রোববার, ০৩ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

ধান কাটার শ্রমিকদের হাতে বৃদ্ধা খুন: লুট হয়েছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার

কুমিল্লার চান্দিনায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সমীরণ বেগম নামে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ধান কাটার জন্য ভাড়া করে আনা শ্রমিকরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।নিহত সমীরণ বেগম স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে ধান কাটার কাজের জন্য চারজন শ্রমিককে বাড়িতে আনা হয়। তবে তাদের নাম-পরিচয় বাড়ির মালিকের জানা ছিল না। শনিবার এক শ্রমিক মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে গেলে কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তবে সেই রাতে নতুন করে আরও একজন শ্রমিককে কাজে যুক্ত করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল।শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বাড়ির মাঝখানের একটি কক্ষে, যার একপাশের রুমে সমীরণ বেগম এবং অন্য পাশে তার স্বামী ঘুমাতেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গভীর রাতে শ্রমিকরা বৃদ্ধার হাত-পা বেঁধে এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, ভোরে মায়ের সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে তিনি এই বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে পান। ততক্ষণে শ্রমিকরা পালিয়েছে এবং আলমারি থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার জানান, বাতেন মোল্লা স্বচ্ছল মানুষ হওয়ায় প্রতিবছরই বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান। এবার পরিচয় নিশ্চিত না করে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়াই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চান্দিনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে শ্রমিকদেরই এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন মনে করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করতে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
৪ ঘন্টা আগে

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১ মে) দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ফ্লোরিডা পুলিশ বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি তার বলে নিশ্চিত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। একই দিনে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও। পরবর্তীতে ফ্লোরিডার একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
০১ মে ২০২৬

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১ মে) দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ফ্লোরিডা পুলিশ বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি তার বলে নিশ্চিত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। একই দিনে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও। পরবর্তীতে ফ্লোরিডার একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
০১ মে ২০২৬
সন্ধ্যার মধ্যে ১১ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

সন্ধ্যার মধ্যে ১১ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।রোববার (৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।
২ ঘন্টা আগে
জাতীয়

জাতীয়

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতে পারে এবং নিজ নিজ অধিকার ভোগ করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই আমাদের সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।’তারেক রহমান বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও তা করিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি সবাই সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এ দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার ও আমাদের সকলের।’বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।শুরুতেই সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।তিনি বলেন, এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে, আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।
৩০ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১ মে) দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ফ্লোরিডা পুলিশ বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি তার বলে নিশ্চিত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। একই দিনে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও। পরবর্তীতে ফ্লোরিডার একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
০১ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরে পোল্ট্রিবিজ্ঞানের জীবন্ত পাঠ

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরে পোল্ট্রিবিজ্ঞানের জীবন্ত পাঠ

সেদিন সকালটা একটু অন্যরকম ছিল। বৃহস্পতিবার  ৩০ এপ্রিল, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ স্টুডেন্ট ইন এগ্রিকালচারাল এন্ড রিলেটেড সাইন্সএস বাংলাদেশ আইইউবিএটি সংগঠনের শিক্ষার্থীরা  ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির কৃষি অনুষদের এর প্রায় ৫৫ জন  সদস্য সেদিন শ্রেণিকক্ষে যাননি। তাঁদের ক্লাস হবে বাইরে, কারখানার মেঝেতে, যেখানে তত্ত্ব আর বাস্তবতা মুখোমুখি হয়।গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে ডায়মন্ড এগ লিমিটেড এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড অ্যাগ্রো অ্যান্ড গ্রেইনস লিমিটেড। একটি সাধারণ লেয়ার খামার হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি রূপ নিয়েছে দেশের অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর পোল্ট্রি কমপ্লেক্সে — যেখানে স্বয়ংক্রিয় ডিম সংগ্রহ, আধুনিক হ্যাচারি এবং বৃহৎ ফিড মিল একই ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। জৈব নিরাপত্তার মান ও শিল্পমাত্রার পোল্ট্রি উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটি আজ বাংলাদেশে একটি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত।যাক ঐদিন  সকাল সাড়ে আটটায় বাস ছাড়ল আইইউবিএটি ক্যাম্পাস থেকে। গন্তব্য গাজীপুরের কেন্দুয়াব, বীর উজলী, কাপাসিয়া — ডায়মন্ড এগ লিমিটেড ও ডায়মন্ড অ্যাগ্রো লিমিটেড। ড. মো. আব্দুস সবুর তালুকদার, সহকারী অধ্যাপক, কলেজ অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস , আইইউবিএটি এবং  প্রধান সমন্বয়ক, ইয়াস বাংলাদেশ আইউবিএটি একাডেমিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দলের সঙ্গে ছিলেন। বাসের ভেতরে কথা, হাসি, প্রশ্নের ভিড় — কিন্তু সবার মনে একটাই কৌতূহল, ভেতরে গিয়ে আসলে কী দেখব?যেখানে লাখো ডিম ছোঁয় না কোনো মানুষের হাতপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতেই অ্যাকাউন্টস ও সেলস ম্যানেজার মনজুরুল মনজু এগিয়ে এলেন। মুখে হাসি, হাতে একগুচ্ছ তথ্য। তিনি প্রথমেই যা বললেন তাতে অনেকের চোখ কিছুটা বড় হয়ে গেল — এই একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা হয় ১০ লাখ ডিম। সর্বোচ্চ সক্ষমতা ১৮ থেকে ২০ লাখ পর্যন্ত। শুধু সংখ্যাটাই না, এর পেছনের ব্যবস্থাটাও চমকের।নয়টি উৎপাদন ঘর থেকে ডিম আসে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কনভেয়র বেল্টে চড়ে — একটিও ডিমে মানুষের হাত পড়ে না, সরাসরি পৌঁছে যায় সংরক্ষণাগারে। মনজুরুল মনজু হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলেন পুরো পথটা এবং বললেন,“ফিডিং থেকে শুরু করে উৎপাদন ঘর থেকে স্টোরে পৌঁছানো পর্যন্ত সবটাই স্বয়ংক্রিয় — পুরোটাই মেশিনে হয়। কেবল ডিম গ্রেডিংয়ের কাজটুকু এখনো মানুষের হাতে।”— মনজুরুল মনজু, ম্যানেজার, অ্যাকাউন্টস ও সেলসউৎপাদন ঘরে থাকে লেয়ার পুলেট — ডিম দেওয়ার জন্য পালিত তরুণী মুরগি। সংরক্ষণাগারে ডিম রাখা হয় ছায়া ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায়, সরাসরি আলো বা গরম যেন না লাগে। ডিম গ্রেড হয় আকার, ওজন আর মুরগির বয়স অনুযায়ী। সাধারণ বাণিজ্যিক ডিমের মাপকাঠি ৬০ গ্রাম, তবে ৮০ থেকে ৯০ গ্রামের ডাবল কুসুমের ডিমও উৎপাদিত হয়, বাজারে যার চাহিদা আলাদা।একটি ডিমও এখানে নষ্ট হয় না। ফাটা বা ভাঙা ডিম আলাদা করে মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি করা হয়। এই একটা তথ্য দিয়েই বোঝা যায়, এখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত কতটা হিসেব করে নেওয়া।পুরো এগ হাউসের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ  জামিরুল ইসলাম, ম্যানেজার, ডায়মন্ড এগ লিমিটেড    এবং সিনিয়র সহকারি  মহাব্যবস্থাপক  সোহেল রানা বাবোরও পুরোটা সময় সঙ্গে থেকে শিক্ষার্থীদের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলেন।হ্যাচারি: তাপের এক ডিগ্রি হেরফেরও মানে বিপদহ্যাচারিতে ঢোকার আগে থামতে হলো। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, টিকা নিতে হবে, তারপর প্রবেশ। এটুকুতেই টের পাওয়া গেল, ভেতরটা কতটা সংবেদনশীল। মোহাম্মদ গোলাম কবির, উপমহাব্যবস্থাপক, ডায়মন্ড চিকস্ লিমিটেড প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীকে হাতে কলমে ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে শিখিয়েছেন।প্রথম ধাপ রিসিভার সেকশন — বাইরে থেকে আসা ডিম এখানে ২০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। সেখান থেকে কোল্ড রুমে যায়, যেখানে তাপমাত্রা নামিয়ে আনা হয় ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রিতে। এই ধাপে ভ্রূণের বিকাশ ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর করা হয়। কারণটা সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ — একটুখানি তাপমাত্রার হেরফেরেও ডিমের খোলে শিশির জমে, তৈরি হয় জীবাণু ঢোকার পথ।ইনকিউবেশন হলে ছয়টি মেশিন একসঙ্গে চলছে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ু চলাচল — সব নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। প্রতিটি ট্রলিতে প্রায় চার হাজার পাঁচশো ডিম। এভাবে টানা আঠারো দিন। তারপর শুরু হয় ক্যান্ডেলিং — আলোর মধ্যে ধরে দেখা হয় প্রতিটি ডিমের ভেতরে ভ্রূণ বেঁচে আছে কি না। যে ডিমে জীবন আছে, কেবল সে-ই এগিয়ে যায়।হ্যাচিংয়ের আগে প্যারাফর্মালডিহাইড দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। ফোটার পরপরই ছানাগুলোকে আলাদা করা হয় — রং দেখে এবং ক্লোয়াকা সেক্সিং পদ্ধতিতে। মেয়ে ছানা যাবে লেয়ার ট্র্যাকে, বড় হয়ে ডিম দেবে। ছেলে ছানা যাবে মাংসের পথে, প্রায় পঁয়তাল্লিশ দিনে বাজারে আসবে। ছানার ঘরে তাপমাত্রা রাখা হয় ছাব্বিশ থেকে আটাশ ডিগ্রি এবং এ পর্যায়েই দেওয়া হয় নিউক্যাসল ডিজিজ ও ইনফেকশাস বার্সাল ডিজিজের টিকা, যা ছানার প্রাথমিক মৃত্যুহার অনেকটা কমিয়ে আনে।ফিড ইউনিট: ভুট্টা থেকে শুরু হয় জীবনের রসদদুপুরে খাওয়ার পর দলটি গেলেন ডায়মন্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডের ফিড উৎপাদন বিভাগে।ফিডের মূল কাঁচামাল ভুট্টা — এটাই পুরো ফর্মুলেশনের ভিত্তি। বাকি উপকরণ বেশিরভাগ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়, তবে কিছু মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট আসে বিদেশ থেকে। এই কৌশলটি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখে।কাঁচামাল পৌঁছানোর পর নামে ভূগর্ভস্থ চেইন কনভেয়রে। চারটি চেম্বারে পরিষ্কার হওয়ার পর একটি তিন-গেট বাছাই ব্যবস্থায় উপকরণ যায় তিন দিকে — সরাসরি স্টোরেজে, অতিরিক্ত ক্লিনারে, অথবা লাল রঙের ড্রায়ার ইউনিটে। পরিষ্কৃত সব কাঁচামাল জমা হয় হপারে। প্রতিটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম উপকরণ ব্যবহার হয় এবং পুরো সিস্টেমকে সচল হতে সময় লাগে ছয় মাস। উপকরণের চলাচল পুরোটাই ব্লোয়ার সিস্টেমে — কোথাও মানুষের হাত লাগে না।মিশ্রণ চেম্বারে ভুট্টার সঙ্গে মেশানো হয় ভিটামিন, খনিজ লবণ, সাধারণ লবণ আর ক্যালসিয়ামের জন্য চুনাপাথর। তারপর ক্রাশার, মিক্সার আর প্রসেসিং ইউনিট পেরিয়ে ফিড যায় হিটার চেম্বারে — চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ডিগ্রি তাপে ধ্বংস হয় যাবতীয় জীবাণু। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়, নির্ধারিত অনুপাত মেনে প্রতিটি ব্যাচ তৈরি হয়। এই কারখানায় প্রতিদিন লাগে একশো বিশ থেকে একশো পঞ্চাশ টন ফিড।মোঃ আবু সাঈদ, সরকারি মহাব্যবস্থাপক, ডায়মন্ড ফিডস এন্ড গ্রেইন্স লিঃ প্রত্যেকটা ধাপ খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেন।ফেরার পথে যে উপলব্ধিবিকেলে বাসে ফেরার সময় অনেকে চুপচাপ ছিলেন। সেই চুপ থাকাটাও একধরনের ভাবনা। সারাদিনে যা দেখলেন তা কোনো পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় নয় — এটা জীবন্ত, চলমান, প্রতিদিন লাখো মানুষের পাতে পৌঁছে যাওয়া একটা উৎপাদনব্যবস্থা। জৈব নিরাপত্তার খুঁটিনাটি, ইনকিউবেশনের বিজ্ঞান, ভুট্টাভিত্তিক পুষ্টি পরিকল্পনা থেকে স্বয়ংক্রিয় পেলেট তৈরি — প্রতিটি ধাপে একটাই বার্তা স্পষ্ট হয়েছে: বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প এখন আর শুধু পরিচিত মুরগির খামার নয়, এটি কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী বিপ্লব।ড. শাবুর তালুকদারের একাডেমিক তত্ত্বাবধানে এই পরিদর্শন সফলভাবে শেষ হয়। দলের পক্ষ থেকে ডায়মন্ড এগ লিমিটেড,  সকল অংশগ্রহণকারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।শুভ্র/
০২ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২১ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

২১ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

ধান কাটার শ্রমিকদের হাতে বৃদ্ধা খুন: লুট হয়েছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার

ধান কাটার শ্রমিকদের হাতে বৃদ্ধা খুন: লুট হয়েছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার

কুমিল্লার চান্দিনায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সমীরণ বেগম নামে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ধান কাটার জন্য ভাড়া করে আনা শ্রমিকরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।নিহত সমীরণ বেগম স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে ধান কাটার কাজের জন্য চারজন শ্রমিককে বাড়িতে আনা হয়। তবে তাদের নাম-পরিচয় বাড়ির মালিকের জানা ছিল না। শনিবার এক শ্রমিক মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে গেলে কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তবে সেই রাতে নতুন করে আরও একজন শ্রমিককে কাজে যুক্ত করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল।শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বাড়ির মাঝখানের একটি কক্ষে, যার একপাশের রুমে সমীরণ বেগম এবং অন্য পাশে তার স্বামী ঘুমাতেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গভীর রাতে শ্রমিকরা বৃদ্ধার হাত-পা বেঁধে এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, ভোরে মায়ের সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে তিনি এই বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে পান। ততক্ষণে শ্রমিকরা পালিয়েছে এবং আলমারি থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার জানান, বাতেন মোল্লা স্বচ্ছল মানুষ হওয়ায় প্রতিবছরই বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান। এবার পরিচয় নিশ্চিত না করে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়াই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চান্দিনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে শ্রমিকদেরই এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন মনে করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করতে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র