রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

কুকুরের আতঙ্কে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, ব্যাহত স্বাভাবিক চলাচল

কুকুরের আতঙ্কে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, ব্যাহত স্বাভাবিক চলাচল

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দিনরাত দলবদ্ধ কুকুরের ডাকাডাকি ও তাড়া করার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসে ক্যাম্পাসে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মচারী কুকুরের তাড়া খেয়েছেন। শুধু মানুষ নয়, গরু-ছাগলের মতো প্রাণীও এসব কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠ, সিঙ্গারা হাউস, চারুদ্বীপ, বিদ্রোহী ও অগ্নিবীণা হল এলাকা, নতুন প্রশাসনিক ভবন, এক নম্বর ও দুই নম্বর গেট এবং বটতলাসহ প্রায় সব জায়গায় দল বেঁধে ঘুরছে বেওয়ারিশ কুকুর। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে নিয়মিত নিজেদের শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

সম্প্রতি রাতে হল থেকে বেরিয়ে লাইব্রেরির দিকে যাওয়ার পথে কুকুরের তাড়া খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। সেই ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ কয়েকটি কুকুর আমাকে ঘিরে ধরে তাড়া করে। খুব কষ্টে নিজেকে বাঁচাতে পেরেছি। এখন রাতে একা বের হতে ভয় লাগে।’

আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে কুকুরের ভয় সব সময় কাজ করে। আমরা মেয়েরা তো আরও বেশি সমস্যায় পড়ি। ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি না।’

তবে সব কুকুরকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করতে নারাজ প্রাণী অধিকারকর্মীরা। জাককানইবি অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ঐশিক নূর জানান, তাঁরা এরই মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই আমরা একটি সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কুকুরের আচরণ ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হবে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের সব কুকুর ও বিড়ালকে টিকার আওতায় আনা হবে। যেসব কুকুর আক্রমণাত্মক আচরণ করছে, সেগুলোকে আলাদা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, ‘এর আগেও আমরা কুকুরগুলোকে ক্যাম্পাস থেকে সরানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে পৌরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কুকুরগুলোর টিকাদান নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি কার্যালয়েও যোগাযোগ করা হয়েছে।’

বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আগেই নিরাপদ ও স্বস্তিকর ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


কুকুরের আতঙ্কে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, ব্যাহত স্বাভাবিক চলাচল

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দিনরাত দলবদ্ধ কুকুরের ডাকাডাকি ও তাড়া করার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসে ক্যাম্পাসে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মচারী কুকুরের তাড়া খেয়েছেন। শুধু মানুষ নয়, গরু-ছাগলের মতো প্রাণীও এসব কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠ, সিঙ্গারা হাউস, চারুদ্বীপ, বিদ্রোহী ও অগ্নিবীণা হল এলাকা, নতুন প্রশাসনিক ভবন, এক নম্বর ও দুই নম্বর গেট এবং বটতলাসহ প্রায় সব জায়গায় দল বেঁধে ঘুরছে বেওয়ারিশ কুকুর। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে নিয়মিত নিজেদের শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।সম্প্রতি রাতে হল থেকে বেরিয়ে লাইব্রেরির দিকে যাওয়ার পথে কুকুরের তাড়া খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। সেই ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ কয়েকটি কুকুর আমাকে ঘিরে ধরে তাড়া করে। খুব কষ্টে নিজেকে বাঁচাতে পেরেছি। এখন রাতে একা বের হতে ভয় লাগে।’আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে কুকুরের ভয় সব সময় কাজ করে। আমরা মেয়েরা তো আরও বেশি সমস্যায় পড়ি। ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি না।’তবে সব কুকুরকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করতে নারাজ প্রাণী অধিকারকর্মীরা। জাককানইবি অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ঐশিক নূর জানান, তাঁরা এরই মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই আমরা একটি সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কুকুরের আচরণ ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হবে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের সব কুকুর ও বিড়ালকে টিকার আওতায় আনা হবে। যেসব কুকুর আক্রমণাত্মক আচরণ করছে, সেগুলোকে আলাদা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, ‘এর আগেও আমরা কুকুরগুলোকে ক্যাম্পাস থেকে সরানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে পৌরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কুকুরগুলোর টিকাদান নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি কার্যালয়েও যোগাযোগ করা হয়েছে।’বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আগেই নিরাপদ ও স্বস্তিকর ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত