শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাইমচরে ওমর ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

হাইমচরে ওমর ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ওমর ফারুক (২২) হত্যাকাণ্ডের বিচার, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আলগী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহতের স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২ জুন মঙ্গলবার  উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ওমর ফারুককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা গ্রামের খালেক ঢালীর ছেলে। তিনি নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে এ ঘটনার শিকার হন। ঘটনার দিন হাসমত উল্যাহ মৃধার পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ওমর ফারুক ও তার স্বজনদের চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহতের পিতা খালেক ঢালী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সরকারের কাছে তার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের কাকা বলেন, “অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এলাকাবাসী বলেন, এ ঘটনা আর যাতে না ঘটে, মূল যে আসামি রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করে ফাসি নিশ্চিত করুন যাতে হাইমচর উপজেলায় এ ধরনের ঘৃণিত কাজ করার সাহস কেউ না পায়। 

নিহতের এক বন্ধু বলেন,আমরা আমাদের বন্ধুকে হারিয়েছি আমাদের মত আর যাতে কারো বন্ধু হারাতে না হয়। তার জন্য হাইমচর উপজেলায় এই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে এই ধরনের ঘৃণিত কাজ কেউ করার সাহস না পায়। 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে বিচার হয় মাননীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করব।”

বক্তারা জানান, মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল দুই অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেই এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফিজুর রহমান, নিহতের পিতা খালেক ঢালী, মাতা সেলিনা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : হত্যা নিহত মানববন্ধন চাঁদপুর ৩

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


হাইমচরে ওমর ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ওমর ফারুক (২২) হত্যাকাণ্ডের বিচার, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আলগী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহতের স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২ জুন মঙ্গলবার  উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ওমর ফারুককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা গ্রামের খালেক ঢালীর ছেলে। তিনি নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে এ ঘটনার শিকার হন। ঘটনার দিন হাসমত উল্যাহ মৃধার পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ওমর ফারুক ও তার স্বজনদের চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহতের পিতা খালেক ঢালী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সরকারের কাছে তার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।নিহতের কাকা বলেন, “অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”এলাকাবাসী বলেন, এ ঘটনা আর যাতে না ঘটে, মূল যে আসামি রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করে ফাসি নিশ্চিত করুন যাতে হাইমচর উপজেলায় এ ধরনের ঘৃণিত কাজ করার সাহস কেউ না পায়। নিহতের এক বন্ধু বলেন,আমরা আমাদের বন্ধুকে হারিয়েছি আমাদের মত আর যাতে কারো বন্ধু হারাতে না হয়। তার জন্য হাইমচর উপজেলায় এই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে এই ধরনের ঘৃণিত কাজ কেউ করার সাহস না পায়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে বিচার হয় মাননীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করব।”বক্তারা জানান, মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল দুই অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেই এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফিজুর রহমান, নিহতের পিতা খালেক ঢালী, মাতা সেলিনা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত