কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ বাস মালিকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জব্দ করা একটি বাস হস্তান্তর করেছে। তবে এ ব্যাপারে জানেন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শাহিনুল ইসলাম গালিবের কাছে টাকা স্থানান্তর করে বলে জানান বাস মালিক পক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ জাকির পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আল আরাফাহ কোম্পানির একটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুক্তভোগী এবং বাস মালিকের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি।
এরপর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মু. আবুল বাশার বাধা দেন।
তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়ে ক্যাম্পাসে বাস নিয়ে এসেছে এবং প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেই ঘটনা সমাধান করার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। শিক্ষার্থীরা কেন এখানে সমঝোতা করে টাকা নেবে? আর প্রক্টরিয়াল বডি সমাধান না করে কেন শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ করে দিয়েছে, সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়।'
প্রক্টরিয়াল বডির ভাষ্যমতে, তারা কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লেনদেনের অনুমতি দেয়নি এবং কারা এ লেনদেন করেছে, সে বিষয়েও তারা অবগত নয়।
এ বিষয়ে শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, 'আমার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী আল-আরাফাহ বাসের এক কর্মচারীর হাতে মারধরের শিকার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি বাস নিয়ে আসি। এরপর প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেদিন মূল অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাস মালিকপক্ষ আমাদের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলে।'
তিনি আরও বলেন, 'ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।'
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোঃ জাকির বলেন, 'গত ৯ তারিখ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছে বাসের এক কর্মচারী। এতে আমি আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাস মালিকপক্ষ আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে।'
ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস হস্তান্তরের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশানকে এখনো জানানো হয়নি, তবে আমরা তাদেরকে জানাবো।”
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, ' গত সপ্তাহে আমরা বাস মালিকপক্ষের সাথে বসে বিষয়টা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় সেদিন সমাধান হয়নি। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু টাকা-পয়সা নিয়ে সমঝোতার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।'
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলে বাস নিয়ে আসেনি। তারা বাস আনার পাঁচ দিন পর আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর আমরা বাস মালিকপক্ষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু সেদিন প্রধান অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।'
টাকা নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, 'টাকা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সেদিন হয়নি। এখন কেউ যদি টাকা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে, এমন অভিযোগ পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে