হাইমচর উপজেলায় গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে গেলে এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টার আগে তা ফিরে আসে না। এতে করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। অনেকেই জানান, বিশেষ করে নামাজের ওয়াক্তের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বাড়তি ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।উপজেলার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ক্রেতারা আসতে চান না। গরমে অস্বস্তি ও অন্ধকারের কারণে যারা আসেন, তারাও বেশিক্ষণ থাকতে পারেন না। ফলে পুরো বাজার প্রায় সময়ই ফাঁকা হয়ে পড়ে, যা তাদের আয়-রোজগারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।অন্যদিকে, আগামী ২১ তারিখ শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই হাইমচর উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের এজিএমের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন।ভুক্তভোগীরা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনজীবনের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি অপূরণীয় হয়ে উঠবে।