টানা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ, জোয়ারের প্রভাব এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলার ৮০টিরও বেশি গ্রাম এখনও পানির নিচে। হাতিয়া পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড জলাবদ্ধ হয়ে থাকায় হাজারো পরিবার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন দুর্যোগের সময় স্থানীয়দের নজর কাড়ছেন হাতিয়া পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে জলাবদ্ধ এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার তার এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, বিপদের সময় অনেকেই আশ্বাস দেন, কিন্তু তুহিন ভাইকে আমরা নিজের চোখে মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভিজে পায়ে হেঁটে খোঁজ নিতে দেখেছি। তিনি শুধু ত্রাণ দেননি, মানুষের কষ্টের কথাও শুনেছেন।
পৌরসভার আরেক বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, আমরা পানিবন্দি হয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। তুহিন ভাই নিজে এসে খাবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন। এমন সময় পাশে দাঁড়ানোই মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি রাজনীতি করার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য কাজ করছেন এটাই আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি। প্রচারের চেয়ে মানুষের উপকার করতেই তাকে বেশি ব্যস্ত দেখা যায়।
হাতিয়ার বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন 'হাতিয়া জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলন'সহ বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক যুগ ধরে তিনি নীরবে অসহায় মানুষের পাশে থেকে আস্থা ও ভালোবাসার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন বলেন, আমি নেতা হিসেবে নয়, মানুষের একজন সেবক হিসেবে আজীবন সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই। দুর্যোগ, সংকট কিংবা সুখ-দুঃখ, যে কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি হওয়া না হওয়া বড় বিষয় নয়, মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যতদিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।
দুর্যোগের এই সময়ে তার মানবিক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, সংকটের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত জনসেবকের পরিচয়। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে