“যুক্তির মশালে মুছে যাক আঁধার” স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবহেলিত জনপদ হাইমচরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩য় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬। এতে উপজেলার ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তর্ক, যুক্তি ও জ্ঞানের লড়াইয়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরে।
হাইমচর বিতর্ক একাডেমির আয়োজনে আজ ১৫ জুন রোজ সোমবার সকাল ১০টায় দুর্গাপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আয়োজকরা জানান প্রাথমিক, প্রি-কোয়ার্টার, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—এই পাঁচটি ধাপে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা থাকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইমচর বিতর্ক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাজহারুল ইসলাম শফিক। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সভাপতি নুরে আলম মাসুম এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন ইমরু সহ একাডেমির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা
একাডেমির সভাপতি বলেন- হাইমচর থেকে মেধাবী ও প্রতিভাবান বিতার্কিক তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রতিবান বির্তাকিক তুলে আনার কারন হলো একসময় তারা হাইমচর কে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবেন।
হাইমচর বিতর্ক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, আমি সিকেডিএফ থেকে ২০১২ সালে এই বিতর্কের অনুপ্রেরণা পাই,আমি মনে করি এই বিতর্কটা সমাজের জন্য অত্যাবশক। বির্তক একাডেমি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার সর্বশক্তি সকল প্রচেষ্টা সকল কৌশল প্রয়োগ করব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন,অন্যের মতামত কে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সমাজের সৃষ্টি হয়েছে,শিক্ষার্থীরা যাতে যুক্তি তর্ক প্রদর্শন করে সেই চাপানো মতামত গ্রহণ না করে তার জন্য বিতর্ক করা প্রয়োজন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা জানান, বিতর্ক তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করছে। পাশাপাশি বিতর্কের মাধ্যমে তারা নিজেদের বক্তব্য ও চিন্তাভাবনা সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে শিখছে। অনেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের বিতার্কিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায় বলেন, “সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক, গঠনমূলক সমালোচনা হবে যুক্তি দিয়ে সমালোচনা। সমালোচনা কখনো জোরপূর্বক সমালোচনা না। মুখের ভাষা দিয়ে সমালোচনা, বিশ্রী ভাষায় কটূক্তিমূলক সমালোচনা হয় না, সমালোচনা হতে হয় সুন্দর ভাষায়, সাবলীল ভাষায়, মার্জিত ভাষায়। আপনি যদি কঠোরভাবে সমালোচনা করতে চান, সেজন্য কঠোরভাবে অনুশীলন করতে হবে এবং সে বিষয়ে জানতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি এই বিতর্ক হলো একটি প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আপনি এবং আপনার সহপাঠীরা সুন্দরভাবে সমাজের যে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করতে পারেন। এক দৃষ্টিকোণ থেকে যা সঠিক মনে হতে পারে, অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে তা ভুলও হতে পারে। সে কারণেই বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।”
প্রতিযোগিতাকে নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত রাখতে বিচারক হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন বিতর্ক একাডেমির অভিজ্ঞ বিচারকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আজকে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নীত হওয়া দলগুলো পরবর্তী রাউন্ডে অর্থাৎ (প্রি-কোয়ার্টারে) অংশগ্রহণ করতে পারবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে হাইমচরের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা ও যুক্তির শক্তির স্বাক্ষর রাখবে। পাশাপাশি হাইমচর বিতর্ক একাডেমিও আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে এগিয়ে যাবে।
বিষয় : শিক্ষার্থী শিক্ষক চাঁদপুর

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে