সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

স্বামী গৃহ থেকে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

স্বামী গৃহ থেকে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
নিহত মাহমুদা আক্তার

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মাহমুদা আক্তার (২৮) দুই সন্তানের জননী ছিলেন। শুক্রবার (২২ মে) গভীর রাতে বাড়েরা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী কাশেম ভূইয়ার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে চান্দিনা থানা পুলিশ।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের পর মাহমুদাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বামীর পরিবারের দাবি—তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত মাহমুদা আক্তার উপজেলার মহিচাইল ভূইয়াপাড়া এলাকার কামাল মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে বাড়েরা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে জাকির হোসেনের সঙ্গে মাহমুদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহতের চাচা আলাউদ্দিন জানান, সাম্প্রতিক একটি পারিবারিক কলহের জেরে মাহমুদা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা বৈঠকের পর তাকে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। রাতের দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় মাহমুদা অসুস্থ। খবর পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। নিহতের পরিবারের দৃঢ় বিশ্বাস, মাহমুদাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, বাবার বাড়ি থেকে অটোরিকশাযোগে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথেই মাহমুদা কয়েকবার বমি করেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে চান্দিনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো স্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


স্বামী গৃহ থেকে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মাহমুদা আক্তার (২৮) দুই সন্তানের জননী ছিলেন। শুক্রবার (২২ মে) গভীর রাতে বাড়েরা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী কাশেম ভূইয়ার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে চান্দিনা থানা পুলিশ।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের পর মাহমুদাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বামীর পরিবারের দাবি—তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত মাহমুদা আক্তার উপজেলার মহিচাইল ভূইয়াপাড়া এলাকার কামাল মিয়ার মেয়ে।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে বাড়েরা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে জাকির হোসেনের সঙ্গে মাহমুদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।নিহতের চাচা আলাউদ্দিন জানান, সাম্প্রতিক একটি পারিবারিক কলহের জেরে মাহমুদা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা বৈঠকের পর তাকে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। রাতের দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় মাহমুদা অসুস্থ। খবর পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। নিহতের পরিবারের দৃঢ় বিশ্বাস, মাহমুদাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।এদিকে স্থানীয় কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, বাবার বাড়ি থেকে অটোরিকশাযোগে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথেই মাহমুদা কয়েকবার বমি করেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে চান্দিনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো স্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত