মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

লোক সংগীতের আধুনিক রূপকার হাবিব ওয়াহিদ

লোক সংগীতের আধুনিক রূপকার হাবিব ওয়াহিদ
ছবি: সংগৃহীত

কামরান চৌধুরী:

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এমন কিছু শিল্পী রয়েছেন, যাঁরা শুধু গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেননি, বরং সংগীতের ধারাকেই নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ সেই সকল শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি বাংলা গানে আধুনিকতার ছোঁয়া এনেছেন, আবার একই সঙ্গে লোকসংগীতের শিকড়কেও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস এর পরিবারে জন্ম নেওয়া হাবিব ছোটোবেলা থেকেই সংগীতের আবহে বেড়ে ওঠেন। বিদেশে সংগীত প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি দেশে ফিরে বাংলা গানে নতুন ধরনের সাউন্ড ও সংগীতায়োজনের প্রয়োগ শুরু করেন। তাঁর সংগীতজীবনের প্রত্যাবর্তন হয় ২০০৩ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘কৃষ্ণ’ এর মাধ্যমে। সিলেটের লোকশিল্পী ও গীতিকার শাহ্ আবদুল করিমের এই গানটিকে আধুনিক সংগীতের কাঠামোয় উপস্থাপন করে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলা গানের শ্রোতারা যেন প্রথমবারের মতো লোকসংগীতের এক নতুন রূপের সঙ্গে পরিচিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, লোকসংগীত কেবল গ্রামীণ জনপদের সম্পদ নয় বরং এটি সঠিক উপস্থাপনায় তা বিশ্বসংগীতের পরিমণ্ডলেও সমাদৃত হতে পারে। তাঁর সুর ও সংগীতে গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, একই সঙ্গে বিশ্ব দরবারেও পৌঁছে গেছে।

তাঁর প্রথম ‘কৃষ্ণ’-এর সাফল্যের পর হাবিব ওয়াহিদ থেমে থাকেননি। একের পর এক প্রকাশ করেন ‘মায়া’, ‘ময়না গো’, ‘শোনো’ ও ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’র মতো জনপ্রিয় অ্যালবাম। এসব অ্যালবামের গান শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই পায়নি, বরং তরুণ প্রজন্মের সংগীত রুচিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল দিয়েছেন জাদুকরী সুর। দেশের কিছু চলচ্চিত্রেও রয়েছেও তাঁর অসাধারণ মুন্সীয়ানা। তাছাড়া লোকগানের সুর, গ্রামীণ জীবনের আবেগ এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক সংগীতের সমন্বয়ে তিনি এমন এক ধারা তৈরি করেন, যা বাংলা গানের জগতে স্বতন্ত্র পরিচয় লাভ করে। তাঁর সংগীতায়োজনে ‘দিন গেল’, ‘ভালোবাসবো বাসবো রে’ কিংবা 'পাঞ্জাবিওয়ালা’র মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলার আধুনিক সংগীত জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে আছেন। লোকগীতির ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সংগীতধারার সঙ্গে সংযুক্ত করে তিনি যে পথ নির্মাণ করেছেন, তা বাংলা সংগীতের ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাই হাবিব ওয়াহিদকে শুধু একজন সফল শিল্পী বা সুরকার হিসেবে নয়, বরং লোকগীতির আধুনিক রূপকার হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয়। 

লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক

বিষয় : সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


লোক সংগীতের আধুনিক রূপকার হাবিব ওয়াহিদ

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image
কামরান চৌধুরী:বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এমন কিছু শিল্পী রয়েছেন, যাঁরা শুধু গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেননি, বরং সংগীতের ধারাকেই নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ সেই সকল শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি বাংলা গানে আধুনিকতার ছোঁয়া এনেছেন, আবার একই সঙ্গে লোকসংগীতের শিকড়কেও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস এর পরিবারে জন্ম নেওয়া হাবিব ছোটোবেলা থেকেই সংগীতের আবহে বেড়ে ওঠেন। বিদেশে সংগীত প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি দেশে ফিরে বাংলা গানে নতুন ধরনের সাউন্ড ও সংগীতায়োজনের প্রয়োগ শুরু করেন। তাঁর সংগীতজীবনের প্রত্যাবর্তন হয় ২০০৩ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘কৃষ্ণ’ এর মাধ্যমে। সিলেটের লোকশিল্পী ও গীতিকার শাহ্ আবদুল করিমের এই গানটিকে আধুনিক সংগীতের কাঠামোয় উপস্থাপন করে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলা গানের শ্রোতারা যেন প্রথমবারের মতো লোকসংগীতের এক নতুন রূপের সঙ্গে পরিচিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, লোকসংগীত কেবল গ্রামীণ জনপদের সম্পদ নয় বরং এটি সঠিক উপস্থাপনায় তা বিশ্বসংগীতের পরিমণ্ডলেও সমাদৃত হতে পারে। তাঁর সুর ও সংগীতে গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, একই সঙ্গে বিশ্ব দরবারেও পৌঁছে গেছে।তাঁর প্রথম ‘কৃষ্ণ’-এর সাফল্যের পর হাবিব ওয়াহিদ থেমে থাকেননি। একের পর এক প্রকাশ করেন ‘মায়া’, ‘ময়না গো’, ‘শোনো’ ও ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’র মতো জনপ্রিয় অ্যালবাম। এসব অ্যালবামের গান শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই পায়নি, বরং তরুণ প্রজন্মের সংগীত রুচিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল দিয়েছেন জাদুকরী সুর। দেশের কিছু চলচ্চিত্রেও রয়েছেও তাঁর অসাধারণ মুন্সীয়ানা। তাছাড়া লোকগানের সুর, গ্রামীণ জীবনের আবেগ এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক সংগীতের সমন্বয়ে তিনি এমন এক ধারা তৈরি করেন, যা বাংলা গানের জগতে স্বতন্ত্র পরিচয় লাভ করে। তাঁর সংগীতায়োজনে ‘দিন গেল’, ‘ভালোবাসবো বাসবো রে’ কিংবা 'পাঞ্জাবিওয়ালা’র মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলার আধুনিক সংগীত জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে আছেন। লোকগীতির ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সংগীতধারার সঙ্গে সংযুক্ত করে তিনি যে পথ নির্মাণ করেছেন, তা বাংলা সংগীতের ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাই হাবিব ওয়াহিদকে শুধু একজন সফল শিল্পী বা সুরকার হিসেবে নয়, বরং লোকগীতির আধুনিক রূপকার হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয়। লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত