বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে
দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সার ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়া ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চরকিং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের গুদামের ধারণক্ষমতা, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। 

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

অভিযোগকারী মনির উদ্দিনের দাবি, সরকারি নীতিমালায় নির্ধারিত গুদামের ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে যাচাই না করেই আক্তার হোসেনকে ডিলার হিসেবে নির্বাচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি সার ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হওয়া প্রয়োজন। অথচ মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজের গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট এবং প্রস্থ ১৪ ফুট। সে হিসাবে গুদামটির মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট।

অভিযোগকারীর আবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রেও গুদামের এই পরিমাপ উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট গুদামে নির্ধারিত পরিমাণ সার সংরক্ষণের বাস্তব সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে শুধু মেঝের আয়তন দিয়ে গুদামের প্রকৃত ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না। গুদামের উচ্চতা, সংরক্ষণব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং নীতিমালার অন্যান্য শর্তও যাচাই করা প্রয়োজন।

মো. আক্তার হোসেন চরকিং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। তাঁর প্রতিষ্ঠানকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনো অনৈতিক সুবিধা কাজ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে রাজনৈতিক পরিচয় থাকাই অনিয়মের প্রমাণ নয়। আক্তার হোসেনের নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা, গুদামের সক্ষমতা, আবেদন যাচাই এবং সুপারিশের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তদন্তে সেসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চরকিং ইউনিয়নের পাশাপাশি হাতিয়ার আরও কয়েকটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেছেন মনির উদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, তমরুদ্দি ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া এক ডিলারের ছেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া নিঝুমদ্বীপসহ কয়েকটি ইউনিয়নে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মনির উদ্দিন বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে ডিলার নিয়োগের প্রতিটি শর্ত যাচাই করতে হবে। কোনো প্রার্থী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করলে তাঁর আবেদন বাতিল করা উচিত। আর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অপর্যাপ্ত গুদাম বা অনিয়মের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে সার সংরক্ষণ ও বিতরণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. আক্তার হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক বিক্রি করে আসছেন এবং সার বিক্রিরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর দাবি, গুদামটি নীতিমালা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর আরও একটি গুদাম রয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে যা পেয়েছি, তা-ই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেছি। তবে ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করার কোনো সুযোগ আমার নেই। এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে উপজেলা ও জেলা কৃষি কার্যালয়।”

এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ।

নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বলেন, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে তাঁরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। এ কারণে এখনো চূড়ান্ত চুক্তি করা হয়নি। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার পরামর্শ অনুযায়ী অভিযোগগুলো যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিষয়ে পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা ও যোগ্যতা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।।

বিষয় : অভিযোগ অনিয়ম বিএনপি নেতা যুবদল

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সার ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়া ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চরকিং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের গুদামের ধারণক্ষমতা, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।অভিযোগকারী মনির উদ্দিনের দাবি, সরকারি নীতিমালায় নির্ধারিত গুদামের ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে যাচাই না করেই আক্তার হোসেনকে ডিলার হিসেবে নির্বাচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি সার ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হওয়া প্রয়োজন। অথচ মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজের গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট এবং প্রস্থ ১৪ ফুট। সে হিসাবে গুদামটির মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট।অভিযোগকারীর আবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রেও গুদামের এই পরিমাপ উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট গুদামে নির্ধারিত পরিমাণ সার সংরক্ষণের বাস্তব সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।তবে শুধু মেঝের আয়তন দিয়ে গুদামের প্রকৃত ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না। গুদামের উচ্চতা, সংরক্ষণব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং নীতিমালার অন্যান্য শর্তও যাচাই করা প্রয়োজন।মো. আক্তার হোসেন চরকিং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। তাঁর প্রতিষ্ঠানকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনো অনৈতিক সুবিধা কাজ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তবে রাজনৈতিক পরিচয় থাকাই অনিয়মের প্রমাণ নয়। আক্তার হোসেনের নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা, গুদামের সক্ষমতা, আবেদন যাচাই এবং সুপারিশের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তদন্তে সেসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।চরকিং ইউনিয়নের পাশাপাশি হাতিয়ার আরও কয়েকটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেছেন মনির উদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, তমরুদ্দি ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া এক ডিলারের ছেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া নিঝুমদ্বীপসহ কয়েকটি ইউনিয়নে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।মনির উদ্দিন বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে ডিলার নিয়োগের প্রতিটি শর্ত যাচাই করতে হবে। কোনো প্রার্থী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করলে তাঁর আবেদন বাতিল করা উচিত। আর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অপর্যাপ্ত গুদাম বা অনিয়মের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে সার সংরক্ষণ ও বিতরণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।অভিযোগের বিষয়ে মো. আক্তার হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক বিক্রি করে আসছেন এবং সার বিক্রিরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর দাবি, গুদামটি নীতিমালা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর আরও একটি গুদাম রয়েছে।অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে যা পেয়েছি, তা-ই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেছি। তবে ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করার কোনো সুযোগ আমার নেই। এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে উপজেলা ও জেলা কৃষি কার্যালয়।”এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ।নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বলেন, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে তাঁরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। এ কারণে এখনো চূড়ান্ত চুক্তি করা হয়নি। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার পরামর্শ অনুযায়ী অভিযোগগুলো যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিষয়ে পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা ও যোগ্যতা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত