মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ

নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ
সুবর্ণচর উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 এ সময় তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

মঙ্গলবার  (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে । এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বন্ধক নেওয়া (লিজ) ৩০ শতক জমি দিদারের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে কেন্দ্র করে তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাঁকে মারধরও করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন, এরপরও আবার টাকা চাচ্ছে দিদার ও তার সহযোগীরা।

আমেনা নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান- অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে আমরা বসবাসের উপযোগী করে তুলছি। কিন্তু দিদার ও তার সহযোগীরা আমাদের ও উপর ও অন্যায় করছে।আমরা বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা খলিল অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের ভাই ও ভাগিনা পরিচয় দেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা ফারুক মাঝি অভিযোগ করে বলেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, জমি দখলসহ নানা ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : নোয়াখালী অভিযোগ চাঁদাবাজি মানববন্ধন যুবদল

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।মঙ্গলবার  (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে । এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বন্ধক নেওয়া (লিজ) ৩০ শতক জমি দিদারের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে কেন্দ্র করে তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাঁকে মারধরও করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন, এরপরও আবার টাকা চাচ্ছে দিদার ও তার সহযোগীরা।আমেনা নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান- অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে আমরা বসবাসের উপযোগী করে তুলছি। কিন্তু দিদার ও তার সহযোগীরা আমাদের ও উপর ও অন্যায় করছে।আমরা বিচার চাই।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।আরেক বাসিন্দা খলিল অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের ভাই ও ভাগিনা পরিচয় দেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা ফারুক মাঝি অভিযোগ করে বলেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, জমি দখলসহ নানা ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত