বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

মেঘনার তীর দখল করে হোটেল নির্মাণ: আদালতের স্বপ্রণোদিত তদন্তের নির্দেশ

মেঘনার তীর দখল করে হোটেল নির্মাণ: আদালতের স্বপ্রণোদিত তদন্তের নির্দেশ
মতলব উত্তরে মেঘনার তীর দখল করে হোটেল নির্মাণ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনাল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ও নদীতীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে হোটেল নির্মাণের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নির্মিত স্থাপনার সংখ্যা, নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় আদালত থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মতলব উত্তর আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘মেঘনার তীর দখল করে দুই হোটেল, অনুমতি ছাড়াই চলছে জলবিলাস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনাল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ও নদীতীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে ‘জলবিলাস’ নামে একটি হোটেল নির্মাণ করে পরিচালনার অভিযোগ করা হয়। একই এলাকায় ‘হাওয়া বদল’ নামে আরও একটি হোটেল নির্মাণাধীন থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে স্থানীয়দের অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়, নদীর জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান হওয়ায় ষাটনল লঞ্চঘাট ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। ওয়াটার বাস চলাচলের কারণে এলাকাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

প্রকাশিত সংবাদটি আদালতের নজরে এলে তা পর্যালোচনা ও সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণে মেঘনার তীরে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দণ্ডবিধির ৪৩১ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে—এমন প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে আদালত বিষয়টি স্বপ্রণোদিতভাবে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ সরকারি আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে ভূমি-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিধান নির্ধারণ করেছে।

আদালত মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তের সময় মেঘনার তীরে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে কারা জড়িত, মোট কতটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, এসব স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথিও তদন্তের আওতায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ষাটনল লঞ্চঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরের অংশে ‘জলবিলাস’ নামে একটি হোটেল প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছিল এবং একই এলাকায় ‘হাওয়া বদল’ নামে আরেকটি স্থাপনা নির্মাণাধীন ছিল।

নদীর তীর ও সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগকে পরিবেশ ও জনস্বার্থের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নদীর তীর দখল ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল, তীরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকার সরকারি জমি দখলের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনার পর সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দখলমুক্ত করে নদীর তীরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিষয় : মেঘনা

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


মেঘনার তীর দখল করে হোটেল নির্মাণ: আদালতের স্বপ্রণোদিত তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনাল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ও নদীতীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে হোটেল নির্মাণের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নির্মিত স্থাপনার সংখ্যা, নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় আদালত থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মতলব উত্তর আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ এ আদেশ দেন।আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘মেঘনার তীর দখল করে দুই হোটেল, অনুমতি ছাড়াই চলছে জলবিলাস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনাল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ও নদীতীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে ‘জলবিলাস’ নামে একটি হোটেল নির্মাণ করে পরিচালনার অভিযোগ করা হয়। একই এলাকায় ‘হাওয়া বদল’ নামে আরও একটি হোটেল নির্মাণাধীন থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।প্রতিবেদনে স্থানীয়দের অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়, নদীর জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান হওয়ায় ষাটনল লঞ্চঘাট ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। ওয়াটার বাস চলাচলের কারণে এলাকাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।প্রকাশিত সংবাদটি আদালতের নজরে এলে তা পর্যালোচনা ও সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণে মেঘনার তীরে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দণ্ডবিধির ৪৩১ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে—এমন প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে আদালত বিষয়টি স্বপ্রণোদিতভাবে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ সরকারি আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে ভূমি-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিধান নির্ধারণ করেছে।আদালত মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।তদন্তের সময় মেঘনার তীরে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে কারা জড়িত, মোট কতটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, এসব স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথিও তদন্তের আওতায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ষাটনল লঞ্চঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরের অংশে ‘জলবিলাস’ নামে একটি হোটেল প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছিল এবং একই এলাকায় ‘হাওয়া বদল’ নামে আরেকটি স্থাপনা নির্মাণাধীন ছিল।নদীর তীর ও সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগকে পরিবেশ ও জনস্বার্থের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নদীর তীর দখল ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল, তীরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকার সরকারি জমি দখলের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনার পর সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দখলমুক্ত করে নদীর তীরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত