বিএনপি ২০০৬ সালের মতো একদলীয় নিয়ন্ত্রণাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য নতুন কোনো ফর্মুলা নিয়ে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
রোববার জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি নতুন কোনো প্রতারণামূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহারেরও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বিএনপি সরকারও ব্যাংকিং খাতকে কিছু প্রভাবশালী ও বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের কারণে সরকারকে ওই আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিল করতে হয়েছে।
তিনি জানান, আর্থিক সংকটে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। তার মতে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিবর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
হাসনাত আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা যাতে নতুন করে ঋণ নিতে না পারেন, সে জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গণভোট নিয়েও বিএনপির অবস্থানকে ‘দ্বৈত নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন হাসনাত। তার দাবি, এ ধরনের অবস্থানের কারণে দলটির প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে।
এদিকে সংসদীয় কমিটির সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে সরকার এবং অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এসব প্রস্তাব নিয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
জুলাই সনদ এবং এর ওপর দেওয়া ভিন্নমতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে উপস্থাপনেরও দাবি জানান সাইফুল আলম মিলন।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে জুলাই সনদকে ‘প্রতারণার অন্তহীন দলিল’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রসঙ্গে মিলন বলেন, যারা ওই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন, তারাই যদি এখন সেটিকে প্রতারণামূলক বলে আখ্যায়িত করেন, তাহলে বিষয়টি জনগণই বিচার করবে।
তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি কোনো অর্থহীন বিতর্কে জড়াতে চান না।
বিষয় : হাসনাত আবদুল্লাহ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে