মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা
ছবি: এআই

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে সোমবার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ঘোষণা পর্ব। এবার ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং ওজন কমানোর ওষুধের পেছনে থাকা গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।

৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

নোবেল পুরস্কার নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গবেষণা এবার স্বীকৃতি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানবদেহের মাইক্রোবায়োম, ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ হরমোন নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।

লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোন মানুষের ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ওজেম্পিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ডেভিড পেন্ডেলবুরি মনে করেন, এসব গবেষণার যেকোনো একটি নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি পেতে পারে। তার মতে, জিএলপি-১ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এর চিকিৎসাগত প্রভাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক।

জিএলপি-১ গবেষণায় বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ।

ত্বকের পুনর্গঠন ও স্টেম সেল গবেষণাও আলোচনায়

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কমিটি এবার অন্য কোনো গবেষণাক্ষেত্রকেও বেছে নিতে পারে। মানুষের ত্বক কীভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ক্ষত সারিয়ে তোলে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে স্টেম সেল গবেষণাও সম্ভাব্য পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে।

সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক আনিকা ওস্টম্যানের মতে, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোষবিজ্ঞানী এলাইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

চিকিৎসা ইমেজিং প্রযুক্তিও সম্ভাব্য তালিকায়

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ধরনের ইমেজিং প্রযুক্তি অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি নিয়েও নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি একটি অ-আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি। প্রতিফলিত আলোর সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর উচ্চ রেজোলিউশনের ক্রস-সেকশনাল ছবি তৈরি করা যায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে এটি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণার সম্ভাবনা

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলো কীভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডহেশন রিসেপ্টর নিয়েও নোবেল কমিটির আগ্রহ থাকতে পারে। মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগার এসব রিসেপ্টর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এই রিসেপ্টরগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষকে রক্তনালির দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং পরবর্তী সময়ে টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমিত স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

এ ছাড়া স্তন ক্যানসার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির উদ্ভাবনও এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণার পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান এবং বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

বিষয় : নোবেল পুরস্কার

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, আলোচনায় ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে সোমবার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ঘোষণা পর্ব। এবার ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং ওজন কমানোর ওষুধের পেছনে থাকা গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।নোবেল পুরস্কার নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গবেষণা এবার স্বীকৃতি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানবদেহের মাইক্রোবায়োম, ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ হরমোন নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোন মানুষের ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত জিএলপি-১ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ওজেম্পিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে।নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ডেভিড পেন্ডেলবুরি মনে করেন, এসব গবেষণার যেকোনো একটি নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি পেতে পারে। তার মতে, জিএলপি-১ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এর চিকিৎসাগত প্রভাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক।জিএলপি-১ গবেষণায় বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ত্বকের পুনর্গঠন ও স্টেম সেল গবেষণাও আলোচনায়চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কমিটি এবার অন্য কোনো গবেষণাক্ষেত্রকেও বেছে নিতে পারে। মানুষের ত্বক কীভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ক্ষত সারিয়ে তোলে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে স্টেম সেল গবেষণাও সম্ভাব্য পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে।সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক আনিকা ওস্টম্যানের মতে, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোষবিজ্ঞানী এলাইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চিকিৎসা ইমেজিং প্রযুক্তিও সম্ভাব্য তালিকায়চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ধরনের ইমেজিং প্রযুক্তি অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি নিয়েও নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি একটি অ-আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি। প্রতিফলিত আলোর সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর উচ্চ রেজোলিউশনের ক্রস-সেকশনাল ছবি তৈরি করা যায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে এটি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণার সম্ভাবনারোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলো কীভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডহেশন রিসেপ্টর নিয়েও নোবেল কমিটির আগ্রহ থাকতে পারে। মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগার এসব রিসেপ্টর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।এই রিসেপ্টরগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষকে রক্তনালির দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং পরবর্তী সময়ে টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমিত স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।এ ছাড়া স্তন ক্যানসার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির উদ্ভাবনও এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলের সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণার পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান এবং বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত