প্রকৃতির অকৃপণ দানে সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শুধু প্রকৃতির ওপর ভর করে বসে থাকতে রাজি নন শ্রীলঙ্কা কনভেনশন ব্যুরোর চেয়ারম্যান ধীরা হেট্টিয়ারাচ্চি। তার চোখে এক বিশাল স্বপ্ন, দেশটিকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্পোরেট ইভেন্ট এবং বিশ্বমানের মিটিংয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা। তার এই সাহসী উদ্যোগের প্রথম বড় সাফল্য হলো এসএল মাইস এক্সপো ২০২৬। কলম্বোর বুকে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মেলা এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে যে, শ্রীলঙ্কা এখন বিশ্বকে নতুন কিছু দিতে প্রস্তুত।
৫ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই এক্সপোতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ২৭টি দেশের ১২০ জনেরও বেশি ক্রেতা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি। হেট্টিয়ারাচ্চি এই আয়োজনকে কাজে লাগিয়েছেন দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির হাতিয়ার হিসেবে। তার লক্ষ্য স্পষ্ট, শ্রীলঙ্কার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও আতিথেয়তাকে বিশ্বদরবারে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে আন্তর্জাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরবর্তী ইভেন্টের জন্য এই দ্বীপরাষ্ট্রকেই বেছে নেয়। স্থানীয় ট্রাভেল অপারেটর ও হোটেল মালিকদের জন্য এটি সরাসরি বিদেশি ক্লায়েন্ট ধরার এক দারুণ সুযোগ।
হেট্টিয়ারাচ্চির এই উদ্যোগের পেছনে সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। পর্যটন বিষয়ক উপমন্ত্রী অধ্যাপক রুয়ান রানাসিংহে মনে করেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়িক পর্যটন খাতকে ঢেলে সাজানো অত্যন্ত প্রয়োজন। এক্সপোতে আয়োজিত বিভিন্ন সেশনের মাধ্যমে প্রাথমিক পরিচয়গুলো যেন দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পরিণত হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মূলত সরকারি ও বেসরকারি খাতের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যাচ্ছে এই আয়োজনে।
ব্যবসায়িক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পেছনে রয়েছে শক্ত অর্থনৈতিক যুক্তি। তারা শুধু হোটেলেই থাকেন না, বরং স্থানীয় পরিবহন ও অন্যান্য খাতেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। এছাড়া কাজের ফাঁকে বা শেষে তারা পর্যটক হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখেন। শ্রীলঙ্কার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এক্ষেত্রে বিশাল সুবিধা দিচ্ছে। কলম্বোর আধুনিক সুবিধা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে রয়েছে চোখ জুড়ানো চা বাগান কিংবা শান্ত সমুদ্রসৈকত। কাজের পাশাপাশি এমন বিনোদনের সুযোগ কর্পোরেট দুনিয়ায় বেশ বিরল।
ধীরা হেট্টিয়ারাচ্চি মনে করেন, আজকের এই এক্সপো ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগের ভিত্তিপ্রস্তর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যখন শ্রীলঙ্কার এই সক্ষমতার কথা প্রচার করবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এদিকে ঝুঁকবে। পেশাদারিত্ব, সেবার মান এবং সঠিক সমন্বয় বজায় রাখতে পারলে শ্রীলঙ্কা খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক ব্যবসার একটি নির্ভরযোগ্য ও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে। আর এর পুরো কৃতিত্বের দাবিদার হবেন হেট্টিয়ারাচ্চি এবং তার পরিশ্রমী দল।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে