দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রান্নার কাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। তবে দেশভেদে ভোক্তাদের পছন্দ ও চাহিদার কারণে সিলিন্ডারের আকারে রয়েছে ভিন্নতা। ভারত ও নেপালে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডার বেশি ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তানে ১১ দশমিক ৮ কেজি, শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ১২ কেজি এবং বাংলাদেশে ১২ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের পর বাংলাদেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। গত সোমবার প্রতি সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়। অথচ একই পরিমাণ এলপিজির দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১ হাজার ৫৮৩ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা, নেপালে ১ হাজার ৪২৬ টাকা এবং ভারতের কলকাতায় প্রায় ১ হাজার ৭২ টাকা।
ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৪ দশমিক ২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে ৯৪২ রুপি এবং কলকাতায় ৯৬৮ রুপি। ডলার ও রুপির বিনিময় হার বিবেচনায় কলকাতায় প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য প্রায় শূন্য দশমিক ৭১৮ ডলার। সেই হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজি গ্যাসের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৭২ টাকা।
তবে ভারতের স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের জন্য রয়েছে সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট শর্তে প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হয়। একজন গ্রাহক বছরে সর্বোচ্চ চারবার এ সুবিধা নিতে পারেন। এ জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হয়। ভর্তুকি বাদ দিয়ে হিসাব করলেও কলকাতায় ১২ কেজি এলপিজির দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।
নেপালেও ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ নেপালি রুপি। মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকায় ১২ কেজি এলপিজির মূল্য প্রায় ১ হাজার ৪২৬ টাকা।
শ্রীলঙ্কায় ভোক্তাদের কাছে সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদা বেশি। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান লিট্রো গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, এই সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৩৬৫ রুপি। সমপরিমাণ গ্যাসের দাম ১২ কেজিতে রূপান্তর করে বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে ১১ দশমিক ৮ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৪৭০ রুপি। দেশটির তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে ১২ কেজির সমপরিমাণ গ্যাসের মূল্য হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা।
তবে এসব দেশে সরকারি নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে চাহিদা বেড়ে গেলে স্থানীয় বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয় ভোক্তাদের। এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশেও দেখা যায়।
এদিকে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজি পরিবহনের জাহাজ ভাড়া বেশি হওয়ায় দামের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি টন এলপিজি পরিবহনে জাহাজ ভাড়া প্রায় ২৫০ ডলার। বিপরীতে ভারতে এ ব্যয় সর্বোচ্চ ৬৫ ডলার, পাকিস্তানে ৮০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় ৯৫ ডলার।
পরিবহন ব্যয়ের এই পার্থক্যই প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বাজারে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিষয় : এলপিজি গ্যাস

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে