শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

অধ্যক্ষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, নিজ অর্থায়নে দেড়শত শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম উপহার

অধ্যক্ষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, নিজ অর্থায়নে দেড়শত শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম উপহার
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো তহবিল ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিদ্যালয়ের দেড়শত শিক্ষার্থীকে স্কুল ইউনিফর্ম উপহার দিয়েছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মোঃ রকিবুল ইসলাম।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে এই পোশাক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই অঞ্চলের অনগ্রসর জনপদের শিক্ষার প্রসারে নিভৃতে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ শেখ মোঃ রকিবুল ইসলাম। বিশেষ করে অর্থাভাব এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে যাতে কোনো মেধাবী বা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন মাঝপথে থমকে না যায়, সেজন্য গত কয়েক বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের টাকা জোগানো, বিনামূল্যে উন্নত মানের পাঠ্যপুস্তক ও খাতা-কলম সরবরাহ এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অবৈতনিক বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়ে আসছেন। করোনাকালীন ও বিভিন্ন সামাজিক দুর্যোগে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পরম অভিভাবকের মতো। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন বহুমুখী, দীর্ঘমেয়াদী ও অসামান্য অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তিনি সিংড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক উপজেলার 'শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ' হিসেবে নির্বাচিত ও ভূষিত হন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সমতা, একতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি চলতি বছর একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য না নিয়ে নিজের বেতনের বড় একটি অংশ ও ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে সকল ছাত্র-ছাত্রীর ইউনিফর্মের যাবতীয় খরচ একাই বহনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্রের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শার্ট ও প্যান্ট এবং ছাত্রীদের জন্য মার্জিত বোরকা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। প্রিয় অধ্যক্ষের কাছ থেকে এমন চমৎকার উপহার পেয়ে আনন্দ ও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।

সেই অর্জনের ধারাবাহিকতায় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি চলতি বছর নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সকল ছাত্র-ছাত্রীর ইউনিফর্মের খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য শার্ট ও প্যান্ট এবং ছাত্রীদের জন্য বোরকা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।

অধ্যক্ষ শেখ মোঃ রকিবুল ইসলাম বলেন, "আজকের এই আয়োজন আমার শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো করুণা নয়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। একটি উন্নয়নকামী ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৪ অনুযায়ী ‘সবার জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা’ নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বিকল্প নেই। অর্থাভাব যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের প্রতিবন্ধক না হয় এবং পোশাকি বৈষম্য ভুলে প্রতিটি সন্তান যেন একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো গ্রহণ করতে পারে, সেই তাগিদ থেকেই আমার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই নতুন পোশাক শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও সমতার বোধ জাগ্রত করবে এবং একই সাথে আজকের এই চারাগাছ তাদের পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে বলেই আমার বিশ্বাস। আমার শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হয়ে এই জনপদের মুখ উজ্জ্বল করলেই শিক্ষক হিসেবে আমার জীবন সার্থক হবে।"

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি ও এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, "শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সমাজ সংস্কারে এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ সমাজ ও তরুণ সমাজকে 

জনকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।"  অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার উন্নয়নে অধ্যক্ষের এমন বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। নতুন পোশাক ও চারাগাছ হাতে পেয়ে আনন্দের উচ্ছ্বাসে এক শিক্ষার্থী বলে, "সংসারের টানাপোড়েনে নতুন ইউনিফর্মের কথা বাড়িতে বলতে পারছিলাম না। প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করে দিলেন।" অন্যদিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, "বর্তমান বাজারে যেখানে সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে সন্তানদের নতুন স্কুল ড্রেস ও বোরকা বানানোর বড় খরচটি স্যার একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি আমাদের সন্তানদের পরম বাবার মতো আগলে রাখছেন। তাঁর এই ঋণ আমরা কখনো ভুলব না।

বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ মোঃ রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫ নং চামারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মোঃ রাশিদুল ইসলাম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আল আমিন মৃধা (সাজু) এবং চামারী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা।

উল্লেখ্য, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন একটি তরুণ ও যুব-নেতৃত্বাধীন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ প্রসার অন্যতম। যুবকদের নেতৃত্ব গঠন ও সামাজিক ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই ফাউন্ডেশনটি সমাজ পরিবর্তন ও মানবিক সহায়তায় নিরলস অবদান রেখে চলেছে।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


অধ্যক্ষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, নিজ অর্থায়নে দেড়শত শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম উপহার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image
সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো তহবিল ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিদ্যালয়ের দেড়শত শিক্ষার্থীকে স্কুল ইউনিফর্ম উপহার দিয়েছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মোঃ রকিবুল ইসলাম।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে এই পোশাক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই অঞ্চলের অনগ্রসর জনপদের শিক্ষার প্রসারে নিভৃতে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ শেখ মোঃ রকিবুল ইসলাম। বিশেষ করে অর্থাভাব এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে যাতে কোনো মেধাবী বা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন মাঝপথে থমকে না যায়, সেজন্য গত কয়েক বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের টাকা জোগানো, বিনামূল্যে উন্নত মানের পাঠ্যপুস্তক ও খাতা-কলম সরবরাহ এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অবৈতনিক বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়ে আসছেন। করোনাকালীন ও বিভিন্ন সামাজিক দুর্যোগে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পরম অভিভাবকের মতো। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন বহুমুখী, দীর্ঘমেয়াদী ও অসামান্য অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তিনি সিংড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক উপজেলার 'শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ' হিসেবে নির্বাচিত ও ভূষিত হন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সমতা, একতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি চলতি বছর একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য না নিয়ে নিজের বেতনের বড় একটি অংশ ও ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে সকল ছাত্র-ছাত্রীর ইউনিফর্মের যাবতীয় খরচ একাই বহনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্রের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শার্ট ও প্যান্ট এবং ছাত্রীদের জন্য মার্জিত বোরকা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। প্রিয় অধ্যক্ষের কাছ থেকে এমন চমৎকার উপহার পেয়ে আনন্দ ও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।সেই অর্জনের ধারাবাহিকতায় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি চলতি বছর নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সকল ছাত্র-ছাত্রীর ইউনিফর্মের খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য শার্ট ও প্যান্ট এবং ছাত্রীদের জন্য বোরকা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।অধ্যক্ষ শেখ মোঃ রকিবুল ইসলাম বলেন, "আজকের এই আয়োজন আমার শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো করুণা নয়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। একটি উন্নয়নকামী ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৪ অনুযায়ী ‘সবার জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা’ নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বিকল্প নেই। অর্থাভাব যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের প্রতিবন্ধক না হয় এবং পোশাকি বৈষম্য ভুলে প্রতিটি সন্তান যেন একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো গ্রহণ করতে পারে, সেই তাগিদ থেকেই আমার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই নতুন পোশাক শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও সমতার বোধ জাগ্রত করবে এবং একই সাথে আজকের এই চারাগাছ তাদের পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে বলেই আমার বিশ্বাস। আমার শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হয়ে এই জনপদের মুখ উজ্জ্বল করলেই শিক্ষক হিসেবে আমার জীবন সার্থক হবে।"অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি ও এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, "শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সমাজ সংস্কারে এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ সমাজ ও তরুণ সমাজকে জনকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।"  অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার উন্নয়নে অধ্যক্ষের এমন বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেন।এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। নতুন পোশাক ও চারাগাছ হাতে পেয়ে আনন্দের উচ্ছ্বাসে এক শিক্ষার্থী বলে, "সংসারের টানাপোড়েনে নতুন ইউনিফর্মের কথা বাড়িতে বলতে পারছিলাম না। প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করে দিলেন।" অন্যদিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, "বর্তমান বাজারে যেখানে সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে সন্তানদের নতুন স্কুল ড্রেস ও বোরকা বানানোর বড় খরচটি স্যার একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি আমাদের সন্তানদের পরম বাবার মতো আগলে রাখছেন। তাঁর এই ঋণ আমরা কখনো ভুলব না।বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ মোঃ রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫ নং চামারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মোঃ রাশিদুল ইসলাম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আল আমিন মৃধা (সাজু) এবং চামারী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা।উল্লেখ্য, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন একটি তরুণ ও যুব-নেতৃত্বাধীন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ প্রসার অন্যতম। যুবকদের নেতৃত্ব গঠন ও সামাজিক ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই ফাউন্ডেশনটি সমাজ পরিবর্তন ও মানবিক সহায়তায় নিরলস অবদান রেখে চলেছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত