প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি কোনো ময়লার ভাগাড়, কিন্তু না এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল।একসময় এখান দিয়েই বাজার সহ আশে পাশের ছোট-খাটো খালের পানি প্রবাহ করত। বছর খানেক আগেও খননের পর পুনরায় খালটি ফিরে পেয়েছিল তার স্বাভাবিক রূপ। এখন সেই খালই ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ময়লার ভাগাড়ে।
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী বাজারস্থ আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতন স্কুলের পেছনের খালের বর্তমান চিত্র এমনই। খালের বিভিন্ন স্থানে জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। কোথাও প্লাস্টিক, কোথাও পচা বর্জ্য—সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধময় পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খালটি খনন করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খননের পর কয়েক মাস খালটি স্বাভাবিক থাকলেও সময়ের সঙ্গে বাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা শুরু হয়। ধীরে ধীরে আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে খালটি। বর্তমানে দেখে বোঝার উপায় নেই, এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল রয়েছে।
খালে ময়লা ফেলার কারণে শুধু পানি প্রবাহই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। বিশেষ করে হাইমচর-চাঁদপুর প্রধান সড়কের পাশে থাকা এই খাল দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুধু একটি খাল নয়, একই চিত্র বাজারজুড়ে
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতন স্কুলের পেছনের অংশ নয়,আলগী বাজারের আশপাশের খালের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে একসময়কার সচল জলপথগুলো ধীরে ধীরে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যাবসায়ী জানান, বাজারে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে বাজার মালি (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) খালেই আবর্জনা ফেলছেন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ময়লা ফেলা অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই খালটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। খাল ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে বাজার ও আশপাশের বাড়িঘরের পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হওয়ার পথ না পেলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তাদের দাবি, দ্রুত খাল থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি বাজারে নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে খালে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করে যে খালকে সচল করা হয়েছিল, সেটি যদি আবার আবর্জনায় ভরাট হয়ে যায়—তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, খাল খনন নাকি শেষ পর্যন্ত ময়লার ভাগাড় তৈরির আয়োজন?
বিষয় : চাঁদপুর

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে