সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

ছয় মাসেই ৩১ দফা ভুলে গেছে বিএনপি: এবি পার্টি

ছয় মাসেই ৩১ দফা ভুলে গেছে বিএনপি: এবি পার্টি
ছবি: টিডিএন

সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি বলেছে, নির্বাচনের আগে ‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর মতো নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সরকার দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, ক্যাম্পাসে সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস কম সময় নয়। তবে ছয় মাসের মধ্যেই সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা ঠিক হবে না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকার অত্যন্ত হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী জীবনমানের উন্নতি হয়নি। প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগে দলীয় লোক নিয়োগ এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনায় সরকারের সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থানের প্রত্যাশার বিপরীতে বেকারত্ব আরও বেড়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন মঞ্জু।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মিতব্যয়িতা, সময়ানুবর্তিতা এবং জৌলুস পরিহার করে সাদামাটা জীবনযাপনের একটি নতুন সংস্কৃতির বার্তা দিচ্ছেন। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এর কোনো প্রতিফলন নেই। সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না; জনদুর্ভোগের কারণে সাধারণ মানুষই ধৈর্য হারিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসছে, যা কাম্য নয়। তবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রয়েছে, যা ইতিবাচক দিক। সরকারের পুরো মেয়াদজুড়েই এই রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা উচিত।

ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থানকে ইতিবাচক উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, বিএনপির ভাষায় গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ৩১ দফা তো চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। এটি বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক অঙ্গীকার। অথচ সেই ৩১ দফার ৮ থেকে ১০টি বিষয় ইতোমধ্যে অমান্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ করা হবে না এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা রাখা হয়নি। বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপি তাদের ৩১ দফা ভুলে গেছে।

গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে ফুয়াদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী লীগের আমলের আইনের চেয়েও দুর্বল আইন করা হয়েছে। যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণ করা যাবে না। বেসরকারীকরণের বিরোধিতা করা হচ্ছে না, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, এনইসি সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) গাজী নাসির, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, নাটোর জেলা আহ্বায়ক মোকাররেবুর রহমান নাসিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহসীনুল হক চৌধুরী, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, কদমতলী থানার আহ্বায়ক কাজী মো. খোকন, ওয়ারী থানার সদস্যসচিব নূর নবী এবং বরিশালের নেতা জাকির হোসেন বারী।

বিষয় : বিএনপি এবি পার্টি

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


ছয় মাসেই ৩১ দফা ভুলে গেছে বিএনপি: এবি পার্টি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image
সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি বলেছে, নির্বাচনের আগে ‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর মতো নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সরকার দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, ক্যাম্পাসে সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস কম সময় নয়। তবে ছয় মাসের মধ্যেই সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা ঠিক হবে না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকার অত্যন্ত হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী জীবনমানের উন্নতি হয়নি। প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগে দলীয় লোক নিয়োগ এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনায় সরকারের সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থানের প্রত্যাশার বিপরীতে বেকারত্ব আরও বেড়েছে।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন মঞ্জু।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মিতব্যয়িতা, সময়ানুবর্তিতা এবং জৌলুস পরিহার করে সাদামাটা জীবনযাপনের একটি নতুন সংস্কৃতির বার্তা দিচ্ছেন। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এর কোনো প্রতিফলন নেই। সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না; জনদুর্ভোগের কারণে সাধারণ মানুষই ধৈর্য হারিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসছে, যা কাম্য নয়। তবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রয়েছে, যা ইতিবাচক দিক। সরকারের পুরো মেয়াদজুড়েই এই রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা উচিত।ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থানকে ইতিবাচক উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, বিএনপির ভাষায় গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ৩১ দফা তো চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। এটি বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক অঙ্গীকার। অথচ সেই ৩১ দফার ৮ থেকে ১০টি বিষয় ইতোমধ্যে অমান্য করা হয়েছে।তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ করা হবে না এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা রাখা হয়নি। বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপি তাদের ৩১ দফা ভুলে গেছে।গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে ফুয়াদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী লীগের আমলের আইনের চেয়েও দুর্বল আইন করা হয়েছে। যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণ করা যাবে না। বেসরকারীকরণের বিরোধিতা করা হচ্ছে না, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় হতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, এনইসি সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) গাজী নাসির, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, নাটোর জেলা আহ্বায়ক মোকাররেবুর রহমান নাসিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহসীনুল হক চৌধুরী, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, কদমতলী থানার আহ্বায়ক কাজী মো. খোকন, ওয়ারী থানার সদস্যসচিব নূর নবী এবং বরিশালের নেতা জাকির হোসেন বারী।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত