শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত

২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত
২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত | ছবি: টিডিএন

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতিতে হাতেখড়ি, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠকের ভূমিকা, সরকারি চাকরি ও শিক্ষকতা দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হতে যাচ্ছেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।

জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ছাত্রজীবন ও রাজনীতিতে হাতেখড়ি

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক সদস্য।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকার ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের জন্য মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। এভাবেই ছাত্ররাজনীতি থেকে তাঁর জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পথ তৈরি হয়।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পর

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন তিনি। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেছেন তিনি।

সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে

মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন মির্জা ফখরুল। এর দুই বছর পর, ১৯৮৮ সালে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমানে এ পদটি মেয়র হিসেবে পরিচিত।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। এরপর ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন তিনি।

প্রথমে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপির অন্য পাঁচজন নির্বাচিত সদস্যকে সংসদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তারা ২০২২ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ পথ

২০১১ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তাকে বিএনপির মহাসচিবের স্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের সময়টি ছিল বিএনপির জন্য অত্যন্ত কঠিন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও পরবর্তী অসুস্থতার সময়েও দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁর নির্দেশনায় দলের সামনের সারির অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এ সময় তাকে তিনবার কারাবরণও করতে হয়।

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর দলীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার সময় আবেগঘন এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক জীবন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেন।

এই দম্পতির দুই মেয়ে। দুজনই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন মধ্যপন্থী ও বিনয়ী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনেক নেতাকর্মীর কাছ থেকেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রশংসা এসেছে।

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিএনপি নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বিএনপির কঠিন সময়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদার মানসিকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

দীর্ঘ শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব, স্থানীয় সরকার, মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জীবনবৃত্তান্ত

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতিতে হাতেখড়ি, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠকের ভূমিকা, সরকারি চাকরি ও শিক্ষকতা দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হতে যাচ্ছেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছাত্রজীবন ও রাজনীতিতে হাতেখড়ি১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক সদস্য।ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকার ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের জন্য মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। এভাবেই ছাত্ররাজনীতি থেকে তাঁর জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পথ তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পর১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন তিনি। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেছেন তিনি। সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতেমূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন মির্জা ফখরুল। এর দুই বছর পর, ১৯৮৮ সালে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমানে এ পদটি মেয়র হিসেবে পরিচিত।নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। এরপর ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন তিনি।প্রথমে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপির অন্য পাঁচজন নির্বাচিত সদস্যকে সংসদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তারা ২০২২ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করেন।২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ পথ২০১১ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তাকে বিএনপির মহাসচিবের স্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়।১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।তাঁর মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের সময়টি ছিল বিএনপির জন্য অত্যন্ত কঠিন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও পরবর্তী অসুস্থতার সময়েও দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁর নির্দেশনায় দলের সামনের সারির অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এ সময় তাকে তিনবার কারাবরণও করতে হয়। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিতদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর দলীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার সময় আবেগঘন এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পারিবারিক জীবনমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেন।এই দম্পতির দুই মেয়ে। দুজনই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়নদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন মধ্যপন্থী ও বিনয়ী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনেক নেতাকর্মীর কাছ থেকেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রশংসা এসেছে।দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিএনপি নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বিএনপির কঠিন সময়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদার মানসিকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।দীর্ঘ শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব, স্থানীয় সরকার, মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত