বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
The Dhaka News Bangla

প্রশাসকের অধীনে চাঁদপুর পৌরসভা: পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবা প্রশ্নের মুখে

প্রশাসকের অধীনে চাঁদপুর পৌরসভা: পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবা প্রশ্নের মুখে
প্রধান সড়কের পাশেই ডাম্পিং স্টেশন থাকায় যান চলাচল ও পথচারীদের ব্যাঘাত ঘটে।

এ প্লাস গ্রেডের চাঁদপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ড জুড়ে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বেহাল চিত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। অধিকাংশ এলাকায় নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় সড়ক ও জনবহুল স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মহল্লার অলিগলিতেও নিয়মিত ঝাড়ু না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাসিক ফি পরিশোধ করার পরও অনেক এলাকায় বাসাবাড়ির ময়লা একদিন সংগ্রহ করা হলেও পরদিন আর নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ময়লা ডাম্পিং স্টেশনগুলোও পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনভোগান্তি বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা কনজারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তা শাহজাহান খান বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে অনেক বাসাবাড়ি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে আমাদের লোকবল বাড়েনি। নতুন বর্ধিত ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বাদে পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডে প্রধান সড়ক ও মহল্লার সড়ক পরিষ্কারের জন্য প্রায় ২০০ জন সুইপার কাজ করছেন। তবে লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।”

পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি সরাসরি রাজনৈতিক জবাবদিহিতা না থাকায় সেবার মানেও তার প্রভাব পড়ছে। তাদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে নাগরিক সেবায় গতি ফিরবে এবং চাঁদপুর পৌরসভা এ-প্লাস গ্রেডের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

অন্যদিকে পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও তারা প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে, মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এছাড়া ভাঙাচোরা সড়ক ও তীব্র যানজট তাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে নাগরিকরা বেসরকারি উদ্যোগ ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নগর পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুর পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নাগরিকদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, সুপেয় পানি, সড়ক উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে, যাতে এ-প্লাস গ্রেডের পৌরসভার মর্যাদা বাস্তব অর্থেই প্রতিফলিত হয়।

বিষয় : চাঁদপুর

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


প্রশাসকের অধীনে চাঁদপুর পৌরসভা: পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবা প্রশ্নের মুখে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image
এ প্লাস গ্রেডের চাঁদপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ড জুড়ে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বেহাল চিত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। অধিকাংশ এলাকায় নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় সড়ক ও জনবহুল স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মহল্লার অলিগলিতেও নিয়মিত ঝাড়ু না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাসিক ফি পরিশোধ করার পরও অনেক এলাকায় বাসাবাড়ির ময়লা একদিন সংগ্রহ করা হলেও পরদিন আর নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ময়লা ডাম্পিং স্টেশনগুলোও পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনভোগান্তি বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এ বিষয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা কনজারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তা শাহজাহান খান বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে অনেক বাসাবাড়ি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে আমাদের লোকবল বাড়েনি। নতুন বর্ধিত ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বাদে পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডে প্রধান সড়ক ও মহল্লার সড়ক পরিষ্কারের জন্য প্রায় ২০০ জন সুইপার কাজ করছেন। তবে লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।”পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি সরাসরি রাজনৈতিক জবাবদিহিতা না থাকায় সেবার মানেও তার প্রভাব পড়ছে। তাদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে নাগরিক সেবায় গতি ফিরবে এবং চাঁদপুর পৌরসভা এ-প্লাস গ্রেডের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।অন্যদিকে পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও তারা প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে, মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এছাড়া ভাঙাচোরা সড়ক ও তীব্র যানজট তাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে নাগরিকরা বেসরকারি উদ্যোগ ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নগর পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।এদিকে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুর পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে নাগরিকদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, সুপেয় পানি, সড়ক উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে, যাতে এ-প্লাস গ্রেডের পৌরসভার মর্যাদা বাস্তব অর্থেই প্রতিফলিত হয়।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত