বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শেষ ধাপগুলোর একটি হলো ভাইভা। জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপন ও বাস্তব প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে অনেক মেধাবী পরীক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে পিছিয়ে পড়েন। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তরুণ লেখক ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ বিলিয়া জুলফিকারের প্রথম বই ‘ভাইভা বুস্টার: দ্য ফাইনাল রাউন্ড’ প্রকাশিত হয়েছে।
শাহ বিলিয়া জুলফিকার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী হলেও লেখালেখির জগতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। কবিতা, ছড়া, কলাম, প্রবন্ধ ও ফিচারসহ লেখালেখির বিভিন্ন শাখায় তিনি কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন পত্রিকার ‘চাকরি ও সিলেবাস’ পাতার নিয়মিত লেখক।
ক্লাস সেভেনে স্থানীয় ‘সুসঙ্গ বার্তা’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যযাত্রা শুরু হয়। পরে জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। চাকরি, বিজেএস, বার কাউন্সিল প্রস্তুতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক ফিচার লেখার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি।
গত চার বছর ধরে বিভিন্ন বিচারক ও সফল পরীক্ষার্থীর বাস্তব ভাইভা অভিজ্ঞতা সংগ্রহ ও প্রকাশ করে আসছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার। কালের কণ্ঠ, আজকের পত্রিকা, কালবেলা সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এসব অভিজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছে। সেই দীর্ঘ সময়ের পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও তথ্যের সমন্বয়েই বইটি লেখা হয়েছে। ফলে বইটি শুধু একটি গাইডবই নয়, বাস্তব ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি একটি প্রস্তুতি-সহচর হিসেবে সাজানো হয়েছে।
বইটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন আইন অঙ্গনের লেখক, শিক্ষক ও বিচারক সাইমন সৈয়দ। তিনি বর্তমানে সুনামগঞ্জে সিভিল জজ হিসেবে কর্মরত। তাঁর আইনচর্চা, লেখালেখি ও পাঠদানের অভিজ্ঞতা বইটিকে পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ করেছে বলে প্রকাশকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বইটি প্রকাশ করেছে লিগ্যাল হোম পাবলিকেশন। আইনবিষয়ক বই প্রকাশের পাশাপাশি বিজেএস ও বার কাউন্সিল প্রস্তুতির বই প্রকাশের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি রয়েছে। বইটির প্রচ্ছদ ডিজাইন করেছেন শিল্পী মাহমুদুল হাসান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ভাস্কর্যে এমএফএ ডিগ্রিধারী। বর্তমানে তিনি শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির চারুকলা বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর হিসেবে কর্মরত।
সাতটি অধ্যায়ে সাজানো বইটিতে আইনভিত্তিক ভাইভা প্রস্তুতির বিষয়গুলো ধাপে ধাপে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে ভাইভা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা, প্রস্তুতির মানসিকতা ও করণীয় বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে সফল প্রার্থীদের ভাইভা প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়ে নিয়োগ পাওয়া সিভিল জজদের বাস্তব ভাইভা অভিজ্ঞতা সংকলন করা হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়টি বইটির সবচেয়ে বিস্তৃত অংশ। এতে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, পারিবারিক আইন, দেওয়ানি আইন, ফৌজদারি আইন, সাংবিধানিক আইন, সম্পত্তি আইন এবং ঐচ্ছিক আইন-১ ও ২ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জুরিসপ্রুডেন্স, টর্ট, ইকুইটি, হিউম্যান রাইটস ও আন্তর্জাতিক আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক বিষয়ও প্রশ্নোত্তর আকারে রাখা হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়ে ‘লিগ্যাল টার্মস অ্যান্ড ম্যাক্সিম’ অংশে ল্যাটিন পরিভাষা ও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতিগুলো সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে রয়েছে ‘কারেন্ট ল অ্যাফেয়ার্স’, যেখানে সাম্প্রতিক আইনগত পরিবর্তন, বিচারিক সিদ্ধান্ত ও সমসাময়িক আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সপ্তম অধ্যায়ে ভাইভায় বহুল জিজ্ঞাসিত সাধারণ প্রশ্নগুলো সংকলন করা হয়েছে।
বইটির সঙ্গে প্রায় ৪০ জন সিভিল জজ, অ্যাডভোকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বইটিতে বিজেএস, বার কাউন্সিল, একাডেমিক ও অন্যান্য আইনভিত্তিক ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রশ্নোত্তর ও বাস্তব অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে।
শাহ বিলিয়া জুলফিকার বলেন, “ভাইভা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করে। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এমন একটি বই দিতে চেয়েছি, যা শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়াতে সাহায্য করবে।”
বইটির সম্পাদক সিভিল জজ ও আইনগ্রন্থপ্রণেতা সাইমন সৈয়দ বলেন, “ভাইভা শুধু জ্ঞানের পরীক্ষা নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপন ও প্রাসঙ্গিকভাবে উত্তর দেওয়ারও পরীক্ষা। ‘ভাইভা বুস্টার: দ্য ফাইনাল রাউন্ড’ বইটিতে বাস্তব অভিজ্ঞতা, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও ব্যবহারিক দিকগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বইটি বিজেএস, বার কাউন্সিল ও আইনভিত্তিক ভাইভা প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ছোট ভাই শাহ বিলিয়া জুলফিকারের সঙ্গে বইটি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সম্মানের। তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, বিষয়বস্তুর প্রতি গভীরতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বোঝার সক্ষমতা বইটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আমার বিশ্বাস, একজন পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সে শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে প্রশ্নের অন্তর্নিহিত বিষয়টি বুঝতে শেখে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তা প্রকাশ করতে পারে। এই বইটি সেই প্রস্তুতির একটি কার্যকর সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।”
লিগ্যাল হোম পাবলিকেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বইটি ইতোমধ্যে আইন অঙ্গনের পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে