মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

রেলওয়ের জমি দখল ঠেকাতে ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন চালুর প্রস্তাব

রেলওয়ের জমি দখল ঠেকাতে ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন চালুর প্রস্তাব
রেলওয়ের জমি দখল ঠেকাতে ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন চালুর প্রস্তাব

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, দুটি ছোট বগি দিয়েও এ রুটে ট্রেন চালু করা যেতে পারে। এতে রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় এ প্রস্তাব দেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।

সভায় ইউএনও বলেন, ফুলগাজী ও পরশুরামে রেলওয়ের জায়গা দখল করে বস্তি ও মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। অনেক জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষা করতে হলে ছোট দুটি বগি নিয়ে হলেও ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন পুনরায় চালু করা যেতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষও উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম। একইসঙ্গে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, রেলওয়ের সম্পত্তির ২৫ ফুটের মধ্যে কোনো জমি লিজ দেওয়া যাবে না। রেললাইনের পাশে অধিকাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। যারা লিজ নিয়ে খাজনা দেননি এবং যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, তাদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় ফেনী সরকারি কলেজের পুরোনো লাল দালান সংস্কার, দাগনভূঞার দাদনা খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের অগ্রগতি, ড্রাগ লাইসেন্স ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং শহরের স্কুল-কলেজের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়েও আলোচনা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মু. শিবলী নোমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ জামিল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারসহ বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯২৯ সালে চালু হওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেলপথে একসময় আটটি স্টেশন ছিল। রেলপথটি বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের জমি ও স্টেশন এলাকার অবকাঠামো বেদখল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।


বিষয় : ফেনী জমি দখল

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


রেলওয়ের জমি দখল ঠেকাতে ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন চালুর প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, দুটি ছোট বগি দিয়েও এ রুটে ট্রেন চালু করা যেতে পারে। এতে রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।রোববার (১৮ অক্টোবর) ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় এ প্রস্তাব দেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।সভায় ইউএনও বলেন, ফুলগাজী ও পরশুরামে রেলওয়ের জায়গা দখল করে বস্তি ও মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। অনেক জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষা করতে হলে ছোট দুটি বগি নিয়ে হলেও ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন পুনরায় চালু করা যেতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষও উপকৃত হবেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম। একইসঙ্গে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।জেলা প্রশাসক বলেন, রেলওয়ের সম্পত্তির ২৫ ফুটের মধ্যে কোনো জমি লিজ দেওয়া যাবে না। রেললাইনের পাশে অধিকাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। যারা লিজ নিয়ে খাজনা দেননি এবং যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, তাদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে হবে।সভায় ফেনী সরকারি কলেজের পুরোনো লাল দালান সংস্কার, দাগনভূঞার দাদনা খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের অগ্রগতি, ড্রাগ লাইসেন্স ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং শহরের স্কুল-কলেজের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়েও আলোচনা হয়।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মু. শিবলী নোমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ জামিল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারসহ বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত, ১৯২৯ সালে চালু হওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেলপথে একসময় আটটি স্টেশন ছিল। রেলপথটি বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের জমি ও স্টেশন এলাকার অবকাঠামো বেদখল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত