সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

সেভেন আপ কিংবা অন্য কোল্ড ড্রিংকস কি গ্যাস কমায়?

সেভেন আপ কিংবা অন্য কোল্ড ড্রিংকস কি গ্যাস কমায়?
ছবি- সংগৃহীত

ফুটবল মানেই বাংলাদেশে আবেগের অন্য নাম। বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা, তর্ক, ট্রল আর মজার সব মিম। এর মাঝেই একটা বিষয় প্রায়ই চোখে পড়ে, বিশেষ করে ব্রাজিল সমর্থকদের নিয়ে ট্রলের অংশ হিসেবে অনেকে মজা করে বলে, “সেভেন আপ খাও, সব ঠিক হয়ে যাবে!” কিন্তু সত্যিই কি গ্যাস, অম্বল বা বদহজম হলে সেভেন আপ বা অন্য কোনো ঠান্ডা পানীয় উপকার করে?

পেট ভার, ঢেকুর, গ্যাস কিংবা অস্বস্তি হলে অনেকেই অভ্যাসবশত ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানীয় বের করে খান। ধারণা হলো, বুদবুদ ওঠা পানীয় খেলে ঢেকুর আসে, তাই পেটের গ্যাস বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ স্বস্তি লাগতেও পারে। কিন্তু এই স্বস্তি আসলে সাময়িক। গ্যাসের সমস্যার সমাধান করে না সেভেন আপ বা কোনো কার্বনেটেড ড্রিংকস।

ঠান্ডা পানীয়তে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে ঢেকুর হতে পারে। এতে পেটে জমে থাকা বাতাস কিছুটা বের হয়ে যাওয়ায় মনে হয় আরাম মিলেছে। কিন্তু একই সঙ্গে এই পানীয়ের গ্যাস শরীরে ঢুকে অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, এসব পানীয়তে থাকে প্রচুর চিনি। নিয়মিত বেশি পরিমাণে ঠান্ডা পানীয় পান করলে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। যাদের অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সেভেন আপ বা এ ধরনের পানীয় সব সময় ভালো সমাধান নয়।

বাংলাদেশে ভারী খাবারের পর ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার একটা সংস্কৃতি আছে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, তেহারি বা ফাস্টফুডের সঙ্গে অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে কোল্ড ড্রিংকস। কিন্তু খাবারের পর পেট ভালো রাখার জন্য এর চেয়ে বেশি জরুরি হলো পরিমিত খাবার খাওয়া এবং খাবারের পর একটু হাঁটাহাঁটি করা।

গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে জীবনযাপনে কিছু ছোট পরিবর্তনই বেশি কাজে দেয়। অতিরিক্ত ঝাল, তেলেভাজা খাবার কমানো, খুব দ্রুত খাবার না খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস করা প্রয়োজন। অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকাও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ হতে পারে।

তাই সেভেন আপ বা কোনো ঠান্ডা পানীয়কে গ্যাসের ওষুধ ভাবার সুযোগ নেই। ব্রাজিলের ফুটবল নিয়ে ট্রল চলতেই পারে, কিন্তু পেটের সমস্যার সমাধান ট্রলের জনপ্রিয় পানীয় দিয়ে হবে না। সাময়িক আরামের বদলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই হতে পারে গ্যাস ও অম্বল থেকে বাঁচার আসল উপায়।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


সেভেন আপ কিংবা অন্য কোল্ড ড্রিংকস কি গ্যাস কমায়?

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image
ফুটবল মানেই বাংলাদেশে আবেগের অন্য নাম। বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা, তর্ক, ট্রল আর মজার সব মিম। এর মাঝেই একটা বিষয় প্রায়ই চোখে পড়ে, বিশেষ করে ব্রাজিল সমর্থকদের নিয়ে ট্রলের অংশ হিসেবে অনেকে মজা করে বলে, “সেভেন আপ খাও, সব ঠিক হয়ে যাবে!” কিন্তু সত্যিই কি গ্যাস, অম্বল বা বদহজম হলে সেভেন আপ বা অন্য কোনো ঠান্ডা পানীয় উপকার করে?পেট ভার, ঢেকুর, গ্যাস কিংবা অস্বস্তি হলে অনেকেই অভ্যাসবশত ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানীয় বের করে খান। ধারণা হলো, বুদবুদ ওঠা পানীয় খেলে ঢেকুর আসে, তাই পেটের গ্যাস বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ স্বস্তি লাগতেও পারে। কিন্তু এই স্বস্তি আসলে সাময়িক। গ্যাসের সমস্যার সমাধান করে না সেভেন আপ বা কোনো কার্বনেটেড ড্রিংকস।ঠান্ডা পানীয়তে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে ঢেকুর হতে পারে। এতে পেটে জমে থাকা বাতাস কিছুটা বের হয়ে যাওয়ায় মনে হয় আরাম মিলেছে। কিন্তু একই সঙ্গে এই পানীয়ের গ্যাস শরীরে ঢুকে অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।আরেকটি বিষয় হলো, এসব পানীয়তে থাকে প্রচুর চিনি। নিয়মিত বেশি পরিমাণে ঠান্ডা পানীয় পান করলে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। যাদের অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সেভেন আপ বা এ ধরনের পানীয় সব সময় ভালো সমাধান নয়।বাংলাদেশে ভারী খাবারের পর ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার একটা সংস্কৃতি আছে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, তেহারি বা ফাস্টফুডের সঙ্গে অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে কোল্ড ড্রিংকস। কিন্তু খাবারের পর পেট ভালো রাখার জন্য এর চেয়ে বেশি জরুরি হলো পরিমিত খাবার খাওয়া এবং খাবারের পর একটু হাঁটাহাঁটি করা।গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে জীবনযাপনে কিছু ছোট পরিবর্তনই বেশি কাজে দেয়। অতিরিক্ত ঝাল, তেলেভাজা খাবার কমানো, খুব দ্রুত খাবার না খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস করা প্রয়োজন। অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকাও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ হতে পারে।তাই সেভেন আপ বা কোনো ঠান্ডা পানীয়কে গ্যাসের ওষুধ ভাবার সুযোগ নেই। ব্রাজিলের ফুটবল নিয়ে ট্রল চলতেই পারে, কিন্তু পেটের সমস্যার সমাধান ট্রলের জনপ্রিয় পানীয় দিয়ে হবে না। সাময়িক আরামের বদলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই হতে পারে গ্যাস ও অম্বল থেকে বাঁচার আসল উপায়।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত