বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

৭ মাসের শিশুকে রেখে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

৭ মাসের শিশুকে রেখে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোকন ভূঁইয়ার বড় ছেলে অটোরিকশা চালক নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়ার স্ত্রী নূর নাহারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রনি ভূঁইয়াকে হেফাজতে নিয়েছে হাইমচর থানা পুলিশ।

জানা যায়, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা নূর নাহারের সঙ্গে  বছর কয়েক আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রনি ভূঁইয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে ৭ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

স্বামীর পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাতে নূর নাহার নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে স্বামী রনি ভূঁইয়া তাকে উদ্ধার করে রাতে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুল হাসানকে অবহিত করা হয়।

খবর পেয়ে এসআই সোহরাবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রনি ভূঁইয়াকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

নূর নাহারের মায়ের দাবি, রাত ১টার দিকে তাদের মেয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। রাতেই আসা সম্ভব না হওয়ায় বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা হাইমচরে পৌঁছান। স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও নূর নাহারের বাবা-মা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন।

নূর নাহারের মা অভিযোগ করে বলেন, তার জামাতা মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় মাদকের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। এসব না দেওয়া কারনে তাকে জোর করে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মাসে মেয়ের বাবার অজান্তে জামাতাকে ৩৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল শুধু যাতে মেয়ে সুখে থাকে। এছাড়া ঈদের সময় মেয়ের বাবা জামাতার পুরো পরিবারকে কেনাকাটা করে দেন। টাকা না দিলে মেয়ের ওপর নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, কয়েক মাস ধরে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা দাবি করছিলেন রনি ভূঁইয়া। মেয়ের পরিবার তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও তিনি তাতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন সময় মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নূর নাহারের স্বজনরা।

এদিকে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নূর নাহারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে আটক স্বামী রনি ভূঁইয়া পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

বিষয় : মৃত্যু হত্যা চাঁদপুর

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


৭ মাসের শিশুকে রেখে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোকন ভূঁইয়ার বড় ছেলে অটোরিকশা চালক নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়ার স্ত্রী নূর নাহারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রনি ভূঁইয়াকে হেফাজতে নিয়েছে হাইমচর থানা পুলিশ।জানা যায়, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা নূর নাহারের সঙ্গে  বছর কয়েক আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রনি ভূঁইয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে ৭ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।স্বামীর পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাতে নূর নাহার নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে স্বামী রনি ভূঁইয়া তাকে উদ্ধার করে রাতে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুল হাসানকে অবহিত করা হয়।খবর পেয়ে এসআই সোহরাবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রনি ভূঁইয়াকে হেফাজতে নেওয়া হয়।নূর নাহারের মায়ের দাবি, রাত ১টার দিকে তাদের মেয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। রাতেই আসা সম্ভব না হওয়ায় বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা হাইমচরে পৌঁছান। স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও নূর নাহারের বাবা-মা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন।নূর নাহারের মা অভিযোগ করে বলেন, তার জামাতা মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় মাদকের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। এসব না দেওয়া কারনে তাকে জোর করে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মাসে মেয়ের বাবার অজান্তে জামাতাকে ৩৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল শুধু যাতে মেয়ে সুখে থাকে। এছাড়া ঈদের সময় মেয়ের বাবা জামাতার পুরো পরিবারকে কেনাকাটা করে দেন। টাকা না দিলে মেয়ের ওপর নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পরিবারের দাবি, কয়েক মাস ধরে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা দাবি করছিলেন রনি ভূঁইয়া। মেয়ের পরিবার তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও তিনি তাতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন সময় মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নূর নাহারের স্বজনরা।এদিকে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নূর নাহারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে আটক স্বামী রনি ভূঁইয়া পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত