বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বিআরটিএ’র নির্দেশনা মানছে না কুবির বাস, ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

বিআরটিএ’র নির্দেশনা মানছে না কুবির বাস, ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ছবি: টিডিএন

lবাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বাসগুলোতে এখনো বহাল রয়েছে জানালার সঙ্গে সমান্তরাল স্টেইনলেস স্টিলের রড। দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বাস থেকে বের হতে এসব রড প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দুৰ্ঘটনার সময় জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে এসি গণপরিবহনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান স্থানে ইমার্জেন্সি এক্সিট লেখা এবং জানালার গ্লাস ভাঙার জন্য এক বা একাধিক উপযুক্ত উপকরণ রাখতে হবে। এছাড়া নন-এসি গণপরিবহনের জানালায় পৰ্দা টানানোর জন্য সমান্তরালভাবে সংযোজিত স্টেইনলেস স্টিলের রডের জন্য যাত্রীসাধারণের নিরাপদে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ লক্ষ্যে নন-এসি গণপরিবহনের জানালার মাঝ বরাবর সমান্তরালভাবে সংযুক্ত স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণ করতে হবে। 

কারণ হিসেবে বলা হয়, এসি এবং নন-এসি গণপরিবহন সড়ক-মহাসড়কে চলাচল, ফেরিঘাট পারাপার, রেল ক্রসিং অতিক্রমকালে দুৰ্ঘটনায় পতিত হলে জীবন রক্ষার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দরজা-জানালা দিয়ে যাত্রী সাধারণর নিরাপদে বের হতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এতে তাদের জীবনহানি হচ্ছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত নন-এসি বাসগুলো নিয়মিত শহরের বিভিন্ন রেলক্রসিং অতিক্রম করে চলাচল করে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জানালার এসব রড শিক্ষার্থীদের দ্রুত বেরিয়ে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিক্ষকদের পরিবহনে ব্যবহৃত এসি বাসগুলোতেও বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ইমার্জেন্সি এক্সিট লেখা বা জানালার কাচ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চোখে পড়েনি।

এ ব্যাপারে পরিবহন পুলের পরিচালক সহকারী রেজিস্ট্রার মো: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “আমরা এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে এখনো কিছু জানিনা। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করব।”

আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, “এই রডগুলো বাসের স্থায়ী কাঠামোর অংশ নয়।জানালার সমান্তরাল এই রডগুলো আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো দুর্ঘটনায় এই রডগুলো শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।আমরা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই রডগুলো সরিয়ে ফেলা হোক।”

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পানিতে পড়ে গেলে জানালার সমান্তরাল রডের কারণে অনেক যাত্রী দ্রুত বের হতে পারেননি। ওই দুর্ঘটনায় প্রায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


বিআরটিএ’র নির্দেশনা মানছে না কুবির বাস, ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image
lবাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বাসগুলোতে এখনো বহাল রয়েছে জানালার সঙ্গে সমান্তরাল স্টেইনলেস স্টিলের রড। দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বাস থেকে বের হতে এসব রড প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দুৰ্ঘটনার সময় জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে এসি গণপরিবহনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান স্থানে ইমার্জেন্সি এক্সিট লেখা এবং জানালার গ্লাস ভাঙার জন্য এক বা একাধিক উপযুক্ত উপকরণ রাখতে হবে। এছাড়া নন-এসি গণপরিবহনের জানালায় পৰ্দা টানানোর জন্য সমান্তরালভাবে সংযোজিত স্টেইনলেস স্টিলের রডের জন্য যাত্রীসাধারণের নিরাপদে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ লক্ষ্যে নন-এসি গণপরিবহনের জানালার মাঝ বরাবর সমান্তরালভাবে সংযুক্ত স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণ করতে হবে। কারণ হিসেবে বলা হয়, এসি এবং নন-এসি গণপরিবহন সড়ক-মহাসড়কে চলাচল, ফেরিঘাট পারাপার, রেল ক্রসিং অতিক্রমকালে দুৰ্ঘটনায় পতিত হলে জীবন রক্ষার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দরজা-জানালা দিয়ে যাত্রী সাধারণর নিরাপদে বের হতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এতে তাদের জীবনহানি হচ্ছে।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত নন-এসি বাসগুলো নিয়মিত শহরের বিভিন্ন রেলক্রসিং অতিক্রম করে চলাচল করে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জানালার এসব রড শিক্ষার্থীদের দ্রুত বেরিয়ে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিক্ষকদের পরিবহনে ব্যবহৃত এসি বাসগুলোতেও বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ইমার্জেন্সি এক্সিট লেখা বা জানালার কাচ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চোখে পড়েনি।এ ব্যাপারে পরিবহন পুলের পরিচালক সহকারী রেজিস্ট্রার মো: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “আমরা এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে এখনো কিছু জানিনা। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করব।”আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, “এই রডগুলো বাসের স্থায়ী কাঠামোর অংশ নয়।জানালার সমান্তরাল এই রডগুলো আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো দুর্ঘটনায় এই রডগুলো শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।আমরা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই রডগুলো সরিয়ে ফেলা হোক।”প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পানিতে পড়ে গেলে জানালার সমান্তরাল রডের কারণে অনেক যাত্রী দ্রুত বের হতে পারেননি। ওই দুর্ঘটনায় প্রায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত