শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হত্যার হুমকির মধ্যেই বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি

হত্যার হুমকির মধ্যেই বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি
ছবি: সংগ্রহীত

বিশ্বকাপের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি বড় তারকাদের ঘিরে ছিল গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের ফাঁস হওয়া একটি নিরাপত্তা নথিতে উঠে এসেছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ কয়েকজন খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকি এবং হামলার চেষ্টার তথ্য।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ইনফরমেসিওন.ইএস-এর বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

নথি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন এবং তাদের কাছে থাকবে হ্যান্ড গ্রেনেড ও একটি এআর-১৫ রাইফেল। পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার হুমকির পাশাপাশি মেসিকে সরাসরি হত্যার হুমকিও দেন ওই ব্যক্তি।

এরপর আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচের আগেও মেসিকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে দাবি করেন, তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে বাঁধা চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটাবেন এবং মেসিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবেন।

পরিস্থিতি শুধু অনলাইন হুমকিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ চলাকালে পুলিশ একটি ফোন পায়। সেখানে দাবি করা হয়, স্টেডিয়ামের গ্যালারির একটি ময়লার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে। পরে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।

নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে বাদ যাননি পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। ফিফার এক কর্মকর্তা জানান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর অবস্থান ও থাকার জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেছিলেন। পরে আরেক সমর্থক রোনালদোর হোটেলে ঢুকে তাঁর সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে বাধা দিলে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি শুধু রোনালদোর সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন।

হুমকির শিকার হয়েছেন ম্যাচ কর্মকর্তারাও। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পান। ভিডিও রেফারি উইলি দেলাজোদও ক্ষুব্ধ মিসরীয় সমর্থকদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ নষ্ট করা খেলোয়াড়রাও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় সমালোচিত নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও তাঁর স্ত্রী প্রাণনাশের হুমকি পান।

এ ছাড়া কলম্বিয়ার হোহান হামিন্তন কাম্পানসও পেনাল্টি মিস করার পর হুমকির শিকার হন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, তিনি দলের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি।

ফাঁস হওয়া নিরাপত্তা নথির এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে তারকা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মাঠের উত্তেজনার আড়ালে খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের ঘিরে থাকা এসব হুমকি টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল।

বিষয় : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লিওনেল মেসি

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


হত্যার হুমকির মধ্যেই বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image
বিশ্বকাপের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি বড় তারকাদের ঘিরে ছিল গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের ফাঁস হওয়া একটি নিরাপত্তা নথিতে উঠে এসেছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ কয়েকজন খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকি এবং হামলার চেষ্টার তথ্য।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ইনফরমেসিওন.ইএস-এর বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।নথি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন এবং তাদের কাছে থাকবে হ্যান্ড গ্রেনেড ও একটি এআর-১৫ রাইফেল। পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার হুমকির পাশাপাশি মেসিকে সরাসরি হত্যার হুমকিও দেন ওই ব্যক্তি।এরপর আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচের আগেও মেসিকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে দাবি করেন, তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে বাঁধা চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটাবেন এবং মেসিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবেন।পরিস্থিতি শুধু অনলাইন হুমকিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ চলাকালে পুলিশ একটি ফোন পায়। সেখানে দাবি করা হয়, স্টেডিয়ামের গ্যালারির একটি ময়লার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে। পরে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে বাদ যাননি পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। ফিফার এক কর্মকর্তা জানান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর অবস্থান ও থাকার জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেছিলেন। পরে আরেক সমর্থক রোনালদোর হোটেলে ঢুকে তাঁর সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে বাধা দিলে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি শুধু রোনালদোর সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন।হুমকির শিকার হয়েছেন ম্যাচ কর্মকর্তারাও। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পান। ভিডিও রেফারি উইলি দেলাজোদও ক্ষুব্ধ মিসরীয় সমর্থকদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ নষ্ট করা খেলোয়াড়রাও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় সমালোচিত নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও তাঁর স্ত্রী প্রাণনাশের হুমকি পান।এ ছাড়া কলম্বিয়ার হোহান হামিন্তন কাম্পানসও পেনাল্টি মিস করার পর হুমকির শিকার হন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, তিনি দলের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি।ফাঁস হওয়া নিরাপত্তা নথির এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে তারকা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মাঠের উত্তেজনার আড়ালে খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের ঘিরে থাকা এসব হুমকি টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত