রোববার, ২১ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান | ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র জাফলং। শনিবার (২১ জুন) দিবাগত রাতে পিয়াইন নদীর পানি চোখের পলকে বৃদ্ধি পেয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার কয়েক শ দোকানপাট সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গভীর রাতের এই আকস্মিক দুর্যোগে ঘুমন্ত ও প্রস্তুতিহীন ব্যবসায়ীদের মালামাল নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার রাতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। এর জেরে গভীর রাতে জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন পিয়াইন নদীতে আকস্মিকভাবে পানির স্তর হু হু করে বাড়তে থাকে। ঢলের তীব্র গতি এতই বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর তেমন সুযোগই পাননি। অনেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ দোকানেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের তোড়ে দোকানপাট ভেঙে মালামাল ভেসে যায়। গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সামান্য কিছু জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশেরই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে অনেকেই ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন। কিন্তু এই একটি রাতের দুর্যোগ তাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটুকু কেড়ে নিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিয়েছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করছেন শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের কারণে আমাদের কয়েক শ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ পথে বসে গেছেন। প্রতি বছরই আমাদের এই জীবন ও জীবিকার ঝুঁকিতে থাকতে হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের সিঁড়ির নিচ থেকে জিরো পয়েন্টের দোকানদারদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী শেড বা দোকানঘর নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে এই পর্যটন শিল্প ও ব্যবসায়ীদের রক্ষা করা যাবে না।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে পিয়াইন নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টের দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিষয় : বন্যা

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


পাহাড়ি ঢলে ভাসল জাফলংয়ের শতাধিক দোকান, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image
ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র জাফলং। শনিবার (২১ জুন) দিবাগত রাতে পিয়াইন নদীর পানি চোখের পলকে বৃদ্ধি পেয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার কয়েক শ দোকানপাট সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গভীর রাতের এই আকস্মিক দুর্যোগে ঘুমন্ত ও প্রস্তুতিহীন ব্যবসায়ীদের মালামাল নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার রাতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। এর জেরে গভীর রাতে জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন পিয়াইন নদীতে আকস্মিকভাবে পানির স্তর হু হু করে বাড়তে থাকে। ঢলের তীব্র গতি এতই বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর তেমন সুযোগই পাননি। অনেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ দোকানেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের তোড়ে দোকানপাট ভেঙে মালামাল ভেসে যায়। গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সামান্য কিছু জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশেরই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে অনেকেই ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন। কিন্তু এই একটি রাতের দুর্যোগ তাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটুকু কেড়ে নিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিয়েছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করছেন শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের কারণে আমাদের কয়েক শ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ পথে বসে গেছেন। প্রতি বছরই আমাদের এই জীবন ও জীবিকার ঝুঁকিতে থাকতে হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের সিঁড়ির নিচ থেকে জিরো পয়েন্টের দোকানদারদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী শেড বা দোকানঘর নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে এই পর্যটন শিল্প ও ব্যবসায়ীদের রক্ষা করা যাবে না।এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে পিয়াইন নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টের দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত