মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১

রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১
রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১ । ছবি: সংগ্রহীত

ইউক্রেনের কয়েকটি বড় শহরে সোমবার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আগুন লেগেছে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাসনালয়েও।

এএফপির সাংবাদিকরা জানান, হামলার পুরো সময়জুড়ে কিয়েভের বাসিন্দাদের আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় ছুটতে দেখা গেছে। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছিল। অন্ধকার শহরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষও পড়ে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এ হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের প্রতি মস্কোর ওপর আরও চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির বিষয়টিও ওই সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাওয়ার কথা।

হামলায় রাজধানী কিয়েভে ৫ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরার প্রাঙ্গণে আগুন লাগে। এতে এর ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর এটি একটি। একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশের অর্থোডক্স বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কিয়েভ, খারকিভ ও দনিপ্রো অঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় ‘বৃহৎ আকারের হামলা’ চালিয়েছে। তবে লাভরায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো দাবি করেছে, একটি পুরোনো মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। এর মধ্যে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৮২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সকালে কিয়েভে এএফপির এক প্রতিবেদক দেখেন, ক্যাথাড্রেল এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। এ সময় গির্জার ঘণ্টায় ইউক্রেনের জাতীয় সংগীতের সুর বাজে। 

জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের নেতাদের প্রতি হামলার ‘দৃঢ় ও কার্যকর’ জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আগ্রাসনকারীর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন্ডার লিয়েন বলেন, জি-৭ নেতারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর পরবর্তী পদক্ষেপ, রুশ প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনা ও এই অর্থহীন হত্যাযজ্ঞ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।

হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কিয়েভের জাদুঘরকর্মী নাটালিয়া কোরোল।

৫২ বছর বয়সী এই নারী এএফপিকে বলেন, ‘এটি একটি পবিত্র স্থান। তারাও বলে এটি তাদের পবিত্র স্থান। পবিত্র স্থাপনায় হামলা করা যায় না।’ সোনালি গম্বুজখচিত কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠকে রুশ ও ইউক্রেনীয়Ñ উভয় অর্থোডক্স চার্চই তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে। উপাসনালয়টির বিস্তৃত গুহা নেটওয়ার্কে উভয় চার্চের শ্রদ্ধেয় বহু সাধুর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।

রাতের হামলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ডরমিশন ক্যাথেড্রাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রুশ অর্থোডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখা এই ধর্মীয় স্থাপনাটি পরিচালনা করত। তবে ২০২২-২৩ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে মস্কোপন্থী ইউক্রেনীয় চার্চের সন্ন্যাসীদের মঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই সার্বজনীন ঐতিহ্যের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, রাজধানীর মিস্তেতস্কি আর্সেনাল জাতীয় শিল্প ও জাদুঘর কমপ্লেক্সের একটি ভবনেও আগুন লেগেছে।

বিষয় : ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


রুশ হামলায় জ্বলল কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, নিহত ১১

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image
ইউক্রেনের কয়েকটি বড় শহরে সোমবার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আগুন লেগেছে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাসনালয়েও।এএফপির সাংবাদিকরা জানান, হামলার পুরো সময়জুড়ে কিয়েভের বাসিন্দাদের আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় ছুটতে দেখা গেছে। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছিল। অন্ধকার শহরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষও পড়ে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।এ হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের প্রতি মস্কোর ওপর আরও চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির বিষয়টিও ওই সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাওয়ার কথা।হামলায় রাজধানী কিয়েভে ৫ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরার প্রাঙ্গণে আগুন লাগে। এতে এর ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর এটি একটি। একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশের অর্থোডক্স বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কিয়েভ, খারকিভ ও দনিপ্রো অঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় ‘বৃহৎ আকারের হামলা’ চালিয়েছে। তবে লাভরায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো দাবি করেছে, একটি পুরোনো মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হেনেছে।ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। এর মধ্যে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৮২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সকালে কিয়েভে এএফপির এক প্রতিবেদক দেখেন, ক্যাথাড্রেল এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। এ সময় গির্জার ঘণ্টায় ইউক্রেনের জাতীয় সংগীতের সুর বাজে। জেলেনস্কি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের নেতাদের প্রতি হামলার ‘দৃঢ় ও কার্যকর’ জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, আগ্রাসনকারীর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে হবে।ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন্ডার লিয়েন বলেন, জি-৭ নেতারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর পরবর্তী পদক্ষেপ, রুশ প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনা ও এই অর্থহীন হত্যাযজ্ঞ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কিয়েভের জাদুঘরকর্মী নাটালিয়া কোরোল।৫২ বছর বয়সী এই নারী এএফপিকে বলেন, ‘এটি একটি পবিত্র স্থান। তারাও বলে এটি তাদের পবিত্র স্থান। পবিত্র স্থাপনায় হামলা করা যায় না।’ সোনালি গম্বুজখচিত কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠকে রুশ ও ইউক্রেনীয়Ñ উভয় অর্থোডক্স চার্চই তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে। উপাসনালয়টির বিস্তৃত গুহা নেটওয়ার্কে উভয় চার্চের শ্রদ্ধেয় বহু সাধুর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।রাতের হামলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ডরমিশন ক্যাথেড্রাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রুশ অর্থোডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখা এই ধর্মীয় স্থাপনাটি পরিচালনা করত। তবে ২০২২-২৩ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে মস্কোপন্থী ইউক্রেনীয় চার্চের সন্ন্যাসীদের মঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই সার্বজনীন ঐতিহ্যের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, রাজধানীর মিস্তেতস্কি আর্সেনাল জাতীয় শিল্প ও জাদুঘর কমপ্লেক্সের একটি ভবনেও আগুন লেগেছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত