নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এক নতুন চাঁদাবাজ চক্র। এমনই অভিযোগ উঠেছে নিজেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতার অনুসারী দাবি করা আকবর হোসেন শেরআলীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, শেরআলীর এসব কর্মকাণ্ডে নেপথ্যে রয়েছেন একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন। তাদের প্রভাবেই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় তেমন প্রভাব না থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে শেরআলী এখন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
গতকাল সোনাদিয়া ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী নারী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন শেরআলী টিউবওয়েল দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩৭ হাজার টাকা নিয়েছে। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর পর থেকে তার অপকর্ম গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে ভুক্তভোগী ওই নারীকে হুমকি দমকি দিয়ে শেরআলী নিজেই জবানবন্দি নেয় বলে অভিযোগ করেছেন নারীটি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে রেহাই, কিংবা সামাজিক শালিশের নামে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে
সোনাদিয়া ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, আজগর মেস্তরি: ৪০ হাজার টাকা, মাঈন উদ্দীন: ৩৫ হাজার টাকা, এক হাবিলদারের ছেলে: ৩০ হাজার টাকা, সাহাবুদ্দিন হুজুর: ৩০ হাজার টাকা, রিয়াজের মা: ২০ হাজার টাকা,প্রবাসী ওসমান গনি: ২০ হাজার টাকা ছাড়াও প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষ থেকে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ডিলারশিপের নামে প্রতারণার অভিযোগ, হাতিয়া সোনাদিয়া ইউনিয়নের সেন্টার বাজারের ব্যবসায়ী জামসেদের কাছ থেকে ১৫ টাকা দামের চালের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিলারশিপ না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে যদি নতুন করে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরো বলেন, কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি চাউল বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে শেরআলীর বিরুদ্ধে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাড জাল করে সরকারি স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ৬৫ জনের তালিকা তৈরির অভিযোগও উঠেছে শেরআলীর বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম মোল্লা ও সচিব ভুষন চন্দ দে এর নজরে এলে তা বন্ধ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, সরকারি টিউবওয়েল, বিদ্যুতের খুঁটি, স্যানিটারি সুবিধা দিবে বলে টাকা নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে এখন হুমকি দেয়, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহ নেওয়াজকে দিয়ে মামলা দিবে এসব বলেও হুমকি দমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের মাধ্যমে তার বিচার চাই।
সেন্টার বাজারের ব্যবসায়ী জামসেদ বলেন, ১৫ টাকা দামের চালের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা নেয় শের আলী, পরে ডিলারশিপ দেয়নি টাকাও ফেরত দেয়নি! টাকা ফেরত চাইলে আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়। পরবর্তীতে শালিসী বৈঠকে অর্ধেক টাকা দিতে বাধ্য হলেও বাকি অর্ধেক টাকা এখনো পরিষোধ করেনি!
সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ভুষন চন্দ্র জানান, একটি সন্দেহজনক তালিকা আমাদের কাছে স্বাক্ষরের জন্য আসে। যাচাই করে আমরা সেটি বাতিল করি। ইউনিয়ন পরিষদের প্যাড ব্যবহারের বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম মোল্লা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যাড জালিয়াতি করে আইন ভঙ্গ করেছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিষয় : বিএনপি নোয়াখালী চাঁদাবাজি বিএনপি নেতা

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে