প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত কমিউনিটি-ভিত্তিক রান্না করা খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির পুষ্টিগত মান উন্নয়ন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় তোপখানা রোডস্থ রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা এফএম।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আশার আলোর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহমান। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত খাদ্য কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রকল্প উপস্থাপন করেন আশার আলো সোসাইটির টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার (ফুড সিস্টেম অ্যান্ড নিউট্রিশন) মো. শাহজাহান মাতুব্বর। তিনি খাদ্য কর্মসূচির পুষ্টিগত মান নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপ, বাস্তবায়নকালীন চ্যালেঞ্জ, অর্জন, শিক্ষণীয় বিষয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন তাদের খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমে একটি মানসম্মত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পূর্বে যেখানে সীমিত কয়েকটি খাদ্যগোষ্ঠীর খাবার পরিবেশন করা হতো, বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, দুধ ও মৌসুমি ফলসহ অধিক বৈচিত্র্যময় এবং পুষ্টিকর খাদ্য সংযোজন করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, প্রকল্পটির আওতায় ৬০০ উপকারভোগীর খাদ্যের পুষ্টিমান উন্নয়নে কাজ করা হলেও বর্তমানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মধ্যে যে রান্না করা খাবার বিতরণ করে, সেখানেও একই পুষ্টিমানের খাদ্য সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পরে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস মোহাম্মদ খোরশেদ। তিনি বলেন, পুষ্টির ক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গভেদে চাহিদার পার্থক্য রয়েছে। তাই খাদ্য পরিকল্পনায় এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের উদ্যোগের মানোন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাউথ এশিয়ার কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার এবং অশান ফাউন্ডেশনের প্রকল্প প্রধান সাইফুল আলম মল্লিক নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে অশান ফাউন্ডেশন “Good Food that brings people together” স্লোগানকে সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহ জাহান। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টির মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাবলম্বী করে তুলতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে দীপ্ত টিভির বার্তা প্রধান এস. এম. আকাশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা এফএম-এর সম্পাদক রাশেদ মানিক। তিনি বলেন, বিদ্যানন্দ ও অশান ফাউন্ডেশনের মতো সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের পাশে আরও কার্যকরভাবে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষুধা নিবারণের পাশাপাশি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে আশার আলো সোসাইটি, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এবং বাংলা এফএমকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে