বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

পছন্দের সভাপতি বসাতে অধ্যক্ষকে পিএস আফসারের চাপ, না মানায় ফ্যাসিস্ট তকমা: বিস্ফোরক অভিযোগ

পছন্দের সভাপতি বসাতে অধ্যক্ষকে পিএস আফসারের চাপ, না মানায় ফ্যাসিস্ট তকমা: বিস্ফোরক অভিযোগ
পছন্দের সভাপতি বসাতে অধ্যক্ষকে পিএস আফসারের চাপ, না মানায় 'ফ্যাসিস্ট' তকমা: বিস্ফোরক অভিযোগ

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার, হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে সভাপতির পদ নিয়ে চাপ, হুমকি ও পাল্টা অভিযোগে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরাফুদ্দিনের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর বিস্ফোরক অভিযোগ। হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে এখন শিক্ষা নয়, বরং চলছে প্রভাব-প্রতিপত্তির নগ্ন লড়াই—এমনটাই অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরাফুদ্দিন।

স্থানীয়রা বলছেন, হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ এখন শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় এটি যেন পরিণত হয়েছে ক্ষমতা, প্রভাব আর নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ের নতুন ময়দানে!

গত ১০ এপ্রিল দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে 'হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে জালিয়াতির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন: তদন্তে মাউশি' এই শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয় তারপর নড়েচড়ে বসে সচেতন মহল। তার পর থেকে বের হতে থাকে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ।

অধ্যক্ষ লিখিত বক্তব্য দাবি করেন, তিনি ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ সাল থেকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পদত্যাগ করেন, কারণ তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন করে ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ। অভিযোগ উঠেছে, ফজলুল আজিমের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পিএস আবুল হায়াত আফসার অধ্যক্ষকে চাপ দেন তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে বসানোর জন্য।

কিন্তু কলেজের স্বার্থ বিবেচনায় অধ্যক্ষ সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর থেকেই তাকে ‘ফ্যাসিস্ট প্রিন্সিপাল’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের পিএসের ক্ষমতা বলয়ে হাতিয়ার আনাচকানাচে সকল অফিস আদালতে দাপট দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ তেলের জাহাজ দখলের ও অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার পিছনে এই একমাত্র পিএস আফসারের অবদান। বিভিন্ন অভিযোগের কারনে বেশ কয়েকবার মোহাম্মদ ফজলুল আজিম তাকে বহিষ্কার করে বের করে দেয়। 

হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দিন প্রশ্ন তুলেছেন- যখন একই ব্যক্তি দীর্ঘ ১০ বছর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, তখন আমি ফ্যাসিস্ট ছিলাম না কেন?

অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কলেজের কোনো তহবিল আত্মসাৎ কিংবা শিক্ষকদের পদোন্নতিতে বাধা দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

এছাড়া ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ওই সভায় কোনো বৈধ স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ।

অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নতুন সভাপতি মনোনয়ন নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এ নিয়ে কলেজের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহল বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এ ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুধু শিক্ষার পরিবেশই নষ্ট করছে না, বরং পুরো ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এই বিষয়ে পিএস আফসারকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায় নি, তাই তার মন্তব্য নেওয়া হয়নি।

বিষয় : নোয়াখালী হাতিয়া

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


পছন্দের সভাপতি বসাতে অধ্যক্ষকে পিএস আফসারের চাপ, না মানায় ফ্যাসিস্ট তকমা: বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার, হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে সভাপতির পদ নিয়ে চাপ, হুমকি ও পাল্টা অভিযোগে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরাফুদ্দিনের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর বিস্ফোরক অভিযোগ। হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে এখন শিক্ষা নয়, বরং চলছে প্রভাব-প্রতিপত্তির নগ্ন লড়াই—এমনটাই অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরাফুদ্দিন।স্থানীয়রা বলছেন, হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ এখন শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় এটি যেন পরিণত হয়েছে ক্ষমতা, প্রভাব আর নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ের নতুন ময়দানে!গত ১০ এপ্রিল দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে 'হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে জালিয়াতির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন: তদন্তে মাউশি' এই শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয় তারপর নড়েচড়ে বসে সচেতন মহল। তার পর থেকে বের হতে থাকে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ।অধ্যক্ষ লিখিত বক্তব্য দাবি করেন, তিনি ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ সাল থেকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পদত্যাগ করেন, কারণ তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন করে ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ। অভিযোগ উঠেছে, ফজলুল আজিমের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পিএস আবুল হায়াত আফসার অধ্যক্ষকে চাপ দেন তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে বসানোর জন্য।কিন্তু কলেজের স্বার্থ বিবেচনায় অধ্যক্ষ সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর থেকেই তাকে ‘ফ্যাসিস্ট প্রিন্সিপাল’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের পিএসের ক্ষমতা বলয়ে হাতিয়ার আনাচকানাচে সকল অফিস আদালতে দাপট দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ তেলের জাহাজ দখলের ও অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার পিছনে এই একমাত্র পিএস আফসারের অবদান। বিভিন্ন অভিযোগের কারনে বেশ কয়েকবার মোহাম্মদ ফজলুল আজিম তাকে বহিষ্কার করে বের করে দেয়। হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শারফুদ্দিন প্রশ্ন তুলেছেন- যখন একই ব্যক্তি দীর্ঘ ১০ বছর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, তখন আমি ফ্যাসিস্ট ছিলাম না কেন?অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কলেজের কোনো তহবিল আত্মসাৎ কিংবা শিক্ষকদের পদোন্নতিতে বাধা দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।এছাড়া ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ওই সভায় কোনো বৈধ স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ।অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নতুন সভাপতি মনোনয়ন নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এ নিয়ে কলেজের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা।স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহল বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এ ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুধু শিক্ষার পরিবেশই নষ্ট করছে না, বরং পুরো ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।এই বিষয়ে পিএস আফসারকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায় নি, তাই তার মন্তব্য নেওয়া হয়নি।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত