বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মরদেহ বুঝে নিতে তার কোনো স্বজন সেখানে উপস্থিত হননি। এ পরিস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে মর্গ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার রাতে তাহসিফ সাউরির মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এরপর বেলা দেড়টা পর্যন্ত তার মরদেহ নিতে কোনো স্বজনকে হাসপাতালে দেখা যায়নি।
মর্গ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে মরদেহের সঙ্গে একজন স্বজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তবে তিনি মরদেহ রেখে চলে যাওয়ার পর আর কেউ সেখানে আসেননি।
মরদেহটি মর্গে নিয়ে আসা নৌ পুলিশের কনস্টেবল হানিফ বলেন, বুধবার মরদেহ নিয়ে আসার সময় তাদের সঙ্গে একজন স্বজন ছিলেন। তিনি রাতে চলে যাওয়ার পর আর কোনো স্বজন হাসপাতালে আসেননি। ময়নাতদন্তের কাজ প্রায় শেষ হলেও মরদেহ কার কাছে হস্তান্তর করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পরও কোনো স্বজন মরদেহ নিতে না এলে সেটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে। পরবর্তী সময়ে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এর আগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তুরাগ নদে একটি ভাসমান মরদেহের খবর পায় নৌ পুলিশ। পরে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উত্তরখান থানা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে তার এক আত্মীয়কে খবর দেওয়া হয়।
তাহসিফ সাউরিকে ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ভিডিও নিয়েও আলোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারত যাওয়ার সময় হেলিকপ্টারে ওঠার যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ ধারণ ও প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়ে থাকে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।
বিষয় : বিমান বাহিনী

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে