চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যাম্পাস ও ছাত্রী ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমা। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “সময় এবং নদীর স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। দুটির সঙ্গেই আমাদের মানিয়ে নিতে হয়। তা না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে।”
অভিভাবকদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি নিয়মিত নজর রাখতে হবে। তাদের সঙ্গে সময় দিতে হবে এবং তারা কী করছে, তা খেয়াল করতে হবে। পাশাপাশি সময় সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে সন্তানের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করলে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক—সবাই গর্বিত হন। বিপরীতে খারাপ কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জামিউল হিকমা বলেন, “আগামী ১৮ মাস বা প্রায় ৫৫০ দিন তোমাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রতিদিন বাসায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে আলাদাভাবে অতিরিক্ত কিছু করার প্রয়োজন নেই। এই সময়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিত পড়াশোনা করতে পারলে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব।”
তিনি শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত পড়াশোনার মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একদিন পড়াশোনা না করে পরের দিন অতিরিক্ত সময় পড়ার চেষ্টা করে ঘাটতি পূরণ করা যায় না। নিয়মিত অধ্যয়নই সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।
ইউএনও আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন এসএসসিই শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে কঠিন ধাপ এবং ইন্টারমিডিয়েটে তেমন পড়াশোনা না করলেও চলে। “বাস্তবে তা নয়। ইন্টারমিডিয়েট থেকেই তোমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি তৈরি হবে। আগামী ১৮ মাস তোমাদের জীবনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, কিশোর গ্যাং, খারাপ সঙ্গ ও আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আবেগ ও উচ্ছ্বাসের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর পরামর্শ দেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, **“তোমরা যে অবস্থান বা ফলাফল নিয়ে এখানে এসেছো, অন্তত তার চেয়ে ভালো ফলাফল নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হতে হবে। যারা এসএসসিতে ৪.৫০ পেয়েছো, তারা যেন ইন্টারমিডিয়েটে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করো। যারা এ প্লাস পেয়েছো, তারাও যেন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখো।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজ শাখার প্রভাষক জয়নাল আবেদীন।
এ সময় বক্তব্য দেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক রুহুল আমিন, একাডেমীর সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারুকুল ইসলাম, আল-আমিন সোসাইটির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান ও আব্দুস শুক্কুর মাস্তান।
শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান, মানবিক বিভাগের মো. মোস্তফা এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ আলী। অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. জাহিদুল হক ও আব্দুল বাতেন।
অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও বক্তব্য দেওয়া হয় এবং মানপত্র পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয় : কলেজ শিক্ষার্থী

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে