নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, অসাধু সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি মূল্য চাপিয়ে দিচ্ছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
মাল্টার দামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে এক কেজি মাল্টা প্রায় ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে ফলটির দাম এ পর্যায়েই রয়েছে। তার দাবি, আমদানিসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসায়িক মুনাফা যোগ করলেও সর্বোচ্চ ব্যয় ২১০ টাকার মধ্যে থাকার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা নেই।
নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন, আমদানি ও সরবরাহের তথ্য এমন হওয়ার পরও মাল্টার দাম এত বেশি কেন। তার ভাষ্য, বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বলা হলেও গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে গত দুই মাসে ভোক্তাদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে অসাধু চক্র।
পোলাওয়ের চালের দাম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, প্রতি কেজি প্রায় ১২০ টাকার চাল বর্তমানে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সুগন্ধি চাল দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বা সংকটের কারণে এর দাম বাড়ার সরাসরি কোনো কারণ নেই।
রপ্তানির কারণে চালের দাম বেড়েছে বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, ২০০৯ সালে রপ্তানি শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু সে সময়ও প্রতি কেজি চালের দাম ১২০ টাকার বেশি ছিল না। তার হিসাব অনুযায়ী, গত তিন মাসে শুধু পোলাওয়ের চালের বাড়তি দামের কারণে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিমের বাজার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল প্রায় ১২০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস একটি ডিম কিনতেই এখন প্রায় ১৫ টাকা খরচ হচ্ছে।
ডিমের দাম বৃদ্ধির পেছনে মুরগির খাবারের মূল্যবৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও সেই ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলামের দাবি, খাবারের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে প্রতি ডিমের দাম সর্বোচ্চ প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রতি ডিমে প্রায় পাঁচ টাকা করে দাম বেড়েছে। তার হিসাবে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিমের বাড়তি দামের কারণে জনগণের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত চলে গেছে।
এলপিজির দাম নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তার ভাষ্য, সরকার কয়েক দফায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রতিটি সিলিন্ডারে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকার আমদানি পর্যাপ্ত থাকার কথা জানালেও অতিরিক্ত এই অর্থ কারা নিচ্ছে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে।
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম এখন প্রায় ২০০ টাকা। এরই মধ্যে দুধের দামও বেড়েছে। মানুষের আয় সেই অনুপাতে না বাড়লেও জীবনযাপনের ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘদিনের তুলনায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর কার পৃষ্ঠপোষকতা বা প্ররোচনায় সেই সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে। এর মধ্যে নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ অতিরিক্ত দামে হাতিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে আর কোনো অপশক্তিকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
বিষয় : নাহিদ ইসলাম

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে