, আমরা এক ভয়ানক এবং মরণঘাতী প্রতিক্রিয়ামূলক চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াব, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন উদ্ভিদের বিনাশ ঘটাইবে, আবার উদ্ভিদের বিনাশ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও কয়েক গুণ তীব্র করিয়া তুলিবে। এই চক্রের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করিতেছে এক মহাশূন্যতা।‘সায়েন্স’ সাময়িকীর এই বৈশ্বিক গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক জ্বলন্ত অগ্নিসংকেত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রবর্তী রণক্ষেত্র। নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন, উত্তরাঞ্চলের খরা এবং আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি দেশের উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদের ওপর বাড়তি জলবায়ুগত চাপ তৈরি হয়, তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পতিত হইবে। বিশেষ করিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ লইয়া গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। সমুদ্রের নোনা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান হইতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমিয়া যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের সুন্দরীসহ বহু প্রধান বৃক্ষ ইতিমধ্যে আগামরা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। যদি এই বনের উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য ভাঙিয়া পড়ে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতিক বর্মটি চিরতরে খুলিয়া যাইবে।যদিও আলোচ্য গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য বাড়িতে পারে এবং কিছু নতুন প্রজাতি নতুন পরিবেশে বিস্তার লাভ করিতে পারে। কিন্তু এই আংশিক বা সাময়িক লাভ সামগ্রিক মহাপতনের ক্ষতিপূরণ করিতে পারিবে না। কারণ, নতুন উদ্ভিদসমাজের আকস্মিক উত্থান মানেই প্রকৃতির চিরন্তন ও প্রাচীন ভারসাম্যের চাকাটি উপড়িয়া যাওয়া। ইতিহাসে যে সমস্ত প্রজাতি কখনো পাশাপাশি বসবাস করে নাই, পরিবর্তিত জলবায়ুর তাড়নায় তাহারা যখন একত্রে বাস করিতে শুরু করিবে, তখন তাহাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব কী হইবে—তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও সম্পূর্ণ অজানা।সভ্যতার ঊষালগ্ন হইতেই মানুষ প্রযুক্তি আর পেশী শক্তির জোরে বারবার প্রকৃতিকে জয় করিবার দম্ভোক্তি করিয়াছে। পাহাড় কাটিয়া, নদী শাসন করিয়া আর অরণ্য উজাড় করিয়া মানুষ ভাবিয়াছে সে বুঝি বিজয়ী। কিন্তু নির্মম সত্য হইল, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নহে, বরং প্রকৃতির এক অতি ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল অংশমাত্র। গাছপালা, অরণ্য আর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়া মানুষ কোনোদিনই নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবিষ্যৎ গড়িয়া তুলিতে পারিবে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে প্রকারান্তরে মানুষের নিজেরই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হইয়া আসা। অতএব, উদ্ভিদ-বৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদী বা বৃক্ষপ্রেমিকদের কোনো রোমান্টিক আবেগের বিষয় নহে; ইহা এই গ্রহে মানবসভ্যতার টিকে থাকা না-থাকার তথা আমাদের নিজেদেরই অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম ও পরম লড়াই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই যদি আমরা এই সবুজ সুরক্ষাবলয়কে রক্ষা করিতে না পারি, তবে প্রকৃতির ইতিহাস হইতে মানুষ নামক অহংকারী চরিত্রটির বিদায় হইবে কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওসমান গনি