রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং

রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং
রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং | ছবি: এআই

কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে লোডশেডিং বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। পাওয়ারগ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতি এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।

পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট।

এর এক ঘণ্টা আগে বিকেল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর আগে বিকেল ৩টায় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট।

দিনের শুরুতে বিদ্যুতের ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট এবং দুপুর ১টায় ছিল ৭৮৬ মেগাওয়াট।

এর আগের রাতেও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল বেশি। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন কম হচ্ছে। আদানির কাছ থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া দিনের বেলায় পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমে যায়।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় একটি অংশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।

এ ছাড়া শনিবার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানায়, শনিবার তাদের এলাকায় সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহের এই ঘাটতি সামাল দিতে ছুটির দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিষয় : লোডশেডিং

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে লোডশেডিং বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। পাওয়ারগ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতি এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট।এর এক ঘণ্টা আগে বিকেল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর আগে বিকেল ৩টায় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট।দিনের শুরুতে বিদ্যুতের ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট এবং দুপুর ১টায় ছিল ৭৮৬ মেগাওয়াট।এর আগের রাতেও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল বেশি। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন কম হচ্ছে। আদানির কাছ থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া দিনের বেলায় পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমে যায়।তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় একটি অংশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।এ ছাড়া শনিবার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়।ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানায়, শনিবার তাদের এলাকায় সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহের এই ঘাটতি সামাল দিতে ছুটির দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত