বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
The Dhaka News Bangla

মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের কুপিয়ে জখম

মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের কুপিয়ে জখম
অভিযুক্ত বাবু

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনায় চার মাদকসেবিকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার (২ই জুন) দুপুরে মাদক ব্যবসায়ী পৌর সদরের শ্রীপুর গ্রামের বাবু নামে এক মাদকসেবি জেল থেকে বেরিয়ে বাদী ও সাক্ষীসহ ৭জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। হামলায় আহতরা হলো; জোনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন। আহতরা সকলে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের যুবক। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মাদক সেবকি আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকসেবন ও মাদককেন্দ্রিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন যাত্রাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। অবশেষে গত ১ জুন এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাত্রাপুর এলাকায় মাদকসেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন যাত্রাপুরের শাহজাহান মিয়া, শ্রীপুর পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন ও ওয়াসীম এবং ফেলনা গ্রামের মুসা।

ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে আবুল বাশার নামে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি এলাকার মাদক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। এলাকাবাসীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করাই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

কিন্তু গ্রেপ্তারের পর আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) বাদী আবুল বাশার এবং মামলার সাক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণেই বাদী ও সাক্ষীদের টার্গেট করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠতেই একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের হামলার পথ বেছে নিয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়, তাহলে তা শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো সমাজের মাদকবিরোধী অবস্থানের ওপর আঘাত। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।অভিযুক্ত বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের কুপিয়ে জখম

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনায় চার মাদকসেবিকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার (২ই জুন) দুপুরে মাদক ব্যবসায়ী পৌর সদরের শ্রীপুর গ্রামের বাবু নামে এক মাদকসেবি জেল থেকে বেরিয়ে বাদী ও সাক্ষীসহ ৭জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। হামলায় আহতরা হলো; জোনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন। আহতরা সকলে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের যুবক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মাদক সেবকি আটক করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকসেবন ও মাদককেন্দ্রিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন যাত্রাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। অবশেষে গত ১ জুন এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাত্রাপুর এলাকায় মাদকসেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন যাত্রাপুরের শাহজাহান মিয়া, শ্রীপুর পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন ও ওয়াসীম এবং ফেলনা গ্রামের মুসা।ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে আবুল বাশার নামে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি এলাকার মাদক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। এলাকাবাসীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করাই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।কিন্তু গ্রেপ্তারের পর আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) বাদী আবুল বাশার এবং মামলার সাক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণেই বাদী ও সাক্ষীদের টার্গেট করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠতেই একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের হামলার পথ বেছে নিয়েছে।এলাকাবাসী বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে।”ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে যদি বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়, তাহলে তা শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো সমাজের মাদকবিরোধী অবস্থানের ওপর আঘাত। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।অভিযুক্ত বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত