মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় চক্ষু হাসপাতালের এমডি জেলে

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় চক্ষু হাসপাতালের এমডি জেলে
নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় চক্ষু হাসপাতালের এমডি জেলে

নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো.মোসলিম (১২) নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তীতে মামলা করতে পারবে।

বিষয় : নোয়াখালী কারাগার মৃত্যু শিশু হাসপাতাল চিকিৎসা জেলে

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় চক্ষু হাসপাতালের এমডি জেলে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো.মোসলিম (১২) নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তীতে মামলা করতে পারবে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত