মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

কম খরচে পার্সেল সেবা, তবুও আড়ালে ডাকবিভাগের সুবিধা

কম খরচে পার্সেল সেবা, তবুও আড়ালে  ডাকবিভাগের সুবিধা

পার্সেল পাঠাতে বেসরকারি কুরিয়ার—এটাই যেন সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত চিত্র। অথচ তুলনামূলক কম খরচে সরকারি ডাকঘরেও রয়েছে পার্সেল ও স্পিড পোস্ট সেবা। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্পিড পোস্টে প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত ডাক চার্জ ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজি বা অংশবিশেষে ৫ টাকা। এর সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বা GEP এবং ইলেকট্রনিক চার্জ যোগ হয়। 

শুধু কম খরচই নয়, স্পিড পোস্টে Track & Tracing সুবিধাও রয়েছে। পার্সেল ডাকঘরে পৌঁছালে প্রাপকের মোবাইলে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। 

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা ডাকঘরেও চালু রয়েছে এ সেবা। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্টকোড তালিকায় হাইমচর উপজেলা পোস্ট অফিসের কোড ৩৬৬০ উল্লেখ রয়েছে।

তবে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে থমকে আছে এ সেবা। সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে এই সেবার সুফল থেকে।  

হাইমচর উপজেলা পোস্টমাস্টার জানান, এখানে স্পিডপোস্ট এর মাধ্যমে যে পার্সেল গুলো আসে তা আমরা বিলি করি এবং কেউ পাঠাতে চাইলে তা আমরা ইস্যূ করি করি। ইতি পূর্বে হাইমচর থেকে স্পিড পোস্ট এর মাধ্যমে পার্সেল প্রেরণ করা হয়েছে এবং যে পার্সেল গুলো এসেছে তা আমরা বিলি করেছি। আজকেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পার্সেল এসেছে। 

তবে স্থানীয় পর্যায়ে এ সেবা নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় অনেকেই এ বিষয়ে জানেন না। এ বিষয়ে পোস্টমাস্টার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,ইতিপূর্বে  স্থানীয়ভাবে কোন প্রচারণা চালানো হয়নি। তবে , এখন আমাদের বাহিরে পোস্টার এবং লিফলেট করে প্রচারণার উদ্যোগ  রয়েছে। 

স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পার্সেল পাঠাতে কত খরচ লাগে?

ডাক বিভাগের বর্তমান প্রকাশিত তথ্য  অনুযায়ী, স্পিড পোস্টে প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজি বা তার অংশবিশেষের জন্য ৫ টাকা। এর সঙ্গে ৩ টাকা রেজিস্ট্রেশন চার্জ অথবা ৫ টাকা GEP চার্জ এবং ১ টাকা ইলেকট্রনিক চার্জ প্রযোজ্য। স্পিড পোস্টের সর্বোচ্চ ওজনসীমা ৩০ কেজি। 

কীভাবে স্পিড পোস্টে পার্সেল পাঠাবেন?

প্রথমে পার্সেলটি ভালো ভাবে প্যাকেট করতে হবে। এরপর প্রেরক ও প্রাপকের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, উপজেলা/থানা, জেলা, পোস্টকোড এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে। বিশেষ করে স্পিড পোস্টে মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক। পার্সেল ডাকঘরের কাউন্টারে জমা দেওয়ার পর ওজন অনুযায়ী টাকা  পরিশোধ করে বুকিং করা হয়। 

বুকিংয়ের পর পাওয়া ট্র্যাকিং তথ্য ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানা যায়। পার্সেল গন্তব্য ডাকঘরে পৌঁছালে প্রাপকের মোবাইলে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে এবং ওই স্থানীয়  পোষ্ট অফিস থেকেও ফোনকলে জানানো হয়। তবে স্পিড পোস্টে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেই; সংশ্লিষ্ট ডাকঘর থেকে পার্সেল সংগ্রহ করতে হয়। 

হাইমচরের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য পার্সেল পাঠানোর খরচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পণ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দূরের কোনো এলাকায় পাঠাতে প্রতিবার বেশি পরিবহন ব্যয় হলে ব্যবসার ওপরও তার প্রভাব পড়ে।

সরকারি ডাকঘরের তুলনামূলক সাশ্রয়ী স্পিড পোস্ট সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতে পারলে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এ সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্যও কম খরচে পণ্য পাঠানোর একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি সরকারের ও বিপুল রাজস্ব আয়ের পথ হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু ডাকঘরের ভেতরে সেবা চালু রাখার পাশাপাশি বাজার, উপজেলা সদর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হলে সরকারি এই সেবা সম্পর্কে আরও বেশি মানুষ জানতে পারবেন।

বিষয় : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় চাঁদপুর চাঁদপুর ৩ ডাকটিকিট

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


কম খরচে পার্সেল সেবা, তবুও আড়ালে ডাকবিভাগের সুবিধা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
পার্সেল পাঠাতে বেসরকারি কুরিয়ার—এটাই যেন সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত চিত্র। অথচ তুলনামূলক কম খরচে সরকারি ডাকঘরেও রয়েছে পার্সেল ও স্পিড পোস্ট সেবা। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্পিড পোস্টে প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত ডাক চার্জ ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজি বা অংশবিশেষে ৫ টাকা। এর সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বা GEP এবং ইলেকট্রনিক চার্জ যোগ হয়। শুধু কম খরচই নয়, স্পিড পোস্টে Track & Tracing সুবিধাও রয়েছে। পার্সেল ডাকঘরে পৌঁছালে প্রাপকের মোবাইলে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা ডাকঘরেও চালু রয়েছে এ সেবা। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্টকোড তালিকায় হাইমচর উপজেলা পোস্ট অফিসের কোড ৩৬৬০ উল্লেখ রয়েছে।তবে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে থমকে আছে এ সেবা। সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে এই সেবার সুফল থেকে।  হাইমচর উপজেলা পোস্টমাস্টার জানান, এখানে স্পিডপোস্ট এর মাধ্যমে যে পার্সেল গুলো আসে তা আমরা বিলি করি এবং কেউ পাঠাতে চাইলে তা আমরা ইস্যূ করি করি। ইতি পূর্বে হাইমচর থেকে স্পিড পোস্ট এর মাধ্যমে পার্সেল প্রেরণ করা হয়েছে এবং যে পার্সেল গুলো এসেছে তা আমরা বিলি করেছি। আজকেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পার্সেল এসেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এ সেবা নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় অনেকেই এ বিষয়ে জানেন না। এ বিষয়ে পোস্টমাস্টার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,ইতিপূর্বে  স্থানীয়ভাবে কোন প্রচারণা চালানো হয়নি। তবে , এখন আমাদের বাহিরে পোস্টার এবং লিফলেট করে প্রচারণার উদ্যোগ  রয়েছে। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পার্সেল পাঠাতে কত খরচ লাগে?ডাক বিভাগের বর্তমান প্রকাশিত তথ্য  অনুযায়ী, স্পিড পোস্টে প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজি বা তার অংশবিশেষের জন্য ৫ টাকা। এর সঙ্গে ৩ টাকা রেজিস্ট্রেশন চার্জ অথবা ৫ টাকা GEP চার্জ এবং ১ টাকা ইলেকট্রনিক চার্জ প্রযোজ্য। স্পিড পোস্টের সর্বোচ্চ ওজনসীমা ৩০ কেজি। কীভাবে স্পিড পোস্টে পার্সেল পাঠাবেন?প্রথমে পার্সেলটি ভালো ভাবে প্যাকেট করতে হবে। এরপর প্রেরক ও প্রাপকের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, উপজেলা/থানা, জেলা, পোস্টকোড এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে। বিশেষ করে স্পিড পোস্টে মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক। পার্সেল ডাকঘরের কাউন্টারে জমা দেওয়ার পর ওজন অনুযায়ী টাকা  পরিশোধ করে বুকিং করা হয়। বুকিংয়ের পর পাওয়া ট্র্যাকিং তথ্য ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানা যায়। পার্সেল গন্তব্য ডাকঘরে পৌঁছালে প্রাপকের মোবাইলে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে এবং ওই স্থানীয়  পোষ্ট অফিস থেকেও ফোনকলে জানানো হয়। তবে স্পিড পোস্টে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেই; সংশ্লিষ্ট ডাকঘর থেকে পার্সেল সংগ্রহ করতে হয়। হাইমচরের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য পার্সেল পাঠানোর খরচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পণ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দূরের কোনো এলাকায় পাঠাতে প্রতিবার বেশি পরিবহন ব্যয় হলে ব্যবসার ওপরও তার প্রভাব পড়ে।সরকারি ডাকঘরের তুলনামূলক সাশ্রয়ী স্পিড পোস্ট সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতে পারলে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এ সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্যও কম খরচে পণ্য পাঠানোর একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি সরকারের ও বিপুল রাজস্ব আয়ের পথ হবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু ডাকঘরের ভেতরে সেবা চালু রাখার পাশাপাশি বাজার, উপজেলা সদর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হলে সরকারি এই সেবা সম্পর্কে আরও বেশি মানুষ জানতে পারবেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত