বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

অবহেলিত ঘামের মূল্য এবং প্রজন্মের অধিকার ভাবনা

অবহেলিত ঘামের মূল্য এবং প্রজন্মের অধিকার ভাবনা

প্রতিবছর ক্যালেন্ডারের পাতায় মে দিবস আসে, আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয় শ্রমিক দিবস, কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নির্মম চিত্রটি বদলায় না। যে শ্রমিকদের ঘামে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে, তারাই আজ পদে পদে বৈষম্য ও শোষণের শিকার। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত, গার্মেন্টস কিংবা চা বাগান, সর্বত্রই নীরবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এই কারিগররা। অথচ তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন ও অধিকার আজও নিশ্চিত হয়নি। শ্রমিকের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই প্রকৃত অর্থে হাসবে বাংলাদেশ। শ্রমিকদের এই না-বলা আর্তনাদ ও অধিকার নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাবনা জানাচ্ছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম


শ্রমিকদের অধিকার আদায় হবে কবে?

আনিকা বুশরা সিফাত

১৮৮৬-তে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রধান দাবিই ছিলো ৮ ঘণ্টা কাজের। আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারেও এটিই বৈধ। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোথাও এই নিয়ম মানার বালাই নেই। শিপমেন্টের চাপ থাকলে কলকারখানার শ্রমিকদের কাজ করতে হয় ১৪-১৬ ঘন্টা, ছোট দোকান বা হোটেলের কর্মীরা প্রতিদিনই ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করেন, গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে তা ১৫-১৬ ঘণ্টা। অর্থনীতির মেরুদণ্ড যে পোশাক খাত, জরিপ অনুযায়ী সেখানে সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। আলোর নিচেই অন্ধকার-প্রবাদটিকে সত্য করতেই বোধহয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে একটানা ১৪-১৬ ঘন্টা কাজ করতে দেখা যায় ক্যান্টিন বয় পরিচয়ের কিশোরদের। শুধুমাত্র আইন করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এর প্রধান কারণ বাংলাদেশের ‘চিপ লেবার’ বা সস্তা শ্রম। একজন শ্রমিক কাজ না করলে তার বদলে আরো কম মজুরিতে পাওয়া যায় আরেকজনকে। এর একমাত্র সমাধান কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। জীবিকার পথ না থাকায় শ্রমিক এমন নিম্ন মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয়, এক্ষেত্রে আইন মূল্যহীন হয়ে পরে। তাই শুধু আইনে নয়, সরকারের নজর দেয়া উচিত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


শ্রমিকদের না বলা আর্তনাদ 

তাসনিম সুলতানা

শ্রমিক দিবস হলো শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রাম ও সচেতনতার দিন। অথচ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিকের ঘাম, সময়, প্রাণ এগুলো যেন নিতান্তই তুচ্ছ। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ঘটে যাওয়া আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ড এবং ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে ঘটা সাভারের মর্মান্তিক রানা প্লাজা ধ্বসের মত ঘটনায় লাখো শ্রমিকের প্রাণের তুচ্ছতা যেন প্রতিটি পরিবারের হাহাকার রূপে ধরা দিয়েছিলো। তবু কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। এছাড়াও, অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- রাস্তা, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎকেন্দ্র এসব নির্মাণে নির্মাণ শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তবুও শ্রমিকরা আজও সর্বোচ্চ বৈষম্যের শিকার। মজুরি বৈষম্য, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ বৈষম্য, লিঙ্গভিত্তিক বেতনবৈষম্য ইত্যাদি নানা বৈষম্যে শ্রমিক জীবন দুর্বিষহ। রিকশাচালক, গৃহকর্মী, দিনমজুরদের মতো শ্রমিকেরা সাধারণত কোনো চুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বা আইনি সুরক্ষা পান না। যে শ্রমিকদের প্রতি ফোঁটা ঘামের বিনিময়ে জনজীবন সহজতর হয় সেই শ্রমিকেরাই আমাদের সমাজে একইসাথে নিম্ন-আয়ের এবং নিম্ন-সম্মানের মানুষ বলে পরিগণিত হয়।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ প্রণীত হলেও তার বেশিরভাগেরই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয় না। যেমন- শ্রম আইনে কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হলেও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হয় কিন্তু, সঠিক সময়ে ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হয়না। তাই, শ্রমিক দিবস পালিত হোক শ্রমের মর্যাদা দিয়ে, তাদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এবং অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের মাধ্যমে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


প্রবাসী যোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য

মোঃ ইমন পারভেজ

দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরায় যারা, তারা থাকে সাত সমুদ্র পেরিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের ৫০ ডিগ্রি তাপে ইট ভাঙে, মালয়েশিয়ার পামবাগানে বিচ্ছুর সাথে লড়ে পাম কাটে, বড় বিল্ডিংয়ের কার্নিশে ঝুলে রং করে। এরাই রেমিট্যান্স যোদ্ধা তথা দেশের নিবেদিত সৈনিক। তাদের ত্যাগেই আমাদের স্বপ্ন বোনা হয়। 

ছোট্ট ডরমিটরিতে ১০-১৫ জন গাদাগাদি, বাসি খাবার খাওয়া। মাসের পর মাস বাড়ির মুখ দেখে না। ঈদেও ওভারটাইম করে— কারণ দেশে মায়ের ওষুধ, বোনের বিয়ে, সন্তানের স্কুল ফি।

তাদের টাকায় হয় গ্রামের পাকা রাস্তা, নতুন স্কুল। অথচ নিজের জীবন কাটে কন্ট্রাক্টের মেয়াদ গুনে। আর বিমানবন্দরে লাশ হয়ে ফেরা মানুষগুলোকে আমরা ভুলে যাই।

মে দিবসে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানকে জানান দেয়। তাদের শ্রমের মর্যাদা, নিরাপদ অভিবাসন আর প্রাপ্য সম্মান এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

লেখক: শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ।


চা শ্রমিক: অবহেলার অন্তরালে এক নীরব সংগ্রাম

তানজিনা আক্তার চৈতি 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের প্রধান চা বাগানগুলো অবস্থিত সিলেটের শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও পার্বত্য অঞ্চলে। বৈদেশিক আয় অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করে এই শিল্প। কিন্তু সবুজ চা-বাগানের নিস্তব্ধ ঢেউয়ের ভেতর লুকিয়ে আছে অসংখ্য নারীর অব্যক্ত গল্প— ঘামে ভেজা সকাল, ক্লান্ত বিকেল ও অনিশ্চয়তায় মোড়া দীর্ঘ জীবন। যাদের হাতের স্পর্শে ফুটে ওঠে দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা, তবু সেই হাতই রয়ে যায় অবহেলার ছায়ায়। চা পাতা সংগ্রহ থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ সবখানেই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও নারী শ্রমিকের মজুরি খুবই স্বল্প। যারা চা পাতার কোমল সবুজে স্বপ্ন বুনে, তাদের জীবন কেন এত অনুজ্জ্বল? যে নারীরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শ্রম দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে এই শিল্পের ভিত। তাদের ন্যায্যতা আজও যেন অধরাই। শ্রমিক দিবস স্মরণ করিয়ে দেয়— শ্রমের মূল্য শুধু উৎপাদনে নয়, প্রকৃত সম্মানেও। তাই শ্রমিক দিবসে চা বাগানের নারী শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত হোক। যাদের শ্রমের বিনিময়ে পাই চায়ের সুবাস, তাদের জীবনেও ফুটুক সমতার বসন্ত।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।


গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন হোক সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ

মোঃ সাগর মিয়া 

আমাদের দেশের অর্থনীতির ভিত্তি পোশাক খাত। এই খাতের আসল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই শ্রমিকদের অনেকেই এখনও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। গার্মেন্টস কর্মীদের কর্মঘণ্টা ও কাজের চাপ বড় সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করানো হয় না। বাস্তবে শ্রমিকদের প্রায়ই ১০-১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাজ করানো হয়। বিশেষ করে ডেলিভারির চাপ বেশি থাকলে এই সময়সীমা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জোরপূর্বক ওভারটাইম করানো হয়। তবে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। ক্রেতাদের সচেতনতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কিছু কারখানায় কর্মপরিবেশের উন্নতি হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য কিছু সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। তবুও এই পরিবর্তন সব কারখানায় সমানভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন নানামুখী উদ্যোগ। সরকারকে শ্রম আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে। সেই সাথে মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের প্রতি মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজ, সারিয়াকান্দি, বগুড়া।


শ্রমিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত?

মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন 

শ্রমই অর্থনীতির চালিকাশক্তি, আর সেই শ্রমের পেছনে থাকা মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তাই একটি দেশের উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নির্ধারণ করে। তবুও বাস্তবতা বলছে, শ্রমিকদের অধিকার এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। বহু বছরের আন্দোলন ও আইনগত অগ্রগতি সত্ত্বেও ন্যায্য মজুরি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের মতো মৌলিক বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে শ্রমিকরা প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। কারখানা বা নির্মাণ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা তাদের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকরা প্রায়ই আইনি সুরক্ষার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের অধিকার আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে শ্রমবাজারেও নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। কর্মসংস্থানের ধরন বদলাচ্ছে, দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে, আর অনেক ক্ষেত্রে কাজের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্বও। কার্যকর আইন প্রয়োগ, জবাবদিহিতা এবং শ্রমিকদের সচেতন অংশগ্রহণই পারে এই পরিস্থিতির বাস্তব পরিবর্তন আনতে।

লেখক: শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ।


নারী শ্রমিক: সংগ্রাম, সাহস আর স্বপ্ন

সাদিয়া সুলতানা রিমি 

সমাজ ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে নারী শ্রমিকদের অবদান আজ অনস্বীকার্য। ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে তারা এখন কারখানা, ক্ষেত-খামার, নির্মাণকাজ, অফিস সব জায়গাতেই নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রাখছেন। তবুও তাদের পথচলা সহজ নয়; প্রতিদিনই তাদের লড়াই করতে হয় নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, অনিরাপদ পরিবেশ, এমনকি মানসিক ও শারীরিক চাপ সবকিছুই তাদের সহ্য করতে হয় নীরবে। তবে এই সংগ্রামের মাঝেও নারী শ্রমিকরা হার মানেন না। তাদের চোখে থাকে স্বপ্ন নিজের ও পরিবারের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। অনেক নারী শ্রমিক নিজেদের আয় দিয়ে সন্তানের পড়াশোনা চালাচ্ছেন, পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছেন, এমনকি নিজের স্বপ্ন পূরণের পথও তৈরি করছেন। তাদের এই সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণা।

নারী শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে তারা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন। নারী শ্রমিকরা শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নন, তারা সংগ্রাম, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। তাদের এই পথচলা আমাদের শেখায় যে কোনো প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা যায়, যদি থাকে দৃঢ় মনোবল ও এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা।

লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


অবহেলিত ঘামের মূল্য এবং প্রজন্মের অধিকার ভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
প্রতিবছর ক্যালেন্ডারের পাতায় মে দিবস আসে, আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয় শ্রমিক দিবস, কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নির্মম চিত্রটি বদলায় না। যে শ্রমিকদের ঘামে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে, তারাই আজ পদে পদে বৈষম্য ও শোষণের শিকার। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত, গার্মেন্টস কিংবা চা বাগান, সর্বত্রই নীরবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এই কারিগররা। অথচ তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন ও অধিকার আজও নিশ্চিত হয়নি। শ্রমিকের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই প্রকৃত অর্থে হাসবে বাংলাদেশ। শ্রমিকদের এই না-বলা আর্তনাদ ও অধিকার নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাবনা জানাচ্ছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম।শ্রমিকদের অধিকার আদায় হবে কবে?আনিকা বুশরা সিফাত১৮৮৬-তে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রধান দাবিই ছিলো ৮ ঘণ্টা কাজের। আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারেও এটিই বৈধ। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোথাও এই নিয়ম মানার বালাই নেই। শিপমেন্টের চাপ থাকলে কলকারখানার শ্রমিকদের কাজ করতে হয় ১৪-১৬ ঘন্টা, ছোট দোকান বা হোটেলের কর্মীরা প্রতিদিনই ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করেন, গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে তা ১৫-১৬ ঘণ্টা। অর্থনীতির মেরুদণ্ড যে পোশাক খাত, জরিপ অনুযায়ী সেখানে সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। আলোর নিচেই অন্ধকার-প্রবাদটিকে সত্য করতেই বোধহয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে একটানা ১৪-১৬ ঘন্টা কাজ করতে দেখা যায় ক্যান্টিন বয় পরিচয়ের কিশোরদের। শুধুমাত্র আইন করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এর প্রধান কারণ বাংলাদেশের ‘চিপ লেবার’ বা সস্তা শ্রম। একজন শ্রমিক কাজ না করলে তার বদলে আরো কম মজুরিতে পাওয়া যায় আরেকজনকে। এর একমাত্র সমাধান কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। জীবিকার পথ না থাকায় শ্রমিক এমন নিম্ন মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয়, এক্ষেত্রে আইন মূল্যহীন হয়ে পরে। তাই শুধু আইনে নয়, সরকারের নজর দেয়া উচিত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।শ্রমিকদের না বলা আর্তনাদ তাসনিম সুলতানাশ্রমিক দিবস হলো শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রাম ও সচেতনতার দিন। অথচ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিকের ঘাম, সময়, প্রাণ এগুলো যেন নিতান্তই তুচ্ছ। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ঘটে যাওয়া আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ড এবং ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে ঘটা সাভারের মর্মান্তিক রানা প্লাজা ধ্বসের মত ঘটনায় লাখো শ্রমিকের প্রাণের তুচ্ছতা যেন প্রতিটি পরিবারের হাহাকার রূপে ধরা দিয়েছিলো। তবু কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। এছাড়াও, অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- রাস্তা, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎকেন্দ্র এসব নির্মাণে নির্মাণ শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তবুও শ্রমিকরা আজও সর্বোচ্চ বৈষম্যের শিকার। মজুরি বৈষম্য, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ বৈষম্য, লিঙ্গভিত্তিক বেতনবৈষম্য ইত্যাদি নানা বৈষম্যে শ্রমিক জীবন দুর্বিষহ। রিকশাচালক, গৃহকর্মী, দিনমজুরদের মতো শ্রমিকেরা সাধারণত কোনো চুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বা আইনি সুরক্ষা পান না। যে শ্রমিকদের প্রতি ফোঁটা ঘামের বিনিময়ে জনজীবন সহজতর হয় সেই শ্রমিকেরাই আমাদের সমাজে একইসাথে নিম্ন-আয়ের এবং নিম্ন-সম্মানের মানুষ বলে পরিগণিত হয়।২০০৬ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ প্রণীত হলেও তার বেশিরভাগেরই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয় না। যেমন- শ্রম আইনে কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হলেও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হয় কিন্তু, সঠিক সময়ে ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হয়না। তাই, শ্রমিক দিবস পালিত হোক শ্রমের মর্যাদা দিয়ে, তাদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এবং অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের মাধ্যমে।লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।প্রবাসী যোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্যমোঃ ইমন পারভেজদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরায় যারা, তারা থাকে সাত সমুদ্র পেরিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের ৫০ ডিগ্রি তাপে ইট ভাঙে, মালয়েশিয়ার পামবাগানে বিচ্ছুর সাথে লড়ে পাম কাটে, বড় বিল্ডিংয়ের কার্নিশে ঝুলে রং করে। এরাই রেমিট্যান্স যোদ্ধা তথা দেশের নিবেদিত সৈনিক। তাদের ত্যাগেই আমাদের স্বপ্ন বোনা হয়। ছোট্ট ডরমিটরিতে ১০-১৫ জন গাদাগাদি, বাসি খাবার খাওয়া। মাসের পর মাস বাড়ির মুখ দেখে না। ঈদেও ওভারটাইম করে— কারণ দেশে মায়ের ওষুধ, বোনের বিয়ে, সন্তানের স্কুল ফি।তাদের টাকায় হয় গ্রামের পাকা রাস্তা, নতুন স্কুল। অথচ নিজের জীবন কাটে কন্ট্রাক্টের মেয়াদ গুনে। আর বিমানবন্দরে লাশ হয়ে ফেরা মানুষগুলোকে আমরা ভুলে যাই।মে দিবসে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানকে জানান দেয়। তাদের শ্রমের মর্যাদা, নিরাপদ অভিবাসন আর প্রাপ্য সম্মান এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।লেখক: শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ।চা শ্রমিক: অবহেলার অন্তরালে এক নীরব সংগ্রামতানজিনা আক্তার চৈতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের প্রধান চা বাগানগুলো অবস্থিত সিলেটের শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও পার্বত্য অঞ্চলে। বৈদেশিক আয় অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করে এই শিল্প। কিন্তু সবুজ চা-বাগানের নিস্তব্ধ ঢেউয়ের ভেতর লুকিয়ে আছে অসংখ্য নারীর অব্যক্ত গল্প— ঘামে ভেজা সকাল, ক্লান্ত বিকেল ও অনিশ্চয়তায় মোড়া দীর্ঘ জীবন। যাদের হাতের স্পর্শে ফুটে ওঠে দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা, তবু সেই হাতই রয়ে যায় অবহেলার ছায়ায়। চা পাতা সংগ্রহ থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ সবখানেই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও নারী শ্রমিকের মজুরি খুবই স্বল্প। যারা চা পাতার কোমল সবুজে স্বপ্ন বুনে, তাদের জীবন কেন এত অনুজ্জ্বল? যে নারীরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শ্রম দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে এই শিল্পের ভিত। তাদের ন্যায্যতা আজও যেন অধরাই। শ্রমিক দিবস স্মরণ করিয়ে দেয়— শ্রমের মূল্য শুধু উৎপাদনে নয়, প্রকৃত সম্মানেও। তাই শ্রমিক দিবসে চা বাগানের নারী শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত হোক। যাদের শ্রমের বিনিময়ে পাই চায়ের সুবাস, তাদের জীবনেও ফুটুক সমতার বসন্ত।লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন হোক সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণমোঃ সাগর মিয়া আমাদের দেশের অর্থনীতির ভিত্তি পোশাক খাত। এই খাতের আসল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই শ্রমিকদের অনেকেই এখনও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। গার্মেন্টস কর্মীদের কর্মঘণ্টা ও কাজের চাপ বড় সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করানো হয় না। বাস্তবে শ্রমিকদের প্রায়ই ১০-১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাজ করানো হয়। বিশেষ করে ডেলিভারির চাপ বেশি থাকলে এই সময়সীমা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জোরপূর্বক ওভারটাইম করানো হয়। তবে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। ক্রেতাদের সচেতনতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কিছু কারখানায় কর্মপরিবেশের উন্নতি হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য কিছু সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। তবুও এই পরিবর্তন সব কারখানায় সমানভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন নানামুখী উদ্যোগ। সরকারকে শ্রম আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে। সেই সাথে মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের প্রতি মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।লেখক: শিক্ষার্থী, চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজ, সারিয়াকান্দি, বগুড়া।শ্রমিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত?মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন শ্রমই অর্থনীতির চালিকাশক্তি, আর সেই শ্রমের পেছনে থাকা মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তাই একটি দেশের উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নির্ধারণ করে। তবুও বাস্তবতা বলছে, শ্রমিকদের অধিকার এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। বহু বছরের আন্দোলন ও আইনগত অগ্রগতি সত্ত্বেও ন্যায্য মজুরি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের মতো মৌলিক বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে শ্রমিকরা প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। কারখানা বা নির্মাণ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা তাদের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকরা প্রায়ই আইনি সুরক্ষার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের অধিকার আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে শ্রমবাজারেও নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। কর্মসংস্থানের ধরন বদলাচ্ছে, দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে, আর অনেক ক্ষেত্রে কাজের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্বও। কার্যকর আইন প্রয়োগ, জবাবদিহিতা এবং শ্রমিকদের সচেতন অংশগ্রহণই পারে এই পরিস্থিতির বাস্তব পরিবর্তন আনতে।লেখক: শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ।নারী শ্রমিক: সংগ্রাম, সাহস আর স্বপ্নসাদিয়া সুলতানা রিমি সমাজ ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে নারী শ্রমিকদের অবদান আজ অনস্বীকার্য। ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে তারা এখন কারখানা, ক্ষেত-খামার, নির্মাণকাজ, অফিস সব জায়গাতেই নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রাখছেন। তবুও তাদের পথচলা সহজ নয়; প্রতিদিনই তাদের লড়াই করতে হয় নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, অনিরাপদ পরিবেশ, এমনকি মানসিক ও শারীরিক চাপ সবকিছুই তাদের সহ্য করতে হয় নীরবে। তবে এই সংগ্রামের মাঝেও নারী শ্রমিকরা হার মানেন না। তাদের চোখে থাকে স্বপ্ন নিজের ও পরিবারের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। অনেক নারী শ্রমিক নিজেদের আয় দিয়ে সন্তানের পড়াশোনা চালাচ্ছেন, পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছেন, এমনকি নিজের স্বপ্ন পূরণের পথও তৈরি করছেন। তাদের এই সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণা।নারী শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে তারা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন। নারী শ্রমিকরা শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নন, তারা সংগ্রাম, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। তাদের এই পথচলা আমাদের শেখায় যে কোনো প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা যায়, যদি থাকে দৃঢ় মনোবল ও এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা।লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত