বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

অগ্ন্যাশয় সুস্থ রাখতে আজই বাদ দিন এই ৫টি অভ্যাস

অগ্ন্যাশয় সুস্থ রাখতে আজই বাদ দিন এই ৫টি অভ্যাস

আমাদের হজম প্রক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস নীরবেই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে যাচ্ছে। সম্প্রতি চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ এমন পাঁচটি অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে অগ্ন্যাশয়ের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

মিষ্টিজাতীয় পানীয় এবং বারবার স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস অগ্ন্যাশয়ের জন্য বেশ ক্ষতিকর। মিষ্টি পানীয়তে ফাইবার বা প্রোটিন থাকে না বলে এগুলো খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি শর্করা সামাল দিতে অগ্ন্যাশয়কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাসও অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ বাড়ায়। এসব খাবার হজম করার জন্য অগ্ন্যাশয়কে অনেক বেশি হজম রস বা এনজাইম তৈরি করতে হয়। দীর্ঘদিনের এমন খাদ্যাভ্যাস থেকে শরীরে মেদ জমার পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

পেটে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি জমা হওয়া আরেকটি বড় ঝুঁকির কারণ। পেটের এই চর্বি থেকে শরীরে ক্ষতিকর উপাদান নিঃসৃত হয়, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। শরীর যখন ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না, তখন শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে অগ্ন্যাশয়কে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। একটানা এই অতিরিক্ত কাজ করার ফলে ধীরে ধীরে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে।

অগ্ন্যাশয়ের সুস্থতার ক্ষেত্রে মদ্যপান এবং ধূমপান অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মদ্যপানের কারণে অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহের মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিনের মদ্যপানের ফলে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন ও হজম রস তৈরির ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে ধূমপানের ফলে শরীরের ভেতরে এক ধরনের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, যা কোষের ডিএনএ নষ্ট করে এবং প্রদাহ বাড়ায়। তবে ধূমপান ছেড়ে দিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ পড়লে শরীর কিছু প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ করে, যা আমরা অনেক সময় সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। চিকিৎসক ডা. পাল্লেতি শিবা কার্তিক রেড্ডি জানান, খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি, বারবার পেট ফাঁপা, বমিভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা অগ্ন্যাশয়ের দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, মল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হওয়া কিংবা বারবার মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছাও এই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

অগ্ন্যাশয়কে সুস্থ রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মিষ্টি পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মদ্যপান এবং ধূমপান থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারযুক্ত শাকসবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং আস্ত শস্য রাখা উচিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অগ্ন্যাশয়কে সুস্থ রাখার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


অগ্ন্যাশয় সুস্থ রাখতে আজই বাদ দিন এই ৫টি অভ্যাস

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image
আমাদের হজম প্রক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস নীরবেই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে যাচ্ছে। সম্প্রতি চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ এমন পাঁচটি অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে অগ্ন্যাশয়ের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।মিষ্টিজাতীয় পানীয় এবং বারবার স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস অগ্ন্যাশয়ের জন্য বেশ ক্ষতিকর। মিষ্টি পানীয়তে ফাইবার বা প্রোটিন থাকে না বলে এগুলো খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি শর্করা সামাল দিতে অগ্ন্যাশয়কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাসও অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ বাড়ায়। এসব খাবার হজম করার জন্য অগ্ন্যাশয়কে অনেক বেশি হজম রস বা এনজাইম তৈরি করতে হয়। দীর্ঘদিনের এমন খাদ্যাভ্যাস থেকে শরীরে মেদ জমার পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা দেখা দেয়।পেটে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি জমা হওয়া আরেকটি বড় ঝুঁকির কারণ। পেটের এই চর্বি থেকে শরীরে ক্ষতিকর উপাদান নিঃসৃত হয়, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। শরীর যখন ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না, তখন শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে অগ্ন্যাশয়কে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। একটানা এই অতিরিক্ত কাজ করার ফলে ধীরে ধীরে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে।অগ্ন্যাশয়ের সুস্থতার ক্ষেত্রে মদ্যপান এবং ধূমপান অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মদ্যপানের কারণে অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহের মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিনের মদ্যপানের ফলে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন ও হজম রস তৈরির ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে ধূমপানের ফলে শরীরের ভেতরে এক ধরনের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, যা কোষের ডিএনএ নষ্ট করে এবং প্রদাহ বাড়ায়। তবে ধূমপান ছেড়ে দিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ পড়লে শরীর কিছু প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ করে, যা আমরা অনেক সময় সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। চিকিৎসক ডা. পাল্লেতি শিবা কার্তিক রেড্ডি জানান, খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি, বারবার পেট ফাঁপা, বমিভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা অগ্ন্যাশয়ের দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, মল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হওয়া কিংবা বারবার মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছাও এই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।অগ্ন্যাশয়কে সুস্থ রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মিষ্টি পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মদ্যপান এবং ধূমপান থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারযুক্ত শাকসবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং আস্ত শস্য রাখা উচিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অগ্ন্যাশয়কে সুস্থ রাখার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত