মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
The Dhaka News Bangla

একদিনেই উঠে গেলো নতুন সড়কের পিচ ঢালাই

একদিনেই উঠে গেলো নতুন সড়কের পিচ ঢালাই
একদিনেই উঠে গেলো নতুন সড়কের পিচ | ছবি: টিডিএন

নোয়াখালী পৌর এলাকার ব্যাস্ততম হাসপাতাল রোড সড়কটি সংস্কারের নামে চলছে তামাশা। ঠিকাদারের মনমতো রাতের আঁধারে মানহীন নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কটি সংস্কার করায় এটি এক সপ্তাহও স্থায়ী হচ্ছে না। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও মানুষের ভোগান্তি বরং বেড়েই চলছে।

‎সবশেষ গত ৩ জুলাই সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করলেও পরদিনই উঠে গেছে সড়কের পিচ। এতে স্থানীয়দের যেমন চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে তেমনি তৈরি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

‎নোয়াখালী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী পৌরসভার সামনে দিয়ে অবস্থিত হাসপাতাল সড়কটির দৈর্ঘ্য ১০৫০ মিটার। সড়কটির দু'পাশে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে।

‎সবশেষ ২০১৮ সালে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩১ টাকা ব্যায়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ করেন। নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়।

‎এতে স্থানীয়দের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২১ লাখ ২৯ হাজার ৪২১ টাকা ব্যায়ে সড়কটি সংস্কার করে।
‎অভিযোগ উঠেছে, শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও একই প্রতিষ্ঠানকে পূনরায় সড়কটি সংস্কারেরও কাজ দেয়া হয়।

‎একই অর্থ বছরে আবার সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে মেসার্স রহিম এন্ড সন্স নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ২০ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা ব্যায়ে সড়কটিতে কার্পেটিং করে। একই অর্থবছরে সড়কটি পরপর দু'বার সংস্কার করা হলেও এটি যথারীতি বছর না ঘুরতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

‎২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যায়ে শারমিন ডেইরি এন্ড এন্টারপ্রাইজ সড়কটিকে আবারও সংস্কার করে। চলতি অর্থবছরে সড়কটির সংস্কার ব্যায় বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

‎ এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের জন্য এবছর ব্যয় করা হয় ৭৫ লাখ টাকা। তিনটি ভিন্ন প্যাকেজে ভাগ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, মেসার্স রুবেল ট্রেডিং করপোরেশন ও মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সকে দেয়া হয়ে সড়কটির সংস্কারের কাজ।

‎এর মধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স পায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যায়ে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক ও ২০৪ মিটার সিলকোটের কাজ।


‎চলমান সংস্থার কাজের তিনটি প্যাকেজের অংশ নিয়েই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স'র করা কাজে উঠেছে হরিলুটের অভিযোগ। সবশেষ গত ৩ জুলাই তারা সড়কটির সিলকোটের কাজ করে। অভিযোগ রয়েছে এতে মানহীন বিটুমিন(পিচ)ব্যবহার করেছে তারা। কাজের একদিন পরেই উঠে গেছে নতুন সড়কের পিচ।

‎মাইজদী হাউজিং এলাকার রুবেল নামে এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, একটি সড়ক প্রত্যেক বছর সংস্কার করার নামে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এসড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার অসুস্থ রোগী যাতায়াত করতে হয়। এসব বিষয়ে যেন দেখার কেউই নেই।

‎নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাই নামে একজন জানান, আমাদের এলাকায় বড় কোন হাসপাতাল না থাকায় আমরা মাইজদীতে আসি চিকিৎসা নিতে।

‎কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়কটিতে চলাচলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। সারা বছরই দেখি এ সড়কটিতে সংস্কার কাজ চলে। কিন্তু কখনোই সড়কটি পরিপূর্ণ চলাচল উপযোগী পাইনা।

‎জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স'র স্বত্বাধিকারী মোঃ হানিফ জানান, কাজটি টেন্ডারে আমি পেলেও এটি আমি অন্য এক পার্টিকে দিয়ে করাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বৃষ্টি শেষ হলে আমরা সেগুলো আবার সংস্কার করে দেব।

‎ নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বেলাল আহম্মেদ খাঁন জানান, সবকিছু সংস্কারের যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদেরকে চিঠি দিয়েছি। কাজটি দ্রুত সময়ে সংশোধনের জন্য আমরা তাদেরকে জানিয়েছি। চিঠির উত্তরে তারা কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন করে দেবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


একদিনেই উঠে গেলো নতুন সড়কের পিচ ঢালাই

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image
নোয়াখালী পৌর এলাকার ব্যাস্ততম হাসপাতাল রোড সড়কটি সংস্কারের নামে চলছে তামাশা। ঠিকাদারের মনমতো রাতের আঁধারে মানহীন নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কটি সংস্কার করায় এটি এক সপ্তাহও স্থায়ী হচ্ছে না। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও মানুষের ভোগান্তি বরং বেড়েই চলছে। ‎ ‎সবশেষ গত ৩ জুলাই সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করলেও পরদিনই উঠে গেছে সড়কের পিচ। এতে স্থানীয়দের যেমন চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে তেমনি তৈরি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। ‎ ‎নোয়াখালী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী পৌরসভার সামনে দিয়ে অবস্থিত হাসপাতাল সড়কটির দৈর্ঘ্য ১০৫০ মিটার। সড়কটির দু'পাশে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। ‎ ‎সবশেষ ২০১৮ সালে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩১ টাকা ব্যায়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ করেন। নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। ‎ ‎এতে স্থানীয়দের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২১ লাখ ২৯ হাজার ৪২১ টাকা ব্যায়ে সড়কটি সংস্কার করে। ‎অভিযোগ উঠেছে, শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও একই প্রতিষ্ঠানকে পূনরায় সড়কটি সংস্কারেরও কাজ দেয়া হয়। ‎ ‎একই অর্থ বছরে আবার সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে মেসার্স রহিম এন্ড সন্স নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ২০ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা ব্যায়ে সড়কটিতে কার্পেটিং করে। একই অর্থবছরে সড়কটি পরপর দু'বার সংস্কার করা হলেও এটি যথারীতি বছর না ঘুরতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ‎ ‎২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যায়ে শারমিন ডেইরি এন্ড এন্টারপ্রাইজ সড়কটিকে আবারও সংস্কার করে। চলতি অর্থবছরে সড়কটির সংস্কার ব্যায় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ‎ ‎ এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের জন্য এবছর ব্যয় করা হয় ৭৫ লাখ টাকা। তিনটি ভিন্ন প্যাকেজে ভাগ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, মেসার্স রুবেল ট্রেডিং করপোরেশন ও মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সকে দেয়া হয়ে সড়কটির সংস্কারের কাজ।‎এর মধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স পায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যায়ে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক ও ২০৪ মিটার সিলকোটের কাজ।‎ ‎চলমান সংস্থার কাজের তিনটি প্যাকেজের অংশ নিয়েই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স'র করা কাজে উঠেছে হরিলুটের অভিযোগ। সবশেষ গত ৩ জুলাই তারা সড়কটির সিলকোটের কাজ করে। অভিযোগ রয়েছে এতে মানহীন বিটুমিন(পিচ)ব্যবহার করেছে তারা। কাজের একদিন পরেই উঠে গেছে নতুন সড়কের পিচ।‎মাইজদী হাউজিং এলাকার রুবেল নামে এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, একটি সড়ক প্রত্যেক বছর সংস্কার করার নামে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এসড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার অসুস্থ রোগী যাতায়াত করতে হয়। এসব বিষয়ে যেন দেখার কেউই নেই। ‎নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাই নামে একজন জানান, আমাদের এলাকায় বড় কোন হাসপাতাল না থাকায় আমরা মাইজদীতে আসি চিকিৎসা নিতে। ‎ ‎কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়কটিতে চলাচলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। সারা বছরই দেখি এ সড়কটিতে সংস্কার কাজ চলে। কিন্তু কখনোই সড়কটি পরিপূর্ণ চলাচল উপযোগী পাইনা। ‎ ‎জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স'র স্বত্বাধিকারী মোঃ হানিফ জানান, কাজটি টেন্ডারে আমি পেলেও এটি আমি অন্য এক পার্টিকে দিয়ে করাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বৃষ্টি শেষ হলে আমরা সেগুলো আবার সংস্কার করে দেব। ‎ ‎ নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বেলাল আহম্মেদ খাঁন জানান, সবকিছু সংস্কারের যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদেরকে চিঠি দিয়েছি। কাজটি দ্রুত সময়ে সংশোধনের জন্য আমরা তাদেরকে জানিয়েছি। চিঠির উত্তরে তারা কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন করে দেবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত