কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সতর্ক থাকতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী (২৩ জুন, ২০২৬) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির কাছে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি বার্তা পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তর।
বার্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ওই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা হতে পারে।
এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে এ বার্তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তারা এ-সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা আশঙ্কার তথ্য নেই। আমরা সতর্ক আছি।” তিনি আরও বলেন, “সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।”
নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা এবং প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। জোটসঙ্গী বিভিন্ন দলের কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের তেমন দেখা যায় না।
আন্দোলন দমনে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার চলছে। বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় অভিযান ও ধরপাকড় চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে