শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বিএডিসিতে ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির প্রতিবাদে বাকৃবিতে কৃষি প্রকৌশলীদের মানববন্ধন

বিএডিসিতে ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির প্রতিবাদে বাকৃবিতে কৃষি প্রকৌশলীদের মানববন্ধন
ছবি: সংগ্রহীত

বিএডিসিতে ফোরম্যান ও ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রকৌশলী পদে পদায়নের প্রতিবাদে এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি খাতের প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে বিএসসি ডিগ্রিধারী কৃষি প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফোরম্যান ও ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, কৃষি খাতে যত ক্ষেত্রে প্রকৌশল প্রয়োজন রয়েছে, কৃষি প্রকৌশলীরা সকল ক্ষেত্রে উপযুক্ত। এইখানে অন্য কোনো প্রকৌশল আসার সুযোগ নেই। বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে বড় বড় প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে আমাদের প্রকৌশলীরা। কিন্তু আমাদের সাথে যে প্রহসন করে আমাদের নিয়োগ আটকে রাখা হচ্ছে, এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা সবাই সমবেত হয়েছি। 

শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ‎আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফা, ২৭ দফায় কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কৃষি ক্ষেত্রে এআই, ড্রোন, রিমোট সেন্সিং, স্মার্ট সেচ পদ্ধতি এগুলো ব্যবহারের জন্য তিনি বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। আগামী ১৫ বছর পরে এসব ক্ষেত্রে লাগবে রিমোট সেন্সিং, অটোমেশন, স্মার্ট সিস্টেম। এগুলো শুধুমাত্র করতে পারে কৃষি প্রকৌশলীরা। আমাদের কৃষি প্রকৌশলে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল এবং সিভিল সবগুলোই আমরা পড়াশোনা করে থাকি। আমরা এই সেক্টরগুলোতেও কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে পারবো।

আরেক শিক্ষার্থী জসিম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সপ্তম থেকে নবম গ্রেডে নিয়োগে কৃষি প্রকৌশলীদের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে ফোরম্যানকে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক। তাই নবম গ্রেডের কৃষি পদে শতভাগ প্রকৌশলী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। কৃষি প্রকৌশলীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করলেও কর্মক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান করছি।

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। 

১. ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বি.এসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। বিএডিসি, বিনা, বিএমডিএ-তে একক ভাবে কৃষি প্রকৌশলী দের নিয়োগ দিতে হবে। 

২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ পূরণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ ডিপ্লোমা ও বি.এসসি উভয় ডিগ্রিধারীদেরকে পরীক্ষায় সুযোগ দিতে হবে।

৩.বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে দক্ষ প্রকৌশলী প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে যোগ্যতা ও শিক্ষাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে নিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিএডিসিতে ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির প্রতিবাদে বাকৃবিতে কৃষি প্রকৌশলীদের মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বিএডিসিতে ফোরম্যান ও ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রকৌশলী পদে পদায়নের প্রতিবাদে এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি খাতের প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে বিএসসি ডিগ্রিধারী কৃষি প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফোরম্যান ও ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, কৃষি খাতে যত ক্ষেত্রে প্রকৌশল প্রয়োজন রয়েছে, কৃষি প্রকৌশলীরা সকল ক্ষেত্রে উপযুক্ত। এইখানে অন্য কোনো প্রকৌশল আসার সুযোগ নেই। বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে বড় বড় প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে আমাদের প্রকৌশলীরা। কিন্তু আমাদের সাথে যে প্রহসন করে আমাদের নিয়োগ আটকে রাখা হচ্ছে, এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা সবাই সমবেত হয়েছি। শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ‎আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফা, ২৭ দফায় কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কৃষি ক্ষেত্রে এআই, ড্রোন, রিমোট সেন্সিং, স্মার্ট সেচ পদ্ধতি এগুলো ব্যবহারের জন্য তিনি বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। আগামী ১৫ বছর পরে এসব ক্ষেত্রে লাগবে রিমোট সেন্সিং, অটোমেশন, স্মার্ট সিস্টেম। এগুলো শুধুমাত্র করতে পারে কৃষি প্রকৌশলীরা। আমাদের কৃষি প্রকৌশলে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল এবং সিভিল সবগুলোই আমরা পড়াশোনা করে থাকি। আমরা এই সেক্টরগুলোতেও কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে পারবো।আরেক শিক্ষার্থী জসিম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সপ্তম থেকে নবম গ্রেডে নিয়োগে কৃষি প্রকৌশলীদের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে ফোরম্যানকে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক। তাই নবম গ্রেডের কৃষি পদে শতভাগ প্রকৌশলী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। কৃষি প্রকৌশলীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করলেও কর্মক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান করছি।মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। ১. ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বি.এসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। বিএডিসি, বিনা, বিএমডিএ-তে একক ভাবে কৃষি প্রকৌশলী দের নিয়োগ দিতে হবে। ২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ পূরণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ ডিপ্লোমা ও বি.এসসি উভয় ডিগ্রিধারীদেরকে পরীক্ষায় সুযোগ দিতে হবে।৩.বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে দক্ষ প্রকৌশলী প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে যোগ্যতা ও শিক্ষাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে নিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত