শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগ্রহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্ব সংস্থাটির এই মঞ্চে বক্তব্য রাখলেন।

এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন। ফলে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। পুরো বক্তব্য তিনি বাংলায় দেন। ভাষণে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, সংঘাত নিরসন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।

ভাষণের শুরুতে নিজের পরিবারের জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মঞ্চে দাঁড়ানোর সময় তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের কথা তাঁর মনে পড়ছে। তাঁদের ধারাবাহিকতায় দেশের জনগণের স্বার্থ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এখানে দাঁড়িয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বিরোধ মেটাতে সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা, ন্যায়সংগত আচরণ, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকটও তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

চার দশকের পারিবারিক সম্পৃক্ততা

জাতিসংঘের সঙ্গে তারেক রহমানের পরিবারের সম্পৃক্ততা শুরু হয় তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে তিনি বক্তব্য দেন। সে সময় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি একাধিকবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশেষ অধিবেশন ও জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনেও অংশ নেন তিনি।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখলেন তারেক রহমান। তাঁর এই উপস্থিতির মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় যুক্ত হলো নতুন একটি অধ্যায়।

বিষয় : তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্ব সংস্থাটির এই মঞ্চে বক্তব্য রাখলেন।এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন। ফলে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। পুরো বক্তব্য তিনি বাংলায় দেন। ভাষণে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, সংঘাত নিরসন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।ভাষণের শুরুতে নিজের পরিবারের জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মঞ্চে দাঁড়ানোর সময় তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের কথা তাঁর মনে পড়ছে। তাঁদের ধারাবাহিকতায় দেশের জনগণের স্বার্থ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এখানে দাঁড়িয়েছেন।বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বিরোধ মেটাতে সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা, ন্যায়সংগত আচরণ, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।রোহিঙ্গা সংকটও তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। চার দশকের পারিবারিক সম্পৃক্ততাজাতিসংঘের সঙ্গে তারেক রহমানের পরিবারের সম্পৃক্ততা শুরু হয় তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে তিনি বক্তব্য দেন। সে সময় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি একাধিকবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশেষ অধিবেশন ও জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনেও অংশ নেন তিনি।দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখলেন তারেক রহমান। তাঁর এই উপস্থিতির মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় যুক্ত হলো নতুন একটি অধ্যায়।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত