নোয়াখালীর হাতিয়ায় কোস্টগার্ড কর্তৃক নির্যাতন ও দোকান থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্রসহ ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
শনিবার(২৩ মে) বেলা ১১ টার সময় হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজারে এ মানববন্ধন করা হয়।
এতে বক্তব্য দেন, স্থানীয় ভৈরব বাজার বণিক সমিতির আহবায়ক কবির মিয়া, ব্যবসায়ী রাশেদ, নাজিম, ইরাক, স্বপনসহ ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
বাজার কমিটির আহবায়ক কবির মিয়া বলেন বিদ্যুৎ একজন সাধারণ ব্যাবসায়ী। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এ জাতীয় কোন অভিযোগ আগে কখনো ছিল না।
এছাড়া ভুক্তভোগীর মা' লুৎফে আরা বেগম বলেন, তারা আমার ছেলেকে যখন মারতেছে- কোস্ট গার্ড আমার ছেলেকে যখন বাজার থেকে হাত বেধে বাড়িতে নিয়ে আসছে- তখন বললাম, আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে? এরপর তাকে ছাদে তুলে মারা শুরু করছে। তার চিৎকারে চারদিক থেকে মানুষ ছুটে আসছে। এর পর সেখান থেকে নিচে এনে হাঁস মোরগের খোপে ঢুকিয়ে সেখান থেকে বের করে বলে- অস্ত্র পেয়েছি। আমি তাদেরকে বলেছি- আমি সন্ধ্যায় হাঁস মোরগ বেঁধেছি, আপনারা এই ষড়যন্ত্র কেন করছেন?
স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, বিনা দোষে আমার স্বামীকে কেন মারছেন, তাকে ছেড়ে দেন- বলায় কোস্ট গার্ড আমাকে গালিগালাজ করে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। তারা আমার রুমে থাকা স্বর্ণালংকার ও ব্যবসায়ের নগদ টাকা নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ(৩৬) চরকিং ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বোয়ালিয়া গ্রামের হাজি আবুল কালামের ছেলে। সে স্থানীয় ভৈরব বাজারের দোকানদার।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, কোস্ট গার্ডের অমানবিক নির্যাতনে বিদ্যুতের চিৎকার শুনে এলাকার মানুষ চারদিক থেকে ছুটে আসতে থাকলে- কোস্ট গার্ড এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত জনতা বিদ্যুতের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে অন্তত দুই হাজার মানুষ উপস্থিত হয়।
উল্লেখ্য শনিবার সকালে অস্ত্র সহ বিদ্যুৎকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করে কোষ্টগার্ড। এর আগে শুক্রবার রাতে তাকে চরকিং ভৈরব বাজার থেকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে তার বাড়ির হাঁস মুরগির ঘর থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান কোষ্টগার্ড।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে