শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

‘টুকু আসে, টুকু যায়, কতক্ষণ থাকে বোঝা যায় না’

‘টুকু আসে, টুকু যায়, কতক্ষণ থাকে বোঝা যায় না’
ছবি: সংগ্রহীত

জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, কর্মসংস্থান এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির দাম নিয়ে সংসদে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, মানুষের মধ্যে এমন কথাও শোনা যায় যে, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এ আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে, তা নাকি বোঝা যায় না।’ তাঁর বক্তব্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে জনভোগান্তির বিষয়টি উঠে আসে।

তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় গ্যাসের সংকট রয়েছে। অথচ নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টির বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।

নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন চাকরি সৃষ্টি তো দূরের কথা, বর্তমানে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের চাকরিও কতদিন টিকে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এসব প্রতিশ্রুতির মিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কখনো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়, আবার কখনো কথার মারপ্যাঁচে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে এবং চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিসিবির পণ্য কিনতে মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্যও এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহ, কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দেশের বর্তমান বাস্তবতার বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এসব বিষয় সামনে এনে তিনি সংসদে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনের সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিষয় : রুমিন ফারহানা

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


‘টুকু আসে, টুকু যায়, কতক্ষণ থাকে বোঝা যায় না’

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image
জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, কর্মসংস্থান এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির দাম নিয়ে সংসদে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, মানুষের মধ্যে এমন কথাও শোনা যায় যে, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এ আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে, তা নাকি বোঝা যায় না।’ তাঁর বক্তব্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে জনভোগান্তির বিষয়টি উঠে আসে।তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় গ্যাসের সংকট রয়েছে। অথচ নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টির বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন চাকরি সৃষ্টি তো দূরের কথা, বর্তমানে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের চাকরিও কতদিন টিকে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এসব প্রতিশ্রুতির মিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কখনো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়, আবার কখনো কথার মারপ্যাঁচে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে এবং চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিসিবির পণ্য কিনতে মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্যও এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।জ্বালানি সরবরাহ, কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দেশের বর্তমান বাস্তবতার বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এসব বিষয় সামনে এনে তিনি সংসদে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনের সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত