বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

র‍্যাগ ডে নাকি বেহায়াপনা? প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকর!

র‍্যাগ ডে নাকি বেহায়াপনা? প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকর!
র‍্যাগ ডে নাকি বেহায়াপনা? প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা চৌদ্দগ্রামসহ সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে বিতর্কিত আয়োজন

বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় “র‍্যাগ ডে” বা “ফেয়ারওয়েল উদযাপন” এর নামে কিছু অশালীন ও বেপরোয়া কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের অবাধ ফ্রি-মিক্সিং, টি-শার্টে অশালীন লেখা ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, টিকটক ভিডিও তৈরি এবং সামাজিক মূল্যবোধবিরোধী আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এমন কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কিংবা শিক্ষকদের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে এসব আয়োজন করা হচ্ছে। ভিডিওগুলোতে শিক্ষার্থীদের এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা যায়, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র সমালোচনা করছে।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞান ও নৈতিকতা শেখার জায়গা হলেও বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থী পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিকসমূহ

১. নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি:

অশালীন অঙ্গভঙ্গি, পোশাক ও আচরণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করছে। ছোট শিক্ষার্থীরাও এসব দেখে প্রভাবিত হচ্ছে।

২. শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশের পরিবর্তে বিনোদন ও উচ্ছৃঙ্খলতা বাড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ লেখাপড়া থেকে সরে যাচ্ছে।

৩. সামাজিক ও পারিবারিক অস্বস্তি:

অভিভাবকরা সন্তানদের এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবি অনেক পরিবারকে বিব্রত করছে।

৪. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে আঘাত:

বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক আচরণ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।

৫. অনলাইন আসক্তি ও টিকটক সংস্কৃতি: 

ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার নেশায় অনেক শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করছে, যা তাদের মানসিকতা ও ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

৬. শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়া:

অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এখনই এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা তৈরিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


র‍্যাগ ডে নাকি বেহায়াপনা? প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকর!

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় “র‍্যাগ ডে” বা “ফেয়ারওয়েল উদযাপন” এর নামে কিছু অশালীন ও বেপরোয়া কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের অবাধ ফ্রি-মিক্সিং, টি-শার্টে অশালীন লেখা ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, টিকটক ভিডিও তৈরি এবং সামাজিক মূল্যবোধবিরোধী আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এমন কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কিংবা শিক্ষকদের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে এসব আয়োজন করা হচ্ছে। ভিডিওগুলোতে শিক্ষার্থীদের এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা যায়, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র সমালোচনা করছে।সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞান ও নৈতিকতা শেখার জায়গা হলেও বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থী পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিকসমূহ১. নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি:অশালীন অঙ্গভঙ্গি, পোশাক ও আচরণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করছে। ছোট শিক্ষার্থীরাও এসব দেখে প্রভাবিত হচ্ছে।২. শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া:শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশের পরিবর্তে বিনোদন ও উচ্ছৃঙ্খলতা বাড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ লেখাপড়া থেকে সরে যাচ্ছে।৩. সামাজিক ও পারিবারিক অস্বস্তি:অভিভাবকরা সন্তানদের এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবি অনেক পরিবারকে বিব্রত করছে।৪. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে আঘাত:বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক আচরণ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।৫. অনলাইন আসক্তি ও টিকটক সংস্কৃতি: ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার নেশায় অনেক শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করছে, যা তাদের মানসিকতা ও ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।৬. শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়া:অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এখনই এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা তৈরিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত