সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

যে খাবারের নামে লুকিয়ে আছে বিখ্যাত মানুষের গল্প

যে খাবারের নামে লুকিয়ে আছে বিখ্যাত মানুষের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

ফরাসি খাবার মানেই শুধু স্বাদ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি আর মানুষের গল্প। ফ্রান্সের অনেক বিখ্যাত খাবারের নাম শুনলে মনে হয় এটি হয়তো কোনো অঞ্চলের নাম বা কোনো বিশেষ উপাদান থেকে এসেছে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, কিছু খাবারের নাম রাখা হয়েছে ইতিহাসের বিখ্যাত মানুষদের সম্মানে। কোনো শিল্পী, কোনো লেখক, কোনো সংগীতশিল্পী কিংবা কোনো খাদ্যরসিকের স্মৃতি ধরে রেখেছে এসব খাবার।

খাবার আর সংস্কৃতির এই সম্পর্ক ফরাসিদের কাছে নতুন নয়। তাদের কাছে রান্না শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, এটি এক ধরনের শিল্প। তাই কোনো সৃষ্টিশীল মানুষকে সম্মান জানাতে একটি নতুন পদ বা রেসিপির নাম তার নামে দেওয়ার চল তৈরি হয়েছে বহু আগে থেকেই।


ব্রিয়া সাভারিন: এক খাদ্যপ্রেমীর স্মরণে

ফরাসি খাবারের জগতে অন্যতম পরিচিত নাম ‘ব্রিয়া সাভারিন’ চিজ। এর নাম এসেছে ফরাসি লেখক ও খাদ্যবিশারদ জঁ আঁতেলম ব্রিয়া-সাভারিনের নাম থেকে। তিনি শুধু লেখক ছিলেন না, খাবার নিয়ে তার গভীর চিন্তা ও লেখালেখি তাকে ফ্রান্সের অন্যতম প্রভাবশালী খাদ্যচিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত করে। তার বিখ্যাত বই The Physiology of Taste খাবারকে শুধু স্বাদের বিষয় নয়, বরং সংস্কৃতি ও জীবনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছিল।

এই চিজের স্বাদও যেন তার নামের মতোই বিশেষ। মসৃণ, ক্রিমি ও সমৃদ্ধ স্বাদের এই চিজ ফরাসি খাদ্য ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ।


পিচ মেলবা: এক অপেরা তারকার জন্য তৈরি মিষ্টি

‘পিচ মেলবা’ নামটি এসেছে বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় অপেরা গায়িকা নেলি মেলবার কাছ থেকে। উনিশ শতকের শেষ দিকে ফরাসি শেফ অগুস্ত এসকফিয়ে তার সম্মানে এই ডেজার্ট তৈরি করেন। তাজা পিচ, ভ্যানিলা আইসক্রিম ও রাস্পবেরি সসের সমন্বয়ে তৈরি এই মিষ্টান্ন পরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।

একজন শিল্পীর সাফল্য আর একজন শেফের সৃষ্টিশীলতা মিলে কীভাবে একটি খাবারকে ইতিহাসের অংশ করে তুলতে পারে, পিচ মেলবা তার সুন্দর উদাহরণ।


টুর্নেদো রসিনি: সংগীতের সুর থেকে খাবারের টেবিলে

বিখ্যাত ইতালীয় সুরকার জোয়াকিনো রসিনি শুধু সংগীতের মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় খাদ্যপ্রেমীও। তার নামেই তৈরি হয় ‘টুর্নেদো রসিনি’। এটি একটি বিলাসবহুল ফরাসি পদ, যেখানে মাংসের সঙ্গে বিশেষ উপকরণের সমন্বয় করা হয়।

কথিত আছে, ফরাসি রন্ধনশিল্পী মেরি-আন্তোয়ান কারেম রসিনির রুচি ও পছন্দের কথা মাথায় রেখে এই পদ তৈরি করেছিলেন। ফলে সংগীতের একজন কিংবদন্তির নাম জায়গা করে নেয় ফরাসি খাবারের ইতিহাসে।


হাচিস পারমেন্তিয়ে: আলুর গল্পের নায়ক

ফ্রান্সে আলুকে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন অঁতোয়ান অগুস্ত পারমেন্তিয়ে। একসময় ফ্রান্সে আলুকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হতো না। কিন্তু পারমেন্তিয়ে প্রচারের মাধ্যমে এটিকে মানুষের খাবারের অংশ করে তোলেন।

তার নামেই পরিচিত হয় ‘হাচিস পারমেন্তিয়ে’, যা মূলত মাংস ও আলুর মিশ্রণে তৈরি একটি জনপ্রিয় ফরাসি খাবার। সাধারণ উপাদান দিয়েও কীভাবে একটি জাতির খাদ্যসংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা যায়, এই খাবার তার উদাহরণ।


শাতোব্রিয়াঁ: লেখকের পছন্দ থেকে রেস্তোরাঁর মেনুতে

‘শাতোব্রিয়াঁ’ নামের এই বিখ্যাত স্টেকের নাম এসেছে ফরাসি লেখক ও রাজনীতিবিদ ফ্রাঁসোয়া-রেনে দ্য শাতোব্রিয়াঁর নাম থেকে। তার ব্যক্তিগত পছন্দের একটি মাংসের পদ পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং জায়গা করে নেয় ফরাসি রেস্তোরাঁর মেনুতে।


লা ট্রোপেজিয়েন: এক অভিনেত্রীর পছন্দে জনপ্রিয়

ফরাসি মিষ্টান্ন ‘লা ট্রোপেজিয়েন’ তৈরি হয়েছিল ১৯৫২ সালে। পরে বিখ্যাত অভিনেত্রী ব্রিজিত বার্দোর পছন্দের খাবার হয়ে ওঠায় এটি আরও জনপ্রিয়তা পায়। সেন্ট ট্রোপেজ শহরের এই বিশেষ পেস্ট্রি আজ ফরাসি মিষ্টির জগতে পরিচিত একটি নাম।

ফরাসি খাবারের এই গল্পগুলো দেখায়, একটি খাবার কখনো কখনো শুধু রেসিপি থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে একজন মানুষের স্মৃতি, একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি কিংবা একটি সংস্কৃতির পরিচয়। প্লেটের ওপর থাকা একটি খাবার তখন ইতিহাসের একটি ছোট গল্প হয়ে আমাদের সামনে আসে।

সূত্র: টেস্ট ফ্রান্স

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


যে খাবারের নামে লুকিয়ে আছে বিখ্যাত মানুষের গল্প

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image
ফরাসি খাবার মানেই শুধু স্বাদ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি আর মানুষের গল্প। ফ্রান্সের অনেক বিখ্যাত খাবারের নাম শুনলে মনে হয় এটি হয়তো কোনো অঞ্চলের নাম বা কোনো বিশেষ উপাদান থেকে এসেছে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, কিছু খাবারের নাম রাখা হয়েছে ইতিহাসের বিখ্যাত মানুষদের সম্মানে। কোনো শিল্পী, কোনো লেখক, কোনো সংগীতশিল্পী কিংবা কোনো খাদ্যরসিকের স্মৃতি ধরে রেখেছে এসব খাবার।খাবার আর সংস্কৃতির এই সম্পর্ক ফরাসিদের কাছে নতুন নয়। তাদের কাছে রান্না শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, এটি এক ধরনের শিল্প। তাই কোনো সৃষ্টিশীল মানুষকে সম্মান জানাতে একটি নতুন পদ বা রেসিপির নাম তার নামে দেওয়ার চল তৈরি হয়েছে বহু আগে থেকেই। ব্রিয়া সাভারিন: এক খাদ্যপ্রেমীর স্মরণেফরাসি খাবারের জগতে অন্যতম পরিচিত নাম ‘ব্রিয়া সাভারিন’ চিজ। এর নাম এসেছে ফরাসি লেখক ও খাদ্যবিশারদ জঁ আঁতেলম ব্রিয়া-সাভারিনের নাম থেকে। তিনি শুধু লেখক ছিলেন না, খাবার নিয়ে তার গভীর চিন্তা ও লেখালেখি তাকে ফ্রান্সের অন্যতম প্রভাবশালী খাদ্যচিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত করে। তার বিখ্যাত বই The Physiology of Taste খাবারকে শুধু স্বাদের বিষয় নয়, বরং সংস্কৃতি ও জীবনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছিল।এই চিজের স্বাদও যেন তার নামের মতোই বিশেষ। মসৃণ, ক্রিমি ও সমৃদ্ধ স্বাদের এই চিজ ফরাসি খাদ্য ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ। পিচ মেলবা: এক অপেরা তারকার জন্য তৈরি মিষ্টি‘পিচ মেলবা’ নামটি এসেছে বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় অপেরা গায়িকা নেলি মেলবার কাছ থেকে। উনিশ শতকের শেষ দিকে ফরাসি শেফ অগুস্ত এসকফিয়ে তার সম্মানে এই ডেজার্ট তৈরি করেন। তাজা পিচ, ভ্যানিলা আইসক্রিম ও রাস্পবেরি সসের সমন্বয়ে তৈরি এই মিষ্টান্ন পরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।একজন শিল্পীর সাফল্য আর একজন শেফের সৃষ্টিশীলতা মিলে কীভাবে একটি খাবারকে ইতিহাসের অংশ করে তুলতে পারে, পিচ মেলবা তার সুন্দর উদাহরণ। টুর্নেদো রসিনি: সংগীতের সুর থেকে খাবারের টেবিলেবিখ্যাত ইতালীয় সুরকার জোয়াকিনো রসিনি শুধু সংগীতের মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় খাদ্যপ্রেমীও। তার নামেই তৈরি হয় ‘টুর্নেদো রসিনি’। এটি একটি বিলাসবহুল ফরাসি পদ, যেখানে মাংসের সঙ্গে বিশেষ উপকরণের সমন্বয় করা হয়।কথিত আছে, ফরাসি রন্ধনশিল্পী মেরি-আন্তোয়ান কারেম রসিনির রুচি ও পছন্দের কথা মাথায় রেখে এই পদ তৈরি করেছিলেন। ফলে সংগীতের একজন কিংবদন্তির নাম জায়গা করে নেয় ফরাসি খাবারের ইতিহাসে। হাচিস পারমেন্তিয়ে: আলুর গল্পের নায়কফ্রান্সে আলুকে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন অঁতোয়ান অগুস্ত পারমেন্তিয়ে। একসময় ফ্রান্সে আলুকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হতো না। কিন্তু পারমেন্তিয়ে প্রচারের মাধ্যমে এটিকে মানুষের খাবারের অংশ করে তোলেন।তার নামেই পরিচিত হয় ‘হাচিস পারমেন্তিয়ে’, যা মূলত মাংস ও আলুর মিশ্রণে তৈরি একটি জনপ্রিয় ফরাসি খাবার। সাধারণ উপাদান দিয়েও কীভাবে একটি জাতির খাদ্যসংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা যায়, এই খাবার তার উদাহরণ। শাতোব্রিয়াঁ: লেখকের পছন্দ থেকে রেস্তোরাঁর মেনুতে‘শাতোব্রিয়াঁ’ নামের এই বিখ্যাত স্টেকের নাম এসেছে ফরাসি লেখক ও রাজনীতিবিদ ফ্রাঁসোয়া-রেনে দ্য শাতোব্রিয়াঁর নাম থেকে। তার ব্যক্তিগত পছন্দের একটি মাংসের পদ পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং জায়গা করে নেয় ফরাসি রেস্তোরাঁর মেনুতে। লা ট্রোপেজিয়েন: এক অভিনেত্রীর পছন্দে জনপ্রিয়ফরাসি মিষ্টান্ন ‘লা ট্রোপেজিয়েন’ তৈরি হয়েছিল ১৯৫২ সালে। পরে বিখ্যাত অভিনেত্রী ব্রিজিত বার্দোর পছন্দের খাবার হয়ে ওঠায় এটি আরও জনপ্রিয়তা পায়। সেন্ট ট্রোপেজ শহরের এই বিশেষ পেস্ট্রি আজ ফরাসি মিষ্টির জগতে পরিচিত একটি নাম।ফরাসি খাবারের এই গল্পগুলো দেখায়, একটি খাবার কখনো কখনো শুধু রেসিপি থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে একজন মানুষের স্মৃতি, একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি কিংবা একটি সংস্কৃতির পরিচয়। প্লেটের ওপর থাকা একটি খাবার তখন ইতিহাসের একটি ছোট গল্প হয়ে আমাদের সামনে আসে।সূত্র: টেস্ট ফ্রান্স

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত