সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

দেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য আমরা জনগণের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সমাবেশে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই আপনাদের বলতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা যে দলের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থা ধরে রাখুন। বিএনপি আপনাদের সঙ্গে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।”তিনি বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।” বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটবিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন অপরিকল্পিত পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।তিনি জানান, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, “কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায়, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সব বিশৃঙ্খলাকারী।”প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।”দেশের মানুষ এখন শান্তি চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সঙ্গে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
২০ ঘন্টা আগে

শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাকিবের বিনম্র শ্রদ্ধা

শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।শনিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত একটি পোস্ট শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানান সাকিব।পোস্টে লেখা ছিল, ‘মহাকালের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।’ একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই ঘটনায় তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল নিহত হন।এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, তাঁর সামরিক সচিব জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককেও হত্যা করা হয়।একই দিনে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে ও যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায়ও হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি নিহত হন।এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।সে সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিবছর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতো। দিনটিতে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছিল।তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করে। সেই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।
১৫ আগস্ট ২০২৬

কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং, ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও সদস্যসচিব মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম, প্রচারণা কিংবা পোস্টার-ব্যানার প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক এবং আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করুন এবং প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত বা প্রচারিত হতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, শিক্ষাবান্ধব ও রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করে কুবি ছাত্রদল।এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবুল বাশার বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্ত্রাস ও অপরাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার। যদি-কিন্তু ছাড়াই স্পষ্ট করে বলতে চাই নিষিদ্ধ ও পতিত আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর আশপাশে করতে দেওয়া হবে না। গত ১৭ বছরে সংঘটিত সকল অনিয়ম, দমন-পীড়ন ও অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি পতিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অপশক্তিকে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না।'কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, 'গত জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে। ফলে আইন অনুযায়ী তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সম্প্রতি ঘোষিত ওই কমিটিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চেনেন না এবং তারা ক্যাম্পাস বা স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাও নন।”তিনি আরও বলেন, 'ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসের ভেতরে বা ১০০ গজের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে সাধারণ শিক্ষার্থী, কুবি ছাত্রদল ও অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করবে।'
১৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাকায় নারীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস

ঢাকায় নারীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস

রাজধানীর সড়কে নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। নারী যাত্রীদের জন্য পৃথক এ বাস সার্ভিস মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীতে এ বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিত এই সার্ভিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বাসগুলো নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।এর মাধ্যমে গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।রাজধানীর গণপরিবহনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী যাতায়াত করেন। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম গণপরিবহন।তবে দীর্ঘদিন ধরেই গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, আসন সংকট, হয়রানি, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং নিরাপত্তাজনিত নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব বাস্তবতায় নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিআরটিসির নতুন এই সার্ভিস চালুর ফলে নারী যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতকারী নারীদের জন্য এ ধরনের বাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।পাশাপাশি নারী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের মাধ্যমে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। গণপরিবহনে নারী চালকের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় নারী কর্মীদের মাধ্যমে বিশেষ বাস পরিচালনার উদ্যোগকে পরিবহন খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।এ উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে গণপরিবহনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।এদিকে রাজধানীতে নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর খবরে নারী যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা নতুন সার্ভিসটি কোন কোন রুটে চলবে, কী সময়সূচি থাকবে এবং কীভাবে পরিচালিত হবে এসব বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।মঙ্গলবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে নতুন এই ‘পিংক বাস’ রাজধানীর নারী যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

ঢাকায় নারীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস

ঢাকায় নারীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস

রাজধানীর সড়কে নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। নারী যাত্রীদের জন্য পৃথক এ বাস সার্ভিস মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীতে এ বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিত এই সার্ভিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বাসগুলো নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।এর মাধ্যমে গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।রাজধানীর গণপরিবহনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী যাতায়াত করেন। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম গণপরিবহন।তবে দীর্ঘদিন ধরেই গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, আসন সংকট, হয়রানি, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং নিরাপত্তাজনিত নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব বাস্তবতায় নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিআরটিসির নতুন এই সার্ভিস চালুর ফলে নারী যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতকারী নারীদের জন্য এ ধরনের বাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।পাশাপাশি নারী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের মাধ্যমে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। গণপরিবহনে নারী চালকের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় নারী কর্মীদের মাধ্যমে বিশেষ বাস পরিচালনার উদ্যোগকে পরিবহন খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।এ উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে গণপরিবহনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।এদিকে রাজধানীতে নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর খবরে নারী যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা নতুন সার্ভিসটি কোন কোন রুটে চলবে, কী সময়সূচি থাকবে এবং কীভাবে পরিচালিত হবে এসব বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।মঙ্গলবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে নতুন এই ‘পিংক বাস’ রাজধানীর নারী যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২ ঘন্টা আগে
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।সোমবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত ফুটবল খেলতে পারেনি। স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফেরান তোরেস স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে স্প্যানিশরা। একই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আরও একটি বড় শিরোপা যোগ হলো তাদের অর্জনের তালিকায়।অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে মেসিদের।
২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি ইরানের সেনাপ্রধানের

ট্রাম্পকে ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি ইরানের সেনাপ্রধানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, তেহরানের এমন রক্ষক রয়েছে, যারা প্রয়োজনে ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দিতে’ পারে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন আমির হাতামি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়া বড় ধরনের ভুল।ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, ‘ইরানের এমন রক্ষক রয়েছে, যারা প্রয়োজনে আপনার পা ভেঙে দেবে।’তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীকে কার্যত ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের অনুমতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আমির হাতামি বলেন, ইরানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না। ইরান কখনোই তা হতে দেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।এর আগে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ওই বক্তব্যের জবাবেই ইরানের সেনাপ্রধান এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন।
৩ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

সারাদেশ

সারাদেশ

ফরিদগঞ্জে রাজনৈতিক হয়রানিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা: মাদ্রাসা শিক্ষককে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জে রাজনৈতিক হয়রানিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা: মাদ্রাসা শিক্ষককে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুনকে ঘিরে বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পতিত আ'লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক হয়রানি এবং মামলার শিকার শিক্ষক আল মামুন চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসায় যোগদানের পর সক্রিয় হয় একটি চক্র। চক্রটি ভূইপুড় বিপথগামী কিছু তথাকথিত গণমাধ্যম কর্মী ভাড়া করে ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে মাদ্রাসাসহ শিক্ষকদের মানহানি করে খোলা পানিতে মাছ শিকারের অব্যাহত রাখছে বলে চাউর আছে।সরজমিন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকের সাথে আলাপকালে চক্রটির বিষয়টি সামনে আসে।ভুক্তভোগী শিক্ষকের দাবি তিনি ইনডেক্সধারী ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তৎকালীন সময়ে সরকারদলীয় একটি মহল মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানি করলে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয় অনেক দিন। এই সময় তিনি কোনো বেতন ভাতা গ্রহণ করেন নি। ভুক্তভোগীর দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদেই তাকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ছাত্রজনতার আন্দোলনের সরকার পরিবর্তন হলে তিনি বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করে নিয়ম মেনে গত দুই বছর শিক্ষকতা করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি মহল প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আমার যোগদানের বিষয়টি সামনে এনে জল ঘোলা করতেছে। যা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অবগত আছে।এদিকে এমন অপতৎপরতার কারণে সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের দাবি প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যা অভিযোগ টিকবে না বলে মনে করেন শিক্ষক ,শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও সচেতন মহল।এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অত্র প্রতিষ্ঠানে সরজমিনে অনুসন্ধান করে গভর্নিং বডির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সুপার, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে যা জানা যায় - তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক আল মামুন এর বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন মুকুল ও প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আজিজুর রহমান।ভারপ্রাপ্ত সুপারের বক্তব্য:আল মামুন প্রায় ২৫ বছর ধরে এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই (সাবেক সুপারের আমল) তিনি নিযুক্ত হন এবং শিক্ষকের কাজ পরিচালনা করছিলেন।মাঝে তিনি বেশ কয়েক বছর আসেননি। আমরা জানতে পারি তিনি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণে বা জটিলতায় দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আজিজুর রহমানের ভাষ্য, মামুন স্যারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কিছু অভিযোগ এবং তদন্তের বিষয় ছিল। বিলে সই বা অনুমোদন দেওয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বা সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল।আইন ও বিধিমোতাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকা পর্যন্ত তাকে সরাসরি প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত বা ক্লাসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই। মামুন স্যারের সাথে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে যদি কোনো মামলা বা সমস্যা থাকে, তবে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণা করেছেন কি না—তা সুস্পষ্ট নয়।সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেন যে, আইনানুগ ব্যবস্থা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ব্যতীত তারা নিজ থেকে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছেন না।শিক্ষার্থীদের বক্তব্য কী বলছে?মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আল মামুন বর্তমানে নিয়মিত ক্লাস নেন এবং ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে পাঠদান করেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর পড়ানোর পদ্ধতি ও আচরণের প্রশংসা করেছে।যা বর্তমান শিক্ষকতার মান সম্পর্কে একটি ইতিবাচক তথ্য।
০৯ জুলাই ২০২৬
৬২ লাখ টাকার উন্নয়ন, জোয়ারে ডোবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট

৬২ লাখ টাকার উন্নয়ন, জোয়ারে ডোবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট

০৯ জুলাই ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঅস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভারগ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভারসাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ীসিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)
২০ ঘন্টা আগে
ইসলামীক

ইসলামীক

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

সফল হজ ব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশকে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করলো সৌদি আরব

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কৌশলগত লক্ষ্য, পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার হজ বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন, ডিজিটাল সেবা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং হাজীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাত এবং ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ উভয়েই বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং হাজীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো হজ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হজ মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যাতে বাংলাদেশি হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও হাজীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
০৯ জুলাই ২০২৬
মতামত

মতামত

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

ট্রাম্পকে বাইডেনের খোঁচা, বললেন 'উনি তো ব্যর্থ মানুষ!'

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার রাতে ম্যারিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘ব্যর্থ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।বাইডেন বলেন, ‘এটি শুধু তার বিলাসিতার প্রকল্প নয়। নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙেছেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছেন। নিজের সম্মানে তোরণ নির্মাণ করেছেন। এমনকি রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের জন্যও নিজের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ (লুজার)!’তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্লেক্টিং পুলটি এই প্রশাসনের আত্মমুগ্ধতা ও অযোগ্যতার চেয়েও ভয়াবহ একটি বিষয়ের প্রতীক—সেটি হলো দুর্নীতি। এটি নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতি। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত স্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আগে ওঠেনি।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বাইডেনের এটিই ছিল অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা। ঘটনাচক্রে, ঠিক দুই বছর আগে একই দিনে সিএনএনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কই তার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের আশা কার্যত শেষ করে দেয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে যে বিষয়টি, তা হলো ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িতদের করদাতাদের অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চান। তারা কোনো ক্ষতিপূরণের যোগ্য নন। বরং তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা উচিত ছিল।’হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনায় পিছু হটেননি বাইডেন। গত এক মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যারিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা ও নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।তবে বাইডেনের নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন সহজ নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে। এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে বাইডেন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় কম।এদিকে, বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে বাড়তে থাকায় দলটির একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। বইটির প্রচারণায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন। অনেক ডেমোক্র্যাটের মতে, এতে দলের পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসছে।বাইডেনের সাবেক মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্ড্রু বেটস নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের জেতার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। বিষয়টি আমাকে সব সময় ভাবায়। তবে দলের জন্য বেদনাদায়ক সেই আলোচনা আবার প্রকাশ্যে তোলার প্রয়োজন ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না।’এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিল বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিন এবং সরাসরি আমার সামনে কথাটি বলুন।’পরে একটি সূত্র জানায়, সমালোচনার পরদিনই জিল বাইডেন ও অ্যান্ড্রু বেটস বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।অন্যদিকে, বাইডেনপুত্র হান্টার বাইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার অনুসারীর সংখ্যা আট লাখের বেশি। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নিজের অতীতের সংগ্রাম এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘ পডকাস্টেও অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রক্ষণশীল ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্সের সঙ্গে তার দুই ঘণ্টার আলোচনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের পডকাস্টে হান্টার বলেন, প্রথমে ক্ষমা না করার অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ক্ষমা করেছিলেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইতিহাস যখন তাকে মূল্যায়ন করবে, তখন এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’আগামী মাসগুলোতে বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বইটি কবে প্রকাশিত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।এছাড়া ডেলাওয়্যারে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। তবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি শিগগিরই নির্ধারণ হতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তার টিম তহবিল সংগ্রহও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিকাগোভিত্তিক ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের তুলনায় আকারে ছোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পর রোগটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন।সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, জোকে সারাজীবন এই ক্যান্সারের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’দলের একাংশের সমালোচনা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি জর্জিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস এবং ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেস প্রার্থী ড্যান কোহের প্রতি সমর্থন জানান।শনিবারের অনুষ্ঠানে বাইডেন ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে ওয়েস মুর স্মরণ করেন, ২০২৪ সালে বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু ধসে পড়ার পর বাইডেন দ্রুত ফেডারেল সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। মুর বলেন, ‘তিনি শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন লাখ লাখ মানুষ এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।’বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাড্রিয়েন গ্রিনও অনুষ্ঠানে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার মতে, এই বয়সেও বাইডেন যথেষ্ট ভালো আছেন। তবে তিনি দুই দলেই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন, ‘সাবেক নেতারা অবশ্যই মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলেই এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইড জানান, তার সঙ্গে বাইডেনের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ দলের সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের কাজে লাগানো উচিত। বাইডেনের নেতৃত্বের জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ভাষণের শেষদিকে বাইডেন বলেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, উঠে দাঁড়ান। এখনই সময়। লড়াই চালিয়ে যান।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
ডেস্ক নিউজ